খুঁজুন
                               
, ,
           

মাধ্যমিকে জয়, উচ্চশিক্ষায় ক্ষয়

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৩ অপরাহ্ণ
মাধ্যমিকে জয়, উচ্চশিক্ষায় ক্ষয়

স্কুলে মেয়েদের জয়যাত্রা, কলেজেও সংখ্যাগরিষ্ঠ; কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজায় পৌঁছাতেই বদলে যায় হিসাব। মাধ্যমিকে যেখানে মোট শিক্ষার্থীর ৫৪.৬৭ শতাংশ মেয়ে, কলেজে ৫১.৯১ শতাংশ, সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের অংশ মাত্র ৩৯.৩৪ শতাংশ। কর্মসংস্থানমুখী কারিগরি শিক্ষায় তা আরও কম—২৯.৭১ শতাংশ। আর ডিপ্লোমা পর্যায়ে নারী শিক্ষার্থীর হার নেমে এসেছে ২৩.৮২ শতাংশে। অর্থাৎ শিক্ষার প্রাথমিক ধাপগুলোতে এগিয়ে থাকা মেয়েদের অগ্রযাত্রা উচ্চশিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে এসে আর সমান গতিতে এগোচ্ছে না।

  • মাধ্যমিক ও কলেজে মেয়েরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থী ৩৯ শতাংশ
  • কারিগরি শিক্ষায় ৩০ শতাংশেরও কম, ডিপ্লোমায় মাত্র ২৩.৮২ শতাংশ
  • শিক্ষার সিঁড়ি পেরোতে পেরোতে কমছে নারীর অংশগ্রহণ

বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) _শিক্ষা পরিসংখ্যান ২০২৫_ প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে নারীশিক্ষার এই বৈপরীত্য। একদিকে মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ে মেয়েরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়, কারিগরি শিক্ষা ও পেশাগত জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তাদের অংশগ্রহণ তুলনামূলক কম। ফলে শিক্ষায় প্রবেশের সুযোগ বাড়লেও সেই অগ্রগতিকে উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনে সমানভাবে রূপান্তর করা যাচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

মাধ্যমিক-কলেজে অগ্রগতি, বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবধান
গত এক দশকে মাধ্যমিক পর্যায়ে নারী শিক্ষার্থীর অংশ বেড়েছে ধারাবাহিকভাবে। ২০১৫ সালে এ পর্যায়ের মোট শিক্ষার্থীর ৫৩.৩১ শতাংশ ছিল মেয়ে। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪.৬৭ শতাংশে। অর্থাৎ দশ বছরে নারীর অংশ বেড়েছে ১.৩৬ শতাংশ।

কলেজ পর্যায়ে অগ্রগতি আরও স্পষ্ট। ২০১৫ সালে কলেজের মোট শিক্ষার্থীর ৪৬.৪৬ শতাংশ ছিলেন নারী। ২০২০ সালে তা বেড়ে হয় ৫০.৫৫ শতাংশ। ২০২৫ সালে নারী শিক্ষার্থীর অংশ দাঁড়ায় ৫১.৯১ শতাংশে। এক দশকে বেড়েছে ৫.৪৫ শতাংশ।

শুধু অংশগ্রহণের হার নয়, বেড়েছে নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। ২০১৫ সালে কলেজে নারী শিক্ষার্থী ছিলেন ১৭ লাখ ৯ হাজার ১৭১ জন। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২৩ লাখ ৮১ হাজার ১২৩ জনে। অর্থাৎ এক দশকে কলেজ পর্যায়ে নারী শিক্ষার্থী বেড়েছেন প্রায় ৬ লাখ ৭২ হাজার।

কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে এই চিত্র আর একই রকম থাকছে না। ২০১৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থীর ৩২.৮৫ শতাংশ ছিলেন নারী। ২০২০ সালে এ হার বেড়ে হয় ৩৫.১৯ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা দাঁড়িয়েছে ৩৯.৩৪ শতাংশে। অর্থাৎ নারীর অংশগ্রহণ বাড়লেও বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থীর অর্ধেকের অনেক নিচে রয়ে গেছে তাদের অবস্থান।

ব্যানবেইসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশের ১৭৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী ছিলেন ১১ লাখ ১৩ হাজার ৯৮২ জন। তাঁদের মধ্যে নারী ৪ লাখ ৩৮ হাজার ২৬২ জন। অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থীর ৩৯.৩৪ শতাংশ নারী।

উচ্চশিক্ষার পথে বাধা কোথায়?
শিক্ষার এক স্তর থেকে অন্য স্তরে যাওয়ার সময় মেয়েদের অংশগ্রহণ কমে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. নাজনীন ইসলামের মতে, পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য, নিরাপদ যাতায়াত ও আবাসনের অভাব, বাল্যবিয়ে, পারিবারিক দায়িত্ব এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি মেয়েদের উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে যাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বিশেষ করে উচ্চমাধ্যমিকের পর বাড়ির বাইরে গিয়ে পড়াশোনার প্রয়োজন হলে নিরাপদ আবাসন ও যাতায়াতের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকলে উচ্চশিক্ষার ব্যয় বহন করাও কঠিন হতে পারে। এর সঙ্গে বিয়ে, সংসার ও পরিবারের দায়িত্ব যুক্ত হলে অনেক মেয়ের পক্ষে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া আরও জটিল হয়ে পড়ে।

অধ্যাপক নাজনীন ইসলামের মতে, ১২ বছরের শিক্ষাজীবন শেষ করার পর একটি মেয়ে কেন উচ্চশিক্ষায় গিয়ে আর এগোতে পারছে না, তা চিহ্নিত করা সরকারের দায়িত্ব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মজিবুর রহমানও মনে করেন, শিক্ষার এক স্তর থেকে অন্য স্তরে যাওয়ার পথে মেয়েদের অংশগ্রহণ কমে যাওয়ার কারণগুলো শনাক্ত করা জরুরি। উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সীমিত সুযোগ, পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য, নিরাপদ যাতায়াত ও আবাসনের সংকট, বাল্যবিয়ে এবং পারিবারিক দায়িত্ব এ ব্যবধান তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে মাধ্যমিক বা কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে ঠিক কতজন মেয়ে ঝরে পড়ছে, কিংবা কী কারণে তারা উচ্চশিক্ষায় যেতে পারছে না, ব্যানবেইসের পরিসংখ্যানে তার সরাসরি ব্যাখ্যা নেই। বিভিন্ন স্তরে নারী শিক্ষার্থীর অংশের তুলনা ব্যবধানের ইঙ্গিত দিলেও এর পেছনের কারণ নিশ্চিত করে না। এ জন্য স্তরভিত্তিক উত্তরণের হার, ঝরে পড়ার প্রবণতা, অঞ্চলভেদে সুযোগ এবং বিজ্ঞান-প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে নারীর অংশগ্রহণ নিয়ে আরও অনুসন্ধান প্রয়োজন।

কারিগরি শিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ আরও কম
সাধারণ শিক্ষায় মেয়েরা এগিয়ে থাকলেও কর্মসংস্থানমুখী কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় তাদের অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে কম। ব্যানবেইসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশের ১০ হাজার ৫২১টি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোট শিক্ষার্থী ছিলেন ১৩ লাখ ৫৭ হাজার ৮৯৪ জন। তাঁদের মধ্যে নারী ৪ লাখ ৩ হাজার ৪৫৮ জন। অর্থাৎ এ খাতের মোট শিক্ষার্থীর মাত্র ২৯.৭১ শতাংশ নারী।

ডিপ্লোমা পর্যায়ে ব্যবধান আরও বেশি। সেখানে নারী শিক্ষার্থীর অংশ মাত্র ২৩.৮২ শতাংশ। অর্থাৎ কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় প্রতি চারজন শিক্ষার্থীর মধ্যে নারী রয়েছেন একজনেরও কম।

এই চিত্র গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কারিগরি শিক্ষা ও পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করে। এ ধারায় নারীর অংশগ্রহণ কম থাকলে দক্ষতা উন্নয়ন ও পেশাগত প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও নারী-পুরুষের ব্যবধান তৈরি হতে পারে।

তবে সামগ্রিক অংশগ্রহণের হার দিয়ে সমস্যার পুরো চিত্র বোঝা সম্ভব নয়। কোন বিষয়ে মেয়েরা বেশি বা কম ভর্তি হচ্ছেন, প্রশিক্ষণ শেষ করার হার কত, প্রশিক্ষণ শেষে কতজন কর্মসংস্থানে প্রবেশ করছেন এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিবেশ নারীদের জন্য কতটা উপযোগী—এসব তথ্যও বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

শিক্ষকতায়ও উচ্চপর্যায়ে কম নারী
শিক্ষার্থী হিসেবে নারীর অংশগ্রহণের পাশাপাশি শিক্ষকতার ক্ষেত্রেও উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষায় উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে। ব্যানবেইসের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১৭৪টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট শিক্ষক ৩৪ হাজার ৮৩১ জন। তাঁদের মধ্যে নারী ১০ হাজার ৬১৮ জন, যা মোট শিক্ষকের ৩০.৪৮ শতাংশ।

সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষকের অংশ ২৭.৮৭ শতাংশ। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ হার ৩৩.১৪ শতাংশ। অন্যদিকে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় নারী শিক্ষকের অংশ ২৬.১৮ শতাংশ।

তবে প্রাথমিক শিক্ষায় চিত্রটি ভিন্ন। প্রাথমিক শিক্ষা তথ্য ব্যবস্থাপনা সিস্টেমের (আইপিইএমআইএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষক ৩ লাখ ৭১ হাজার ৯২৮ জন। তাঁদের মধ্যে নারী ২ লাখ ৪৮ হাজার ৭৯৫ জন। অর্থাৎ নারী শিক্ষকের অংশ প্রায় ৬৬.৮৯ শতাংশ। পুরুষ শিক্ষক রয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ২০৩ জন, যা মোট শিক্ষকের প্রায় ৩৩.১১ শতাংশ।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে নারীদের জন্য ৬০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণের বিষয়টি এ পর্যায়ে নারী শিক্ষকের অংশ বেশি থাকার অন্যতম কারণ। প্রাথমিক শিক্ষায় নারীর সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিপরীতে বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি শিক্ষায় তাঁদের কম উপস্থিতি উচ্চতর পর্যায়ে নারী শিক্ষকের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তবে এই পরিসংখ্যান থেকেই নারী শিক্ষক কম থাকার নির্দিষ্ট কারণ কিংবা শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক নির্ধারণ করা যায় না। নিয়োগ, পদোন্নতি, গবেষণার সুযোগ, বিষয়ভিত্তিক যোগ্যতা ও কর্মপরিবেশের তথ্যও বিবেচনায় নিতে হবে।

সরকারি চাকরিতে ক্যাডারভেদে ভিন্ন চিত্র
শিক্ষা থেকে কর্মজীবনে প্রবেশের ক্ষেত্রেও নারীর অগ্রগতি সব জায়গায় সমান নয়। ৪৪তম বিসিএসের চূড়ান্ত সুপারিশের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রশাসন, পুলিশ ও পররাষ্ট্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ ক্যাডারে নারী সুপারিশপ্রাপ্তির সংখ্যা তুলনামূলক কম।

প্রশাসন ক্যাডারের ১৫৯টি পদের বিপরীতে নারী সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন মাত্র ৯ জন। পুলিশ ক্যাডারে ৬৪ জনের মধ্যে নারী চারজন এবং পররাষ্ট্র ক্যাডারে ১৩ জনের মধ্যে নারী তিনজন। এ ছাড়া আনসার ক্যাডারে একজন, নিরীক্ষা ও হিসাবে পাঁচজন এবং কর ক্যাডারে তিনজন নারী সুপারিশ পেয়েছেন।

এই বিসিএসে মোট ৯৩৪ জন সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীর মধ্যে নারী ছিলেন ২৪৯ জন। সাধারণ ক্যাডারের ৪৪৯টি পদের মধ্যে নারীরা পেয়েছেন ৮৫টি। অন্যদিকে কারিগরি ও পেশাগত ক্যাডারে ৮৮৫টি পদের বিপরীতে নারী সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন ১৬৪ জন।

বিশেষ বিসিএসে অবশ্য ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। ৩৯তম বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে ৪ হাজার ৭৯২ জন চিকিৎসক নিয়োগের ক্ষেত্রে নারীরা ৪৭ শতাংশের বেশি সুযোগ পেয়েছিলেন। ৪২তম বিশেষ বিসিএসেও নারী সুপারিশপ্রাপ্তির হার ছিল প্রায় ৪৯.২ শতাংশ।

কৃষি ও শিক্ষা ক্যাডারেও নারীদের তুলনামূলক ভালো প্রতিনিধিত্ব দেখা যায়। কৃষি ক্যাডারের ৮৫টি পদের বিপরীতে নারীরা পেয়েছেন ৪৩টি। শিক্ষা ক্যাডারের ইংরেজি, অর্থনীতি, বাংলা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, বিজ্ঞান ও বাণিজ্য বিষয়ের বিভিন্ন পদেও নারী প্রার্থীদের সুপারিশপ্রাপ্তির চিত্র তুলনামূলক ইতিবাচক।

ক্যাডারভেদে এই পার্থক্য থেকে বোঝা যায়, সরকারি চাকরিতে নারীর অংশগ্রহণের ধরন নিয়োগের ক্ষেত্র অনুযায়ী বদলে যায়। তবে শুধু সুপারিশপ্রাপ্তির সংখ্যা দিয়ে নারীদের আগ্রহ, যোগ্যতা কিংবা নিয়োগপ্রক্রিয়ায় বৈষম্যের মাত্রা নির্ধারণ করা যায় না। আবেদনকারীর সংখ্যা, পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার হার, পদসংখ্যা ও নিয়োগের শর্তসহ সংশ্লিষ্ট তথ্যও বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

প্রয়োজন লক্ষ্যভিত্তিক উদ্যোগ
বাংলাদেশে মেয়েদের শিক্ষায় অংশগ্রহণ বাড়ার সাফল্য স্পষ্ট। মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা দীর্ঘদিনের অগ্রগতির প্রতিফলন। কিন্তু এই সাফল্যকে পূর্ণাঙ্গ অর্জনে রূপ দিতে হলে উচ্চশিক্ষা, দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং কর্মজীবনে প্রবেশের ক্ষেত্রেও ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা জরুরি।

এ জন্য প্রথমেই শনাক্ত করতে হবে, শিক্ষার কোন পর্যায়ে মেয়েদের অগ্রযাত্রা বেশি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং এর পেছনে কোন কারণগুলো কাজ করছে। আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের সহায়তা, নিরাপদ যাতায়াত ও আবাসন, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ এবং শিক্ষাবান্ধব সামাজিক পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

কারিগরি শিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়াতে প্রশিক্ষণের সুযোগ, বিষয় নির্বাচনের স্বাধীনতা, নিরাপদ ব্যবহারিক পরিবেশ এবং প্রশিক্ষণ-পরবর্তী কর্মসংস্থানের বাস্তবতা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি চাকরিতে নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হলে ভর্তি, উত্তরণ, নিয়োগ এবং কর্মজীবনে টিকে থাকার প্রতিটি ধাপের তথ্য বিশ্লেষণ করতে হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, নারীশিক্ষার অগ্রগতি শুধু স্কুলে ভর্তি কিংবা মাধ্যমিক ও কলেজে অংশগ্রহণের হার দিয়ে বিচার না করা। কতজন মেয়ে উচ্চশিক্ষায় পৌঁছাচ্ছে, কতজন দক্ষতা অর্জন করছে এবং কতজন নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মজীবনে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে—সেই হিসাবও সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে।

মাধ্যমিক ও কলেজে মেয়েরা এগিয়ে—এটি বাংলাদেশের নারীশিক্ষার বড় অর্জন। এখন চ্যালেঞ্জ সেই অগ্রযাত্রাকে বিশ্ববিদ্যালয়, কারিগরি শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্র পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া। শিক্ষার প্রতিটি ধাপে মেয়েদের জন্য সুযোগ নিশ্চিত করা না গেলে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের সাফল্য পূর্ণাঙ্গ সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে রূপ নেওয়ার পথেই থেকে যাবে বড় প্রশ্ন।

কালের আলো/টিইকে/এমকে

বাংলাদেশে ১ লাখ কোটি ইয়েন বিনিয়োগের প্রত্যাশা জাপানের

কূটনৈতিক প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২৪ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে ১ লাখ কোটি ইয়েন বিনিয়োগের প্রত্যাশা জাপানের

জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে বাংলাদেশকে ৫০ বিলিয়ন ইয়েনের জরুরি ঋণ সহায়তা দেবে জাপান। একই সঙ্গে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ ১ লাখ কোটি ইয়েন বা প্রায় ৬৬০ কোটি মার্কিন ডলার বেসরকারি বিনিয়োগের প্রত্যাশা করছে দুই দেশ। এসব বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশ ও জাপানের অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে ‘বিগ-বি’ উদ্যোগকে ‘বিগ-বি ফর শেয়ার্ড প্রসপারিটি’ বা অভিন্ন সমৃদ্ধির জন্য বিগ-বি হিসেবে উন্নীত করার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এ উদ্যোগের আওতায় মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে মাতারবাড়ী-মহেশখালী অঞ্চলকে লজিস্টিকস, জ্বালানি ও শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করতে কাজ করবে দুই দেশ।

এ ছাড়া ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালুর প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া, ঢাকায় মেট্রোরেল নির্মাণ এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও জাপান।

বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরকে স্বাগত জানিয়ে দ্রুত তা কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যৌথ বিবৃতিতে। পাশাপাশি আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব (আরসিইপি) চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে জাপান।

বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করতে করব্যবস্থা, শুল্ক ছাড়করণ, অর্থ স্থানান্তর ও লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং পূর্বানুমানযোগ্যতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ঢাকা। খাদ্য, কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, তথ্যপ্রযুক্তি ও ওষুধশিল্পে বিনিয়োগ এবং সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করতেও সহযোগিতা বাড়ানো হবে।

জ্বালানি খাতে জরুরি ঋণ সহায়তার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, দক্ষতা উন্নয়ন ও স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে দুই দেশ।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়ে যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তরসংক্রান্ত চুক্তি কার্যকর হওয়াকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ ও জাপান। বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা জোরদারে জাপানের উন্নয়ন সহায়তায় একটি টহলজাহাজ এবং নিরাপত্তা সহায়তা কর্মসূচির আওতায় পাঁচটি টহলবোট দেওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।

আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় মিয়ানমারে সহিংসতা বন্ধ এবং রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান দুই প্রধানমন্ত্রী। রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে তাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে, মর্যাদার সঙ্গে ও টেকসইভাবে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা, গাজা পুনর্গঠন এবং দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে দুই দেশ।

যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও উন্নয়নে গত পাঁচ দশকে জাপানের অবদানের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অন্যদিকে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

মেট্রোরেলে উল্টো যাত্রার চেষ্টায় আট যাত্রীর জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৩ অপরাহ্ণ
মেট্রোরেলে উল্টো যাত্রার চেষ্টায় আট যাত্রীর জরিমানা

মেট্রোরেলের শেষ স্টেশন মতিঝিলে পৌঁছানোর পরও ট্রেন থেকে না নেমে একই ট্রেনে উত্তরা উত্তরমুখী হয়ে ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে অবস্থান করায় যাত্রীদের বিরুদ্ধে আটটি মামলায় অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) মোবাইল কোর্ট সম্প্রতি এসব মামলা করে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) ডিএমটিসিএলের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মতিঝিল স্টেশনে ট্রেন পৌঁছানোর পরও কিছু যাত্রী একই ট্রেনে অবস্থান করেন, যাতে আবার উত্তরা উত্তর অভিমুখে যাত্রা করতে পারেন। এ ঘটনায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সতর্কতামূলক জরিমানা হিসেবে আটটি মামলায় অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।ডিএমটিসিএলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুশফিকুর রহমান এসব মামলার ক্ষেত্রে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। এ সময় এমআরটি পুলিশ ও আনসার সদস্যরা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেন।

মেট্রোরেলের নির্ধারিত যাত্রাপথ ও স্টেশন পরিচালনার নিয়ম মেনে চলার গুরুত্ব তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনাটির কথা জানানো হয়। তবে বিজ্ঞপ্তিতে জরিমানার মোট অর্থের পরিমাণ বা কতজন যাত্রীকে এসব মামলায় দণ্ড দেওয়া হয়েছে, তা উল্লেখ করা হয়নি।এদিকে, কারওয়ান বাজার মেট্রোরেল স্টেশনসংলগ্ন এলাকায়ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে ডিএমটিসিএল। সকাল সাড়ে ১০টায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রফিকুল হকের নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হয়।

অভিযান চলাকালে স্টেশনের আশপাশে থাকা অস্থায়ী দোকানপাট ও বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। যাত্রীদের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে—এমন ভাসমান দোকানপাট ও অন্যান্য অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে দেওয়া হয়।ডিএমটিসিএলের অভিযানের লক্ষ্য ছিল স্টেশন এলাকায় যাত্রীদের চলাচলের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা। স্টেশনের প্রবেশপথ ও আশপাশে অবৈধ স্থাপনা কিংবা ভাসমান দোকানের কারণে চলাচলে বাধা তৈরি হলে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়তে পারে। এ কারণে মেট্রোরেলের স্টেশন এলাকায় নিয়মশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং যাত্রীদের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

পরোক্ষ ধূমপান ঠেকাতে নতুন উদ্যোগ খাদ্য কর্তৃপক্ষের

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৫ অপরাহ্ণ
পরোক্ষ ধূমপান ঠেকাতে নতুন উদ্যোগ খাদ্য কর্তৃপক্ষের

পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবা নিতে আসা নাগরিকদের সুরক্ষায় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের অধীন সব কার্যালয় শতভাগ তামাক ও ধূমপানমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এখন থেকে তামাক নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত জাতীয় নির্দেশিকা অনুসরণ করে এসব কার্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীতে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। ঢাকা আহছানিয়া মিশন ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে ‘বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সব কার্যালয় শতভাগ তামাক ও ধূমপানমুক্ত ঘোষণা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ঘোষণা দেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত সচিব মো. শফিকুল ইসলাম।

মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি প্রতিদিন সেবা নিতে আসা নাগরিকদেরও পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করা জরুরি। এ লক্ষ্যেই সব কার্যালয় শতভাগ তামাক ও ধূমপানমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এ উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে ধূমপানমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখা এবং অধূমপায়ীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানে তামাক নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত নির্দেশনা অনুসরণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও এ পদক্ষেপ ভূমিকা রাখতে পারে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা আহছানিয়া মিশনের তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী মো. শরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, তামাকের ধোঁয়ায় প্রায় সাত হাজার ধরনের রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৫০ ধরনের রাসায়নিক পদার্থ মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর এবং বিভিন্ন মারাত্মক রোগ সৃষ্টি ও মৃত্যুর কারণ হতে পারে।তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে প্রতিবছর তামাকের কারণে প্রায় দুই লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহারকারীদের পাশাপাশি ধূমপান করেন না—এমন মানুষও পরোক্ষ ধূমপানের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (গ্যাটস)-এর তথ্যে আচ্ছাদিত কর্মক্ষেত্রে ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং সরকারি কার্যালয়ে ২১ দশমিক ৬ শতাংশ অধূমপায়ী নারী-পুরুষের পরোক্ষ ধূমপানের ঝুঁকিতে থাকার বিষয়টি তুলে ধরা হয়।শরিফুল ইসলাম বলেন, দেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৯২ লাখ মানুষ ধূমপান করেন। অন্যদিকে, প্রায় চার কোটি মানুষ নিজেরা ধূমপান না করেও পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছেন বলে অনুষ্ঠানে উল্লেখ করা হয়।

তিনি বলেন, পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতি থেকে মানুষকে রক্ষা করতে কর্মক্ষেত্রের পাশাপাশি সব জনসমাগমস্থল শতভাগ ধূমপানমুক্ত রাখা প্রয়োজন। বিশেষ করে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে অধূমপায়ীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সব কার্যালয় ধূমপানমুক্ত ঘোষণার উদ্যোগ অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানেও একই ধরনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে অনুপ্রেরণা জোগাতে পারে। এ সময় সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০২৬-এর বিধিমালা দ্রুত প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

তাঁদের মতে, বিধিমালা প্রণয়ন করা হলে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নের বিষয়ে আরও স্পষ্ট নির্দেশনা পাবে। বিধিমালা প্রণয়নে বিলম্ব হলে সংশোধিত আইনে অন্তর্ভুক্ত জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থাগুলোর সুফল জনগণের কাছে পৌঁছাতেও দেরি হতে পারে।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের আইন কর্মকর্তা ফেরদৌস আরাফাতের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কর্তৃপক্ষের সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, অতিরিক্ত পরিচালক কাউছারুল ইসলাম সিকদার এবং ঢাকা আহছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের সহকারী ডা. নায়লা পারভিন।এ ছাড়া আহছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরাম ফর হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিয়িংয়ের সদস্য এবং বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।কর্মক্ষেত্রে ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের বিধিমালা দ্রুত প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার উদ্যোগ আরও কার্যকর করার আহ্বান জানান বক্তারা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি