খুঁজুন
                               
, ,
           

রাজশাহীতে আষাঢ়ের শেষে মুষলধারে বৃষ্টি, জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগ

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩৪ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে আষাঢ়ের শেষে মুষলধারে বৃষ্টি, জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগ

আষাঢ় মাসের শেষ সময়ে এসে মুষলধারে বৃষ্টির দেখা পেয়েছে রাজশাহী নগরবাসী। শুক্রবার (১০ জুলাই) দিবাগত রাত থেকে শুরু হওয়া এই বৃষ্টি থেমে থেমে চলে শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে ৯১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। রোববার রাত ৮ টায় এ নিউজ লেখার সময় আবারও বৃষ্টি নামে। এই বৃষ্টি আরও দুয়েকদিন অব্যাহত থাকবে।

দুপুরের পর থেকে শুরু হওয়া এই অতি ভারী বৃষ্টির ফলে নগরীর প্রাণকেন্দ্র, ব্যস্ততম ও পরিচিত এলাকা ডুবে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে  নগরীর  হেতেমখাঁ, উপশহর, বর্ণালী,  আমবাগান, মালদা কলোনী, নওদাপাড়া, শালবাগান, ছোটবনগ্রাম, শিরোইল কলোনী, আহম্মদনগর, তালাইমারী, সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কয়েক দফায় ৯১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই বৃষ্টিপাতকে মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টি বলা হচ্ছে। এই বৃষ্টিকে বলা হচ্ছে অতি ভারি বৃষ্টি। বৃষ্টিতে জলবদ্ধতায় নগরীর নিম্নাঞ্চলে পানি জমেছে। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পানি নেমে গেছে।

বৃষ্টির এই পানি আবাসিক এলাকা ও প্রধান সড়কগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। নিচু এলাকায় পানি ঢুকে পড়ায় বিপাকে পড়েছেন বাসিন্দারা। বাসিন্দারা জানান, ড্রেনেজ ব্যবস্থার অপরিকল্পিত উন্নয়ন এবং ময়লা জমে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণেই মাত্র কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

সকাল থেকে বৃষ্টি ছিলো তবে আকাশের গুমোট ভাব দুপুরের পর থেকেই তীব্র রূপ নেয়। বিকেল গড়াতেই আকাশ ভেঙে নামে এই বৃষ্টি। হঠাৎ এমন দুর্যোগে রাস্তায় থাকা সাধারণ মানুষ, অফিসফেরত চাকরিজীবী এবং দিনমজুররা চরম বিপাকে পড়েন। রিকশা-অটোরিকশার সংকটে হাজারো মানুষকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

অনেক জায়গায় পানি জমে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়েছে। চাকরিজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও পথচারিদের দীর্ঘ সময় পানির মধ্যে দিয়ে চলাচল করতে হয়েছে। কোথাও কোথাও দ্রুতগতিতে যাওয়া আসা সম্ভব হচ্ছে না।  ফলে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।

এদিন রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১১ কিলোমিটার। সকালের আদ্রতা ছিল ৯৮ শতাংশ, যা সন্ধ্যায় ৯০ শতাংশে নেমে আসে।

নগরবাসীর অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে একই চিত্র দেখা গেলেও স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। সামান্য থেকে মাঝারি বৃষ্টিতেই অনেক এলাকায় পানি জমে যায়। ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকার কারণে পানি দ্রুত নামতে পারে না। ফলে অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই জনদুর্ভোগ বেড়ে যায়।

বর্ণালী এলাকার বাসিন্দা লিটন ইসলাম বলেন, দুই-তিন ঘণ্টার বৃষ্টিতেই পুরো রাস্তা পানির নিচে চলে যায়। বাসা থেকে বের হওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে। শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বৃষ্টি হচ্ছে মানে আমাদের এলাকা ডুববে আমারা জানি।

রিকশাচালক আবদুল করিম বলেন, পানি থাকায় অনেক রাস্তায় রিকশা চালানো যাচ্ছে না। এর আগে ইঞ্জিনে পানি ঢুকে যাওয়ায় আমাকে অনেক লোকসান গুনতে হয়েছে, তাই চাইলেও ওইসব এলাকায় যাই না। এছাড়া যাত্রীও কম, আবার ঝুঁকি নিয়েও চলতে হচ্ছে।

চা বিক্রেতা নবাব আলী বলেন, বৃষ্টির কারণে ক্রেতা নেই। আবার সামনে একটু পানি জমে তখন আরও মানুষ হয় না। প্রতিবছর এইসময় ব্যবসায় বড় ক্ষতি হয়।

রাজশাহী আবহওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম বলেন, রাজশাহী অঞ্চলে বৃষ্টি আরও বাড়বে। দুয়েকদিন পর এই বৃষ্টি থেমে যাবে। সমুদ্রে লঘুচাপ থাকায় এই বৃষ্টি হচ্ছে। এ মাসের শেষে আবারও বৃষ্টি শুরু হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

জনচাহিদায় গুরুত্ব, জবাবদিহিতে অঙ্গীকার—জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর বার্তা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫৯ অপরাহ্ণ
জনচাহিদায় গুরুত্ব, জবাবদিহিতে অঙ্গীকার—জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর বার্তা

‘সরকারি কাজে কোনো ভুল হলে তা তুলে ধরুন, সরকার সংশোধনের উদ্যোগ নেবে’—জবাবদিহির এই বার্তার পাশাপাশি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান স্পষ্ট করলেন রাষ্ট্রের প্রতিটি পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীর মূল পরিচয় জনগণের সেবক। একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উন্নয়নের প্রচলিত প্রকল্পকেন্দ্রিক ধারণা থেকে বেরিয়ে মাঠের মানুষের প্রয়োজনকে পরিকল্পনার কেন্দ্রে আনার নির্দেশনা দিয়েছেন।

  • ভুল হলে সংশোধন, গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহণ
  • অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণে পৃথক তহবিল
  • বর্জ্য থেকে জ্বালানি ও বিকল্প পানির উৎস তৈরিতে জোর

এই দুই বার্তায় শুধু সরকারি কাজের জবাবদিহি নয়, স্থানীয় সরকার ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল খাতের উন্নয়ন পরিকল্পনার অগ্রাধিকারও পরিষ্কার হয়েছে। নতুন অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি পুরোনো স্থাপনার রক্ষণাবেক্ষণ, বর্জ্যকে সম্পদে রূপ দেওয়া এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে বিকল্প পানির উৎস তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাজধানীর কাকরাইলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) অডিটোরিয়ামে অধিদপ্তরের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন।

‘ভুল হলে সংশোধনের উদ্যোগ নেবে সরকার’ 

সরকারি কর্মকাণ্ডের সমালোচনার ক্ষেত্রে গঠনমূলক অবস্থানের কথা তুলে ধরে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেন, ‘সরকার গঠনমূলক সমালোচনা শুনতে প্রস্তুত। সরকারি কাজে কোনো ভুল হলে তা তুলে ধরলে সরকার সংশোধনের উদ্যোগ নেবে।’ তবে মিথ্যা তথ্য বা প্রচারণার মাধ্যমে সমালোচনা না করার আহ্বান জানান তিনি। তার বক্তব্যে সরকারের কাছে জবাবদিহি এবং দায়িত্বশীল সমালোচনার—দুই দিকই গুরুত্ব পেয়েছে। গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বানও জানান তিনি।

‘জনগণের সেবক’ কর্মকর্তারা

মন্ত্রী বলেন, সরকারের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী জনগণের সেবক। সীমিত সম্পদের মধ্যেও নিষ্ঠার সঙ্গে মানুষের সেবা করাই তাদের দায়িত্ব। এই বক্তব্যের তাৎপর্য হলো—সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রমকে শুধু বরাদ্দ ব্যয় ও প্রকল্প বাস্তবায়নের হিসাবের মধ্যে না রেখে নাগরিক সেবার ফলাফলের সঙ্গে যুক্ত করা। মানুষের কল্যাণ এবং দেশের উন্নয়নকে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে দেখার বার্তাই এতে উঠে এসেছে।

‘প্রকল্পনির্ভর’ উন্নয়ন থেকে বের হওয়ার নির্দেশ

সভায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যক্রম শুধু উন্নয়ন প্রকল্পনির্ভর হলে চলবে না; মাঠপর্যায়ের মানুষের প্রয়োজনের ভিত্তিতে তা পরিচালনা করতে হবে। এই অবস্থান উন্নয়ন পরিকল্পনায় একটি মৌলিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। নতুন প্রকল্প নেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যমান অবকাঠামো সচল রাখা, সেবার মান ধরে রাখা এবং কোন এলাকায় কী ধরনের প্রয়োজন—এসব বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

রক্ষণাবেক্ষণে পৃথক তহবিল

নতুন অবকাঠামো নির্মাণের পর সেটির রক্ষণাবেক্ষণ দুর্বল হলে সরকারি বিনিয়োগের সুফল দীর্ঘস্থায়ী হয় না। বিষয়টি বিবেচনায় মাঠপর্যায়ে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পৃথক তহবিল ও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখার ওপর গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। অর্থাৎ উন্নয়ন ব্যয়ের পাশাপাশি অবকাঠামোর জীবনচক্র, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় এবং দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতাকেও পরিকল্পনার অংশ করার বার্তা দিয়েছেন তিনি।

বর্জ্য হবে সম্পদ

বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও প্রচলিত ধারণার বাইরে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন মীর শাহে আলম। বড় শহরগুলোতে বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। আর ছোট পৌরসভা ও উপজেলায় কম খরচে কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিয়েছেন। এতে বর্জ্য অপসারণের চাপ কমানোর পাশাপাশি বর্জ্যকে অর্থনৈতিক সম্পদে রূপ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে

নিরাপদ পানি সরবরাহে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর নির্দেশনাও এসেছে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে। নদী ও পুকুরের পানি পরিশোধন করে নিরাপদ পানি সরবরাহ বাড়ানোর কথা বলেন তিনি। এখানে লক্ষ্য শুধু বিকল্প পানির উৎস তৈরি নয়; দীর্ঘমেয়াদে পানির ভারসাম্য রক্ষা এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর বাড়তে থাকা চাপ কমানো। তাই পানি সরবরাহের বর্তমান চাহিদার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রয়োজনকেও পরিকল্পনায় যুক্ত করার বার্তা দিয়েছেন তিনি।

উন্নয়নের নতুন হিসাব

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান ও প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বক্তব্য মিলিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা এসেছে তা হলো—উন্নয়নকে শুধু নতুন প্রকল্প, অবকাঠামো বা বরাদ্দের সংখ্যায় মাপলে হবে না। এর সঙ্গে যুক্ত করতে হবে জবাবদিহি, রক্ষণাবেক্ষণ, নাগরিকের বাস্তব চাহিদা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উন্নয়ন কার্যক্রমে এসব বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা তাই কেবল প্রশাসনিক নির্দেশ নয়; বরং সীমিত সম্পদে সর্বোচ্চ জনসেবা নিশ্চিত করার একটি নীতিগত বার্তাও। সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. জামানুর রহমানসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

মিষ্টিকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও পদত্যাগের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪৫ অপরাহ্ণ
মিষ্টিকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও পদত্যাগের নির্দেশ

সংরক্ষিত নারী আসনের সদ্য পদত্যাগ করা সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের পর শুক্রবার সন্ধ্যায় দল থেকেও তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান মিষ্টিকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।

নির্দেশনা পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন মিষ্টি। পরে পদত্যাগ কার্যকর হলে সংরক্ষিত নারী আসন-২৩ শূন্য ঘোষণা করা হয়।

পদত্যাগপত্রে মিষ্টি জানান, তিনি সম্পূর্ণ সজ্ঞানে ও স্বেচ্ছায় সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে সেখানে পদত্যাগের কোনো কারণ উল্লেখ করেননি।

এর আগে সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাড্ডা সেন্টারের ঘটনা তদন্তের দাবি জানান মিষ্টি। তিনি বলেন, তদন্তে যা বেরিয়ে আসবে, সেটিই গ্রহণযোগ্য হবে। দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, বিএনপির সিদ্ধান্ত যা হবে, সেটিই হবে।

রাড্ডা সেন্টারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির সাংগঠনিক পর্যায়েও বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। একই ঘটনায় দল ও অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

তবে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার বিষয়ে শুক্রবার রাত পর্যন্ত দলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ্যে আসেনি। বিষয়টি এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের বক্তব্যের ভিত্তিতেই জানা গেছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

মহড়ার নামে একা ডাক, মাঝরাতে দরজায় নির্মাতা: স্বরার তিক্ত অভিজ্ঞতা

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৩ অপরাহ্ণ
মহড়ার নামে একা ডাক, মাঝরাতে দরজায় নির্মাতা: স্বরার তিক্ত অভিজ্ঞতা

বলিউডে ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে যৌন হয়রানির অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হওয়ার কথা জানালেন অভিনেত্রী স্বরা ভাস্কর। তার দাবি, একটি বড় বাজেটের সিনেমায় কাজের সময় মদ্যপ অবস্থায় এক পরিচালক মাঝরাতে তার দরজায় কড়া নাড়েন এবং তাকে জড়িয়ে ধরার অনুমতি চান।

স্বরা জানান, ‘তনু ওয়েডস মনু’ সিনেমার সাফল্যের পর তিনি একটি বড় বাজেটের ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পান। ওই সিনেমার পরিচালক তাকে নিয়ে একাধিকবার অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন বলে দাবি তার।

অভিনেত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, সিনেমার দৃশ্যের মহড়ার কথা বলে পরিচালক তাকে একা ডেকে পাঠাতেন। ব্যক্তিগত বার্তা পাঠানোর পাশাপাশি তাকে কবিতাও পাঠাতেন পরিচালক।

একদিন একটি রোমান্টিক দৃশ্যের মহড়ার জন্য স্বরাকে একা ডাকা হয়। তখন তিনি জানতে চান, মহড়ার সময় আর কারা উপস্থিত থাকবেন। পরিচালক তাকে জানান, শুধু তারা দুজন বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন।

স্বরার দাবি, তিনি এতে আপত্তি জানিয়ে বলেন, অভিনেতা ও ক্যামেরাপারসনকে ডেকে মহড়া করার কথা। তাহলে তারা দুজন একা কেন মহড়া করবেন?

এরপরও পরিস্থিতি বদলায়নি বলে জানান স্বরা। তার ভাষ্য, একটি অতিথিকক্ষে গিয়ে তিনি দেখতে পান পরিচালক ও সিনেমাটোগ্রাফার সেখানে মদ্যপান করছেন। সেখানে চিত্রনাট্য পড়ার পর কোনোভাবে পরিস্থিতি সামলে তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন।

তবে ঘটনার সেখানেই শেষ হয়নি বলে জানান অভিনেত্রী। তার দাবি, ওইদিন মাঝরাতে পরিচালক তার দরজায় কড়া নাড়তে শুরু করেন। একপর্যায়ে তার মনে হয়, পরিচালক হয়তো দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়তে পারেন।

স্বরা বলেন, শেষ পর্যন্ত তিনি দরজা খুলতে বাধ্য হন। তখন মদ্যপ অবস্থায় পরিচালক তাকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি কি তাকে জড়িয়ে ধরতে পারেন।

অভিনেত্রীর দাবি, তিনি ওই প্রস্তাবে সাড়া দেননি। বরং কোনোভাবে পরিচালককে বুঝিয়ে দ্রুত সেখান থেকে বিদায় করেন। পরে ওই পরিচালকের সঙ্গে তার আরও অনেকবার দেখা হয়েছে বলেও জানান স্বরা।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি