খুঁজুন
                               
, ,
           

সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জামায়াতের বিবৃতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ৭:৪৫ অপরাহ্ণ
সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জামায়াতের বিবৃতি

রাজধানীর ধানমন্ডিতে সাংবাদিকদের মারধরের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে এই ঘটনায় দায়ী দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের মঙ্গলবার (২৩ জুন) এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি চলাকালে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার যে অনাকাঙ্ক্ষিত, অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে, আমরা তার জন্য আন্তরিকভাবে গভীর দুঃখ প্রকাশ করছি।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জামায়াত গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ এবং যেকোনো গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক সমাজ বিনির্মাণে সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হওয়া বা কোনো ধরনের সহিংসতা কখনোই সমর্থনযোগ্য নয়।

এহসানুল মাহবুব আরও বলেন, ধানমন্ডি জোনের বিক্ষোভ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হওয়ার পর সেখানে উপস্থিত কিছু অতিউৎসাহী ব্যক্তি বা অনাকাঙ্ক্ষিত বহিরাগতদের উসকানিতে এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী বা কোনো উগ্র আচরণকে জামায়াতে ইসলামী কখনোই প্রশ্রয় দেয় না। এই ঘটনায় প্রকৃতপক্ষে কারা জড়িত এবং কীভাবে এই ভুল বোঝাবুঝির সূত্রপাত হলো, তা খতিয়ে দেখতে দলের পক্ষ থেকে একটি অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা করা হবে। কোনো স্তরের কর্মীর সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জামায়াতের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়ার এই ক্রান্তিলগ্নে গণমাধ্যম এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহযোগিতা বজায় থাকা অত্যন্ত জরুরি। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আহত হওয়া দৈনিক সকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মাহফুজুর রহমান শিশিরের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে জামায়াত আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে। আবারও এই অনভিপ্রেত ঘটনার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।

কালের আলো/এসএকে

রেল সচিবের সরকারি সফর, সঙ্গে স্ত্রী; সফরসূচি ঘিরে নানা প্রশ্ন

পাবনা সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪২ পূর্বাহ্ণ
রেল সচিবের সরকারি সফর, সঙ্গে স্ত্রী; সফরসূচি ঘিরে নানা প্রশ্ন

সরকারি সফরের সূচি অনুযায়ী পাবনা ও কুষ্টিয়ায় রেলওয়ের বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শনে গিয়ে স্ত্রীকে সঙ্গে রাখার ঘটনায় প্রশ্নের মুখে পড়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম। সরকারি সফরের নামে ব্যক্তিগত বা পারিবারিক ভ্রমণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে রেলওয়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে সচিবের দাবি, তিনি সরকারি সফরের অংশ হিসেবেই রেলওয়ের স্থাপনা পরিদর্শন করছেন। সরকারি সফরে সপরিবারে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। যদিও সফরে স্ত্রীকে সঙ্গে নেওয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেননি সচিব।

২২ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সরকারি সফর
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জারি করা সফরসূচি অনুযায়ী, সচিব ফাহিমুল ইসলাম ২২ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত পাবনা ও কুষ্টিয়া জেলা সফর করছেন। গত ১৭ অক্টোবর সচিবের একান্ত সচিব ও উপসচিব মো. শামীমুর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ সফরকে সরকারি সফর হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

সফরসূচিতে ঢাকা, পাবনা ও কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপককে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা থেকে সড়কপথে পাকশী রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছান সচিব। পরে পাকশী রেলওয়ের ভিআইপি রেস্টহাউসে অবস্থান ও মধ্যাহ্নভোজ শেষে বিকেলে রেলওয়ের বিভিন্ন স্থাপনা এবং ঐতিহাসিক হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় তাঁর সঙ্গে স্ত্রী ঢাকা মেডিকেল কলেজের গাইনি বিভাগের অধ্যাপক ডা. তাহমিনা হোসেনসহ কয়েকজন ছিলেন।

সফরসূচিতে নাম থাকলেও উপস্থিত ছিলেন না কয়েকজন কর্মকর্তা
পরিদর্শনকালে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) আবু হেনা মোস্তফা আলম, বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ নাজিব কায়সার এবং বিভাগীয় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কমান্ড্যান্ট রেজওয়ান উর রহমানসহ রেলওয়ের কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

তবে সফরসূচিতে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক আহম্মদ হোসেন মাসুম, সচিবের একান্ত সচিব মো. শামীমুর রহমান এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা রেজাউল করিম সিদ্দিকীর উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তাঁদের কাউকে সেখানে দেখা যায়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক আহম্মদ হোসেন মাসুম জানান, সচিব নিজেই নিজের মতো করে সবকিছু ঘুরে দেখতে চেয়েছেন। এ কারণে তাঁরা সফরে যোগ দেননি। সচিবের একান্ত সচিব শামীমুর রহমানও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন।

সরকারি পদ ও সম্পদের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন
সরকারি সফরে স্ত্রীকে সঙ্গে রাখার বিষয়টি সামনে আসার পর এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রেলওয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাঁদের কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, সরকারি সফরের আড়ালে ব্যক্তিগত বা পারিবারিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে সরকারি পদমর্যাদা ও সম্পদ ব্যবহার করা হলে তা অনিয়ম এবং সরকারি সম্পদের অপব্যবহারের শামিল হতে পারে। তবে এ ঘটনায় সরকারি অর্থ ব্যয়, সফরসংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘন কিংবা সরকারি সুবিধার অপব্যবহার হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা তদন্তের তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

সচিবের বক্তব্য কী
অভিযোগের বিষয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম জানিয়েছেন, সরকারি সফরের অংশ হিসেবেই তিনি রেলওয়ের স্থাপনা পরিদর্শনে এসেছেন। সরকারি সফরে স্ত্রীকে সঙ্গে নেওয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা না দিলেও তাঁর দাবি, এ ধরনের সফরে সপরিবারে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সচিব জানান, আগামী নভেম্বরের শেষ দিকে ঢাকা-পাবনা রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হবে। ট্রেনটির ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনে যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

কুষ্টিয়ায় পরিদর্শন শেষে ঢাকায় ফেরার সূচি
ঘোষিত সফরসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে পাকশী রেলওয়ে রেস্টহাউসে অবস্থানের পর শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে কুষ্টিয়া সার্কিট হাউসের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা সচিবের। সেদিন বেলা সাড়ে ১১টায় কুষ্টিয়া কোর্ট রেলওয়ে স্টেশন এলাকা এবং বিকেলে কুষ্টিয়া রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শনের সূচি রয়েছে।

কুষ্টিয়া সার্কিট হাউসে রাত যাপনের পর শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে তাঁর ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। সরকারি সফরে পরিবারের সদস্যকে সঙ্গে নেওয়ার বিষয়টি ঘিরে তৈরি হওয়া প্রশ্নের জবাবে সচিবের বক্তব্য থাকলেও, সফরের ব্যয় ও সরকারি সুবিধা ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অন্ধকারে নিকলীর শতাধিক সৌরবাতি

কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১২ পূর্বাহ্ণ
রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অন্ধকারে নিকলীর শতাধিক সৌরবাতি

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা অধিকাংশ সৌরবিদ্যুতের ল্যাম্পপোস্ট অকেজো হয়ে পড়েছে। কোথাও বাতি নেই, কোথাও উধাও সোলার প্যানেল ও ব্যাটারি। আবার কোথাও নষ্ট হয়ে পড়ে আছে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও চুরির কারণে সরকারের অর্থায়নে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকেরা।

গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা) ও রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় কয়েক ধাপে উপজেলার বিভিন্ন সড়ক, হাসপাতাল, মসজিদ, মন্দির, কবরস্থান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ জনসাধারণের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এসব সৌরল্যাম্প স্থাপন করা হয়। হাওরাঞ্চলের সড়কে রাতে আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের নিরাপদ চলাচলের সুবিধা দেওয়াই ছিল এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সৌরল্যাম্প স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারের তিন বছরের চুক্তি ছিল। তবে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অনেক বাতি ও যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যায়। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে সোলার প্যানেল, ব্যাটারি ও বাতি চুরি হওয়ায় একসময় আলোকিত গ্রামীণ সড়কগুলো আবারও অন্ধকারে ডুবে গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নিকলী-করিমগঞ্জ সড়কে থাকা প্রায় শতাধিক ল্যাম্পপোস্টের একটিও সচল নেই। উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে। বাতি ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ না থাকায় প্রকল্পের সুফল পাচ্ছেন না স্থানীয়রা।

রাতে সড়কে পর্যাপ্ত আলো না থাকায় সাধারণ মানুষের চলাচলে ভোগান্তি বাড়ছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পর্যটন এলাকা নিকলীর বেড়িবাঁধ ও নতুন সড়কে সৌরল্যাম্প অকেজো থাকায় রাতে চলাচলে সমস্যায় পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও বাইরে থেকে আসা পর্যটকেরা।

তবে পুরো উপজেলায় কতটি সৌরচালিত স্ট্রিট ল্যাম্প স্থাপন করা হয়েছিল, এর মধ্যে কতটি অকেজো এবং কতটি থেকে যন্ত্রাংশ চুরি হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়া যায়নি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় থেকে। ফলে প্রকল্পগুলোর বর্তমান অবস্থা ও ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট চিত্রও স্পষ্ট নয়।

স্থানীয় ব্যবসায়ী তন্ময় সাহা বলেন, সৌরল্যাম্প স্থাপনের পর নিয়মিত মেরামত ও সংস্কারের ব্যবস্থা থাকলে মানুষ এর সুফল পেত। কোনো যন্ত্রাংশ নষ্ট হলে দ্রুত তা পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। সরকার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে অর্থ ব্যয় করলেও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এখন সেই উদ্যোগের সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।নিকলী উপজেলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাসুদ হেলালী বলেন, নিকলী বেড়িবাঁধ ও নতুন সড়কের অধিকাংশ সৌরল্যাম্প নষ্ট থাকায় বাইরে থেকে আসা পর্যটকেরা রাতে চলাচল করতে ভয় পান। জনসাধারণের নিরাপত্তা ও পর্যটকদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে দ্রুত বাতিগুলো মেরামত করা জরুরি।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, সরকারের সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তিন বছরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় বর্তমানে ল্যাম্পপোস্টগুলো মেরামত করা হচ্ছে না। রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আলাদা কারিগরি অর্থও বরাদ্দ নেই। তবে বাতিগুলো মেরামতের জন্য বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

হেলিকপ্টারে সুন্দরবন, নৌপথে মোংলা—দক্ষিণাঞ্চলের সম্ভাবনা দেখলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৪ অপরাহ্ণ
হেলিকপ্টারে সুন্দরবন, নৌপথে মোংলা—দক্ষিণাঞ্চলের সম্ভাবনা দেখলেন প্রধানমন্ত্রী

সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদ ও উপকূলীয় জনপদের বাস্তবতা থেকে শুরু করে মোংলা বন্দরের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা—দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয় পর্যালোচনায় বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সকালে হেলিকপ্টারে বিশ্বখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাসভূমি সুন্দরবনের আকরাম পয়েন্ট ও সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি। এরপর খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করে নৌপথে মোংলার উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। বিকেলে পরিদর্শন করেন দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলার বিভিন্ন স্থাপনা ও পরিচালন কার্যক্রম। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বন্দর সম্প্রসারণ, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে নদীভাঙন, সুপেয় পানির সংকট, দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থা এবং জলবায়ুজনিত ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় জনপদের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশাও সামনে এসেছে।

  • আকরাম পয়েন্ট পরিদর্শন শেষে নলিয়ানে অবতরণ ও জনতার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়
  • বিকেলে মোংলা বন্দরের জেটি, কনটেইনার ইয়ার্ড ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম পরিদর্শন

হেলিকপ্টারে সুন্দরবন পরিদর্শন
এদিন সকালে হেলিকপ্টারে সুন্দরবনের আকরাম পয়েন্ট ও সংলগ্ন এলাকা ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সুন্দরবন পরিদর্শনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আবু সায়েদ মো. মনজুর আলম। আকাশপথে সুন্দরবন পরিদর্শন শেষে সকাল ১০টা ২৮ মিনিটে খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

সুন্দরবন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ বিপুল জীববৈচিত্র্যের আবাসস্থল হওয়ার পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের প্রভাব মোকাবিলায়ও এ বন উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সুন্দরবনের পরিবেশগত গুরুত্বের পাশাপাশি এর সঙ্গে স্থানীয় মানুষের জীবিকা, মৎস্যসম্পদ ও পর্যটন সম্ভাবনার সম্পর্ক রয়েছে। ফলে এ অঞ্চলকে ঘিরে যেকোনো উন্নয়ন পরিকল্পনায় অর্থনৈতিক সম্ভাবনার সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণের ভারসাম্য বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

নলিয়ানে প্রধানমন্ত্রী, শুভেচ্ছা জানাতে মানুষের ভিড়
নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণের পর প্রধানমন্ত্রী পায়ে হেঁটে নলিয়ান কোস্টগার্ডের পন্টুনে যান। সকাল ১০টা ৪৮ মিনিটে সেখান থেকে নৌপথে মোংলার উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি। এ সময় নলিয়ান বাজার মোড়ে অপেক্ষমাণ শত শত মানুষের সঙ্গে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা বিনিময় ও করমর্দন করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁকে একনজর দেখতে সকাল থেকেই সেখানে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে দুর্গম উপকূলীয় জনপদটিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তবে স্থানীয় মানুষের কাছে এ সফরের গুরুত্ব কেবল প্রধানমন্ত্রীকে কাছ থেকে দেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নদীভাঙন, সুপেয় পানির সংকট, দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থা এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্তির প্রত্যাশাও রয়েছে তাঁদের মধ্যে।

নদীভাঙন, পানির সংকট ও যোগাযোগের দুর্ভোগ
সুন্দরবনসংলগ্ন দাকোপের নলিয়ান প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও নানা অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি। নদীভাঙন, নিরাপদ পানির অভাব, লবণাক্ততা এবং দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থা স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। উপকূলীয় জনপদের টেকসই উন্নয়নে এসব সমস্যার সমাধান জরুরি। নদীভাঙন প্রতিরোধ, নিরাপদ সুপেয় পানির ব্যবস্থা, সারা বছর চলাচল উপযোগী সড়ক এবং দুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামো নিশ্চিত করা গেলে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাড়তে পারে। প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে তাই প্রত্যন্ত উপকূলীয় এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা কতটা বাস্তবমুখী হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠে।

সফর উপলক্ষে জোরদার নিরাপত্তা
প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে নলিয়ান বাজারের পশ্চিম প্রান্তের পাকা সড়ক থেকে পূর্ব দিকে কোস্টগার্ড কার্যালয় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কে ইট বিছিয়ে দেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। পাশাপাশি নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রস্তুত করা হয় হেলিপ্যাড। সফর ঘিরে এলাকায় জোরদার করা হয় নিরাপত্তাব্যবস্থা। বিদ্যালয় মাঠ ও আশপাশে পুলিশ, প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর), নৌবাহিনী, কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর অবতরণের স্থানেও ডগ স্কোয়াড দিয়ে তল্লাশি চালানো হয়।

মোংলা বন্দরে প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শন
নলিয়ান থেকে নৌপথে মোংলায় পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী নৌবাহিনীর বানৌজা মোংলা ঘাঁটিতে যান। পরে সেখান থেকে সরাসরি মোংলা বন্দরের জেটি এলাকায় পৌঁছান তিনি। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে বন্দরের সার্বিক পরিচালন কার্যক্রম ও বিভিন্ন অবকাঠামো পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরিদর্শনকালে তিনি বন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প, জেটি সুবিধা, কনটেইনার ইয়ার্ডসহ বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখেন। এ সময় মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা তাঁর সঙ্গে ছিলেন। বন্দরের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সক্ষমতা বাড়ানো, দ্রুত পণ্য খালাস নিশ্চিত করা এবং আধুনিকায়নের কাজ ত্বরান্বিত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। বন্দরের প্রধান ফটকে জড়ো হওয়া বিএনপির নেতাকর্মীরা তাঁকে শুভেচ্ছা জানান।

বন্দর সম্প্রসারণে বাড়তে পারে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা
বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরগুলোর মধ্যে মোংলা বন্দর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ বন্দরের পরিচালন সক্ষমতা বাড়ানো গেলে পণ্য পরিবহন, কনটেইনার ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহব্যবস্থায় নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে আধুনিক বন্দর গড়ে তোলার জন্য শুধু জেটি বা কনটেইনার ইয়ার্ড সম্প্রসারণ যথেষ্ট নয়। পণ্য ওঠানামার গতি, জাহাজ চলাচলের সুবিধা, সড়ক ও রেল যোগাযোগ, গুদামজাতকরণ, কাস্টমস কার্যক্রম এবং পরিবহন ব্যয় কমানোর বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ। এসব ক্ষেত্রে উন্নতি হলে মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে পরিবহন, লজিস্টিকস, গুদামজাতকরণ ও অন্যান্য সহায়ক সেবায় বিনিয়োগ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান ও ব্যবসার সুযোগও সৃষ্টি হতে পারে।

সম্ভাব্য এলএনজি টার্মিনাল নিয়ে আলোচনা
সুন্দরবন এলাকায় সম্ভাব্য ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল স্থাপনের স্থান পরিদর্শন নিয়েও আলোচনা রয়েছে। এ ধরনের অবকাঠামো বাস্তবায়িত হলে জ্বালানি সরবরাহ ও শিল্পায়নের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে টার্মিনালের সুনির্দিষ্ট অবস্থান, অনুমোদন, ব্যয় ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া প্রকল্পটির চূড়ান্ত অবস্থা সম্পর্কে সিদ্ধান্তমূলক বক্তব্য দেওয়া যায় না। সুন্দরবনের কাছাকাছি বড় জ্বালানি অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বন, নদী, জলজ প্রাণী ও স্থানীয় মানুষের জীবিকার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা করে স্থান নির্বাচন এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল এবং খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমির এজাজ খান। এ ছাড়া খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন, জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাতসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সফরে ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর বৃহস্পতিবারের সফরে দক্ষিণাঞ্চলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা পাশাপাশি উঠে এসেছে। একদিকে সুন্দরবনসংলগ্ন নলিয়ানের মানুষের নদীভাঙন, সুপেয় পানি ও যোগাযোগসংকট; অন্যদিকে মোংলা বন্দর সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এবং সম্ভাব্য জ্বালানি অবকাঠামো ঘিরে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা।

এই দুই ক্ষেত্রকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া গেলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক বিকাশের পাশাপাশি উপকূলীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে সে জন্য প্রয়োজন সুস্পষ্ট পরিকল্পনা, কার্যকর বাস্তবায়ন, পরিবেশগত সুরক্ষা এবং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ। সুন্দরবন থেকে মোংলা বন্দর পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর এ সফর দক্ষিণাঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদ, উপকূলীয় জনজীবন ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোর গুরুত্ব সামনে এনেছে। এখন বড় প্রশ্ন—পরিদর্শনে উঠে আসা সম্ভাবনাগুলো কত দ্রুত বাস্তব উন্নয়ন, নতুন কর্মসংস্থান এবং উপকূলবাসীর দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানে রূপ নেয়।

কালের আলো/এমএসএএকে/এমকে