খুঁজুন
                               
, ,
           

ঢাকা-জাকার্তা সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালুর সম্ভাবনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৬ অপরাহ্ণ
ঢাকা-জাকার্তা সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালুর সম্ভাবনা

বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদারে ঢাকা-জাকার্তার মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচলের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার প্রস্তাব এসেছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবগামী ইন্দোনেশীয় যাত্রীদের জন্য ঢাকাকে সম্ভাব্য ট্রানজিট হাব হিসেবে ব্যবহারের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপমন্ত্রী আনিস মাত্তা। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার বিদ্যমান সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। ইন্দোনেশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশ বাড়াতে দেশটির আরও বেশি পণ্য আমদানির জন্য আহ্বান জানান তিনি।

দুই দেশের নারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেন বাংলাদেশের প্রতিমন্ত্রী। তাঁর এ প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে ইন্দোনেশিয়ার উপমন্ত্রী প্রচলিত ব্যবসায়িক সম্পর্কের বাইরে বৃহত্তর অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

দুই দেশের যোগাযোগব্যবস্থা আরও সহজ করার বিষয়ে আনিস মাত্তা ঢাকা ও জাকার্তার মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচলের সম্ভাবনা যাচাইয়ের আহ্বান জানান। পাশাপাশি সৌদি আরবগামী ইন্দোনেশীয় যাত্রীদের জন্য ঢাকাকে সম্ভাব্য ট্রানজিট হাব হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনার আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।

বৈঠকে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান শামা ওবায়েদ। শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ খাতেও সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইন্দোনেশীয় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুযোগ তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইন্দোনেশীয় শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেওয়ার কথা তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপমন্ত্রী আনিস মাত্তা সরকারি সফরে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। বৃহস্পতিবারই তাঁর ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ, জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতে জোর ড.মঈন খানের

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৮ অপরাহ্ণ
নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ, জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতে জোর ড.মঈন খানের

রাজনীতির মূল লক্ষ্য ক্ষমতা অর্জন নয়, বরং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা—এমন অবস্থানের কথা তুলে ধরেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তাঁর মতে, গণতন্ত্রকে কার্যকর ও শক্তিশালী করতে হলে তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। নির্বাচনে অর্থের প্রভাব কমিয়ে জনসেবার আদর্শকে প্রাধান্য দেওয়াও এ ক্ষেত্রে জরুরি।

শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) রাজধানীর গুলশানে নিজের বাসভবনের অফিসকক্ষে ‘জাতীয় শিক্ষক দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে দ্য মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটির শিক্ষকদের সঙ্গে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। অনুষ্ঠানে খান ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইট উদ্বোধন করা হয়।

  • নির্দলীয় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পক্ষে মত
  • দলীয় বিভাজন ও পারস্পরিক বিদ্বেষ কমিয়ে জনকল্যাণে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

রাজনীতির কেন্দ্রে থাকুক জনসেবা
ড. আবদুল মঈন খান বলেন, জনগণের প্রতিনিধি হতে পারা অত্যন্ত সৌভাগ্যের বিষয়। প্রায় ৩৫ বছর ধরে তিনি একই আদর্শে রাজনীতি করার চেষ্টা করছেন। নির্বাচনে ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয় কিংবা আপ্যায়নের মাধ্যমে ভোট চাওয়ার পরিবর্তে মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জনকেই তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।

তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধির যেমন জনগণের কাছে জবাবদিহি রয়েছে, তেমনি সঠিক প্রতিনিধি নির্বাচনের দায়িত্বও জনগণের। নির্বাচনে জয়ী হতে বিপুল অর্থ ব্যয়ের প্রবণতা পরিবর্তন করতে হবে। জনগণের সেবা করার আদর্শ ছাড়া রাজনীতি সঠিক পথে পরিচালিত হতে পারে না।

তৃণমূলের গণতন্ত্রই জাতীয় ব্যবস্থার ভিত্তি
স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে জাতীয় পর্যায়েও গণতন্ত্র কার্যকর করা সম্ভব নয়। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার, জনগণের সেবা নিশ্চিত করা এবং পাঁচটি স্তরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন তাঁর সামনে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

ভোটাধিকার প্রয়োগের পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, মানুষ যেন নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ নির্বাচনের আয়োজনের পাশাপাশি ভোটারের স্বাধীন সিদ্ধান্ত ও জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের অধিকার সুরক্ষিত রাখাও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।

নির্দলীয় নির্বাচনে বিভাজন কমানোর প্রত্যাশা
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় ভিত্তিতে আয়োজনের পক্ষে মত দেন ড. আবদুল মঈন খান। তাঁর মতে, এ ধরনের নির্বাচন স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় বিভাজন ও পারস্পরিক বিদ্বেষ কমানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে সবাইকে দলীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হবে। এই বক্তব্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেবল জনপ্রতিনিধি বাছাইয়ের প্রক্রিয়া হিসেবে নয়, বরং স্থানীয় পর্যায়ে সহযোগিতা ও সামাজিক সংহতি জোরদারের ক্ষেত্র হিসেবেও দেখার গুরুত্ব উঠে আসে।

উন্নয়ন কার্যক্রমে সরকার-এনজিও সমন্বয়ের তাগিদ
দারিদ্র্য বিমোচন, জীবনমান উন্নয়ন ও সামাজিক অগ্রগতিতে বাংলাদেশের এনজিওগুলোর অবদানের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সরকার ও এনজিওগুলোর লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা। এ জন্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও এনজিওগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে হবে।

দ্য মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজ ও খান ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট রোখসানা খন্দকার বলেন, এনজিও পরিচালনায় দাতাদের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল না থেকে নিজস্ব সক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা বজায় রাখা প্রয়োজন। অর্থায়ন কমে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্থানীয় সম্পদের ব্যবহার এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা বাড়াতে হবে। সরকারি খাসজমি ও পুকুরসহ স্থানীয় সম্পদ কাজে লাগিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আলোচনা সভায় দ্য মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. অভিনয় চন্দ্র সাহা, খান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মাহমুদা খাতুন, বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং খান ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

সুস্থ তারুণ্য গড়ার ঠিকানা হোক খেলার মাঠ

নিজস্ব প্রতিবেদক/ময়মনসিংহ প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৩ অপরাহ্ণ
সুস্থ তারুণ্য গড়ার ঠিকানা হোক খেলার মাঠ

মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই, অপরাধমুক্ত সমাজ গঠন আর তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ পথে এগিয়ে নেওয়া—এই তিন লক্ষ্য অর্জনে খেলার মাঠকে কার্যকর শক্তি হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি। তাঁর মতে, তরুণদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে হলে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে হবে। ক্রীড়াচর্চা ছড়িয়ে দিতে পারলে শারীরিক ও মানসিকভাবে সক্ষম প্রজন্ম গড়ে তোলার পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি ও ঐক্যও সুদৃঢ় হবে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার খারুয়া বনগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে মরহুম আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

  • মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে ক্রীড়াচর্চা বাড়ানোর আহ্বান তথ্য প্রতিমন্ত্রীর
  • শারীরিক সক্ষমতা ও মানসিক দৃঢ়তা তৈরিতে খেলাধুলার গুরুত্ব

মাদকমুক্ত সমাজের পথ খেলার মাঠ
তরুণদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘খেলাধুলার মাধ্যমেই মাদক মুক্ত সমাজ গঠন সম্ভব। সবার আগে বাংলাদেশ গড়তে এবং দেশের যুব সমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দুরে রাখতে খেলাধুলার প্রতি আকৃষ্ট করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘খেলাধুলার সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমেই একটি সুন্দর সুস্থ ও মাদক মুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।’

প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল বার্তা হলো, তরুণদের শুধু মাদক ও অপরাধের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করাই যথেষ্ট নয়; তাদের জন্য ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের সুযোগও তৈরি করতে হবে। নিয়মিত খেলাধুলা তরুণদের সময়ের সঠিক ব্যবহার, শৃঙ্খলা, অধ্যবসায় ও দলগত কাজের অভ্যাস গড়ে তুলতে পারে।

খেলাধুলায় গড়ে উঠবে সক্ষম প্রজন্ম
তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ক্রীড়াচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘খেলাধুলার বিকাশের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ, সক্ষম এবং যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। খেলাধূলা একটি জাতিকে মানসিকভাবে শক্তিশালী ও শারীরিকভাবে সক্ষম করে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’

মাঠের খেলা, সমাজের মেলবন্ধন
খেলাধুলার সামাজিক ভূমিকা ব্যাখ্যা করে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘খেলাধূলা কেবল খেলোয়াড়দের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না তার সঙ্গে দর্শক, আয়োজক, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষের সম্পৃক্ততা তৈরি হয়। ফলে এধরণের খেলাধূলার আয়োজন একটি মিলন মেলায় পরিণত হয় যা সামাজিক সম্প্রীতি ও ঐক্য জোরদারে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।’

নান্দাইলের এই আয়োজনে উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় যুবদল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখা ও সুস্থ সমাজ গঠনের যে লক্ষ্য প্রতিমন্ত্রী তুলে ধরেছেন, তা বাস্তবায়নে ক্রীড়াচর্চার সুযোগ বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। খেলার মাঠে তরুণদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেলে খেলাধুলা বিনোদনের গণ্ডি ছাড়িয়ে সামাজিক ইতিবাচক পরিবর্তনের শক্তি হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

কালের আলো/এমএএএমকে

সাফারি পার্কে লেমুর চুরির ঘটনায় তদন্ত চলছে: পরিবেশমন্ত্রী

গাজীপুর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
সাফারি পার্কে লেমুর চুরির ঘটনায় তদন্ত চলছে: পরিবেশমন্ত্রী

গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক থেকে দুটি লেমুর চুরির ঘটনায় তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ুমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। একই সঙ্গে পরিচর্যার অভাবে কোনো বন্যপ্রাণী যাতে মারা না যায়, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান ও সাফারি পার্ক পরিদর্শনকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, সাফারি পার্ক থেকে বন্যপ্রাণী চুরি হলে তা কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। আবার কোনো প্রাণী মারা গেলেও সেটিকে চুরির ঘটনা হিসেবে দাবি করা হচ্ছে। বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে বন্যপ্রাণীর যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে অবহেলার কারণে কোনো প্রাণীর মৃত্যু না ঘটে।

তিনি বলেন, সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া দুটি লেমুর কীভাবে বাংলাদেশে এসেছে, সে বিষয়ে তথ্য ছিল না। যাচাই-বাছাই করে দেখা গেছে, লেমুর দুটি দেশে আনার প্রক্রিয়াও অবৈধ ছিল। পরে সেগুলো পার্ক থেকে চুরি হয়। এ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্ব

মন্ত্রী বলেন, জাতীয় উদ্যান প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য পরিবেশ রক্ষা করা। পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মানুষের বিনোদনের সুযোগ তৈরি করাও এর সঙ্গে যুক্ত।

তিনি জানান, বর্তমানে জাতীয় উদ্যানে পিকনিক বন্ধ রয়েছে। উদ্যান পরিচালনার ক্ষেত্রে মাইক বাজানো, রান্না ও খাওয়াদাওয়ার মতো বিষয়গুলোতে ভারসাম্য আনার চেষ্টা করা হবে। যাতে মানুষ পরিবার ও সন্তানদের নিয়ে বিনোদনের সুযোগ পান, একই সঙ্গে পরিবেশ ও প্রতিবেশের সুরক্ষাও বজায় থাকে।

আবদুল আউয়াল মিন্টু আরও বলেন, গাজীপুর সাফারি পার্কের বিদ্যমান সমস্যাগুলো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পার্কে আরও বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, প্রধান বন সংরক্ষক আমির হোসাইন চৌধুরী, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. বশিরুল আল মামুন, সাফারি পার্কের প্রকল্প পরিচালক ইকবাল মাহমুদ চৌধুরী এবং সহকারী বন সংরক্ষক শামসুল আরেফিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি