খুঁজুন
                               
, ,
           

সুনীল অর্থনীতির বিকাশে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার; নিরাপদ, টেকসই ও সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতে গুরুত্ব

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ
সুনীল অর্থনীতির বিকাশে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার; নিরাপদ, টেকসই ও সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতে গুরুত্ব

বিস্তীর্ণ সমুদ্র অঞ্চলের সম্পদের সুরক্ষা এবং সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্রমধারা আরও গতিশীল রাখতেও হাইড্রোগ্রাফিক কর্মকাণ্ডের রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। একই সঙ্গে দেশের সাধারণ মানুষের মাঝে সমুদ্র সচেতনতা বাড়াতে ও সুনীল অর্থনীতির বিকাশকে বেগবান করতে সমুদ্রভিত্তিক কার্যক্রমসমূহের টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে ‘বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস’। বিশ্বব্যাপী হাইড্রোগ্রাফি পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের অসামান্য অবদানকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার লক্ষ্যে ‘সামুদ্রিক তথ্য আদান-প্রদানের ধারণায় আমূল পরিবর্তন’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবারও বাংলাদেশে পালিত হয়েছে ‘বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস’। সোমবার (২২ জুন) বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় ‘বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাহাজ-বানৌজা ঢাকা’র মাল্টিপারপাস হলে দিবসটিকে ঘিরে এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমুদ্রে দেশি-বিদেশি জাহাজসমূহের নিরাপদ চলাচল, সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার, ব্লু ইকোনোমির বিকাশ এবং সমুদ্রভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়নে হাইড্রোগ্রাফিক তথ্য-উপাত্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলে মত দেওয়া হয় সেমিনার। এ সময় বক্তারা সমুদ্র সম্পর্কিত তথ্যের যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও কার্যকর আদান-প্রদানের মাধ্যমে সমুদ্রসম্পদের নিরাপদ, টেকসই ও সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সেমিনারে প্রধান অতিথি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সমুদ্র ও নৌপথের সম্ভাবনাগুলো চিহ্নিত করে সর্বোত্তমভাবে ব্যবহার করার বার্তা দেন। তিনি বলেন, উপকূলীয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে এই খাতে আরও মনোযোগী হতে হবে এবং আধুনিক প্রযুক্তি অর্জনের মাধ্যমে সক্ষমতা বাড়াতে হবে।’ বিশেষ অতিথি নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার, সমুদ্রভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়নে হাইড্রোগ্রাফিক তথ্য-উপাত্তের গুরুত্বের বিষয়টি তুলে ধরেন। সেমিনারে সমুদ্র বিষয়ক বিভিন্ন সংস্থার সদস্য, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাগণ, হাইড্রোগ্রাফি ও ওশানোগ্রাফি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং গবেষণা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের স্বত:স্ফূর্ত অংশগ্রহণে সমুদ্র সংক্রান্ত তথ্যের আধুনিক, সমন্বিত ও কার্যকর ব্যবস্থাপনায় হাইড্রোগ্রাফির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ফুটিয়ে তোলা হয় সুনিপুণভাবে।

সমুদ্রে দেশি-বিদেশি জাহাজসমূহের নিরাপদ চলাচল, সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার, ব্লু ইকোনোমির বিকাশ এবং সমুদ্রভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়নে হাইড্রোগ্রাফিক তথ্য-উপাত্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা সামুদ্রিক গবেষণা, পরিবেশ সংরক্ষণ, উপকূলীয় উন্নয়ন, মেরিন ডাটা ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর হাইড্রোগ্রাফিক কার্যক্রম সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। হাইড্রোগ্রাফিক তথ্য-উপাত্ত সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ, সম্পদ ব্যবস্থাপনা, মৎস্য ও খনিজ সম্পদ আহরণ, উপকূলীয় ভূমি ব্যবস্থাপনা, সমুদ্রসীমা নির্ধারণ এবং সামুদ্রিক গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশসহ অন্যান্য উপকূলীয় রাষ্ট্রসমূহ সমুদ্র অঞ্চলকে আরও নিরাপদ, টেকসই ও উৎপাদনশীল হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।

সরকার নীতিগতভাবে অফশোর এলাকায় কূপ অনুসন্ধানের উদ্যোগ নিচ্ছে
সেমিনারে প্রধান অতিথি নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম আক্ষেপ করে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে সমুদ্রসীমা সঠিকভাবে বুঝে পাওয়া গেলেও বিগত সরকারের উদাসীনতা ও সিদ্ধান্তহীনতার কারণে সমুদ্রের খনিজ সম্পদ আহরণ সম্ভব হয়নি।’ এ সময় দেশের সমুদ্রসীমায় কূপ অনুসন্ধান ও উত্তোলনের নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার নীতিগতভাবে অফশোর এলাকায় কূপ অনুসন্ধান, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ চিহ্নিতকরণ এবং পরবর্তীতে উত্তোলনের উদ্যোগ নিচ্ছে।’ সড়ক, নৌ ও রেল মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে থাকা এই মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আন্তজার্তিক আদালতে আমরা বিস্তীর্ণ সমুদ্র পেলাম, অঞ্চল পেলাম। সীমানা নিয়ে আমাদের প্রতিযোগী রাষ্ট্র যারা ছিল তারাও মেনে নিল। ভারত, বার্মা সেখানে অনুসন্ধান করেছে, প্রাকৃতিক সম্পদ পেয়েছে এবং তা উত্তোলনও করেছে। কিন্তু আমাদের সরকারের (বিগত সরকার) সিদ্ধান্তের কারণে সেখানে সেটা প্রতিষ্ঠিত হয়নি, সেই সুফল আমরা পাইনি।’

সমুদ্রের ডেটা শেয়ারিংকে অগ্রাধিকার দিতে হবে
আয়োজিত সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, ‘হাইড্রোগ্রাফি সংক্রান্ত উদ্ভাবনী প্রযুক্তি এবং তথ্য-উপাত্তের প্রায়োগিক ব্যবহারের মাধ্যমে সমুদ্র সম্পদের নিরাপদ, টেকসই ও কার্যকরী ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। নৌবাহিনী প্রধান বলেন, ‘ডিজিটাল প্লাটফর্ম, সুরক্ষিত কাঠামো এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগীতার মাধ্যমে সমুদ্রের ডেটা শেয়ারিংকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এই লক্ষ্যে আমরা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সমুদ্র বিজ্ঞান কেন্দ্রকে শক্তিশালী করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছি, যাতে ইতিবাচক পরিবর্তন নিশ্চিত করা যায়।’ তিনি বলেন, ‘যুক্তরাজ্য থেকে অত্যাধুনিক সমুদ্র জরিপ ও গবেষণা জাহাজ ‘এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ’ বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে সংযোজনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে, যা দেশের হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ, সমুদ্র গবেষণা ও সামুদ্রিক তথ্য সংগ্রহ সক্ষমতাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।’

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, বাংলাদেশ ২০০১ সালে আন্তর্জাতিক হাইড্রোগ্রাফিক সংস্থার (আইএইচও) এর ৭০তম দেশ হিসেবে সদস্যপদ লাভ করে। বাংলাদেশ নৌবাহিনী ১৯৮৩ সাল থেকে দেশের সমুদ্র অঞ্চল ও সমুদ্রবন্দর সংলগ্ন নদীপথে হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ পরিচালনা ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নটিক্যাল চার্ট প্রকাশের দায়িত্ব পালন করে আসছে। কাগজে মুদ্রণের পাশাপাশি এসব চার্ট বর্তমানে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতেও প্রকাশিত হচ্ছে, যা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক জাহাজসমূহের নিরাপদ চলাচলে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশ ২০২৫-২০২৭ মেয়াদে নর্থ ইন্ডিয়ান ওশান হাইড্রোগ্রাফিক কমিশন (এনআইওএইচসি)-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। গত মে ২০২৬ মাসে কমিশনটির ২৫তম সম্মেলন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রামে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কালের আলো/এমএএএমকে

গুলশান লেকের পানি সংযোগ সড়কের ওপর দিয়ে প্রবাহিত, ভেঙে যাচ্ছে সড়ক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ১১:২৬ অপরাহ্ণ
গুলশান লেকের পানি সংযোগ সড়কের ওপর দিয়ে প্রবাহিত, ভেঙে যাচ্ছে সড়ক

টানা ভারী বৃষ্টিতে গুলশান লেকের পানি উপচে পড়েছে। এতে গুলশান-শাহজাদপুর সংযোগ সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় সড়কটির একাংশ ধসে গেছে। পানি প্রবাহ অব্যাহত থাকায় সড়কটি আরও ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে আপাতত রাস্তাটি রক্ষায় কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছে না বলে জানিয়েছে সড়কটির কর্তৃপক্ষ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।

জানতে চাইলে ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান ঢাকা মেইলকে বলেন, পানি প্রবাহের তুলনায় সড়কের কালভার্টটি পর্যাপ্ত নয়। এ কারণে সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। আপাতত কিছু করা যাচ্ছে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে রাস্তাটি সংস্কার করা হবে।

রোববার (১২ জুলাই) সন্ধ্যায় সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটির ওপর দিয়ে প্রবল বেগে গুলশান লেকের পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে সড়কের দক্ষিণ পাশের একাংশ ভেঙে পড়ছে।

সড়কটির ঝুঁকিপূর্ণ অংশ আটকে দিয়েছে সিটি করপোরেশনের কর্মীরা। অন্য অংশ দিয়ে মানুষ হেঁটে পার হচ্ছেন। মাইকিং করে পথচারীদের সতর্কতা অবলম্বন করে রাস্তা পারাপারের আহ্বান জানানো হচ্ছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, টানা বর্ষণে লেকের পানি বেড়ে গিয়ে রোববার সকাল ১১টার দিকে সড়কে উঠে যায়। এরপর থেকেই সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

মারুফ হোসেন নামের এক পথচারী বলেন, দুপুরেও ভিজে এই রাস্তা পার হয়েছি। এখনও ভিজেই পার হতে হচ্ছে।

ঝিলপাড়ের বাসিন্দা মাইজউদ্দিন বলেন, বৃষ্টির কারণে গুলশান, বারিধারা ও আশপাশের এলাকার পানি লেকে নামতে থাকলে সকাল ১১টার দিকে সড়কটি ডুবে যায়। এরপর থেকেই পানির মধ্য দিয়েই রাস্তা পারাপার করতে হচ্ছে।

জানতে চাইলে ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান বলেন, যেহেতু পানি প্রবাহের তুলনায় সড়কের কালভার্টটি পর্যাপ্ত নয়, তাই এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণের চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

রাজশাহীতে আষাঢ়ের শেষে মুষলধারে বৃষ্টি, জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগ

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩৪ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে আষাঢ়ের শেষে মুষলধারে বৃষ্টি, জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগ

আষাঢ় মাসের শেষ সময়ে এসে মুষলধারে বৃষ্টির দেখা পেয়েছে রাজশাহী নগরবাসী। শুক্রবার (১০ জুলাই) দিবাগত রাত থেকে শুরু হওয়া এই বৃষ্টি থেমে থেমে চলে শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে ৯১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। রোববার রাত ৮ টায় এ নিউজ লেখার সময় আবারও বৃষ্টি নামে। এই বৃষ্টি আরও দুয়েকদিন অব্যাহত থাকবে।

দুপুরের পর থেকে শুরু হওয়া এই অতি ভারী বৃষ্টির ফলে নগরীর প্রাণকেন্দ্র, ব্যস্ততম ও পরিচিত এলাকা ডুবে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে  নগরীর  হেতেমখাঁ, উপশহর, বর্ণালী,  আমবাগান, মালদা কলোনী, নওদাপাড়া, শালবাগান, ছোটবনগ্রাম, শিরোইল কলোনী, আহম্মদনগর, তালাইমারী, সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কয়েক দফায় ৯১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই বৃষ্টিপাতকে মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টি বলা হচ্ছে। এই বৃষ্টিকে বলা হচ্ছে অতি ভারি বৃষ্টি। বৃষ্টিতে জলবদ্ধতায় নগরীর নিম্নাঞ্চলে পানি জমেছে। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পানি নেমে গেছে।

বৃষ্টির এই পানি আবাসিক এলাকা ও প্রধান সড়কগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। নিচু এলাকায় পানি ঢুকে পড়ায় বিপাকে পড়েছেন বাসিন্দারা। বাসিন্দারা জানান, ড্রেনেজ ব্যবস্থার অপরিকল্পিত উন্নয়ন এবং ময়লা জমে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণেই মাত্র কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

সকাল থেকে বৃষ্টি ছিলো তবে আকাশের গুমোট ভাব দুপুরের পর থেকেই তীব্র রূপ নেয়। বিকেল গড়াতেই আকাশ ভেঙে নামে এই বৃষ্টি। হঠাৎ এমন দুর্যোগে রাস্তায় থাকা সাধারণ মানুষ, অফিসফেরত চাকরিজীবী এবং দিনমজুররা চরম বিপাকে পড়েন। রিকশা-অটোরিকশার সংকটে হাজারো মানুষকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

অনেক জায়গায় পানি জমে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়েছে। চাকরিজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও পথচারিদের দীর্ঘ সময় পানির মধ্যে দিয়ে চলাচল করতে হয়েছে। কোথাও কোথাও দ্রুতগতিতে যাওয়া আসা সম্ভব হচ্ছে না।  ফলে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।

এদিন রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১১ কিলোমিটার। সকালের আদ্রতা ছিল ৯৮ শতাংশ, যা সন্ধ্যায় ৯০ শতাংশে নেমে আসে।

নগরবাসীর অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে একই চিত্র দেখা গেলেও স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। সামান্য থেকে মাঝারি বৃষ্টিতেই অনেক এলাকায় পানি জমে যায়। ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকার কারণে পানি দ্রুত নামতে পারে না। ফলে অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই জনদুর্ভোগ বেড়ে যায়।

বর্ণালী এলাকার বাসিন্দা লিটন ইসলাম বলেন, দুই-তিন ঘণ্টার বৃষ্টিতেই পুরো রাস্তা পানির নিচে চলে যায়। বাসা থেকে বের হওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে। শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বৃষ্টি হচ্ছে মানে আমাদের এলাকা ডুববে আমারা জানি।

রিকশাচালক আবদুল করিম বলেন, পানি থাকায় অনেক রাস্তায় রিকশা চালানো যাচ্ছে না। এর আগে ইঞ্জিনে পানি ঢুকে যাওয়ায় আমাকে অনেক লোকসান গুনতে হয়েছে, তাই চাইলেও ওইসব এলাকায় যাই না। এছাড়া যাত্রীও কম, আবার ঝুঁকি নিয়েও চলতে হচ্ছে।

চা বিক্রেতা নবাব আলী বলেন, বৃষ্টির কারণে ক্রেতা নেই। আবার সামনে একটু পানি জমে তখন আরও মানুষ হয় না। প্রতিবছর এইসময় ব্যবসায় বড় ক্ষতি হয়।

রাজশাহী আবহওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম বলেন, রাজশাহী অঞ্চলে বৃষ্টি আরও বাড়বে। দুয়েকদিন পর এই বৃষ্টি থেমে যাবে। সমুদ্রে লঘুচাপ থাকায় এই বৃষ্টি হচ্ছে। এ মাসের শেষে আবারও বৃষ্টি শুরু হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

চট্টগ্রাম ছাড়া সব বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষা নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩০ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রাম ছাড়া সব বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষা নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড ছাড়া দেশের বাকি শিক্ষা বোর্ডগুলোতে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।

আর জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসের কারণে চট্টগ্রাম বোর্ডের আওতাধীন ১৩, ১৫ এবং ১৬ জুলাইয়ের স্থগিত পরীক্ষাগুলো পরবর্তীতে নেওয়া হবে।

রোববার (১২ জুলাই) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টায় সারা দেশে একযোগে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়। এবার দেশের মোট ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৬ শতাংশই অংশ নিচ্ছেন। এবার মোট ২ হাজার ৬৯৭টি পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষা হচ্ছে। এসব কেন্দ্র সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। এবারই প্রথম কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তার কাছে বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা থাকছে।

এ ছাড়া নকল প্রতিরোধে সব পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যামেরা পর্যবেক্ষণের জন্য একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। এ সেল থেকে দেশের যে কোনো প্রান্তের পরীক্ষাকেন্দ্রের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

এবার সাধারণ ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে আগামী ৮ আগস্ট। ১৫ আগস্ট পর্যন্ত চলবে ব্যবহারিক পরীক্ষা। এদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এইচএসসির (ভোকেশনাল) তাত্ত্বিক পরীক্ষা ২৫ জুলাই, বিএমটির তাত্ত্বিক পরীক্ষা ১ আগস্ট এবং ডিপ্লোমা ইন কমার্সের তাত্ত্বিক পরীক্ষা চলবে ২২ জুলাই পর্যন্ত।

এ বছর এইচএসসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ৯২ হাজার ৯০৫ জন পরীক্ষার্থী এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি (ভোকেশনাল), ডিপ্লোমা ইন কমার্স ও বিএমটি পরীক্ষায় ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন পরীক্ষার্থী।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ