খুঁজুন
                               
, ,
           

অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর, জনকল্যাণে অগ্রাধিকার প্রধানমন্ত্রীর

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৪ অপরাহ্ণ
অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর, জনকল্যাণে অগ্রাধিকার প্রধানমন্ত্রীর

রাজনীতিতে নেতৃত্বের প্রকৃত শক্তি প্রকাশ পায় সিদ্ধান্তের দৃঢ়তায়, দায়িত্ব বণ্টনের দক্ষতায় এবং জনগণের প্রত্যাশাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সক্ষমতায়। দল পরিচালনা, রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কার্যক্রম, জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহি এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা—এই চারটি ক্ষেত্রকে একই সূত্রে যুক্ত করে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। দলের ভেতরে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে চাঁদাবাজি-দখলদারির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, সংসদ সদস্যদের জনগণের পাশে থাকার নির্দেশ, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থী বাছাই এবং দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা—তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে দায়িত্বশীল নেতৃত্বের বহুমাত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি।

  • চাঁদাবাজি-দখলদারির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স
  • দলীয় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, এমপিদের জনগণের পাশে থাকার নির্দেশ
  • স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থী বাছাই ও দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

গত রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে বিএনপির সংসদীয় দলের প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নির্দেশনাগুলোর বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। কারণ, তিনি শুধু দলীয় শৃঙ্খলার কথা বলেননি। একই সঙ্গে সরকারের কার্যক্রমের অগ্রগতি, উন্নয়ন বাস্তবায়নের প্রতিবন্ধকতা, নির্বাচনী এলাকার সমস্যা এবং জনপ্রতিনিধিদের দায়বদ্ধতা নিয়েও আলোচনা করেছেন। অর্থাৎ, তাঁর বার্তায় সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা অনুধাবন এবং জনস্বার্থে কার্যকর ভূমিকা পালনের বিষয়গুলো পাশাপাশি এসেছে।

এই সমন্বিত অবস্থানকে দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতৃত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে দেখা যায়। যেখানে দলের পরিচয়কে জনসেবার শক্তি হিসেবে ব্যবহার করা, জনপ্রতিনিধিদের কর্মতৎপরতা বাড়ানো এবং রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়গুলো একই আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।

অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ়তা, পরিচ্ছন্ন রাজনীতির অঙ্গীকার
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যের কেন্দ্রীয় বার্তা—চাঁদাবাজ ও দখলদারদের জায়গা বিএনপিতে হবে না। শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ জবাবদিহির ঊর্ধ্বে নন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বেও নন; সংসদ সদস্যদেরও জবাবদিহি করতে হবে। এই অবস্থানের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গেলে প্রথমেই আসে রাজনৈতিক পরিচয় ও ব্যক্তিগত দায়িত্বের সম্পর্ক। একটি রাজনৈতিক দল যখন সরকার পরিচালনার দায়িত্বে থাকে, তখন তার নেতাকর্মীদের আচরণ জনমনে সরকারের ভাবমূর্তি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি অন্যায় সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলে তা শুধু ব্যক্তিগত অপরাধের প্রশ্ন থাকে না; দলের প্রতি মানুষের আস্থার সঙ্গেও যুক্ত হয়ে যায়।

প্রধানমন্ত্রীর কঠোর বার্তা এই জায়গাতেই তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি দলীয় পরিচয়কে বিশেষ সুবিধার ঢাল হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ না দেওয়ার অবস্থান তুলে ধরেছেন। এতে নেতাকর্মীদের কাছে দায়িত্বশীল আচরণের প্রত্যাশা স্পষ্ট হয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃত্বের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বার্তা সামনে এসেছে—দলের সুনাম রক্ষা করতে হলে অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান হতে হবে দ্ব্যর্থহীন। বৈঠক শেষে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি সাংবাদিকদের জানান, বিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ অন্যায় করলে পার পাবে না। চাঁদাবাজ ও দখলদারদের কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।

পদমর্যাদার চেয়ে জনদায়বদ্ধতা বড়
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ববোধের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তারেক রহমান সংসদ সদস্যদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, দলের নেতাকর্মীদের ত্যাগ ও সাংগঠনিক অবদানের মধ্য দিয়েই তাঁরা বর্তমান অবস্থানে পৌঁছেছেন। তাই দলকে ভুলে গেলে চলবে না; নেতাকর্মীদের পাশে রাখতে হবে এবং সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে। এই বক্তব্যের মধ্যে নেতৃত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে—রাজনৈতিক সাফল্যকে ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে না দেখে সাংগঠনিক প্রচেষ্টা ও জনসমর্থনের সম্মিলিত ফল হিসেবে বিবেচনা করা। একজন জনপ্রতিনিধি যত বেশি মানুষের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন, তত বেশি স্থানীয় সমস্যা ও প্রত্যাশা সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পাবেন। সেই অভিজ্ঞতা সংসদীয় কার্যক্রম ও সরকারি সেবা প্রদানের ক্ষেত্রেও কার্যকর হতে পারে।

বৈঠকে সরকারের আট মাসের কার্যক্রমের অগ্রগতি, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিবন্ধকতা এবং নির্বাচনী এলাকার সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয় বলে অংশগ্রহণকারী সংসদ সদস্যরা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁদের বক্তব্য শোনেন এবং জনগণের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন। এখানে তাঁর নেতৃত্বের আরেকটি দিক লক্ষণীয়: মাঠপর্যায়ের সমস্যা সম্পর্কে অবহিত হওয়া এবং জনপ্রতিনিধিদের অভিজ্ঞতাকে আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা। উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় বাস্তবতা জানা জরুরি। কোথায় অবকাঠামোগত বাধা রয়েছে, কোন সেবা মানুষের কাছে পৌঁছাতে সমস্যা হচ্ছে কিংবা কোন এলাকায় বিশেষ উদ্যোগ প্রয়োজন—এসব বিষয়ে সংসদ সদস্যদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া সিদ্ধান্ত গ্রহণকে আরও বাস্তবসম্মত করতে পারে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যোগ্য নেতৃত্বের দূরদর্শী গুরুত্ব
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তাঁর বক্তব্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জনপ্রিয়, যোগ্য ও স্থানীয় মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী মনোনয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচন নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য রাখার নির্দেশনাও এসেছে। স্থানীয় সরকার মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। স্থানীয় সড়ক, অবকাঠামো, পরিচ্ছন্নতা, নাগরিক সেবা এবং বিভিন্ন জনসমস্যার সমাধানে এসব প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা সরাসরি দৃশ্যমান। এ কারণে স্থানীয় নেতৃত্বের দক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা সাধারণ মানুষের জীবনমানের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার মধ্যে রয়েছে বাস্তবভিত্তিক রাজনৈতিক চিন্তার পরিচয়। স্থানীয় মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম, দায়িত্বশীল এবং কাজ করার যোগ্য ব্যক্তিরা নেতৃত্বে এলে জনসেবার সুযোগ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে তৃণমূলের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হলে দলের সাংগঠনিক কাঠামো ও স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশার মধ্যে সংযোগ আরও কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনিও জানিয়েছেন, তৃণমূলের সঙ্গে সমন্বয় করে একক প্রার্থী দেওয়ার চেষ্টা করবে বিএনপি। ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত সাংগঠনিক কাঠামো কাজে লাগিয়ে স্থানীয় মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের প্রার্থী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

নির্বাচনকে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য রাখার নির্দেশনাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। একটি প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনে মানুষের পছন্দের প্রতিফলন ঘটলে নির্বাচিত প্রতিনিধির দায়িত্ব ও গ্রহণযোগ্যতা শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। ফলে যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন এবং নিরপেক্ষতার প্রতি গুরুত্ব—দুটি বিষয়ই স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর জনপ্রতিনিধিত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত।

সম্প্রীতি রক্ষায় রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্ব
আসন্ন দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংসদ সদস্য ও নেতাকর্মীদের মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে সম্প্রীতি নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা শুধু একটি উৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয় নয়; এটি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, নাগরিক অধিকার ও সামাজিক স্থিতিশীলতার সঙ্গেও সম্পর্কিত। সব সম্প্রদায়ের মানুষ নিরাপদে ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারবেন—এমন পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্র, প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এই দায়িত্বের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করলে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা, সম্ভাব্য সমস্যা সম্পর্কে আগাম সতর্ক থাকা এবং উৎসবের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে সহযোগিতা করার সুযোগ বাড়ে। এই নির্দেশনার ইতিবাচক তাৎপর্য হলো, ধর্মীয় সম্প্রীতিকে দলীয় ও প্রশাসনিক দায়িত্বের আলোচনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর বাস্তব প্রতিফলন সব নাগরিকের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় সহায়ক হতে পারে।

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় ঐক্য ও দায়িত্বশীলতার সমন্বয়
দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক পরিস্থিতির সম্ভাব্য পরিবর্তন সম্পর্কে সতর্ক থাকার এবং সংসদ সদস্যদের ঐক্যবদ্ধভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্যে, ‘স্বৈরাচার’ ও ‘গুপ্ত’রা এক হয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এই বক্তব্যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, দলীয় সমন্বয় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার ওপর গুরুত্ব প্রতিফলিত হয়েছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা উন্নয়ন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা, জনজীবনের স্বাভাবিকতা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার ভিত্তি আরও মজবুত হয় যখন রাজনৈতিক নেতৃত্ব আইনের শাসন, দায়িত্বশীল আচরণ এবং জনগণের আস্থাকে অগ্রাধিকার দেয়।

বৈঠকে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। জনগণের অর্থ দেশের স্বার্থে ব্যয় নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপের বিষয়টি জনস্বার্থভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনার প্রত্যাশাকে সামনে আনে। উন্নয়ন পরিকল্পনা, অর্থের সঠিক ব্যবহার এবং মাঠপর্যায়ের সমস্যার সমাধান—এসব বিষয়ে নিয়মিত নজরদারি থাকলে সরকারি কার্যক্রমের কার্যকারিতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়। তাই প্রধানমন্ত্রীর আলোচনায় রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক বিষয়ের পাশাপাশি উন্নয়ন ব্যবস্থাপনার স্থান পাওয়াও তাৎপর্যপূর্ণ।

জনআস্থাই চূড়ান্ত মাপকাঠি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সংসদীয় দলের বৈঠকের নির্দেশনাগুলো একসঙ্গে বিবেচনা করলে একটি সমন্বিত নেতৃত্বের চিত্র পাওয়া যায়। দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহি, তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক, যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা—প্রতিটি বিষয়ই দায়িত্বশীল রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত। এই বার্তার ইতিবাচক দিক হলো, রাজনৈতিক সাফল্যের পাশাপাশি দায়িত্ব পালনের মানদণ্ডও স্পষ্ট করা হয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের কাছে মানুষের প্রত্যাশা পূরণের তাগিদ, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বাধা চিহ্নিত করার উদ্যোগ এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের নির্দেশনা জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রত্যাশাকে সামনে এনেছে।

দেশবাসীর কাছে এই অবস্থান আশাব্যঞ্জক হয়ে উঠতে পারে, কারণ সাধারণ মানুষ এমন রাজনৈতিক পরিবেশ প্রত্যাশা করে, যেখানে অন্যায় প্রশ্রয় পাবে না, জনপ্রতিনিধিরা মানুষের কথা শুনবেন, সরকারি অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহৃত হবে এবং সব সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে কঠোরতা ও জনমুখী দায়িত্ববোধের একটি সমন্বিত বার্তা উঠে এসেছে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান, সংগঠনের প্রতি দায়বদ্ধতা, জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক এবং সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষার নির্দেশনা—এসবের কার্যকর বাস্তবায়ন দলীয় শৃঙ্খলা শক্তিশালী করার পাশাপাশি জনআস্থা বৃদ্ধির ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে। আর সেই আস্থাই হবে দায়িত্বশীল নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় অর্জন।

কালের আলো/এমএএএমকে

আইপিএলে ধোনির ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৮ অপরাহ্ণ
আইপিএলে ধোনির ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) পরবর্তী আসরে মহেন্দ্র সিং ধোনিকে দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ভারতের সাবেক বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ককে ঘিরে চেন্নাই সুপার কিংসের সমর্থকদের কৌতূহলের শেষ নেই। তবে ধোনির ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছে না ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। তাঁর খেলা না-খেলার সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে মূলত ধোনির নিজের ওপর।

চেন্নাই সুপার কিংসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কাশী বিশ্বনাথন জানিয়েছেন, ধোনি চেন্নাইয়ে আসার পর নিজের সিদ্ধান্তের কথা ফ্র্যাঞ্চাইজিকে জানাবেন। ফলে পরবর্তী আইপিএলে দলের হয়ে খেলবেন কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর পেতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে সমর্থকদের।

ধোনির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় চেন্নাই

আইপিএলের নতুন আসর সামনে রেখে ধোনির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল চেন্নাই সুপার কিংসের প্রধান নির্বাহী কাশী বিশ্বনাথনকে। তবে অন্যবারের মতো এবারও সরাসরি কোনো উত্তর দেননি তিনি। বরং এ বিষয়ে ধোনির সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিয়েছেন।

চেন্নাইয়ের একটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বিশ্বনাথন বলেন, ‘এই প্রশ্নটা আপনাদের উচিত তাকে করা। আমারও তাকে জিজ্ঞাসা করতে হবে। সে চেন্নাইয়ে আসার পর তার সিদ্ধান্তের কথা আমাদের জানাবে।’

তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, ধোনির পরবর্তী আইপিএলে অংশগ্রহণ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যায়নি। ফ্র্যাঞ্চাইজিও অপেক্ষা করছে অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটারের মতামতের জন্য।

খেলা চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন সিইও

ধোনি কি চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে আরও একটি আইপিএল খেলবেন? এই প্রশ্নের জবাবে বিশ্বনাথন সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। তবে তাঁর বক্তব্যকে চূড়ান্ত নিশ্চয়তা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

বিশ্বনাথন বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে চেন্নাইয়ের হয়ে তার খেলা চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। আপনারা তো জানেন, সে এখনও একজন খেলোয়াড়।’

অর্থাৎ, ধোনির খেলার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছে না চেন্নাই। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে পারবেন ধোনি নিজেই। তাঁর শারীরিক অবস্থা, ব্যক্তিগত পরিকল্পনা ও খেলার বিষয়ে আগ্রহের মতো বিষয়গুলো পরবর্তী সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। যদিও এসব বিষয়ে নতুন করে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য জানাননি ফ্র্যাঞ্চাইজির সিইও।

সবশেষ আইপিএলে মাঠে দেখা যায়নি ধোনিকে

ধোনিকে নিয়ে অনিশ্চয়তার অন্যতম কারণ, সর্বশেষ আইপিএল মৌসুমে তাঁকে একটি ম্যাচেও খেলতে দেখা যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই আসরের আগে চেন্নাই সুপার কিংস জানিয়েছিল, চোটের কারণে শুরুর কয়েকটি ম্যাচে খেলতে পারবেন না তিনি।

কিন্তু পরবর্তী সময়ে প্রতিটি ম্যাচের আগে ধোনিকে ঘিরে সমর্থকদের অপেক্ষা ও জল্পনা অব্যাহত থাকে। শেষ পর্যন্ত তাঁর মাঠে নামা নিয়ে তৈরি হওয়া প্রশ্নের অবসান ঘটেনি।

দীর্ঘদিন ধরে চেন্নাই সুপার কিংসের পরিচিত মুখ ধোনি। তাঁর নেতৃত্বে দলটি একাধিকবার আইপিএলের শিরোপা জিতেছে। ফলে মাঠে তাঁর উপস্থিতি শুধু একজন খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণ নয়, চেন্নাইয়ের সমর্থকদের আবেগের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।

ধোনিকে ঘিরে সমর্থকদের অপেক্ষা

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পরও আইপিএলে ধোনির অংশগ্রহণ তাঁকে আলোচনায় রেখেছে। বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও তাঁর অভিজ্ঞতা এবং উইকেটকিপিংয়ের দক্ষতা চেন্নাইয়ের সমর্থকদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

এবারও ধোনি খেলবেন কি না, তা নিয়ে আগেভাগে কোনো নিশ্চয়তা দিতে চাইছে না ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। কাশী বিশ্বনাথনের বক্তব্যে সম্ভাবনার ইঙ্গিত থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো অজানা।

সব মিলিয়ে পরবর্তী আইপিএলে ধোনিকে চেন্নাইয়ের জার্সিতে দেখা যাবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর পেতে অপেক্ষা করতে হবে তাঁর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য। আপাতত তাঁর খেলার সম্ভাবনা রয়েছে, কিন্তু অংশগ্রহণ নিশ্চিত নয়।

কালের আলো/এসএ

সরকারের মেয়াদেই আগারগাঁওয়ে যাচ্ছে সচিবালয়: গণপূর্তমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১০ অপরাহ্ণ
সরকারের মেয়াদেই আগারগাঁওয়ে যাচ্ছে সচিবালয়: গণপূর্তমন্ত্রী

বর্তমান সরকারের মেয়াদেই রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পুরোনো বাণিজ্যমেলার মাঠে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে নির্বাহী প্রকৌশলীদের লটারির মাধ্যমে বদলি ও পদায়ন নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

আগারগাঁওয়ে স্থানান্তরের পরিকল্পনা

গণপূর্তমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান সরকারের মেয়াদকালেই সচিবালয় আগারগাঁওয়ের পুরোনো বাণিজ্যমেলার মাঠে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। রাজধানীর প্রশাসনিক অবকাঠামো স্থানান্তরের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সরকারি দপ্তরগুলোর অবস্থান ও কার্যক্রম পরিচালনায় পরিবর্তন আসবে।

তবে সচিবালয় স্থানান্তরের নির্দিষ্ট সময়সূচি, নির্মাণকাজের অগ্রগতি, প্রকল্পের ব্যয় কিংবা স্থানান্তর প্রক্রিয়ার বিস্তারিত বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে আর কোনো তথ্য জানানো হয়েছে কি না, তা প্রাপ্ত তথ্যে উল্লেখ নেই।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যারা

গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রীর সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, সচিব মো. ওবায়দুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সংবাদ সম্মেলনের মূল বিষয় ছিল নির্বাহী প্রকৌশলীদের লটারির মাধ্যমে বদলি ও পদায়ন। এ সময় সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

টেস্ট ইতিহাসে প্রথম লিটন, ব্যাটিংয়ের সঙ্গে উইকেটকিপিংয়েও বিশ্বরেকর্ড

ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০৮ অপরাহ্ণ
টেস্ট ইতিহাসে প্রথম লিটন, ব্যাটিংয়ের সঙ্গে উইকেটকিপিংয়েও বিশ্বরেকর্ড

টেস্ট ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস গড়লেন বাংলাদেশের উইকেটরক্ষক ব্যাটার লিটন কুমার দাস। ব্যাট হাতে দুই ইনিংসেই পঞ্চাশোর্ধ রান করার পাশাপাশি উইকেটের পেছনে ৯টি ডিসমিসাল করে বিরল এক কীর্তি গড়েছেন তিনি। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এক ম্যাচে দুই ইনিংসে অন্তত একটি করে অর্ধশতক এবং ৯টি ডিসমিসালের নজির আগে ছিল না।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবি টেস্টে লিটনের এই অসাধারণ পারফরম্যান্স বাংলাদেশের জন্য যেমন বড় প্রাপ্তি, তেমনি ব্যক্তিগত অর্জনের দিক থেকেও তা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ব্যাট হাতে ৫৩ ও ১০২ রানের ইনিংস খেলার পর উইকেটকিপিংয়েও নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। দুই ইনিংসে তাঁর এই পারফরম্যান্স টেস্ট ক্রিকেটের রেকর্ডবুকে নতুন অধ্যায় যোগ করেছে।

এবাদতের বলে দুর্দান্ত ক্যাচ, ভাঙল আফগানিস্তানের জুটি

ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ইকরাম আলিখিলকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে স্বস্তি এনে দেন লিটন। এবাদত হোসেনের প্রায় ওয়াইড হয়ে যাওয়া বলে ব্যাট চালাতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ তুলে দেন আফগান ব্যাটার। নিজের শরীর বাঁকিয়ে ও ঝুঁকি নিয়ে দূরে সরে যাওয়া বলটি তালুবন্দি করেন লিটন।

ক্যাচটি ছিল কঠিন, আর ম্যাচের পরিস্থিতিতে সেটির গুরুত্বও ছিল অনেক। ইকরামকে ফিরিয়ে আফগানিস্তানের ৬৬ রানের জুটি ভেঙে দেয় বাংলাদেশ। এর মধ্য দিয়ে ম্যাচে আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি হয় টাইগারদের সামনে।

এবাদতের বলে লিটনের এমন অসাধারণ ক্যাচ অবশ্য এই ম্যাচে প্রথম নয়। প্রথম ইনিংসেও তাঁর নেওয়া একটি দৃষ্টিনন্দন ক্যাচ আলোচনায় এসেছিল। এবার দ্বিতীয় ইনিংসেও একই বোলারের বলে দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়ে নিজের উইকেটকিপিং দক্ষতার প্রমাণ দিলেন বাংলাদেশের এই তারকা।

ডেনিস লিন্ডসের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেলেন লিটন

লিটনের এই কীর্তির আগে টেস্ট ক্রিকেটে একই ম্যাচের দুই ইনিংসে অন্তত অর্ধশতক করার পাশাপাশি সর্বোচ্চ ৮টি ডিসমিসালের রেকর্ড ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক উইকেটকিপার ডেনিস লিন্ডসের দখলে।

১৯৬৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জোহানেসবার্গ টেস্টে দুই ইনিংসে পঞ্চাশোর্ধ রান করার পাশাপাশি ৮টি ডিসমিসাল করেছিলেন লিন্ডস। দীর্ঘদিন ধরে টিকে থাকা সেই রেকর্ড এবার ছাড়িয়ে গেলেন লিটন।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে চলমান টেস্টে দুই ইনিংসে যথাক্রমে ৫৩ ও ১০২ রান করেছেন তিনি। একই সঙ্গে উইকেটের পেছনে ৯টি ডিসমিসাল পূর্ণ করে নতুন রেকর্ড গড়েছেন বাংলাদেশের এই ক্রিকেটার। ব্যাটিং ও উইকেটকিপিং—দুই ক্ষেত্রেই এমন ধারাবাহিকতা টেস্ট ক্রিকেটে বিরল।

৪৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় চাপে আফগানিস্তান

ম্যাচে বাংলাদেশ আগে ব্যাট করে বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় এবং আফগানিস্তানের সামনে জয়ের জন্য ৪৭৯ রানের লক্ষ্য দেয়। আগের দিন খেলা শেষ হওয়ার সময় দ্বিতীয় ইনিংসে আফগানিস্তানের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ১৩২ রান।

পঞ্চম ও শেষ দিনে মাঠে নামার আগে জয়ের জন্য আফগানিস্তানের প্রয়োজন ছিল আরও ৩৪৭ রান। অন্যদিকে বাংলাদেশের দরকার ছিল ৭ উইকেট। ফলে ম্যাচের শেষ দিনে দুই দলের সামনে ছিল ভিন্ন লক্ষ্য—বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করা, আর আফগানিস্তানের হার এড়িয়ে ম্যাচ বাঁচানো।

আফগান ব্যাটাররা শুরুতে বেশ দৃঢ়তার সঙ্গে বাংলাদেশের বোলারদের মোকাবিলা করছিলেন। মাঝপথে অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শহীদি পায়ে আঘাত পেয়ে রিটায়ার্ড হার্ট হলেও তাঁদের লড়াই থেমে থাকেনি। তবে ইকরাম আলিখিলের উইকেট হারানোর পর বাংলাদেশের সামনে ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার নতুন সুযোগ তৈরি হয়।

জয়ের আশায় বাংলাদেশ, ড্র বাঁচানোর লড়াই আফগানদের

ইকরাম আলিখিল আউট হওয়ার মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ২০২ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় আফগানিস্তান। একদিকে বাংলাদেশের বোলাররা দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে জয় নিশ্চিত করতে চাইছিলেন, অন্যদিকে আফগান ব্যাটারদের লক্ষ্য ছিল যতটা সম্ভব সময় কাটিয়ে ম্যাচ ড্রয়ের দিকে নিয়ে যাওয়া।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ইনিংসে এবাদত হোসেন তিনটি এবং হাসান মাহমুদ একটি উইকেট নিয়েছেন। বাকি উইকেটগুলো তুলে নিতে পারলে বাংলাদেশের সামনে জয় পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। তবে আফগানিস্তানের হাতে উইকেট থাকায় ম্যাচের ফল নির্ধারণে শেষ দিনের বাকি সময় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

লিটনের রেকর্ডে বাড়তি প্রাপ্তি বাংলাদেশের

টেস্ট ক্রিকেটে উইকেটকিপারের ভূমিকা শুধু ক্যাচ নেওয়া বা স্টাম্পিংয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; দলের প্রয়োজনে ব্যাট হাতেও অবদান রাখতে হয়। লিটন দাসের এই ম্যাচের পারফরম্যান্সে দুই দায়িত্বেরই অসাধারণ সমন্বয় দেখা গেছে।

প্রথম ইনিংসে অর্ধশতক, দ্বিতীয় ইনিংসে শতক এবং দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯টি ডিসমিসাল—সব মিলিয়ে আবুধাবি টেস্টে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তিনি। বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্যও এটি গর্বের অর্জন।

তবে ব্যক্তিগত রেকর্ডের পাশাপাশি ম্যাচের ফলও এখন বাংলাদেশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। লিটনের ঐতিহাসিক পারফরম্যান্সের দিনে দল শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নিতে পারে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

কালের আলো/এসএ