বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছে বিভিন্ন দেশ। ভারত, পাকিস্তান ও নেপালের রাষ্ট্রপতির পাশাপাশি চীন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি ও নাইজেরিয়াও নতুন রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে।
অভিনন্দনবার্তাগুলোতে বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার, পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং ভবিষ্যতে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশার কথা উঠে এসেছে।
ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানিয়ে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন দায়িত্বে মির্জা ফখরুল বাংলাদেশের জনগণের সেবায় সফল হবেন।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে অনন্য হিসেবে উল্লেখ করে দ্রৌপদী মুর্মু বলেন, অভিন্ন ইতিহাস, আত্মত্যাগ, সাংস্কৃতিক যোগাযোগ ও বন্ধুত্বের ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। জ্বালানি, প্রযুক্তি, যোগাযোগ, যুব কার্যক্রম, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর প্রত্যাশাও জানান তিনি।
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারিও মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে অভিন্ন ইতিহাস, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগের ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা জানান জারদারি।
মির্জা ফখরুলকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণও জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট। তাঁর মতে, এ ধরনের সফর দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে।
নেপালের রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেলও নতুন রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ ও নেপালের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। দুই দেশের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান যোগাযোগ ও সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
চীনও মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানিয়েছে। ঢাকায় চীনা দূতাবাসের বার্তায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় চীন। নতুন যুগে দুই দেশের যৌথ প্রচেষ্টায় ‘অভিন্ন ভবিষ্যতের জন্য চীন-বাংলাদেশ কমিউনিটি’ গড়ে তুলতে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটি।
যুক্তরাজ্যও নতুন রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে। ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশন জানিয়েছে, ঢাকা ও লন্ডনের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্ব আরও গভীর করতে মির্জা ফখরুল ও বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করতে তারা আগ্রহী।
ফ্রান্সের পক্ষ থেকেও এসেছে অভিনন্দনবার্তা। ঢাকায় ফ্রান্স দূতাবাস মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে জানায়, বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবে দুই দেশের বন্ধুত্ব ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সুইজারল্যান্ড ও জার্মানিও নতুন রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানিয়েছে। দুই দেশই বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে।
এদিকে নাইজেরিয়ার ফেডারেল সরকারও মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাম্বাসেডর বিয়াঙ্কা ওদুমেগউ-ওজুকউ এক বার্তায় মির্জা ফখরুল, বাংলাদেশ সরকার ও জনগণকে শুভেচ্ছা জানান। তাঁর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়াকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
সব মিলিয়ে বিভিন্ন দেশের অভিনন্দনবার্তায় বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোর পাশাপাশি চীন, ইউরোপের দেশগুলো ও নাইজেরিয়ার বার্তায় নতুন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ভবিষ্যতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যাশা উঠে এসেছে।
কালের আলো/এসএ
আপনার মতামত লিখুন
Array