খুঁজুন
                               
, ,
           

ডেঙ্গু নিয়ে উদ্বেগ নয়, বিশেষজ্ঞরা জানালেন গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪১ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু নিয়ে উদ্বেগ নয়, বিশেষজ্ঞরা জানালেন গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ, মশার কামড় থেকে সুরক্ষা এবং জ্বর হলে ঘরে বসে না থেকে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া পরামর্শ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্যবিদ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

তারা বলেছেন, মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। কেননা, ডেঙ্গু প্রতিরোধে কোনো ভ্যাকসিন নেই, সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর ওষুধও নেই। তবে মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশ আমাদের চারপাশে আছে। তাই সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং চারপাশ পরিষ্কার রাখা জরুরি।

দেশব্যাপী ডেঙ্গু ইস্যুতে উদ্বিগ্ন না হয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রধান উপায় হলো এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ। এর জন্য সর্বপ্রথম প্রয়োজন জনসচেতনতা বৃদ্ধি। কারণ এডিস মশার উৎপত্তিস্থল হলো আমাদের বাড়ির ভেতর, বাইর, ছাদ এবং বিভিন্ন জায়গায় জমে থাকা পানি। তাই আমাদের উচিত বাড়ির আঙিনা সব সময় পরিষ্কার রাখা। বাড়ির আনাচে-কানাচে জমে থাকা অপ্রয়োজনীয় পাত্রসমূহ ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া।

তারা বলেন, ব্যবহারযোগ্য পাত্র, যেমন- ফুলের টব, ড্রাম, বালতি, এয়ার কন্ডিশনার এবং রেফ্রিজারেটরের নিচের পানি ভর্তি পাত্রে যেন কোনোভাবেই একনাগাড়ে পাঁচদিনের বেশি পানি জমে না থাকে। মূলত এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য সকল নাগরিকের সক্রিয় অংশগ্রহণ একান্ত জরুরি।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর ২৮ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৪ হাজার ১৫৬ জন। চলতি বছরে এ যাবৎ মোট ১৭ হাজার ৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়েছেন।

এর আগে ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মুশতাক হোসেন বলেন, ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই কেবল হাসপাতালে নয়, শুরু হতে হবে মানুষের বাড়ি, বিদ্যালয়, কর্মস্থল এবং স্থানীয় জনসমাজ থেকে। রোগীকে দ্রুত শনাক্ত করা, ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া, দরিদ্র রোগীদের সামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে ডেঙ্গুজনিত মৃত্যু ও ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।

তিনি বলেন, বৃষ্টিকে যদি আমরা ডেঙ্গুর জন্য শুধু প্রাকৃতিক ঘটনা হিসেবে দেখি, তাহলে সংকট আরও গভীর হবে। কিন্তু বৃষ্টির পর যদি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা যায়, তাহলে ডেঙ্গুর এই বার্ষিক দুর্ভোগ থেকে দেশকে ধীরে ধীরে মুক্ত করা সম্ভব।

ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসার বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসান হাফিজুর রহমান বলেন, মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশ আমাদের চারপাশে আছে। তাই সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সকল মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং চারপাশ পরিষ্কার রাখা জরুরি।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু জ্বরে শরীরের তাপমাত্রা ১০২ থেকে ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে। এ সময় মাথায় পানি দেওয়া ও শরীর মুছে দেওয়ার মাধ্যমে জ্বর কমাতে হবে। এছাড়া ছয় থেকে আট ঘণ্টা পরপর জ্বরের তীব্রতা বুঝে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ দিতে হবে। ডেঙ্গু জ্বরের মূল চিকিৎসা হলো শরীরে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থাপনা। পানির পাশাপাশি ফলের রস, স্যুপ, ওরস্যালাইন, ডাবের পানি, শরবত প্রভৃতি তরল খাবার খাওয়াতে হবে।

ডা. হাসান হাফিজুর রহমান বলেন, ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধের মূলমন্ত্রই হলো এডিস মশার বিস্তার রোধ এবং এই মশা যেন কামড়াতে না পারে, তার ব্যবস্থা করা। এডিস মশা স্বচ্ছ পরিষ্কার পানিতে ডিম পাড়ে। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার ডিম পাড়ার উপযোগী স্থানগুলোকে পরিষ্কার রাখতে হবে এবং একই সঙ্গে মশক নিধনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। সেইসঙ্গে বাড়ির আশপাশের ঝোপঝাড়, জঙ্গল, জলাশয় ইত্যাদি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

কালের আলো/এসএকে

এক্সক্লুসিভ ব্রেস্টফিডিংয়ের প্রধান বাধা সিজারিয়ান সেকশন: জিয়াউদ্দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ২:২৬ অপরাহ্ণ
এক্সক্লুসিভ ব্রেস্টফিডিংয়ের প্রধান বাধা সিজারিয়ান সেকশন: জিয়াউদ্দিন

বাংলাদেশে সিজারিয়ান সেকশন এক্সক্লুসিভ ব্রেস্টফিডিংয়ের অন্যতম প্রধান বাধা বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এসএম জিয়াউদ্দিন হায়দার।

শনিবার (১ আগস্ট) সকালে রাজধানীর রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ ২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য বলেন।

ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে এক্সক্লুসিভ ব্রেস্টফিডিংয়ের হার ৫৫ শতাংশ দেখানো হচ্ছে। পরিসংখ্যানে যা দেখা যাচ্ছে, প্রকত চিত্র তার চেয়েও অত্যন্ত খারাপ। তবে এক্সক্লুসিভ ব্রেস্টফিডিংয়ের মাধ্যমে ৩০-৫০ শতাংশ শিশু মৃত্যু হার কমানো সম্ভব। এক্সক্লুসিভ ব্রেস্টফিডিংয়ের হার আরও বাড়াতে হবে এবং মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

অপ্রয়োজনীয় সি-সেকশন (সিজারিয়ান সেকশন) বন্ধে সরকারের শক্ত অবস্থানের জানিয়ে তিনি বলেন, সি-সেকশন শুধু একজন মাকে সারা জীবনের জন্য পঙ্গু বা শারীরিক সমস্যায় ফেলে না। বরং শিশুর যত্ন এবং স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের নীতিবাচক প্রভাব ফেলে। সরকার বর্তমানে অনাবশ্যক সি-সেকশনের বিরুদ্ধে আইন প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে।

নতুন আইন পাস হলে সিজারিয়ান সেকশন কমে যাবে জানিয়ে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, যে কোনো হাসপাতালে বা ক্লিনিকে সি-সেকশন করতে হলে তার পর্যাপ্ত মেডিকেল রেফারেন্স লিপিবদ্ধ করতে হবে। যৌক্তিক ও সঠিকভাবে জাস্টিফাই করেই কেবল সি-সেকশন করা যাবে। সরকারের এই বিল পাসের উদ্যোগটি ব্রেস্টফিডিং প্রমোট করার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।

এক্সক্লুসিভ ব্রেস্টফিডিংয়ের বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, মাতৃদুগ্ধ শিশুর জন্য সম্পূর্ণ খাদ্য। এটি পরিপাকতন্ত্রের জন্য অসহনীয় খাদ্য এবং বাইরের সব ধরনের ভেজাল খাবার প্রতিরোধ করে। এটি সরাসরি শিশুর দেহে পানিবাহিত সকল প্রকার ইনফেকশন প্রবেশ করা থেকে রক্ষা করে। বিশুদ্ধ পানির সাথে সম্পর্কিত থালা-বাসন, গ্লাস ও হাড়ি-পাতিলের মাধ্যমে যে সংক্রামক জীবাণু ছড়ায়, তা রোধ করা সম্ভব হয়।

শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের ভূমিকা তুলে ধরে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর প্রথম এমন একটি সরকার, যা স্বাস্থ্য এবং পুষ্টিকে জাতীয় সকল অগ্রাধিকারের শীর্ষে স্থান দিয়েছে। বাজেট বক্তৃতায় যে ১০টি প্রধান বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল, তার মধ্যে স্বাস্থ্য ছিল ২ নম্বরে। এতদিন স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির মাত্র ০.৬% থেকে ০.৭% বরাদ্দ দেওয়া হতো। সেই ধারা ভেঙে বর্তমান সরকার এই প্রথম জিডিপির ১.১% স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ করেছে।

তিনি জানান, সরকারের পক্ষ থেকে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নের প্রাইমারি হেলথকেয়ার ইউনিট চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব রাখতে যাচ্ছে। প্রতিটি ইউনিটে ৯ জন করে কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কার কাজ করবেন। তারা প্রতি ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে দেশের প্রতিটি ঘরে অন্তত একবার যাবেন। স্বাস্থ্যকর্মীরা সেখানে যেয়ে পরিবারের প্রতিটি সদস্যের নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ (যেমন: ব্লাড প্রেসার, ব্লাড সুগার ও মেন্টাল হেলথ) পরীক্ষা করবেন।

গর্ভবতী মহিলা সনাক্ত করে বিশেষ যত্ন নেয়ার কথা জানিয়ে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, প্রতিটি মহিলা প্রেগনেন্ট কিনা তা নিশ্চিত করার পর থেকেই তাকে প্রয়োজনীয় ট্রেনিং দেওয়া হবে, যেন সন্তান প্রসবের পর তিনি প্রসূতি ও সন্তানের সঠিক যত্ন নেওয়ার জন্য সম্পূর্ণ রেডি থাকেন। স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে যাওয়ার এই পদক্ষেপ ব্রেস্টফিডিং প্রমোশনের ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে।

স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্বস্বাস্থ্য অনুবিভাগ) শেখ মোমেনা মনি ও জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

জুলাই আন্দোলনে গণতন্ত্রকামী সবার অবদান রয়েছে: প্রেস সচিব রুমন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ২:২২ অপরাহ্ণ
জুলাই আন্দোলনে গণতন্ত্রকামী সবার অবদান রয়েছে: প্রেস সচিব রুমন

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেছেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী জুলাই আন্দোলন কোনো ব্যক্তি বা একক দলের কৃতিত্ব নয়; বরং দেশের গণতন্ত্রকামী সকল মানুষের সম্মিলিত অবদানের ফল। এ আন্দোলনের কৃতিত্ব এককভাবে দাবি করে অন্যদের খাটো করার অপচেষ্টা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

শনিবার (০১ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ এবং বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজেএ) আয়োজিত বুলেটের মুখে বাংলাদেশ, ফ্যাসিবাদের হলো শেষ শীর্ষক আলোচনা সভা ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, খালেদা জিয়া গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে কারাবরণ করেছেন, নানা ধরনের নির্যাতন সহ্য করেছেন। আবার বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানও অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং দীর্ঘ দেড় দশক নির্বাসিত জীবন কাটিয়েছেন। কিন্তু তারা কখনো ব্যক্তিগত ত্যাগকে সামনে এনে নিজেদের কৃতিত্ব দাবি করেননি।

তিনি বলেন, নিজেকে জাহির করার মধ্যে কোনো কৃতিত্ব নেই। বিএনপি কখনো বলেনি যে, তারাই একাই সব করেছে। যারা আজ একক কৃতিত্বের দাবি করছেন, জনগণ একদিন তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। ইতিহাসও তাদের স্থান দেবে না।

সাংবাদিকদের ভূমিকার প্রশংসা করে আতিকুর রহমান রুমন বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় অনেক সাংবাদিক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের সহায়তা করেছেন। অনেক সাংবাদিক তাদের মোটরসাইকেল ও গাড়িতে তুলে আমাকে-সহ বিএনপির অনেক নেতাকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দিয়েছেন। এজন্য আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় আস্থা: সার্জিও গর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ২:১৬ অপরাহ্ণ
তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় আস্থা: সার্জিও গর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর।

শনিবার (১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উষ্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বৈঠকে সার্জিও গর বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের দৃঢ় আস্থা রয়েছে। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মার্কিন বিশেষ দূত বলেন, বাংলাদেশের বিষয়ে বিদ্যমান ভ্রমণ সতর্কতা (ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি) ইতিবাচকভাবে সংশোধন করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে। বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত-এমন একটি সংকেত এটি দেবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হয়। এর আগে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সার্জিও গর রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া এবং মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার জন্য বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রশংসা করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক সহায়তার অর্ধেকের বেশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসে। এজন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও রাজনৈতিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন সার্জিও গর।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ) সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পুনরায় চালুর বিষয়েও দুই পক্ষ একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে আরও বেশি মার্কিন বিনিয়োগের আহ্বান জানান। বিশেষ করে সয়াবিন, তুলা, গমসহ কৃষিপণ্যের গুদামজাতকরণ ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের প্রস্তাব দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব খাতে বিনিয়োগ বাংলাদেশের শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশের আগ্রহের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

সার্জিও গর বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের বড় সম্ভাবনা রয়েছে এবং ভবিষ্যতে দেশটি ‘প্যাক্স সিলিকা’ উদ্যোগের অংশীদার হতে পারে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ও মাহদি আমিন, ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম, ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনসহ দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, ৩০ জুলাই ঢাকায় আসেন সার্জিও গর। ঢাকা সফরের প্রথম দিন সন্ধ্যায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন বিশেষ দূত। ৩১ জুলাই তিনি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন। ১ আগস্ট সকালে সফরের শেষ দিন তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি