খুঁজুন
                               
, ,
           

অস্ত্রের তথ্য দিন, আইনি জটিলতা ছাড়াই পুরস্কার: এসআরবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৩০ অপরাহ্ণ
অস্ত্রের তথ্য দিন, আইনি জটিলতা ছাড়াই পুরস্কার: এসআরবি

দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখার পাশাপাশি সরকারি নিয়মে পুরস্কার দেওয়ার কথাও জানিয়েছে বাহিনীটি।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবি মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান বাহিনীর আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এ জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে সরকার ও এসআরবির পক্ষ থেকে বিশেষ কার্যক্রম চলছে।

বাংলাদেশ পুলিশ, সেনাবাহিনী ও এসআরবির অভিযানে ইতোমধ্যে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এখন এ উদ্ধার কার্যক্রম আরও ত্বরান্বিত করতে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।

ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, খুলনা, রাজশাহী, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ অস্ত্রের অবস্থান সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে কিছু তথ্য রয়েছে। তবে পর্যাপ্ত তথ্যের অভাবে সেগুলো শনাক্ত করে উদ্ধার করা অনেক ক্ষেত্রে কঠিন হয়ে পড়ছে।

তাই যার কাছে এ ধরনের অস্ত্রের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য আছে, তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, এমনও হতে পারে, কেউ কোনো ঘটনার সময় থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র নিয়ে গেছেন। তার হয়তো কোনো দুরভিসন্ধি নেই। পরিস্থিতির কারণে বা তাৎক্ষণিকভাবে অস্ত্র নিয়ে যাওয়ার পর এখন তিনি কী করবেন, তা বুঝতে পারছেন না। আবার আইনগত প্রক্রিয়ার কথা চিন্তা করে কাউকে জানাতেও ভয় পাচ্ছেন। এই সমস্যা সমাধানের জন্যই তথ্য দেওয়ার এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, আপনারা অস্ত্রগুলো যেকোনো একটি জায়গায় রেখে আমাদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন। ওই জায়গায় দুটি পিস্তল, একটি রাইফেল, ১০টি ম্যাগাজিন বা গুলি আছে-এতটুকু তথ্যই আমাদের জন্য যথেষ্ট। আমরা গিয়ে সেগুলো সংগ্রহ করে নিয়ে আসব। যিনি তথ্য দেবেন, তাকে সরকারিভাবে পুরস্কৃত করা হবে এবং তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

মোহাম্মদপুরের অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, অপরাধপ্রবণতা কমিয়ে আনা একটি চলমান প্রক্রিয়া। এক রাতের মধ্যে পরিস্থিতির পুরো পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে যেসব এলাকায় অপরাধের প্রবণতা বেশি, সেখানে এসআরবির পক্ষ থেকে জোরালো কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, অপরাধপ্রবণ এলাকায় এসআরবি সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। অভিযান পরিচালনার জন্য কর্মকর্তার সংখ্যা বৃদ্ধি, গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার এবং সাইবার মনিটরিং বাড়ানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে যত ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব, সেগুলো নেওয়া হচ্ছে।

‘বিভিন্ন আকারের বড়-ছোট অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে প্রতিদিনই সাফল্য আসছে। গণমাধ্যমে আপনারা সেসব সাফল্য দেখতে পাচ্ছেন,’ বলেন তিনি।

মোহাম্মদপুর থেকে অপরাধ নির্মূলের বিষয়ে আশাবাদ জানিয়ে এসআরবির এই কর্মকর্তা বলেন, আরেকটু অপেক্ষা করার জন্য আমাদের সহযোগিতা করুন। পুলিশ বাহিনীসহ যতগুলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আছে, সবাইকে সহযোগিতা করুন। ইনশাআল্লাহ, খুব শিগগিরই মোহাম্মদপুর থেকে সমস্ত অপরাধ নির্মূল করতে আমরা সক্ষম হবো।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

২৫ হাজার টাকার জন্য পেঁয়াজ ব্যবসায়ীকে হত্যা, বলছে এসআরবি

সাথিয়া(পাবনা)সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৬ অপরাহ্ণ
২৫ হাজার টাকার জন্য পেঁয়াজ ব্যবসায়ীকে হত্যা, বলছে এসআরবি

পাবনার সাঁথিয়ায় পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজকে (৫৫) মাত্র ২৫ হাজার টাকার লোভে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান অভিযুক্ত মোহাম্মদ রেজাউল করিম প্রামাণিক ওরফে ‘বাঘা’কে নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এসআরবি ফোর্সেসের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।

এসআরবি জানায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ডাঙ্গামারি গ্রামের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ নিখোঁজ হন। ব্যবসার কারণে তার কাছে সবসময় নগদ টাকা থাকত—এমন তথ্য জানার পর তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন চারজন।

নিখোঁজের পরদিন ৮ সেপ্টেম্বর স্থানীয়রা একটি পুকুরে ভাসমান অবস্থায় আব্দুল আজিজের মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে নিহতের স্বজনের করা অভিযোগের ভিত্তিতে সাঁথিয়া থানায় হত্যা মামলা হয়।

এসআরবির ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আব্দুল আজিজকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে। পরে তার মরদেহ একটি পুকুরে ফেলে রেখে যায়।

মামলাটি তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ চারজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করে। তাঁদের মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালত তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চারজন মিলে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করেন বলে জানায় এসআরবি।

তদন্তে উঠে আসে, হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী বাঘা ঘটনার পর বারবার অবস্থান পরিবর্তন করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়।

এসআরবি জানায়, বাঘা নরসিংদীর মাধবদী এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। পরে ১৭ সেপ্টেম্বর এসআরবি-১১ ও এসআরবি-১২-এর যৌথ আভিযানিক দল সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, গ্রেপ্তার বাঘা নিজেকে একটি নিষিদ্ধ সর্বহারা গোষ্ঠীর নেতা হিসেবে স্বীকার করেছেন। আব্দুল আজিজের কাছে সবসময় টাকা-পয়সা থাকে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে মাত্র ২৫ হাজার টাকার লোভে চারজন মিলে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন বাঘা।

গ্রেপ্তার বাঘাকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য পাবনার সাঁথিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি।

মালিবাগে পরপর ককটেল বিস্ফোরণ, ঘটনাস্থলে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১৫ অপরাহ্ণ
মালিবাগে পরপর ককটেল বিস্ফোরণ, ঘটনাস্থলে পুলিশ

রাজধানীর মালিবাগ রেলগেট এলাকায় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা থেকে আড়াইটার মধ্যে মালিবাগ ফ্লাইওভারের ওপর থেকে নিচের সড়কে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে মালিবাগ ফ্লাইওভারের ওপর থেকে নিচে দুটি ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। ওই সময় দোকানপাট বন্ধ থাকায় এবং সড়কে লোকজন না থাকায় বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

শাহজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম জানান, দুপুর ২টা থেকে আড়াইটার মধ্যে ফ্লাইওভারের ওপর থেকে সড়কে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে কেউ হতাহত হয়নি। ঘটনায় জড়িত কাউকে এখনো শনাক্ত করা যায়নি।

কালের আলো/এমএসআইপি 

গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে, জার্মান প্রতিনিধিদলকে স্পিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০০ অপরাহ্ণ
গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে, জার্মান প্রতিনিধিদলকে স্পিকার

বাংলাদেশের জনগণের বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে বর্তমান সরকার সচেষ্ট রয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) স্পিকারের কার্যালয়ে জার্মানির একটি সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।

সাক্ষাৎকালে স্পিকার বাংলাদেশ ও জার্মানির দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার সূচনালগ্ন থেকেই জার্মান সরকার বাংলাদেশকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহায়তা করে আসছে। ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম গন্তব্যও জার্মানি।

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জিত হলেও দীর্ঘদিন কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, পরপর তিনটি নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন করে গণতন্ত্রকে বিপর্যস্ত করেছিল।

তিনি আরও বলেন, গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও বিতর্কিত নির্বাচনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। এর পর দেশে গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

স্পিকার বাংলাদেশের নারীদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদানের কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, বর্তমান সংসদে জনগণের ভোটে নির্বাচিত ছয়জন নারী সংসদ সদস্য এবং সংরক্ষিত আসনে ৫০ জন নারী সংসদ সদস্য রয়েছেন।

বৈঠকে জার্মানি-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠন, সংসদীয় কূটনীতির প্রসার এবং বাংলাদেশে চলমান রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও মতবিনিময় হয়।

জার্মানির ফেডারেল পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ বুন্দেস্ট্যাগের সদস্য নিকলাস কাপের নেতৃত্বে গেরোল্ড ওটেন, জোহান সাথফ, উলে শাউস এবং ঢাকায় নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ বৈঠকে অংশ নেন। এ সময় জার্মান দূতাবাস ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এম/এসআইপি