খুঁজুন
                               
, ,
           

পরোক্ষ ধূমপান ঠেকাতে নতুন উদ্যোগ খাদ্য কর্তৃপক্ষের

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৫ অপরাহ্ণ
পরোক্ষ ধূমপান ঠেকাতে নতুন উদ্যোগ খাদ্য কর্তৃপক্ষের

পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবা নিতে আসা নাগরিকদের সুরক্ষায় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের অধীন সব কার্যালয় শতভাগ তামাক ও ধূমপানমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এখন থেকে তামাক নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত জাতীয় নির্দেশিকা অনুসরণ করে এসব কার্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীতে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। ঢাকা আহছানিয়া মিশন ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে ‘বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সব কার্যালয় শতভাগ তামাক ও ধূমপানমুক্ত ঘোষণা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ঘোষণা দেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত সচিব মো. শফিকুল ইসলাম।

মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি প্রতিদিন সেবা নিতে আসা নাগরিকদেরও পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করা জরুরি। এ লক্ষ্যেই সব কার্যালয় শতভাগ তামাক ও ধূমপানমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এ উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে ধূমপানমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখা এবং অধূমপায়ীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানে তামাক নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত নির্দেশনা অনুসরণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও এ পদক্ষেপ ভূমিকা রাখতে পারে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা আহছানিয়া মিশনের তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী মো. শরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, তামাকের ধোঁয়ায় প্রায় সাত হাজার ধরনের রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৫০ ধরনের রাসায়নিক পদার্থ মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর এবং বিভিন্ন মারাত্মক রোগ সৃষ্টি ও মৃত্যুর কারণ হতে পারে।তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে প্রতিবছর তামাকের কারণে প্রায় দুই লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহারকারীদের পাশাপাশি ধূমপান করেন না—এমন মানুষও পরোক্ষ ধূমপানের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (গ্যাটস)-এর তথ্যে আচ্ছাদিত কর্মক্ষেত্রে ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং সরকারি কার্যালয়ে ২১ দশমিক ৬ শতাংশ অধূমপায়ী নারী-পুরুষের পরোক্ষ ধূমপানের ঝুঁকিতে থাকার বিষয়টি তুলে ধরা হয়।শরিফুল ইসলাম বলেন, দেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৯২ লাখ মানুষ ধূমপান করেন। অন্যদিকে, প্রায় চার কোটি মানুষ নিজেরা ধূমপান না করেও পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছেন বলে অনুষ্ঠানে উল্লেখ করা হয়।

তিনি বলেন, পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতি থেকে মানুষকে রক্ষা করতে কর্মক্ষেত্রের পাশাপাশি সব জনসমাগমস্থল শতভাগ ধূমপানমুক্ত রাখা প্রয়োজন। বিশেষ করে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে অধূমপায়ীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সব কার্যালয় ধূমপানমুক্ত ঘোষণার উদ্যোগ অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানেও একই ধরনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে অনুপ্রেরণা জোগাতে পারে। এ সময় সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০২৬-এর বিধিমালা দ্রুত প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

তাঁদের মতে, বিধিমালা প্রণয়ন করা হলে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নের বিষয়ে আরও স্পষ্ট নির্দেশনা পাবে। বিধিমালা প্রণয়নে বিলম্ব হলে সংশোধিত আইনে অন্তর্ভুক্ত জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থাগুলোর সুফল জনগণের কাছে পৌঁছাতেও দেরি হতে পারে।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের আইন কর্মকর্তা ফেরদৌস আরাফাতের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কর্তৃপক্ষের সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, অতিরিক্ত পরিচালক কাউছারুল ইসলাম সিকদার এবং ঢাকা আহছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের সহকারী ডা. নায়লা পারভিন।এ ছাড়া আহছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরাম ফর হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিয়িংয়ের সদস্য এবং বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।কর্মক্ষেত্রে ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের বিধিমালা দ্রুত প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার উদ্যোগ আরও কার্যকর করার আহ্বান জানান বক্তারা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

মিরপুর টেস্টে টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৮ পূর্বাহ্ণ
মিরপুর টেস্টে টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। বুধবার (২৮ অক্টোবর) মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে দুই দলের এই লড়াই। ঘরের মাঠে সিরিজের প্রথম টেস্টে একাদশে দুটি পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ। দলে জায়গা পেয়েছেন ব্যাটার তাওহীদ হৃদয় ও বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। তাঁদের জায়গা করে দিতে একাদশের বাইরে রাখা হয়েছে অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম ও পেসার এবাদত হোসেনকে।

একাদশে হৃদয় ও শরিফুল
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে ব্যাটিং ও বোলিং বিভাগে সমন্বয় রেখে দল সাজিয়েছে বাংলাদেশ। তাওহীদ হৃদয়ের অন্তর্ভুক্তিতে ব্যাটিং বিভাগে নতুন সংযোজন হয়েছে। অন্যদিকে, শরিফুল ইসলামের অন্তর্ভুক্তি পেস আক্রমণে বিকল্প যোগ করেছে।দুই ম্যাচের সিরিজের প্রথম টেস্টে ভালো শুরু করতে চাইবে স্বাগতিকরা। টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রথম ইনিংসে বড় সংগ্রহ গড়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখাই হবে বাংলাদেশের অন্যতম লক্ষ্য।

বাংলাদেশের একাদশ
বাংলাদেশের হয়ে খেলছেন নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান তামিম, শাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক, তাওহীদ হৃদয়, লিটন দাস (উইকেটরক্ষক), মেহেদী হাসান মিরাজ, নাঈম হাসান, হাসান মাহমুদ, তাইজুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলাম।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের একাদশ
ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে খেলছেন জন ক্যাম্পবেল, ব্রেন্ডন কিং, ত্যাগনারায়ণ চন্দরপল, কাভেম হজ, আমির জাঙ্গু (উইকেটরক্ষক), জাস্টিন গ্রিভস, রোস্টন চেজ (অধিনায়ক), সামার জোসেফ, কেমার রোচ, জেইডেন সিলস ও জোমেল ওয়ারিকান।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এগিয়ে যাওয়ার লড়াইয়ে বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৭ পূর্বাহ্ণ
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এগিয়ে যাওয়ার লড়াইয়ে বাংলাদেশ

আইসিসি ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে প্রথমবারের মতো জায়গা করে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে মাঠে নামছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। অন্যদিকে, পয়েন্ট তালিকার নিচের দিকে থাকা ক্যারিবীয়দের লক্ষ্য নিজেদের অবস্থানের উন্নতি করা। ফলে দুই দলের জন্যই সিরিজটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে সিরিজের প্রথম টেস্ট। দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে ৫ নভেম্বর সিলেটে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই ম্যাচেই পয়েন্ট অর্জনের সুযোগ থাকছে দুই দলের সামনে।

ফাইনালের স্বপ্নই বাংলাদেশের অনুপ্রেরণা
বর্তমানে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। এটি দলটির জন্য উল্লেখযোগ্য অবস্থান। সামনের ম্যাচগুলোতে ভালো ফল করতে পারলে প্রথমবারের মতো ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। সিরিজের আগে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলেন, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার সম্ভাবনাকে তাঁরা চাপ হিসেবে নয়, বরং অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন।

শান্তর ভাষ্য, দল প্রস্তুতি শুরুর পর থেকেই সাম্প্রতিক সিরিজগুলোতে নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা করেছে। বাড়তি কিছু করার চেষ্টা না করে নিজেদের স্বাভাবিক খেলা এবং ইতিবাচক ফল এনে দেওয়া প্রক্রিয়াগুলো অনুসরণ করতে চান তাঁরা। অধিনায়ক বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ হলেও দল নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে চায়। খেলোয়াড়দের ওপর অবাস্তব প্রত্যাশা না চাপিয়ে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী পারফর্ম করার দিকেই মনোযোগ দিচ্ছেন তাঁরা।

চার জয়ে ফাইনালের সম্ভাবনা
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের পর দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাবে বাংলাদেশ। এরপর জানুয়ারিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে দুই টেস্টের সিরিজ খেলার কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে সামনে থাকা ছয়টি টেস্ট বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা সমীকরণ অনুযায়ী, এই ছয় ম্যাচের মধ্যে চারটিতে জিততে পারলে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হবে বাংলাদেশের সামনে। তবে চূড়ান্ত অবস্থান নির্ভর করবে অন্য দলগুলোর ফল এবং পয়েন্ট তালিকার হিসাবের ওপরও। অন্যদিকে, বর্তমানে তালিকার আট নম্বরে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের লক্ষ্য সেরা ছয়ের মধ্যে থেকে চক্র শেষ করা। ফলে সিরিজের প্রতিটি ম্যাচেই পয়েন্ট অর্জনের জন্য লড়তে হবে ক্যারিবীয়দের।

পরিসংখ্যানে এগিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ
টেস্ট ক্রিকেটে মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দুই দল এখন পর্যন্ত ২২টি টেস্ট খেলেছে। এর মধ্যে ক্যারিবীয়রা জিতেছে ১৫টিতে, বাংলাদেশ পাঁচটিতে। বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। এটি দুই দলের ১২তম টেস্ট সিরিজ। আগের সিরিজগুলোর মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আটটি এবং বাংলাদেশ দুটি জিতেছে। একটি সিরিজ ড্র হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের মাটিতে দুই দলের আগের ১০ টেস্টের মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতেছে সাতটিতে। বাংলাদেশ জয় পেয়েছে দুটি ম্যাচে, অন্যটি ড্র হয়েছে। মিরপুরে দুই দলের আগের চার টেস্টের তিনটিতে জিতেছে ক্যারিবীয়রা, বাংলাদেশ জিতেছে একটিতে। ২০২১ সালে মিরপুরে সর্বশেষ টেস্টে বাংলাদেশকে ১৭ রানে হারিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এবার ঘরের মাঠে সেই পরিসংখ্যান বদলানোর লক্ষ্য থাকবে স্বাগতিকদের।

সাম্প্রতিক ফল নিয়ে সতর্ক বাংলাদেশ
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতার ঘাটতি দেখা গেছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে দুই টেস্টের সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জয়ের পর জিম্বাবুয়ের মাঠে ইনিংস ব্যবধানে হারের অভিজ্ঞতা হয়েছে দলের। পরে অস্ট্রেলিয়া সফরে ডারউইন টেস্টে স্বাগতিকদের হারিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেয় বাংলাদেশ। তবে সম্প্রতি আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ড্র করার পর ত্রিদেশীয় সিরিজের দুই ম্যাচেই হেরেছে দলটি। এমন পরিস্থিতিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ বাংলাদেশের জন্য নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগও। ঘরের মাঠে পরিচিত কন্ডিশন কাজে লাগিয়ে ভালো ফল করতে চাইবে শান্তর দল।

পেস আক্রমণে তাসকিনসহ চারজন
গুরুত্বপূর্ণ এই সিরিজে বাংলাদেশের পেস আক্রমণে থাকছেন তাসকিন আহমেদ, এবাদত হোসেন, হাসান মাহমুদ ও শরিফুল ইসলাম। তাঁদের ভূমিকা এবং কন্ডিশন অনুযায়ী খেলোয়াড় নির্বাচন নিয়ে আশাবাদী অধিনায়ক শান্ত।

তিনি বলেন, পেসাররা প্রত্যেকে নিজেদের ভূমিকা সম্পর্কে জানেন। কোন পরিস্থিতিতে কে খেলবেন, সে বিষয়েও তাঁদের ধারণা রয়েছে। সিরিজের যেকোনো ম্যাচে খেলার জন্য প্রত্যেকে প্রস্তুত থাকাটা দলের জন্য ইতিবাচক দিক বলে মনে করেন তিনি। সব মিলিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে বাংলাদেশের সামনে রয়েছে দুটি লক্ষ্য—টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় নিজেদের অবস্থান ধরে রাখা এবং ফাইনালের স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাওয়া। তবে প্রতিপক্ষের বিপক্ষে অতীতের পরিসংখ্যান ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের ওঠানামা বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি ম্যাচেই সতর্ক থাকতে হবে স্বাগতিকদের।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

আইজিপির বক্তব্য নিয়ে ব্যাখ্যা দিল বিপিএসএ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৩ পূর্বাহ্ণ
আইজিপির বক্তব্য নিয়ে ব্যাখ্যা দিল বিপিএসএ

আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যরা অযথা দ্বিধাগ্রস্ত হলে অপরাধীরা উৎসাহিত হতে পারে এবং সামগ্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএসএ)। একই সঙ্গে আইনের সীমার মধ্যে থেকে দৃঢ়তা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের সই করা এক বিবৃতিতে এসব কথা জানানো হয়। বিবৃতিতে দেশের পরিবর্তিত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মব কালচার এবং ৫ আগস্ট-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে পুলিশ সদস্যদের পেশাগত দায়িত্ব পালন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।

আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল বিপিএসএ
সোমবার পুরান ঢাকার চকবাজারে একটি কমিউনিটি ব্যাংকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) দেওয়া বক্তব্যকে প্রচলিত আইন ও বিধিবিধানের আলোকে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে বিপিএসএ। সংগঠনটির বিবৃতিতে বলা হয়, আইজিপির বক্তব্যের মূল তাৎপর্য ছিল—আইনের সীমার মধ্যে থেকে পরিস্থিতি অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া এবং পুলিশ সদস্যদের পেশাগত আত্মবিশ্বাস ও দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা নিশ্চিত করা। বিপিএসএর মতে, অপরাধ দমনে আইনগত ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যদের অযথা দ্বিধাগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়। দায়িত্ব পালনের সময় আইন প্রয়োগে অকারণ দ্বিধা তৈরি হলে অপরাধীরা উৎসাহিত হতে পারে। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে বলেও মনে করে সংগঠনটি।

১০ মাসে পুলিশের ওপর ১৭৬ হামলা
বিবৃতিতে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিপিএসএ জানায়, ২০২৬ সালের প্রথম ১০ মাসে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যদের ওপর ১৭৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় চারজন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন এবং গুরুতর আহত হয়েছেন ৩৭০ জন। সংগঠনটির ভাষ্য, পুলিশের ওপর হামলার এসব ঘটনা সদস্যদের নিরাপত্তা ও উপযুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যদের ব্যক্তিগত আত্মরক্ষার অধিকার এবং প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুসরণের সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। বিপিএসএ মনে করে, নিরাপদ কর্মপরিবেশ থাকলে পুলিশ সদস্যরা আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। তবে সেই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আইনগত সীমারেখা মেনে চলার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইনের মধ্যে থেকেই দৃঢ়ভাবে দায়িত্ব পালনের তাগিদ
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ পুলিশ সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুসরণ করে কার্যক্রম পরিচালনা করে। এসব আইনের মধ্যে রয়েছে দণ্ডবিধি, ১৮৬০; ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮; পুলিশ আইন, ১৮৬১ এবং পুলিশ রেগুলেশনস অব বেঙ্গল। তবে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি। এ পরিস্থিতিতে আইন অতিক্রম না করে দৃঢ়তা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিপিএসএর মতে, অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা সুদৃঢ় করাও গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য আইন প্রয়োগে পেশাদার আচরণ, নিরপেক্ষতা এবং বিধিবিধানের যথাযথ অনুসরণ প্রয়োজন।

জননিরাপত্তায় পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান
বিবৃতিতে আইজিপির বক্তব্যকে অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশের সক্ষমতা আরও জোরদার করার সময়োপযোগী আহ্বান হিসেবে বিবেচনা করার অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির বক্তব্য অনুযায়ী, পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইন প্রয়োগে তাঁদের পেশাগত আত্মবিশ্বাস বজায় রাখা—দুটি বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আইনগত সীমা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারত্ব বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি