কৃষি থেকে পর্যটন, মালাগার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে উদ্যোগ
স্পেনের মালাগা শহরের সঙ্গে কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন, বাণিজ্য, পর্যটন ও সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে দুই পক্ষের মধ্যে সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থী বিনিময়, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যোগাযোগ এবং সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশেও পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগ খতিয়ে দেখা হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, স্পেনের মালাগা সিটি মেয়রের কার্যালয়ে শহরটির মেয়র ফ্রান্সিসকো দে লা তোরে প্রাদোসের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
কৃষি ও তথ্যপ্রযুক্তিতে সহযোগিতার সম্ভাবনা
বৈঠকে কৃষি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এ ছাড়া দক্ষতা উন্নয়ন, বাণিজ্য, পর্যটন, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং সৃজনশীল অর্থনীতির মতো সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র নিয়েও আলোচনা করেন দুই পক্ষ। কৃষি খাতে অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময় এবং তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষতা বাড়ানোর মতো উদ্যোগ দুই পক্ষের সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখতে পারে। একইভাবে প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরির সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে আসে। তবে এসব ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো প্রকল্প, বিনিয়োগের পরিমাণ কিংবা বাস্তবায়নের সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি। বৈঠকে মূলত ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা ও ক্ষেত্রগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা নিয়ে আলোচনা
বৈঠকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা সম্পর্কে মালাগার মেয়রকে অবহিত করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। এ প্রক্রিয়ায় স্পেনসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য দেশগুলোর সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। বাংলাদেশের সঙ্গে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার ক্ষেত্রে এ ধরনের যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। দুই পক্ষের মধ্যে ভবিষ্যতে যোগাযোগ বাড়ানো এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সহযোগিতার সুযোগ তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়।
শিক্ষার্থী বিনিময় ও বিশ্ববিদ্যালয় সহযোগিতায় আগ্রহ
কৃষি ও তথ্যপ্রযুক্তির পাশাপাশি শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচি এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনাও বৈঠকে উঠে আসে। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষা, গবেষণা ও দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে দুই পক্ষের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া সাংস্কৃতিক বিনিময়, পর্যটন ও সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলোতে যোগাযোগ বাড়াতে পারলে বাংলাদেশ ও মালাগার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ভবিষ্যতে সহযোগিতার নতুন পথ তৈরি হতে পারে।
রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তার প্রশংসা মালাগার মেয়রের
বৈঠকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১৩ লাখ রোহিঙ্গাকে মানবিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টির প্রশংসা করেন মালাগার মেয়র ফ্রান্সিসকো দে লা তোরে প্রাদোস। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত ও টেকসই সমাধানের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে বাংলাদেশ। এ সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে।
ভবিষ্যৎ যোগাযোগ বাড়াতে দুই পক্ষের আগ্রহ
বৈঠকে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং মালাগার পৌর কর্তৃপক্ষের মধ্যে ভবিষ্যতে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে উভয় পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করে। কৃষি, প্রযুক্তি, শিক্ষা, বাণিজ্য, পর্যটন ও সংস্কৃতির মতো খাতে সম্ভাব্য সহযোগিতা এগিয়ে নিতে ভবিষ্যৎ যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে আলোচনায় উঠে আসা উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে এখনো বিস্তারিত পরিকল্পনা জানানো হয়নি।
কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি
আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]