খুঁজুন
                               
, ,
           

ইরান যুদ্ধের প্রভাব থাকবে জ্বালানি বাজারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৫ অপরাহ্ণ
ইরান যুদ্ধের প্রভাব থাকবে জ্বালানি বাজারে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও দামে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা আগামী বছরেও অব্যাহত থাকতে পারে। ২০২৭ সালেও যুদ্ধ শুরুর আগের পরিস্থিতিতে জ্বালানি বাজার ফিরে যাওয়ার বিশ্বাসযোগ্য কোনো পথ দেখা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরল।

সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক জ্বালানি সপ্তাহের সম্মেলনে তিনি এ আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। ফাতিহ বিরল জানান, যুদ্ধ শুরুর আগে চলতি বছর বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেশি থাকার পূর্বাভাস ছিল। অর্থাৎ, বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছিল।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের কারণে সেই পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। এর প্রভাবে অপরিশোধিত তেলের পাশাপাশি পরিশোধিত জ্বালানি পণ্যের দামও বেড়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি পরিবহন, শিল্প উৎপাদন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহের জন্য জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। ফলে জ্বালানির সরবরাহে বিঘ্ন এবং দামের অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে এর প্রভাব বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

আইইএ প্রধানের বক্তব্য অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রভাব শুধু বর্তমান সময়ের জ্বালানি বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকার আশঙ্কা নেই। এর রেশ আগামী বছরেও থাকতে পারে। ফলে ২০২৭ সালে জ্বালানি বাজার যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরে যাবে—এমন প্রত্যাশার পক্ষে এখনো বিশ্বাসযোগ্য পথ দেখা যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো এবং সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি হয়ে উঠেছে।

বিশেষ করে যেসব দেশ আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর বেশি নির্ভরশীল, তাদের জন্য সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে গেলে এসব দেশের আমদানি ব্যয় বাড়তে পারে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতেও চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ফাতিহ বিরল সরকার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে জ্বালানি নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে বর্তমান সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা দীর্ঘায়িত হলে দেশগুলোকে বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা, জ্বালানির সাশ্রয়ী ব্যবহার এবং বাজারের ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হতে পারে। তবে আগামী বছর বিশ্ববাজারে সরবরাহ ও দামের পরিস্থিতি ঠিক কতটা বদলাবে, তা সংঘাতের গতিপ্রকৃতি এবং জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থার পুনরুদ্ধারের ওপর নির্ভর করবে।  আইইএর সতর্কবার্তা বলছে, যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা দ্রুত শেষ হওয়ার নিশ্চয়তা নেই। তাই ২০২৭ সালকে সামনে রেখে সরকার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

জাবি থেকে পিএসসির সদস্য হলেন শামীমা সুলতানা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৬ অপরাহ্ণ
জাবি থেকে পিএসসির সদস্য হলেন শামীমা সুলতানা

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সদস্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানা। রোববার (২৫ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৩৮ অনুচ্ছেদের ১ নম্বর উপ-অনুচ্ছেদে দেওয়া ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি তাঁকে জনস্বার্থে পিএসসির সদস্য পদে নিয়োগ দিয়েছেন। তবে এ নিয়োগ কার্যকর হওয়ার ক্ষেত্রে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে তাঁর কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্ত রয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংবিধানের ১৩৯ অনুচ্ছেদের ১ নম্বর উপ-অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দায়িত্বভার গ্রহণের তারিখ থেকে পাঁচ বছর অথবা ৬৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত অধ্যাপক শামীমা সুলতানা পিএসসির সদস্য পদে বহাল থাকবেন। এই দুইয়ের মধ্যে যে শর্তটি আগে পূরণ হবে, সেটিই তাঁর মেয়াদের শেষ সময় হিসেবে গণ্য হবে। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন সরকারি চাকরিতে নিয়োগের জন্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা গ্রহণ, প্রার্থী নির্বাচন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করে। পিএসসির সদস্য হিসেবে অধ্যাপক শামীমা সুলতানার নিয়োগ সেই কমিশনের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হলো।

অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক। জুলাইয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি প্রতিবাদস্বরূপ নিজের বিভাগীয় কার্যালয় থেকে শেখ হাসিনার প্রতিকৃতি সরিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। এ ছাড়া তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁর পিএসসির সদস্য পদে নিয়োগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ অনুযায়ী তাঁর মেয়াদ গণনা করা হবে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

আড়াই বছর ধরে ফসলের মাঠে বিদ্যুতের মরণফাঁদ

কুমিল্লা সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৯ অপরাহ্ণ
আড়াই বছর ধরে ফসলের মাঠে বিদ্যুতের মরণফাঁদ

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলায় ফসলি জমির ওপর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় হেলে পড়ে আছে পল্লী বিদ্যুতের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন লাইনের তিনটি খুঁটি। প্রায় আড়াই বছর ধরে খুঁটিগুলো এ অবস্থায় থাকলেও এখনো স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। খুঁটির ওপর থাকা বিদ্যুতের তারও মাটির খুব কাছাকাছি ঝুলে থাকায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।

উপজেলার উত্তরহাওলা ইউনিয়নের উত্তর ফেনুয়া ও দক্ষিণ ফেনুয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় এ ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দক্ষিণ ফেনুয়া এলাকায় শামীম রাইস মিলের দক্ষিণ পাশে ফসলি জমির মাঝখান দিয়ে চলে গেছে পল্লী বিদ্যুতের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মেইন লাইন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় আড়াই বছর আগে ওই লাইনের একটি খুঁটি বিপজ্জনকভাবে ফসলি জমির ওপর হেলে পড়ে। বিষয়টি পল্লী বিদ্যুৎ অফিসকে জানানো হলে খুঁটিটি সোজা করার পরিবর্তে পাশে আরেকটি খুঁটি বসিয়ে কোনোমতে ঠেকনা দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে একই লাইনের আরও দুটি খুঁটি হেলে পড়ে। এরপর থেকে তিনটি খুঁটিই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। খুঁটিগুলোর ওপর থাকা বিদ্যুতের তারও মাটি থেকে খুব কাছাকাছি ঝুলে আছে। ফলে জমিতে কৃষিকাজ করতে গিয়ে বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একাধিকবার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ অফিসকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, জমিতে হালচাষ, সেচ দেওয়া ও ফসল কাটার সময় তাঁদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। বিদ্যুতের খুঁটি ও ঝুলে থাকা তারের কারণে তাঁরা সব সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় থাকেন। কেউ কেউ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাটি এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন। বিশেষ করে কৃষি মৌসুমে ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার কিংবা হালচাষে ব্যবহৃত গবাদিপশু নিয়ে জমিতে চলাচলের সময় ঝুলে থাকা তারের সংস্পর্শে আসার আশঙ্কা রয়েছে। এতে কৃষক, শ্রমিক ও কৃষিকাজে ব্যবহৃত প্রাণী—সবকিছুর নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। বর্ষা মৌসুমে জমিতে পানি জমলে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে কেউ এলে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। তাই দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের বিপদের মুখে পড়তে পারেন মাঠে কাজ করা মানুষ।

স্থানীয় কৃষক শামীম বলেন, “আমরা সব সময় আতঙ্কের মধ্যে মাঠে কাজ করি। আশপাশের ঘরবাড়ির মানুষও নিজেদের জমিতে যেতে ভয় পান। একটু অসাবধান হলেই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। বিষয়টি পল্লী বিদ্যুৎ অফিসকে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।” দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় খুঁটিগুলো পড়ে থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। তাঁদের দাবি, দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। ফসলি জমিতে নিরাপদে যাতায়াত ও কৃষিকাজ নিশ্চিত করতে বিদ্যুতের লাইনটি দ্রুত মেরামত করা জরুরি।

এ বিষয়ে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪-এর নাথেরপেটুয়া সাব-জোনাল অফিসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) আহসান হাবীব বলেন, শিগগিরই সরেজমিনে পরিদর্শন করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা খুঁটিগুলো কবে নাগাদ মেরামত করা হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা জানা যায়নি। এখন স্থানীয় কৃষকদের প্রত্যাশা, দুর্ঘটনার অপেক্ষা না করে দ্রুত হেলে পড়া খুঁটিগুলো সোজা করা হবে এবং ঝুলে থাকা তার নিরাপদ উচ্চতায় স্থাপন করা হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

রপ্তানি কমছে, তবু ইউরোপের ডেনিমে এক নম্বর বাংলাদেশ

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০১ অপরাহ্ণ
রপ্তানি কমছে, তবু ইউরোপের ডেনিমে এক নম্বর বাংলাদেশ

ইউরোপের ডেনিম বাজারে বাংলাদেশের শীর্ষস্থান অটুট, কিন্তু রপ্তানি আয়ের ধারায় স্বস্তি নেই। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) বাংলাদেশের ডেনিম রপ্তানি কমেছে ৫.৮৫ শতাংশ। একই সঙ্গে কমেছে বাজার হিস্যা। তবে আগস্টে রপ্তানি বেড়েছে ১২.৭১ শতাংশ, যা দীর্ঘ সময়ের মন্দা পরিস্থিতির মধ্যে নতুন আশার ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে পাকিস্তান ও তুরস্কের মতো প্রধান প্রতিযোগীদের রপ্তানিতে পতন, অন্যদিকে মিসর ও চীনের দ্রুত উত্থান—সব মিলিয়ে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান এখন এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে।

  • আট মাসে রপ্তানি কমেছে ৫.৮৫ শতাংশ, বাজার হিস্যা নেমেছে ২৯.৪ শতাংশে; আগস্টে ঘুরেছে প্রবৃদ্ধির চাকা
  • পাকিস্তানের চেয়ে রপ্তানি আয় ৩৪ কোটি ইউরো বেশি; তবে মিসর-চীনের উত্থানে বাড়ছে প্রতিযোগিতার চাপ

ইউরোস্ট্যাটের তথ্য বলছে, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ইইউতে বাংলাদেশ থেকে ডেনিম আমদানির মূল্য দাঁড়িয়েছে ৮৬ কোটি ৯১ লাখ ইউরো। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৯২ কোটি ৩১ লাখ ইউরো। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি আয় কমেছে ৫ কোটি ৪০ লাখ ইউরো। শুধু রপ্তানির অঙ্কেই নয়, বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারত্বেও এই পতনের ছাপ পড়েছে। ইইউর মোট ডেনিম আমদানিতে বাংলাদেশের হিস্যা গত বছরের প্রায় ২৯.৯ শতাংশ থেকে কমে ২৯.৪ শতাংশে নেমেছে।

রপ্তানি কমছে আরও বেশি
ইউরোপের ডেনিম বাজারে চাহিদার দুর্বলতা বাংলাদেশের রপ্তানি কমার অন্যতম প্রেক্ষাপট। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বিশ্ববাজার থেকে ইইউর মোট ডেনিম আমদানি কমেছে ৪.৪০ শতাংশ। আমদানির মূল্য দাঁড়িয়েছে ২৯৫ কোটি ৬২ লাখ ইউরো। বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে আমদানি কমেছে ৫.৮৫ শতাংশ। অর্থাৎ বাজারের সামগ্রিক সংকোচনের চেয়ে বাংলাদেশের রপ্তানি হ্রাসের হার বেশি। এই ব্যবধানই বাজার হিস্যা কমার ব্যাখ্যা দেয়। ইউরোপে ডেনিমের চাহিদা কমে যাওয়ার প্রভাব সব সরবরাহকারীর ওপর পড়লেও বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে। তবে সেই অবস্থান ধরে রাখার পাশাপাশি বাজারের অংশীদারত্ব বাড়ানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

আগস্টে স্বস্তি, ফিরছে কি প্রবৃদ্ধি?
আট মাসের হতাশাজনক হিসাবের মধ্যে ব্যতিক্রম আগস্ট। ওই মাসে ইইউতে বাংলাদেশের ডেনিম রপ্তানি বেড়ে ১৩ কোটি ৪১ লাখ ইউরো হয়েছে। গত বছরের আগস্টে এ আয় ছিল ১১ কোটি ৯০ লাখ ইউরো। সেই হিসাবে প্রবৃদ্ধি ১২.৭১ শতাংশ। একই সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ইইউর ডেনিম আমদানি বেড়েছে ১১.২৩ শতাংশ। অর্থাৎ ইউরোপের বাজারে আমদানি বাড়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে আরও দ্রুত হারে।

এর ফলে আগস্টে ইইউর ডেনিম আমদানিতে বাংলাদেশের হিস্যা ৩০.৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩১.২ শতাংশ হয়েছে। তবে এক মাসের এই প্রবৃদ্ধি দিয়ে সামগ্রিক পরিস্থিতির মোড় ঘুরেছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সময় এখনো আসেনি। বরং আগস্টের ইতিবাচক ধারা পরবর্তী মাসগুলোতেও বজায় থাকে কি না, সেটিই হবে বাংলাদেশের রপ্তানি পুনরুদ্ধারের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

পাকিস্তানের চেয়ে বড় ব্যবধান, চাপে তুরস্কও
প্রতিযোগীদের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান এখনো বেশ শক্তিশালী। ইইউর দ্বিতীয় বৃহত্তম ডেনিম সরবরাহকারী পাকিস্তানের রপ্তানি জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে ৭.৮৮ শতাংশ কমে ৫২ কোটি ৫৫ লাখ ইউরো হয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে দেশটির রপ্তানি আয়ের ব্যবধান ৩৪ কোটি ৩৬ লাখ ইউরো।

তৃতীয় বৃহত্তম সরবরাহকারী তুরস্কের পরিস্থিতি আরও প্রতিকূল। আট মাসে দেশটির ডেনিম রপ্তানি ২১.০৮ শতাংশ কমে ৪৩ কোটি ৮৩ লাখ ইউরোতে দাঁড়িয়েছে। ইইউর বাজারে তুরস্কের হিস্যা ১৪.৮২ শতাংশ। এ ছাড়া তিউনিশিয়ার রপ্তানি কমেছে ৬.৪৪ শতাংশ, কম্বোডিয়ার ৬.৪৭ শতাংশ এবং মরক্কোর ১৪.৪৮ শতাংশ। অর্থাৎ বাংলাদেশের মতো প্রধান সরবরাহকারীদের বেশ কয়েকটি দেশই ইউরোপের বাজারে রপ্তানি সংকোচনের মুখে রয়েছে। তবে প্রতিযোগীদের রপ্তানি কমে যাওয়াই বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা নিশ্চিত করবে না; নিজেদের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ফিরিয়ে আনাই এখানে মূল বিষয়।

মিসর-চীনের উত্থানে বদলাচ্ছে প্রতিযোগিতা
ইউরোপের ডেনিম বাজারে বাংলাদেশের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হলো, কয়েকটি প্রতিযোগী দেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে মিসরের রপ্তানি ৩১.৪৬ শতাংশ বেড়ে ১৮ কোটি ৮১ লাখ ইউরো হয়েছে। চীনের রপ্তানি বেড়েছে ১৭.৭০ শতাংশ, যার মূল্য ১৯ কোটি ৭১ লাখ ইউরো।

ছোট পরিসর থেকে প্রবৃদ্ধির দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে ভিয়েতনাম ও ভারতও। আট মাসে ভিয়েতনামের রপ্তানি ৪৫.৩৮ শতাংশ বেড়ে ৫ কোটি ৪০ লাখ ইউরো এবং ভারতের রপ্তানি ১৮.৬২ শতাংশ বেড়ে ৩ কোটি ১৪ লাখ ইউরো হয়েছে। আগস্টে মিসরের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ছিল ৫৯.৫৭ শতাংশ। একই মাসে পাকিস্তানের রপ্তানি বেড়েছে ১৪.৯৯ শতাংশ। বিপরীতে তুরস্কের রপ্তানি কমেছে ১৩.২৬ শতাংশ।

পরিসংখ্যানের এই বৈপরীত্য দেখাচ্ছে, ইউরোপের বাজারে সব সরবরাহকারী একই ধরনের পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে না। কোনো দেশ রপ্তানি হারাচ্ছে, আবার কোনো দেশ বাড়তি অর্ডার বা বাজারের সুযোগ কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। মিসর ও চীনের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে বাজারে প্রতিযোগিতার চাপ আরও বাড়তে পারে।

বেশি মূল্য সংযোজনেও জোর
বাংলাদেশের ডেনিম শিল্পের বড় শক্তি দীর্ঘদিনের উৎপাদন অভিজ্ঞতা, দক্ষ জনবল, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং প্রতিষ্ঠিত সরবরাহব্যবস্থা। এসব সুবিধা কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী বড় পরিসরে পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। তবে বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে এই সক্ষমতাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল মনে করেন, দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ ও উৎপাদন অভিজ্ঞতা ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান গড়ে তুলেছে। তাঁর মতে, মূল্যস্ফীতি, দুর্বল আমদানি চাহিদা ও জ্বালানিসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ ইউরোপের পোশাক বাজারকে চাপে রেখেছে, যার প্রভাব বিভিন্ন দেশের রপ্তানিকারকদের ওপর পড়ছে।

এই বাস্তবতায় উচ্চমূল্যের ডেনিম পণ্য উৎপাদন, প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। শুধু বেশি পরিমাণে পণ্য রপ্তানি নয়, প্রতি ইউনিট পণ্যে মূল্য সংযোজন বাড়াতে পারলেও রপ্তানি আয়ের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

কালের আলো/টিইকে/এমকে