খুঁজুন
                               
, ,
           

রাষ্ট্র নাগরিকদের সঙ্গে প্রতারণা করছে: ব্যারিস্টার ফুয়াদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ৯:১৪ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্র নাগরিকদের সঙ্গে প্রতারণা করছে: ব্যারিস্টার ফুয়াদ

সামাজিক সুরক্ষার নামে রাষ্ট্র তার নাগরিকদের সঙ্গে প্রতারণা করছে বলে মন্তব্য করেছেন এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তার দাবি, সামাজিক সুরক্ষার জন্য সরকার যে অর্থ সহায়তা দিচ্ছে, মূল্যস্ফীতি ও করের চাপে তার সুফল মানুষ পাচ্ছে না। কৃষকদের কার্ডের মাধ্যমে আট হাজার টাকা দেওয়ার উদ্যোগও শেষ পর্যন্ত মূল্যস্ফীতির কারণে কার্যত মূল্যহীন হয়ে যাবে।

রোববার (২৮ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বাংলাদেশের বাজেট ২০২৬–২৭: মূল্যস্ফীতি ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকারিতা’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, সরকার মানুষের হাতে নগদ অর্থ তুলে দিলেও মূল্যস্ফীতির কারণে সেই অর্থের প্রকৃত সুফল তারা পাচ্ছে না। কৃষিপণ্যের দাম বাড়লে বাজারের প্রায় সব পণ্যের দাম বেড়ে যায়। ফলে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের ব্যয়ও বাড়ে। ফুয়াদের মতে, নগদ অর্থ সহায়তার পরিবর্তে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষাসেবা ও অন্যান্য মৌলিক সেবার মান উন্নত করা গেলে মানুষের প্রকৃত উপকার হতো। এতে তাদের ব্যয় কমত এবং হাতে বেশি অর্থ থাকত।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বর্তমান কাঠামোর সমালোচনা করে ফুয়াদ বলেন, সাধারণ মানুষ সহায়তার টাকার অঙ্কটি বুঝলেও মূল্যস্ফীতির কারণে সেই অর্থের ক্রয়ক্ষমতা কতটা কমে যাচ্ছে, তা অনেক সময় বিবেচনায় আসে না। একজন কৃষক, দরিদ্র পরিবার বা নারীকে যে অর্থ দেওয়া হচ্ছে, মূল্যস্ফীতির কারণে তার কার্যকারিতা অনেকটাই কমে যাচ্ছে। ফলে সামাজিক সুরক্ষার নামে যে ব্যবস্থা চালু রয়েছে, তার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে।

সরকারি দল লুটপাট ও জালিয়াতির প্রস্তাব করছে, আর বিরোধী দল টেলিভিশন-ফ্রিজ নিয়ে ব্যস্ত—এমন মন্তব্য করে ফুয়াদ বলেন, জাতীয় সংসদে বাজেট নিয়ে প্রয়োজনীয় আলোচনা হচ্ছে না। দু-একজন সদস্য ছাড়া বিরোধী দলের বেশির ভাগ সদস্যকে এ বিষয়ে সক্রিয় দেখা যাচ্ছে না।

ফুয়াদ বলেন, বাজেট রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দলিল। এর মাধ্যমে আগামী এক বছরে রাষ্ট্র কোন পথে এগোবে, তার দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়। অথচ সংসদে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব ও গভীরতা নিয়ে আলোচনা দেখা যাচ্ছে না।

আমলাতন্ত্রের সমালোচনা করে ফুয়াদ বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় একজন মানুষকে এক হাজার, দুই হাজার বা আড়াই হাজার টাকা দেওয়ার ফলে তার জীবনমান, আয়ক্ষমতা, স্বাস্থ্য কিংবা সন্তানদের ভবিষ্যতে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে কি না, তা মূল্যায়নের কার্যকর ব্যবস্থা রাষ্ট্রের নেই। বাজেটের আওতায় নেওয়া প্রকল্পগুলোর ফলাফল পর্যালোচনার ক্ষেত্রেও একই ধরনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

ফুয়াদ আরও বলেন, রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রকল্পে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও সেগুলোর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মূল্যায়নের সংস্কৃতি গড়ে ওঠেনি। ফলে জনগণের অর্থ কতটা কার্যকরভাবে ব্যয় হচ্ছে, সে বিষয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

সেন্টার ফর ইনক্লুসিভ পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্স (সিআইপিজি) আয়োজিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক সিনিয়র সচিব মো. শফিউল্লাহ। সঞ্চালনা করেন সাবেক সচিব ড. শফিকুল আলম।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবু আহমেদ। প্রধান আলোচক ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ। কীনোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য দেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকসের ডিন অধ্যাপক ড. এ কে এম ওয়ারেসুল করিম।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

রূপপুরে ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’, বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে বাংলাদেশ

পাবনা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৪ অপরাহ্ণ
রূপপুরে ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’, বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে বাংলাদেশ

দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক চেইন বিক্রিয়া শুরু হয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) প্রথমবারের মতো চুল্লিতে এ বিক্রিয়া শুরু হয়। পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় এই গুরুত্বপূর্ণ ধাপকে বলা হয় ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’।

এর মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে আরও এক ধাপ এগোল বাংলাদেশ। তবে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হওয়া মানেই এখনই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হওয়া নয়। বিদ্যুৎ উৎপাদনের আগে চুল্লির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, নিরাপত্তা যাচাই এবং আরও কয়েক ধাপের পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে।

ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি হলো চুল্লির ভেতরে এমন একটি অবস্থা, যখন পারমাণবিক চেইন বিক্রিয়া স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে ও নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে চলতে থাকে। এ পর্যায়ের পর ধাপে ধাপে চুল্লির শক্তি বাড়ানো হবে এবং বিভিন্ন কারিগরি ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত পরীক্ষা চালানো হবে।

এর আগে গত ৮ অক্টোবর বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়।

প্রথম ইউনিটে স্বয়ংক্রিয় চাপ নিয়ন্ত্রণকারী নিরাপত্তা ভালভে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় এই পর্যায়ের কাজ পিছিয়ে যায়। পরে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় সমস্যার সমাধান করা হয়। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন হওয়ার পর নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়।

জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের আগে আরও দুটি নিয়ন্ত্রক অনুমোদন প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটির পর চুল্লির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং পর্যায়ক্রমে শক্তি বাড়ানোর কাজ চলবে।

প্রকল্প কর্মকর্তাদের হিসাব অনুযায়ী, সব পরীক্ষা পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে প্রথম ইউনিট থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হতে পারে।

রূপপুরের প্রথম ইউনিটে গত ২৮ এপ্রিল পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং শুরু হয়। পরে চুল্লির কোরে ১৬৩টি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি স্থাপন করা হয়।

রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি ইউনিট রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। দুটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে কেন্দ্রটির মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা দাঁড়াবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটে।

প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হওয়ায় রূপপুর প্রকল্পের পরীক্ষামূলক চালুর প্রক্রিয়া আরও এগোল। তবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর সময় নির্ভর করবে পরবর্তী পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন সম্পন্ন হওয়ার ওপর।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

শিশুর মধ্যে ইতিবাচক মানসিকতা গড়বেন যেভাবে

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১১ অপরাহ্ণ
শিশুর মধ্যে ইতিবাচক মানসিকতা গড়বেন যেভাবে

শিশুর বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে তার চিন্তাভাবনা, আচরণ ও শেখার ধরনেও পরিবর্তন আসে। তবে বয়স বাড়লেই একটি শিশু আত্মবিশ্বাসী, দক্ষ ও বিচক্ষণ হয়ে উঠবে, এমন নয়। তার মানসিক বিকাশে পরিবারের পরিবেশ, অভিভাবকের আচরণ এবং শেখার অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ছোটবেলা থেকেই ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে তুলতে পারলে শিশু নতুন কিছু শিখতে, চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে এবং ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিতে উৎসাহিত হয়।

মনোবিজ্ঞানে এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গিকে বলা হয় ‘গ্রোথ মাইন্ডসেট’ বা বিকাশমুখী মানসিকতা। এই ধারণা অনুযায়ী, নিয়মিত অনুশীলন, প্রচেষ্টা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে মানুষের দক্ষতা বাড়তে পারে। ফলে কোনো কাজে ব্যর্থ হলে শিশুর মনে এই ধারণা তৈরি করা জরুরি যে, এখনো কাজটি করতে না পারা মানেই ভবিষ্যতেও তা শেখা সম্ভব নয়—এমন নয়।

চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে শেখান

শিশুরা কোনো কাজে ব্যর্থ হলে অনেক সময় হতাশ হয়ে পড়ে। কেউ কেউ মনে করে, সে হয়তো কাজটি পারবে না। এমন পরিস্থিতিতে বকাঝকা না করে তাকে বোঝাতে হবে, প্রথমবার সফল না হওয়া শেখার স্বাভাবিক অংশ।

ভারতের সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া–তে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ম্যাকুন্স প্লে স্কুলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষাবিদ বিজয় কুমার আগারওয়াল শিশুদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিতে শেখানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

শিশুর বয়স ও সামর্থ্য অনুযায়ী বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ করা যেতে পারে। পাশাপাশি অভিভাবকেরা নিজেরা ভুল করলে কীভাবে তা সংশোধন করেন, সেই উদাহরণও শিশুর সামনে তুলে ধরতে পারেন। এতে শিশু বুঝবে, ভুল হওয়া স্বাভাবিক এবং চেষ্টা চালিয়ে গেলে উন্নতি সম্ভব।

স্থির ও বিকাশমুখী মানসিকতার পার্থক্য বোঝান

স্থির মানসিকতার শিশু মনে করতে পারে, কোনো বিষয়ে তার দক্ষতা কম বলে সে কখনোই সেটিতে ভালো করতে পারবে না। অন্যদিকে বিকাশমুখী মানসিকতার শিশু বিশ্বাস করে, অনুশীলন ও চেষ্টা দিয়ে নিজের দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব।

যেমন, গণিতের কোনো অঙ্ক না পারলে শিশুকে ‘তুমি অঙ্কে দুর্বল’ বলার পরিবর্তে বলা যেতে পারে, ‘তুমি এখনো অঙ্কটি বুঝতে পারোনি, চলো আরেকবার চেষ্টা করি।’ এ ধরনের কথায় শিশুর শেখার আগ্রহ বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।

শুধু ফল নয়, প্রচেষ্টারও প্রশংসা করুন

শিশু ভালো ফল করলে তাকে উৎসাহ দেওয়া জরুরি। তবে শুধু নম্বর বা সাফল্যের প্রশংসা না করে তার চেষ্টা, ধৈর্য, মনোযোগ ও উন্নতির দিকগুলোকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

অনেক চেষ্টা করেও পরীক্ষায় প্রত্যাশিত নম্বর না পেলে শিশুকে হতাশ না করে বোঝানো যেতে পারে, কোথায় আরও অনুশীলন প্রয়োজন এবং পরেরবার কীভাবে প্রস্তুতি নিলে ভালো করা সম্ভব।

প্রশংসা হতে হবে বাস্তবসম্মত ও নির্দিষ্ট। যেমন, ‘তুমি কঠিন অঙ্কটি সমাধানের জন্য বারবার চেষ্টা করেছ’—এভাবে বললে শিশু বুঝতে পারে, কোন প্রচেষ্টাগুলো তাকে উন্নতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

ব্যর্থতাকে শেখার সুযোগ হিসেবে দেখান

শিশুর ভুল বা ব্যর্থতার সময় অভিভাবকের প্রতিক্রিয়া তার আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলতে পারে। ভুলের জন্য অপমান করা কিংবা অন্য শিশুর সঙ্গে তুলনা করার পরিবর্তে কোথায় সমস্যা হয়েছে, তা বুঝতে সাহায্য করা উচিত।

কোনো কাজে ব্যর্থ হলে শিশুর সঙ্গে আলোচনা করুন—কেন এমন হলো, কী শেখা গেল এবং পরেরবার কীভাবে ভিন্নভাবে চেষ্টা করা যায়। প্রয়োজনে কাজটিকে ছোট ছোট ধাপে ভাগ করে দিন, যাতে শেখার প্রক্রিয়াটি সহজ হয়।

এতে শিশু বুঝতে শিখবে, ব্যর্থতা তার যোগ্যতার চূড়ান্ত প্রমাণ নয়; বরং কৌশল পরিবর্তন ও দক্ষতা বাড়ানোর একটি সুযোগ।

নতুন কিছু শেখার আগ্রহ তৈরি করুন

বিকাশমুখী মানসিকতা গড়ে তুলতে শিশুকে নতুন অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচিত করানো দরকার। ছবি আঁকা, গল্পের বই পড়া, খেলাধুলা, ধাঁধা সমাধান কিংবা নতুন কোনো দক্ষতা শেখার সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে।

কোনো কাজ শুরুতে কঠিন মনে হলেও শিশুকে ধীরে ধীরে চেষ্টা করতে উৎসাহিত করুন। তবে তার আগ্রহ, বয়স ও সামর্থ্য বিবেচনায় নিতে হবে। অতিরিক্ত চাপ দিয়ে কোনো কিছু শেখানোর চেষ্টা করলে উল্টো অনীহা তৈরি হতে পারে।

নতুন কিছু শেখার সময় ভুল করা স্বাভাবিক—এই ধারণা শিশুর মধ্যে তৈরি হলে অপরিচিত কাজের ভয় কমতে পারে। একই সঙ্গে সে নিজের আগ্রহ ও সক্ষমতা আবিষ্কারের সুযোগ পায়।

অভিভাবকের আচরণই হতে পারে উদাহরণ

শিশুরা শুধু উপদেশ শুনে শেখে না, বড়দের আচরণ দেখেও অনেক কিছু আয়ত্ত করে। তাই অভিভাবকদের নিজেদের ভুল স্বীকার করা, নতুন কিছু শেখা এবং কঠিন পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।

কোনো কাজ কঠিন মনে হলে সেটি এড়িয়ে না গিয়ে কীভাবে সমাধান করা যায়, তা শিশুর সামনে আলোচনা করুন। এতে সে বুঝবে, শেখার সুযোগ সব সময় থাকে এবং দক্ষতা বাড়ানোর জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

পরিবর্তনে সময় দিন

শিশুর মানসিকতা এক দিনে বদলে যায় না। নিয়মিত উৎসাহ, ধৈর্য, বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা এবং নিরাপদ পারিবারিক পরিবেশের মাধ্যমে ধীরে ধীরে তার মধ্যে বিকাশমুখী দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা সম্ভব।

শিশুকে সব সময় সফল হওয়ার চাপ না দিয়ে চেষ্টা করার সুযোগ দিন। ভুল করলে তাকে ছোট না করে শেখার পথ দেখান। মনে রাখতে হবে, কোনো কিছু এখনো না পারা মানেই এই নয় যে, সে কখনোই তা শিখতে পারবে না। এই বিশ্বাস শিশুর আত্মবিশ্বাস, শেখার আগ্রহ এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সক্ষমতা বিকাশে সহায়ক হতে পারে।

কালের আলো/এসএ

ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে খোদাবক্সপুরে ঘরহারা দেড় শতাধিক পরিবার

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০৬ অপরাহ্ণ
ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে খোদাবক্সপুরে ঘরহারা দেড় শতাধিক পরিবার

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ভাঙনামারী ইউনিয়নের খোদাবক্সপুরে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে প্রতিদিনই বদলে যাচ্ছে মানুষের ঠিকানা। একের পর এক বসতভিটা ও কৃষিজমি নদে বিলীন হচ্ছে। ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটছে নদীতীরের বাসিন্দাদের। অনেক পরিবার ইতিমধ্যে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিয়েছে, আবার অনেকের শেষ আশ্রয়টুকুও এখন ঝুঁকির মুখে।

নদের তীরে দাঁড়িয়ে সত্তরোর্ধ্ব আবদুল মান্নান নিজের জীবনের দীর্ঘ দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আর কত ভাঙব, আর কতবার বানামু? আমার সবই শেষ হইয়া গেছে। জীবনে চারবার বসতভিটা হারিয়েছি। নদে খাইছে ২০ একর জমি।’

সন্তানদের জন্য কিছু সম্পদ রেখে যাওয়ার স্বপ্ন ছিল মান্নানের। কিন্তু ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে সেই স্বপ্নের প্রায় সবটুকুই হারিয়ে গেছে। মেজো ছেলের সঙ্গে যে বাড়িতে এখন আশ্রয় নিয়েছেন, সেটিও ভাঙনের কিনারায়। ইতিমধ্যে বাড়িটির দুটি ঘর ভেঙে পড়েছে।

মান্নানের মতো এমন দুর্ভোগের শিকার খোদাবক্সপুরের বহু পরিবার। স্থানীয় বাসিন্দাদের হিসাবে, গত দুই বছরে গ্রামটিতে প্রায় ১৫০ পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে। চলতি বছরেই আরও ১৫ থেকে ২০টি পরিবার বাড়িঘর সরিয়ে নিয়েছে। তাঁদের দাবি, অব্যাহত ভাঙনে গ্রামের প্রায় অর্ধেক এলাকা নদীগর্ভে চলে গেছে। এখনো ঝুঁকিতে রয়েছে বহু বসতবাড়ি ও কৃষিজমি।

বসতবাড়ির উঠানেই ভাঙনের আতঙ্ক

গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, অনেক জায়গায় বসতি ও ব্রহ্মপুত্রের মধ্যে নিরাপদ দূরত্ব বলতে প্রায় কিছুই নেই। বাড়ির উঠান গিয়ে ঠেকেছে ভাঙনের কিনারায়। নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা গাছপালা একে একে নদের দিকে হেলে পড়ছে। কোথাও বসতঘরের পাশের মাটিও ধসে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কখন নদ আরও কাছে চলে আসে, কখন পায়ের নিচের মাটি সরে যায়—এ নিয়ে তাঁদের সব সময় আতঙ্কে থাকতে হয়। বিশেষ করে রাতে ভাঙনের শব্দ শুনলে অনেক পরিবার ঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়।

ইতিমধ্যে কিছু পরিবার নদীর ওপারে জেগে ওঠা চরে আশ্রয় নিয়েছে। সেখানে নতুন করে ঘর তুললেও স্থায়ীভাবে বসবাসের নিশ্চয়তা নেই। চরভূমিও নদভাঙনের ঝুঁকিতে থাকায় নতুন করে ঘর বাঁধার পর আবারও সব হারানোর আশঙ্কা তাঁদের পিছু ছাড়ছে না।

জমি-ঘর হারিয়ে নিঃস্ব মিলিক জান

ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে সর্বস্ব হারানোর শঙ্কায় দিন কাটছে মিলিক জানেরও। সাত বছর আগে তাঁর স্বামী মারা গেছেন। পাঁচ মাস আগে মারা গেছে এক ছেলে। স্বামী রেখে গিয়েছিলেন ২২ কাঠা জমি। সেই জমিও এখন নদে বিলীন হয়েছে।

মিলিক জান বলেন, ‘আমার সুখের সংসার আছিন। স্বামী জমিজমা থুইয়া গেছিন। কত ধান হইত, কত ফসল হইত! গোলায় ধান উঠত, বাড়িতে মানুষের আনাগোনা আছিল। জমিন নদ নিয়া গেছে। বাড়ি আছিন, ভাঙছে। গাছপালা আছিন, হেইগুলাও নদের পেটে। অহন সেই জমিন খুঁজলে নদের পানি ছাড়া আর কিছুই দেহা যায় না।’

তাঁর কথায় উঠে আসে, নদভাঙনে শুধু জমি বা ঘরবাড়িই হারায় না; হারিয়ে যায় পরিবারের অর্থনৈতিক ভিত্তি, জীবিকার অবলম্বন এবং দীর্ঘদিনের স্মৃতিও।

আশপাশের এলাকাতেও ভাঙন

ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন শুধু খোদাবক্সপুরে সীমাবদ্ধ নেই। গৌরীপুরের পাশের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মরিচারচর এবং ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরদড়ি-কুষ্টিয়া ও চর শ্রীকলদীসহ কয়েকটি এলাকাতেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। কোথাও কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে, কোথাও বসতভিটা পড়েছে ঝুঁকিতে।

ভাঙনামারী ইউনিয়নের প্রবীণ বাসিন্দা ইদ্রিস আলী বলেন, বর্ষায় ব্রহ্মপুত্রের পানি বাড়লেই ভাঙন তীব্র হয়। ইতিমধ্যে গ্রামের অনেক জমি নদে চলে গেছে। আরও অনেক জমি ও বাড়িঘর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরক্ষামূলক কাজ করা হলেও দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর তীররক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বছরই নতুন করে ভাঙনের শিকার হচ্ছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, ভাঙন শুরু হওয়ার পর জিও ব্যাগ বা জিও টিউব ফেলে সাময়িক প্রতিরোধের পাশাপাশি নদীর গতিপথ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বিবেচনায় নিয়ে স্থায়ী তীর সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

জরুরি প্রতিরক্ষা কাজ চলছে: পাউবো

ব্রহ্মপুত্র সুরক্ষা কমিটির সমন্বয়ক আবুল কালাম আল আজাদ বলেন, ব্রহ্মপুত্রের গতিপথ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হলেও নদীতীরের মানুষের নিরাপদ বসতি নিশ্চিত করা, কার্যকর তীররক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ময়মনসিংহের নির্বাহী প্রকৌশলী শামীম হাসনাইন মাহমুদ জানান, প্রায় ২৭০ মিটার এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে জরুরি প্রতিরক্ষা কাজ চলছে।

তিনি বলেন, চরদড়ি-কুষ্টিয়ার প্রায় ৬০ মিটার অংশে জিও টিউব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। চর শ্রীকলদীতে ফেলা হচ্ছে জিও ব্যাগ। খোদাবক্সপুর ও মরিচারচরেও একই ধরনের জরুরি প্রতিরক্ষা কাজ চলছে।

ভাঙনকবলিত এলাকাগুলোতে স্থায়ী প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়নের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি। এ জন্য একটি কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়েছে। খোদাবক্সপুরে ব্লক দিয়ে স্থায়ী তীর সংরক্ষণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়েও অভিযোগ

নদভাঙনের পাশাপাশি অবৈধভাবে বালু উত্তোলন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, নদ থেকে বালু তোলার কারণে কোনো কোনো স্থানে ভাঙনের তীব্রতা বাড়ছে।

ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান জানান, গত তিন মাসে দুটি বড় অভিযানে ৪৭টি ড্রেজার ধ্বংস করা হয়েছে। এরপরও রাত ও ভোরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের চেষ্টা চলছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠেকাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পাশাপাশি মামলা করা হচ্ছে।

ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে একের পর এক পরিবার যখন বসতভিটা ও জীবিকার অবলম্বন হারাচ্ছে, তখন স্থানীয়দের প্রধান দাবি—জরুরি প্রতিরক্ষা কাজের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি তীর সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। তাঁদের আশঙ্কা, কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে নদীতীরের আরও বহু পরিবারকে ঘরবাড়ি ছেড়ে অনিশ্চিত জীবনের পথে পা বাড়াতে হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি