খুঁজুন
                               
, ,
           

উন্নয়নে ৫০৩ উপজেলায় ভারসাম্য, সৌরবিদ্যুতে গ্রাম-শহরে নজর মন্ত্রীর

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩০ অপরাহ্ণ
উন্নয়নে ৫০৩ উপজেলায় ভারসাম্য, সৌরবিদ্যুতে গ্রাম-শহরে নজর মন্ত্রীর

দল-মত ও অঞ্চলনির্বিশেষে দেশের ৫০৩টি উপজেলার মানুষের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চায় সরকার। কোনো একটি অঞ্চলকে বিশেষ সুবিধা দিয়ে অন্য এলাকাকে বঞ্চিত না করে উন্নয়নের সুফল সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সমবায়ভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্প্রসারণ, গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা এবং সরকারি সেবার কার্যকারিতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, সৌরপ্যানেল স্থাপন ও সংশ্লিষ্ট সেবা ক্রয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ৩৯০ কোটি টাকা ছাড়ের কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সমবায় ভবনের মাল্টিপারপাস হলে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আয়োজনে ‘সমবায় সমিতির মাধ্যমে নগর ও পল্লী অঞ্চলে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে কর্মকৌশল নির্ধারণ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তাঁরা এসব কথা বলেন।

  • দল-মত ও অঞ্চলনির্বিশেষে সব এলাকার মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের তাগিদ
  • সৌরপ্যানেল স্থাপনে ৩৯০ কোটি টাকা ছাড়ের তথ্য প্রতিমন্ত্রীর
  • প্রায় আড়াই লাখ নিবন্ধিত সমিতির কার্যকারিতা নিশ্চিত ও সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান

উন্নয়নের কেন্দ্রে থাকবে সাধারণ মানুষ
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, দেশের ৫০৩টি উপজেলার উন্নয়নে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। কোনো একটি উপজেলার জন্য এমন সুবিধা দেওয়া উচিত হবে না, যা পাশের অন্য উপজেলার মানুষ পাবে না। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে সব এলাকার মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা সরকারের দায়িত্ব।

তাঁর বক্তব্যে উন্নয়ন পরিকল্পনায় আঞ্চলিক ভারসাম্য ও সর্বজনীন জনস্বার্থের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। দেশের সব এলাকায় সমান ধরনের উন্নয়ন প্রয়োজন না হলেও প্রতিটি অঞ্চলের মানুষের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। সে ক্ষেত্রে স্থানীয় চাহিদা, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হলে উন্নয়নের সুফল আরও বিস্তৃত হতে পারে। মন্ত্রী বলেন, সরকারের সব কর্মকাণ্ডের সুফল যেন সাধারণ মানুষ পায়, সেটিই জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তৃণমূলকেন্দ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নেও তাঁদের কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

সৌরবিদ্যুতে সংকট মোকাবিলার উদ্যোগ
প্রচলিত জ্বালানির উৎস সীমিত হয়ে আসায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, সৌরশক্তির যথাযথ ব্যবহার মানুষের কল্যাণে ভূমিকা রাখবে, ব্যয় সাশ্রয় করবে এবং জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে। সরকারের নির্ধারিত পরিকল্পনা ও লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশনাও দেন তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, অল্প কিছুদিনের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সামাজিক আন্দোলনে রূপ নেবে বলে তিনি আশাবাদী। ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠান ও হাটবাজারের ছাদে সৌরপ্যানেল স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের অধীন সমিতিগুলোর মাধ্যমেও সৌরপ্যানেল স্থাপন করা গেলে দেশের সাময়িক বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সহায়ক হবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সৌরপ্যানেল স্থাপন ও সহায়ক সেবা ক্রয়ের জন্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুকূলে ইতোমধ্যে ৩৯০ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে। গ্রামের মানুষকে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে উৎসাহিত করা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন তিনি।

আড়াই লাখ সমবায় সমিতিকে কাজে লাগানোর তাগিদ
দেশে বর্তমানে প্রায় আড়াই লাখ নিবন্ধিত সমবায় সমিতি রয়েছে উল্লেখ করে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, শুধু নিবন্ধিত সমিতির সংখ্যা বাড়ালেই হবে না; সেগুলোকে কার্যকর ও জনকল্যাণমুখী করে গড়ে তুলতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিজ নিজ এলাকায় সমিতিগুলোর কার্যক্রম যাচাই করে সেগুলোকে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।

সমবায় সমিতির নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করার ওপরও গুরুত্ব দেন মন্ত্রী, যাতে গ্রামের সাধারণ মানুষ সহজে সমিতি গঠন করে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন। সমবায়ের মাধ্যমে সম্মিলিত উদ্যোগকে কাজে লাগিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতি ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। পল্লী উন্নয়ন বোর্ডকে অধিদপ্তরে রূপান্তরের প্রস্তাবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনার আশ্বাসও দেন মন্ত্রী।

বেতন সমন্বয় নিয়ে সরকারের ভাবনা
সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও অবদানের স্বীকৃতি দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, তাঁরা কেবল চাকরিজীবী নন, দেশের ১৮ কোটি মানুষের সেবায় নিয়োজিত। তাঁদের কাজের যথাযথ মূল্যায়ন এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন-ভাতা সমন্বয়ের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করেছে। সীমিত সম্পদের কারণে একবারে সবকিছু বাস্তবায়ন সম্ভব না হলেও আগামী কয়েক বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।

মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিবছর সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন সমন্বয়ের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করেছেন বলেও জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, বিগত ১৫ বছরে বেতন বৃদ্ধি না হওয়ায় সরকারি কর্মচারীরা আর্থিক ও পারিবারিক জীবনে নানা সংকটের মুখে পড়েছেন। বর্তমান সরকার সেই দায়িত্ব বহন করতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে সবাইকে একসঙ্গে সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি। পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদের সভাপতিত্বে সভায় মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

ছয় শব্দের পোস্টে তোলপাড়, কী লিখলেন জামায়াত আমির?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৯ পূর্বাহ্ণ
ছয় শব্দের পোস্টে তোলপাড়, কী লিখলেন জামায়াত আমির?

বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা। সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা ২৩ মিনিটে দেওয়া সংক্ষিপ্ত পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘চোরের মন পুলিশ-পুলিশ। সাধু সাবধান।’

মাত্র ছয় শব্দের এই পোস্টে কাকে বা কোন বিষয়কে ইঙ্গিত করা হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু উল্লেখ করেননি জামায়াত আমির। ফলে পোস্টটির বক্তব্য ও সম্ভাব্য ইঙ্গিত নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

তুরস্ক সফর শেষে আলোচনায় জামায়াত আমির

সম্প্রতি তুরস্ক ও সৌদি আরব সফর শেষে দেশে ফিরেছেন ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর ফেসবুক টাইমলাইনে তুরস্ক সফর নিয়ে একাধিক পোস্টও দেখা গেছে। সেখানে তুরস্ক সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

জামায়াত আমিরের ভাষ্য অনুযায়ী, তুরস্ক সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের শিক্ষা, তৈরি পোশাক খাত এবং মক্কা প্যাক্টসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে।

রোববার সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি জানান, তুরস্কে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নেওয়ার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশকে তুলে ধরা।

বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় আলোচনার ওপর গুরুত্ব

সফর নিয়ে বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কোনো হামলাই বিশ্বের জন্য কল্যাণকর নয়। তাঁর মতে, আলোচনার মাধ্যমেই বিশ্বে শান্তি ফিরে আসা উচিত।

তুরস্ক সফরের সময় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও বৈঠকে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরার কথাও জানান তিনি।

৭ অক্টোবর তুরস্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন

গত ৭ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘সেকেন্ড ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন বাংলাদেশ স্টাডিজে’ প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিতে ঢাকা ছাড়েন ডা. শফিকুর রহমান।

তুরস্কে পৌঁছে ৮ অক্টোবর দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার অধ্যাপক ড. নুমান কুরতুলমুশের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। পরে ৯ অক্টোবর ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াত আমির।

তুরস্ক সফর ও সৌদি আরবে ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফেরার পর তাঁর দেওয়া নতুন ফেসবুক পোস্টটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে পোস্টে নির্দিষ্ট কাউকে লক্ষ্য করে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে কি না, তা তিনি স্পষ্ট করেননি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

দক্ষ কর্মীদের জন্য ইইউতে সুযোগ বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪০ পূর্বাহ্ণ
দক্ষ কর্মীদের জন্য ইইউতে সুযোগ বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

অভিবাসন ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করা, অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ এবং মানবপাচার ও অভিবাসী পাচার মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। একই সঙ্গে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মী ও পেশাজীবীদের জন্য ইউরোপে নিয়মিত অভিবাসনের সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ঢাকা।

সোমবার (১২ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ইইউর অভিবাসন ও স্বরাষ্ট্রবিষয়ক কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার উপস্থিত ছিলেন।

দক্ষ কর্মীদের জন্য সুযোগ বাড়ানোর তাগিদ

বৈঠকে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করার বিষয়ে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, নিয়মিত অভিবাসনকে উৎসাহিত করতে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মী ও পেশাজীবীদের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং এর সদস্য দেশগুলোর বাস্তবভিত্তিক, চাহিদানির্ভর ও কার্যকর কর্মী চলাচলের সুযোগ বা ‘মোবিলিটি করিডোর’ সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের মতে, দক্ষ কর্মীদের জন্য বৈধ ও নিয়মিত অভিবাসনের পথ সম্প্রসারিত হলে অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।

২০২৬-২০৩০ মেয়াদে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা

বৈঠকে শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসনবিষয়ক বৈশ্বিক চুক্তির লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকার ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (এনএপি) গ্রহণ করেছে।

এই কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ এবং নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসনের পরিবেশ তৈরিতে বাংলাদেশের অঙ্গীকার তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি অনিয়মিত অভিবাসনের পেছনে থাকা কারণগুলো মোকাবিলা করে বৈধ পথে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অনিয়মিত অভিবাসন মোকাবিলায় ইইউর উদ্যোগ

বৈঠকে ইইউ কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার ইউরোপীয় ইউনিয়নে অনিয়মিত অভিবাসন মোকাবিলায় ‘ইস্টার্ন করিডোর ইনিশিয়েটিভ’-এর কথা তুলে ধরেন। এ উদ্যোগের আওতায় অভিবাসনের উৎসদেশ, ট্রানজিট দেশ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ততার মাধ্যমে অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধে কাজ করার বিষয়টি আলোচনায় আসে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে। এর মধ্যে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি এবং অভিবাসনকেন্দ্রিক অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে কার্যক্রমের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়।

মানবপাচার ও অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে সমন্বিত উদ্যোগ

মানবপাচার ও অভিবাসী পাচার মোকাবিলায় দুই পক্ষের সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পায়। সংশ্লিষ্ট অপরাধী চক্রের কার্যক্রম প্রতিরোধের পাশাপাশি অনিয়মিত অভিবাসনের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো মোকাবিলার ওপর জোর দেয় বাংলাদেশ।

বৈঠকে উভয় পক্ষ অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে একমত হয়। আলোচনায় নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসনের সুযোগ তৈরি এবং অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করার গুরুত্ব উঠে আসে।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগেও অংশীদারত্ব বাড়ানোর আগ্রহ

অভিবাসন ইস্যুর পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের বহুমাত্রিক অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার আগ্রহের কথা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন।

বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলো নিয়ে নিয়মিত সংলাপ ও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে সম্মত হয়। অভিবাসন ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ—বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্ক আরও গভীর করার সম্ভাবনাও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

 

জ্বালানি ও সার খাতে আলজেরিয়ার সহযোগিতা চান শামা ওবায়েদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ
জ্বালানি ও সার খাতে আলজেরিয়ার সহযোগিতা চান শামা ওবায়েদ

বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য আলজেরিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

সোমবার (১২ অক্টোবর) ঢাকায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত আবদেলউহাব সাইদানি। এ সময় দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে জ্বালানি খাতের পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ওষুধ শিল্প, কৃষি, জলবায়ু পরিবর্তন, খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয় উঠে আসে।

বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সার খাতে সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন শামা ওবায়েদ। একই সঙ্গে তিনি আলজেরিয়ায় পরিবেশবান্ধব পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করতে পারে বলেও উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। এ ছাড়া খেলাধুলা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে অংশীদারত্ব বাড়ানোর আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রদূত আবদেলউহাব সাইদানি। তিনি জ্বালানি, ওষুধ শিল্প, জাহাজ নির্মাণ, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময়ের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বৈঠকে আলোচনার মধ্য দিয়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের সম্ভাবনা আরও গুরুত্ব পায়।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি