খুঁজুন
                               
রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ১৪ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

বাজেট নিয়ে সমালোচনা খুব একটা আমলে নিচ্ছি না: সড়কমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ৬:১৬ অপরাহ্ণ
বাজেট নিয়ে সমালোচনা খুব একটা আমলে নিচ্ছি না: সড়কমন্ত্রী

Oplus_131072

প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে বিরোধীদলের সমালোচনাকে খুব একটা আমলে নিচ্ছেন না বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, অর্থমন্ত্রী বাজেটে সামাজিক অবকাঠামো খাতে প্রায় ৩০ শতাংশের মতো বরাদ্দ রেখেছেন। ভৌত অবকাঠামোর ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশের উপরে বরাদ্দ রেখেছেন। সাধারণ সেবার ক্ষেত্রে ২৬ শতাংশের মতো বরাদ্দ রেখেছেন। অর্থাৎ অর্থের বরাদ্দের অনুপাতটা তিনি চমৎকারভাবে সাজিয়েছেন।

তিনি বলেন, মানবসম্পদ উন্নয়নের জায়গাটা হলো আমাদের একমাত্র সম্ভাবনাময় খাত। আমাদের লক্ষ্য, ১৮ কোটি মানুষকে দক্ষ ও যোগ্য হিসেবে তৈরি করা। সেক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রী যথেষ্ট ও সময়োপযোগী বরাদ্দ রেখেছেন। অনগ্রসর জাতিকে সামাজিক সুরক্ষা দেওয়ার জন্য, সাধারণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তিনি ২৬ শতাংশের কাছাকাছি বরাদ্দ রেখেছেন, যা আমাদের অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

রবিউল আলম বলেন, আহরিত অর্থের দুই ধরনের ব্যয় রাষ্ট্র করে। একটি হচ্ছে অনুন্নয়ন ব্যয়, আরেকটি হচ্ছে উন্নয়ন ব্যয়। অনুন্নয়ন ব্যয় মানে হচ্ছে রাষ্ট্র পরিচালনা ব্যয়। রাষ্ট্র পরিচালনা ব্যয়ের ক্ষেত্রেও অর্থমন্ত্রী যেটা গত অর্থবছরে ছিল ৭২ দশমিক ৭ শতাংশ, সেখান থেকে কমিয়ে তিনি নিয়ে এসেছেন ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশে। তার মানে অপচয় রোধ করেছেন। অপ্রয়োজনীয় অর্থ ব্যয় করছেন না। তিনি উন্নয়ন ব্যয় বাড়িয়েছেন। যে উন্নয়ন ব্যয় গত অর্থবছরে; অর্থাৎ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ছিল ২৭ দশমিক ৩ শতাংশ, সেটাকে তিনি বাড়িয়ে ৩৩ দশমিক ৭ শতাংশ করেছেন। সবকিছু মিলিয়ে বাংলাদেশের মানুষের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে এই বাজেটে।

মন্ত্রী বলেন, বাজেট নিয়ে আমি খুব সমালোচনা শুনিনি সংসদে। কিছু শঙ্কা শুনেছি। এই বাজেট নিয়ে কেউ নেতিবাচক কিছু বলেননি। কিছু আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। কোথায় করেছেন? সেটি হচ্ছে রাজস্ব আয়ে ঘাটতি হতে পারে। রাজস্ব আয়ের ঘাটতি হবে না। কারণ, ই-চালানের মাধ্যমে রাজস্ব সংগ্রহ করা হবে। কর অব্যাহতি হ্রাস করা হবে। রাজস্ব ফাঁকির ক্ষেত্রে চিহ্নিতকরণ করা হবে এবং ভ্যাট কাঠামোতে নতুন বিন্যাস করা হবে। অতএব, রাজস্ব ঘাটতি আমি দেখছি না। আর আমাদের রাজস্ব আরোহণ কর অনুপাতে যদি বলেন, সেটা যদি হয় ৯ শতাংশের কাছাকাছি, নেপাল-ভুটানও ১৩-১৪ শতাংশ করে। আমাদের ওখানে যেতে হবে। সেজন্য অর্থমন্ত্রী চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন। আমার বিশ্বাস রাজস্ব আয়ে ঘাটতি হবে না।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকের কথা বলা হয়েছে; ব্যাংক ঋণও কমেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ছিল এক লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা। এবার করা হয়েছে এক লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা। আমার মনে হচ্ছে, যেভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং আমাদের মূল্যস্ফীতি হ্রাস পাবে, তাতে জনগণের সঞ্চয় বাড়বে। অতএব, ব্যাংকের অর্থের ঘাটতি কিন্তু হবে না। ঘাটতি বাজেটের কথা বলা হয়েছে। কর যদি আহরিত হয়; রাজস্ব ঠিকমত যদি আহরিত হয়; ব্যাংক থেকে যদি লোনটা যেটা নির্ধারণ করা হয়েছে, সেভাবে পাওয়া যায়, ঘাটতি বাজেট হওয়ার কোনো সুযোগ থাকছে না।

রবিউল আলম এসময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ঘাটতি বাজেটের তথ্য তুলে ধরে বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ। তাদের সর্বশেষ বাজেটে ঘাটতি জিডিপির পাঁচ দশমিক ৫। আপনি চীনে যান, সেখানেও জিডিপির ৪ শতাংশ ঘাটতি বাজেট। অতএব, এই ঘাটতি বাজেট মিটআপ এবং অ্যাচিভ করতে সক্ষম হবো আমরা। প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা মাত্র ছয় দশমিক ৫ শতাংশ। যারা শঙ্কা প্রকাশ করছেন, তাদের জন্য বলতে চাই, প্রথম বিরোধী দল হয়েছেন, অনেক জায়গায় সমালোচনা করতে ভুল করেছেন। সরকারি দল এখনও হন নাই। আমার বিশ্বাস, আর দুই-চারবার-পাঁচবার বিরোধী দল থাকলে আস্তে আস্তে তারা সমালোচনাটাও বুঝে যাবেন। আমি ওই সমালোচনাকে খুব একটা আমলে নিচ্ছি না।

তিনি বলেন, মানবসম্পদ উন্নয়নের জায়গাটা হলো আমাদের একমাত্র সম্ভাবনাময় খাত। আমাদের লক্ষ্য, ১৮ কোটি মানুষকে দক্ষ ও যোগ্য হিসেবে তৈরি করা। সেক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রী যথেষ্ট ও সময়োপযোগী বরাদ্দ রেখেছেন। অনগ্রসর জাতিকে সামাজিক সুরক্ষা দেওয়ার জন্য, সাধারণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তিনি ২৬ শতাংশের কাছাকাছি বরাদ্দ রেখেছেন, যা আমাদের অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

রবিউল আলম বলেন, আহরিত অর্থের দুই ধরনের ব্যয় রাষ্ট্র করে। একটি হচ্ছে অনুন্নয়ন ব্যয়, আরেকটি হচ্ছে উন্নয়ন ব্যয়। অনুন্নয়ন ব্যয় মানে হচ্ছে রাষ্ট্র পরিচালনা ব্যয়। রাষ্ট্র পরিচালনা ব্যয়ের ক্ষেত্রেও অর্থমন্ত্রী যেটা গত অর্থবছরে ছিল ৭২ দশমিক ৭ শতাংশ, সেখান থেকে কমিয়ে তিনি নিয়ে এসেছেন ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশে। তার মানে অপচয় রোধ করেছেন। অপ্রয়োজনীয় অর্থ ব্যয় করছেন না। তিনি উন্নয়ন ব্যয় বাড়িয়েছেন। যে উন্নয়ন ব্যয় গত অর্থবছরে; অর্থাৎ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ছিল ২৭ দশমিক ৩ শতাংশ, সেটাকে তিনি বাড়িয়ে ৩৩ দশমিক ৭ শতাংশ করেছেন। সবকিছু মিলিয়ে বাংলাদেশের মানুষের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে এই বাজেটে।

মন্ত্রী বলেন, বাজেট নিয়ে আমি খুব সমালোচনা শুনিনি সংসদে। কিছু শঙ্কা শুনেছি। এই বাজেট নিয়ে কেউ নেতিবাচক কিছু বলেননি। কিছু আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। কোথায় করেছেন? সেটি হচ্ছে রাজস্ব আয়ে ঘাটতি হতে পারে। রাজস্ব আয়ের ঘাটতি হবে না। কারণ, ই-চালানের মাধ্যমে রাজস্ব সংগ্রহ করা হবে। কর অব্যাহতি হ্রাস করা হবে। রাজস্ব ফাঁকির ক্ষেত্রে চিহ্নিতকরণ করা হবে এবং ভ্যাট কাঠামোতে নতুন বিন্যাস করা হবে। অতএব, রাজস্ব ঘাটতি আমি দেখছি না। আর আমাদের রাজস্ব আরোহণ কর অনুপাতে যদি বলেন, সেটা যদি হয় ৯ শতাংশের কাছাকাছি, নেপাল-ভুটানও ১৩-১৪ শতাংশ করে। আমাদের ওখানে যেতে হবে। সেজন্য অর্থমন্ত্রী চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন। আমার বিশ্বাস রাজস্ব আয়ে ঘাটতি হবে না।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকের কথা বলা হয়েছে; ব্যাংক ঋণও কমেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ছিল এক লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা। এবার করা হয়েছে এক লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা। আমার মনে হচ্ছে, যেভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং আমাদের মূল্যস্ফীতি হ্রাস পাবে, তাতে জনগণের সঞ্চয় বাড়বে। অতএব, ব্যাংকের অর্থের ঘাটতি কিন্তু হবে না। ঘাটতি বাজেটের কথা বলা হয়েছে। কর যদি আহরিত হয়; রাজস্ব ঠিকমত যদি আহরিত হয়; ব্যাংক থেকে যদি লোনটা যেটা নির্ধারণ করা হয়েছে, সেভাবে পাওয়া যায়, ঘাটতি বাজেট হওয়ার কোনো সুযোগ থাকছে না।

রবিউল আলম এসময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ঘাটতি বাজেটের তথ্য তুলে ধরে বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ। তাদের সর্বশেষ বাজেটে ঘাটতি জিডিপির পাঁচ দশমিক ৫। আপনি চীনে যান, সেখানেও জিডিপির ৪ শতাংশ ঘাটতি বাজেট। অতএব, এই ঘাটতি বাজেট মিটআপ এবং অ্যাচিভ করতে সক্ষম হবো আমরা। প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা মাত্র ছয় দশমিক ৫ শতাংশ। যারা শঙ্কা প্রকাশ করছেন, তাদের জন্য বলতে চাই, প্রথম বিরোধী দল হয়েছেন, অনেক জায়গায় সমালোচনা করতে ভুল করেছেন। সরকারি দল এখনও হন নাই। আমার বিশ্বাস, আর দুই-চারবার-পাঁচবার বিরোধী দল থাকলে আস্তে আস্তে তারা সমালোচনাটাও বুঝে যাবেন। আমি ওই সমালোচনাকে খুব একটা আমলে নিচ্ছি না।

কালের আলো/এসএকে

রাষ্ট্র নাগরিকদের সঙ্গে প্রতারণা করছে: ব্যারিস্টার ফুয়াদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ৯:১৪ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্র নাগরিকদের সঙ্গে প্রতারণা করছে: ব্যারিস্টার ফুয়াদ

সামাজিক সুরক্ষার নামে রাষ্ট্র তার নাগরিকদের সঙ্গে প্রতারণা করছে বলে মন্তব্য করেছেন এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তার দাবি, সামাজিক সুরক্ষার জন্য সরকার যে অর্থ সহায়তা দিচ্ছে, মূল্যস্ফীতি ও করের চাপে তার সুফল মানুষ পাচ্ছে না। কৃষকদের কার্ডের মাধ্যমে আট হাজার টাকা দেওয়ার উদ্যোগও শেষ পর্যন্ত মূল্যস্ফীতির কারণে কার্যত মূল্যহীন হয়ে যাবে।

রোববার (২৮ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বাংলাদেশের বাজেট ২০২৬–২৭: মূল্যস্ফীতি ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকারিতা’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, সরকার মানুষের হাতে নগদ অর্থ তুলে দিলেও মূল্যস্ফীতির কারণে সেই অর্থের প্রকৃত সুফল তারা পাচ্ছে না। কৃষিপণ্যের দাম বাড়লে বাজারের প্রায় সব পণ্যের দাম বেড়ে যায়। ফলে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের ব্যয়ও বাড়ে। ফুয়াদের মতে, নগদ অর্থ সহায়তার পরিবর্তে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষাসেবা ও অন্যান্য মৌলিক সেবার মান উন্নত করা গেলে মানুষের প্রকৃত উপকার হতো। এতে তাদের ব্যয় কমত এবং হাতে বেশি অর্থ থাকত।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বর্তমান কাঠামোর সমালোচনা করে ফুয়াদ বলেন, সাধারণ মানুষ সহায়তার টাকার অঙ্কটি বুঝলেও মূল্যস্ফীতির কারণে সেই অর্থের ক্রয়ক্ষমতা কতটা কমে যাচ্ছে, তা অনেক সময় বিবেচনায় আসে না। একজন কৃষক, দরিদ্র পরিবার বা নারীকে যে অর্থ দেওয়া হচ্ছে, মূল্যস্ফীতির কারণে তার কার্যকারিতা অনেকটাই কমে যাচ্ছে। ফলে সামাজিক সুরক্ষার নামে যে ব্যবস্থা চালু রয়েছে, তার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে।

সরকারি দল লুটপাট ও জালিয়াতির প্রস্তাব করছে, আর বিরোধী দল টেলিভিশন-ফ্রিজ নিয়ে ব্যস্ত—এমন মন্তব্য করে ফুয়াদ বলেন, জাতীয় সংসদে বাজেট নিয়ে প্রয়োজনীয় আলোচনা হচ্ছে না। দু-একজন সদস্য ছাড়া বিরোধী দলের বেশির ভাগ সদস্যকে এ বিষয়ে সক্রিয় দেখা যাচ্ছে না।

ফুয়াদ বলেন, বাজেট রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দলিল। এর মাধ্যমে আগামী এক বছরে রাষ্ট্র কোন পথে এগোবে, তার দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়। অথচ সংসদে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব ও গভীরতা নিয়ে আলোচনা দেখা যাচ্ছে না।

আমলাতন্ত্রের সমালোচনা করে ফুয়াদ বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় একজন মানুষকে এক হাজার, দুই হাজার বা আড়াই হাজার টাকা দেওয়ার ফলে তার জীবনমান, আয়ক্ষমতা, স্বাস্থ্য কিংবা সন্তানদের ভবিষ্যতে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে কি না, তা মূল্যায়নের কার্যকর ব্যবস্থা রাষ্ট্রের নেই। বাজেটের আওতায় নেওয়া প্রকল্পগুলোর ফলাফল পর্যালোচনার ক্ষেত্রেও একই ধরনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

ফুয়াদ আরও বলেন, রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রকল্পে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও সেগুলোর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মূল্যায়নের সংস্কৃতি গড়ে ওঠেনি। ফলে জনগণের অর্থ কতটা কার্যকরভাবে ব্যয় হচ্ছে, সে বিষয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

সেন্টার ফর ইনক্লুসিভ পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্স (সিআইপিজি) আয়োজিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক সিনিয়র সচিব মো. শফিউল্লাহ। সঞ্চালনা করেন সাবেক সচিব ড. শফিকুল আলম।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবু আহমেদ। প্রধান আলোচক ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ। কীনোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য দেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকসের ডিন অধ্যাপক ড. এ কে এম ওয়ারেসুল করিম।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

রাজধানীতে নিজ বাসায় পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীর লাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ৯:০৭ অপরাহ্ণ
রাজধানীতে নিজ বাসায় পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীর লাশ

রাজধানীর সবুজবাগের একটি বাসা থেকে নিলুফার ইয়াসমিন (৩০) নামে এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রোববার (২৮ জুন) সকালের দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সবুজবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফাতেমা আক্তার।

ফাতেমা আক্তার বলেন, আনোয়ার হোসেন নামে এক পুলিশ সদস্যের স্ত্রী নিলুফার ইয়াসমিন। তার স্বামী গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশে (জিএমপি) এসআই পদে কর্মরত আছেন। সকালে খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এসআই জানান, রোববার ভোর সাড়ে ৪টা থেকে সকাল ৬টার মধ্যে কোনো একসময় তিনি মারা যেতে পারেন। তার নিজের কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে টিআইবির নতুন প্রকল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ৮:৫৯ অপরাহ্ণ
প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে টিআইবির নতুন প্রকল্প

নারী ও কিশোরীদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবায় (এসআরএইচআর) স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সেবার মান উন্নয়নে নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এ প্রকল্পের আওতায় লক্ষ্মীপুর ও নীলফামারী জেলার ১৬টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে সেবাদান প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি অনিয়ম চিহ্নিতকরণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সুশাসন জোরদারে কাজ করা হবে।

রোববার (২৮ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে আয়োজিত এক কর্মশালায় এ তথ্য জানানো হয়। ‘স্ট্রেনদেনিং ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি ইন সেক্সুয়াল অ্যান্ড রিপ্রোডাকটিভ হেলথ সিস্টেমস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্পের পরিচিতি ও পরামর্শ কর্মশালা আয়োজন করা হয়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিগত সময়ে অপশাসনের কারণে স্বাস্থ্য খাত দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়েছিল। জনগণের অর্থের অপচয় হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ ন্যায্য স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। এ বাস্তবতায় টিআইবির নতুন প্রকল্প সরকারের উদ্যোগ আরও শক্তিশালী করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মাঠপর্যায় থেকে নীতিনির্ধারণী পর্যায় পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন অনুবিভাগ) ড. সৈয়দা নওশীন পর্ণিনী বলেন, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও শুদ্ধাচার নিশ্চিত করতে এ প্রকল্প সময়োপযোগী উদ্যোগ। পাইলট প্রকল্প হিসেবে নীলফামারী ও লক্ষ্মীপুর জেলা নির্বাচন যৌক্তিক হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. জিন্নাত রেহানা বলেন, প্রকল্পের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে চিহ্নিত সমস্যাগুলো সরকারের সঙ্গে ভাগাভাগি করা হলে শুধু নির্বাচিত স্বাস্থ্যকেন্দ্র নয়, অন্যান্য কেন্দ্রেও একই ধরনের সমস্যা সমাধানে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে। ভবিষ্যতে এই উদ্যোগ আরও বিস্তৃত পরিসরে বাস্তবায়িত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য খাতে সেবার গুণগত মান উন্নয়নের পাশাপাশি শুদ্ধতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বৃদ্ধি ইতিবাচক হলেও এর প্রকৃত সুফল পেতে দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যয় নিশ্চিত করা জরুরি।

কর্মশালায় প্রকল্পের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রকল্প সমন্বয়ক ড. মুশফিকা মিজান। পরে অনুষ্ঠিত উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর বিভিন্ন সমস্যা, অনিয়ম, সেবাগ্রহীতাদের অভিজ্ঞতা এবং সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে মতবিনিময় হয়। এতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা মনিটরিং পদ্ধতি, তথ্য সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় বিষয়ে মতামত দেন।

টিআইবি জানায়, প্রকল্পের আওতায় নির্বাচিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, সেবাগ্রহীতাদের মতামত সংগ্রহ, স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে সভা আয়োজন এবং স্থানীয় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ধারাবাহিক অধিপরামর্শ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। সুইডিশ সরকারের অর্থায়নে এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল গ্লোবাল হেলথের সহযোগিতায় পরিচালিত বহুদেশীয় এ প্রকল্প বাংলাদেশ ছাড়াও জাম্বিয়া, ইকুয়েডর ও তিউনিসিয়ায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ