খুঁজুন
                               
, ,
           

রাজশাহীতে আষাঢ়ের শেষে মুষলধারে বৃষ্টি, জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগ

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩৪ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে আষাঢ়ের শেষে মুষলধারে বৃষ্টি, জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগ

আষাঢ় মাসের শেষ সময়ে এসে মুষলধারে বৃষ্টির দেখা পেয়েছে রাজশাহী নগরবাসী। শুক্রবার (১০ জুলাই) দিবাগত রাত থেকে শুরু হওয়া এই বৃষ্টি থেমে থেমে চলে শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে ৯১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। রোববার রাত ৮ টায় এ নিউজ লেখার সময় আবারও বৃষ্টি নামে। এই বৃষ্টি আরও দুয়েকদিন অব্যাহত থাকবে।

দুপুরের পর থেকে শুরু হওয়া এই অতি ভারী বৃষ্টির ফলে নগরীর প্রাণকেন্দ্র, ব্যস্ততম ও পরিচিত এলাকা ডুবে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে  নগরীর  হেতেমখাঁ, উপশহর, বর্ণালী,  আমবাগান, মালদা কলোনী, নওদাপাড়া, শালবাগান, ছোটবনগ্রাম, শিরোইল কলোনী, আহম্মদনগর, তালাইমারী, সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কয়েক দফায় ৯১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই বৃষ্টিপাতকে মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টি বলা হচ্ছে। এই বৃষ্টিকে বলা হচ্ছে অতি ভারি বৃষ্টি। বৃষ্টিতে জলবদ্ধতায় নগরীর নিম্নাঞ্চলে পানি জমেছে। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পানি নেমে গেছে।

বৃষ্টির এই পানি আবাসিক এলাকা ও প্রধান সড়কগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। নিচু এলাকায় পানি ঢুকে পড়ায় বিপাকে পড়েছেন বাসিন্দারা। বাসিন্দারা জানান, ড্রেনেজ ব্যবস্থার অপরিকল্পিত উন্নয়ন এবং ময়লা জমে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণেই মাত্র কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

সকাল থেকে বৃষ্টি ছিলো তবে আকাশের গুমোট ভাব দুপুরের পর থেকেই তীব্র রূপ নেয়। বিকেল গড়াতেই আকাশ ভেঙে নামে এই বৃষ্টি। হঠাৎ এমন দুর্যোগে রাস্তায় থাকা সাধারণ মানুষ, অফিসফেরত চাকরিজীবী এবং দিনমজুররা চরম বিপাকে পড়েন। রিকশা-অটোরিকশার সংকটে হাজারো মানুষকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

অনেক জায়গায় পানি জমে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়েছে। চাকরিজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও পথচারিদের দীর্ঘ সময় পানির মধ্যে দিয়ে চলাচল করতে হয়েছে। কোথাও কোথাও দ্রুতগতিতে যাওয়া আসা সম্ভব হচ্ছে না।  ফলে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।

এদিন রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১১ কিলোমিটার। সকালের আদ্রতা ছিল ৯৮ শতাংশ, যা সন্ধ্যায় ৯০ শতাংশে নেমে আসে।

নগরবাসীর অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে একই চিত্র দেখা গেলেও স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। সামান্য থেকে মাঝারি বৃষ্টিতেই অনেক এলাকায় পানি জমে যায়। ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকার কারণে পানি দ্রুত নামতে পারে না। ফলে অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই জনদুর্ভোগ বেড়ে যায়।

বর্ণালী এলাকার বাসিন্দা লিটন ইসলাম বলেন, দুই-তিন ঘণ্টার বৃষ্টিতেই পুরো রাস্তা পানির নিচে চলে যায়। বাসা থেকে বের হওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে। শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বৃষ্টি হচ্ছে মানে আমাদের এলাকা ডুববে আমারা জানি।

রিকশাচালক আবদুল করিম বলেন, পানি থাকায় অনেক রাস্তায় রিকশা চালানো যাচ্ছে না। এর আগে ইঞ্জিনে পানি ঢুকে যাওয়ায় আমাকে অনেক লোকসান গুনতে হয়েছে, তাই চাইলেও ওইসব এলাকায় যাই না। এছাড়া যাত্রীও কম, আবার ঝুঁকি নিয়েও চলতে হচ্ছে।

চা বিক্রেতা নবাব আলী বলেন, বৃষ্টির কারণে ক্রেতা নেই। আবার সামনে একটু পানি জমে তখন আরও মানুষ হয় না। প্রতিবছর এইসময় ব্যবসায় বড় ক্ষতি হয়।

রাজশাহী আবহওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম বলেন, রাজশাহী অঞ্চলে বৃষ্টি আরও বাড়বে। দুয়েকদিন পর এই বৃষ্টি থেমে যাবে। সমুদ্রে লঘুচাপ থাকায় এই বৃষ্টি হচ্ছে। এ মাসের শেষে আবারও বৃষ্টি শুরু হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ইয়েমেনে হুতিদের হামলায় ৫৮ সেনা নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ২:১৬ পূর্বাহ্ণ
ইয়েমেনে হুতিদের হামলায় ৫৮ সেনা নিহত

ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইয়েমেনে অন্তত ৫৮ সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, গত চার বছরের মধ্যে দেশটিতে এক দিনে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার মারিব প্রদেশের আল-রুওয়াইক এবং সৌদি সীমান্তসংলগ্ন হাদ্রামাউত প্রদেশের আল-আবর ও আল-ওয়াদিয়া এলাকার সামরিক ঘাঁটিগুলোতে একযোগে হামলা চালানো হয়। ইয়েমেনের সামরিক কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মারিবের একটি সেনা ক্যাম্পে সকালের সমাবেশ চলাকালে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৪৫ সেনা নিহত হন।

হুতি গোষ্ঠী দাবি করেছে, ‘সৌদি-সমর্থিত সামরিক শক্তি বৃদ্ধি’র জবাব হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, সরকারি বাহিনীর সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।

হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে তিনি আল-রুওয়াইক, আল-থানিয়াহ ও আল-আবর এলাকার নাম উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে তা মোকাবিলার জন্য হুতি বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।

এদিকে, সংঘাতের প্রভাব সৌদি আরবেও ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজরান এলাকায় হুতিদের হামলায় অন্তত ১১ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন বলে সৌদি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার পাশাপাশি ইয়েমেনের চলমান সংঘাতও নতুন করে তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

পল্লবীতে সন্ত্রাসীর গুলিতে মাদক কারবারি আহত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ
পল্লবীতে সন্ত্রাসীর গুলিতে মাদক কারবারি আহত

রাজধানীর মিরপুর পল্লবী এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে ‘আলমগীর’ নামে এক চিহ্নিত মাদক কারবারি আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

শুক্রবার বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে মিরপুরের মিল্লাত ক্যাম্প এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার ওসি হাসান বসির বলেন, ‘ঘটনা সঠিক। গুলিতে আলমগীর নামে একজন আহত হয়েছেন। তবে আমরা ঘটনাস্থলে এসে তাকে পাইনি। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেছেন।’

তবে কে বা কারা গুলি করেছে তা তিনি জানাতে পারেনি। আলমগীরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন বলেও জানান ওসি।স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েকজন মিলে মিল্লাত ক্যাম্পে এসে আলমগীরকে প্রকাশ্যে গুলি করে পালানোর চেষ্টা করেন।

এসময় মোটরসাইকেলটি আটকও করা হয়। কিন্তু পরে এলাকাবাসী ভয় পেয়ে তাদের ছেড়ে দেন। এরপর তাদের একজন পুলিশে খবর দিলে সেখানে ‍পুলিশ আসে। কিন্তু কাউকে আটক করতে পারেনি।

জানা গেছে, গুলিতে আহত হওয়া আলমগীর ‍পুরান ঢাকার একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

ভারত থেকে ২ দশমিক ৩ মেট্রিক টন টিয়ার গ্যাস আমদানি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ১১:২৭ অপরাহ্ণ
ভারত থেকে ২ দশমিক ৩ মেট্রিক টন টিয়ার গ্যাস আমদানি

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যবহারের জন্য বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ২ দশমিক ৩ মেট্রিক টন টিয়ার গ্যাস শেল আমদানি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় চালানটি বন্দর থেকে খালাস করে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে যশোর ক্যান্টনমেন্টে পাঠানো হয়।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ভারতের নরেন্দ্র এক্সপ্লোসিভ লিমিটেড ১৪৫টি কাঠের বাক্সে করে টিয়ার গ্যাস শেলের চালানটি বাংলাদেশে পাঠায়। চালানটির আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সিনসিয়ার ইন্টারন্যাশনাল।

খালাস শেষে ঢাকা মেট্রো-ন-১৯-৩৭৫৩ নম্বরের একটি কাভার্ড ভ্যানে করে চালানটি যশোর ক্যান্টনমেন্টে পাঠানো হয়। সেখানে সংরক্ষণের পর আগামী ৯ আগস্ট ঢাকার উদ্দেশে পাঠানোর কথা রয়েছে।

বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক রুহুল আমিন বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যবহারের জন্য ভারত থেকে ২ দশমিক ৩ মেট্রিক টন টিয়ার গ্যাস শেল বেনাপোল বন্দরে এসেছে। বন্দরে পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় শুল্ক ও আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত সম্পন্ন করে চালানটি খালাস দেওয়া হয়েছে। এটি যশোর ক্যান্টনমেন্টে পাঠানো হয়েছে। আগামী ৯ আগস্ট সেখান থেকে ঢাকায় নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, রোববার চালানটি গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানায় (বিওএফ) পাঠানো হবে।

চালানটির নিরাপত্তায় বেনাপোল বন্দর থেকে শার্শা পর্যন্ত বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। পরে শার্শা থেকে যশোর সেনানিবাস পর্যন্ত নিরাপত্তার দায়িত্ব নেয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি দল।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি