খুঁজুন
                               
, ,
           

আজকের সঞ্চয়ে আগামী দিনের নিশ্চয়তা, সর্বজনীন পেনশনে প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের জোর

নিজস্ব ও ময়মনসিংহ প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ
আজকের সঞ্চয়ে আগামী দিনের নিশ্চয়তা, সর্বজনীন পেনশনে প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের জোর

অবসরের পর কী হবে—এই অনিশ্চয়তাকে কর্মজীবনের শেষ প্রান্তে গিয়ে নয়, কর্মক্ষম থাকতেই মোকাবিলার বার্তা দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি। তাঁর বক্তব্যে সর্বজনীন পেনশন উঠে এসেছে কেবলমাত্র মাসিক আর্থিক সুবিধার কাঠামো হিসেবে নয়, বরং কর্মজীবনের সঞ্চয়কে জীবনের পরবর্তী নিরাপত্তায় রূপ দেওয়ার একটি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক বিনিয়োগ হিসেবে। অর্থাৎ আজকের নিয়মিত অবদানই হতে পারে আগামী দিনের আর্থিক ভরসা।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজ মাঠে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় আয়োজিত ময়মনসিংহ বিভাগীয় সর্বজনীন পেনশন মেলা ২০২৬ উপলক্ষে মতবিনিময় সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। একই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মর্যাদাপূর্ণ ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ বলেছেন, কর্মজীবন শেষে অধিকাংশ চাকরিজীবী ও পেশাজীবীর ভবিষ্যৎ নিরাপত্তায় রাষ্ট্রীয়ভাবে তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই।

  • কর্মজীবনেই ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার প্রস্তুতির আহ্বান ইয়াসের খান চৌধুরীর
  • রাষ্ট্রীয়ভাবে সর্বজনীন পেনশনকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা বললেন আবু ওয়াহাব আকন্দ

প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী যেখানে কর্মক্ষম সময়ে নিয়মিত অবদানের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ সুরক্ষার কথা বলেছেন তেমনি সদর আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ সর্বজনীন পেনশনকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। দুই বক্তব্যের মধ্যে একটি অভিন্ন জায়গা রয়েছে—ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কোনো আকস্মিক সুবিধা নয়। এটি পরিকল্পিতভাবে তৈরি করতে হয়। আর সেই পরিকল্পনায় ব্যক্তি, পরিবার এবং রাষ্ট্র—তিন পক্ষের অংশগ্রহণ যত সুসংহত হবে, সর্বজনীন পেনশনের সামাজিক গুরুত্বও তত গভীর হবে।

অবসর নয়, ভবিষ্যৎকে ঘিরেই পরিকল্পনা

তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা শুধু অবসরকালীন একটি আর্থিক সুবিধা নয়; এটি মানুষের ভবিষ্যৎকে নিরাপদ করার একটি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা। কর্মক্ষম থাকা অবস্থায় একজন নাগরিক নিয়মিত অবদান রাখবেন এবং জীবনের পরবর্তী সময়ে সেই সঞ্চয়ের ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা পাবেন। এই বক্তব্যের তাৎপর্য এখানেই—পেনশনকে তিনি কর্মজীবন-পরবর্তী প্রাপ্তি হিসেবে সীমাবদ্ধ রাখেননি; বরং কর্মজীবনের পরিকল্পনার সঙ্গেই যুক্ত করেছেন। ফলে সর্বজনীন পেনশনের মূল দর্শন দাঁড়াচ্ছে আগাম প্রস্তুতি, নিয়মিত অবদান এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তার সমন্বয়ে।

চার স্কিমে অংশগ্রহণের সুযোগ

ইয়াসের খান চৌধুরী জানান, সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় রয়েছে প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা—চারটি স্কিম। যে নাগরিকের জন্য যে স্কিম প্রযোজ্য, তিনি সে অনুযায়ী তা বেছে নিতে পারবেন। প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—এই ব্যবস্থার সুবিধা কেবল ব্যক্তিকে ঘিরে নয়। এর মাধ্যমে নিজের ভবিষ্যতের পাশাপাশি সন্তানের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করার সুযোগও রয়েছে। অর্থাৎ পেনশনকে তিনি ব্যক্তি থেকে পরিবার এবং পরিবার থেকে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক নিরাপত্তার বৃহত্তর পরিসরে দেখেছেন।

‘নিজের জন্য’ থেকে ‘পরিবারের জন্য’

সর্বজনীন পেনশনের পরিধি বাড়াতে পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদেরও সরকারি পেনশন স্কিমে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, একটি সুন্দর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য এবং নিজের পরিবারের নিরাপত্তার জন্য এটি খুব জরুরি। এই আহ্বানের মধ্যে কেবল সদস্যসংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্য নয়, বরং আর্থিক নিরাপত্তার সংস্কৃতি গড়ে তোলার একটি বার্তা রয়েছে। কর্মজীবনে নিয়মিত সঞ্চয় এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে পারিবারিক সিদ্ধান্তে পরিণত করতে পারলে দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব ব্যক্তিগত গণ্ডি ছাড়িয়ে সামাজিক পর্যায়েও পৌঁছাতে পারে।

পেনশন ব্যবস্থার ‘রাষ্ট্রীয়’ গুরুত্ব

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ সর্বজনীন পেনশনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে আনেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্র কাঠামোর মধ্যে অধিকাংশ চাকরিজীবী ও বিভিন্ন পেশার মানুষের কর্মজীবন শেষে পেনশনসহ ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কিছু ক্ষেত্রে কর্মী ও প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে অংশগ্রহণ করলেও রাষ্ট্রীয়ভাবে সর্বজনীন পেনশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যবস্থা—এমন মন্তব্য করেন তিনি। এ বক্তব্য মূলত সর্বজনীন পেনশনের রাষ্ট্রীয় গুরুত্বকে সামনে এনেছে। কারণ কর্মজীবন শেষে আয় কমে যাওয়া বা বন্ধ হয়ে যাওয়ার বাস্তবতায় একটি প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তা কাঠামো নাগরিকের আর্থিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আবু ওয়াহাব আকন্দের বক্তব্যে সেই রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের বিষয়টিই স্পষ্ট হয়েছে।

অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আজাদ জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অর্থ বিভাগের যুগ্ম সচিব শরীফ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ময়মনসিংহ শাখার নির্বাহী পরিচালক আরিফুজ্জামান। মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মোঃ সুরাতুজ্জামান। অর্থ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতি এ আয়োজনকে শুধু প্রচারমূলক কর্মসূচি নয়, নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত একটি সমন্বিত উদ্যোগ হিসেবেও সামনে এনেছে।

অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস), বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, ব্যাংক ও জাতীয় পেনশন স্কিমের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

আলোচনা সভার আগে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে বের করা হয় বর্ণাঢ্য র‌্যালি। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে র‌্যালিটি সার্কিট হাউজ মাঠে মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। র‌্যালি ও মেলার আয়োজনের মধ্য দিয়ে সর্বজনীন পেনশন সম্পর্কে মাঠপর্যায়ে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি নাগরিকদের সরাসরি সম্পৃক্ত করার উদ্যোগও দৃশ্যমান হয়েছে।

কালের আলো/আরআই/এমকে

শিশুদের সরল প্রশ্নে অকপট প্রধানমন্ত্রী ফিরলেন শৈশবে

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৪ অপরাহ্ণ
শিশুদের সরল প্রশ্নে অকপট প্রধানমন্ত্রী ফিরলেন শৈশবে

একটি শিশু নিজের নাম বলল—‘জাইমা’। মুহূর্তেই বদলে গেল অনুষ্ঠানের আবহ। মেয়ের নামের সঙ্গে মিল পেয়ে মুচকি হাসলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বললেন, ‘তাই নাকি! এতক্ষণ তুমি বলো নাই কেন? থ্যাংক ইউ, নাম বলার জন্য।’ চারপাশে তখন শিশুদের উচ্ছ্বসিত করতালি। এরপর আর কোনো কঠিন প্রটোকল যেন থাকল না। প্রধানমন্ত্রীর সামনে থাকা শিশুরা একের পর এক প্রশ্ন করতে শুরু করল। আর তিনি উত্তর দিতে দিতে ফিরে গেলেন নিজের শৈশবে—বললেন সুন্দরবনের কথা, রয়েল বেঙ্গল টাইগারের তাজা থাবার ছাপ দেখার বিস্ময়ের কথা। জানালেন, ছোটবেলায় বড় কোনো স্বপ্ন ছিল না; ভাবতেন, বড় হয়ে দুনিয়ার সব খেলনা কিনে নেবেন।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এমনই আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ১৫০ শিশুর উষ্ণ অভ্যর্থনা, প্রশ্নের সরলতা আর প্রধানমন্ত্রীর অকপট জবাব মিলিয়ে তৈরি হয় এক মানবিক দৃশ্যপট। আর সেই আবহেই উঠে আসে শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা ও প্রত্যাশার কথাও।

  • শিশুদের হাসি-প্রশ্নে বদলে গেল আয়োজন
  • সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার থেকে ‘দুনিয়ার সব খেলনা’
  • নিজের গল্পের ফাঁকে শিশুদের দিলেন আত্মবিশ্বাসী মানুষ হওয়ার পাঠ

‘শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত’

এই আয়োজনের প্রতিপাদ্য—‘শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত’। কিন্তু নিরাপদ শৈশবের ধারণাকে শুধু নিরাপত্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে এসেছে শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি, প্রযুক্তি, পরিবেশ এবং মানবিক মূল্যবোধ—একটি শিশুর পূর্ণাঙ্গ বিকাশের প্রায় সব অনুষঙ্গই। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে পৌঁছালে ১৫০ শিশু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বরণ করে নেয়। এরপর সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা। প্রধানমন্ত্রী অন্যান্য অতিথির সঙ্গে আসন গ্রহণ করে শিশুদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান। সাংস্কৃতিক পরিবেশনা শেষে প্রধানমন্ত্রী শিশুদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং ফটোসেশনে অংশ নেন। পরে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যুক্ত হওয়া শিশুদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন।

পড়ার টেবিলের বাইরেও শৈশব

অনুষ্ঠানে শিশুদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, শুধু পড়াশোনায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। খেলাধুলা, গান, কেরাত ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত হতে হবে। তাঁর ভাষায়, ‘তোমরা যত সুন্দরভাবে ও কনফিডেন্টলি বড় হবে, বাংলাদেশও তত কনফিডেন্ট হিসেবে গড়ে উঠবে।’

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে শিশুদের ব্যক্তিগত বিকাশের সঙ্গে দেশের ভবিষ্যৎকে এক সুতোয় বাঁধার চেষ্টা স্পষ্ট। আত্মবিশ্বাসী শিশু মানেই আত্মবিশ্বাসী প্রজন্ম—আর সেই প্রজন্মই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ নির্মাণ করবে, এমন প্রত্যাশাই তাঁর বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়েছে। শুধু দক্ষতা নয়, মূল্যবোধের ওপরও জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। শিশুদের সব প্রাণীর প্রতি সদয় হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ ও প্রকৃতির যত্ন নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর বার্তা ছিল সরল—জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি সহমর্মিতা না থাকলে মানুষের পূর্ণ বিকাশ সম্ভব নয়।

এক প্রশ্নে খুলে গেল শৈশবের দরজা

প্রশ্নোত্তর পর্বে শিশুদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রাণ এনে দেয়। ঢাকা, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, রাজবাড়ী, টাঙ্গাইল, দিনাজপুর, খাগড়াছড়ি, খুলনা ও সিলেটসহ বিভিন্ন জেলার শিশুরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্ত হয়। এক পর্যায়ে এক শিশু বলে, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমার নাম জাইমা।’ নিজের মেয়ের নামের সঙ্গে মিল থাকায় প্রধানমন্ত্রী মুচকি হেসে বলেন, ‘তাই নাকি! এতক্ষণ তুমি বলো নাই কেন? থ্যাংক ইউ, নাম বলার জন্য।’ তাঁর এই স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়ায় অনুষ্ঠানস্থল করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে।

এরপর এক শিশু জানতে চায়, জাইমা রহমান অনুষ্ঠানে কেন আসেননি। জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের বাইরে থাকায় তাঁর মেয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি। আরেক শিশুর প্রশ্নে নিজের ছোটবেলার স্মৃতি তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, বাবার ব্যস্ততার কারণে শৈশবে বাইরে ঘোরার সুযোগ খুব বেশি হয়নি। তবে বাবা-মা ও ছোট ভাইকে নিয়ে একবার তিন দিনের জন্য সুন্দরবনে গিয়েছিলেন।

হিরণ পয়েন্টে নরম কাদার মধ্যে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের তাজা থাবার ছাপ নিজের চোখে দেখার স্মৃতি এখনও তাঁর মনে ভাসে বলে জানান তিনি। শৈশবের স্বপ্ন জানতে চাইলে হাসতে হাসতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তখন আসলে কোনো স্বপ্ন দেখতাম না। ভাবতাম বড় হয়ে দুনিয়ার সব খেলনা কিনে নেব।’ নিজের শিক্ষাজীবনের কথাও শিশুদের জানান তিনি। বলেন, তিনি শাহীন স্কুল ও ল্যাবরেটরি স্কুলে পড়ালেখা করেছেন।

প্রযুক্তি—বন্ধ নয়, সঠিক ব্যবহারের পাঠ

শিশুদের ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রশ্নেও নিষেধের বদলে দায়িত্বশীলতার বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। পড়াশোনা, বিজ্ঞান মেলা কিংবা খেলাধুলার তথ্য জানতে প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহ দেন তিনি। তবে গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাদ দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ সময় কাটানো ঠিক নয় বলে সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর—প্রযুক্তি যেন শিশুর সময় কেড়ে না নেয়; বরং জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের পথ খুলে দেয়। ডিজিটাল বাস্তবতায় বেড়ে ওঠা শিশুদের জন্য এই বার্তার গুরুত্বও কম নয়। প্রযুক্তি থেকে বিচ্ছিন্নতা নয়, বরং প্রযুক্তির ইতিবাচক ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তোলাকেই তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।

‘নতুন কুঁড়ি’ থেকে উন্মুক্ত মাঠ

অনুষ্ঠানে শিশুদের প্রতিভা বিকাশে শহর-গ্রামের বৈষম্য কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শুরু করা ‘নতুন কুঁড়ি’ কর্মসূচির মতো উদ্যোগ আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা জানান তিনি। প্রতিটি এলাকায় স্টেডিয়াম নির্মাণ ব্যয়বহুল হলেও ইউনিয়ন ও উপজেলায় শিশুদের খেলাধুলা এবং বয়স্কদের হাঁটার জন্য উন্মুক্ত স্থান তৈরির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

সুবিধাবঞ্চিত এবং শারীরিক-মানসিক প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি শিশুদের শিক্ষা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিজ্ঞান, গণিত ও খেলাধুলায় শিশুদের অংশগ্রহণ বাড়াতেও সরকারের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।

‘শৈশব’ স্মরণিকা, ছবি গ্যালারি ও সোলার প্যানেল

শিশুদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়। শিশু অধিকার দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত বিশেষ স্মরণিকা ‘শৈশব’-এর মোড়ক উন্মোচন করেন তিনি। পরে শিশু জাদুঘর ভবনে শিশুদের আঁকা ছবি ও ফটো গ্যালারি পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। একই ভবনের নিচতলায় স্থাপিত সোলার প্যানেল ও সাব-স্টেশনের উদ্বোধনও করেন তিনি। এই আয়োজনের শেষভাগে যেন পাশাপাশি দাঁড়ায় দুটি ছবি—একদিকে শিশুদের আঁকা ভবিষ্যতের স্বপ্ন, অন্যদিকে সেই ভবিষ্যৎকে বাস্তব অবকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ।

কালের আলো/এএএএমকে

ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ১০ জনের মৃত্যু, নতুন ভর্তি ১,৯৯৬

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:০১ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ১০ জনের মৃত্যু, নতুন ভর্তি ১,৯৯৬

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সারা দেশে নতুন করে ১ হাজার ৯৯৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ২০৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৫২ জন, ঢাকা বিভাগের (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৪৮০ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২৯৪ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৮৭ জন রয়েছেন।

এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ৩০২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৯৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৯৯ জন, রংপুর বিভাগে ৭৫ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৬ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ৯০ হাজার ৩৫৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৮৪ হাজার ২৯৯ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ৯৬৪ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮১ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, ২০২৫ সালে দেশে মোট ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হন এবং ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়। ২০২৪ সালে আক্রান্ত হন ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন, মৃত্যু হয় ৫৭৫ জনের।

এর আগে ২০২৩ সালে দেশে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়। ওই বছর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন মোট ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া বিভাগের নতুন এআইজি কামারুম মুনিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫২ অপরাহ্ণ
পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া বিভাগের নতুন এআইজি কামারুম মুনিরা

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস) পদে যোগদান করেছেন কামারুম মুনিরা।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) পুলিশ সদর দপ্তরের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কামারুম মুনিরা ঢাকায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস) পদে যোগদান করেছেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগ পুলিশের বিভিন্ন কার্যক্রম, সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, গণমাধ্যমে তথ্য সরবরাহ এবং পুলিশের সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

নতুন দায়িত্বে কামারুম মুনিরা এ বিভাগের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি