খুঁজুন
                               
, ,
           

জাপানি বিনিয়োগ টানতে নতুন খাতের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

কূটনৈতিক প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪০ অপরাহ্ণ
জাপানি বিনিয়োগ টানতে নতুন খাতের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ লক্ষ্যে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেটরো) প্রেসিডেন্ট কাতাওকা সুসুমুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাপানের স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, নতুন শিল্প খাতে ব্যবসার সুযোগ তৈরি এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের আহ্বান
বৈঠকে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণে জেটরোর ভূমিকার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এসব সুযোগ কাজে লাগিয়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করা সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে উন্নত উৎপাদনশিল্প, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), অটোমোবাইল, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে জাপানের বিনিয়োগ প্রত্যাশা করেন।এসব খাতে বিনিয়োগ বাড়লে বাংলাদেশের শিল্প ও উৎপাদন খাতের সক্ষমতা সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরির সুযোগ রয়েছে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়।

রপ্তানি বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা প্রত্যাশা
বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণেও জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বর্তমানে প্রচলিত রপ্তানি খাতের পাশাপাশি নতুন পণ্য ও শিল্পের বিকাশের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। তারেক রহমান আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারিত হলে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হবে। এতে বাংলাদেশ ও জাপানের ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করার সুযোগ তৈরি হবে।

অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি নিয়ে ঐকমত্য
বৈঠকে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করে। চুক্তিটির মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন সুযোগ তৈরির প্রত্যাশা রয়েছে। বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়েও আলোচনা হয়।বাংলাদেশের তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণকেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতার জন্য জাপানের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি উল্লেখ করেন, দক্ষতা উন্নয়ন ও ভাষা প্রশিক্ষণের উদ্যোগ তরুণদের জাপানে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি এসব উদ্যোগ দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে। দক্ষ জনশক্তি তৈরি, কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণের বিষয়টি দুই দেশের সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র হিসেবে আলোচনায় উঠে আসে।

বাংলাদেশকে বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় দেশ মনে করছে জেটরো
বৈঠকে জেটরোর প্রেসিডেন্ট কাতাওকা সুসুমু বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে ইতোমধ্যে বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের বিষয়ে জাপানি কোম্পানিগুলোর আগ্রহ তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি। বাংলাদেশের বাজার, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করা সম্ভব বলে বৈঠকের আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী
বৈঠক শেষে জেটরোর প্রেসিডেন্ট কাতাওকা সুসুমুর আমন্ত্রণে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। পরে কাতাওকা সুসুমুকে তাঁর সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান প্রধানমন্ত্রী। এ সফরের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এ ছাড়া ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিবসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বিনিয়োগ, বাণিজ্য, রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও দক্ষতা উন্নয়নের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। তবে আলোচনার পর কোনো নির্দিষ্ট বিনিয়োগ প্রকল্প, অর্থের পরিমাণ বা বাস্তবায়নের সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

দলবদ্ধ কুকুরের তাড়ায় কাপাসিয়ায় বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৪ অপরাহ্ণ
দলবদ্ধ কুকুরের তাড়ায় কাপাসিয়ায় বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার বিভিন্ন সড়ক, বাজার ও জনবহুল এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের অবাধ বিচরণে বাড়ছে উদ্বেগ। দলবদ্ধভাবে ঘুরে বেড়ানো এবং পথচারীদের তাড়া করার ঘটনায় শিশু, নারী ও বয়স্ক ব্যক্তিদের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কুকুরের তাড়া খেয়ে ভারসাম্য হারিয়ে সড়কে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার আশঙ্কাও করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, উপজেলার বিভিন্ন সড়ক, বাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে প্রায়ই বেওয়ারিশ কুকুরের দল দেখা যায়। রিকশা, সাইকেল ও মোটরসাইকেল চলাচলের সময়ও কোনো কোনো কুকুর তেড়ে আসে। এতে পথচারীদের পাশাপাশি যানবাহনের চালকেরাও বিপাকে পড়ছেন। বিশেষ করে সন্ধ্যা ও রাতে এসব এলাকায় চলাচলের সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বেওয়ারিশ কুকুরের অবাধ বিচরণ শুধু পথচারীদের আতঙ্কের কারণ নয়, বরং সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে। শিশুদের বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসা এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের স্বাভাবিক চলাচল নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, সড়কে কুকুরের এমন বিচরণের কারণে শিশু ও বয়স্কদের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। কুকুরের তাড়া খেয়ে কেউ ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে গেলে কিংবা চলন্ত যানবাহনের সামনে চলে গেলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠতে পারে। তাই জনবহুল এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বেওয়ারিশ কুকুরের সমস্যা মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ চান তাঁরা। বেওয়ারিশ কুকুরের বিচরণ নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি কুকুরের কামড়ে আহত হওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। বীর উজলী বাজারের পল্লীচিকিৎসক মনির হোসেন জানান, এলাকায় কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে অনেকে ভ্যাকসিন নিতে আসছেন। তাঁদের কারও কারও শরীরে গভীর ক্ষতও তৈরি হচ্ছে।তাঁর মতে, এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। কুকুরের কামড়ে আহত ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঝুঁকি কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বেওয়ারিশ কুকুরের কামড় ও আঁচড় থেকে জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কাপাসিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এম কে এম আতিকুর রহমান বলেন, বেওয়ারিশ কুকুরের মধ্যে জলাতঙ্কের ঝুঁকি থাকতে পারে। কুকুরে কামড়ালে বা আঁচড় দিলে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তিনি জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। বেওয়ারিশ কুকুরকে টিকাদানের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, কুকুরে কামড়ালে বা আঁচড় দিলে ক্ষতস্থান সাবান ও প্রবাহমান পানি দিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট ভালোভাবে ধুয়ে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জলাতঙ্কের টিকা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে হবে।

জলাতঙ্কের লক্ষণ দেখা দেওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা না করে কামড় বা আঁচড়ের পরপরই চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। এ ক্ষেত্রে অবহেলা প্রাণঘাতী হতে পারে। কাপাসিয়ায় বেওয়ারিশ কুকুরের অবাধ বিচরণ, পথচারীদের তাড়া করা এবং কামড়ে আহত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ, টিকাদান এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন স্থানীয়রা।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

কৃষি থেকে পর্যটন, মালাগার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে উদ্যোগ

কূটনৈতিক প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৫ অপরাহ্ণ
কৃষি থেকে পর্যটন, মালাগার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে উদ্যোগ

স্পেনের মালাগা শহরের সঙ্গে কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন, বাণিজ্য, পর্যটন ও সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে দুই পক্ষের মধ্যে সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থী বিনিময়, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যোগাযোগ এবং সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশেও পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগ খতিয়ে দেখা হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, স্পেনের মালাগা সিটি মেয়রের কার্যালয়ে শহরটির মেয়র ফ্রান্সিসকো দে লা তোরে প্রাদোসের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

কৃষি ও তথ্যপ্রযুক্তিতে সহযোগিতার সম্ভাবনা
বৈঠকে কৃষি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এ ছাড়া দক্ষতা উন্নয়ন, বাণিজ্য, পর্যটন, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং সৃজনশীল অর্থনীতির মতো সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র নিয়েও আলোচনা করেন দুই পক্ষ। কৃষি খাতে অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময় এবং তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষতা বাড়ানোর মতো উদ্যোগ দুই পক্ষের সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখতে পারে। একইভাবে প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরির সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে আসে। তবে এসব ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো প্রকল্প, বিনিয়োগের পরিমাণ কিংবা বাস্তবায়নের সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি। বৈঠকে মূলত ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা ও ক্ষেত্রগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা নিয়ে আলোচনা
বৈঠকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা সম্পর্কে মালাগার মেয়রকে অবহিত করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। এ প্রক্রিয়ায় স্পেনসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য দেশগুলোর সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। বাংলাদেশের সঙ্গে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার ক্ষেত্রে এ ধরনের যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। দুই পক্ষের মধ্যে ভবিষ্যতে যোগাযোগ বাড়ানো এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সহযোগিতার সুযোগ তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়।

শিক্ষার্থী বিনিময় ও বিশ্ববিদ্যালয় সহযোগিতায় আগ্রহ
কৃষি ও তথ্যপ্রযুক্তির পাশাপাশি শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচি এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনাও বৈঠকে উঠে আসে। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষা, গবেষণা ও দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে দুই পক্ষের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া সাংস্কৃতিক বিনিময়, পর্যটন ও সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলোতে যোগাযোগ বাড়াতে পারলে বাংলাদেশ ও মালাগার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ভবিষ্যতে সহযোগিতার নতুন পথ তৈরি হতে পারে।

রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তার প্রশংসা মালাগার মেয়রের
বৈঠকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১৩ লাখ রোহিঙ্গাকে মানবিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টির প্রশংসা করেন মালাগার মেয়র ফ্রান্সিসকো দে লা তোরে প্রাদোস। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত ও টেকসই সমাধানের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে বাংলাদেশ। এ সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে।

ভবিষ্যৎ যোগাযোগ বাড়াতে দুই পক্ষের আগ্রহ
বৈঠকে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং মালাগার পৌর কর্তৃপক্ষের মধ্যে ভবিষ্যতে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে উভয় পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করে। কৃষি, প্রযুক্তি, শিক্ষা, বাণিজ্য, পর্যটন ও সংস্কৃতির মতো খাতে সম্ভাব্য সহযোগিতা এগিয়ে নিতে ভবিষ্যৎ যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে আলোচনায় উঠে আসা উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে এখনো বিস্তারিত পরিকল্পনা জানানো হয়নি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

ঢাকায় পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ৫৮১, উদ্ধার স্বর্ণালংকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ
ঢাকায় পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ৫৮১, উদ্ধার স্বর্ণালংকার

রাজধানী ঢাকায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় ৫৮১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময়ে বিভিন্ন অপরাধে ৪৮টি মামলা করা হয়েছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য, মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেল, চাকু, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি একজন ভুক্তভোগীকেও উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় বিভিন্ন আলামত ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। ডিএমপির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টার অভিযানে সবচেয়ে বেশি গ্রেপ্তার করা হয়েছে মিরপুর বিভাগ থেকে। এ বিভাগে ১৫৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ ছাড়া ওয়ারী বিভাগে ৯০ জন, মতিঝিল বিভাগে ৮৯ জন, তেজগাঁও বিভাগে ৬৮ জন, গুলশান বিভাগে ৪২ জন, উত্তরা বিভাগে ৩৯ জন, রমনা বিভাগে ১৯ জন এবং লালবাগ বিভাগে ৭১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গোয়েন্দা বিভাগ গ্রেপ্তার করেছে আরও চারজনকে।

সব মিলিয়ে ডিএমপির বিভিন্ন বিভাগ ও গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ৫৮১ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। একই সময়ে ৪৮টি মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। অভিযানকালে ৯ হাজার ৩৬০ পিস ইয়াবা, ৫০ কেজি ৪৫০ গ্রাম গাঁজা এবং ২০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে। মাদকদ্রব্যের পাশাপাশি নয়টি মোবাইল ফোন, একটি মোটরসাইকেল ও একটি চাকু উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ৬১ দশমিক ৮০ গ্রাম স্বর্ণালংকার এবং ৭ হাজার ৮০০ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। অভিযানে একজন ভুক্তভোগীকেও উদ্ধার করা হয়েছে বলে ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়।

উদ্ধার করা এসব আলামত সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ায় বিবেচনায় নেওয়া হবে। তবে কোন আলামত কোন মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। ডিএমপি জানিয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় মঙ্গলবার অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার ও উদ্ধারের এসব ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।রাজধানীতে অপরাধ দমনে পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি