খুঁজুন
                               
, ,
           

মিথ্যা সংবাদ ও পোস্টের বিরুদ্ধে দেওয়ানি আইনে ক্ষতিপূরণ চান শফিকুল আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫১ অপরাহ্ণ
মিথ্যা সংবাদ ও পোস্টের বিরুদ্ধে দেওয়ানি আইনে ক্ষতিপূরণ চান শফিকুল আলম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও প্রচলিত সংবাদমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য প্রকাশ এবং ব্যক্তির চরিত্রহননের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রেস সচিব ও দৈনিক ওয়াদার সম্পাদক শফিকুল আলম। মিথ্যা সংবাদ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা পোস্টের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সুরক্ষায় মানহানি আইন কার্যকর করা এবং দেওয়ানি আইনের আওতায় জরিমানা বা আর্থিক ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে ‘প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ বিষয়ে মিডিয়া কমিটি ও নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোর গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুল আলম বলেন, বিদ্যমান আইন অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা দিতে পারছে না। বর্তমানে মতপ্রকাশের বড় একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে। ইউটিউবার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সাররা অনেক সময় বড় সংবাদমাধ্যমের চেয়েও বেশি মানুষের ওপর প্রভাব ফেলতে পারেন। তাঁদের বক্তব্য থেকে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি কখনো কখনো সামাজিক নিরাপত্তা নিয়েও সমস্যা দেখা দেয়।

তিনি বলেন, মানুষ রাগ, ক্ষোভ কিংবা বিভিন্ন মতামত প্রকাশে ক্রমেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে এ সময় প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক চিন্তাভাবনার বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হয় না। ফলে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এসব সমস্যা কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, তা নিয়ে ভাবতে হবে।

মানহানি আইন কার্যকরের তাগিদ

শফিকুল আলম বলেন, বাংলাদেশে মানহানিসংক্রান্ত যে আইন রয়েছে, তা কার্যকর করা উচিত। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন ধরে আইনটি থাকলেও এর আওতায় কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে। ফলে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা সংবাদমাধ্যমে অন্যের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করছেন।

তিনি বলেন, দেশে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই—এমন দাবি করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে টেলিভিশন কিংবা ইন্টারনেটে ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য প্রকাশের ঘটনা দেখা যায়। কেউ নিজের নাম দিয়ে অনলাইনে অনুসন্ধান করলে তাঁর বিরুদ্ধে শত শত মিথ্যা সংবাদ পেতে পারেন। এসব তথ্য তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও দেখতে হতে পারে।

শফিকুল আলমের ভাষ্য, এ ধরনের ঘটনা শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সারদের মাধ্যমে ঘটছে না; ক্লিকবেটের কারণে সংবাদপত্রও অনেক সময় এ ধরনের কাজ করছে। এসব সমস্যা প্রচলিত আইন দিয়ে মোকাবিলা করা হবে, নাকি সাইবার আইনের মাধ্যমে—তা নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, প্রচলিত মানহানি আইনে মামলা হলে তা বছরের পর বছর ঝুলে থাকতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি আদালতের রায় চাইলেও তাঁর ক্ষতির দ্রুত ও কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিত করার ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়।

‘মিথ্যা সংবাদে ক্ষতিগ্রস্তদের সুরক্ষা কে দেবে’

শফিকুল আলম বলেন, খারাপ সাংবাদিকতা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা পোস্টের কারণে যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হন, তাঁদের সুরক্ষা কে দেবে—এ প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা এসব ঘটনার শিকার হচ্ছেন।

তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে মানহানির বিষয়টি দেওয়ানি আইনের আওতায় মোকাবিলার যে ব্যবস্থা রয়েছে, বাংলাদেশেও সে ধরনের ব্যবস্থা বিবেচনা করা যেতে পারে। তিনি মানহানিকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করার পরিবর্তে দেওয়ানি আইনের আওতায় প্রতিকার নিশ্চিত করার পক্ষে মত দেন। তবে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে অন্যের চরিত্রহনন করলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শফিকুল আলমের মতে, কোনো সংবাদমাধ্যম মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করে কারও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করলে তার দায় নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে জরিমানা বা আর্থিক ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। যুক্তরাজ্যে সংবাদপত্রগুলোর মামলা হারলে জরিমানা দেওয়ার জন্য বাজেটে অর্থ বরাদ্দ রাখার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বাংলাদেশেও এ ধরনের ব্যবস্থা বিবেচনার কথা বলেন।

‘ফ্রি স্পিচের নামে ওয়াইল্ড ওয়েস্ট তৈরি হচ্ছে’

শফিকুল আলম বলেন, কেউ ভুলবশত কোনো তথ্য প্রকাশ করেছেন, নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে লক্ষ্য করে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়েছেন—তা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে কারও সামাজিক মর্যাদা নষ্ট করার সুযোগ থাকা উচিত নয়।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, কোনো ব্যক্তি সরকারি চুক্তি না পাওয়ার কারণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, সচিব বা যুগ্ম সচিবের বিরুদ্ধে দিনের পর দিন মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করতে পারেন। অথচ এ ধরনের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের প্রতিকার পাওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা নেই।

তাঁর মতে, মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের বিরুদ্ধে কেউ ব্যবস্থা নিতে গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্বের অভিযোগ তুলতে পারেন। তবে মিথ্যা তথ্য প্রকাশের পরিণতি নিয়েও আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।

অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ১৮ মাস কাজ করার সময় তিনি এসব বিষয় কাছ থেকে দেখেছেন উল্লেখ করে শফিকুল আলম বলেন, ভবিষ্যতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

ইন্টারনেটে থেকে যায় মিথ্যা সংবাদ

শফিকুল আলম বলেন, ইন্টারনেটে প্রকাশিত তথ্য শুধু তাৎক্ষণিকভাবে মানুষের কাছে পৌঁছায় না, বরং দীর্ঘদিন থেকে যায়। কেউ জনজীবন থেকে সরে গেলেও তাঁর নাম দিয়ে অনলাইনে অনুসন্ধান করলে পুরোনো নেতিবাচক বা মিথ্যা প্রতিবেদন সামনে আসতে পারে। এতে দীর্ঘমেয়াদে তাঁর সামাজিক মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

তিনি বলেন, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য প্রকাশের ঘটনা দেখা যাচ্ছে। এর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না থাকলে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে না।

নিজেকে একজন সাংবাদিক হিসেবে উল্লেখ করে শফিকুল আলম বলেন, তিনি দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা চান। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অবশ্যই থাকতে হবে, তবে মানুষকে সত্য বলতে হবে। ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে লক্ষ্য করে মিথ্যা তথ্য প্রচার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন নিয়ে আলোচনায় উত্থাপিত বিষয়গুলোর সঙ্গে একমত পোষণ করে তিনি মানহানি আইন কার্যকর করা এবং দেওয়ানি আইনের আওতায় যথাযথভাবে প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ইমরানের ছেলেদের সাক্ষাৎকারের পরই বাদ? পাকিস্তানে ধারাভাষ্য নিয়ে নতুন বিতর্ক

ক্রীড়া ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৭ অপরাহ্ণ
ইমরানের ছেলেদের সাক্ষাৎকারের পরই বাদ? পাকিস্তানে ধারাভাষ্য নিয়ে নতুন বিতর্ক

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কিংবদন্তি ক্রিকেটার ইমরান খানকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের আঁচ কি এবার ক্রিকেটের ধারাভাষ্যকক্ষেও পড়েছে? পাকিস্তান, ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার আসন্ন ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজের ধারাভাষ্য প্যানেলে ইংল্যান্ডের সাবেক দুই অধিনায়ক মাইকেল আথারটন ও নাসের হুসেইনের নাম না থাকায় এমন প্রশ্ন উঠেছে। তবে তাঁদের বাদ পড়ার কারণ সম্পর্কে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সিরিজের জন্য ছয় সদস্যের ধারাভাষ্য প্যানেল ঘোষণা করে পিসিবি। সেখানে পাকিস্তানের সাবেক চার ক্রিকেটার ওয়াকার ইউনিস, আমির সোহেল, বাজিদ খান ও উরুজ মুমতাজের সঙ্গে রয়েছেন শ্রীলঙ্কার রোশান আবেসিংহে এবং ইংল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেটার মার্ক বুচার। উপস্থাপনার দায়িত্বে থাকছেন জয়নব আব্বাস।

ইমরানের ছেলেদের সাক্ষাৎকার ঘিরে বিতর্ক
আথারটন ও হুসেইনকে প্যানেলে না রাখার সিদ্ধান্তের সঙ্গে গত আগস্টে ইমরান খানের দুই ছেলে কাসিম ও সুলাইমান খানের সাক্ষাৎকার নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের মধ্যকার লর্ডস টেস্ট চলাকালে স্কাই স্পোর্টসে প্রচারিত ওই সাক্ষাৎকারটি নিয়েছিলেন আথারটন। প্রায় ১৮ মিনিটের সাক্ষাৎকারে কাসিম ও সুলাইমান তাঁদের বাবার কারাবাস এবং শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, কারাগারে অবহেলা ও নিঃসঙ্গতার মধ্যে রেখে ইমরানের জীবন বিপন্ন করা হচ্ছে।

সাক্ষাৎকারটি ভালোভাবে নেয়নি পিসিবি। ক্রিকেট সম্প্রচারে রাজনৈতিক বিষয় তুলে আনার অভিযোগে স্কাই স্পোর্টসের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায় বোর্ড। এ নিয়ে পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে পাকিস্তান দলের মাঠে না নামার হুমকির খবরও প্রকাশিত হয়েছিল। তবে চাপের মুখেও সাক্ষাৎকারটি প্রচার করে স্কাই স্পোর্টস। অন্যদিকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম পিটিভি সেটি প্রচার করেনি।

ইমরানকে নিয়ে আথারটনের মন্তব্যও আলোচনায়
সাক্ষাৎকারটি প্রচারের পর বিষয়টি নিয়ে নাসের হুসেইনের সঙ্গে একটি পডকাস্টে কথা বলেন আথারটন। সেখানে ইমরানের ছেলেদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দেন তিনি। একই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ ছিল, পাকিস্তান রাষ্ট্র যেন ইমরান খানকে জনপরিসর থেকে প্রায় মুছে ফেলার চেষ্টা করছে।

এই বিতর্কের প্রায় দুই মাস পর পাকিস্তানে অনুষ্ঠেয় ত্রিদেশীয় সিরিজের ধারাভাষ্য প্যানেলে আথারটন ও হুসেইনের অনুপস্থিতি নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে সাক্ষাৎকার কিংবা ইমরানকে নিয়ে তাঁদের মন্তব্যের কারণেই দুজনকে বাদ দেওয়া হয়েছে—এমন কোনো প্রমাণ বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

ইমরানের পক্ষে চিঠি দিয়েছিলেন সাবেক অধিনায়কেরা
ইমরান খানের চিকিৎসা ও কারাগারে তাঁর প্রতি আচরণ নিয়েও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সাবেক অধিনায়কদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা গেছে। গত আগস্টে ২১ জন সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে চিঠি পাঠিয়ে ইমরানের উন্নত চিকিৎসা ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। আথারটন ও হুসেইনও সেই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

ফলে ইমরানকে নিয়ে তাঁদের অবস্থান এবং পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের ধারাভাষ্য প্যানেলে তাঁদের অনুপস্থিতি—দুটি বিষয়কে পাশাপাশি রেখে আলোচনা করছেন অনেকে। তবে এ দুটির মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে, তা নিশ্চিত করে বলার সুযোগ নেই।

ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরু, ফাইনাল ৩১ অক্টোবর
পাকিস্তান, ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরু হয়েছে ১৮ অক্টোবর। সিরিজের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। ২০ অক্টোবর রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তান ও ইংল্যান্ডের ম্যাচ দিয়ে ধারাভাষ্য শুরু করার কথা ওয়াকার ইউনিসের।

২২ অক্টোবর একই মাঠে খেলবে ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা। এরপর টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে। লিগ পর্বের শেষ তিন ম্যাচ হবে ২৫, ২৭ ও ২৯ অক্টোবর। একই মাঠে ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল। লিগ পর্বের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দুই দল শিরোপার লড়াইয়ে নামবে।

আথারটন ও হুসেইনকে বাদ দেওয়ার কারণ স্পষ্ট না হওয়ায় বিতর্কের অবসান এখনো হয়নি। তাঁদের অনুপস্থিতি ইমরান খানকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা জানতে পিসিবির আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যার অপেক্ষায় থাকতে হবে।

কালের আলো/জেএন/এসএ

সান্তোরিনিতে নীল গাউনে সারিকা, ছবিতে মুগ্ধ ভক্তরা

বিনোদন প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৪ অপরাহ্ণ
সান্তোরিনিতে নীল গাউনে সারিকা, ছবিতে মুগ্ধ ভক্তরা

সমুদ্রের নীল জলরাশি, সাদা বাড়ি আর নীল গম্বুজের মনোরম দৃশ্য—গ্রিসের সান্তোরিনির এমন নৈসর্গিক পরিবেশে নীল গাউনে ধরা দিলেন মডেল ও অভিনেত্রী সারিকা সাবরিন। পরিচিত লুকের বাইরে তাঁর এই ভিন্নধর্মী সাজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে কৌতূহল তৈরি করেছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে নিজের ফেসবুক পেজে সান্তোরিনি থেকে কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেন সারিকা। ছবিগুলোতে কখনো নীল রঙের লম্বা গাউনে দাঁড়িয়ে, আবার কখনো বসে ক্যামেরার সামনে পোজ দিতে দেখা যায় তাঁকে।

ছবির পেছনে সাদা বাড়ি, নীল গম্বুজ আর এজিয়ান সাগরের নীল জলরাশি—সব মিলিয়ে সান্তোরিনির চেনা সৌন্দর্যের সঙ্গে সারিকার সাজও যেন একাকার হয়ে উঠেছে।

এজিয়ানের নীল-সাদায় মুগ্ধতা
ছবিগুলোর ক্যাপশনে সারিকা লিখেছেন, ‘এজিয়ান সাগরের স্বপ্ন যেন সত্যি। যেখানে আভিজাত্যের সঙ্গে মিশেছে এজিয়ানের নীল আর সাদা।’

তাঁর পরনের নীল গাউনের সঙ্গে চারপাশের নীল-সাদা পরিবেশের সামঞ্জস্য ছবিগুলোতে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। ভ্রমণের মুহূর্তকে নান্দনিকভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি পোশাক ও পোজেও ভিন্নতার ছাপ রেখেছেন এই অভিনেত্রী।

পরিচিত সারিকার অন্যরকম উপস্থিতি
ছোট পর্দা ও মডেলিং—দুই অঙ্গনেই দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত মুখ সারিকা সাবরিন। বিজ্ঞাপনের মডেল হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পর নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমেও দর্শকের কাছে জায়গা করে নেন তিনি। কাজের বাইরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি নিয়মিত ভাগ করে নেন সারিকা। তবে লম্বা গাউনে তাঁর এমন উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে ব্যতিক্রমী। ফলে নতুন ছবিগুলো ঘিরে ভক্তদের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

সান্তোরিনির নীল-সাদা সৌন্দর্যের মাঝে সারিকার নীল গাউনের এই লুক ভ্রমণের ছবিতে যোগ করেছে ভিন্ন আমেজ। পরিচিত অভিনেত্রীকে নতুন সাজে দেখে অনেক অনুসারীর কাছেই ছবিগুলো হয়ে উঠেছে আকর্ষণীয়।

কালের আলো/এএএন/এসএ

শুরুতে দাপট, মাঝপথে ধস—জিম্বাবুয়ের কাছে অসহায় বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৯ অপরাহ্ণ
শুরুতে দাপট, মাঝপথে ধস—জিম্বাবুয়ের কাছে অসহায় বাংলাদেশ

আবুধাবিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। বল হাতে তাসকিন আহমেদের দুর্দান্ত শুরু এবং ব্যাট হাতে তানজিদ হাসান ও সৌম্য সরকারের ঝোড়ো উদ্বোধনী জুটিতে জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু দুই ইনিংসেই মাঝের ওভারগুলোতে ছন্দ হারিয়ে শেষ পর্যন্ত বড় পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে।

তাসকিনের তোপে শুরুতেই বিপর্যস্ত জিম্বাবুয়ে
টসের পর ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদের তোপের মুখে পড়ে জিম্বাবুয়ে। তাঁর দুর্দান্ত বোলিংয়ে মাত্র ৭ ওভারে ২৪ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারায় দলটি। ওই সময় তাসকিনের বোলিং ফিগার ছিল ৪ ওভারে ১৩ রান দিয়ে ৩ উইকেট।

তবে শুরুতে এমন বিপর্যয়ের মুখে পড়েও ঘুরে দাঁড়ায় জিম্বাবুয়ে। ক্রেইগ আরভিন ও ব্রেন্ডন টেলর চতুর্থ উইকেটে বড় জুটি গড়ে দলকে লড়াইয়ে ফেরান। তাঁদের ব্যাটিংয়ের সামনে মাঝের ওভারগুলোতে কার্যকর প্রতিরোধ গড়তে পারেননি বাংলাদেশের বোলাররা।

টেলর-আরভিনের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় জিম্বাবুয়ে
৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া জিম্বাবুয়েকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন টেলর ও আরভিন। দুজনই স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যাটিং করে রান তোলার গতি সচল রাখেন। তাঁদের ১৭৬ বলের জুটিতে আসে ১৫০ রান, যা ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয়।

অবশেষে সপ্তম বোলার হিসেবে সাইফ হাসানকে আক্রমণে আনেন বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়। সাইফ পরপর দুই ওভারে দুই উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন। তাঁর বলে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন ৮১ রান করা টেলর। পরের ওভারে ৪ রান করা সিকান্দার রাজাকেও ফিরিয়ে দেন সাইফ।

অন্যদিকে, ১০৬ বলে ৯৩ রান করা আরভিনকে ফেরান শরীফুল ইসলাম। তবে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই উইকেটগুলো এলেও ততক্ষণে জিম্বাবুয়ের ইনিংস শক্ত ভিত পেয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ২৭১ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় দলটি।

মাঝের ওভারেই ছন্দ হারায় বাংলাদেশের বোলিং
বাংলাদেশের বোলিংয়ে শুরুটা ছিল আশাব্যঞ্জক। কিন্তু তাসকিনের প্রথম স্পেলের পর অন্য বোলাররা জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানদের চাপে রাখতে পারেননি। মোস্তাফিজুর রহমান ও শরীফুল ইসলাম নিয়মিত উইকেট এনে দিতে ব্যর্থ হন। স্পিনার মোসাদ্দেক হোসেন ও রিশাদ হোসেনও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি।

বিশেষ করে ওয়ানডেতে মাঝের ওভারে উইকেট তুলে নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অন্যতম ভরসা রিশাদ হোসেন এদিন ছিলেন বেশ খরুচে। ৯ ওভারে ৬৬ রান দেন তিনি। ফলে শুরুতে জিম্বাবুয়েকে কোণঠাসা করেও ইনিংসের মাঝপথে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ।

তানজিদ-সৌম্যর ঝোড়ো শুরু, এরপরই ব্যাটিং বিপর্যয়
২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভালো শুরু পায় বাংলাদেশ। তানজিদ হাসান ও সৌম্য সরকার উদ্বোধনী জুটিতে প্রথম ৬ ওভারে তুলে নেন ৪৭ রান। তাঁদের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে মনে হচ্ছিল, জিম্বাবুয়ের দেওয়া লক্ষ্য তাড়া করার মতো অবস্থানেই রয়েছে দলটি।

কিন্তু উদ্বোধনী জুটির পরই বাংলাদেশের ইনিংসে ধস নামে। একের পর এক উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে দলটি। মাঝের ওভারগুলোতে দায়িত্ব নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার কথা ছিল যাঁদের, তাঁদের কেউই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি।

তানজিদ আগের বলে জীবন পাওয়ার পর পরের বলেই ক্যাচ তুলে দেন। সৌম্য সরকারও স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান। এরপর তাওহিদ হৃদয়, নাজমুল হোসেন ও মোসাদ্দেক হোসেন বলের লাইন বুঝতে না পেরে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফেরেন। ফলে ব্যাটিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রতিরোধ গড়ার মতো কেউ ছিলেন না।

শেষ দিকে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা, তবু বড় হার
বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের এমন ব্যর্থতার পর শেষ দিকে রিশাদ হোসেন ও তাসকিন আহমেদ কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করেন। দুজনের ২৬ বলে ৩৬ রানের জুটি হারের ব্যবধান কিছুটা কমালেও ম্যাচের ফল বদলানোর জন্য তা যথেষ্ট ছিল না।

জিম্বাবুয়ের বোলাররা অসাধারণ কিছু করেছেন, এমন নয়; বরং বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ভুল শট নির্বাচন ও দায়িত্বহীন উইকেট বিলিয়ে দেওয়ার প্রবণতাই পরাজয়কে ত্বরান্বিত করেছে। শুরুতে জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হলেও মাঝের ওভারগুলোতে ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই ছন্দ হারানোয় শেষ পর্যন্ত ৯৯ রানের হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।

ফাইনালে উঠতে কঠিন সমীকরণ বাংলাদেশের সামনে
ত্রিদেশীয় সিরিজে টিকে থাকতে বাংলাদেশের সামনে এখন কঠিন চ্যালেঞ্জ। আগামী ২১ অক্টোবর সিরিজের শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে দলটি। ফাইনালে উঠতে হলে ওই ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই। পাশাপাশি ফাইনালে যাওয়ার পথ তৈরি করতে অন্যান্য ফল ও রান রেটের সমীকরণও বাংলাদেশের পক্ষে আসতে হবে।

তাসকিনের দুর্দান্ত বোলিং কিংবা তানজিদ-সৌম্যর ঝোড়ো শুরুর মতো ইতিবাচক দিক থাকলেও পুরো ম্যাচে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে না পারার পুরোনো সমস্যাই আবার সামনে এসেছে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সেই ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে না পারলে সিরিজের ফাইনালে খেলার স্বপ্ন শেষ হয়ে যেতে পারে।

কালের আলো/এএএন/এসএ