খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১১ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

গুণীদের সম্মান জানালে গর্বিত জাতি হবে বাংলাদেশ: ড. মঈন খান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১২:৩২ অপরাহ্ণ
গুণীদের সম্মান জানালে গর্বিত জাতি হবে বাংলাদেশ: ড. মঈন খান

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, গুণী মানুষদের সম্মান জানাতে পারলে শুধু নিজেরা নয়, বাংলাদেশ একটি গর্বিত জাতি হিসেবে উপনীত হবে। আগামী দিনে বাংলাদেশে গুণী মানুষদের যথাযথ সম্মান দেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

বুধবার (২৫ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবে দৈনিক ইত্তেফাক ও দিনকালের সাবেক সম্পাদক আখতার উল আলমের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয় সাংবাদিক সমিতি।

আখতার উল আলমের স্মৃতিচারণ করে মঈন খান বলেন, এমন একটি সময় ছিল যখন সত্য কথা লিখতে সাংবাদিকদের জন্য নিজ নামে লেখা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। সে কারণে আখতার উল আলম ‘লুব্ধক’ ছদ্মনামে লিখতেন। ‘লুব্ধক’ শুধু একটি ছদ্মনাম নয়, এটি ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের একটি কৌশল। তিনি সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে লিখতেন। তার লেখায় উদারচেতা বাস্তবতার প্রতিফলন ছিল। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, ভূরাজনীতি, কূটনীতি ও বৈদেশিক অর্থনীতি নিয়েও তিনি নিয়মিত লিখতেন।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তার ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় তাকে ক্যান্টনমেন্টে বন্দিও হতে হয়েছিল। তিনি ছিলেন স্বাধীনতার পক্ষে একজন দৃঢ় অবস্থানের মানুষ। সেই সময়ে অনেকে প্রতিবাদের সাহস দেখাতে পারেনি।

সাংবাদিকতার বাইরেও ১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত আখতার উল আলমকে বাহরাইনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত করে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল বলে উল্লেখ করে মঈন খান বলেন, তিনি সফলতার সঙ্গে ওই দায়িত্ব পালন করেন। রংপুরের মিঠাপুকুরে ১৯৩৯ সালে জন্ম নেওয়া আক্তারুল আলম পরবর্তী সময়ে সাংবাদিকতা, সাহিত্য ও কূটনীতির জগতে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছিলেন বলেও জানান তিনি।

দেশ ও দেশের মানুষের জন্য যারা অবদান রেখেছেন, সেসব বরেণ্য অনেক মানুষকে স্মরণ করা হয় না বলে মন্তব্য করেন অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ।

তিনি বলেন, তাদেরকে মর্যাদা দিয়ে স্মরণ করা উচিত। জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের স্মরণ করি না। শেরে বাংলা একে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর জন্য কি রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো অনুষ্ঠান হয়? শুধু টেলিভিশন-সংবাদ পত্রে বিবৃতি দেওয়া হয়। যে জাতি তার বীর ও পথপ্রদশর্কদের স্মরণ করতে পারে না সেই জাতি সুষ্ঠু ও সঠিকভাবে আগামীর পথে এগোতে পারে না।

সরকার ও রাষ্ট্রের কাছে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের দেশের মহৎ পুরুষ, অগ্রগামী মানুষ তাদের ইতিহাস, তাদের কাজ-সংগ্রাম যেন ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে পারি সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। বরেণ্য মানুষদের স্মরণ করার জন্য একটা সংগঠন করার দাবিও জানান তিনি।

জাতীয় পর্যায়ে একটি তথ্যভাণ্ডার গঠনের প্রস্তাব দাবি জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, সাংবাদিক সমাজ ও সংশ্লিষ্ট বিদগ্ধ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে এমন একটি উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এতে দেশের কৃতি ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম উপকৃত হবে।

স্মরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনের চেয়ারম্যান ও সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. আব্দুল লতিফ মাসুম।

কালের আলো/এসআর/এএএন

দেশে মাদকাসক্ত মানুষের সংখ্যা ৮২ লাখ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৩:৩৫ অপরাহ্ণ
দেশে মাদকাসক্ত মানুষের সংখ্যা ৮২ লাখ

দেশে বর্তমানে ৮২ লাখ মানুষ কোনো না কোনো ধরনের মাদক ব্যবহার করছেন। যা দেশের মোট জনসংখ্যার ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘নির্বাচিত বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রগুলোর মাঝে সরকারি অনুদানের চেক বিতরণ’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের জাতীয় পর্যায়ের একটি গবেষণার ফলাফলে উঠে এসেছে, দেশে বর্তমান ৮২ লাখ মানুষ কোনো না কোনো ধরনের মাদক ব্যবহার করছেন। যা দেশের মোট জনসংখ্যার ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ। নতুন সিনথেটিক ও সেমি সেনথেটিক মাদকের আবির্ভাবের ফলে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহারজনিত সমস্যা আরও ঘনীভূত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বিপুলসংখ্যক তরুণ মাদকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। তাদের এখনই চিকিৎসা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে বর্তমান সরকার মাদকাসক্তির চিকিৎসা সেবা উন্নত এবং সহজলভ্য করার জন্য কাজ করছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সরকারিভাবে পরিচালিত ঢাকার তেজগাঁওয়ে মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রসহ তিনটি বিভাগীয় নিরাময় কেন্দ্রের শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ঢাকাস্থ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রকে ২৫০ শয্যা উন্নীতকরণের কাজ চলমান, ১৪১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সাতটি বিভাগীয় শহরে ২০০ শয্যা বিশিষ্ট নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।’

দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যার তুলনায় সরকারি চিকিৎসা সুবিধা এখনও যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘এজন্য সরকারিভাবে মাদকাসক্তদের চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগকে উৎসাহিত করার জন্য সরকার নানামুখী কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে রোগীদের চিকিৎসা সেবার মান বৃদ্ধি এবং মানব সেবার মান উন্নয়নে সরকার আর্থিক অনুদান দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ৪০৩টি বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের মধ্যে ৭৩টি নিরাময় কেন্দ্রকে ১ কোটি ১০ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করা হচ্ছে আজকে।’

কালের আলো/এসআর/এএএন

দুই বছর পর বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৩:২২ অপরাহ্ণ
দুই বছর পর বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য আবারও ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করেছে ভারত। প্রায় দুই বছর পর এ ধরনের ভিসা কার্যক্রম পুনরায় শুরু হলো। ২৮ জুন থেকে বাংলাদেশিরা ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ঢাকার ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে দেশের পাঁচটি ভিসা আবেদন কেন্দ্র থেকে পর্যটন ভিসা দেওয়া হবে। কেন্দ্রগুলো হলো ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট ও রাজশাহী। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য কেন্দ্রও চালু করা হবে।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সৃষ্ট অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট থেকে বাংলাদেশে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছিল। পরে কূটনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে গত বছরের ২১ ডিসেম্বর থেকে ট্যুরিস্ট ভিসা প্রদান পুরোপুরি স্থগিত করা হয়।

দীর্ঘ বিরতির পর ট্যুরিস্ট ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ায় চিকিৎসা, ভ্রমণ ও পারিবারিক প্রয়োজনে ভারতগামী বাংলাদেশিদের মধ্যে স্বস্তি ফিরবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

কালের আলো/এসআর/এএএন

ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে ২৮ জুন, লক্ষ্যমাত্রা ২ কোটি ৪০ লাখ শিশু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:৪২ অপরাহ্ণ
ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে ২৮ জুন, লক্ষ্যমাত্রা ২ কোটি ৪০ লাখ শিশু

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এমএ মুহিত এসব তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সারাদেশে একযোগে এই ক্যাম্পেইন চলবে। তবে কোনো শিশু যদি ওইদিন বাদ পড়ে, তবে পরদিনও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে। এছাড়া ১২টি জেলার ৫৮টি দুর্গম উপজেলায় ক্যাম্পেইনের পরের চারদিনও এই ক্যাপসুল বিতরণ করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রাতকানা রোগসহ শিশু অন্ধত্বের বড় কারণ ভিটামিন ‘এ’-র অভাব। এই অভাব দূরীকরণে ক্যাম্পেইনে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের একটি করে নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের একটি করে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

ক্যাম্পেইনের প্রস্তুতি তুলে ধরে ড. এমএ মুহিত বলেন, শিশুদের ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য দেশজুড়ে ১ লাখ ২০ হাজার স্থায়ী কেন্দ্রের পাশাপাশি জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে ৫০০টি অস্থায়ী কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রাতকানা রোগ থেকে শুরু করে শিশু অন্ধত্বের একটা প্রধান কারণ হচ্ছে ভিটামিন ‘এ’-র অভাব। বাংলাদেশে দুই দশক আগেও অপুষ্টিজনিত কারণে শিশুদের অন্ধ হয়ে যাওয়ার চিত্র দেখা যেতো। তবে নিয়মিত ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বিতরণ চালু হওয়ার পর এই হার অত্যন্ত দ্রুত কমে এসেছে। আজকাল ভিটামিনের অভাবজনিত কারণে অন্ধত্ব বরণ করা শিশু খুব কমই দেখা যায়।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের ক্যাম্পেইনের জন্য ইউনিসেফ থেকে ক্যাপসুলগুলো ক্রয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪০ লাখ নীল রঙের ক্যাপসুল এবং ২ কোটি ২০ লাখ লাল রঙের ক্যাপসুল। এরই মধ্যে ক্যাপসুলগুলো সারাদেশে পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে এবং আগামীকাল ২৬ জুনের মধ্যে সব বিতরণ কেন্দ্রে এগুলো পৌঁছে যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হানসহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি