পরিবেশ দূষণ করে নেগোশিয়েশন করার সুযোগ নেই: প্রতিমন্ত্রী
পরিবেশ দূষণ করে বা ছাড়পত্রের নিয়ম অমান্য করে নেগোশিয়েশনের মাধ্যমে আর কোনো প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
বুধবার (২৪ জুন) সকালে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ভরাডোবা ইউনিয়নে শিল্পকারখানার বর্জ্যে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় সাড়ে তিনশত একর ফসলি জমি পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বিগত সরকার ১৫ বছর কী করেছে তা নিয়ে কথা বলতে চাইনা। আমাদের প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ রক্ষায় কাজ করছেন। শিল্প কারখানার রাসায়ানিক বজ্য খাল, নদী ও কৃষকের জমিতে গিয়ে পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। কৃষকরা ফসলী জমিতে কারখানার বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে আন্দোলন করে ব্যর্থ হয়েছেন। আর কোনো শিল্পের বর্জ্য যাতে নদী, খাল, বিল ও কৃষকের জমিতে না যায় সকলকে ঐক্য বদ্ধ ভাবে কাজ করতে হবে।
পানি দূষণ বন্ধে ইটিপির ব্যবহার অত্যন্ত জরুরী, চেষ্টা করব নতুন করে মিল কারখানার কোনো দূষিত বর্জ্যের পানি আশপাশের কৃষকের জমিতে না যায়। তার জন্য কারখানার এলাকায় টিম গঠন করার পরামর্শ দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
পরিদর্শনকালে পরিবেশ আইন ভঙ্গের দায়ে ‘এক্সপেরিয়েন্স’ কারখানার একটি অবৈধ বর্জ্য আউটলাইন সিলগালা করা হয়েছে। পুনরায় ওপেন করা হলে ওই কারখানা চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হবে বলেও হুশিয়ারি দেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, কোনো অবস্থাতেই কারখানার দূষিত বর্জ্যে খাল, নদী, আশপাশের জমিসহ কোনো জলাশয়ে যেন ফেলা না হয়। আমরা চাইনা কোনো পক্ষের প্রতিপক্ষ হতে। এখানে ডায়িং ফ্যাক্টরীসহ অন্যান্য যে সব শিল্প কারখানা আছে সেগুলো অবশ্যই কেমিক্যাল ব্যবহার করছে। এগুলো কোনো অবস্থাতেই অপরিশোধিত ভাবে নদী খাল বিল ও জলাশয়ে ফেলা যাবে না।
আমরা অবশ্যই চেষ্টা করবো এই বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ রাখার জন্য। এ ক্ষেত্রে পরিবেশের কর্মকর্তারা যদি সহযোগিতা না করে তাহলে তাদেরকে আমরা এখানে রাখবো না। অবশ্যই পরিবেশের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নতুন করে আরেক জনকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, যিনি সঠিক ভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।
ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো ফিরোজ হোসেন, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ভালুকা শাখার সাধারণ সাংবাদিক কামরুল হাসান পাঠান কামাল, উপজেলা যুবদল সধারণ সম্পাদক রকিবুল হাসান রাসেল, কৃষক প্রতিনিধি ইঞ্জিনিয়ার মো. রুহুল আমীন, মো. শামছুদ্দিন মন্ডল, মোহাইমেনুল ইসলাম তালুকদার, আবুল বাশারসহ এক্সপেরিয়েন্স কারখানার আইন উপদেষ্টা এজাজ উদ্দিন, মুলতাজিম মিলের প্রতিনিধি পুলকময় মজুমদার প্রমুখ বক্তৃতা করেন।
কালের আলো/এসএকে


আপনার মতামত লিখুন
Array