খুঁজুন
                               
সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ১৫ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি করে হত্যা মামলার রায় পড়া চলছে

আদালত প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ১২:২৮ অপরাহ্ণ
কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি করে হত্যা মামলার রায় পড়া চলছে

জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা এক তরুণকে গুলির যে দৃশ্য সবাইকে নাড়িয়ে দিয়েছিল, সেই ঘটনার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রায় জানা যাবে আজ রবিবার। এদিন বেলা ১২টার কিছু আগে এই মামলার রায় পড়া শুরু হয়।

মামলার আসামি সাবেক পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে রায় ঘোষণা করবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। গুলির ওই ঘটনা ছাড়াও দুজনকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে মামলায়।

আসামিদের মধ্যে একজন গ্রেপ্তার আছেন। তিনি হলেন রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকার। তাকে আজ বেলা ১১টা ২৪ মিনিটে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর এজলাসে তোলা হয়।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই রায় ঘোষণা করবেন। এই ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শফিউল আলম ও বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ইতিমধ্যে চারটি মামলার রায় দেওয়া হয়েছে। এটি হতে যাচ্ছে পঞ্চম রায়। প্রসিকিউশন জানিয়েছে, এই মামলায় তারা ১৩ জন সাক্ষী উপস্থাপন করেছেন।

এই মামলার চার পলাতক আসামি হলেন- ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান (ইতিমধ্যে চানখাঁরপুলের মামলায় তার মৃত্যুদণ্ড হয়েছে), ডিএমপির খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান ও রামপুরা থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।

২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকালে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে পুলিশের এলোপাতাড়ি গুলি ও ধাওয়া খেয়ে বনশ্রী জামে মসজিদের পাশে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্মাণাধীন ভবনে আশ্রয় নেন আমির হোসেন।

আত্মরক্ষায় তিনি ওই ভবনের তৃতীয় তলার ছাদ ঢালাইয়ের পাইপ ধরে ঝুলে ছিলেন। সেখানে এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার ও এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া উপস্থিত হয়ে তাকে নিচে লাফ দিতে বলেন। ওই তরুণ লাফ না দেওয়ায় পর পর ছয়টি গুলি করা হয়। এতে তিনি গুরুতর জখম হন।

মামলার তৃতীয় অভিযোগে মায়া ইসলাম (৬০) নামে এক বৃদ্ধাকে গুলি করে হত্যা এবং তার ছয় বছরের নাতি বাসিত খান মুসাকে হত্যাচেষ্টার বিবরণ রয়েছে। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকালে বনশ্রী জি ব্লকে রামপুরা থানার সামনের একটি বাসার নিচতলায় গেইটের ভেতরে দাদি-নাতি অবস্থান করছিলেন।

আসামিরা যখন ক্রমাগত গুলি চালাচ্ছিল, তখন পুলিশের একটি বুলেট শিশু মুসার মাথা ভেদ করে বেরিয়ে যায় এবং তা সরাসরি তার দাদি মায়া ইসলামের পেটে বিদ্ধ হয়। আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মায়া ইসলাম মারা যান।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ইতালিতে ৩ বাংলাদেশিকে হত্যা বেরিয়ে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ১:৫১ পূর্বাহ্ণ
ইতালিতে ৩ বাংলাদেশিকে হত্যা বেরিয়ে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

রোমের পশ্চিমাঞ্চলের কাসালোত্তি এলাকায় একই পরিবারের ওই তিন বাংলাদেশিকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় আরেক বাংলাদেশি নাগরিক শাহাদাত হোসেনকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে খুঁজছে ইতালির পুলিশ।

নিহতরা হলেন কামাল উদ্দিন বাবুল, তার স্ত্রী আরজু বেগম এবং তাদের মেয়ে আরোয়া ইসলাম আরিশা। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন দম্পতির বড় ছেলে আমির। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ইতালীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ৪৩ বছর বয়সী শাহাদাত হোসেন কয়েক মাস আগে যুক্তরাজ্য থেকে রোমে যান। তদন্তকারীদের ধারণা, তিনি আরজু বেগমের প্রতি একতরফাভাবে আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন। তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পরই এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।

হত্যাকাণ্ডের কয়েক দিন আগে শাহাদাত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘কেউ একা মারা যায় না। সবসময় তার সঙ্গে আরেকজনও মারা যায়। মৃত্যু এলে নিজের প্রিয়জনদেরও সঙ্গে নিয়ে যাওয়া উচিত, যাতে কাউকে প্রিয়জন হারানোর কষ্ট নিয়ে বেঁচে থাকতে না হয়।’

তদন্তকারীরা পোস্টটিকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শনিবার রাত ৯টার কিছু পরে শাহাদাত একটি ধারালো দা (ম্যাশেটি) নিয়ে ওই পরিবারের বাসায় প্রবেশ করেন। প্রথমে তিনি আরজু বেগম ও তাদের আট বছর বয়সী মেয়ে আরোয়াকে কুপিয়ে হত্যা করেন। পরে আরজু বেগমের স্বামী কামাল উদ্দিনকেও হত্যা করেন।

হত্যার পর তিনজনের মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে পুলিশের ধারণা। এদিকে হত্যাকাণ্ডের সময় বাসায় এসে বাবা-মা ও বোনকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন দম্পতির ২০ বছর বয়সী ছেলে আমির। তবে হামলাকারীর সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তিনি গুরুতর আহত হন।

বর্তমানে রোমের জেমেলি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন আমির। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি বারবার বলছিলেন, ‘সে আমার মাকে হত্যা করেছে, আমার পুরো পরিবারকে শেষ করে দিয়েছে।’

পুলিশকে তিনি হামলাকারীর নামও জানান এবং বলেন, ‘এটা শাহাদাতই করেছে।’

স্থানীয় বাসিন্দা আগোস্তিনো জানান, সেদিন রাতে তিনি টেলিভিশনে নরওয়ে ও ফ্রান্সের ফুটবল ম্যাচ দেখছিলেন। হঠাৎ চিৎকার শুনে বাইরে বের হয়ে দেখেন, আমির রাস্তায় পড়ে আছেন এবং তার ওপর একজন ব্যক্তি হামলা চালাচ্ছে। পরে ওই ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই শাহাদাত হোসেন পলাতক। তাকে ধরতে কাসালোত্তি এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করছে ইতালির পুলিশ। পাশাপাশি দেশজুড়ে তার সন্ধানে অভিযান চালানো হচ্ছে।

শনিবার বিকেলে বোলোনিয়া রেলস্টেশন থেকে তার সম্ভাব্য অবস্থানের খবর পাওয়া গেলেও সেটি শেষ পর্যন্ত সঠিক প্রমাণিত হয়নি। ঘটনাস্থল থেকে শাহাদাতের ফেলে যাওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেটির তথ্য বিশ্লেষণের পাশাপাশি নিহত পরিবারের স্বজন, প্রতিবেশী ও পরিচিতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের দাবি, নিহত তিন বাংলাদেশি ও অভিযুক্ত শাহাদাত— উভয়ের বাড়িই বাংলাদেশের নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়। তারা একই এলাকার বাসিন্দা। কামাল উদ্দিন ২০০৯ সালে স্ত্রীকে নিয়ে ইতালিতে যান। আর প্রায় ছয় মাস আগে শাহাদাত স্ত্রীকে নিয়ে লন্ডন থেকে রোমে চলে আসেন।

স্থানীয়দের দাবি, শাহাদাত দীর্ঘদিন ধরেই আরজু বেগমের প্রতি অস্বাভাবিকভাবে আসক্ত ছিলেন। তাদের মধ্যে কোনও সম্পর্ক ছিল কি না, সে বিষয়ে বিভিন্ন গুঞ্জন থাকলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও নিশ্চিত তথ্য দেয়নি।

রোমের প্রসিকিউটর অফিস এ ঘটনায় হত্যা ও গুরুতর আহত করার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে। তদন্তকারীরা বলছেন, শাহাদাতকে দ্রুত গ্রেপ্তার করাই এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। এরপর হত্যার প্রকৃত উদ্দেশ্য ও ঘটনার পেছনের সব কারণ উদঘাটনের চেষ্টা করা হবে।

প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, আরজু বেগমকে নিজের একচ্ছত্র অধিকার হিসেবে দেখতেন শাহাদাত। সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ না হওয়ায় তিনি শুধু আরজু বেগমকেই নয়, তার স্বামী ও শিশুকন্যাকেও নির্মমভাবে হত্যা করেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

খুলনায় চাঁদা না দেওয়ায় ভাঙ্গাড়ি ব্যবসায়ীকে গুলি

খুলনা প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ১:৩৮ পূর্বাহ্ণ
খুলনায় চাঁদা না দেওয়ায় ভাঙ্গাড়ি ব্যবসায়ীকে গুলি

খুলনা নগরীতে দাবিকৃত চাঁদা না দেওয়ায় রফিকুল ইসলাম মানিক (৪০) নামে এক ভাঙ্গাড়ি ব্যবসায়ীকে গুলি করার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই পাঠানো হয়েছে ঢাকায়।

রবিবার রাত ১০টার দিকে নগরীর গল্লামারী এলাকার আইডিয়াল নার্সিং হোম ক্লিনিকের সামনে ঘটে এ ঘটনা।

আহত রফিকুল ইসলাম মানিক নগরীর এম এ বারী সড়ক এলাকার রুস্তম মাঝির ছেলে। তিনি গল্লামারী এলাকায় ভাঙ্গাড়ির ব্যবসা করেন।

স্থানীয়রা জানায়, ঘটনার সময় মানিক তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অবস্থান করছিলেন। এর আগে সায়েল নামে পরিচিত এক ব্যক্তি তার কাছে চাঁদা দাবি করেন। দাবিকৃত অর্থ না দেওয়ায় তাকে গুলি করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

সোনাডাঙ্গা থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত করছে এবং জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খেয়ে ফেরার পথে প্রাণ গেল শিশুর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ১:২০ পূর্বাহ্ণ
ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খেয়ে ফেরার পথে প্রাণ গেল শিশুর

ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খেয়ে মায়ের কোলে করে বাড়ি ফিরছিল শিশু স্বর্ণা। এ সময় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় সড়কে ছিটকে পড়ে সে। উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি তাকে।

রবিবার (২৮জুন) দুপুরে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় উপজেলার চিৎলা দেশভাটা এলাকার সামনের দুর্ঘটনা এটি। নিহত স্বর্ণা খাতুন মেহেরপুর সদর উপজেলার সাজেদুল ইসলামের মেয়ে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনে অংশ নিতে শিশুটিকে নিয়ে তার মা ও নানী দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান।

ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর পর তারা ভ্যানে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে চিৎলা দেশভাটা এলাকার সামনে একটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেল ভ্যানটিকে ধাক্কা দিলে স্বর্ণা মায়ের কোল থেকে ছিটকে সড়কে পড়ে গুরুতর আহত হয়। এ সময় ভ্যান থেকে পড়ে আহত হন তার নানী সাজেদা খাতুনও।

স্থানীয়রা দ্রুত দুজনকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে স্বর্ণা খাতুনকে মৃত ঘোষণা করেন জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক। আহত সাজেদা খাতুন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি শেখ মেসবা উদ্দীন জানিয়েছেন, এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে চলমান।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি