খুঁজুন
                               
, ,
           

জুহি চাওলার পরিবারে দুঃসংবাদ, উদ্বিগ্ন ভক্তরা

বিনোদন ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ
জুহি চাওলার পরিবারে দুঃসংবাদ, উদ্বিগ্ন ভক্তরা

বলিউড অভিনেত্রী জুহি চাওলার পরিবারে দুঃসংবাদ। হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে তাঁর শাশুড়ি, শিল্পপতি জয় মেহতার মা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থা বা হাসপাতালে ভর্তির কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।

এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করছেন জুহির অনুরাগীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর প্রিয় অভিনেত্রীর পরিবারের সদস্যের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন তাঁরা। তবে এ বিষয়ে এখনো জুহি চাওলা কিংবা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শাশুড়ির সঙ্গে জুহির সম্পর্ক
জুহি চাওলার সঙ্গে তাঁর শাশুড়ির সম্পর্কের একটি আবেগঘন অধ্যায় রয়েছে। বিয়ের সময় বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের একজন ছিলেন জুহি। তবে নতুন জীবনে পা রাখার আগে ব্যক্তিগত জীবনে বড় ধাক্কা সামলাতে হয়েছিল তাঁকে। বিয়ের এক বছর আগে মাকে হারান অভিনেত্রী। একদিকে মাকে হারানোর শোক, অন্যদিকে বিয়ের পর অভিনয়জীবনে সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে দুশ্চিন্তা—সব মিলিয়ে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।

জানা যায়, নিজের উদ্বেগের কথা হবু শাশুড়ির কাছে আবেগাপ্লুত হয়ে তুলে ধরেছিলেন জুহি। তাঁর মানসিক অবস্থা বুঝতে পেরে বিয়ের আয়োজন ছোট পরিসরে করার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার।

জাঁকজমকের বদলে ঘরোয়া আয়োজন
জুহি ও জয় মেহতার বিয়েতে বড় আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা সীমিত করা হয়। প্রায় দুই হাজার অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা বাতিল করে পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিতিতে ঘরোয়া পরিবেশে বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জুহির জীবনের সেই কঠিন সময়ে শাশুড়ির সহমর্মিতা ও বোঝাপড়ার বিষয়টি তাঁদের সম্পর্কের বিশেষ দিক হিসেবে আলোচিত হয়ে আসছে।

এদিকে, হাসপাতালে ভর্তি জুহির শাশুড়ির বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য না থাকায় তাঁর সুস্থতা নিয়ে অনুরাগীদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য এলে পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে।

কালের আলো/এএএন/জেএন

জুয়ার নেশায় নিঃস্ব, এজেন্টদের সম্পদের পাহাড়

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২০ পূর্বাহ্ণ
জুয়ার নেশায় নিঃস্ব, এজেন্টদের সম্পদের পাহাড়

স্মার্টফোনের পর্দায় এক ক্লিকেই বাজি, মুহূর্তেই জেতার স্বপ্ন—আর পরক্ষণেই নিঃস্ব হওয়ার ফাঁদ। এই প্রলোভনে বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে অনলাইন জুয়ার ভয়াবহ নেটওয়ার্ক। জুয়ার নেশায় বুঁদ হয়ে আর্থিক সর্বস্ব হারাচ্ছেন অনেকে; কেউ কেউ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে জড়িয়ে পড়ছেন অপরাধে। অন্যদিকে, বিদেশ থেকে পরিচালিত জুয়ার সাইটের দেশীয় এজেন্টরা কমিশন, গ্রাহকের জমা অর্থ ও লেনদেন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গড়ে তুলছেন লাভজনক নেটওয়ার্ক। এর সঙ্গে বাড়ছে অবৈধ অর্থের প্রবাহ ও বিদেশে অর্থ পাচারের আশঙ্কা।

  • অনলাইন বেটিংয়ে ৮৩০ কোটি টাকার বাজার
  • কমিশনের ব্যবসায় ফুলেফেঁপে ওঠার অভিযোগ
  • জুয়াড়িদেরও ধরছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে পাওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, দেশে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত মানুষের সংখ্যা ৫০ লাখ ছাড়িয়েছে। কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা না গেলে ২০২৭ সালের মধ্যে এই সংখ্যা দুই কোটিতে পৌঁছাতে পারে। একই প্রতিবেদনে অনলাইন জুয়ার বাজারের আকার প্রায় ৮৩০ কোটি টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। বাজারটি বছরে ৪ দশমিক ৭ থেকে ৬ দশমিক ১ শতাংশ হারে বাড়ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এই পরিসংখ্যান শুধু আসক্ত মানুষের সংখ্যা কিংবা জুয়ার বাজারের আকারে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তরুণদের আর্থিক নিরাপত্তা, পারিবারিক স্থিতিশীলতা, ডিজিটাল লেনদেনের অপব্যবহার এবং সংঘবদ্ধ আর্থিক অপরাধের ঝুঁকি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একদিকে জুয়ার এজেন্ট ও সমন্বয়কারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে, অন্যদিকে নজরদারিতে রাখছে জুয়ায় অংশগ্রহণকারীদেরও।

বিদেশি প্ল্যাটফর্ম, দেশীয় অর্থের জোগান
গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশ থেকে পরিচালিত অনলাইন জুয়ার সাইটগুলোর বাংলাদেশি গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ, অ্যাকাউন্ট খোলা এবং অর্থ জমা ও উত্তোলনের কাজে স্থানীয় এজেন্টরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিকাশ, নগদ ও রকেটের মতো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে এসব লেনদেন সম্পন্ন করা হয়। ফলে অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম শুধু ইন্টারনেটে বাজি ধরার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; এর পেছনে তৈরি হয়েছে গ্রাহক সংগ্রহ ও অর্থ ব্যবস্থাপনার পৃথক নেটওয়ার্ক।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এজেন্টরা নতুন গ্রাহক সংগ্রহের কমিশন, গ্রাহকের জমা করা অর্থের নির্দিষ্ট অংশ এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে মাসিক বেতন পান। এই আর্থিক প্রণোদনাই জুয়ার বাজার সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক অভিযানে বড় এজেন্ট ও সমন্বয়কারীদের গ্রেপ্তারের ঘটনাও সামনে এসেছে। গত ২৬ আগস্ট রাজধানীর শাজাহানপুর থেকে অহিদুর রহমান (৪৩) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তিনি আন্তর্জাতিক অনলাইন জুয়ার একাধিক সাইটের প্রশাসক ও সুপার এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছিল। তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে জুয়ার অর্থ দিয়ে জমি, গাড়িসহ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও ওঠে। এ ছাড়া সুমন রায়, স্নিগ্ধ সিকদার ও আনোয়ার নামে আরও কয়েকজনকে ঘিরে অনলাইন জুয়ার দেশীয় নেটওয়ার্কের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

সিআইডির পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ জানান, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলা এবং অনলাইন ক্যাসিনোকে কেন্দ্র করে এসব প্ল্যাটফর্মে অর্থ লেনদেন চলে। এজেন্টরা অর্থ জমা ও উত্তোলন ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি নতুন গ্রাহকদের সহায়তা ও কাস্টমার সাপোর্টের দায়িত্বও পালন করেন।

জুয়াড়িদের বিরুদ্ধেও অভিযান
অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযানের পরিধি এখন শুধু পরিচালনাকারী ও এজেন্টদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। জুয়ায় অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গত ১৩ অক্টোবর রাজধানীর আদাবরে অনলাইন জুয়া খেলার সময় এক যুবককে আটক করা হয়। ১৪ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার খাদেমপাড়ায় পাঁচজন এবং ২০ অক্টোবর গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে আটজনকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়। এর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও পাবনার আতাইকুলায়ও অনলাইন জুয়ায় জড়িত থাকার অভিযোগে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছিল।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, জুয়ায় অর্থ হারিয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়া ব্যক্তিদের কেউ কেউ মাদক, চুরি ও ছিনতাইসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন। তবে জুয়ায় অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকেই অপরাধে জড়িত—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। আসক্তি, আর্থিক ক্ষতি এবং অপরাধের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণে নির্ভরযোগ্য তথ্য ও পৃথক মূল্যায়ন প্রয়োজন।

অভিযানই কি যথেষ্ট?
অনলাইন জুয়ার বিস্তার ঠেকাতে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি প্রয়োজন অর্থের উৎস ও গন্তব্য শনাক্ত করা, সন্দেহজনক লেনদেন পর্যবেক্ষণ, বিদেশি প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং জুয়ার বিজ্ঞাপন ও গ্রাহক সংগ্রহের নেটওয়ার্ক বন্ধ করা। একই সঙ্গে তরুণদের সচেতন করা এবং আর্থিক ক্ষতি ও আসক্তিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সহায়তার ব্যবস্থাও জরুরি।

কারণ, এজেন্ট গ্রেপ্তার হলেও নতুন এজেন্ট তৈরি হলে কিংবা একটি সাইট বন্ধ হওয়ার পর অন্য সাইট চালু হলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। আবার জুয়ায় অংশগ্রহণকারীদের আটক করাই যদি প্রধান কৌশল হয়, তাহলে এর পেছনের অর্থনৈতিক কাঠামো ও পরিচালনাকারী চক্র অক্ষত থেকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকবে।

অনলাইন জুয়ার বাজার ও আসক্তির যে চিত্র প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, তা সত্য হলে এটি নিছক আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়; বরং তরুণ সমাজের আর্থিক নিরাপত্তা এবং দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য বড় সতর্কসংকেত। কার্যকর নজরদারি, জবাবদিহি, আর্থিক অপরাধ দমন ও প্রতিরোধমূলক উদ্যোগের সমন্বয়ই পারে এই বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আনতে।

কালের আলো/এমএসএএকে/এমকে

তনুশ্রীকে নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ সহশিল্পীর

বিনোদন ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ
তনুশ্রীকে নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ সহশিল্পীর

বলিউড অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্তের বিরুদ্ধে শুটিং সেটে অপেশাদার আচরণের অভিযোগ তুলেছেন অভিনেত্রী হেতল যাদব। ২০১০ সালে মুক্তি পাওয়া মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার সিনেমা ‘অ্যাপার্টমেন্ট’-এ একসঙ্গে কাজ করেছিলেন তাঁরা। দীর্ঘ ১৬ বছর পর সেই কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুলে তনুশ্রীর আচরণ সম্পর্কে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন হেতল।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে হেতল দাবি করেন, সিনেমাটির শুটিংয়ের সময় তনুশ্রীর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর জন্য সুখকর ছিল না। পরিচালকের নির্দেশ অনুসারে দৃশ্য ধারণের ক্ষেত্রে তনুশ্রীর অনীহা ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

পরিচালকের নির্দেশ নিয়ে আপত্তির অভিযোগ
হেতল যাদবের ভাষ্য অনুযায়ী, শুটিংয়ের সময় কোনো দৃশ্য নির্দিষ্টভাবে অভিনয় করতে বলা হলে তনুশ্রী বিরক্তি প্রকাশ করতেন। এ ধরনের আচরণকে পেশাদার কাজের পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করেননি তিনি।

নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে হেতল বলেন, ‘তনুশ্রীর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা ভালো ছিল না। সত্যি বলতে গেলে, ওর আচরণ আমার কাছে খুবই অপেশাদার বলে মনে হয়েছিল।’ তবে তনুশ্রী দত্তের পক্ষ থেকে এ অভিযোগের কোনো প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

রোমান্টিক গানের শুটিংয়েও সমস্যা?
সিনেমাটির একটি রোমান্টিক গানের শুটিং নিয়েও নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন হেতল। তাঁর দাবি, শুটিং চলাকালে শারীরিক স্পর্শের কিছু নির্দিষ্ট ধরন নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন তনুশ্রী। এ নিয়ে বারবার পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় প্রযোজক ও পরিচালকেরাও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

হেতল জানান, ‘অ্যাপার্টমেন্ট’ সিনেমায় অভিনয়ের পাশাপাশি তিনটি গানের জন্যও কাজ করেছিলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, একটি সিনেমার শুটিংয়ে প্রত্যেক শিল্পীর পারস্পরিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর সঙ্গে পুরো নির্মাণ দলের কাজ জড়িত।

শুটিংয়ে সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরলেন হেতল
হেতলের মতে, কোনো দৃশ্য পরিকল্পনা অনুযায়ী ধারণ করতে হলে অভিনেতাদের পরিচালকের নির্দেশনা অনুসরণ করা প্রয়োজন। এতে শুধু অভিনয়শিল্পীদের কাজ নয়, ক্যামেরা ও অন্যান্য কারিগরি বিভাগের কাজও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।

২০১০ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অ্যাপার্টমেন্ট’ সিনেমার কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে হেতলের এই বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে বিষয়টি আপাতত তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই সামনে এসেছে। তনুশ্রী দত্তের বক্তব্য পাওয়া গেলে এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।

কালের আলো/এএএন/জেএন

সুগন্ধার তীরে বর্জ্যের পাহাড়, বাড়ছে পরিবেশদূষণ

ঝালকাঠি সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ
সুগন্ধার তীরে বর্জ্যের পাহাড়, বাড়ছে পরিবেশদূষণ

ঝালকাঠি ও নলছিটি পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অব্যবস্থাপনার কারণে সুগন্ধা নদীর তীরের বিভিন্ন স্থান পরিণত হয়েছে ময়লার ভাগাড়ে। নদীর পাড়ে নিয়মিত গৃহস্থালি বর্জ্য, পলিথিন, প্লাস্টিকের বোতল ও খাবারের উচ্ছিষ্ট ফেলার ফলে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। একই সঙ্গে বর্জ্য নদীর পানিতে মিশে পরিবেশ ও পানিদূষণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ঝালকাঠি শহরের মেঘনা ডিপো-সংলগ্ন সুগন্ধা নদীর পাড় এবং নলছিটি পৌর এলাকার কলবাড়িসহ নদীতীরবর্তী কয়েকটি স্থানে বর্জ্যের স্তূপ দেখা গেছে। এসব বর্জ্য দীর্ঘ সময় পড়ে থাকায় পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে আশপাশের এলাকায়। এতে স্থানীয়দের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পৌর এলাকার বাসাবাড়ি, বাজার ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু সংগৃহীত বর্জ্যের একটি অংশ নির্ধারিত স্থানে না নিয়ে নদীর তীরে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। ফলে নদীর পাড়ে জমছে নানা ধরনের আবর্জনা। বৃষ্টি ও জোয়ারের সময় এসব বর্জ্য পানির সঙ্গে মিশে নদীতে চলে যাচ্ছে।

এতে নদীর পানি দূষিত হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের পরিবেশের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নলছিটি পৌরসভার বাসিন্দা এইচ এম সিজার বলেন, পৌরসভার বর্জ্য কলবাড়ি এলাকার সুগন্ধা নদীর তীরে ফেলা হচ্ছে। এতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। জোয়ারের পানিতে ময়লা নদীতেও মিশে যাচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা প্রয়োজন। ঝালকাঠি পৌর শহরের বাসিন্দা মাহবুব হোসেন সৈকতও নদীর পাড়ে বর্জ্য ফেলার কারণে দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, নদীর পাশে ময়লা ফেলার কারণে সব সময় দুর্গন্ধ থাকে। বৃষ্টি হলে বর্জ্য পানির সঙ্গে নদীতে চলে যায়। এভাবে ময়লা ফেলা দ্রুত বন্ধ করা দরকার। সুজন ও ঝালকাঠি গাছপালা নদীনালা রক্ষা আন্দোলনের জেলা সেক্রেটারি ইসমাঈল মুসাফির বলেন, ঝালকাঠি ও নলছিটি পৌর এলাকায় প্রতিদিন যে পরিমাণ বর্জ্য তৈরি হয়, তা যথাযথভাবে সংগ্রহ ও অপসারণের ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, দুই পৌরসভার বর্জ্যই সুগন্ধা নদীর তীরে ফেলা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্জ্য থেকে নির্গত দূষিত তরল মাটির নিচে গিয়ে ভূগর্ভস্থ পানিকে দূষিত করতে পারে। অন্যদিকে জোয়ার ও বৃষ্টির পানিতে এসব বর্জ্য আশপাশের কৃষিজমি, নদী ও খালেও ছড়িয়ে পড়ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বর্জ্য পুড়িয়ে ফেলার কারণে বাতাসও দূষিত হচ্ছে। ইসমাঈল মুসাফিরের মতে, পৌরসভার রাজস্ব বাজেটের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কার্যকরভাবে ব্যয় করা প্রয়োজন। রাতের অন্ধকারে সড়কের পাশে ও নদীর তীরে বর্জ্য ফেলা বন্ধে নজরদারি এবং কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র নির্মাণ করা গেলে বর্জ্য যথাযথভাবে প্রক্রিয়াজাত, ধ্বংস কিংবা পুনর্ব্যবহার করা সম্ভব হবে। দীর্ঘমেয়াদে নদীর তীর পরিষ্কার রাখা এবং পরিবেশদূষণ কমাতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঝালকাঠির কুনিহারীতে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইউনিট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের সাইট ক্লিয়ারেন্স ও পরিবেশগত ছাড়পত্র পাওয়া গেলেও জমি অধিগ্রহণের কাজ এখনো শেষ হয়নি। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নের পরবর্তী কার্যক্রমে অগ্রগতি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। অন্যদিকে নলছিটি পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও এ ধরনের উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পরিকল্পিতভাবে বর্জ্য সংগ্রহ, পরিবহন ও প্রক্রিয়াজাত করার ব্যবস্থা না থাকলে নদীর তীরে বর্জ্য ফেলার সমস্যা পুরোপুরি সমাধান করা কঠিন হতে পারে।

ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও পৌরসভার প্রশাসক জুলিয়া সুকায়না বলেন, আগে পৌরসভার জন্য ডাম্পিং স্টেশন ছিল না। বর্তমানে বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নদীর তীরে যাতে বর্জ্য ফেলা না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ মমিন উদ্দিন বলেন, পৌরসভার প্রশাসকদের আগেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, নদীর তীরে ময়লা ফেলা যাবে না। বর্জ্য ফেলার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। এরপরও নদীর তীরে বর্জ্য ফেলা হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। সংশ্লিষ্টদের আশ্বাসের পরও সুগন্ধা নদীর তীরের বর্জ্য সমস্যার স্থায়ী সমাধান কত দ্রুত হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। নদীর তীর থেকে বর্জ্য অপসারণ, নিয়মিত নজরদারি এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র নির্মাণ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব বলে মনে করছেন পরিবেশসচেতন ব্যক্তিরা।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি