খুঁজুন
                               
, ,
           

ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে সবাইকে ভাবতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ২:২৫ অপরাহ্ণ
ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে সবাইকে ভাবতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

বিশ্বের বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় ঢাকা তৃতীয় স্থানে থাকা নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে সিরিয়াসলি চিন্তা করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় পরিবেশ পদক প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিল কারখানার কারণে পরিবেশের দূষণ যেভাবে হচ্ছে, তা নিয়ে আমাদের সবাই দায় আছে। ইকোসিস্টেমের নিরাপদ লালন ও বিকাশের সঙ্গে মানবসমাজ জড়িত। বৃক্ষমেলা নিরাপদ ভবিষ্যৎ নির্মাণের বিনিয়োগ। এটি শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকা উচিত হবে না, নৈমিত্তিক এটি করতে হবে।

তিনি বলেন, সন্তান জন্ম নিলে আমরা তার নামে একটি গাছ লাগাতে পারি। লন্ডনেও এমন দেখেছি।

সরকার গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম চালু করবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ক্লাইমেট ইয়ুথ ফেলোশিপ চালুসহ বেশকিছু উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর, সবুজায়নের লক্ষ্যে ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ করবে সরকার। আমরা ছাদ বাগান, নগর বনায়ন, ইকো ট্যুরিজমকে অর্থনীতির নতুন ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করতে চাই। এছাড়া রিডিউস, রিইউজ, রিসাইকেল জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আকাশমনিসহ অনেক ক্ষতিকর গাছ আছে, যা রোপণ থেকে বিরত থাকতে হবে। এছাড়া কোন মাটিতে কোন গাছ রোপণ ভালো হবে, তা জানতে হবে। ঔষধিসহ দেশীয় গাছ রোপণে মনযোগী হতে হবে।

তিনি বলেন, সবকিছু আইন দিয়ে করা সম্ভব নয়, সচেতনতার মধ্য দিয়ে করতে হবে।

অনুষ্ঠানে ৭টি ক্যাটাগরিতে মোট ২১ জনের হাতে জাতীয় পরিবেশ পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

চলতি বছর ব্যক্তিগত ক্যাটাগরিতে পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে পদক পেয়েছেন আলহাজ ফরহাদ আলী মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. হাসমত আলী। পরিবেশ বিষয়ক শিক্ষা ও প্রচারে অবদানের জন্য পদক পেয়েছেন মো. মনির হোসেন। এছাড়া পরিবেশ বিষয়ক গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন ক্যাটাগরিতে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পদক পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ও প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ড. আব্দুস সালাম।

প্রাতিষ্ঠানিক ক্যাটাগরিতে পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অবদানের জন্য পদক লাভ করেছে ক্লাসিক্যাল হ্যান্ডমেইড প্রোডাক্টস বিডি লিমিটেড। পরিবেশ বিষয়ক শিক্ষা ও প্রচার ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত হয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস। অন্যদিকে, পরিবেশ বিষয়ক গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন ক্যাটাগরিতে এই গৌরবময় পদক পেয়েছে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

কোয়ার্টারে ফ্রান্সের বিপক্ষে খেলবেন ‘ফ্রান্সেরই’ ৬ ফুটবলার

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ৪:৫১ অপরাহ্ণ
কোয়ার্টারে ফ্রান্সের বিপক্ষে খেলবেন ‘ফ্রান্সেরই’ ৬ ফুটবলার

২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের স্মৃতি এখনো টাটকা। চার বছর পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ফ্রান্স ও মরক্কো। তবে এবার লড়াইটা সেমিফাইনালে নয়, ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ২টায় শুরু হবে এই ম্যাচ।

ফ্রান্স ও মরক্কোর এই দ্বৈরথ কেবল ফুটবলের লড়াই নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দীর্ঘ ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং অভিবাসনের গল্পও। উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কো একসময় ফরাসি ঔপনিবেশিকে ছিল। সেই ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রভাব এখনো দুই দেশের সমাজ, সংস্কৃতি এবং ফুটবলেও স্পষ্ট।

মরক্কো জাতীয় দলের অনেক খেলোয়াড়ই ফ্রান্সের লিগে খেলেন বা খেলেছেন। ইউরোপীয় ফুটবলে আফ্রিকান ফুটবলারদের প্রবেশের অন্যতম প্রধান দরজা হিসেবেও দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছে ফরাসি ফুটবল কাঠামো। ফলে দুই দেশের ফুটবলের সম্পর্কও বেশ গভীর।

এই সম্পর্কের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক দেখা যায় মরক্কোর বর্তমান স্কোয়াডে। ২৬ সদস্যের দলে রয়েছেন ছয়জন ফুটবলার, যাদের জন্ম ফ্রান্সে। চাইলে তারা ফরাসি জাতীয় দলের জার্সিও গায়ে তুলতে পারতেন। কিন্তু পারিবারিক শিকড়ের টানে তারা বেছে নিয়েছেন মরক্কোকে।

ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া এই খেলোয়াড়রা হলেন ডিফেন্ডার ইসা দিয়োপ, ডিফেন্ডার রেদুয়ান হালহাল, মিডফিল্ডার নিল এল আইনাউই, ফরোয়ার্ড জেসিম ইয়াসিন এবং মিডফিল্ডার আইয়ুব বুয়াদ্দি। তাদের অনেকেই ফ্রান্সের বয়সভিত্তিক দলগুলোতে খেলেছেন, এরপর আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য বেছে নিয়েছেন মরক্কোকে।

এই তালিকার সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি আইয়ুব বুয়াদ্দি। লিলের হয়ে খেলা এই তরুণ মিডফিল্ডারকে চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা উদীয়মান তারকা হিসেবে দেখা হচ্ছে। মরক্কোর নাগরিকত্ব নেওয়ার আগে তিনি ফ্রান্সের বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলে খেলেছেন। এখন সেই ফ্রান্সের বিপক্ষেই বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামার সম্ভাবনা রয়েছে তার।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ৪:৩৬ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম এর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত গণপ্রজাতন্ত্রী চীন এর রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ করেন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

আইএসপিআর জানায়, অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উভয়ে দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী ও ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। আলোচনায় বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বিদ্যমান প্রযুক্তিগত ও সামরিক সহযোগিতা আরও নিবিড় করার পাশাপাশি দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়।

বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য চীনে উচ্চতর প্রশিক্ষণ সুবিধা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা খাতে স্বনির্ভরতা অর্জনের বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রথাগত সামরিক সহযোগিতার বাইরে সাইবার স্পেসের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে যৌথ উদ্যোগের ওপর জোর দেওয়া হয়। এছাড়া, বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় উভয় দেশের একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বাংলাদেশের অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা খাতে চীনের ধারাবাহিক সহায়তার প্রশংসা করেন। অন্যদিকে, চীনের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে বর্তমান সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করে ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতা অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

২০২৭ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৪.৫ শতাংশ: এডিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ৪:২৭ অপরাহ্ণ
২০২৭ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৪.৫ শতাংশ: এডিবি

বাংলাদেশের অর্থনীতি বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বলে মনে করছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৪ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রকাশিত এডিবি’র ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এডিও) জুলাই ২০২৬’ প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে। তবে ধারাবাহিক সংস্কার এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতির ফলে পরবর্তী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি আরও শক্তিশালী হবে।

এডিবি’র বাংলাদেশ আবাসিক মিশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান আকিরা মাতসুনাগা বলেন, কঠিন বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিবেশের মধ্যেও শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং সেবা খাতের স্থিতিশীল কার্যক্রমের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদার, বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন, আর্থিক খাতের সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং জ্বালানি ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করতে ধারাবাহিক সংস্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব পদক্ষেপ বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনীতির স্থিতিশীলতা আরও শক্তিশালী করবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কঠোর সামষ্টিক আর্থিক পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ, সেবা খাতের ধারাবাহিক সম্প্রসারণ এবং অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতে লক্ষ্যভিত্তিক ঋণ সহায়তা ২০২৬ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধিকে সমর্থন দেবে।

এডিবি’র পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ০ শতাংশে থাকতে পারে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে ২০২৭ অর্থবছরে তা কমে ৮ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে আসবে।

সংস্থাটি মনে করছে, মাঝারি পর্যায়ের মূল্যস্ফীতি, ব্যবসা পরিচালনার বিধি-বিধান সহজীকরণ, সুশাসনের উন্নয়ন, কর প্রশাসনের সংস্কার এবং রেমিট্যান্সে প্রণোদনা অব্যাহত থাকলে ২০২৭ অর্থবছরে বেসরকারি ভোগব্যয় ও বিনিয়োগ আরও শক্তিশালী হবে। সেবা খাত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে থাকবে। পাশাপাশি চলমান সংস্কার কার্যক্রম ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করবে এবং মধ্যমেয়াদে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াবে।

এডিবি’র মতে, প্রবৃদ্ধি টেকসই রাখা, প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বহিরাগত অভিঘাত মোকাবিলায় বাংলাদেশের স্থিতিস্থাপকতা আরও জোরদার করতে ধারাবাহিক নীতিগত সংস্কার ও বিচক্ষণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার কোনো বিকল্প নেই।

কালের আলো/এসআর/এএএন