কিংবদন্তি অ্যান্ডারসনের বিদায়ে ‘অসম্মান’, ল্যাংকাশায়ারের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ ব্রড
ইংল্যান্ডের ক্রিকেটে ২৬ বছরের স্মৃতি, অসংখ্য সাফল্য আর রেকর্ডের সঙ্গী। অথচ ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে এসে জেমস অ্যান্ডারসনকে প্রাপ্য সম্মানটুকুও দেওয়া হয়নি—এমন অভিযোগ তুলেছেন তাঁর দীর্ঘদিনের সতীর্থ স্টুয়ার্ট ব্রড। অভিজ্ঞ এই পেসারের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাউন্টি ক্লাব ল্যাংকাশায়ার। ক্লাবটির এমন সিদ্ধান্তকে ‘অসম্মানজনক’ বলে সমালোচনা করেছেন ব্রড।
ইংল্যান্ডের হয়ে দীর্ঘদিন একসঙ্গে বল হাতে প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের শাসন করেছেন অ্যান্ডারসন ও ব্রড। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম সফল এই পেস জুটির অর্জন ১ হাজার উইকেটেরও বেশি। সেই জুটির অন্যতম সদস্য অ্যান্ডারসনের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে ল্যাংকাশায়ারের সিদ্ধান্ত তাই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
‘কিংবদন্তিদের আরও ভালোভাবে বিদায় জানানো উচিত’
‘ফর দ্য লাভ অব ক্রিকেট’ পডকাস্টে ল্যাংকাশায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেন ব্রড। তাঁর মতে, অ্যান্ডারসনের মতো কিংবদন্তি ক্রিকেটারের সঙ্গে বিষয়টি আরও সম্মানজনকভাবে সামলানো উচিত ছিল।
ব্রড বলেন, “ল্যাংকাশায়ারের সিদ্ধান্তটা আমার ভালো লাগেনি। বিষয়টি যথাযথভাবে হয়নি। আমার মনে হয়েছে, এটা অসম্মানজনক। খেলাটির কিংবদন্তি বা সেরাদের আরও ভালোভাবে বিদায় জানানো উচিত।”
শুধু চুক্তি নবায়ন না করার সিদ্ধান্তই নয়, বিষয়টি যেভাবে পরিচালনা করা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক এই পেসার। তাঁর মতে, এমন পরিস্থিতিতে ক্লাবের নেতৃত্বের আরও সক্রিয় ভূমিকা থাকা উচিত ছিল।
ব্রডের ভাষায়, “এমন সিদ্ধান্ত ক্লাবটির নেতৃত্বের অভাবকে সামনে এনেছে। বিষয়টি সঠিকভাবে করার মানসিকতারও অভাব প্রকাশ করে। পল ফারব্রেস নতুন, কিন্তু ক্লাবের চেয়ারম্যান কোথায়? পরিচালনা পর্ষদ কোথায়? তাদের তো নিশ্চিত করা উচিত ছিল, কাজটি আরও ভালোভাবে হচ্ছে।”
রেকর্ড গড়া জুটির এক সদস্য এখনো খেলতে চান
অ্যান্ডারসন ও ব্রডের সম্পর্ক কেবল সতীর্থের নয়; ইংল্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেটের বহু স্মরণীয় সাফল্যের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে তাঁদের নাম। দুজনের জুটিতে এসেছে ১ হাজার ৩৯টি টেস্ট উইকেট, যা টেস্ট ইতিহাসে কোনো বোলিং জুটির সর্বোচ্চ সংগ্রহ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অ্যান্ডারসনের উইকেটসংখ্যা ৯৯১। অন্যদিকে ব্রড ইংল্যান্ডের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিয়েছেন ৮৪৭ উইকেট। দীর্ঘ সময় ধরে ইংল্যান্ডের বোলিং আক্রমণের নেতৃত্ব দেওয়া এই দুই পেসার নিজেদের ধারাবাহিকতা ও সাফল্যে আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন।
তাই অ্যান্ডারসনের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা শুধু একটি কাউন্টি ক্লাবের সিদ্ধান্তে সীমাবদ্ধ থাকছে না। তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অর্জন এবং এখনো খেলার সামর্থ্য—দুটিই সামনে আসছে।
অ্যান্ডারসনেরও হতাশা, তবে শুভকামনা ক্লাবকে
ল্যাংকাশায়ারের সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছেন অ্যান্ডারসন নিজেও। তবে ক্লাবটির খেলোয়াড় ও সমর্থকদের প্রতি শুভকামনা জানিয়েছেন তিনি। ইংল্যান্ডের এই কিংবদন্তি পেসার বলেন, “সিদ্ধান্তটা যদি আমার হাতে থাকত, তবে শেষটা অন্তত এভাবে হতো না। তবে ক্লাবটির খেলোয়াড় ও সমর্থকদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছি।”
অ্যান্ডারসন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের ঘোষণা দেননি। ফলে তাঁর ক্রিকেট ক্যারিয়ার এখানেই শেষ হয়ে যাচ্ছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। বরং কাউন্টি ক্রিকেটে নতুন কোনো দলের হয়ে তাঁকে দেখা যেতে পারে—এমন সম্ভাবনাও রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েকটি কাউন্টি ক্লাব তাঁকে দলে নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে।
৪৪ বছরেও থামতে চান না অ্যান্ডারসন
বয়স ৪৪ বছর হলেও অ্যান্ডারসনের বোলিং সামর্থ্য নিয়ে আশাবাদী ব্রড। তাঁর মতে, অভিজ্ঞ এই পেসারের এখনো ক্রিকেটকে দেওয়ার মতো অনেক কিছু রয়েছে।
ব্রড বলেন, “অনেক ক্লাবই তাকে চাইবে। তিনি এখনো অনেক কিছু দিতে পারেন। এখনো দেশের অন্যতম সেরা বোলার তিনি।”
গত মৌসুমে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে ৫০ উইকেট নিয়েছেন অ্যান্ডারসন। ল্যাংকাশায়ারের অধিনায়কত্বও করেছেন তিনি। তবে ভবিষ্যতের দল গঠনের পরিকল্পনা সামনে রেখে অভিজ্ঞ এই পেসারকে ছাড়াই এগোতে চায় ক্লাবটি। নতুন ক্রিকেট পরিচালক পল ফারব্রেসের পরিকল্পনায় অ্যান্ডারসনকে না রাখার সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত চুক্তি নবায়ন না করার পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
বিদায়ের মঞ্চ কি অন্য কোথাও?
অ্যান্ডারসনের মতো কিংবদন্তি ক্রিকেটারের ক্যারিয়ারের শেষটা কেমন হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। ল্যাংকাশায়ারের সঙ্গে সম্পর্কের এই অধ্যায় শেষ হলেও ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেননি তিনি। অন্য কোনো কাউন্টি ক্লাবের হয়ে খেলার সুযোগ তৈরি হলে তাঁর ক্যারিয়ার আরও দীর্ঘ হতে পারে।
তবে ব্রডের ক্ষোভের কেন্দ্রে রয়েছে অন্য একটি প্রশ্ন—দীর্ঘদিনের সাফল্য ও অবদানের পর একজন কিংবদন্তি ক্রিকেটারকে বিদায় জানানোর ক্ষেত্রে ক্লাবের আরও সংবেদনশীল হওয়া উচিত ছিল কি না। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, অ্যান্ডারসনের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্তের চেয়েও সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ধরন তাঁকে বেশি হতাশ করেছে।
ল্যাংকাশায়ারের সিদ্ধান্তে অ্যান্ডারসনের সামনে নতুন পথ খুলবে, নাকি এটিই তাঁর দীর্ঘ কাউন্টি ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেবে—সেদিকেই এখন নজর ক্রিকেটপ্রেমীদের।
কালের আলো/এএএন/জেএন
আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]