খুঁজুন
                               
, ,
           

তারেক রহমানকে মির্জা আব্বাসের সতর্কবার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ণ
তারেক রহমানকে মির্জা আব্বাসের সতর্কবার্তা

বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দলের ভেতরের ষড়যন্ত্র এবং কিছু নেতা-কর্মীর কর্মকাণ্ড নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্শনিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

তারেক রহমানের উদ্দেশে মির্জা আব্বাস বলেন, দলের বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও হবে। তাই তাঁকে আরও সতর্ক থাকতে হবে। তাঁর ভাষায়, ‘আপনার ভালো কাজগুলো কিছু লোকের খারাপ কথায় ও কাজে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।’

মির্জা আব্বাস বলেন, দলের কিছু নেতা-কর্মী সামনে এক ধরনের কথা বললেও বাইরে গিয়ে ভিন্ন আচরণ করেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। দু-একজনের কর্মকাণ্ডের কারণে যেন পুরো দলের বদনাম না হয়, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

দলের ভেতর ও বাইরে থেকে ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা এ বিষয়ে সঠিক তথ্য জানেন, তাদের তা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে তুলে ধরতে হবে। ‘নেতাকে ফাঁকি দেওয়া মানে দেশকে ফাঁকি দেওয়া’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মির্জা আব্বাস আরও বলেন, দলের জন্য ক্ষতিকর কোনো বিষয় তাঁর নজরে এলে তিনি তা তারেক রহমানকে জানাবেন। প্রয়োজনে এ বিষয়ে আরও কথা বলবেন। সহকর্মীদের কেউ তাঁর বক্তব্যে কষ্ট পেয়ে থাকলে তিনি ক্ষমা চান বলেও জানান। দলকে ভালোবাসেন বলেই এসব কথা বলেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আলোচনা সভায় জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ নেতা-কর্মীদের এমন কোনো কাজ না করার আহ্বান জানান, যাতে প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। একই সঙ্গে তিনি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমান উল্লাহ আমানও বক্তব্য দেন। তিনি ‘আন্দোলনের নামে ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ তুলে নেতা-কর্মীদের আইন নিজের হাতে না তুলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও দলের প্রয়াত নেতাদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে বিএনপির ৪৮ বছরের পথচলার ওপর নির্মিত একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ছাএলীগের রাজনীতি থেকে রাইড শেয়ারিং মুবিনের পরিচয় মিললো যেভাবে

বরিশাল প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৩ পূর্বাহ্ণ
ছাএলীগের রাজনীতি থেকে রাইড শেয়ারিং মুবিনের পরিচয় মিললো যেভাবে

রাজধানীর ফার্মগেটের খামারবাড়িতে একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেদ করে প্রধানমন্ত্রীর গাড়ির কাছাকাছি চলে যাওয়ার অভিযোগে মুবিন মাঝি নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, মুবিন মোটরসাইকেল নিয়ে নিরাপত্তাবেষ্টনী অতিক্রম করে প্রধানমন্ত্রীর গাড়ির কাছাকাছি চলে যান। একপর্যায়ে তিনি গাড়ির পাশে গিয়ে সালাম দেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ তাকে আটক করে।

আটক মুবিন মাঝির গ্রামের বাড়ি বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের রাকুদিয়া এলাকায়। তিনি ওই এলাকার অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইউনুস মাঝির ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুবিনের পরিবারের একাধিক সদস্য শিক্ষকতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। তার এক চাচা ইদ্রিস মাঝি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। আরেক চাচা প্রয়াত ইউসুফ মাঝি সরকারি আবুল কালাম ডিগ্রি কলেজের ছাত্র সংসদের এজিএস ছিলেন। অপর চাচা শাহিন মাঝি দেহেরগতি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।

স্থানীয়দের দাবি, মুবিন একসময় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে দীর্ঘদিন তিনি প্রবাসে ছিলেন। পরে ঢাকায় ফিরে মোটরসাইকেল রাইড শেয়ারিংয়ের কাজ শুরু করেন। বর্তমানে স্ত্রী ও এক সন্তান নিয়ে ঢাকায় বসবাস করছেন বলে জানা গেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মুবিন মাঝিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে কী উদ্দেশ্যে তিনি প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরের নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেদ করে প্রবেশ করেছিলেন, তাৎক্ষণিকভাবে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

পাকিস্তানের প্রথম চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস আসিম মুনির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৩৪ পূর্বাহ্ণ
পাকিস্তানের প্রথম চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস আসিম মুনির

পাকিস্তানের সামরিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। দেশটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীকে একক কর্মকর্তার অধীনে এনে ‘চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস’ (সিডিএফ) পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। নতুন এই পদে দায়িত্ব নিয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির।

‘ডিফেন্স ফোর্সেস অব পাকিস্তান অ্যাক্ট, ২০২৬’ নামে নতুন আইনটি আগস্টের শেষ দিকে জাতীয় পরিষদে পাস হয়। এর মাধ্যমে সিডিএফ পদ সৃষ্টি করা হয় এবং তিন বাহিনীর ওপর সরাসরি পরিচালনাগত ও কমান্ড ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

নতুন দায়িত্বের পাশাপাশি আসিম মুনির সেনাপ্রধানের পদেও বহাল থাকছেন। ফলে একই কর্মকর্তা পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রধান এবং তিন বাহিনীর সমন্বিত কমান্ড কাঠামোর শীর্ষ দায়িত্ব পালন করবেন।

এর আগে পাকিস্তানের তিন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের জন্য ‘চেয়ারম্যান অব দ্য জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটি’ পদটি ছিল। ১৯৭৬ সালে চালু হওয়া ওই পদে মূলত সমন্বয়ের দায়িত্ব থাকলেও নৌ ও বিমান বাহিনীর ওপর সরাসরি কমান্ডের ক্ষমতা ছিল না।

নতুন সিডিএফ পদটি সেই ব্যবস্থার পরিবর্তে কার্যকর করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন কাঠামোর ফলে প্রধানমন্ত্রী থেকে মাঠপর্যায়ের সামরিক ইউনিট পর্যন্ত একটি সুস্পষ্ট কমান্ড চ্যানেল তৈরি হয়েছে।

অবসরপ্রাপ্ত একাধিক সামরিক কর্মকর্তার মতে, আগের সমন্বয়কারী পদের তুলনায় সিডিএফ অনেক বেশি ক্ষমতাবান। নতুন পদে থাকা কর্মকর্তা তিন বাহিনীর ওপর সরাসরি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষমতা রাখবেন এবং ফেডারেল সরকারের কাছে জবাবদিহি করবেন।

ফলে পাকিস্তানের সামরিক কমান্ড কাঠামোয় ১৯৭৬ সালের পর এটিকে অন্যতম বড় পুনর্গঠন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপে মোহনপুরের টানা দ্বিতীয় শিরোপা

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ণ
জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপে মোহনপুরের টানা দ্বিতীয় শিরোপা

রাজশাহী জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের শিরোপা ধরে রেখেছে মোহনপুর উপজেলা ফুটবল দল। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজশাহীর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে টাইব্রেকারে দুর্গাপুর উপজেলা ফুটবল দলকে ৩-২ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে মোহনপুর।

ফাইনাল ঘিরে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে ছিল দর্শকদের উপচেপড়া ভিড়। বিকেল সাড়ে ৩টায় ম্যাচ শুরুর কথা থাকলেও দুপুর থেকেই দুই দলের সমর্থকেরা বিভিন্ন যানবাহনে করে স্টেডিয়ামে আসতে শুরু করেন। ম্যাচ শুরুর আগেই গ্যালারি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। অনেক দর্শক স্টেডিয়ামের ভেতরে জায়গা না পেয়ে বাইরে অবস্থান করেন। এতে স্টেডিয়াম এলাকায় তীব্র যানজটেরও সৃষ্টি হয়।

ম্যাচের শুরুতেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মোহনপুর। ম্যাচের মাত্র তৃতীয় মিনিটে মোহনপুরের মোমিনুল গোল করে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। গোল পরিশোধে মরিয়া হয়ে ওঠে দুর্গাপুর। একাধিক সুযোগ তৈরি করেও প্রথমদিকে গোলের দেখা পায়নি তারা।

শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ২০তম মিনিটে দুর্গাপুরের প্রণয় গোল করে খেলায় সমতা ফেরান। ফলে প্রথমার্ধ ১-১ গোলে শেষ হয়।

দ্বিতীয়ার্ধেও দুই দল আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে খেলতে থাকে। উভয় দলই গোলের কয়েকটি সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি। নির্ধারিত সময় শেষে ১-১ সমতা থাকায় ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় টাইব্রেকারে।

টাইব্রেকারে মোহনপুর ৩-২ গোলে দুর্গাপুরকে পরাজিত করে শিরোপা নিশ্চিত করে। এর মধ্য দিয়ে গতবারের চ্যাম্পিয়ন মোহনপুর আবারও জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপের শিরোপা নিজেদের দখলে রাখে।

টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার পেয়েছেন দুর্গাপুরের পলাশ। ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন দুর্গাপুরের অধিনায়ক জুবায়ের। টুর্নামেন্টসেরা হয়েছেন মোহনপুরের বাদল। একই দলের রায়হান পেয়েছেন সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার।

ফাইনাল শেষে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু এমপি।

জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবা হাবিবা, বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী, রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবীর এবং পুলিশ সুপার মো. মামুন অর রশিদ।

এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, খেলোয়াড়, দর্শক, সুধীজন ও গণমাধ্যমকর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি