খুঁজুন
                               
, ,
           

শরিকদের দ্বন্দ্বে বন্ধ গভীর নলকূপ, ঝুঁকিতে ২০০ বিঘা জমির ফসল

জয়পুরহাট সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৬ অপরাহ্ণ
শরিকদের দ্বন্দ্বে বন্ধ গভীর নলকূপ, ঝুঁকিতে ২০০ বিঘা জমির ফসল

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় গভীর নলকূপের মালিকানাসংক্রান্ত বিরোধে সেচযন্ত্র বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। এতে প্রায় ২০০ বিঘা জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সময়মতো সেচ দিতে না পারায় উৎপাদন ও আর্থিক লোকসানের শঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

উপজেলার বোড়াই মৌজায় তিন শরিকের যৌথ মালিকানায় স্থাপিত গভীর নলকূপটি বন্ধ থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দুই শরিকের অভিযোগ, অপর শরিক মো. সেলিম উদ্দিন মণ্ডল বিদ্যুৎ-সংযোগের প্রয়োজনীয় মালামাল নিজের বাড়িতে রাখায় নলকূপটি চালু করা যাচ্ছে না।

নলকূপটি চালু করে নিয়মিত সেচের পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবিতে গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) কালাই উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন দুই শরিক মো. মুরশিদ আলম ও মো. নুর আলম সরকার।

আবেদনে বলা হয়, নলকূপটি দিয়ে এলাকার কৃষিজমিতে সেচের পানি সরবরাহ করা হয়। কিন্তু শরিকদের বিরোধের কারণে এটি বন্ধ থাকায় নির্ভরশীল কৃষকেরা সময়মতো জমিতে পানি দিতে পারছেন না। বিকল্প উৎস থেকেও সেচের পানি সংগ্রহের ব্যবস্থা না থাকায় ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে।

স্থানীয় কৃষক আব্দুল মোত্তালেব বলেন, ‘আমাদের জমিতে সেচের জন্য এই গভীর নলকূপের ওপর নির্ভর করতে হয়। নলকূপ বন্ধ থাকায় সময়মতো জমিতে পানি দেওয়া যাচ্ছে না। এতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা হয়েছে। আমরা চাই, দ্রুত সমস্যার সমাধান করে নলকূপটি চালু করা হোক।’

কৃষক মুনসুর বলেন, চাষাবাদে আগে থেকেই অনেক টাকা খরচ হয়েছে। সঠিক সময়ে সেচ দিতে না পারলে সেই খরচের সুফল পাওয়া কঠিন। নলকূপের মালিকদের বিরোধের কারণে কৃষকেরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে জন্য কর্তৃপক্ষের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

আরেক কৃষক খোরশেদ বলেন, জমির ফসলের ওপর নির্ভর করেই তাঁদের সংসার চলে। ফসলের ক্ষতি হলে পুরো পরিবারকে এর মাশুল দিতে হবে। নলকূপ বন্ধ থাকায় সেচ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে সেলিম উদ্দিন মণ্ডল বলেন, গভীর নলকূপটি একাধিক শরিকের মালিকানাধীন এবং এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে কিছু বিরোধ রয়েছে। তবে কৃষকদের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে তিনি নলকূপ বন্ধ রাখেননি। বিদ্যুতের মালামাল নিজের বাড়িতে রাখার পেছনে নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ বলেন, গভীর নলকূপটি বন্ধ থাকায় প্রায় ২০০ বিঘা জমির কৃষকেরা সেচসংকটে পড়েছেন বলে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। শরিকদের মধ্যে বিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু কৃষকদের ফসলের ক্ষতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

বিকট হর্নে সড়কে শব্দসন্ত্রাস

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৮ অপরাহ্ণ
বিকট হর্নে সড়কে শব্দসন্ত্রাস

সিগন্যাল লাল, যানজটে আটকে আছে গাড়ি—তবু বিরাম নেই হর্নের। বাসের বিকট শব্দ, ট্রাকের হাইড্রোলিক হর্ন, মোটরসাইকেলের কর্কশ আওয়াজে প্রতিদিন কেঁপে উঠছে রাজধানীর সড়ক। নিষিদ্ধ হর্নের বিরুদ্ধে আইন আছে, জরিমানার বিধান আছে, অভিযানও চলছে; কিন্তু শব্দের দাপট কমছে না। অভিযোগ রয়েছে, ঢাকার ধোলাইখাল এলাকায় সহজেই মিলছে এসব হর্ন, আর যানবাহনে সেগুলো বসানো হচ্ছে এমনভাবে, যাতে সহজে চোখে না পড়ে।

এই শব্দযন্ত্রণা থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দিতে এবার প্রযুক্তির সহায়তা নিতে যাচ্ছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। অতিমাত্রার হর্ন শনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট গাড়ির অবস্থান সম্পর্কে নিয়ন্ত্রণকক্ষে সংকেত পাঠাতে ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে ‘অ্যাকোয়াস্টিক ট্র্যাকিং ডিভাইস’। অন্যদিকে গাজীপুর জেলা প্রশাসন চালু করেছে ‘নো হর্ন ক্যাম্পেইন’। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—হর্নের উৎস ও বিক্রি নিয়ন্ত্রণ না করে, নিয়ম ভাঙার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে, শুধু প্রযুক্তি আর সচেতনতায় কি থামানো যাবে রাজধানীর এই শব্দসন্ত্রাস?

  • আইন-জরিমানাতেও নিয়ন্ত্রণহীন নিষিদ্ধ হর্ন
  • শব্দ শনাক্তে প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রস্তুতি
  • অবৈধ হর্নের বাজার বন্ধে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ

শব্দের আঘাত শরীরেও
অতিরিক্ত শব্দ কেবল কানের অস্বস্তি নয়; দীর্ঘমেয়াদে এটি জনস্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। উচ্চমাত্রার শব্দ শ্রবণশক্তির ক্ষতি, ঘুমের ব্যাঘাত, মনোযোগের সমস্যা ও মানসিক চাপ বাড়াতে পারে। দীর্ঘদিন শব্দদূষণের সংস্পর্শে থাকার সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকির সম্পর্কও পাওয়া গেছে।

জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সংস্থা ইউনেপের ২০২২ সালের প্রতিবেদনে ঢাকাকে বিশ্বের সবচেয়ে শব্দদূষণপ্রবণ শহর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। প্রতিবেদনে পরিবহনজনিত শব্দের মাত্রা ১১৯ ডেসিবল বলে উল্লেখ করা হয়। তবে শব্দের মাত্রা স্থান, সময় ও পরিমাপপদ্ধতির ভিত্তিতে পরিবর্তিত হয়; একটি পরিমাপ দিয়ে পুরো শহরের পরিস্থিতি নির্ধারণ করা যায় না। তবু রাজধানীর সড়কে উচ্চমাত্রার হর্নের ব্যাপক ব্যবহার যে উদ্বেগজনক, তা স্পষ্ট।

আইন আছে, নিয়ন্ত্রণ কোথায়?
২০২৪ সালের মে মাসে বিআরটিএ হুটার, হাইড্রোলিক হর্ন ও অন্যান্য অননুমোদিত হর্ন ব্যবহার না করার নির্দেশনা দেয়। সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট জরুরি ও রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে ব্যবহৃত যানবাহন ছাড়া অন্য মোটরযানে তীব্র, কর্কশ, বিকট বা ভীতিকর শব্দ সৃষ্টিকারী হর্ন ব্যবহার নিষিদ্ধ।

তবু একাধিক বাস ও ট্রাকচালকসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিষিদ্ধ হর্ন সহজলভ্য হওয়ায় সেগুলোর ব্যবহার বন্ধ করা কঠিন হচ্ছে। বাস, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাতেও অননুমোদিত হর্ন ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, নিষিদ্ধ হর্নের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। তবে চালকদের একটি অংশের কাছে অপ্রয়োজনে হর্ন বাজানো অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তাঁর মতে, শুধু অভিযান ও জরিমানায় এই প্রবণতা বন্ধ করা কঠিন; প্রয়োজন উন্নত প্রযুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ।

শনাক্ত হবে শব্দ, ধরা পড়বে গাড়ি?
ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ ‘অ্যাকোয়াস্টিক ট্র্যাকিং ডিভাইস’ ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন আনিসুর রহমান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ডিভাইসটি অতিমাত্রার শব্দ শনাক্ত করে নিয়ন্ত্রণকক্ষে সংকেত পাঠাতে পারে। এতে ট্রাফিক পুলিশ সংশ্লিষ্ট যানবাহন শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ পাবে।

এখন যন্ত্রটি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে প্রথমে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক পয়েন্টগুলোতে পরীক্ষামূলকভাবে এটি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিক অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন করে পরে ব্যবহার বাড়ানোর কথা ভাবছে পুলিশ।

তবে প্রযুক্তির কার্যকারিতা নির্ভর করবে শব্দের উৎস নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা, গাড়ির পরিচয় নিশ্চিত করা এবং অপরাধের পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর। শনাক্তকরণের পরও যদি আইন প্রয়োগে গড়িমসি হয়, তাহলে নতুন প্রযুক্তিও প্রত্যাশিত ফল দিতে পারবে না।

বন্ধ করতে হবে নিষিদ্ধ হর্নের সরবরাহ
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের বড় বাধা শুধু চালকদের আচরণ নয়, নিষিদ্ধ হর্নের সরবরাহও। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ধোলাইখাল এলাকায় এসব হর্ন কেনাবেচা হয় এবং গাড়ির গোপন স্থানে বসানো হয়, যাতে সহজে শনাক্ত করা না যায়।

আনিসুর রহমান মনে করেন, এই বাজার নিয়ন্ত্রণ পুলিশের একার পক্ষে সম্ভব নয়। বিআরটিএ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। অর্থাৎ সড়কে হর্ন বাজানোর অপরাধ শনাক্তের পাশাপাশি আমদানি, মজুদ, বিক্রি ও যানবাহনে সংযোজনের পথও বন্ধ করতে হবে।

গাজীপুরে শাস্তির পাশাপাশি সচেতনতা
গাজীপুর জেলা প্রশাসনের ১৬ সপ্তাহের ‘নো হর্ন ক্যাম্পেইন’ ইতিমধ্যে নবম সপ্তাহে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. নুরুল করিম ভুঁইয়া। কর্মসূচির আওতায় বাসমালিকদের অননুমোদিত হর্ন অপসারণের জন্য সময় দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, সিএনজি ও অটোরিকশাচালকদেরও কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

জেলা প্রশাসক জানান, চালকদের আচরণ পরিবর্তনে উদ্বুদ্ধ করাই এ উদ্যোগের বিশেষ দিক। কর্মসূচির ১৫তম সপ্তাহে বিধিনিষেধ না মানা চালকদের নিয়ে সচেতনতামূলক ভিডিও প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই উদ্যোগ কতটা সফল হবে, তা বোঝা যাবে নিষিদ্ধ হর্ন অপসারণ এবং পরবর্তী সময়ে এর ব্যবহার কমার পরিসংখ্যান থেকে।

হর্ন নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ১৮ জুলাই যানবাহনের অতিরিক্ত হর্ন নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেন। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এবং ফিটনেসবিহীন ও পরিবেশদূষণকারী যানবাহন অপসারণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

কিন্তু নির্দেশনা, অভিযান ও প্রযুক্তির পরিকল্পনার পরও মূল প্রশ্নটি রয়ে গেছে—রাজধানীর সড়কে শব্দের মাত্রা কমবে কি না। নিষিদ্ধ হর্নের বাজার নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত আইন প্রয়োগ এবং চালকদের আচরণ পরিবর্তন—এই তিনটি ক্ষেত্রে অগ্রগতি ছাড়া স্থায়ী ফল পাওয়া কঠিন।

ঢাকাকে শব্দদূষণ থেকে মুক্ত করতে তাই শুধু হর্ন শনাক্তের যন্ত্র বসালেই চলবে না; নিশ্চিত করতে হবে, শনাক্ত অপরাধের বিচার হচ্ছে, নিষিদ্ধ হর্নের সরবরাহ কমছে এবং সড়কে অপ্রয়োজনীয় হর্ন বাজানোর প্রবণতা সত্যিই কমছে। শেষ পর্যন্ত এই উদ্যোগের সাফল্য মাপা হবে প্রযুক্তি কেনা বা অভিযান পরিচালনার সংখ্যায় নয়, নগরবাসীর কানে পৌঁছানো শব্দ কতটা কমল, তা দিয়ে।

কালের আলো/এমএসএএকে/এমকে

হ্যাকিংয়ের আশঙ্কায় এনআইডি সার্ভার বন্ধ রাখল ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩৩ অপরাহ্ণ
হ্যাকিংয়ের আশঙ্কায় এনআইডি সার্ভার বন্ধ রাখল ইসি

বিশ্বজুড়ে ওয়েবসাইট তৈরিতে বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর সাইবার হামলার আশঙ্কায় জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সার্ভার সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সার্ভারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে সংস্থাটির কারিগরি দল।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) ইসির এনআইডি অনুবিভাগের কর্মকর্তারা বিষয়টি জানান।

এনআইডি অনুবিভাগের সিস্টেম ম্যানেজার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, ‘আমাদের কারিগরি টিম কাজ করছে। কাজ শেষ হলে দ্রুতই সার্ভার চালু হয়ে যাবে।’

এদিকে, সরকারি তথ্যভান্ডারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সতর্কবার্তা জারি করেছে সরকারের সাইবার নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট সংস্থা বিজিডি ই-গভ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্যালিফ ও উইজের একদল গবেষক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় পিএইচপির প্রায় এক দশক পুরোনো একটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত করেন। ত্রুটিটি সাইবার হামলার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্কতা জারি করা হয়।

এরপর গত ২১ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এনএসএ) জরুরি সতর্কতা জারি করে। এর পরপরই সম্ভাব্য হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় উইকিমিডিয়া, যুক্তরাজ্য সরকার, ফ্রান্সের টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান অরেঞ্জ এবং ফিনল্যান্ড সরকারসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শত শত ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে সেবা বন্ধ রাখে।

এনআইডি সার্ভার পুনরায় চালুর নির্দিষ্ট সময় জানায়নি নির্বাচন কমিশন। তবে কারিগরি কাজ শেষ হলে দ্রুত সেবা চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

কিউবা থেকে হলিউড, যেভাবে তারকা হলেন আনা দে আরমাস

বিনোদন ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪১ অপরাহ্ণ
কিউবা থেকে হলিউড, যেভাবে তারকা হলেন আনা দে আরমাস

হলিউডে নিজের সৌন্দর্য ও অভিনয়দক্ষতা দিয়ে আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছেন কিউবান-স্প্যানিশ অভিনেত্রী আনা দে আরমাস। রহস্য, থ্রিলার থেকে শুরু করে জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র—বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের নজর কেড়েছেন তিনি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার পরিচিতি আরও বিস্তৃত হয় ‘নাইভস আউট’ সিনেমায় অভিনয়ের পর। পর্দায় সাবলীল উপস্থিতি ও চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার দক্ষতা তাকে হলিউডের আলোচিত অভিনেত্রীদের একজন করে তুলেছে।

কিউবা থেকে হলিউডের পথে
আনা দে আরমাসের জন্ম ১৯৮৮ সালের ৩০ এপ্রিল কিউবার সান্তা ক্রুজ দেল নর্তে শহরে। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ ছিল তার। সেই আগ্রহ থেকেই অভিনয় নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন এবং অল্প বয়সেই অভিনয়জগতে পা রাখেন।

কিউবার চলচ্চিত্রে কাজের মধ্য দিয়ে অভিনয়জীবন শুরু হলেও পরে স্পেনে পাড়ি জমান আনা। সেখানে টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পান। এরপর হলিউডে নিজের অবস্থান তৈরি করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। নতুন ভাষা ও ভিন্ন সংস্কৃতির পরিবেশে কাজের চ্যালেঞ্জ থাকলেও ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে নিজের জায়গা করে নেন তিনি।

‘নাইভস আউট’ থেকে আন্তর্জাতিক পরিচিতি
আনা দে আরমাসের ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে ২০১৯ সালে মুক্তি পাওয়া রহস্যধর্মী চলচ্চিত্র ‘নাইভস আউট’-এর মাধ্যমে। এতে মার্তা ক্যাব্রেরা চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক প্রশংসা পান তিনি। এই সিনেমায় অভিনয়ের জন্য গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কারে সেরা অভিনেত্রী—মিউজিক্যাল বা কমেডি বিভাগে মনোনয়নও পেয়েছিলেন।

এরপর একের পর এক বড় প্রযোজনার চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ আসে তার সামনে। ‘নো টাইম টু ডাই’ সিনেমায় প্যালোমা চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের নজর কাড়েন। অল্প সময়ের উপস্থিতিতেও তার প্রাণবন্ত অভিনয় চলচ্চিত্রটির উল্লেখযোগ্য আকর্ষণ হয়ে ওঠে।

মেরিলিন মনরোর চরিত্রে অভিনয়
২০২২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ব্লন্ড’ চলচ্চিত্রে হলিউডের কিংবদন্তি অভিনেত্রী মেরিলিন মনরোর চরিত্রে অভিনয় করেন আনা। চরিত্রটির জন্য তাকে দীর্ঘ প্রস্তুতি নিতে হয়েছিল। মেরিলিনের ব্যক্তিত্ব, কণ্ঠস্বর ও জীবনের নানা দিক পর্দায় তুলে ধরার চেষ্টা করেন তিনি। সিনেমাটি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা হলেও আনার অভিনয় আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়। এ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি অস্কারে সেরা অভিনেত্রী বিভাগে মনোনয়ন পান।

এই অভিজ্ঞতা তার অভিনয়জীবনে নতুন মাত্রা যোগ করে। একই সঙ্গে প্রমাণিত হয়, শুধু সৌন্দর্যনির্ভর চরিত্র নয়, জটিল ও চ্যালেঞ্জিং ভূমিকাতেও নিজেকে তুলে ধরতে সক্ষম তিনি।

ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আগ্রহ
পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি আনা দে আরমাসের ব্যক্তিগত জীবনও প্রায়ই সংবাদমাধ্যমের আলোচনায় আসে। বিশেষ করে হলিউডের পরিচিত তারকাদের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে ভক্তদের আগ্রহ রয়েছে। অভিনেতা টম ক্রুজের সঙ্গে তার সম্পর্কের গুঞ্জনও একসময় আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। তবে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সাধারণত প্রকাশ্যে খুব বেশি কথা বলেন না আনা।

তারকাখ্যাতির বাইরে অভিনয়কে গুরুত্ব দেওয়াই আনার ক্যারিয়ারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ভিন্নধর্মী চরিত্রে কাজের আগ্রহ এবং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রে ধারাবাহিক উপস্থিতি তাকে হলিউডের উল্লেখযোগ্য অভিনেত্রীদের কাতারে জায়গা করে দিয়েছে। সামনে আরও নতুন চরিত্রে তাকে দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন ভক্তরা।

কালের আলো/এএএন/জেএন