খুঁজুন
                               
, ,
           

শিক্ষকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলামী আন্দোলন পাশে থাকবে: চরমোনাই পীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৪:২০ অপরাহ্ণ
শিক্ষকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলামী আন্দোলন পাশে থাকবে: চরমোনাই পীর

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও শিক্ষকদের অধিকার ও ন্যায্য প্রাপ্তি নিশ্চিত না হওয়াকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)। একই সঙ্গে শিক্ষকদের যেকোনো ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলনে পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে জাতীয় শিক্ষক ফোরামের কেন্দ্রীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চরমোনাই পীর বলেন, রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বারবার নৈতিকতাহীন ও প্রতারকরা বসার কারণেই শিক্ষকদের প্রাপ্য অধিকার এখনও অধরা হয়ে আছে। দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের কারণে দেশের শিক্ষা খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, দেশে দুর্নীতি বন্ধ করা সম্ভব হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণসহ শিক্ষকদের বিভিন্ন ন্যায্য দাবি পূরণ করা সম্ভব। শিক্ষকরাই আগামী দিনের আদর্শবান বাংলাদেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ার মূল কারিগর।

শিক্ষকদের নিজেদের নৈতিকতা ও মান বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের চরিত্র ও নৈতিকতা নিয়ে যেন কখনো প্রশ্ন না ওঠে, সেভাবেই নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।

সম্মেলনে জাতীয় শিক্ষক ফোরামের ২০২৫-২৬ সেশনের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে ২০২৭-২৮ সেশনের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। নতুন কমিটির সভাপতি হিসেবে মাওলানা এবিএম জাকারিয়া, সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে মাওলানা মোহাম্মদ নেছার উদ্দিন এবং সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে মোহাম্মদ আব্দুস সবুরের নাম ঘোষণা করা হয়।

পরে নতুন কমিটির নেতাদের শপথবাক্য পাঠ করান ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির। সম্মেলনের শেষপর্বে দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং শিক্ষক সমাজের সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল শিক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় সমঝোতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১৫ অপরাহ্ণ
চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল শিক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় সমঝোতা

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে কারিগরি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণায় সহযোগিতা বাড়াতে ‘চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল এডুকেশন, ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার জন্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) চীনের জিয়াংসি প্রদেশে অনুষ্ঠিত ‘চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা বিনিময় সম্মেলনে’ এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। জিয়াংসি প্রাদেশিক সরকার ও জিয়াংসি সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল ইউনিভার্সিটি এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

বাংলাদেশের পক্ষে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া এবং চীনের পক্ষে জিয়াংসি সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ঝেং পেংউ সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। এ সময় শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন।

সমঝোতার আওতায় দুই দেশ কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, দ্বিভাষিক শিক্ষাসামগ্রী তৈরি, শিক্ষা ও শিল্পের মধ্যে সংযোগ স্থাপন, গবেষণা কার্যক্রম, শিল্প প্রশিক্ষণ, চীন সফর এবং বিশেষায়িত প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে।

সম্মেলনে চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল টিচার ট্রেনিং সেন্টার, বাংলাদেশ ভোকেশনাল এডুকেশন রিসার্চ সেন্টার এবং বাংলাদেশ ‘চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ+ স্কিল ডেভেলপমেন্ট’ সহযোগিতা কেন্দ্র; এই তিনটি সহযোগিতা প্ল্যাটফর্মও উদ্বোধন করা হয়।

চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল টিচার ট্রেনিং সেন্টার উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও জিয়াংসি প্রাদেশিক শিক্ষা দপ্তরের উপপরিচালক ফ্যান হংহুই। বাংলাদেশ ভোকেশনাল এডুকেশন রিসার্চ সেন্টার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন ও জিয়াংসি সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল ইউনিভার্সিটির প্রফেসর পেই হংওয়েই। আর বাংলাদেশ ‘চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ+ স্কিল ডেভেলপমেন্ট’ সহযোগিতা কেন্দ্র উদ্বোধন করেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া ও বিশ্ববিদ্যালয়টির উপ-সভাপতি প্রফেসর ঝেং পেংউ।

এসব উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ, শিল্পক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা, পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, গবেষণা সহযোগিতা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় এবং চীনা ভাষার সঙ্গে কারিগরি দক্ষতা অর্জনের সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সংযোগ বাড়িয়ে কর্মসংস্থানমুখী দক্ষতা তৈরিতেও এসব উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে।

সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। মানসম্মত কারিগরি শিক্ষা, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ ও আধুনিক দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তাদের বিশ্বমানের প্রতিযোগিতামূলক কর্মশক্তিতে পরিণত করা সম্ভব।

তিনি বলেন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা অবশ্যই শিল্পক্ষেত্র ও কর্মসংস্থানের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে। এ জন্য পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারত্ব, আধুনিক প্রযুক্তি, ব্যবহারিক শিক্ষা ও কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষায় বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা আরও বাড়াতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, চীনের বিশ্ববিদ্যালয়, কারিগরি প্রতিষ্ঠান ও শিল্পক্ষেত্রের সঙ্গে সহযোগিতা বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর মাধ্যমে শিল্পখাতের প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেন, ‘চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল এডুকেশন, ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার জন্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে দুই দেশের কারিগরি শিক্ষা সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।

তিনি বলেন, দুই দেশের সহযোগিতা শুধু সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা বাস্তবে কার্যকর করে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান ও সুযোগ তৈরি করাই মূল লক্ষ্য। শিক্ষাকে দক্ষতায়, দক্ষতাকে কর্মসংস্থানে এবং কর্মসংস্থানকে সুযোগে পরিণত করাই মূল উদ্দেশ্য।

কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া বলেন, বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে পাঠ্যক্রম সংস্কার, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দক্ষতা প্রশিক্ষণ চালু করা সম্ভব। এর ফলে শিক্ষার্থীরা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবে।

সম্মেলনে চীন-বাংলাদেশ ‘চাইনিজ+ ভোকেশনাল স্কিলস’ ইন্ডাস্ট্রি-এডুকেশন ইন্টিগ্রেশন অ্যালায়েন্সও উদ্বোধন করা হয়। এর মাধ্যমে ভাষা শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও শিল্প-শিক্ষা সমন্বয়ের ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্মেলনে বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের পাশাপাশি জিয়াংসি প্রাদেশিক শিক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রতিষ্ঠান এবং শিল্পক্ষেত্রের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এতে জিয়াংসি প্রদেশের ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে।

বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া রয়েছেন।

দুই দেশের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কারিগরি শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, গবেষণা এবং শিল্প-সংযুক্ত প্রশিক্ষণে বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের তরুণদের শিক্ষা, ব্যবহারিক দক্ষতা ও ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরির সুযোগ বাড়বে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

স্থানীয় নির্বাচনে প্রত্যেক ইউনিয়নে প্রার্থী দেবে এনসিপি: সারজিস

লক্ষ্মীপুর প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১০ অপরাহ্ণ
স্থানীয় নির্বাচনে প্রত্যেক ইউনিয়নে প্রার্থী দেবে এনসিপি: সারজিস

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আমাদের ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির জন্য কমিটি হওয়া খুবই জরুরি। এ জন্য আমরা দেশের প্রত্যেকটি জেলায় সফর করছি। দেশের প্রত্যেকটি ইউনিয়নে সাংগঠনিক কমিটি থাকবে।

তিনি বলেন, এবার স্থানীয় নির্বাচনে দেশের প্রত্যেকটি ইউনিয়নে এনসিপি থেকে প্রার্থী ঘোষণা করতে চাই। এনসিপি থেকে একজন করে আমরা প্রাথমিকভাবে সমর্থন দেব। এই প্রসেসটার মধ্য দিয়ে বড় দল হিসেবে এনসিপির গড়ে উঠা এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার যে ধাপ- সেই ধাপটা সম্পূর্ণ হবে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে এনসিপির লক্ষ্মীপুর জেলা কমিটির সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা করেন সারজিস আলম।

পৌর শহরের ‘সোনারবাংলা চাইনিজ রেস্টুরেন্টে’ এনসিপির জেলা কমিটির ব্যানারে এ সমন্বয় সভার আয়োজন করা হয়।

বিএনপিকে উদ্দেশ করে সারজিস বলেন, ইতোমধ্যে সংসদটাকে যেভাবে সরকার দলীয় সংসদ বানানোর চেষ্টা করছে তারা, এ অপচেষ্টা কখনো দেশের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য ভালো ফল বয়ে আনবে না। বরং বিরোধীদলকে রিসিভ করতে শিখুন, তাদেরকে কথা বলতে দিন, আপনারা এ বিষয়গুলো সংশোধন করে কাজ করেন। আপনারা যদি দেশের মানুষের জন্য কাজ করেন, আমরা সহযোগিতা করব। আর যদি আপনারা মানুষের আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে যান, তাহলে আমরা জনগণের পক্ষে দাঁড়িয়ে তাদের নিয়ে আমাদের আপনাদের সাথে রাজনৈতিক লড়াই হবে।

১১ দলীয় জোটের লংমার্চ কর্মসূচি নিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের ৬ মাস গেছে। তারা তিনটি সেক্টরে অগ্রাধিকার সেট করেছিল, বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখবে বলেছিল- জ্বালানি ও আইনশৃঙ্খলা সেক্টরে। কিন্তু তারা সেখানে ফেল করেছে।

এনসিপির এই নেতা বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি মানুষের সীমার বাইরে চলে যাচ্ছে। মধ্যবিত্ত যারা নিজেদেরকে বলে, তারাও ঠিকমতো চলতে পারছে না। মানুষ ঠিকমতো গ্যাস পায় না, বিদ্যুৎ থাকে না, কলকারখানা থেকে কর্মী ছাটাই করা হচ্ছে। বিএনপি সরকার ধীরে ধীরে ব্যর্থতার দিকে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, জনগণকে সাথে নিয়ে জন দাবিগুলো তুলে ধরার জন্য আমরা বিভাগীয় শহরগুলোতে লংমার্চ নিয়ে যাচ্ছি। আমরা বিরোধী দল হয়ে শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবেও আমরা তাদের চোখে চোখ রেখে, চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে চাই- তারা প্রত্যেকটি জায়গায় ব্যর্থ হচ্ছে এবং মাঠ পর্যায়ে মানুষের কাছে ধীরে ধীরে অজনপ্রিয় হয়ে পড়ছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

৪৪ শিল্পকারখানা বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৬:০২ অপরাহ্ণ
৪৪ শিল্পকারখানা বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি

রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো দ্রুত খুলে দেওয়া, ৪৪টি শিল্পকারখানা বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত বাতিল, গ্যাসসংকটের অজুহাতে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ এবং শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে শ্রমিক মজলিস।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) জুমার নামাজ শেষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এসব দাবি জানানো হয়।

রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলসহ ৪৪টি শিল্পকারখানা বেসরকারিকরণ, গ্যাস সংকটের কারণে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ, চা-শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত, নিরাপদ কর্মসংস্থান এবং শ্রমিক কার্ড চালুর দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করে শ্রমিক মজলিস।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি প্রভাষক মুহাম্মদ আবদুল করিম বলেন, ‘রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো দ্রুত খুলে দিতে হবে। ৪৪টি কলকারখানা বেসরকারি করণের যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে শিল্পকারখানাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ বা বেসরকারিকরণের মাধ্যমে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান অনিশ্চিত করা যাবে না। এসব শিল্পকারখানাকে সচল করার উদ্যোগ নিতে হবে এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।’

গ্যাস সংকটের কারণে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের অভিযোগ তুলে মুহাম্মদ আবদুল করিম বলেন, ‘গ্যাসসংকটের কথা বলে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে অন্যায়ভাবে শ্রমিক ছাঁটাই করা হচ্ছে। অবৈধভাবে কলকারখানা থেকে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ করতে হবে। শ্রমিকদের চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। গ্যাসের সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হলে তার দায় শ্রমিকদের ওপর চাপিয়ে ছাঁটাই করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

চা-শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করারও দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি শ্রমিকদের সব ন্যায্য অধিকার বাস্তবায়ন এবং শ্রমিক কার্ড চালুর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর নামে রাজনৈতিক সিন্ডিকেটের অভিযোগ তুলে শ্রমিক মজলিসের সভাপতি বলেন, মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর নামে যে রাজনৈতিক সিন্ডিকেট করা হয়েছে, সেটিও দ্রুত বন্ধ করতে হবে। এ বিষয়ে সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়েও যেন কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা অনিয়মের কারণে সাধারণ শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

সমাবেশে বক্তারা রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পকারখানা রক্ষা, শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা এবং ন্যায্য মজুরি বাস্তবায়নের দাবি জানান। একই সঙ্গে শিল্পখাতে বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররম মসজিদ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শ্রমিক মজলিসের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিজয়নগর পানির ট্যাংকের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ