খুঁজুন
                               
, ,
           

কুমিল্লার হোসেনপুরে পাখির কলকাকলিতে মুখর গ্রাম

কুমিল্লা সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৩ পূর্বাহ্ণ
কুমিল্লার হোসেনপুরে পাখির কলকাকলিতে মুখর গ্রাম

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার হোসেনপুর গ্রাম এখন হাজারো পাখির নিরাপদ আশ্রয়স্থল। বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতেই গ্রামের গাছপালায় ফিরতে শুরু করে নানা প্রজাতির পাখি। ডানা ঝাপটানোর শব্দ আর পাখির কলকাকলিতে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। গ্রামবাসীর ভালোবাসা, মমত্ববোধ ও সুরক্ষায় গত সাত বছর ধরে গড়ে উঠেছে পাখিদের এই আপন আবাস।

সরেজমিন দেখা যায়, ছায়াঘেরা হোসেনপুর গ্রামের উঁচু গাছগুলোর ডালে ডালে পাখির বিচরণ। সাদা বক, পানকৌড়ি, শালিক, চড়ুই ও টিয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি এখানে আশ্রয় নেয়। ভোরে খাবারের সন্ধানে দলবেঁধে উড়ে যায় তারা। দিনের আলো ফুরিয়ে আসার আগেই আবার ফিরে আসে পরিচিত নীড়ে। রাত কাটিয়ে ভোর হতেই শুরু হয় তাদের ব্যস্ততা।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাখির প্রতি গ্রামবাসীর রয়েছে গভীর মমতা। সাত বছরে মানুষ ও পাখির মধ্যে গড়ে উঠেছে এক নিবিড় সম্পর্ক। পাখিরা গ্রামটিকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নিয়েছে, আর গ্রামবাসীও তাদের সুরক্ষায় সচেতন রয়েছেন। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সের মানুষই পাখি শিকার ও ক্ষতি করার বিরুদ্ধে সোচ্চার।

পাখির অবাধ বিচরণ ও মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন নানা বয়সী দর্শনার্থী। নিরিবিলি গ্রামীণ পরিবেশে পাখির এমন নিরাপদ বিচরণ দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন তাঁরা। স্থানীয়দের মতে, পাখির উপস্থিতি গ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশের প্রতি মানুষের দায়িত্ববোধও জাগিয়ে তুলছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কুমিল্লা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ হুমায়ূন কবির মাসউদ বলেন, হোসেনপুরের পাখির অভয়ারণ্য টিকিয়ে রাখতে প্রথমেই গাছপালা সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি পাখি শিকার পুরোপুরি বন্ধে স্থানীয়দের সমন্বয়ে একটি সচেতনতামূলক কমিটি গঠন করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, নিরাপত্তা ও ভালোবাসার পরিবেশ পেলে মানুষ যেমন কোনো স্থানে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে, তেমনি পাখিরাও নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে আসে। হোসেনপুরের মানুষ পাখিদের যেভাবে আগলে রেখেছেন, তা প্রকৃতি ও মানুষের সহাবস্থানের একটি ইতিবাচক উদাহরণ।

গ্রামের বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, তাঁরা পাখিদের বিরক্ত করেন না। গ্রামে কেউ পাখি শিকার করতে পারে না। এ কারণে পাখিরা এই গ্রামকে নিরাপদ আশ্রয় মনে করে।

একই গ্রামের কলেজছাত্র ইমরান আহমেদ বলেন, পাখির কলকাকলিতে তাঁদের গ্রাম সব সময় মুখর থাকে। এখানে পাখি শিকার নিষিদ্ধ। পাখির আগমনে গ্রামের পরিবেশ আরও সুন্দর হয়েছে। এ দৃশ্য দেখতে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন।

সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন চন্দ্র রায় বলেন, হোসেনপুর গ্রামের পাখি সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। কেউ যাতে পাখি শিকার করতে না পারে, সে জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় হোসেনপুর গ্রামের এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। তবে পাখিদের নিরাপদ আবাসস্থল টিকিয়ে রাখতে গাছপালা সংরক্ষণ, শিকার বন্ধ এবং স্থানীয় মানুষের সচেতনতা অব্যাহত রাখা জরুরি। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে হোসেনপুরকে পাখির নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ধরে রাখা সম্ভব।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ছাতিম ফুলের ঘ্রাণে মুগ্ধ মৌলভীবাজার

মৌলভীবাজার সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৮ পূর্বাহ্ণ
ছাতিম ফুলের ঘ্রাণে মুগ্ধ মৌলভীবাজার

হেমন্তের আগমনে সুগন্ধি ফুলে ভরে উঠেছে মৌলভীবাজারের কয়েকটি এলাকার ছাতিম গাছ। ডালে ডালে ফুটে থাকা সাদা ফুলের মিষ্টি সুবাস আর অপরূপ সৌন্দর্যে মুগ্ধ হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা। তবে একসময় গ্রামবাংলার পথঘাট ও বনজঙ্গলে প্রচুর দেখা গেলেও বর্তমানে কমছে ঐতিহ্যবাহী এই গাছের সংখ্যা।

মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর-ফেঞ্চুগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের পাশে, শ্রীমঙ্গল উপজেলার সিন্দুরখান সড়কের কাকিয়ারপুল ও বিরাহিমপুর এলাকায় রয়েছে তিনটি বিশালাকার ছাতিম গাছ। হেমন্তের শুরু থেকেই গাছগুলোর ডালপালা ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে। ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এবং সুবাস নিতে বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ সেখানে ভিড় করছেন।

বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতেও ছাতিম ফুলের বিশেষ স্থান রয়েছে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে এই গাছ। শান্তিনিকেতনে ছাতিম গাছের নিচে বসে তিনি লেখালেখি ও পাঠদান করতেন। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ছাতিমের পাতা উপহার দেওয়ার ঐতিহ্যও রয়েছে সেখানে।

কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাসেও ছাতিম ফুলের সৌন্দর্য ও সুবাসের বর্ণনা পাওয়া যায়। কবি মোহাম্মদ জায়েদ আজিজের কবিতাতেও উঠে এসেছে এই ফুলের প্রতি মুগ্ধতা। সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বিশেষভাবে পরিচিত ছাতিম ফুল হেমন্তের প্রকৃতিতেও যোগ করেছে অনন্য সৌন্দর্য।

ছাতিম একটি সুগন্ধি ফুলের গাছ। এর বৈজ্ঞানিক নাম Alstonia scholaris। গাছটি Apocynaceae পরিবারের অন্তর্ভুক্ত এবং অনুকূল পরিবেশে প্রায় ৪০ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। ভারতীয় উপমহাদেশসহ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ছাতিম পরিচিত একটি বৃক্ষ। সংস্কৃত ভাষায় একে ‘সপ্তপর্ণ’ বা ‘সপ্তপর্ণা’ বলা হয়।

বাংলাদেশের আর্দ্র ও জলসিক্ত পরিবেশে ছাতিম গাছ জন্মাতে দেখা যায়। এর নরম কাঠ দিয়ে ব্ল্যাকবোর্ড, পেনসিল ও প্যাকিংবক্স তৈরি করা হয়। গাছটির ছাল ও আঠা ঐতিহ্যগতভাবে বিভিন্ন লোকজ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে এসব ঔষধি ব্যবহারের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ প্রয়োজন।

একসময় বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের রাস্তার পাশে, বন-জঙ্গলে ও বসতবাড়ির আশপাশে প্রচুর ছাতিম গাছ দেখা যেত। কিন্তু কাঠের বাণিজ্যিক মূল্য তুলনামূলক কম হওয়ায় গাছটি রোপণে মানুষের আগ্রহ কমেছে। পাশাপাশি নির্বিচারে গাছ কাটা ও বসতবাড়ি নির্মাণের কারণে অন্যান্য বৃক্ষের সঙ্গে ছাতিমও হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃতি থেকে।

শ্রীমঙ্গল আনওয়ারুল উলুম ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাফসা খাতুন বলেন, একসময় তাঁদের এলাকায় অনেক ছাতিম গাছ ছিল। হেমন্তে ফুল ফুটলে চারপাশ সুগন্ধে ভরে উঠত। ছোটবেলায় মা-চাচিদের কাছে তিনি এই গাছের সৌন্দর্যের পাশাপাশি এর ঐতিহ্যগত ঔষধি ব্যবহারের কথাও শুনেছেন।

তিনি আরও বলেন, কাঠের বাণিজ্যিক মূল্য কম হওয়ায় বর্তমানে ছাতিম গাছ রোপণে মানুষের আগ্রহ কম। ফলে ক্রমেই কমছে এর সংখ্যা। আগামী প্রজন্মের কাছে এই ঐতিহ্যবাহী গাছের পরিচয় ধরে রাখতে ছাতিম সংরক্ষণ ও নতুন করে গাছ লাগানো জরুরি।

হেমন্তে ছাতিম ফুলের তীব্র সুবাস প্রকৃতিকে মোহিত করলেও গাছটির সংখ্যা কমে যাওয়া পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রশ্ন সামনে এনেছে। তাই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ছাতিম গাছ সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিকল্পিতভাবে নতুন গাছ রোপণ করা প্রয়োজন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ভোরে শীতের ছোঁয়া, দুপুরে গরম দুমকিতে

পটুয়াখালী সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৪৫ পূর্বাহ্ণ
ভোরে শীতের ছোঁয়া, দুপুরে গরম দুমকিতে

এলাকায় ভোরের কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় শীতের আগমনী বার্তা অনুভূত হচ্ছে। দিনের বেলায় রোদের তাপে গরমের অনুভূতি থাকলেও শেষ রাত থেকে সকাল পর্যন্ত আবহাওয়ায় মিলছে হালকা শীতের ছোঁয়া।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) ভোরে দুমকি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হালকা কুয়াশা দেখা যায়। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদ, ফসলের মাঠ, নদীর তীর ও খোলা জায়গায় কুয়াশার উপস্থিতি ছিল স্পষ্ট। সূর্য ওঠার পর ধীরে ধীরে কুয়াশা কেটে গেলেও ভোরের শীতল আবহাওয়া ঋতু পরিবর্তনের জানান দিচ্ছে।

উপজেলার পাঙ্গাশিয়া, শ্রীরামপুর, লেবুখালী, আঙ্গারিয়া ও মুরাদিয়া ইউনিয়নের গ্রামীণ জনপদে তৈরি হয়েছে শীতের আগমনী আমেজ। ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশিরবিন্দু আর নদীর ওপর হালকা কুয়াশা প্রকৃতিতে যোগ করেছে ভিন্ন সৌন্দর্য।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক দিন ধরে শেষ রাত ও ভোরের দিকে আবহাওয়ায় পরিবর্তন অনুভূত হচ্ছে। দিনের বেলায় গরম থাকলেও রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাতাসে শীতলতা বাড়ছে। বিশেষ করে নদীতীরবর্তী ও খোলা এলাকায় শীতের অনুভূতি তুলনামূলক বেশি।

ভোরে কাজে বের হওয়া কৃষক, জেলে, দিনমজুর ও পথচারীরা হালকা শীত অনুভব করছেন। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোদের তাপে আবারও গরম অনুভূত হচ্ছে। ফলে একই দিনে সকাল ও দুপুরে আবহাওয়ার ভিন্ন রূপের মুখোমুখি হচ্ছেন স্থানীয়রা।

দুমকি ছাড়াও পটুয়াখালীর কলাপাড়া, গলাচিপা ও রাঙাবালী উপজেলার গ্রামীণ জনপদে ঋতু পরিবর্তনের প্রভাব দেখা যাচ্ছে। নদী-নালা, খাল-বিল ও বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠঘেরা দক্ষিণাঞ্চলে হেমন্তের এ সময়ে ভোরের কুয়াশা ও শিশির প্রকৃতিতে স্বতন্ত্র আবহ তৈরি করে।

বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, এখন হেমন্তকাল। এ সময় রাতের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। বাতাসের জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে ভোরে কুয়াশা ও শিশিরের সৃষ্টি হয়।

তবে এখনো পুরোদমে শীত নামেনি। দিনের তাপমাত্রা তুলনামূলক বেশি থাকায় গরমের অনুভূতিও রয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, নভেম্বরের শেষ দিকে শীতের প্রকোপ আরও বাড়তে পারে।

শীতের তীব্রতা এখনো অনুভূত না হলেও ভোরের কুয়াশা, শিশিরভেজা ঘাস ও হিমেল বাতাসে দক্ষিণাঞ্চলের প্রকৃতিতে স্পষ্ট হয়ে উঠছে শীতের আগমনী বার্তা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ঢাকা-কক্সবাজার রুটে বাড়ল ট্রেন, নতুন সেবা মহানগর এক্সপ্রেসের

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫১ অপরাহ্ণ
ঢাকা-কক্সবাজার রুটে বাড়ল ট্রেন, নতুন সেবা মহানগর এক্সপ্রেসের

ঢাকা থেকে কক্সবাজার রেলপথে যাত্রী পরিবহনের সুযোগ বাড়াতে এই রুটে যুক্ত হয়েছে মহানগর এক্সপ্রেস। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী ট্রেনটির গন্তব্য কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এতে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী বিভিন্ন জেলার যাত্রীরা সরাসরি ট্রেনে কক্সবাজার যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টায় রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে মহানগর এক্সপ্রেস। ট্রেনটির প্রথম যাত্রা উপলক্ষে স্টেশনে উপস্থিত ছিলেন রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ও প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। এ সময় রেলপথ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ রেলওয়ের সূচি অনুযায়ী, সপ্তাহের রোববার ছাড়া প্রতিদিন রাত সাড়ে ৮টায় ঢাকা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে ছাড়বে ট্রেনটি। রাত ২টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রামে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখানে যাত্রাবিরতির পর রাত ৩টায় আবার যাত্রা শুরু করে পরদিন সকাল ৬টার দিকে কক্সবাজারে পৌঁছানোর কথা।

ফেরার পথে সকাল ৯টায় কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছাড়বে মহানগর এক্সপ্রেস। চট্টগ্রামে যাত্রাবিরতির পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকায় পৌঁছানোর সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাওয়ার পথে ট্রেনটি বিমানবন্দর, নরসিংদী, ভৈরব বাজার, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, কসবা, কুমিল্লা, লাকসাম, নাঙ্গলকোট, ফেনী ও চট্টগ্রাম স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেবে। ফেরার পথেও এসব স্টেশনে থামার কথা রয়েছে। তবে সীতাকুণ্ডের কুমিরা স্টেশনে যাত্রাবিরতি রাখা হয়নি।

রেলওয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত মহানগর এক্সপ্রেসের ভাড়া আসনশ্রেণিভেদে ৬৮৫ থেকে ১ হাজার ৫৭০ টাকা। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ভাড়া ২৪০ থেকে ৫৪৭ টাকা। ট্রেনটিতে শোভন চেয়ার, স্নিগ্ধা, এসি সিট ও এসি বার্থ শ্রেণির আসন রয়েছে। যাত্রীরা বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইট, রেল সেবা অ্যাপ এবং অনুমোদিত স্টেশন কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।

এর আগে ঢাকা থেকে কক্সবাজার রুটে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস চলাচল করত। অন্যদিকে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার রুটে চলাচল করত সৈকত এক্সপ্রেস ও প্রবাল এক্সপ্রেস। মহানগর এক্সপ্রেসের রুট সম্প্রসারণে কক্সবাজারগামী ট্রেনের সেবা আরও বিস্তৃত হলো।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, নতুন এই সেবার ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের মধ্যবর্তী জেলাগুলোর যাত্রীদের কক্সবাজার যাতায়াত সহজ হবে। এতে পথে পরিবহন পরিবর্তনের ঝামেলা কমার পাশাপাশি পর্যটন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে এ সুবিধা পুরোপুরি নিশ্চিত করতে সময়সূচি মেনে ট্রেন পরিচালনা, টিকিটের পর্যাপ্ততা ও যাত্রীসেবার মান বজায় রাখা জরুরি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি