খুঁজুন
                               
, ,
           

২০ কোটির বেশি ঋণগ্রহীতাদের কার্যক্রম দেখছে বাংলাদেশ ব্যাংক

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ১১:১০ পূর্বাহ্ণ
২০ কোটির বেশি ঋণগ্রহীতাদের কার্যক্রম দেখছে বাংলাদেশ ব্যাংক

অতীতে বহু ব্যাংক অসাধু কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী গ্রাহকদের যোগসাজশে নিয়মবহির্ভূতভাবে বড় বড় ঋণ অনুমোদন করেছে। পরে সেই ঋণ খেলাপি হয়ে পড়লে ব্যাংকগুলো প্রকৃত অর্থ আদায়ের চেষ্টা না করে উল্টো একই গ্রাহককে নতুন ঋণ দিয়ে পুরনো ঋণ সমন্বয় বা নিয়মিত দেখানোর পথ বেছে নেয়। এতে কাগজে-কলমে ঋণ ‘নিয়মিত’ দেখানো হলেও বাস্তবে ব্যাংকের ঝুঁকির মাত্রা বহুগুণ বেড়ে গেছে।

তবে এবার আর সেই সুযোগ দিতে চাইছে না বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০ কোটি টাকার বেশি ঋণগ্রহীতাদের বাস্তব কার্যক্রম সরেজমিন যাচাই করতে মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধানে নেমেছে তাঁরা। যেসব প্রতিষ্ঠানের ঋণের পরিমাণ ২০ কোটি টাকা বা তার বেশি, সেগুলোর ক্ষেত্রে ঋণের অর্থ ব্যবহারের সঠিক খাত ও স্বচ্ছতা; প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি ও উৎপাদন সক্ষমতা; ঘোষিত কর্মসংস্থানের বাস্তব রূপ এবং প্রতিষ্ঠানের ক্যাশ ফ্লো (নগদ প্রবাহ) ও ব্যবসায়িক গতিশীলতা বিস্তারিতভাবে যাচাই করা হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ব্যাংক ঋণের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত নতুন শিল্পায়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি, রফতানি সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। ঋণের টাকা যদি ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিবর্তে অন্য দিকে চলে যায় কিংবা পুরনো ঋণ লুকাতে ব্যবহৃত হয়, তবে ব্যাংকের সম্পদের গুণগত মান চূড়ান্তভাবে নষ্ট হয় এবং আর্থিক খাতে বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়ে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শকরা এখন আর কেবল ফাইলপত্র বা ঋণের ডকুমেন্টের ওপর নির্ভর করছেন না। বরং সরেজমিন প্রতিষ্ঠানের বাস্তব কার্যক্রম খতিয়ে দেখছেন। যেমন : কারখানা কিংবা প্রকল্প বাস্তবে চালু আছে কি না; ঋণের টাকায় কাঙ্ক্ষিত যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে কি না এবং সেখানে উৎপাদন চলছে কি না; কাগজে-কলমে যে পরিমাণ শ্রমিকের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তারা বাস্তবে কর্মরত আছেন কি না; ঋণের অর্থ ঘোষিত খাতের বাইরে অন্য কোথাও সরিয়ে নেয়া হয়েছে কি না।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সাম্প্রতিক উদ্যোগের মাধ্যমে শুধু অনিয়ম শনাক্ত করাই নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ ও জবাবদিহিমূলক ঋণ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নেয়া হয়েছে। অনুসন্ধানে অনিয়ম ও জালিয়াতি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা, আর্থিক জরিমানা কিংবা প্রয়োজনে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হতে পারে। অনিয়মে জড়িত ঋণগ্রহীতাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এই পরিদর্শন কার্যক্রম নিয়মিত ও ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হলে ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণে দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলা দূর হবে। নতুন ঋণ দেয়ার আগে প্রকল্পের বাস্তবতা যাচাই এবং ঋণ বিতরণের পর নিয়মিত তদারকির একটি সুস্থ সংস্কৃতি গড়ে উঠবে। এর ফলে এক দিকে যেমন প্রকৃত উদ্যোক্তারা অর্থায়নের সুযোগ পাবেন।

কালের আলো/এম/এএইচ

তুরস্কের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বগুড়ায় হচ্ছে ড্রোন কারখানা: মীর শাহে আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ৬:০৮ অপরাহ্ণ
তুরস্কের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বগুড়ায় হচ্ছে ড্রোন কারখানা: মীর শাহে আলম

দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে তুরস্কের সহযোগিতায় বগুড়ায় ড্রোন উৎপাদন কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশেই গড়ে তোলা হবে এই কারখানা। একইসঙ্গে এগিয়ে চলছে উত্তরাঞ্চলে দেশের প্রথম বিমানঘাঁটি স্থাপনের কাজ।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ এসব তথ্য জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

তিনি বলেন, সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, তুরস্কের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বগুড়া বিমানঘাঁটির পাশে ড্রোন উৎপাদন কারখানা নির্মাণ করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চলে এখনো আন্তর্জাতিক মানের কোনো বিমানবন্দর নেই। এ কারণে বগুড়া বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কাজ চলছে। বিমানবন্দরটির পাশেই স্থাপন করা হবে ড্রোন তৈরির কারখানা, যা দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মীর শাহে আলম আরও জানান, উত্তরাঞ্চলকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রথম বিমানঘাঁটি স্থাপনেরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে বিমানবাহিনীর বহরে যুক্ত হওয়া নতুন যুদ্ধবিমানগুলো এই ঘাঁটিতে মোতায়েন করা হবে।

বিএসআরএফ সভাপতি মাসুদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।

প্রসঙ্গত, পাকিস্তান আমলে নির্মিত বগুড়া বিমানবন্দরটি আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার বিভিন্ন উদ্যোগ নানা সময়ে নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলেও এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তবে রাজনৈতিক কারণে প্রকল্পটি আর এগোয়নি।

কালের আলো/এসএকে

বিদেশে ১ কোটি দক্ষ কর্মী পাঠাবে সরকার: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ৫:৫৬ অপরাহ্ণ
বিদেশে ১ কোটি দক্ষ কর্মী পাঠাবে সরকার: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী

আগামী ৫ বছরে বিদেশে ১ কোটি দক্ষ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলুর প্রশ্নোত্তরে তিনি এ কথা জানান। অধিবেশনের সভাপতিত্ব করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

তিনি জানান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে বর্তমানে ১০৪টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং ৬টি ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজিসহ মোট ১১০টি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৫৫টি কর্মসংস্থান উপযোগী স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদি ট্রেড/কোর্সে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, বৈদেশিক শ্রমবাজার সুসংহতকরণ, সম্প্রসারণ এবং সংরক্ষণ করার লক্ষ্যে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের উপযোগী দক্ষ কর্মী গড়ে তোলা এবং তাদের ভাষাগত সমস্যা দূরীকরণে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। এ ছাড়া আগামী ৫ বছরে বিদেশে ১ কোটি দক্ষ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, নিরাপদ, নিয়মিত ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন, অভিবাসন ব্যয় এবং দালালচক্রের প্রতারণা নিয়ন্ত্রণে সরকার কাজ করছে। বিদেশগামী কর্মীদের দ্রুত সময়ে পাঠানো মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য হ্রাস, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের ভর্তি, মনিটরিং, সনদায়ন, বিদেশে অবস্থিত শ্রম কল্যাণ উইং হতে ডিমান্ড লেটার/ভিসা সত্যায়ন এবং বিদেশ গমনেচ্ছু কর্মীদের বহির্গমন ছাড়পত্র ইস্যুসহ অভিবাসন ব্যবস্থাপনা আরো স্বচ্ছ, জবাবদিহিতা ও সহজতর করতে বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্ল্যাটফর্ম (ওইপি) চালু করা হয়েছে। ফলে অভিবাসনে বিভিন্ন পর্যায়ে দালালদের দৌরাত্ম্য হ্রাস পেয়েছে বিধায় অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, দালাল বা সাব-এজেন্টদের আইনি কাঠামোর আওতায় আনার জন্য সরকার ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী (রিক্রুটিং এজেন্ট লাইসেন্স এবং সাব-এজেন্ট নিবন্ধন ও আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’ প্রণয়ন করেছে। এ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে অভিবাসন সংক্রান্ত কার্যক্রম বাস্তবায়নে জন্য জেলা এবং উপজেলা যথাক্রমে জেলা অভিবাসন সমন্বয় কমিটি এবং উপজেলা অভিবাসন সমধা কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কালের আলো/এসএকে

টানা বৃষ্টি আর কতদিন?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ৫:৫৪ অপরাহ্ণ
টানা বৃষ্টি আর কতদিন?

গত তিন দিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হালকা থেকে ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য তিন জেলাসহ কয়েকটি জেলায় টানা ভারি বৃষ্টি এবং নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালেও ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহসহ দেশের অধিকাংশ জেলায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।

আবহাওয়া অফিসের সবশেষ বার্তা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বেশিরভাগ জায়গায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আরও বেড়েছে। এ সময়ে চট্টগ্রামের আমবাগান স্টেশনে সব থেকে বেশি বৃষ্টিপাত ৩২৯ মিলিমিটার রেকর্ড করা হয়েছে

এছাড়া কুতুবদিয়ায় ৩০০ মিলিমিটার, চট্টগ্রামে ২৪৯ মিলিমিটার, বান্দরবানে ২৩৫ মিলিমিটার, রাঙামাটিতে ১৩০ মিলিমিটার, তেতুঁলিয়ায় ১২২ মিলিমিটার, গোপালগঞ্জে ১৪২ মিলিমিটার, কক্সবাজারে ১২৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ভারি বৃষ্টি হতে পারে। ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত এখনও বহাল রাখা হয়েছে।

আবহাওয়া অফিস বলছে, বাংলাদেশের ওপর এখনো মৌসুমি বায়ু সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে এটি প্রবল অবস্থায় রয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে আরও অন্তত দুইদিন টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

সবশেষ আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবারেও ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রামসহ দেশের অন্তত ছয়টি বিভাগে অতি ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পরবর্তী পাঁচ দিনের বর্ধিত আবহাওয়া পূর্বাভাসে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি