খুঁজুন
                               
, ,
           

চট্টগ্রামে বন্যা-পাহাড়ধসে ৪৩ জনের মৃত্যু, ক্ষতিগ্রস্ত সাড়ে ৮ লাখ মানুষ 

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৯:২৫ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে বন্যা-পাহাড়ধসে ৪৩ জনের মৃত্যু, ক্ষতিগ্রস্ত সাড়ে ৮ লাখ মানুষ 

চট্টগ্রাম বিভাগে টানা ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৩ জনে দাঁড়িয়েছে। গত ছয় দিনে এ প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ৮ লাখ ৬৭ হাজার মানুষ। এছাড়া টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ২৪২ কিলোমিটার সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে।

শনিবার (১১ জুলাই) রাতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিভাগীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বন্যা ও পাহাড়ধসে চট্টগ্রাম জেলায় ১১ জন, কক্সবাজার জেলায় ২৩ জন (এর মধ্যে রোহিঙ্গা ১৩ জন), রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় ৩ জন এবং বান্দরবান পার্বত্য জেলায় ৬ জনসহ মোট ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এ ঘটনায় আহত হয়েছেন মোট ৩৯ জন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় ১২ জন, কক্সবাজার জেলায় ২৪ জন (রোহিঙ্গা ৫ জন), খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় ১ জন এবং বান্দরবান পার্বত্য জেলায় ২ জন আহত হয়েছেন।

প্রায় সাড়ে ৮ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত

চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম জেলায় ৬ লাখ ৬২ হাজার জন, কক্সবাজার জেলায় ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৭ জন, রাঙামাটি জেলায় ৩ হাজার ৮২০ জন, খাগড়াছড়ি জেলায় ৩৪ হাজার ৪১৭ জন এবং বান্দরবান জেলায় ৮ হাজার ৩৫০ জনসহ মোট ৮ লাখ ৬৬ হাজার ৬১৪ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

১ হাজার ৭২৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা

বন্যা মোকাবিলায় চট্টগ্রাম জেলায় ৬৭০টি, কক্সবাজারে ৬৪০টি, রাঙামাটিতে ৪৭টি, খাগড়াছড়িতে ১৫০টি এবং বান্দরবানে ২২০টিসহ মোট ১ হাজার ৭২৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

এসব আশ্রয়কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলায় ২২ হাজার ৬০০ জন, কক্সবাজারে ২ হাজার ৯৭৪ জন, রাঙামাটিতে ৩ হাজার ৮২০ জন, খাগড়াছড়িতে ২ হাজার ৯১৬ জন এবং বান্দরবানে ৪ হাজার ৭৪৫ জনসহ মোট ৩৭ হাজার ৫৫ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত

বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় চট্টগ্রাম জেলায় ৫৪০ মেট্রিক টন চাল, ৪৩ লাখ টাকা নগদ অর্থ, ৩০ হাজার ৭০০ প্যাকেট শুকনা খাবার এবং ১৭ হাজার ২৫০ প্যাকেট রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া কক্সবাজার জেলায় ১৮১ মেট্রিক টন চাল, ১৭ লাখ ৭ হাজার ৫০০ টাকা, ৩৩০ প্যাকেট শুকনা খাবার; রাঙামাটি জেলায় ২৩৫ মেট্রিক টন চাল ও ২০ লাখ টাকা; খাগড়াছড়িতে ৬৭ দশমিক ৬ মেট্রিক টন চাল, ৮ লাখ টাকা, ৪৮৭ প্যাকেট শুকনা খাবার এবং ২০ হাজার খাবার প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে।

বান্দরবান জেলার সাত উপজেলার জন্য ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা, ২ হাজার ৯৫৩ প্যাকেট শুকনা খাবার, ২৩৫ প্যাকেট শিশু খাদ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন এনজিওর সহযোগিতায় বান্দরবান জেলায় আরও ১ হাজার ৮৪৫ প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৬৮ মেট্রিক টন চাল ও ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে পাঁচ জেলা

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ১২ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। রাইমস ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিনে এসব জেলাকে পাহাড়ধসের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এদিকে রাঙামাটির সাজেকে আটকে পড়া ৪৬১ পর্যটককে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী উদ্ধার করেছে। অন্যদিকে বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র ১৫ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

রাজশাহীতে পরীক্ষার ফল ঘোষণার দিন স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৩:১৮ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে পরীক্ষার ফল ঘোষণার দিন স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

রাজশাহীতে পরীক্ষার ফল ঘোষণার দিন অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। শ্রেণিকক্ষে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার ফল ঘোষণার পর  ওই স্কুলছাত্রী বিদ্যালয়ের ছয়তলা ভবন থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করে।।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল  ১১টার দিকে রাজশাহী নগরের বুলনপুর এলাকায় মিশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শিক্ষার্থীর নাম ফারিনা আজিবা ঝিলিক (১৩)। সে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত। নগরের সুফিয়ানের মোড়ে সে তার পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকত। তার বাবা একজন পুলিশ সদস্য। তিনি রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) বিশেষ শাখায় (সিটিএসবি) কর্মরত আছেন। মেয়ের মৃত্যুর ব্যাপারে কারও বিরুদ্ধে পরিবারের কোনো অভিযোগ নেই।

নগরের রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, সকালে শ্রেণিকক্ষে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার ফল ঘোষণা করা হচ্ছিল। ফল শোনার পর ওই শিক্ষার্থী শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলে তিনতলার ওই শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হয়। এরপর সে পাশের আরেকটি ছয়তলা ভবনে যায়।

তারপর ছয়তলা ভবনের বারান্দা থেকে সে লাফ দেয়। পরে দ্রুতই তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরায় ঘটনাটি রেকর্ড আছে। এ নিয়ে পরিবারের কোনো অভিযোগ নেই। তাই থানায় শুধু একটি অপমৃত্যুর মামলা করে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মিশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মইনুল ইসলাম বলেন, ‘মেয়েটা দীর্ঘদিন ধরে টিউবার কুলার মেনিন জাইটিস রোগে ভুগছিল এবং মাঝে মধ্যেই অজ্ঞান হয়ে পড়ত। তখন তার মা এসে স্কুল থেকে নিয়ে যেত। সে কেন এমন ঘটনা ঘটাল তা বুঝতে পারছি না।’

তিনি বলেন, ‘ঘটনার আগে শ্রেণিকক্ষে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার ফল ঘোষণা করা হয়। সে তুলনামুলক ভাল ফলও করে। তার রোল নম্বর ৬১ হলেও ফলাফলে সে ৩০তম স্থান অর্জন করে।’

ঘটনার পর সামাজিকমাধ্যমে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়ানো হয়েছে। এ ব্যাপারে রাতে রাজপাড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলে  জানান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মইনুল ইসলাম।

আরএমপি’র পক্ষ থেকেও এ ব্যাপারে একটি প্রতিবাদলিপি দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভিডিও এবং তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা।

প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল ১০টা ৫৭ মিনিটে স্কুল চলাকালীন সময়ে অষ্টম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী নিজেই সিঁড়ি বেয়ে ভবনের ষষ্ঠ তলায় উঠে সেখান থেকে লাফ দেয়। শিক্ষার্থীর ভবনে ওঠা এবং নিচে পড়ে যাওয়ার সম্পূর্ণ ঘটনা সিসিটিভি ফুটেজে ধারণ রয়েছে।

এছাড়া প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে যে, ওই শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে টিউবার কুলার মেনিন জাইটিস রোগে ভুগছিল এবং মাঝে মধ্যেই অজ্ঞান হয়ে পড়ত। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও সুরতহাল প্রতিবেদনে এ পর্যন্ত কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা সন্দেহজনক ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এ অবস্থায় তথ্য-প্রমাণ ছাড়া গুজব, অপপ্রচার বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়ে আরএমপি বলেছে, যারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে বা করার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

ইনফান্তিনোর পাশে আফ্রিকান ফুটবল, সর্বসম্মত সমর্থন দিল কাফ

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৩:০৮ অপরাহ্ণ
ইনফান্তিনোর পাশে আফ্রিকান ফুটবল, সর্বসম্মত সমর্থন দিল কাফ

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে সর্বসম্মত সমর্থন জানিয়েছে কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবল (কাফ)। বৃহস্পতিবার কাফের নির্বাহী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এমন সময় এই সমর্থন এল, যখন ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফাসহ কয়েকটি আঞ্চলিক ফুটবল সংস্থা ইনফান্তিনোর বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করছে।

কাফের এক বিবৃতিতে বলা হয়, নির্বাহী কমিটি সর্বসম্মতভাবে ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং আফ্রিকান ফুটবলের উন্নয়নে তাঁর দীর্ঘদিনের অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছে।

আগামী বছরের মার্চে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফিফা সভাপতি নির্বাচনে আবারও প্রার্থী হচ্ছেন ইনফান্তিনো। ফিফার ২১১ সদস্যদেশের মধ্যে ৫৪টি আফ্রিকার, ফলে ভোটের হিসাবে কাফকে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০১৬ সালে ইনফান্তিনো দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তাঁর প্রতি সমর্থন দিয়ে আসছে আফ্রিকান ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থাটি।

সম্প্রতি বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক স্বত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। বিভিন্ন দেশের ফুটবল ফেডারেশন অভিযোগ তোলে, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তাদের যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। পরে ফিফা পরিকল্পনাটি থেকে সরে এসে পুরো বিষয়টি পুনর্বিবেচনার ঘোষণা দেয়।

কাফ সভাপতি প্যাট্রিস মতসেপে ফিফার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ও মহাসচিব মাতিয়াস গ্রাফস্ট্রোমের যৌথ বার্তাকে সমর্থন জানায় কাফ। একই সঙ্গে সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে সদস্য সংস্থা ও অংশীজনদের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

চলতি সপ্তাহেই আফ্রিকার কয়েকজন প্রভাবশালী ফুটবল কর্মকর্তা পৃথক বিবৃতিতে ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন জানান। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মরক্কো ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান ফৌজি লেকজা, ফিফা কাউন্সিলের সদস্য হানি আবো রিদা, হামিদো জিব্রিলা, আহমেদ ইয়াহিয়া এবং ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ভেরন মোসেঙ্গো-ওম্বা।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির পরিকল্পনা ঘিরে বিতর্কের পর কাফের এই প্রকাশ্য সমর্থন ইনফান্তিনোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

কালের আলো/এসএ

মিস ওয়ার্ল্ডের বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধি কে এই সামানজার সাঈদ?

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ২:৫৫ অপরাহ্ণ
মিস ওয়ার্ল্ডের বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধি কে এই সামানজার সাঈদ?

‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০২৬’ বিজয়ী সামানজার সাঈদ এবার বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে প্রস্তুত। আগামী রোববার ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে শুরু হতে যাওয়া মিস ওয়ার্ল্ড ২০২৬ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে শনিবার দেশ ছাড়বেন তিনি।

যাত্রার আগে বৃহস্পতিবার রাজধানীর বনানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের প্রস্তুতি ও প্রত্যাশার কথা জানান সামানজার। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই সুন্দরী প্রতিযোগিতা দেখতে ভালো লাগলেও কখনো ভাবেননি নিজেই এমন একটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবেন। তাঁর লক্ষ্য আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজের সামর্থ্য তুলে ধরা এবং গর্বের সঙ্গে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করা।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি ও বায়োটেকনোলজি বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর কৌতূহল থেকেই ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন সামানজার। প্রথমবার অংশ নিয়েই বিজয়ীর মুকুট জিতে নেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, প্রতিযোগিতাটি কেবল সৌন্দর্যের নয়; ব্যক্তিত্ব, চিন্তাভাবনা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা প্রকাশেরও একটি বড় মঞ্চ।

বিজয়ী হওয়ার পর আন্তর্জাতিক উপস্থাপনা, ব্যক্তিত্ব উন্নয়ন ও বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষ গ্রুমিং নিয়েছেন সামানজার। তাঁর বিশ্বাস, এই অভিজ্ঞতা তাঁকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।

পড়াশোনার পাশাপাশি চার বছর কথক ও ভরতনাট্যম নৃত্য শিখেছেন সামানজার। গান, নাচ ও খেলাধুলার প্রতিও রয়েছে তাঁর আগ্রহ। ভবিষ্যতে ভালো গল্প ও শক্তিশালী চরিত্রের প্রস্তাব পেলে অভিনয়েও কাজ করার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন তিনি।

গত ১১ জুলাই ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০২৬’ হিসেবে সামানজার সাঈদের নাম ঘোষণা করা হয়। তিনি বিদায়ী বিজয়ী আকলিমা আতিকা কনিকার উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এবারের প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ হয়েছেন স্বাগতা সাহা এবং দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছেন লাবিবা মনজুর।

ভিয়েতনামের হ্যানয়ে শুরু হওয়া মিস ওয়ার্ল্ড ২০২৬ প্রতিযোগিতার সমাপনী আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর হো চি মিন সিটিতে।

কালের আলো/এসএ