খুঁজুন
                               
, ,
           

হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন দেবাশীষ রায় চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:২৮ অপরাহ্ণ
হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন দেবাশীষ রায় চৌধুরী

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।

শপথ অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিরা এবং সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রার ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীকে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি।

সেদিন আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা স্বাক্ষরিত নিয়োগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শক্রমে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীকে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক নিয়োগদান করেছেন।

শপথ গ্রহণের তারিখ থেকে এ নিয়োগ কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। ব্রিটেন থেকে আইনে ডিগ্রি অর্জনের পর ২০০৫ সালে জেলা আদালতের আইনজীবী হিসেবে পেশাগত জীবন শুরু করেন দেবাশীষ রায় চৌধুরী। এরপর ২০০৭ সালে তিনি হাইকোর্ট এবং ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।

পরে ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন তিনি।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

শ্রীলঙ্কার নীল জলে হারিয়ে পারশা, অবকাশের মুহূর্তে মুগ্ধ ভক্তরা

বিনোদন ডেস্ক:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:২২ অপরাহ্ণ
শ্রীলঙ্কার নীল জলে হারিয়ে পারশা, অবকাশের মুহূর্তে মুগ্ধ ভক্তরা

সমুদ্রের ঢেউ এসে আলতো করে ছুঁয়ে যাচ্ছে পায়ের পাতা। সামনে যতদূর চোখ যায় শুধু নীলের বিস্তৃতি। মাথার ওপর খোলা আকাশ, চারপাশে প্রকৃতির নির্মল সৌন্দর্য আর মুখজুড়ে প্রশান্তির হাসি—ব্যস্ততার শহর থেকে দূরে এমনই এক ছুটির আমেজে নিজেকে ভাসিয়ে দিয়েছেন সংগীতশিল্পী পারশা মাহজাবীন পূর্ণী।

কখনো সমুদ্রের ধারে দাঁড়িয়ে ঢেউয়ের সঙ্গে খুনসুটি, কখনো বালুচরে বসে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ—শ্রীলঙ্কা ভ্রমণের এমনই কিছু মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন এই সংগীতশিল্পী। তার প্রকাশিত ছবিগুলোতে ধরা পড়েছে ভ্রমণের আনন্দ, প্রকৃতির প্রতি মুগ্ধতা আর অবসর সময়কে নিজের মতো করে উপভোগ করার গল্প।

সংগীতের ব্যস্ততা থেকে সাময়িক বিরতি নিয়ে শ্রীলঙ্কায় পাড়ি জমিয়েছেন পারশা। সেখানে গিয়ে শুধু পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে দেখাই নয়, সমুদ্রসৈকতের নির্মল পরিবেশে নিজের মতো করে সময় কাটাতেই যেন বেশি ব্যস্ত তিনি। আর সেই অবকাশযাপনের মুহূর্তগুলোই এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি করেছে আগ্রহ।

নীল সমুদ্রের পাশে প্রশান্তির সময়

শ্রীলঙ্কার সমুদ্রসৈকতে পারশার ভ্রমণের ছবিগুলোতে সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে সমুদ্র আর প্রকৃতির মেলবন্ধন। নীল পানির সামনে দাঁড়িয়ে কখনো ক্যামেরার দিকে তাকিয়েছেন, আবার কখনো নিজের মতো করে উপভোগ করেছেন চারপাশের পরিবেশ।

ছবিতে তাকে দেখা গেছে বেশ স্বচ্ছন্দ ও হাস্যোজ্জ্বল ভঙ্গিতে। সমুদ্রের বিশালতা আর খোলা আকাশ যেন তার অবকাশের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ব্যস্ত কর্মজীবনের বাইরে এমন একটি সময় যে তার জন্যও বিশেষ, ছবিগুলোতেই যেন তারই ইঙ্গিত মিলেছে।

শুধু ছবি তোলার জন্য নয়, বরং প্রকৃতির কাছাকাছি গিয়ে সময় কাটানোর মধ্যেও যে আলাদা এক আনন্দ রয়েছে, পারশার ভ্রমণের মুহূর্তগুলোতে সেটিই ফুটে উঠেছে।

ছবি>সংগৃহীত

সাদা পোশাকে নজর কাড়লেন পারশা

শ্রীলঙ্কার সমুদ্রসৈকতে পারশার সাজেও ছিল ছুটির দিনের স্বাভাবিক ছোঁয়া। সাদা পোশাকে, মাথায় নান্দনিক হ্যাট আর খোলা চুলে তাকে দেখা গেছে বেশ প্রাণবন্ত রূপে।

অতিরিক্ত সাজসজ্জার বদলে সহজ-স্বাভাবিক লুকেই ক্যামেরার সামনে ধরা দিয়েছেন তিনি। সমুদ্রের নীল আর তার সাদা পোশাকের বৈপরীত্য ছবিগুলোকে দিয়েছে আলাদা সৌন্দর্য।

একটি ছবিতে সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় তাকে। অন্য ছবিতে বালুচরে বসে কিংবা ঢেউয়ের কাছাকাছি গিয়ে সময় কাটানোর দৃশ্যও রয়েছে। সব মিলিয়ে তার পুরো লুকেই ছিল ভ্রমণের স্বাভাবিক আনন্দ।

ঢেউয়ের সঙ্গে খুনসুটি

সমুদ্রের কাছে গেলে ঢেউয়ের সঙ্গে মেতে ওঠার লোভ সামলানো কঠিন। পারশার ক্ষেত্রেও যেন তার ব্যতিক্রম হয়নি। সমুদ্রের পানিতে পা ভিজিয়ে ঢেউয়ের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন তিনি।

তার ভ্রমণের ছবিগুলো দেখে মনে হচ্ছে, শ্রীলঙ্কার প্রকৃতিকে কেবল দূর থেকে দেখেননি পারশা; বরং সেটিকে উপভোগ করেছেন খুব কাছ থেকে। সমুদ্রের ঢেউ, বালুচর আর বাতাস—সবকিছু মিলিয়ে তৈরি হয়েছে তার ছুটির দিনের এক অন্যরকম গল্প।

ছবি>সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এসব ছবিতে তার হাসিমাখা মুহূর্তগুলোও আলাদা করে নজর কেড়েছে। ভক্তদের অনেকেই তার ভ্রমণের ছবি দেখে শুভকামনা জানিয়েছেন এবং শ্রীলঙ্কার সৌন্দর্যের পাশাপাশি পারশার স্বচ্ছন্দ উপস্থিতিরও প্রশংসা করেছেন।

বালুচরে ভালোবাসার চিহ্ন

ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণীয় মুহূর্ত ছিল বালুচরে নিজের মতো করে সময় কাটানো। সমুদ্রের ধারে বালুর ওপর ভালোবাসার চিহ্ন এঁকে সেই মুহূর্তকেও ক্যামেরাবন্দি করেছেন পারশা।

ছবি>সংগৃহীত

ছোট্ট এই মুহূর্তটি তার ভ্রমণের ছবিতে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা। বিশাল সমুদ্রের সামনে বালুচরে আঁকা সেই চিহ্ন যেন হয়ে উঠেছে ছুটির দিনের একটি ব্যক্তিগত স্মৃতি।

ছবি>সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি প্রকাশের পর স্বাভাবিকভাবেই ভক্তদের নজর কাড়ে। কেউ মুগ্ধ হয়েছেন প্রকৃতির সৌন্দর্যে, কেউ আবার পারশার ভ্রমণের মুহূর্তগুলোকে দেখেছেন তার জীবনের আনন্দঘন সময় হিসেবে।

ব্যস্ততা থেকে দূরে কিছুটা অবকাশ

সংগীতশিল্পীদের জীবন সাধারণত স্টুডিও, গান, অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন কাজের ব্যস্ততায় ঘেরা থাকে। সেই ব্যস্ততার মাঝেই নিজের জন্য কিছুটা সময় বের করে নেওয়ার সুযোগ অনেক সময় হয়ে ওঠে কঠিন।

ছবি>সংগৃহীত

পারশার শ্রীলঙ্কা সফরটিও তাই নিছক একটি বিদেশভ্রমণ নয়; বরং ব্যস্ততার বাইরে নিজের জন্য কিছুটা সময় বের করে নেওয়ার একটি উপলক্ষ হিসেবেও দেখা যেতে পারে। প্রকৃতির কাছাকাছি থাকা, সমুদ্রের ঢেউ উপভোগ করা কিংবা নিরিবিলি পরিবেশে সময় কাটানোর মধ্য দিয়ে তিনি যেন কিছুটা স্বস্তির মুহূর্ত খুঁজে নিয়েছেন।

তার প্রকাশিত ছবিগুলোতে কাজের চাপ বা শহুরে ব্যস্ততার কোনো ছাপ নেই। বরং সেখানে রয়েছে হাসি, স্বস্তি আর ভ্রমণের নির্মল আনন্দ।

ছবি>সংগৃহীত

ভক্তদের নজরে পারশার নতুন মুহূর্ত

তারকারা যখন নিজেদের ব্যক্তিগত জীবনের ভ্রমণ কিংবা অবকাশের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন, তখন সেগুলো সহজেই ভক্তদের আগ্রহের কেন্দ্রে চলে আসে। পারশার ক্ষেত্রেও ঘটেছে তেমনটাই।

শ্রীলঙ্কার নীল সমুদ্র, সাদা পোশাকে তার উপস্থিতি, ঢেউয়ের সঙ্গে সময় কাটানো এবং বালুচরের নানা মুহূর্ত—সব মিলিয়ে ছবিগুলোতে ভিন্ন এক পারশাকে দেখছেন তার অনুসারীরা।

ছবি>সংগৃহীত

মঞ্চের আলো কিংবা ক্যামেরার সামনে পারফরম্যান্সের বাইরে প্রকৃতির মাঝে তার এই স্বচ্ছন্দ উপস্থিতি ভক্তদের কাছে তাই আলাদা আকর্ষণ তৈরি করেছে।

ভ্রমণের স্মৃতিতে জমছে নতুন গল্প

ভ্রমণ শেষ হয়ে গেলেও কিছু মুহূর্ত থেকে যায় স্মৃতি হয়ে। শ্রীলঙ্কার সমুদ্রসৈকতে পারশার কাটানো সময়গুলোও তেমনই কিছু স্মৃতি হয়ে তার সঙ্গে থেকে যাবে।

নীল সমুদ্রের ঢেউ, বালুচরে হাঁটা, খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা কিংবা ক্যামেরার সামনে হাসিমুখে ধরা দেওয়া—প্রতিটি মুহূর্তেই ছিল ছুটির দিনের আলাদা আবহ।

ছবি>সংগৃহীত

আর সেই মুহূর্তগুলোর কিছু অংশ যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন পারশা, তখন তার ব্যক্তিগত অবকাশের গল্পটিও পৌঁছে গেছে অনুসারীদের কাছে।

সংগীতের ব্যস্ততা, কাজের চাপ আর প্রতিদিনের ছুটে চলা জীবনের বাইরে শ্রীলঙ্কার নীল জলে কিছুটা সময়ের জন্য হারিয়ে যাওয়া পারশা মাহজাবীন পূর্ণীর এই ভ্রমণ তাই হয়ে উঠেছে প্রকৃতি, প্রশান্তি আর আনন্দের এক সুন্দর গল্প।

কালের আলো/জেএন

সময় পেরিয়েছে, সৌন্দর্যের মুগ্ধতা রয়ে গেছে

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ণ
সময় পেরিয়েছে, সৌন্দর্যের মুগ্ধতা রয়ে গেছে

রুপালি পর্দায় কয়েক দশক ধরে সৌন্দর্য, অভিনয় ও জনপ্রিয়তার প্রতীক হয়ে আছেন চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা। সময়ের সঙ্গে বদলেছে চলচ্চিত্রের ভাষা, এসেছে নতুন প্রজন্ম, বদলেছে দর্শকের রুচি। তবে পূর্ণিমাকে ঘিরে দর্শকের মুগ্ধতায় যেন ভাটা পড়েনি।

পর্দায় নিয়মিত না থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর উপস্থিতি এখনো ভক্তদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করে। নতুন কোনো ছবি প্রকাশ করলেই প্রশংসায় ভরে ওঠে মন্তব্যের ঘর। সময়ের সঙ্গে তাঁর সৌন্দর্যে যোগ হয়েছে পরিণত এক দীপ্তি।

ছবি>> সংগৃহীত

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা একটি ছবিকে ঘিরেও দেখা গেছে একই চিত্র। সাদা পোশাকের সঙ্গে কালো-সাদা চেক নকশার জ্যাকেট, খোলা সোজা চুল, স্বাভাবিক সাজ আর মুখের মিষ্টি হাসিতে পরিশীলিত এক লুকে ধরা দিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

ছবি>> সংগৃহীত

পরিপাটি সাজে মুগ্ধতা

ছবিতে সাদা ডিপ ভি-নেক টপের সঙ্গে সাদা প্যান্ট পরেছেন পূর্ণিমা। এর সঙ্গে কালো-সাদা নকশার ব্লেজার যোগ করেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। হাতে সোনালি রঙের রিস্টওয়াচ ও সূক্ষ্ম ব্রেসলেট, পায়ে স্ট্র্যাপি স্টিলেটো হিল—সব মিলিয়ে তাঁর সাজে ছিল আভিজাত্য, তবে ছিল না বাড়াবাড়ি।

তবে পোশাকের চেয়েও বেশি নজর কেড়েছে তাঁর স্বাভাবিক হাসি ও সাবলীল উপস্থিতি। ছবিটি প্রকাশের পরপরই ভক্তদের প্রশংসায় ভরে ওঠে মন্তব্যের ঘর।

ছবি>> সংগৃহীত

‘নিজের ভেতরের আলোকে নিভতে দিও না’

ছবির সঙ্গে পূর্ণিমার লেখা ক্যাপশনও নজর কেড়েছে। জীবনের উত্থান-পতনকে আলোর সঙ্গে তুলনা করে অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘জীবনে উত্থান-পতন আসবেই। তবে নিজের ভেতরের ঝড়গুলোকে কখনোই তোমার বয়ে চলা আলোর চেয়ে বেশি উজ্জ্বল হতে দিও না।’

পূর্ণিমার এই কথার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন তাঁর ভক্ত-অনুসারীরাও। একজন মন্তব্য করেছেন, ‘ঝড় আসবেই; কিন্তু নিজের ভেতরের আলোটা যেন কখনো নিভে না যায়, এটাই জীবনের আসল শক্তি।’

আরেকজন লিখেছেন, ‘ঠিক বলেছেন, জীবনে যা কিছু হোক থেমে থাকা যাবে না।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্যগুলোই যেন বলে দেয়, পূর্ণিমার সঙ্গে দর্শকের সম্পর্ক কেবল তাঁর অভিনীত চরিত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্কের ধরন বদলেছে, কিন্তু ভালোবাসা ও আগ্রহ এখনো রয়ে গেছে।

১৭ বছর বয়সে চলচ্চিত্রে অভিষেক

মাত্র ১৭ বছর বয়সে বড় পর্দায় অভিষেক হয় পূর্ণিমার। জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘এ জীবন তোমার আমার’ সিনেমার মাধ্যমে নায়িকা হিসেবে যাত্রা শুরু করেন তিনি। প্রথম সিনেমাতেই তাঁর সহশিল্পী ছিলেন রিয়াজ।

অভিষেকের পর থেকেই দর্শকের নজরে আসেন পূর্ণিমা। এরপর একের পর এক সিনেমায় অভিনয় করে ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান শক্ত করেন তিনি। মান্না, ফেরদৌস, আমিন খান, শাকিল খান থেকে শুরু করে শাকিব খানের মতো জনপ্রিয় নায়কদের সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন এই অভিনেত্রী।

রিয়াজ-পূর্ণিমা জুটির আলাদা জনপ্রিয়তা

ঢালিউডে বেশ কিছু জনপ্রিয় জুটির মধ্যে রিয়াজ-পূর্ণিমা জুটির গ্রহণযোগ্যতা ছিল আলাদা। ‘মনের মাঝে তুমি’, ‘হৃদয়ের কথা’, ‘আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা’সহ বেশ কিছু সিনেমায় তাঁদের রসায়ন দর্শকের প্রশংসা পায়।

বিশেষ করে ‘মনের মাঝে তুমি’ সিনেমাটি বাণিজ্যিক সাফল্যের পাশাপাশি দর্শকের মনে দীর্ঘস্থায়ী জায়গা করে নেয়। সিনেমাটির জনপ্রিয়তা রিয়াজ-পূর্ণিমা জুটিকেও আরও শক্ত অবস্থান এনে দেয়।

ছবি>> সংগৃহীত

ছোট পর্দাতেও ছিল সফল উপস্থিতি

শুধু চলচ্চিত্র নয়, ছোটবেলা থেকেই নাচ ও গানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন পূর্ণিমা। ক্যারিয়ারের ব্যস্ত সময়েও টেলিভিশন নাটক ও টেলিফিল্মে অভিনয় করেছেন তিনি।

‘লাল নীল বেগুনী’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে টেলিভিশন দর্শকের কাছেও পরিচিতি পান এই অভিনেত্রী। এরপর ‘ল্যাবরেটরি’, ‘নিলিমার প্রান্তে’, ‘অমানিশা’, ‘শঙ্খচিল’, ‘লাভ অ্যান্ড কোং’সহ বেশ কিছু নাটক ও টেলিফিল্মে অভিনয় করেছেন।

অভিনয়ের পাশাপাশি বিজ্ঞাপনেও ছিল তাঁর সরব উপস্থিতি। গ্রামীণফোন, সিটিসেল, মেরিল বেবি লোশন, বার্জার ঝিলিকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনে দেখা গেছে তাঁকে।

অভিনয়ের স্বীকৃতিও মিলেছে

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে দর্শকের ভালোবাসার পাশাপাশি বিভিন্ন স্বীকৃতিও পেয়েছেন পূর্ণিমা। কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘ওরা আমাকে ভালো হতে দিল না’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য ২০১০ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন তিনি।

এ ছাড়া ‘মনের মাঝে তুমি’ ও ‘হৃদয়ের কথা’ সিনেমার জন্য মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারও পেয়েছেন এই অভিনেত্রী।

ছবি>> সংগৃহীত

পর্দায় অনিয়মিত, আলোচনায় নিয়মিত

বর্তমানে চলচ্চিত্রে নিয়মিত নন পূর্ণিমা। তবে অভিনয় থেকে পুরোপুরি দূরে সরে যাননি তিনি। তাঁর অভিনীত ‘জ্যাম’ ও ‘গাঙচিল’ সিনেমা দুটি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। সিনেমা দুটিতে তাঁর সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন ফেরদৌস ও আরেফিন শুভ।

বড় পর্দায় নিয়মিত দেখা না গেলেও টেলিভিশনে মাঝেমধ্যে হাজির হন পূর্ণিমা। কখনো উপস্থাপনায়, কখনো কোনো অনুষ্ঠানের বিচারকের আসনে দেখা যায় তাঁকে। বিজ্ঞাপনেও রয়েছে তাঁর উপস্থিতি।

সময় বদলেছে, মুগ্ধতা নয়

পূর্ণিমার ক্যারিয়ারের গল্পটা যেন সময়ের সঙ্গে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের গল্প। ১৭ বছরের তরুণী থেকে আজকের পরিণত অভিনেত্রী—দীর্ঘ এই পথচলায় বদলেছে বয়স, বদলেছে সময়, বদলেছে চলচ্চিত্রের পরিবেশও।

তবে দর্শকের চোখে পূর্ণিমার সেই মুগ্ধতা এখনো অটুট। নতুন প্রজন্মের অনেক তারকা নিয়মিত পর্দায় থাকলেও পূর্ণিমা অনিয়মিত হয়েও আলোচনায় থাকেন।

ছবি>> সংগৃহীত

সময়ের সঙ্গে তাঁর জীবনে যোগ হয়েছে অনেক বছর, কিন্তু দর্শকের ভালোবাসা কিংবা সৌন্দর্যের দীপ্তিতে যেন তার প্রভাব পড়েনি। তাই পূর্ণিমার ক্ষেত্রে বয়স হয়তো সত্যিই শুধুই একটি সংখ্যা—যে সংখ্যা তাঁর মুগ্ধতাকে মাপতে পারে না।

কালের আলো/জেএন

সিনেমার ব্যস্ততা ছেড়ে মালদ্বীপের নীল জলে নয়নতারা

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৪৬ অপরাহ্ণ
সিনেমার ব্যস্ততা ছেড়ে মালদ্বীপের নীল জলে নয়নতারা

দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী নয়নতারা। দীর্ঘদিন ধরেই একের পর এক সিনেমার কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। তবে এবার সেই ব্যস্ততা থেকে কিছুটা বিরতি নিয়ে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাচ্ছেন এই অভিনেত্রী। বর্তমানে মালদ্বীপের মনোরম সমুদ্রসৈকতে অবকাশযাপন করছেন নয়নতারা। নীল সমুদ্র, সাদা বালুর সৈকত আর রোদেলা আবহে বেশ স্বচ্ছন্দ সময় কাটাতে দেখা যাচ্ছে তাকে।

সিনেমার শুটিং ও পেশাগত ব্যস্ততার বাইরে পাওয়া এই সময়টুকু নিজের মতো করেই উপভোগ করছেন অভিনেত্রী। সমুদ্রসৈকতে ঘোরাঘুরি, রোদ পোহানো এবং সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি অবকাশযাপনের কিছু মুহূর্ত ভক্তদের সঙ্গেও ভাগ করে নিয়েছেন তিনি।

ছবি<< সংগৃহীত

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে মালদ্বীপে কাটানো সময়ের বেশ কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেন নয়নতারা। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) শেয়ার করা ছবিগুলো প্রকাশের পরপরই তা ভক্ত-অনুরাগীদের নজর কাড়ে। ছবিগুলোতে রোদেলা দিনে সৈকতের বালুবেলায় হালকা হলুদ রঙের পোশাকে হেঁটে বেড়াতে দেখা যায় তাকে।

ছবি<< সংগৃহীত

নয়নতারার এই অবকাশযাপনের লুকেও ছিল বেশ স্বচ্ছন্দ ও স্টাইলিশ ছোঁয়া। চোখে সানগ্লাস, মাথায় টুপি এবং পরনে হালকা রঙের পোশাক—সব মিলিয়ে একেবারে রিল্যাক্সড মুডে ধরা দিয়েছেন তিনি। পেছনে নীল সমুদ্র আর চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ছবিগুলোকে দিয়েছে আরও আকর্ষণীয় আবহ।

ছবি<< সংগৃহীত

ছবিগুলোর লোকেশন হিসেবে মালদ্বীপের ফারি দ্বীপপুঞ্জের উত্তর মালে অ্যাটলে অবস্থিত বিলাসবহুল রিসোর্ট পাতিনা মালদ্বীপকে ট্যাগ করেছেন নয়নতারা। সমুদ্রসৈকতের মনোরম পরিবেশে অভিনেত্রীর অবকাশযাপনের এসব ছবি প্রকাশের পর তার ভক্তদের মধ্যেও দেখা গেছে ব্যাপক আগ্রহ।

ছবি<< সংগৃহীত

তবে শুধু অবকাশযাপন নয়, কাজের জগতেও আলোচনায় রয়েছেন নয়নতারা। সম্প্রতি তাকে বড়পর্দায় দেখা গেছে ‘হাই’ সিনেমায়। বিষ্ণু এদাভান পরিচালিত রোমান্টিক কমেডি ঘরানার এই সিনেমায় দেবায়ানি চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন কাভিন।

সিনেমাটিতে ময়িল ও দেবায়ানি—সম্পূর্ণ ভিন্ন দুই চরিত্রের জীবন ও তাদের নানা জটিলতার মধ্য দিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠার গল্প তুলে ধরা হয়েছে। বিশৃঙ্খলা, মিথ্যা ও নানা নাটকীয় মোড়ের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে কাহিনি।

চলচ্চিত্রবোদ্ধাদের আলোচনায় উঠে এসেছে, সিনেমাটি গতানুগতিক রোমান্টিক গল্পের বাইরে খুব নতুন কিছু উপস্থাপন না করলেও এর নাটকীয়তা ও গল্পের বিভিন্ন জটিলতা দর্শকদের বিনোদন দিয়েছে। সিনেমায় নয়নতারার অভিনয়ও দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে।

এদিকে সিনেমার পর্দায় ব্যস্ততার পাশাপাশি ব্যক্তিগত অবকাশের মুহূর্তও ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন অভিনেত্রী। মালদ্বীপের সৈকতে তার রোদেলা দিনের ছবিগুলো তাই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সমুদ্রের নীল জল আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে নয়নতারার এই স্বচ্ছন্দ উপস্থিতি ইতোমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে প্রশংসা পাচ্ছে।

কালের আলো/এসএ