খুঁজুন
                               
, ,
           

শেখ হাসিনার দেশে ফেরা কতটা সম্ভব? কী বলছে বাস্তবতা

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ
শেখ হাসিনার দেশে ফেরা কতটা সম্ভব? কী বলছে বাস্তবতা

আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়ে আবারো রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় উঠে এসেছেন প্রায় দুই বছর আগে অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছাড়া ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড, আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ কার্যক্রম এবং বিদ্যমান আইনি ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় তার সেই ঘোষণা কতটা বাস্তবসম্মত-তা নিয়েই এখন চলছে আলোচনা।

একদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তার মৃত্যুদণ্ডের রায়, অন্যদিকে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যক্রমও নিষিদ্ধের মতো প্রেক্ষাপটে হাসিনার দেশে ফেরার পরিস্থিতি আদৌ কতটা রয়েছে, তা নিয়েও আছে নানা আলোচনা।

বিশ্লেষকদের অনেকের মতে, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় যে জনরোষের মুখে শেখ হাসিনাকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছিল, প্রায় দুই বছর পরও সেই রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত নেই। ফলে তিনি জনগণের সমর্থনের কথা বললেও বর্তমান বাস্তবতায় তার পক্ষে দেশে ফিরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করা সহজ হবে না। তবে রাজনৈতিক সমঝোতাই দলটির রাজনীতিতে ফেরার একমাত্র উপায় বলে মত তাদের।

এছাড়া শেখ হাসিনা যে সময়সীমা দিয়েছেন, তা আসতে এখনও আরও পাঁচ মাস বাকি। ফলে তার দেশে ফেরার এই দাবি অনেকের ভাষ্যমতে কেবলই ‘রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি’, নাকি আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে সক্রিয় করার কৌশল – তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছুদিন।

হাসিনার ফেরার ক্ষেত্রে সামগ্রিক পরিস্থিতি ‘সম্পূর্ণ বৈরি’

গত বছরের নভেম্বরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ভারতে আশ্রয় নেওয়া আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

তার আগে একই বছরের মে মাসে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আওয়ামী লীগ এবং এর সব সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে অধ্যাদেশ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার।

নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর জাতীয় সংসদেও সেই অধ্যাদেশ অনুমোদন হয়। স্বাভাবিকভাবেই দেশের ভেতরে দলটির কার্যক্রম চালানো আইন অনুযায়ী সম্ভব নয়। ফলে তার বাংলাদেশে ফেরার মতো পরিস্থিতি কি আদৌ তৈরি হয়েছে?

সিনিয়র সাংবাদিক ও বিশ্লেষক মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জুর মতে, ‘বিশেষ ধরনের রাজনৈতিক অভ্যুত্থানে’ ক্ষমতাচ্যুত হওয়া আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের অনেকেই দেশের বাইরে।

এছাড়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় যেমন দলটির তৎপরতা চালানো সম্ভব নয়, একইসঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে চলা মব বা দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলার দিকটি মিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘সম্পূর্ণ বৈরি’ বলেই মনে করছেন তিনি।

‘বর্তমান পরিস্থিতি আওয়ামী লীগের জন্য এবং শেখ হাসিনার ফেরার জন্য খুবই খুবই প্রতিকূল।’-বলেন মঞ্জু।

প্রায় দুই বছর আগে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হবার পর থেকেই এর সাথে জড়িত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক হারে মামলা ও গ্রেফতারের খবর এসেছে গণমাধ্যমে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় দেশের ভেতরে থাকা অনেক নেতাকর্মীই এখনও আত্মগোপনে রয়েছেন। এমনকি বিভিন্ন সময় দলকে সক্রিয় করতে বের করা ঝটিকা মিছিল থেকেও আটক হয়েছেন অনেকে। এমন প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার দাবি আদৌ কতটা বাস্তব, উঠছে সে প্রশ্নও।

যদিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. সাব্বীর আহমেদ ‘শেখ হাসিনার ফেরা আর আওয়ামী লীগের ফেরা দুটা আলাদা জিনিস’।

আইন করে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করায় দলটিকে রাজনীতির মাঠে ফিরতে হলে আইনি মোকাবিলার মাধ্যমেই ফিরতে হবে। কিন্তু শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে বিষয়টি তেমন নয়। ভারত থেকে ফিরিয়ে এনে তাকে বিচারের আওতায় আনার দাবির বিষয়টি নিয়ে অনেক দিন ধরেই সরব বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। ফলে শেখ হাসিনা আসলে তাকে বাধা দেয়ার কোনো কারণ নেই বলেই মত অধ্যাপক আহমেদের।

এছাড়া গণমাধ্যমে সরাসরি নিজেই ফেরার কথা জানানোর ‘অন্তর্নিহিত তাৎপর্য’ আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, ‘দেশে ফেরার ক্ষেত্রে উনি হয়তো ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিকভাবে একটা চাপ সরকারের ওপর ক্রিয়েট করতে পারেন।’

দরকার সমঝোতার রাজনীতি

গণ-অভ্যুত্থানের সময় আন্দলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণসহ নানা কারণে জনরোষের মুখে প্রাণ বাঁচাতে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। দুই বছর পর এসে সেই পরিস্থিতির খুব বেশি পরিবর্তন হবার কোনো উদাহরণ নেই।

ফলে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা জনগণের সিদ্ধান্তের বিষয়ে যে কথা বলেছেন, তার জোরালো ভিত্তি নেই বলেও মনে করছেন অনেকে।

তারা বলছেন, এমন প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক সমঝোতাই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার একমাত্র উপায়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার মুহূর্ত। কিন্তু তা করতে হলে যে উপায়ে দলটির নেতাকর্মীদের এগোতে হবে, তার একেবারে ভিন্ন দিকে তারা হাঁটছেন বলেই মত বিশ্লেষকদের।

জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতি সরাসরি দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে বলে মনে করেন অধ্যাপক সাব্বীর আহমেদ, যার একটি আওয়ামী লীগপন্থি আর অন্যটি আওয়ামী লীগবিরোধী।

‘পুরো এন্টি আওয়ামী লীগ গ্রুপটা আওয়ামী লীগকে ফেরত চায় না। এখন তাদেরকে তো আপনার চাওয়াইতে হবে। আপনি ফিরতে হলেতো এদের সঙ্গে থাকতে হবে। তারা যদি আপনাকে দাঁড়াইতে না দেয়, তাহলে আপনি কীভাবে আসবেন? কীভাবে আপনি রাজনীতি করবেন?’।-বলেন তিনি।

এছাড়া বাংলাদেশে দলটির ৩০ শতাংশ অনুগত সমর্থক আছে বলে ধরে নিলেও বাকি ৭০ শতাংশ তাদের বিরুদ্ধে আছে। ফলে ‘অস্তিত্ব সংকটে’ থাকায় সেই ৩০ শতাংশ এই মুহূর্তে একত্রিত হয়েও শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে পারার বাস্তবতা নেই বলে মনে করেন সাব্বীর আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘স্বাভাবিক রাজনীতিতে ফিরতে হলে সমঝোতার রাজনীতিতে আসতে হবে। কিন্তু কখন কীভাবে সেই রাজনীতিটা হবে, সেটা সময় বলে দেবে।’

অবশ্য আছে ভিন্নমতও। রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জু বলছেন, শেখ হাসিনার ফিরতে চাওয়ার পরিকল্পনা তার ‘রাজনৈতিক সংগ্রামের অংশ’।

‘সবকিছু অনুকূল হয়ে যাবে, প্রস্তুত হয়ে যাবে, তারপর আন্দোলন হবে- তা নয়। আন্দোলনতো ধারাবাহিক। তিনি যদি এই ডিসেম্বরে না আসতে পারেন, পরিস্থিতি হয়তো এমন হলো যে তিনি আসতে পারলেন না, তিনি আরেকটা তারিখ দিলেন, সেটাও হচ্ছে আন্দোলনের ধারাবাহিকতা।’

এমনকি গত দুই বছরে মুক্তিযুদ্ধের ওপর যেভাবে আঘাত এসেছে, সেখান থেকে জনসাধারণের অনেকের মধ্যেই শেখ হাসিনার যেসব রাজনৈতিক ভুল ছিল, সেগুলোর গুরুত্ব কমে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

যেতে হবে আইনি পন্থায়

শেখ হাসিনার ফেরার পরিকল্পনা গণমাধ্যমে আসার পরপরই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।

জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘আমি মনে করি না এটা গুরুত্বপূর্ণ কিছু। এটা মূলত একটা প্রোপাগান্ডার অংশ। শেখ হাসিনা যদি দেশে ফেরে, কেবল ফিরবে ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার জন্য’।

এদিকে শেখ হাসিনা ‘আসছেন না, আসতে পারবেন না’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. আসাদুজ্জামান রিপন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভিন্ন ঘটনায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সারাদেশে ৬৬৩টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে কেবল হত্যা মামলাই হয়েছে ৪৫৩টি, যার একটিতে তাকে দেওয়া হয়েছে মৃত্যুদণ্ডাদেশ।

ফলে আইনত আওয়ামী লীগের এই নেতা দেশে ফেরা মাত্রই গ্রেফতার হবেন। যদিও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলছেন, ভারতে নির্বাসিত শেখ হাসিনা দণ্ডপ্রাপ্ত।

‘ভারত সরকার তাকে দিতে পারে, নাও দিতে পারে। সো উনি স্বাধীনভাবে এসে আত্মসমর্পন করবেন, এটা আমার মনে হয় ঠিক না।’

আরও পড়ুন: রাজনীতি নিয়ে সিদ্ধান্ত পাল্টালেন হাসিনা

যদিও আইনজ্ঞরা বলছেন, রায় হওয়ার পর আপিলের নির্ধারিত সময় পার হলেও শেখ হাসিনা যখনই বাংলাদেশে ফিরে আসেন না কেন আত্মসমর্পণ করে সাজার রায়ের বিরুদ্ধে তার আপিল করার সুযোগ আছে।

মঞ্জুর মতে, শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে অতি দ্রুত বিচারের বিষয়টি আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে আন্তর্জাতিক মহলেও গ্রহণযোগ্য হয়নি। একইসঙ্গে এই আদালতকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে শেখ হাসিনা যে চ্যালেঞ্জ করেছেন, সেই প্রশ্ন আন্তর্জাতিকভাবেও আছে।

অন্যদিকে অধ্যাপক আহমেদ বলছেন, শেখ হাসিনাকে ফেরার পর প্রথমেই তাকে আইনি লড়াইয়ে যেতে হবে।

‘দলের নিষিদ্ধকরণের বিষয়ে মামলা করতে হবে। এই মুহূর্তে সরকারতো ওই উদ্যোগে যাবেই না। তাকে কোনো ধরনের সহযোগিতা করবে বলেও আমার মনে হয় না।- বলেন তিনি।

সূত্র: বিবিসি বাংলা।

কালের আলো/এএএন

এমবাপের ফ্রান্সকে উড়িয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে ইয়ামালের স্পেন

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৩:০৪ পূর্বাহ্ণ
এমবাপের ফ্রান্সকে উড়িয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে ইয়ামালের স্পেন

টানা তৃতীয়বারের মত বিশ্বকাপে ফাইনালে ওঠা হল ফ্রান্সের। ২০১৮ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ২০২২ সালে রানার্স আপ হয় কিলিয়ান এমবাপের দল। এবারও টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট ছিল ফরাসিরা। সেমিফাইনাল পর্যন্ত দাপুটে ফুটবল খেললেও শেষ চারেই আটকে গেল স্পেনের কাছে।

মাইকেল ওলিসে, উসমান দেম্বেলে ও কিলিয়ান এমবাপেরা থাকলেন নিজেদের ছায়া হয়ে, ভাঙতে পারলেন না স্প্যানশ রক্ষণের দেয়াল। ওদিকে ম্যাচের শুরুতেই পাওয়া পেনাল্টি কাজে লাগিয়ে লিড নেওয়া লুই দে লা ফুয়েন্তের দল দ্বিতীয়ার্ধে দলীয় সমন্বয়ে করলো আরও এক গোল।

দিদিয়ের দেশমের দল শেষ পর্যন্ত একবারও জালের দেখা না পাওয়ায় ২-০ গোলের দাপুটে জয়ে এবারের আসরের ফাইনালে খেলা নিশ্চিত করেছে লামিন ইয়ামালের স্পেন।

এলিসে, দেম্বেলে ও এমবাপেদের নিয়ে গড়া ফ্রান্সের আক্রমণ ভাগ এবারের বিশ্বকাপে ফাইনাল পর্যন্ত দাপিয়ে বেড়াবেন, এমনটাই ভেবেছিলেন অনেকেই। তবে দুর্দান্ত এই আক্রমণ স্প্যানিশ প্রতিরোধের সামনে থাকল নিজেদের ছায়া হয়ে।

টিকিটাকার পসরা সাজিয়ে ছন্দময় ফুটবলে বলের দখল রাখার সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও নিজেদের দখলেই রাখল স্প্যানিশরা। দারুণ দুই গোলে জিতে নিল ফাইনালের টিকিটও।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবলই খেলেছে। ফরাসি ও স্প্যানিশ আক্রমণে শুরুতেই ম্যাচ জমে ওঠে। তবে আক্রমণ-প্রতি আক্রমণের ধারাবাহিকতায় ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় স্পেনি।

ম্যাচের ২১ মিনিটে ফরাসিদের বক্সের মধ্যে ফাউলের শিকার হন লামিন ইয়ামাল। রেফারি বাজান পেনাল্টির বাঁশি। এমবাপেরা প্রতিবাদ জানালেও তা ধোপে টেকেনি। স্পটকিক থেকে দারুণ এক গোল করে ম্যাচের ২২ মিনিটেই দলকে এগিয়ে দেন মিকেল ওয়িয়ারসাবাল।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

দ্বিতীয়বার ফ্রান্সের জাল কাঁপাল স্পেন

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ২:৩৯ পূর্বাহ্ণ
দ্বিতীয়বার ফ্রান্সের জাল কাঁপাল স্পেন

বিশ্বকাপের ফাইনালে এক পা দিয়ে রাখল স্পেন। এক ঘণ্টা না যেতেই দুইবার ফ্রান্সের জালে বল জড়াল তারা। ডালাসে সেমিফাইনালে ৫৮ মিনিটে দ্বিতীয় গোল করল ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়নরা।

দানি ওলমো কাউন্টার অ্যাটাকে প্রথম সুযোগটি নষ্ট করেন এবং ওইয়ারজাবালকে বল পাস দিয়ে গোল দেওয়ার মতো পজিশনে পাঠাতে ব্যর্থ হন। তবে বলটি শেষ পর্যন্ত পেড্রো পোরোর কাছে ফিরে আসে, যিনি ওলমোর সাথে ওয়ান-টু খেলে মাগনিয়ঁকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান।

তিন মিনিট পর একক চেষ্টায় ইয়ামাল তৃতীয়বার ফ্রান্সের জালে বল ঠেলে দেন। কিন্তু গোলটি উদযাপনের আগেই বাতিল হয় লাইন্সম্যান অফসাইডের পতাকা ওড়ালে।

এর আগে নবম মিনিটে ওলমো ফ্রান্সের বক্সের সামনে ফ্রি কিক আদায় করেন। বায়েনা কিক নেন। কিন্তু রক্ষণদেয়ালে আঘাত করে বল। ফ্রান্স দারুণ সুযোগ পেয়েছিল ১৪ মিনিটে। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে এমবাপে দ্রুত বল নিয়ে বক্সে ঢুকেছিলেন। তার সামনে কেবল পোরো ও গোলকিপার ছিলেন। কুবারসি ও লাপোর্তে তাদের পজিশনে থেকে এমবাপেকে রুখে দেন।

হাইড্রেশন ব্রেকের আগে এগিয়ে যায় স্পেন। লামিন ইয়ামালকে ফাউল করলেন দিনিয়ে। ডিবক্সের মধ্যে স্পেন তারকাকে ফেলে দিয়ে পেনাল্টি পায় লা রোজারা। তারপর মিকেল ওয়ারসাবালের কিকে এগিয়ে গেল তারা। ফ্রান্স ২৩তম মিনিটে পিছিয়ে পড়ে।

 

২০ মিনিটে স্পেন পেনাল্টি পায়। কুকুরেয়ার বক্সের মধ্যে বাড়ানো ক্রস দিনিয়ে বুক দিয়ে নিয়ন্ত্রণে নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এই লেফটব্যাক ব্যর্থ হন। তার সামনে ছিল ইয়ামাল। তাকে ফাউল করে বসেন। রেফারি দ্রুত পেনাল্টির বাঁশি বাজান। বিশ্বকাপ ইতিহাসে তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে পেনাল্টি আদায় করলেন ১৯ বছর ও ১ দিনের ইয়ামাল।

ওয়ারসাবাল নেন পেনাল্টি কিক। রিয়াল সোসিয়েদাদ তারকার শট ডানকোণা দিয়ে নেন। ফরাসি কিপার মাগনিয়ঁ ঠিক দিকেই ডাইভ দিয়েছিলেন। কিন্তু বল তার নাগালে ছিল না। জালে জড়ায় বল। পিছিয়ে পড়ার পর দলের সেন্টার ব্যাক সালিবা ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছাড়লে তাদের বিপদ আরও বাড়ে।

৩৬ মিনিটে ফ্রান্সকে আরেকবার কাঁপিয়ে দেয় স্পেন। দূরপাল্লার একটি ক্রস নিয়ন্ত্রণে নেন বায়েনা। মাইগনান তাকে রুখে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড শট নিতেই অফসাইডের বাঁশি বাজে। পরের মিনিটে স্পেনের বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া বারকোলার ডানপায়ের বাঁকানো শট গোলবারের অনেক উপর দিয়ে যায়।

তিন মিনিট পর স্পেন আরেকটি সুযোগ তৈরি করে। ওলমোর সঙ্গে ওয়ান-টু পাস করেন ইয়ামাল। তারপর ওলমোর ব্যাকহিল থেকে ইয়ামালের পাসে বল পান রুইজ। কিন্তু তার শট গোলবার ঘেঁষে যায়।

৪৩ মিনিটে ফ্রান্স চমৎকার সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু এমবাপেকে বল পায়েই নিতে দেননি সিমন। স্প্যানিশ কিপার দ্রুত বক্সের বাইরে এসে বল ক্লিয়ার করেন। তাতে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় স্পেন।

মূল একাদশ: দিনিয়ে, মাগনিয়ঁ, রাবিও, দেম্বেলে, এমবাপে, উপামেকানো, কুন্দে, চুয়ামেনি, সালিবা, অলিসে, বারকোলা।

অতিরিক্ত খেলোয়াড়: ব্রিস সাম্বা, কান্তে, লুকাস, তুরাম, থিও, জঁ-ফিলিপ মাতেতা, কোনাতে, মাক্সেন্স লাক্রোয়া, চেরকি, মানু কোনে, গুস্তো, জাইরে-এমেরি, মাগনেস আকলিউশ, দুয়ে, রবিন রিসার।

মূল একাদশ: লাপোর্তে, উনাই সিমন, কুকুরেয়া, ফ্যাবিয়ান রুইজ, ওয়ারজাবাল, অলমো, রদ্রি, অ্যালেক্স বায়েনা, পোরো, লামিনে ইয়ামাল, কুবারসি।

অতিরিক্ত খেলোয়াড়: গ্রিমালদো, ইগলেসিয়াস, লরেন্তে, ডেভিড রায়া, মেরিনো, ফেরান তোরেস, এরিক গার্সিয়া, মার্টিন জুবিমেন্দি, ইয়েরেমি, পেদ্রি, জোয়ান গার্সিয়া, নিকো উইলিয়ামস, মার্ক পুবিল, গাভি, ভিক্টর মুনিয়োজ।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি

ফ্রান্সের বিপক্ষে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে স্পেন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ১:৫৭ পূর্বাহ্ণ
ফ্রান্সের বিপক্ষে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে স্পেন

সেমিফাইনালের প্রথমার্ধ শেষে ফ্রান্সের বিপক্ষে ১-০ গোলে এগিয়ে আছে স্পেন। ফাইনালের টিকিট নিশ্চিতের লড়াইয়ে মুখোমুখি ইউরোপিয়ান দুই পরাশক্তি। টুর্নামেন্টের হট ফেভারিট এই দুই দলের লড়াইয়ে শুরুতেই গোল পেয়ে লিড নেয় স্প্যানিশরা। কিলিয়ান এমবাপে, উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসেদের নিয়ে গড়া শক্তিশালী আক্রমণভাগের বিপক্ষে পেনাল্টিতে এগিয়ে যান লামিন ইয়ামালরা। স্পটকিক থেকে করা সেই গোলেই ১ গোলে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধের খেলা শেষ করেছে লুই দে লা ফুয়েন্তের দল।

ইউরোপিয়ান দুই দলের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ শুরু থেকেই জমে ওঠেছে। দুই দলই চেষ্টা করছে একে অপরের ওপর চাপ প্রয়োগ করে সুযোগ তৈরির। ম্যাচের প্রথম ১৫ মিনিটেই বেশ হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে দুই দল। তবে ফ্রান্সের আক্রমণের বিপরীতে পেনাল্টি থেকে গোল করে লিড নিয়েছে স্প্যানিশরাই।

ম্যাচের ২১ মিনিটে স্প্যানিশ আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে বক্সের ভেতরে লামিন ইয়ামালকে ফাউল করেন ফরাসি ডিফেন্ডার। রেফারি সঙ্গে সঙ্গেই পেনাল্টির বাঁশি বাজান। আর স্পট কিক থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন মিকেল ওইয়ারসাবাল।

দারুণ এক পেনাল্টি নেন ওইয়ারসাবাল। ফ্রান্সের গোলরক্ষক মাইক মাইক মাইনিয়ঁ ঠিক দিকেই ঝাঁপিয়েছিলেন, নিজের বাঁ দিকে। কিন্তু ওইয়ারসাবালের জোরালো শট গোলরক্ষকের নাগালের বাইরে দিয়ে জালে জড়ায়।

এদিকে পিছিয়ে পড়ার পর দুঃসংবাদ পায় ফরাসিরা। ৩০ মিনিটে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়লেন উইলিয়াম সালিবা। তাঁর জায়গায় আসলেন ম্যাক্সাঁস লাক্রোয়া। গোল হজম করে সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়েই লড়েন এমবাপেরা। বেশ কয়েকবার সুযোগ তৈরি করলেও সেসব ঠিকঠাক কাজে লাগাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত এক গোলে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় দিদিয়ের দেশমের দল।

কালের আলো/এসআর/এএএন