খুঁজুন
                               
, ,
           

নেপালে ভয়াবহ দুর্যোগ, নিখোঁজ ২৯১ বিদেশি পর্যটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৭:২৬ অপরাহ্ণ
নেপালে ভয়াবহ দুর্যোগ, নিখোঁজ ২৯১ বিদেশি পর্যটক

নেপালে ভূমিকম্পের পর তুষারধস ও আকস্মিক বন্যায় ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৩৮৪ জন, যাদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি পর্যটক।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে রাজধানী কাঠমান্ডুর উত্তরে রসুয়া জেলায় ভূমিকম্পের পর তুষারধস শুরু হয়। পরে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে ওই এলাকায় ভূমিকম্প আঘাত হানে।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানান, ভূমিকম্পের পর তুষারধসের কারণে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। রসুয়া ও নুওয়াকোট জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়ক, সেতু, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জলবিদ্যুৎ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, নিখোঁজ ৩৮৪ পর্যটকের মধ্যে ৯৩ জন নেপালি এবং ২৯১ জন বিদেশি নাগরিক। নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ভারতীয়, ব্রিটিশ, মালয়েশীয়, দক্ষিণ আফ্রিকান, মার্কিন, অস্ট্রেলীয় ও ডাচ নাগরিক রয়েছেন। তবে ১১১ জনের জাতীয়তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।

ফলে নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে নেপালের পাশাপাশি চীনের সীমান্তবর্তী এলাকাতেও ভূমিধস ও বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। চীনের একটি সীমান্তবর্তী বাণিজ্য কেন্দ্রে ভূমিধসে হতাহতের খবর জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম।

নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বাত্মক তৎপরতা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। একই সঙ্গে দ্বিতীয় দফা দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় পর্যবেক্ষণ ও আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নেপাল ও চীন উভয় দেশেই দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চলছে।

কালের আলো/এমএসআইপি

দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড

সৌদির জবাবের অপেক্ষায় বাংলাদেশ, চিঠিতে ছয় প্রশ্ন

কূটনৈতিক প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ
সৌদির জবাবের অপেক্ষায় বাংলাদেশ, চিঠিতে ছয় প্রশ্ন

সৌদি আরবের মক্কা অঞ্চলে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় বিস্তারিত তথ্য জানতে দেশটির সরকারের কাছে ছয়টি বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে গত ১৯ অক্টোবর জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় একটি কূটনৈতিক পত্র পাঠিয়েছে। তবে এখনো সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রেক্ষাপটে তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ, আদালতের রায়, দণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি, মরদেহের অবস্থান এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় আইনি সহায়তার বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে চেয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

সৌদি কর্মকর্তার কাছে কূটনৈতিক পত্র হস্তান্তর
সূত্র জানায়, গত ১৯ অক্টোবর জেদ্দায় সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ফরিদ বিন সাদ আল সেহেরির সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. সাখাওয়াত হোসেন। ওই বৈঠকে তিনি সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো কূটনৈতিক পত্রটি হস্তান্তর করেন। চিঠিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে ছয়টি নির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত এসব তথ্য সরবরাহ করার জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

যে ছয় বিষয়ে তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ
বাংলাদেশের পাঠানো কূটনৈতিক পত্রে প্রথমেই জানতে চাওয়া হয়েছে, দুই বাংলাদেশি কী ধরনের অপরাধ করেছিলেন, ঘটনাগুলো কবে ও কোথায় ঘটেছিল এবং তাঁদের কবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। দ্বিতীয়ত, তাঁদের বিরুদ্ধে দেওয়া আদালতের রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি চাওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে মামলার অভিযোগ ও বিচারিক সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চায় বাংলাদেশ।

তৃতীয় প্রশ্নে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে। দণ্ড প্রকাশ্যে তলোয়ার দিয়ে শিরশ্ছেদের মাধ্যমে কার্যকর করা হয়েছে, নাকি অন্য কোনো পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে—চিঠিতে সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য চাওয়া হয়েছে। চতুর্থত, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর দুই বাংলাদেশির মরদেহ কোথায় রাখা হয়েছে, তা জানতে চেয়েছে বাংলাদেশ। পঞ্চম প্রশ্নে মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হবে, নাকি সৌদি আরবেই দাফন করা হয়েছে, সে বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে। ষষ্ঠত, তদন্ত ও বিচার চলাকালে তাঁদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছিল কি না এবং তাঁরা নিজেরা আইনি সহায়তা চেয়েছিলেন কি না, তা জানতে চেয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

২২ বাংলাদেশির শাস্তির তথ্য জানতে চিঠি
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে আরও জানা গেছে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর সৌদি আরব প্রায় আড়াই হাজার বন্দির একটি তালিকা বাংলাদেশকে পাঠিয়েছিল। ওই তালিকায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশিসহ মোট ২২ জন বাংলাদেশির দণ্ডিত হওয়ার তথ্য ছিল। তবে তালিকায় তাঁদের শাস্তির সুনির্দিষ্ট বিবরণ উল্লেখ করা হয়নি। এ কারণে তালিকায় থাকা বাকি ২০ বাংলাদেশির শাস্তির ধরন ও সংশ্লিষ্ট তথ্য জানতেও সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে পাঠানো কূটনৈতিক পত্রের জবাব না আসায় বিষয়টি নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যার অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

১৪ অক্টোবর কার্যকর হয় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড
উল্লেখ্য, গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবের মক্কা অঞ্চলে বাংলাদেশি নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে বিচারকের স্বেচ্ছাধীন শাস্তির আওতায় এ দণ্ড দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ ছিল, বিচারপ্রক্রিয়ায় কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং দণ্ড কার্যকরের পর মরদেহের কী ব্যবস্থা করা হয়েছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানতে সৌদি আরবের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

আলুতে বাম্পার ফলন কৃষকের গলায় ফাঁস

রংপুর সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ
আলুতে বাম্পার ফলন কৃষকের গলায় ফাঁস

রংপুরে আলুর বাম্পার ফলন এবার কৃষকের জন্য আশীর্বাদের বদলে দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারদর অনেক কম হওয়ায় হিমাগারে আলু রেখেও লোকসান গুনতে হচ্ছে চাষিদের। ৫৫ কেজির এক বস্তা আলু হিমাগারে সংরক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট খরচ মিলিয়ে কৃষকের ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৮২৫ টাকা। অথচ সেই আলু হিমাগারের গেটে বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৬৬০ টাকায়। ফলে প্রতি বস্তায় অন্তত ১৬৫ টাকা লোকসান হচ্ছে, উৎপাদনের অন্যান্য খরচের হিসাবেও লোকসানের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলাসহ বিভাগের বিভিন্ন এলাকার আলুচাষিরা বলছেন, গত মৌসুমের লোকসান পুষিয়ে নেওয়ার আশায় এবারও আলু চাষ ও সংরক্ষণ করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু বাজারে দাম না বাড়ায় সেই আশায় গুড়েবালি। অনেক কৃষক লোকসান এড়াতে আলু বিক্রি না করে হিমাগারে রেখে দিয়েছেন। তবে সংরক্ষণ খরচ বাড়তে থাকায় তাঁদের দুশ্চিন্তাও বাড়ছে।

উৎপাদন খরচের চেয়ে কম বাজারদর
মিঠাপুকুর উপজেলার চেংমারী গ্রামের কৃষক বোরহান উদ্দিন গত মৌসুমে পাঁচ বিঘা জমিতে টিভিএস, স্টিক ও শিল জাতের আলু চাষ করেছিলেন। তাঁর হিসাবে, টিভিএস ও স্টিক জাতের আলু উৎপাদনে প্রতি কেজিতে খরচ হয়েছে ২৭ টাকার বেশি। অথচ হিমাগারের গেটে সেই আলু বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১২ টাকা দরে। এতে প্রতি কেজিতে প্রায় ১৫ টাকা লোকসান হচ্ছে। আগের বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার আশায় এবারও আলু চাষ করেছিলেন বোরহান। কিন্তু প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় হতাশ তিনি। তাঁর মতো অনেক কৃষকই এখন আলু চাষ চালিয়ে যাওয়া নিয়ে সংশয়ে পড়েছেন। উপজেলার কানুদাসপাড়া গ্রামের দুই ভাই খোরশেদ আলী ও আমিনুর রহমান এবার চার বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। লাভের আশায় উৎপাদিত আলুর বড় অংশ হিমাগারে রেখেছিলেন তাঁরা। কিন্তু বাজারদর উৎপাদন খরচের নিচে থাকায় এখন বিক্রি করতে গিয়ে লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁদের।

প্রতি বস্তায় খরচ ৮২৫ টাকা, বিক্রি ৬৬০
কৃষকদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ৫৫ কেজির এক বস্তা আলু হিমাগারে রাখতে বিভিন্ন খাতে খরচ হচ্ছে প্রায় ৮২৫ টাকা। এর মধ্যে হিমাগার ভাড়া ৩৭৫ টাকা, খালি বস্তা কেনা ১০০ টাকা, হিমাগারে পরিবহন খরচ ৫০ টাকা এবং শ্রমিক খরচ ২০ টাকা। এ ছাড়া বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও চাষাবাদের শ্রমিকের খরচও রয়েছে। অন্যদিকে, হিমাগারের গেটে প্রতি কেজি আলু ১২ টাকা দরে বিক্রি করলে ৫৫ কেজির এক বস্তার দাম দাঁড়ায় ৬৬০ টাকা। অর্থাৎ উল্লিখিত খরচের হিসাবেই প্রতি বস্তায় ১৬৫ টাকা ঘাটতি থাকছে। উৎপাদন ও অন্যান্য খরচ পুরোপুরি হিসাব করলে কৃষকের প্রকৃত লোকসান আরও বেশি হতে পারে। রানীপুকুর ইউনিয়নের কৃষক আতাউর রহমান এবার ৪৯ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। তিনি বলেন, লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচ উঠবে কি না, তা নিয়েই এখন দুশ্চিন্তায় আছেন। আগের বছর ৬৯ বিঘা জমিতে আলু চাষ করতে তাঁর প্রায় ৫৭ লাখ টাকা খরচ হয়েছিল। সেই অর্থও তুলতে পারেননি বলে জানান তিনি।

লোকসানের আশঙ্কায় আলু বিক্রি করছেন না অনেকে
রংপুর মহানগরের কৃষক ভুপাল চন্দ্র রায় দুটি হিমাগারে ৫০০ বস্তা আলু সংরক্ষণ করেছেন। বর্তমান বাজারদরে বিক্রি করলে প্রতি কেজিতে প্রায় সাড়ে ১৫ থেকে ১৬ টাকা লোকসান হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। এ কারণে আপাতত আলু বিক্রি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে অনেক কৃষকই আলু বিক্রি নিয়ে দ্বিধায় রয়েছেন। একদিকে কম দামে বিক্রি করলে লোকসান, অন্যদিকে হিমাগারে রাখলে বাড়তি খরচের চাপ। ফলে চাষিদের সামনে সংকট আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

উৎপাদন বেশি, সংরক্ষণের সুযোগ সীমিত
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে রংপুর বিভাগের আট জেলায় ১ লাখ ৯৭ হাজার ৬১৬ হেক্টর জমিতে ৫১ লাখ ৭৬ হাজার ৬৮৭ টন আলু উৎপাদিত হয়েছে। এর বিপরীতে বিভাগের ১২৪টি হিমাগারে সংরক্ষণ করা হয়েছে ১১ লাখ ৯৪ হাজার ৫৯২ টন, যা মোট উৎপাদনের ২৩ দশমিক ১ শতাংশ। সংরক্ষিত আলুর মধ্যে ৭৩ দশমিক ৮ শতাংশ, অর্থাৎ ৮ লাখ ৮২ হাজার ২৮৮ টন আলু এখনও হিমাগারে মজুত রয়েছে। ফলে বিপুল পরিমাণ আলু বাজারে কীভাবে বিক্রি হবে এবং কৃষকেরা কতটা লোকসান এড়াতে পারবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর দেশে মোট ১ কোটি ১৭ লাখ ৮৫ হাজার টন আলু উৎপাদিত হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি ৪০২টি হিমাগার ও ৭০৩টি অ-হিমায়িত মডেল ঘরে সংরক্ষণ করা হয়েছে ৩৩ লাখ ৯০ হাজার ৫৭ টন আলু। এর মধ্যে খাবার আলু ২৪ লাখ ৪৪ হাজার ১৪৮ টন এবং বীজ আলু ৯ লাখ ৪৫ হাজার ৯১০ টন।

হিমাগারেও মজুত রয়েছে বিপুল পরিমাণ আলু
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার শাহজালাল ও গঙ্গাচড়া উপজেলার এমএনটি হিমাগারের ব্যবস্থাপক সুভাস মুখার্জি জানান, কয়েক দিন ধরে হিমাগারের গেটে জাতভেদে প্রতি কেজি আলু ১১ থেকে ১৪ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তিনি জানান, শাহজালাল হিমাগারের ধারণক্ষমতা ১৫ হাজার টন এবং এমএনটি হিমাগারের ধারণক্ষমতা সাড়ে ৯ হাজার টন। বর্তমানে হিমাগার দুটিতে যথাক্রমে ৪০ ও ৪৮ শতাংশ আলু মজুত রয়েছে। রংপুর কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ৪২টি হিমাগার রয়েছে। এসব হিমাগারে খাবার ও বীজ মিলিয়ে ৪ লাখ ৮৮ হাজার ৬৩৮ টন আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে।

পরিকল্পিত চাষের পরামর্শ কৃষি বিভাগের
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক এস এম আবু বকর সাইফুল ইসলাম বলেন, গত দুই বছর ধরে আলু চাষে কৃষকেরা লোকসানের মুখে পড়ছেন। এর অন্যতম কারণ হিসেবে তিনি অপরিকল্পিত চাষাবাদ এবং চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত উৎপাদনের কথা উল্লেখ করেন। তিনি কৃষকদের শুধু আলুর ওপর নির্ভর না করে জমির একটি অংশে ভুট্টা, সবজি ও ধানের মতো বিকল্প ফসল চাষের পরামর্শ দিচ্ছেন। তবে চলতি মৌসুমে হিমাগারে সংরক্ষিত বিপুল পরিমাণ আলু কীভাবে ন্যায্য দামে বিক্রি হবে, সেটিই এখন কৃষকদের বড় উদ্বেগ। উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারদর না বাড়লে রংপুর বিভাগের আলুচাষিদের সামগ্রিক লোকসান কয়েক হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

গ্রামেই কর্মসংস্থান গড়ছে বেতাগীর মিনি কারখানা

বরগুনা সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ
গ্রামেই কর্মসংস্থান গড়ছে বেতাগীর মিনি কারখানা

বরগুনার বেতাগীতে স্থানীয় উদ্যোগ ও পুঁজিতে গড়ে উঠেছে ক্ষুদ্র পোশাক কারখানা ‘গ্রিন লিভ ফ্যাশন’। গ্রামীণ জনপদে গড়ে ওঠা এই কারখানাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা। বিশেষ করে নারী, যুবক, বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত, প্রতিবন্ধী ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর মানুষের জন্য আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে এখানে। শহরের শিল্পাঞ্চলে না গিয়েও নিজ এলাকায় কাজ করার সুযোগ পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করছেন শ্রমিকেরা। তাঁদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ গ্রামীণ মানুষের জীবিকা নির্বাহে সহায়তা করার পাশাপাশি কাজের সন্ধানে শহরমুখী হওয়ার প্রবণতা কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

গ্রামীণ জনপদে গড়ে উঠেছে কারখানা
বরগুনা-বেতাগী আঞ্চলিক সড়কঘেঁষে উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে বুড়ামজুমদার ইউনিয়নের কাজীর হাটের তুলতলা এলাকায় গড়ে উঠেছে ‘গ্রিন লিভ ফ্যাশন’ নামের এই ক্ষুদ্র পোশাক কারখানা। কারখানা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে এর যাত্রা শুরু হয়। তবে চলতি বছর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বর্তমানে এখানে ২৫ জন পোশাকশ্রমিক কাজ করছেন। তাঁদের মধ্যে স্থানীয় যুবকদের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা নারীরাও রয়েছেন। স্থানীয় উদ্যোক্তার উদ্যোগে গড়ে ওঠা কারখানাটি এলাকার মানুষের জন্য আয়ের নতুন পথ তৈরি করেছে। গ্রামেই কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকায় শ্রমিকদের অনেককে জীবিকার জন্য দূরের শহরে যেতে হচ্ছে না।

নিজ এলাকায় কাজ পেয়ে স্বস্তিতে শ্রমিকেরা
কারখানার শ্রমিক মনিরুল ইসলাম (৪০) বলেন, শহরে না গিয়ে নিজ এলাকায় কাজের সুযোগ পাওয়ায় গ্রামীণ মানুষের আয়ের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ বাড়লে মানুষের শহরমুখী হওয়ার প্রবণতাও কমে আসবে বলে তিনি মনে করেন।

কারখানার আরেক শ্রমিক তানিয়া বেগম (৪৬) জানান, এখানে অসহায় গ্রামীণ নারীরা কাজের সুযোগ পেয়েছেন। নিজের এলাকায় থেকেই উপার্জন করতে পারছেন তিনি। এতে তাঁদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পথ তৈরি হচ্ছে। শ্রমিক রোকসানা আক্তার (৩৫) বলেন, আগে গ্রামের অনেক নারী ঢাকা, গাজীপুর কিংবা চট্টগ্রামের মতো বড় শিল্পাঞ্চলে গিয়ে কাজ করতে পারতেন না। এখন বাড়ির কাছেই কাজের সুযোগ তৈরি হওয়ায় তাঁদের জন্য উপার্জন করা সহজ হচ্ছে।

স্থানীয় বাজারে চাহিদা বাড়ার আশা
বেতাগী বন্দর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বরুন কৃষ্ণ কর্মকার মনে করেন, বিভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে স্থানীয় বাজারে এই কারখানায় তৈরি পোশাকের চাহিদা বাড়তে পারে। স্থানীয় বাজারের চাহিদা বিবেচনায় উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হলে ক্ষুদ্র এই উদ্যোগের পরিসর আরও বিস্তৃত হতে পারে। এতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রশিক্ষণ, বিদ্যুৎ ও বিপণন সুবিধা বাড়ানোর তাগিদ
ক্ষুদ্র পোশাকশিল্পের প্রসারে কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জের কথাও তুলে ধরেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক—সুজনের বেতাগী উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মহসীন খান। তিনি বলেন, এ ধরনের শিল্পের বিকাশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি শ্রমিকদের আধুনিক সেলাই ও পোশাক ডিজাইনের ওপর উন্নত প্রশিক্ষণ দিতে হবে। উৎপাদিত পোশাক বড় শহর ও বিভিন্ন বাজারে পৌঁছে দেওয়ার জন্য কার্যকর বিপণনব্যবস্থা এবং সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতাও জরুরি। তাঁর মতে, এসব সহায়তা নিশ্চিত করা না গেলে ক্ষুদ্র পোশাকশিল্পের বিস্তার কঠিন হয়ে পড়তে পারে। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও বাজারসংযোগ তৈরি করা গেলে এ ধরনের উদ্যোগ আরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারবে।

সহজ শর্তে ঋণ ও কারিগরি সহায়তা চান উদ্যোক্তা
গ্রিন লিভ ফ্যাশনের স্বত্বাধিকারী মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক থেকে সহজ শর্তে ঋণ ও কারিগরি সহায়তা পাওয়া গেলে কারখানাটিকে আরও বড় পরিসরে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও সহায়তা পেলে উৎপাদন বাড়ানো এবং আরও মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা দেখছেন তিনি।

বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহ. সাদ্দাম হোসেন বলেন, গ্রামীণ জনপদে মিনি পোশাক কারখানা গড়ে ওঠা এলাকার জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। এর ফলে কাজের সন্ধানে মানুষের শহরমুখী হওয়ার প্রবণতা কমতে পারে। স্থানীয় পুঁজি, উদ্যোক্তার উদ্যোগ এবং শ্রমিকদের অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা গ্রিন লিভ ফ্যাশন এখন বেতাগীর গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার প্রতীক। প্রয়োজনীয় আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করা গেলে এ ধরনের ক্ষুদ্র শিল্প স্থানীয় কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি