খুঁজুন
                               
, ,
           

শেখ হাসিনার দেশে ফেরা কতটা সম্ভব? কী বলছে বাস্তবতা

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ
শেখ হাসিনার দেশে ফেরা কতটা সম্ভব? কী বলছে বাস্তবতা

আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়ে আবারো রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় উঠে এসেছেন প্রায় দুই বছর আগে অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছাড়া ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড, আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ কার্যক্রম এবং বিদ্যমান আইনি ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় তার সেই ঘোষণা কতটা বাস্তবসম্মত-তা নিয়েই এখন চলছে আলোচনা।

একদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তার মৃত্যুদণ্ডের রায়, অন্যদিকে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যক্রমও নিষিদ্ধের মতো প্রেক্ষাপটে হাসিনার দেশে ফেরার পরিস্থিতি আদৌ কতটা রয়েছে, তা নিয়েও আছে নানা আলোচনা।

বিশ্লেষকদের অনেকের মতে, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় যে জনরোষের মুখে শেখ হাসিনাকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছিল, প্রায় দুই বছর পরও সেই রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত নেই। ফলে তিনি জনগণের সমর্থনের কথা বললেও বর্তমান বাস্তবতায় তার পক্ষে দেশে ফিরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করা সহজ হবে না। তবে রাজনৈতিক সমঝোতাই দলটির রাজনীতিতে ফেরার একমাত্র উপায় বলে মত তাদের।

এছাড়া শেখ হাসিনা যে সময়সীমা দিয়েছেন, তা আসতে এখনও আরও পাঁচ মাস বাকি। ফলে তার দেশে ফেরার এই দাবি অনেকের ভাষ্যমতে কেবলই ‘রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি’, নাকি আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে সক্রিয় করার কৌশল – তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছুদিন।

হাসিনার ফেরার ক্ষেত্রে সামগ্রিক পরিস্থিতি ‘সম্পূর্ণ বৈরি’

গত বছরের নভেম্বরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ভারতে আশ্রয় নেওয়া আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

তার আগে একই বছরের মে মাসে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আওয়ামী লীগ এবং এর সব সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে অধ্যাদেশ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার।

নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর জাতীয় সংসদেও সেই অধ্যাদেশ অনুমোদন হয়। স্বাভাবিকভাবেই দেশের ভেতরে দলটির কার্যক্রম চালানো আইন অনুযায়ী সম্ভব নয়। ফলে তার বাংলাদেশে ফেরার মতো পরিস্থিতি কি আদৌ তৈরি হয়েছে?

সিনিয়র সাংবাদিক ও বিশ্লেষক মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জুর মতে, ‘বিশেষ ধরনের রাজনৈতিক অভ্যুত্থানে’ ক্ষমতাচ্যুত হওয়া আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের অনেকেই দেশের বাইরে।

এছাড়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় যেমন দলটির তৎপরতা চালানো সম্ভব নয়, একইসঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে চলা মব বা দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলার দিকটি মিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘সম্পূর্ণ বৈরি’ বলেই মনে করছেন তিনি।

‘বর্তমান পরিস্থিতি আওয়ামী লীগের জন্য এবং শেখ হাসিনার ফেরার জন্য খুবই খুবই প্রতিকূল।’-বলেন মঞ্জু।

প্রায় দুই বছর আগে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হবার পর থেকেই এর সাথে জড়িত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক হারে মামলা ও গ্রেফতারের খবর এসেছে গণমাধ্যমে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় দেশের ভেতরে থাকা অনেক নেতাকর্মীই এখনও আত্মগোপনে রয়েছেন। এমনকি বিভিন্ন সময় দলকে সক্রিয় করতে বের করা ঝটিকা মিছিল থেকেও আটক হয়েছেন অনেকে। এমন প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার দাবি আদৌ কতটা বাস্তব, উঠছে সে প্রশ্নও।

যদিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. সাব্বীর আহমেদ ‘শেখ হাসিনার ফেরা আর আওয়ামী লীগের ফেরা দুটা আলাদা জিনিস’।

আইন করে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করায় দলটিকে রাজনীতির মাঠে ফিরতে হলে আইনি মোকাবিলার মাধ্যমেই ফিরতে হবে। কিন্তু শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে বিষয়টি তেমন নয়। ভারত থেকে ফিরিয়ে এনে তাকে বিচারের আওতায় আনার দাবির বিষয়টি নিয়ে অনেক দিন ধরেই সরব বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। ফলে শেখ হাসিনা আসলে তাকে বাধা দেয়ার কোনো কারণ নেই বলেই মত অধ্যাপক আহমেদের।

এছাড়া গণমাধ্যমে সরাসরি নিজেই ফেরার কথা জানানোর ‘অন্তর্নিহিত তাৎপর্য’ আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, ‘দেশে ফেরার ক্ষেত্রে উনি হয়তো ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিকভাবে একটা চাপ সরকারের ওপর ক্রিয়েট করতে পারেন।’

দরকার সমঝোতার রাজনীতি

গণ-অভ্যুত্থানের সময় আন্দলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণসহ নানা কারণে জনরোষের মুখে প্রাণ বাঁচাতে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। দুই বছর পর এসে সেই পরিস্থিতির খুব বেশি পরিবর্তন হবার কোনো উদাহরণ নেই।

ফলে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা জনগণের সিদ্ধান্তের বিষয়ে যে কথা বলেছেন, তার জোরালো ভিত্তি নেই বলেও মনে করছেন অনেকে।

তারা বলছেন, এমন প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক সমঝোতাই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার একমাত্র উপায়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার মুহূর্ত। কিন্তু তা করতে হলে যে উপায়ে দলটির নেতাকর্মীদের এগোতে হবে, তার একেবারে ভিন্ন দিকে তারা হাঁটছেন বলেই মত বিশ্লেষকদের।

জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতি সরাসরি দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে বলে মনে করেন অধ্যাপক সাব্বীর আহমেদ, যার একটি আওয়ামী লীগপন্থি আর অন্যটি আওয়ামী লীগবিরোধী।

‘পুরো এন্টি আওয়ামী লীগ গ্রুপটা আওয়ামী লীগকে ফেরত চায় না। এখন তাদেরকে তো আপনার চাওয়াইতে হবে। আপনি ফিরতে হলেতো এদের সঙ্গে থাকতে হবে। তারা যদি আপনাকে দাঁড়াইতে না দেয়, তাহলে আপনি কীভাবে আসবেন? কীভাবে আপনি রাজনীতি করবেন?’।-বলেন তিনি।

এছাড়া বাংলাদেশে দলটির ৩০ শতাংশ অনুগত সমর্থক আছে বলে ধরে নিলেও বাকি ৭০ শতাংশ তাদের বিরুদ্ধে আছে। ফলে ‘অস্তিত্ব সংকটে’ থাকায় সেই ৩০ শতাংশ এই মুহূর্তে একত্রিত হয়েও শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে পারার বাস্তবতা নেই বলে মনে করেন সাব্বীর আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘স্বাভাবিক রাজনীতিতে ফিরতে হলে সমঝোতার রাজনীতিতে আসতে হবে। কিন্তু কখন কীভাবে সেই রাজনীতিটা হবে, সেটা সময় বলে দেবে।’

অবশ্য আছে ভিন্নমতও। রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জু বলছেন, শেখ হাসিনার ফিরতে চাওয়ার পরিকল্পনা তার ‘রাজনৈতিক সংগ্রামের অংশ’।

‘সবকিছু অনুকূল হয়ে যাবে, প্রস্তুত হয়ে যাবে, তারপর আন্দোলন হবে- তা নয়। আন্দোলনতো ধারাবাহিক। তিনি যদি এই ডিসেম্বরে না আসতে পারেন, পরিস্থিতি হয়তো এমন হলো যে তিনি আসতে পারলেন না, তিনি আরেকটা তারিখ দিলেন, সেটাও হচ্ছে আন্দোলনের ধারাবাহিকতা।’

এমনকি গত দুই বছরে মুক্তিযুদ্ধের ওপর যেভাবে আঘাত এসেছে, সেখান থেকে জনসাধারণের অনেকের মধ্যেই শেখ হাসিনার যেসব রাজনৈতিক ভুল ছিল, সেগুলোর গুরুত্ব কমে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

যেতে হবে আইনি পন্থায়

শেখ হাসিনার ফেরার পরিকল্পনা গণমাধ্যমে আসার পরপরই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।

জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘আমি মনে করি না এটা গুরুত্বপূর্ণ কিছু। এটা মূলত একটা প্রোপাগান্ডার অংশ। শেখ হাসিনা যদি দেশে ফেরে, কেবল ফিরবে ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার জন্য’।

এদিকে শেখ হাসিনা ‘আসছেন না, আসতে পারবেন না’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. আসাদুজ্জামান রিপন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভিন্ন ঘটনায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সারাদেশে ৬৬৩টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে কেবল হত্যা মামলাই হয়েছে ৪৫৩টি, যার একটিতে তাকে দেওয়া হয়েছে মৃত্যুদণ্ডাদেশ।

ফলে আইনত আওয়ামী লীগের এই নেতা দেশে ফেরা মাত্রই গ্রেফতার হবেন। যদিও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলছেন, ভারতে নির্বাসিত শেখ হাসিনা দণ্ডপ্রাপ্ত।

‘ভারত সরকার তাকে দিতে পারে, নাও দিতে পারে। সো উনি স্বাধীনভাবে এসে আত্মসমর্পন করবেন, এটা আমার মনে হয় ঠিক না।’

আরও পড়ুন: রাজনীতি নিয়ে সিদ্ধান্ত পাল্টালেন হাসিনা

যদিও আইনজ্ঞরা বলছেন, রায় হওয়ার পর আপিলের নির্ধারিত সময় পার হলেও শেখ হাসিনা যখনই বাংলাদেশে ফিরে আসেন না কেন আত্মসমর্পণ করে সাজার রায়ের বিরুদ্ধে তার আপিল করার সুযোগ আছে।

মঞ্জুর মতে, শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে অতি দ্রুত বিচারের বিষয়টি আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে আন্তর্জাতিক মহলেও গ্রহণযোগ্য হয়নি। একইসঙ্গে এই আদালতকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে শেখ হাসিনা যে চ্যালেঞ্জ করেছেন, সেই প্রশ্ন আন্তর্জাতিকভাবেও আছে।

অন্যদিকে অধ্যাপক আহমেদ বলছেন, শেখ হাসিনাকে ফেরার পর প্রথমেই তাকে আইনি লড়াইয়ে যেতে হবে।

‘দলের নিষিদ্ধকরণের বিষয়ে মামলা করতে হবে। এই মুহূর্তে সরকারতো ওই উদ্যোগে যাবেই না। তাকে কোনো ধরনের সহযোগিতা করবে বলেও আমার মনে হয় না।- বলেন তিনি।

সূত্র: বিবিসি বাংলা।

কালের আলো/এএএন

প্রশাসনকে আরও জনবান্ধব করার তাগিদ প্রতিমন্ত্রী নুরের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪০ অপরাহ্ণ
প্রশাসনকে আরও জনবান্ধব করার তাগিদ প্রতিমন্ত্রী নুরের

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেছেন, দেশের প্রশাসনকে এখনো পুরোপুরি জনবান্ধব (প্রো-পিপল) হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। অফিস-আদালতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে এবং প্রশাসনকে আরও সেবামুখী করতে দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর ওপর জোর দেন তিনি।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম মিলনায়তনে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নুরুল হক নুর বলেন, উপজেলা পর্যায় থেকে জেলা অফিস কিংবা হাসপাতালে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ প্রায়ই সঠিক দিকনির্দেশনা না পেয়ে চরম ভোগান্তি ও মানসিক যন্ত্রণার শিকার হন।

তাই প্রশাসনকে ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত (টপ টু বটম) জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাসপোর্ট করতে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য, ভিসা-সংক্রান্ত প্রতারণা এবং বিমানবন্দরে নানা ধরনের হয়রানি দূর করতে বড় কোনো বাজেটের প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন শুধু সদিচ্ছার।

তিনি জানান, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে খুব শিগগিরই প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু করা হবে। এ কার্ডধারীরা বিভিন্ন সরকারি সেবায় অগ্রাধিকার সুবিধা পাবেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে সরকারি কর্মচারীদের পে-স্কেল ও বেতন গ্রেড উন্নীত করার দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরে নুরুল হক নুর বলেন, বর্তমান বাজারদর ও সামাজিক মর্যাদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের ন্যূনতম বেতন ২০ হাজার টাকা হওয়া উচিত।

সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি দমনের আগে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং জনপ্রতিনিধিদের বেতন-ভাতা সম্মানজনক পর্যায়ে উন্নীত করা জরুরি। বর্তমান সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

গ্রামাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দেশের আটটি বিভাগে আটটি আধুনিক বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রীয় লুটপাটের তুলনায় এ খাতে বিনিয়োগ খুবই সামান্য। বর্তমান সরকার এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করছে।

সম্প্রতি সচিবালয় ঘেরাওয়ের ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে নুরুল হক নুর বলেন, মাত্র পাঁচ থেকে ছয় মাসের একটি সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা আত্মঘাতী। যেকোনো দাবি আদায়ে প্ররোচনায় পা না দিয়ে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে স্মারকলিপি প্রদান এবং আলোচনার মাধ্যমে দাবি উপস্থাপনের পরামর্শ দেন তিনি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

বিএনপির কপাল খারাপ সব সময় ধ্বংসস্তূপের ওপর ক্ষমতায় যায়: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৩:২৭ অপরাহ্ণ
বিএনপির কপাল খারাপ সব সময় ধ্বংসস্তূপের ওপর ক্ষমতায় যায়: মির্জা ফখরুল

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপির কপাল খারাপ, সব সময় একটি ধ্বংসস্তূপের ওপর বিএনপি ক্ষমতায় আসে। উত্তরাধিকার সূত্রে বিএনপি যখনই ক্ষমতায় আসে, তখনই ধ্বংসস্তূপ পায়।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর হোটেল হলিডে ইন-এ টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল আয়োজিত ‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, গত সরকার একটাও গ্যাস এক্সপ্লোরেশন করেনি, আমদানি নির্ভর ব্যবস্থা তৈরি করেছে।

বিদ্যুৎ খাতের কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্টের মাধ্যমে খাতটিকে ধ্বংস করা হয়েছে। ব্যাংকগুলো শেষ হয়ে গেছে, সেগুলোকে এখন ঠিক করতেই সরকারকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের চর্চা নিয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্র হলো মূলত এক ধরনের সংস্কৃতি। আমাদের চিন্তা ভাবনা ও চলাফেরার মধ্যে এর প্রতিফলন না থাকলে টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।

দেশে পরমতসহিষ্ণুতা বা ট্রলারেন্স বজায় রাখতে হবে। সরকারের সমালোচনা করার পাশাপাশি তাদের কাজ করার সময়ও দিতে হবে। গণমাধ্যমকে তার নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো মজবুত করতে হবে।

সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় সাংবাদিক মোস্তফা আকমল বলেন, গণতন্ত্র কেবল ভোটাধিকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; ক্ষমতার জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং নাগরিকের নির্ভয়ে সত্য জানার অধিকার রক্ষার ওপরই এর স্থায়িত্ব নির্ভর করে। গত দেড় দশকে রাজনৈতিক চাপ, ডিজিটাল আইনের প্রয়োগ ও নজরদারির কারণে দেশের গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমকে সরকারের মুখপত্র না ভেবে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগঠনের অংশীদার বিবেচনা করা উচিত। নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে সম্পাদকীয় স্বাধীনতা, অবাধ তথ্যপ্রবাহ এবং ভুয়া তথ্য ও অপতথ্য রোধে জাতীয় পর্যায়ে সুসংহত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন যমুনা টেলিভিশনের হেড অব নিউজ তৌহিদুল ইসলাম, এনটিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক ফকরুল আলম কাঞ্চন, মাইটিভির প্রধান সম্পাদক মাহমুদ আল হাসান, মোহনা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক রাশেদুল হক, স্টার টেলিভিশনের সিইও মোকসেদুল করিম বাবু, আখতারুজ্জামান বাবু, সাংবাদিক মারুফ কামাল খান সোহেল এবং ডেইলি ওয়াদার সম্পাদক ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

রাজশাহীতে পরীক্ষার ফল ঘোষণার দিন স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৩:১৮ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে পরীক্ষার ফল ঘোষণার দিন স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

রাজশাহীতে পরীক্ষার ফল ঘোষণার দিন অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। শ্রেণিকক্ষে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার ফল ঘোষণার পর  ওই স্কুলছাত্রী বিদ্যালয়ের ছয়তলা ভবন থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করে।।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল  ১১টার দিকে রাজশাহী নগরের বুলনপুর এলাকায় মিশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শিক্ষার্থীর নাম ফারিনা আজিবা ঝিলিক (১৩)। সে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত। নগরের সুফিয়ানের মোড়ে সে তার পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকত। তার বাবা একজন পুলিশ সদস্য। তিনি রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) বিশেষ শাখায় (সিটিএসবি) কর্মরত আছেন। মেয়ের মৃত্যুর ব্যাপারে কারও বিরুদ্ধে পরিবারের কোনো অভিযোগ নেই।

নগরের রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, সকালে শ্রেণিকক্ষে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার ফল ঘোষণা করা হচ্ছিল। ফল শোনার পর ওই শিক্ষার্থী শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলে তিনতলার ওই শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হয়। এরপর সে পাশের আরেকটি ছয়তলা ভবনে যায়।

তারপর ছয়তলা ভবনের বারান্দা থেকে সে লাফ দেয়। পরে দ্রুতই তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরায় ঘটনাটি রেকর্ড আছে। এ নিয়ে পরিবারের কোনো অভিযোগ নেই। তাই থানায় শুধু একটি অপমৃত্যুর মামলা করে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মিশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মইনুল ইসলাম বলেন, ‘মেয়েটা দীর্ঘদিন ধরে টিউবার কুলার মেনিন জাইটিস রোগে ভুগছিল এবং মাঝে মধ্যেই অজ্ঞান হয়ে পড়ত। তখন তার মা এসে স্কুল থেকে নিয়ে যেত। সে কেন এমন ঘটনা ঘটাল তা বুঝতে পারছি না।’

তিনি বলেন, ‘ঘটনার আগে শ্রেণিকক্ষে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার ফল ঘোষণা করা হয়। সে তুলনামুলক ভাল ফলও করে। তার রোল নম্বর ৬১ হলেও ফলাফলে সে ৩০তম স্থান অর্জন করে।’

ঘটনার পর সামাজিকমাধ্যমে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়ানো হয়েছে। এ ব্যাপারে রাতে রাজপাড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলে  জানান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মইনুল ইসলাম।

আরএমপি’র পক্ষ থেকেও এ ব্যাপারে একটি প্রতিবাদলিপি দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভিডিও এবং তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা।

প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল ১০টা ৫৭ মিনিটে স্কুল চলাকালীন সময়ে অষ্টম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী নিজেই সিঁড়ি বেয়ে ভবনের ষষ্ঠ তলায় উঠে সেখান থেকে লাফ দেয়। শিক্ষার্থীর ভবনে ওঠা এবং নিচে পড়ে যাওয়ার সম্পূর্ণ ঘটনা সিসিটিভি ফুটেজে ধারণ রয়েছে।

এছাড়া প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে যে, ওই শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে টিউবার কুলার মেনিন জাইটিস রোগে ভুগছিল এবং মাঝে মধ্যেই অজ্ঞান হয়ে পড়ত। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও সুরতহাল প্রতিবেদনে এ পর্যন্ত কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা সন্দেহজনক ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এ অবস্থায় তথ্য-প্রমাণ ছাড়া গুজব, অপপ্রচার বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়ে আরএমপি বলেছে, যারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে বা করার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি