খুঁজুন
                               
, ,
           

ফ্যাসিবাদ উৎখাতের পর্ব শেষ, এখন দেশ গড়ার পালা : জহির উদ্দিন স্বপন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ২:০৩ অপরাহ্ণ
ফ্যাসিবাদ উৎখাতের পর্ব শেষ, এখন দেশ গড়ার পালা : জহির উদ্দিন স্বপন

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ফ্যাসিবাদ উৎখাতের পর্ব শেষ, এখন আমাদের দেশ গড়ার পালা। আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা। এখন সময় রাষ্ট্র পুনর্গঠন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার।

শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ‘বুলেটের মুখে বাংলাদেশ, ফ্যাসিবাদের হলো শেষ’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আমরা বিএনপি পরিবার ও বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন(বিপিজেএ)।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথ তৈরি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এই আন্দোলনের কৃতিত্ব দেশের জনগণের হলেও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দূর থেকে আন্দোলনের নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, তারেক রহমান কখনো গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব নিজের বলে দাবি করেননি। বরং তিনি সব সময় বলেছেন, এই বিজয় জনগণের। আন্দোলনের প্রতিটি পর্যায়ে তিনি গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ রাখার চেষ্টা করেছেন।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আরও বলেন, আন্দোলনের সময় তারেক রহমানের দেওয়া ‘যদি তুমি ভয় পাও, তবে তুমি শেষ; যদি তুমি রুখে দাঁড়াও, তবে তুমি বাংলাদেশ’ এবং ‘দেশ যাবে কোন পথে, ফয়সালা হবে রাজপথে’ এই স্লোগানগুলো আন্দোলনে নতুন গতি এনে দেয়। শেষ পর্যন্ত ৫ আগস্ট রাজপথেই গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত ফয়সালা হয়েছে।

তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর এখন আর সংঘাতের রাজনীতি নয়, বরং দেশ গড়ার রাজনীতি প্রয়োজন। গণতান্ত্রিক চর্চা, কার্যকর সংসদীয় ব্যবস্থা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, আন্দোলন কারও কাছে পেশা হতে পারে, কিন্তু আমাদের কাছে আন্দোলনের উদ্দেশ্য ছিল গণতন্ত্র, ভোটাধিকার এবং একটি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। সেই লক্ষ্য অর্জনের পর এখন উন্নয়ন ও রাষ্ট্র গঠনের কাজে সবাইকে মনোযোগী হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষণে আলোকচিত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ফটোজার্নালিস্টদের ধারণ করা প্রতিটি ছবি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের দলিল হয়ে থাকবে।

শেষে আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, সংগ্রামের ইতিহাস সংরক্ষণ করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সেই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাও আমাদের সবার দায়িত্ব।

কালের আলো/এসএকে

সংসদের চেয়ে রাজপথকে প্রাধান্য গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ৩:০৫ অপরাহ্ণ
সংসদের চেয়ে রাজপথকে প্রাধান্য গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়: তথ্যমন্ত্রী

শীর্ষক ফটো অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন এবং বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় জাতীয় সংসদই রাজনৈতিক বিতর্ক, মতবিনিময় ও সমস্যার সমাধানের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান। সংসদের পরিবর্তে রাজপথকে বেশি প্রাধান্য দেওয়ার প্রবণতা গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক নয়।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে আমরা যখন গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি চর্চা করতে চাই এবং জাতীয় সংসদকে একটি কার্যকর সংসদীয় সংস্কৃতির ধারায় এগিয়ে নিতে চাই, তখন দেখা যায় কেউ কেউ সংসদের চেয়ে রাজপথকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। সংসদের ছোটখাটো বিষয়কে রাজপথে এনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্থিরতা ও বিভ্রান্তি তৈরির অপচেষ্টা চলছে।

শনিবার (১ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজেএ) ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর যৌথ উদ্যোগে ‘ফ্যাসিবাদের ১৫ বছর ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান’ শীর্ষক ফটো অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন এবং বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সরকার ষড়যন্ত্রের গভীরতা সম্পর্কে সচেতন।

তবে দায়িত্বশীল সরকার হিসেবে তারা উত্তেজনা নয়, বরং গঠনমূলক সমাধানেই বিশ্বাসী।

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা বুঝি বলেই দায়িত্বশীল আচরণ করি, অভিভাবকের ভাষায় কথা বলি।

প্রতিক্রিয়াশীল ও উসকানিমূলক বক্তব্য কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দূষিত পরিবেশ সৃষ্টি করে রাষ্ট্র পরিচালনা করা যায় না।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল মানুষের ভোটাধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং একটি স্বাধীন, স্বনির্ভর ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। সেই আন্দোলনের পর্ব শেষ হয়েছে। এখন দেশ গঠনের সময়।

তিনি বলেন, এখন আমাদের প্রধান দায়িত্ব দেশ গড়া। যারা সমস্যা তৈরি করবে, তাদের সঙ্গে প্রথমে গঠনমূলকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। তবে রাষ্ট্র, দেশ ও জনগণের স্বার্থে প্রয়োজনে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেও পিছপা হবে না।

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে আলোকচিত্র গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে কাজ করবে। এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গণতন্ত্র ও আন্দোলনের ইতিহাস জানতে সহায়তা করবে।

অনুষ্ঠানে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ছিল বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম। এই আন্দোলনের ত্যাগ, নির্যাতন ও আত্মদানের বাস্তব চিত্র তিন দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে ফুটে উঠেছে।

তিনি আরও বলেন, এই প্রদর্শনী অতীতের নির্মমতা স্মরণ করিয়ে দেবে এবং ভবিষ্যতে যেন দেশে আর কোনো স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে। পাশাপাশি তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির ভিত্তিতে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল ১৬ বছরের আন্দোলন, শোষণ, নিপীড়ন ও ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ।

শহীদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের মূল শিক্ষা হলো জনগণের ঐক্য। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে হবে।

একই সঙ্গে মব কালচার, সাম্প্রদায়িক হামলা ও সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে তিনি এসব প্রতিরোধে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ এবং সাংবাদিক-সংস্কৃতিকর্মীদের মানবতা ও গণতন্ত্রের পক্ষে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

বিপিজেএর সভাপতি এ কে এম মহসীন বলেন, ফটোসাংবাদিকরা ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে, এমনকি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বুলেটের সামনে দাঁড়িয়েও ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করেন। অথচ তাদের প্রাপ্য সম্মান ও মূল্যায়ন অনেক সময় করা হয় না, যা দুঃখজনক। ফটোসাংবাদিকদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। তাদের মূল্যায়ন করা উচিত।

এ সময় আমরা বিএনপি পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিএনপির প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিগত ১৭ বছরের আন্দোলনে আহত ফটোসাংবাদিকদের যথাযথ মূল্যায়ন করেছেন।

সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব ও আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন বলেন, জুলাই আন্দোলন কোনো ব্যক্তি বা একক গোষ্ঠীর অর্জন নয়; এটি ছিল সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত সংগ্রাম। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে কেউ কেউ জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব এককভাবে দাবি করে বিভাজন সৃষ্টি করছেন, যা আন্দোলনের চেতনার পরিপন্থী।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্যাতনের শিকার হলেও তা নিয়ে কখনো রাজনৈতিক প্রচারণা করেননি।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেসসচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাসির জামাল, বিপিজেএ’র সাধারণ সম্পাদক বাবুল তালুকদার, সহ-সভাপতি মশিউর রহমান সুমনসহ সংগঠনের সদস্যরা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান ডিএমপির

দুই মেট্রো স্টেশনে বোমা আতঙ্ক, বস্তায় পাওয়া গেল জর্দার কৌটা-পান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ২:৪৬ অপরাহ্ণ
দুই মেট্রো স্টেশনে বোমা আতঙ্ক, বস্তায় পাওয়া গেল জর্দার কৌটা-পান

রাজধানীর মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে শনিবার (১ আগস্ট) সকালে বোমাসদৃশ দুটি পরিত্যক্ত বস্তু উদ্ধারকে কেন্দ্র করে সাময়িক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, দুটি বস্তুতেই কোনো ধরনের বিস্ফোরক বা বিপজ্জনক উপাদান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় নগরবাসীকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।

ডিএমপি জানায়, খবর পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে।

মিরপুর-১০ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে একটি সন্দেহজনক ব্যাগে বোমা রয়েছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে সিটিটিসির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। ব্যাগটি এক্স-রে পরীক্ষায় ভেতরে কৌটাসদৃশ একটি বস্তুর উপস্থিতি শনাক্ত হয়।

পরে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুসরণ করে ফ্র্যাঞ্জিবল ডিসরাপ্টর ব্যবহার করে ব্যাগটি নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করা হয়। এরপর পরীক্ষা করে দেখা যায়, ব্যাগের ভেতরে ছিল জর্দার একটি কৌটা ও পান। সেখানে কোনো বিস্ফোরক বা ক্ষতিকর বস্তু পাওয়া যায়নি।

এদিকে ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে একটি পরিত্যক্ত বস্তাকে ঘিরেও বোমা সন্দেহের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে হ্যান্ড এন্ট্রির মাধ্যমে বস্তাটি পরীক্ষা করে। পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া যায়, বস্তার ভেতরে কোনো ধরনের বিস্ফোরক বা বিপজ্জনক বস্তু নেই।

ডিএমপি জানিয়েছে, নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বদা সতর্ক রয়েছে। একই সঙ্গে গুজব বা যাচাইবিহীন তথ্য ছড়িয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি না করে সন্দেহজনক কোনো বস্তু দেখলে দ্রুত পুলিশকে জানাতে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

এক্সক্লুসিভ ব্রেস্টফিডিংয়ের প্রধান বাধা সিজারিয়ান সেকশন: জিয়াউদ্দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ২:২৬ অপরাহ্ণ
এক্সক্লুসিভ ব্রেস্টফিডিংয়ের প্রধান বাধা সিজারিয়ান সেকশন: জিয়াউদ্দিন

বাংলাদেশে সিজারিয়ান সেকশন এক্সক্লুসিভ ব্রেস্টফিডিংয়ের অন্যতম প্রধান বাধা বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এসএম জিয়াউদ্দিন হায়দার।

শনিবার (১ আগস্ট) সকালে রাজধানীর রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ ২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য বলেন।

ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে এক্সক্লুসিভ ব্রেস্টফিডিংয়ের হার ৫৫ শতাংশ দেখানো হচ্ছে। পরিসংখ্যানে যা দেখা যাচ্ছে, প্রকত চিত্র তার চেয়েও অত্যন্ত খারাপ। তবে এক্সক্লুসিভ ব্রেস্টফিডিংয়ের মাধ্যমে ৩০-৫০ শতাংশ শিশু মৃত্যু হার কমানো সম্ভব। এক্সক্লুসিভ ব্রেস্টফিডিংয়ের হার আরও বাড়াতে হবে এবং মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

অপ্রয়োজনীয় সি-সেকশন (সিজারিয়ান সেকশন) বন্ধে সরকারের শক্ত অবস্থানের জানিয়ে তিনি বলেন, সি-সেকশন শুধু একজন মাকে সারা জীবনের জন্য পঙ্গু বা শারীরিক সমস্যায় ফেলে না। বরং শিশুর যত্ন এবং স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের নীতিবাচক প্রভাব ফেলে। সরকার বর্তমানে অনাবশ্যক সি-সেকশনের বিরুদ্ধে আইন প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে।

নতুন আইন পাস হলে সিজারিয়ান সেকশন কমে যাবে জানিয়ে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, যে কোনো হাসপাতালে বা ক্লিনিকে সি-সেকশন করতে হলে তার পর্যাপ্ত মেডিকেল রেফারেন্স লিপিবদ্ধ করতে হবে। যৌক্তিক ও সঠিকভাবে জাস্টিফাই করেই কেবল সি-সেকশন করা যাবে। সরকারের এই বিল পাসের উদ্যোগটি ব্রেস্টফিডিং প্রমোট করার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।

এক্সক্লুসিভ ব্রেস্টফিডিংয়ের বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, মাতৃদুগ্ধ শিশুর জন্য সম্পূর্ণ খাদ্য। এটি পরিপাকতন্ত্রের জন্য অসহনীয় খাদ্য এবং বাইরের সব ধরনের ভেজাল খাবার প্রতিরোধ করে। এটি সরাসরি শিশুর দেহে পানিবাহিত সকল প্রকার ইনফেকশন প্রবেশ করা থেকে রক্ষা করে। বিশুদ্ধ পানির সাথে সম্পর্কিত থালা-বাসন, গ্লাস ও হাড়ি-পাতিলের মাধ্যমে যে সংক্রামক জীবাণু ছড়ায়, তা রোধ করা সম্ভব হয়।

শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের ভূমিকা তুলে ধরে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর প্রথম এমন একটি সরকার, যা স্বাস্থ্য এবং পুষ্টিকে জাতীয় সকল অগ্রাধিকারের শীর্ষে স্থান দিয়েছে। বাজেট বক্তৃতায় যে ১০টি প্রধান বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল, তার মধ্যে স্বাস্থ্য ছিল ২ নম্বরে। এতদিন স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির মাত্র ০.৬% থেকে ০.৭% বরাদ্দ দেওয়া হতো। সেই ধারা ভেঙে বর্তমান সরকার এই প্রথম জিডিপির ১.১% স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ করেছে।

তিনি জানান, সরকারের পক্ষ থেকে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নের প্রাইমারি হেলথকেয়ার ইউনিট চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব রাখতে যাচ্ছে। প্রতিটি ইউনিটে ৯ জন করে কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কার কাজ করবেন। তারা প্রতি ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে দেশের প্রতিটি ঘরে অন্তত একবার যাবেন। স্বাস্থ্যকর্মীরা সেখানে যেয়ে পরিবারের প্রতিটি সদস্যের নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ (যেমন: ব্লাড প্রেসার, ব্লাড সুগার ও মেন্টাল হেলথ) পরীক্ষা করবেন।

গর্ভবতী মহিলা সনাক্ত করে বিশেষ যত্ন নেয়ার কথা জানিয়ে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, প্রতিটি মহিলা প্রেগনেন্ট কিনা তা নিশ্চিত করার পর থেকেই তাকে প্রয়োজনীয় ট্রেনিং দেওয়া হবে, যেন সন্তান প্রসবের পর তিনি প্রসূতি ও সন্তানের সঠিক যত্ন নেওয়ার জন্য সম্পূর্ণ রেডি থাকেন। স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে যাওয়ার এই পদক্ষেপ ব্রেস্টফিডিং প্রমোশনের ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে।

স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্বস্বাস্থ্য অনুবিভাগ) শেখ মোমেনা মনি ও জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ