খুঁজুন
                               
, ,
           

পণ্য খালাসের সময় ও ব্যয় কমাতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার তাগিদ 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৬ অপরাহ্ণ
পণ্য খালাসের সময় ও ব্যয় কমাতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার তাগিদ 

আমদানি-রফতানি পণ্য খালাসের পদ্ধতি সহজ করা, লজিস্টিকস ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বাণিজ্য ব্যয় কমাতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ন্যাশনাল ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন কমিটির দশম সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পণ্য চালান খালাসের সময় ও ব্যয় কমাতে সরকার দপ্তরগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য প্রক্রিয়া সহজ করার কাজ করছে। এসব উদ্যোগের সুফল ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছাতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন।

সভায় উপস্থাপিত কার্যপত্র অনুযায়ী, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের ৫৪টি পদক্ষেপের মধ্যে ৪৭টি বাস্তবায়িত হয়েছে। এর মধ্যে ক্যাটাগরি-এ’র ২১টি ও ক্যাটাগরি-বি’র ১৮টি বাধ্যবাধকতা বাস্তবায়ন করে ডব্লিউটিওকে জানানো হয়েছে।

ক্যাটাগরি-সি’র ১৫টি পদক্ষেপের মধ্যে আটটি সম্পন্ন হয়েছে; বাকি সাতটি ২০৩০ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে অবশিষ্ট কার্যক্রম দ্রুত শেষ করার ওপর সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বাণিজ্যসংক্রান্ত সনদ, লাইসেন্স ও পারমিটের আবেদন এবং সেবা একই প্ল্যাটফর্মে আনতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো বাস্তবায়ন করেছে। এতে এখন পর্যন্ত ১৯টি সংস্থা যুক্ত হয়েছে; আরও ১৮টি দফতরকে যুক্ত করার উদ্যোগ চলছে। এ কার্যক্রম পরিচালনায় পৃথক বাংলাদেশ সিঙ্গেল উইন্ডো কমিশনারেট গঠনের কাজও চলমান।

এনবিআরের সদস্য ড. আল আমিন প্রামাণিক সভায় জানান, স্বয়ংক্রিয় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার বা এআরএমএসের কার্যক্রম আগামী অক্টোবরের মধ্যে বাস্তবায়ন সম্ভব হবে বলে তারা আশা করছেন। ঝুঁকি বিশ্লেষণভিত্তিক এ ব্যবস্থা চালু হলে পণ্য খালাস দ্রুত করার সুযোগ তৈরি হবে। অথোরাইজড ইকোনমিক অপারেটর সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়াতেও এনবিআর উদ্যোগ নিয়েছে বলে তিনি জানান।

কাস্টমস সেবায় এরই মধ্যে পণ্য বন্দরে পৌঁছানোর আগে খালাস প্রক্রিয়া শুরু এবং অনলাইন অটো-ম্যানিফেস্ট রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা চালু হয়েছে। ব্যবসায়ীদের শুল্ক ও বাণিজ্যসংক্রান্ত তথ্য দিতে চালু করা হয়েছে ন্যাশনাল ইনকোয়ারি পয়েন্ট।

সভায় পচনশীল কৃষিপণ্য রপ্তানির অবকাঠামো নিয়েও আলোচনা হয়। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে কোল্ড স্টোরেজ আধুনিকায়নের কাজ চলছে। বেনাপোলে নতুন কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের দরপত্র মূল্যায়ন শেষ হয়েছে। মোংলায় ১৮ একর জমিতে কোল্ড স্টোরেজ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপনের চুক্তি হয়েছে। চট্টগ্রামের দেওয়ানহাটে রফতানিমুখী কৃষিপণ্যের জন্য প্যাকিং হাউস ও কোল্ড চেইন স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান বলেন, বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তির সব কার্যক্রম এককভাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সহযোগিতায় অবশিষ্ট কাজ নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করার চেষ্টা চলছে।

ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী একই ধরনের পণ্যের ক্ষেত্রে ভিন্ন সিদ্ধান্ত কমাতে অভিন্ন কার্যপদ্ধতি ও ডিজিটাল ব্যবস্থার ওপর জোর দেন। এছাড়া খাদ্যপণ্যের মান পরীক্ষা ও পরীক্ষাগার সুবিধা উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয় নিয়েও সভায় আলোচনা হয়।

সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, এনবিআর, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভা পরিচালনা করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ডব্লিউটিও) খাদিজা নাজনীন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে নতুন দায়িত্বে জাইমা রহমান

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৩৯ পূর্বাহ্ণ
জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে নতুন দায়িত্বে জাইমা রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমানের কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জাইমা রহমানকে বাংলাদেশ থেকে লিগ্যাল অফিসার হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তার দায়িত্বের মধ্যে কার্যালয়ের আইনি বিষয়গুলো দেখাশোনা করা রয়েছে। জাতিসংঘের প্রোফাইলে তাকে যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যারিস্টার এবং আইন ও নীতিবিষয়ক পেশাজীবী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির কার্যালয়ে বিভিন্ন পদে মোট ৪০ জন দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশি রয়েছেন ছয়জন। জাইমা রহমান ছাড়া অন্য পাঁচজন হলেন—আব্দুল আলিম, মোয়াজ্জেম হোসেন, মাফিজুল ইসলাম, জাকির আহমেদ এবং মো. রফিকুল আলম মোল্লা।

বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের মধ্যে আব্দুল আলিম দায়িত্ব পালন করছেন ডেপুটি চিফ অব ক্যাবিনেট হিসেবে। মোয়াজ্জেম হোসেন রয়েছেন উপদেষ্টা ও প্রশাসনিক সহকারী হিসেবে। মাফিজুল ইসলাম তথ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কৌশলগত পূর্বাভাসবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এ ছাড়া জাকির আহমেদ টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা এবং মো. রফিকুল আলম মোল্লা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন দেশগুলোর বিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন।

জাইমা রহমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের একমাত্র মেয়ে। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নাতনি।

জাইমা যুক্তরাজ্যের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং পরে যুক্তরাজ্যে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল সম্পন্ন করেন। ২০২৬ সালের জুনে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তির প্রথম ধাপের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার তথ্যও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে।

এদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ২০২৬ সালের ২ জুন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন। জাতিসংঘের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, ৮১তম অধিবেশন ৮ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ পরিষদের সভাপতি জাতিসংঘ সচিবালয়ের নিয়মিত কর্মী নন। সভাপতির কার্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনায় নিয়মিত বাজেটের পাশাপাশি সদস্যরাষ্ট্রগুলোর স্বেচ্ছা অনুদানের মাধ্যমে একটি ট্রাস্ট ফান্ডও রয়েছে।

জাতিসংঘের ট্রাস্ট ফান্ডের তথ্য অনুযায়ী, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ১০টি সদস্যরাষ্ট্র মোট ১২ লাখ ৮৮ হাজার ২৩৭ মার্কিন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই অর্থ সভাপতির কার্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম, সদস্যরাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে পরামর্শ, প্রতিনিধিত্ব ও যোগাযোগ এবং ৮১তম অধিবেশনের অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে সহায়তা করে।

কালের আলো/জেএন

তারেক রহমানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ
তারেক রহমানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে।

জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিংয়ের ৩৪তম তলায় স্থানীয় সময় দুপুরে এ বৈঠক হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন দুই নেতা।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব এ কে এম নাজমুল হক এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণে সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়ে গঠনমূলক মতবিনিময় হয়।

দুই প্রধানমন্ত্রী পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমঝোতা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে নিয়মিত যোগাযোগ ও সংলাপ অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তারা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

জাতিসংঘে তারেক-শাহবাজ বৈঠক, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ
জাতিসংঘে তারেক-শাহবাজ বৈঠক, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্ব

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৈঠকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমঝোতা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন দুই নেতা।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিংয়ের ৩৪ তলায় অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে দুই নেতা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

এ সময় পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, সমসাময়িক আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণে সহযোগিতার সম্ভাব্য বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে তাদের মধ্যে গঠনমূলক মতবিনিময় হয়।

এছাড়া, বৈঠকে উভয় পক্ষ আগামী দিনে অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও সংলাপ অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ