খুঁজুন
                               
, ,
           

সৌদির বিমানবন্দর এড়িয়ে চলার হুথি হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৩ অপরাহ্ণ
সৌদির বিমানবন্দর এড়িয়ে চলার হুথি হুঁশিয়ারি

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলার দাবি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। হামলার পরদিনই সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও আকাশসীমা এড়িয়ে চলতে বিমান সংস্থা, বিমানকর্মী ও আন্তর্জাতিক যাত্রীদের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রোববার ( ১১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত এক বার্তায় এ সতর্কতা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। মক্কা ও মদিনা ছাড়া সৌদি আরবের সব বিমানবন্দর তাদের সামরিক অভিযানের আওতায় রয়েছে বলেও জানিয়েছে গোষ্ঠীটি।

তবে হামলা, হতাহতের সংখ্যা এবং বিমানবন্দর বন্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও রয়টার্সের মূল প্রতিবেদন থেকে যাচাই করা প্রয়োজন।

হামলায় ১২ জন নিহতের দাবি

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার (১০ অক্টোবর) রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রকেট ও ড্রোন হামলায় ১২ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক ও দুই বাংলাদেশি ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের নাগরিক রয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে হামলাটিকে এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সৌদি আরবের মাটিতে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে হতাহতের সংখ্যা, নিহতদের পরিচয় এবং হামলার দায় সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

সৌদির বিমানবন্দর ও আকাশসীমা নিয়ে সতর্কতা

হুথিদের বার্তায় মক্কা ও মদিনা ছাড়া সৌদি আরবের অন্যান্য বিমানবন্দর এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। এমন হুঁশিয়ারি কার্যকর হলে দেশটির বিমান চলাচল, আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহন এবং আঞ্চলিক যোগাযোগে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, হামলার পর সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরের ক্ষয়ক্ষতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য সাময়িকভাবে ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ করেছে। দেশটির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সশরীরে পাঠদান স্থগিত করে অনলাইন ক্লাস চালুর নির্দেশ দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপের বিষয়ে সরকারি ঘোষণা যাচাই করা প্রয়োজন।

সামরিক অভিযান নিয়ে পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি

হুথি পরিচালিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে সৌদি আরবের সামরিক হস্তক্ষেপ বন্ধ না হলে আরও কঠোর পরিণতির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। যেকোনো হামলার জবাব সমপরিমাণে দেওয়া হবে বলেও গোষ্ঠীটি জানিয়েছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে লোহিত সাগর উপকূলে হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলা জোরদার হওয়ার পর সংঘাত বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবের সঙ্গে যৌথভাবে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এ বক্তব্যের যথার্থতা ও প্রেক্ষাপট নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্রের তথ্য প্রয়োজন।

উত্তেজনার মধ্যেও জ্বালানি সম্মেলন

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেও রিয়াদে নির্ধারিত বিশ্ব জ্বালানি সম্মেলন পিছিয়ে দেওয়া হয়নি। বিমানবন্দর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরের একটি কনভেনশন সেন্টারে রোববার শুরু হওয়া পাঁচ দিনের এ সম্মেলনে ৭০ জনের বেশি মন্ত্রী, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি এবং ব্যবসায়ী নেতাদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

এ ছাড়া পূর্বাঞ্চলীয় দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছেও ক্ষেপণাস্ত্র পতন ও ড্রোন প্রতিহত করার খবরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

রিয়াদের বিমানবন্দর ঘিরে হামলার দাবি, হুথিদের নতুন হুঁশিয়ারি এবং পাল্টা সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কা সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে বিমান চলাচল ও আন্তর্জাতিক যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তবে এ ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা, বিমানবন্দরের কার্যক্রম, হামলার দায় এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সামরিক অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে নির্ভরযোগ্য সূত্রের হালনাগাদ তথ্য প্রয়োজন।

সূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/এসএ

 

এলপিজি নিয়ে শঙ্কা, রাজধানীতে সিলিন্ডারের দামে আগুন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৬ অপরাহ্ণ
এলপিজি নিয়ে শঙ্কা, রাজধানীতে সিলিন্ডারের দামে আগুন

সাত দফা দাবিতে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সারা দেশে এলপি গ্যাস বিক্রি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি। এ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে কোথাও কোথাও সিলিন্ডার কেনার চাপ বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে দামে। রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় ১২ কেজি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডার ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুরের বিভিন্ন এলাকা, ফার্মগেট ও কদমতলী থানার জুরাইনে এলপিজি বিক্রির দোকান ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

তবে সব এলাকায় ক্রেতার চাপ সমান নয়। কোথাও বিক্রি বেড়েছে, আবার কোথাও স্বাভাবিক রয়েছে। গৃহস্থালি গ্যাস বিক্রেতারা জানান, দুই দিন বিক্রি বন্ধ থাকার ঘোষণায় অনেক গ্রাহক আগেভাগেই সিলিন্ডার কিনছেন।

বিশেষ করে যাদের বাসায় গ্যাস শেষ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তারা আগে থেকেই সিলিন্ডার সংগ্রহ করছেন। এ সুযোগে কিছু দোকানে দাম বাড়ানোর অভিযোগও উঠেছে।

মিরপুর-১০-এর সেনপাড়ার খুচরা গ্যাস বিক্রেতা আবিদ আলী বলেন, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বিক্রি বন্ধ থাকার ঘোষণায় ক্রেতারা বেশি করে গ্যাস কিনতে আসছেন। অনেকেই জানতে চাইছেন, কত দিন গ্যাস বিক্রি বন্ধ থাকবে।

আবিদ আলী জানান, বাসায় পৌঁছে দিয়ে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করছেন তিনি। গত এক মাস ধরে গ্যাসের সরবরাহ কম বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, ঢাকার ভেতরে সংকট বেশি থাকায় ঢাকার বাইরে থেকে গ্যাস এনে চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করছেন।

তার দোকানে ১২ কেজির সিলিন্ডার থাকলেও অন্য মাপের সিলিন্ডার ছিল না। কয়েকটি সিলিন্ডারে গ্যাস থাকলেও দোকানের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সিলিন্ডার খালি পড়ে থাকতে দেখা যায়।

শেওড়াপাড়ার কয়েকটি দোকানেও ক্রেতার চাপ কিছুটা বেড়েছে। তবে সেখানে চাহিদা বৃদ্ধির পাশাপাশি দুই দিন বিক্রি বন্ধ থাকার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দাম বাড়ানোর অভিযোগও পাওয়া গেছে।

মিরপুরের বেগম রোকেয়া সরণির ডিলার এনামুল হক বলেন, সরকার নির্ধারিত দামে ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি করলে তাদের লাভ খুব কম থাকে। তার দাবি, দোকানভাড়া, পরিবহন খরচ ও কর্মচারীদের বেতনসহ বিভিন্ন ব্যয় মেটানোর পর সিলিন্ডারপ্রতি প্রায় ৪০ টাকা লাভ থাকে।

তিনি বলেন, সরকার আমাদের কাছে ১ হাজার ৭৪২ টাকা রেখে ১ হাজার ৮৩৭ টাকায় ১২ কেজির গ্যাস বিক্রি করতে বলে। এতে আমাদের চলে না। দোকানভাড়া, আনা-নেওয়ার খরচ, কর্মচারীদের বেতনসহ নানা ব্যয় রয়েছে।

এনামুল হক জানান, তার দোকানে ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ১৫০ টাকা এবং ৩৫ কেজির সিলিন্ডার ৫ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সাত দফা দাবিতে তাদের কর্মসূচি চলছে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বিক্রি বন্ধ থাকবে। দাবি পূরণ না হলে লাগাতার কর্মসূচি দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

কদমতলী থানার জুরাইনের খুচরা এলপিজি বিক্রয় প্রতিষ্ঠান বিসমিল্লাহ ট্রেডের স্বত্বাধিকারী মাহফুজ আলম বলেন, দুই দিন বিক্রি বন্ধের ঘোষণা আসার পর থেকেই সিলিন্ডার কেনার চাপ বেড়েছে। বিশেষ করে হোটেল ব্যবসায়ীরা বেশি সিলিন্ডার কিনছেন।

তিনি বলেন, সাধারণত হোটেল ব্যবসায়ীরা খালি সিলিন্ডার দিয়ে ভর্তি সিলিন্ডার নিয়ে যান। কিন্তু গতকাল থেকে কেউ কেউ দুটি খালি সিলিন্ডার নিয়ে এসে দুটি ভর্তি সিলিন্ডার নিচ্ছেন। এতে বিক্রির চাপ বেড়েছে।

মাহফুজ আলম বলেন, তারা অতিরিক্ত সিলিন্ডার মজুত রাখেননি। তাই চায়ের দোকানদার ও বাসাবাড়ির গ্রাহকদের কথা বিবেচনা করে সীমিত পরিমাণে সিলিন্ডার বিক্রি করছেন। জনভোগান্তির কথা বিবেচনা করে সরকার ব্যবসায়ীদের দাবিগুলো মেনে নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
জুরাইনের জনি চায়ের দোকানের মালিক জনি বলেন, বেশি সিলিন্ডার কিনে মজুত করার মতো পুঁজি তার নেই। মঙ্গলবার সিলিন্ডারের গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ায় নতুন সিলিন্ডার নিতে এসেছেন তিনি।

ফার্মগেটের রাজাবাজার এলাকার খুচরা গ্যাসের দোকানগুলোতে মঙ্গলবার বাড়তি ক্রেতার চাপ দেখা যায়নি। আনারুল নামের এক বিক্রেতা বলেন, তার দোকানে এখনো ক্রেতার সংখ্যা স্বাভাবিক রয়েছে। প্রতিদিনের মতোই দু-একজন ক্রেতা আসছেন। তবে বুধবার ক্রেতার চাপ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

দুই দিন বিক্রি বন্ধ থাকলে আগের দিন বুধবার সিলিন্ডার কেনার চাপ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন কয়েকজন বিক্রেতা। তাদের মতে, চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সরবরাহের ঘাটতি তৈরি হলে বাজারে সংকট আরও তীব্র হতে পারে। তবে কোথাও কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত হতে সরবরাহ ও বিক্রির তথ্য যাচাই প্রয়োজন।

গত সোমবার (১২ অক্টোবর) সাত দফা দাবিতে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সারা দেশে এলপিজি বিক্রি বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি।

সমিতির দাবিগুলো হলো—

১. জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, লাইসেন্স ফি, সিলিন্ডার ওঠানো-নামানো এবং অব্যবহৃত সিলিন্ডারের লোকসানসহ বিভিন্ন খরচ বিবেচনায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা অথবা ৭ শতাংশ করা।

২. কোম্পানিগুলো মাসে একাধিকবার এলপিজির দাম সমন্বয় করলে তা বিইআরসির ঘোষণার মাধ্যমে করা।

৩. দীর্ঘদিন ধরে যেসব কোম্পানি গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না, সেসব কোম্পানির সিলিন্ডার সরকারিভাবে অথবা সংশ্লিষ্ট কোম্পানির মাধ্যমে রিফিলের ব্যবস্থা করা।

৪. কোম্পানির সরবরাহ করা চালানে পণ্যের প্রকৃত মূল্য উল্লেখ করা।

৫. পরিবেশকের গুদাম পর্যন্ত গ্যাস পৌঁছে দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে ন্যায্য পরিবহন ভাড়া দেওয়া।

৬. গ্যাস সিলিন্ডার বহনকারী পিকআপ বা ট্রাকের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক থাকলে শুধু রেলিং না থাকার অজুহাতে ট্রাফিক পুলিশের মামলা করা বন্ধ করা।

৭. ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের ওপর অনৈতিক ও অযৌক্তিক জরিমানা আরোপ বন্ধ করা।

ব্যবসায়ীদের এসব দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

তিস্তা প্রকল্পে ডাচ সহায়তার প্রস্তাব, তারেক রহমানের সঙ্গে মন্ত্রীর বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৪ অপরাহ্ণ
তিস্তা প্রকল্পে ডাচ সহায়তার প্রস্তাব, তারেক রহমানের সঙ্গে মন্ত্রীর বৈঠক

তিস্তা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা এবং পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় কারিগরি ও জ্ঞানগত সহযোগিতা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে নেদারল্যান্ডস। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের বৈদেশিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতাবিষয়ক মন্ত্রী শুর্দ শুর্দসমার নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয় উঠে আসে।

বৈঠকে ডাচ মন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগ ও সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার উপযুক্ত সময় এসেছে। পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনা, গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

তিস্তা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা এবং এ বিষয়ে কারিগরি সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে নেদারল্যান্ডসের আগ্রহকে স্বাগত জানায় বাংলাদেশ।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস উভয়ই বদ্বীপ রাষ্ট্র। অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের একসঙ্গে কাজ করার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। এ সময় তিনি ভূমি পুনরুদ্ধারে নেদারল্যান্ডসের অভিজ্ঞতার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

জবাবে ডাচ মন্ত্রী পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, ভূমি পুনরুদ্ধার, চর উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার উপযোগী নদীব্যবস্থাপনায় দুই দেশের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্পর্ক এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতা কামনা করে বাংলাদেশ।

এ ছাড়া বাংলাদেশের চলমান জ্বালানি সংকট, নবায়নযোগ্য জ্বালানি পরিকল্পনা এবং কৃষি খাতে সহযোগিতার বিষয়ও আলোচনায় আসে। বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানিবিষয়ক পরিকল্পনার প্রশংসা করেন ডাচ মন্ত্রী। কৃষিতে দেশটির অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করার আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।

বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান নিয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রোহিঙ্গা সংকটের মূল উৎস মিয়ানমারে এবং এর স্থায়ী সমাধানও সেখানেই নিহিত। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বাংলাদেশের গণতন্ত্র সুসংহত করা এবং মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, তাঁর সরকার দেশে মানবাধিকার সুরক্ষা ও সুসংহত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বৈঠকের শেষ পর্যায়ে ডাচ মন্ত্রী শুর্দ শুর্দসমা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নেদারল্যান্ডস সফরের আমন্ত্রণ জানান।

এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদি আমিন এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত ইওরিস ভ্যান বোমেলসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

সফল এফএম-৯০ লাইভ ফায়ারিং মহড়া বিমান বাহিনীর, আকাশসীমার সুরক্ষায় জোরদার প্রস্তুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৪৫ অপরাহ্ণ
সফল এফএম-৯০ লাইভ ফায়ারিং মহড়া বিমান বাহিনীর, আকাশসীমার সুরক্ষায় জোরদার প্রস্তুতি

আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলার পথে আরও একটি ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জন করেছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী। আকাশ প্রতিরক্ষার প্রস্তুতি, ক্ষেপণাস্ত্র পরিচালনায় পেশাদারিত্ব এবং প্রশিক্ষণের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এফএম-৯০ লাইভ মিসাইল ফায়ারিং মহড়া। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) কক্সবাজারের নিদানিয়ায় অবস্থিত কক্সবাজার এয়ার ডিফেন্স ফায়ারিং রেঞ্জে (সিএডিএফআর) বিমান বাহিনীর ৩০১ স্যাম ইউনিট এই মহড়া পরিচালনা করে। মহড়া সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করেন বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

সফল মহড়া পেশাদারিত্বের ইতিবাচক প্রতিফলন
একটি আধুনিক বিমান বাহিনীর শক্তি শুধু উন্নত যুদ্ধবিমান বা ক্ষেপণাস্ত্রের উপস্থিতিতে সীমাবদ্ধ নয়; এসব সরঞ্জাম দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা, নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং দায়িত্ব পালনে পেশাদারিত্বও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এফএম-৯০ লাইভ মিসাইল ফায়ারিং মহড়া সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া এই প্রশিক্ষণভিত্তিক প্রস্তুতির একটি ইতিবাচক দিককে তুলে ধরেছে।

  • কক্সবাজারে লাইভ ফায়ারিং পরিদর্শন বিমান বাহিনী প্রধানের
  • আধুনিকায়ন, প্রশিক্ষণ ও পেশাদারিত্বের ওপর গুরুত্বারোপ

মহড়া পরিদর্শনকালে বিমান বাহিনী প্রধান কার্যক্রমের সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তিনি লাইভ মিসাইল ফায়ারিং কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। সফলভাবে মহড়া সম্পন্ন করায় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সদস্যদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও এই পেশাদারিত্ব বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তাঁর এই স্বীকৃতি বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্বশীলতা, প্রশিক্ষণ এবং কর্মদক্ষতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব
মহড়া পরিদর্শনকালে বিমান বাহিনী প্রধান জানান, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে আধুনিক যুদ্ধবিমান ও উন্নত প্রযুক্তির সরঞ্জাম সংযোজনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। অর্থাৎ, আধুনিকায়নকে কেবল সরঞ্জাম সংযোজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও পেশাগত দক্ষতার সমন্বিত উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করার অপার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

আকাশ প্রতিরক্ষায় জোরদার প্রস্তুতি
একটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় আকাশসীমার সুরক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সম্ভাব্য আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় নজরদারি, পরিস্থিতি মূল্যায়ন, উপযুক্ত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পরিচালনা এবং প্রশিক্ষিত জনবলের সমন্বিত প্রস্তুতি অপরিহার্য। এফএম-৯০-এর মতো আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার লাইভ ফায়ারিং অনুশীলন সংশ্লিষ্ট সদস্যদের বাস্তব ক্ষেপণাস্ত্র পরিচালনার প্রশিক্ষণ ও ব্যবহারিক প্রস্তুতি যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি করেছে। এ ধরনের অনুশীলন নিয়মিত পরিচালিত হলে সদস্যদের অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা এবং দায়িত্ব পালনের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

মহড়া পরিদর্শনকালে সহকারী বিমান বাহিনী প্রধান (রক্ষণাবেক্ষণ) এয়ার ভাইস মার্শাল মুহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, বিমান বাহিনী ঘাঁটি কক্সবাজারের এয়ার অধিনায়ক এয়ার ভাইস মার্শাল শরিফুল ইসলাম এবং সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও কক্সবাজারের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল গোলাম মাহিউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া নৌবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), পুলিশ, বিমান সদরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ঘাঁটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পদমর্যাদার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ভবিষ্যৎ সক্ষমতার ভিত্তি ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ
বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন কার্যক্রম এবং এফএম-৯০ লাইভ মিসাইল ফায়ারিং মহড়া থেকে একটি ইতিবাচক বার্তা পাওয়া যায়—প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে উন্নত প্রযুক্তির পাশাপাশি দক্ষ জনবল ও নিয়মিত প্রশিক্ষণের কোন বিকল্প নেই। এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে নতুন সরঞ্জামের কার্যকর ব্যবহার, সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক প্রস্তুতি উন্নয়নে আরও সহায়ক পরিবেশ তৈরি হবে। একই সঙ্গে সরঞ্জামের নির্ভরযোগ্যতা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞান হালনাগাদ রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। কক্সবাজারে সফল এফএম-৯০ লাইভ মিসাইল ফায়ারিং মহড়া বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি কার্যক্রমে একটি উৎসাহব্যঞ্জক ঘটনা। আধুনিকায়ন, দক্ষতা এবং পেশাদারিত্বের সমন্বিত চর্চা অব্যাহত রাখার মাধ্যমে দেশের আকাশসীমার নিরাপত্তায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রস্তুতি আরও সুসংহত করার পথনকশা প্রস্তুত হচ্ছে।

কালের আলো/এএএএমকে