খুঁজুন
                               
, ,
           

মানবতার পক্ষের লড়াইয়ে সেনারা : ত্রাণ যাচ্ছে বাড়ি বাড়ি; নীরবে-নিভৃতে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২০, ১১:৩০ অপরাহ্ণ
মানবতার পক্ষের লড়াইয়ে সেনারা : ত্রাণ যাচ্ছে বাড়ি বাড়ি; নীরবে-নিভৃতে

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

ঘরবন্দি জীবনে কর্মহীন, শ্রমজীবী, দরিদ্র ও দুস্থদের টান পড়েছে পেটে। সামান্য আয় রোজগারেরও জো নেই। চরম বিপাকে হাসফাঁস অবস্থা খেটে খাওয়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে করোনায় সবজি উৎপাদন ‘স্বাভাবিক’ রাখতে সেনাবাহিনীর ভিন্নধর্মী উদ্যোগ!

তাদের দূয়ারে কান পাতলেই ভেসে আসে হাহাকার আর আর্তনাদ। প্রাণঘাতী করোনা যেন যাপিত জীবনে নিয়ে এসেছে ঘোর অমানিষার অন্ধকার।

সঙ্কটময় এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে, আঁধার কাটাতে অতি দরিদ্র এসব মানুষের পাশে থাকার সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছে সরকার। এগিয়ে আসছে সামাজিক-স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে করোনার যুদ্ধে সেনা সদস্যদের ১৬ দফা নির্দেশনা সেনাপ্রধানের

চরম অভাবের জীবনে নিম্নবিত্তের কাছে কাঙ্খিত ত্রাণই যেন আবির্ভূত হচ্ছে ত্রাতারূপে। অবশ্য এই ত্রাণ নিয়ে বিশৃঙ্খলা বা লঙ্কাকান্ডের শেষ নেই।

কোন স্থানে ত্রাণ বিতরণ হলেই পরোয়া করা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্বের রীতি-নীতির। খাদ্য সঙ্কটে কোথাও কোথাও বেঁধেছে লড়াই।

আরও পড়ুন: ‘করোনা যোদ্ধা’ সেনা সদস্যদের এ যেন মানবতারই জয়গান! (ভিডিও)

কঠিন এমন বাস্তবতায় কেবলমাত্র সামাজিক দূরত্ব ও হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখতে পারেনি সরকারের নির্দেশে দেশজুড়ে মাঠে থাকা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

করোনা জীবাণুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে অশান্ত ও অস্থির সময়ে প্রতিনিয়তই স্বমহিমায় উজ্জ্বল হয়ে উঠছেন সেনা সদস্যরা। দিন যতো গড়াচ্ছে তাদের কাজের স্টাইলও যেন পাল্টে যাচ্ছে।

কোন জনসমাগম নয়, পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন গৃহবন্দী জীবন যাপনের শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াটাই এখন তাদের ‘রুটিন ওয়ার্ক’।

অদৃশ্য জীবাণু করোনার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে কার্যত এ যুদ্ধের পাশাপাশি মানবতার পক্ষের লড়াইয়েও নিজেদের অবতীর্ণ করেছেন দেশপ্রেমিক সেনারা।

আরও পড়ুন: দেশজুড়ে স্বাস্থ্য সেবাতেও এখন ভরসার নাম সেনাবাহিনী

মানবিকতাবোধে জাগ্রত হয়ে দেশের ৬২ টি জেলাতেই কর্মহীন গরিব ও দুস্থদের বাঁচিয়ে রাখতে নিত্যপণ্য বিতরণের কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছেন।

হুড়োহুড়ি বা শোডাউন প্রবণতার বাইরে গিয়ে তারা গরিব ও দুস্থদের ত্রাণের প্যাকেট পৌঁছে দিচ্ছেন বাড়ি বাড়ি। কোথাও কোথাও আবার নীরবে-নিভৃতে; গুটগুটে অন্ধকার রাতে।

কখনও কখনও আবার টহলের গাড়িতে থাকা ত্রাণ সামগ্রী দারিদ্র্য জর্জর মানুষজনকে সড়কেই দেওয়া হচ্ছে তুলে। দারিদ্র্য জর্জর জীবনে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছেন নিম্নবিত্ত আর কর্মহীনরা।

আর এসব খরচাপাতি হচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিজস্ব উদ্যোগে; নিজেদের জন্য বরাদ্দকৃত রেশনের টাকায়।

আরও পড়ুন: সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বেচাবিক্রি, অনুসরণ হচ্ছে ‘সেনাবাহিনী মডেল’ (ভিডিও)

উদ্ভূত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্বল্প আয়ের মানুষের পাশে থাকার সরকারি উদ্যোগে নিজেদের সহযাত্রী হিসেবে মানবিক নৈতিকতার মনোভাব নিয়ে পথচলার অঙ্গীকার করেছেন দেশপ্রেমিক অকুতোভয় সেনারা।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বাঙালির গৌরবোজ্জ্বল স্বাধীনতার সংগ্রামের মূল চেতনাকে ধারণ করে পথচলা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ শুরু থেকেই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকার অঙ্গীকার করেছেন।

অমিত দৃঢ়তায় তিনি উচ্চারণ করেছেন ‘আমরা সৈনিক, আমরা সব সময় যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত।’ মাঠে থাকা সেনা সদস্যদের কার্যক্রম, রীতিনীতি এবং কঠোর মানসিকতার অগ্নিদেয়ালের পরিবর্তে মানবিক সারসত্যের নিগূঢ়তম বাস্তবতায় নিজেদের সমর্পণের ১৬ দফা কার্যকর নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

আরও পড়ুন: বৃত্তের মাধ্যমে দূরত্ব চিহ্নিত; সেনাবাহিনীর কর্মযজ্ঞে দেশজুড়ে স্বস্তির সুবাতাস (ভিডিও)

নিজের বহুমাত্রিক মেধার বিকিরণে, বর্ণাঢ্য ব্যক্তিত্ব ও পেশাদারিত্বের আভায় নিজ বাহিনীর সদস্যদের এসব নির্দেশনা বাহিনীর সদস্যদের সাহস ও মনোবল বাড়ানোর পাশাপাশি করোনা সঙ্কুল পরিস্থিতির বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে আক্ষরিক অর্থেই ‘টনিক’ হিসেবে কাজ করছে।

নিজের নির্দেশনায় সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ‘জনগণের প্রকৃত বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

মানবিক হৃদয় নিয়েই ধৈর্য্য, সহনশীলতা ও সৎ সাহসের পরিচয় দিয়ে জনগণের পাশে থেকে তাদের আস্থা অর্জনেও গুরুত্বারোপ করেছেন।

সূত্র মতে, জাতির সংকটময় মুহূর্তে নিজেদের পেশাদারীত্ব, সততা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের আপামর মানুষের পাশে থেকে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন সেনাপ্রধান।

আরও পড়ুন: প্রকৃতিতে ফিরেছে প্রাণ, আতঙ্ক নয় প্রতিরোধের ডাক সেনা সদস্যদের (ভিডিও)

সেনাপ্রধানের এ নির্দেশনায় করোনার মহাপ্রলয়ের সময়েও নির্ভীক সেনা সদস্যরা দরিদ্র ও অসহায় মানুষের ঘরে ঘরে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে।

নিজেদের জীবন বিপন্ন করে রাত-দিন সড়কে সড়কে টহল দিচ্ছে। দেশপ্রেম, আবেগ ও মানবিকতার সঙ্গে সাধারণ মানুষের জন্য তাদের এমন প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা কেবল নজরকাড়াই নয় মুগ্ধতার শৌর্য-বীর্য আর বীরত্বের বহি:প্রকাশও বটে!

সেনাবাহিনীর মানবিক কর্মকান্ডের প্রশংসা করে রাজধানীর বেসরকারী গ্রিন ইউনিভার্সিটির শিক্ষক সামিহা ইসলাম তন্নি কালের আলো’কে বলেন, করোনার ভয়াল থাবায় কার্যত বিপর্যস্ত বিশ্ব। ইউরোপ থেকে দক্ষিণ এশিয়া সব পথে এখন মৃত্যুর বিভীষিকা।

আরও পড়ুন: করোনার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত যুদ্ধে সেনাবাহিনী, সেনাপ্রধানের বক্তব্যে আশার সঞ্চার

অতীতে কোন মহামারীতে একদিনে এতো মৃত্যু দেখেনি বিশ্ব। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের ভয়াবহতায় এক মোহনায় মিলিত হয়েছে দেশ।

আর বরাবরের মতো এবারও দেশের সঙ্কটে বা দু:সময়ে ত্রাতার ভূমিকায় আবির্ভূত হয়েছে দক্ষ ও চৌকস সেনারা। বিভীষিকাময় পরিস্থিতিতে একেকজন সেনা সদস্য যেন একেকজন আলোর পথের যাত্রী।  

কালের আলো’র বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে বিস্তারিত

চট্টগ্রামে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে নিয়োজিত সেনাবাহিনীও তাদের কাজের কৌশলে কিছুটা পরিবর্তন এনেছে। প্রধান সড়কগুলোর পাশাপাশি পাড়া মহল্লাতেও চলছে তাদের টহল।

আরও পড়ুন: প্রখর খরতাপেও পথে পথে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে সেনাবাহিনী (ভিডিও)

একই সঙ্গে সড়কের পাশে অপেক্ষারত নিম্ন আয়ের মানুষদের দিচ্ছে ত্রাণ সহযোগিতা। এটি সেনা সদস্যদের নিজেদের ব্যক্তিগত উদ্যোগ।

সেনা বাহিনীর টহল টিমের লিডার ক্যাপ্টেন সালমান বলেন, ‘করোনা মোকাবেলা করতে গিয়ে যাদের জীবনযাত্রা একদম স্থবির হয়ে গেছে তাদের জন্য আমরা কাজ করছি। অসহায় মানুষজনকে সাধ্যমতো খাবারের সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছি।’

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ট্রেনিং এন্ড ডকট্রিন কমান্ডের (আর্টডক) উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে গত কয়েকদিনে প্রায় দুই হাজার পরিবারকে শুকনো খাবার, মাস্ক এবং এক হাজার হ্যান্ড সানিটাইজার বিতরণ করা হয়েছে।

পাশাপাশি সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বৃদ্ধ ও সহায়সম্বলহীন পরিবারকে নিয়মিতভাবে  চিকিৎসা সহায়তা প্রদান অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন: সহায়তায় আর্মি এভিয়েশন; আকাশপথে সেনা সদস্যদের হাতে যাচ্ছে মেডিকেল সরঞ্জামাদি

শনিবার (১৮ এপ্রিল) আর্টডকের অন্তর্ভুক্ত প্রশিক্ষণ সেন্টার ও প্রতিষ্ঠানসমূহ বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতার পাশাপাশি দরিদ্র ও দুস্থ মানুষের মাঝে বিভিন্ন প্রকার ত্রাণ সামগ্রী বিতরন করা হয়েছে।

সদরদপ্তর আর্টডক এর অন্তর্ভুক্ত ৪০৩ ব্যাটল গ্রুপ ময়মনসিংহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় এবং  চট্টগ্রাম, বগুড়া, রাজশাহী ও নাটোর এলাকায় অবস্থিত  বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় স্ব স্ব এলাকায় দরিদ্র পরিবারের মাঝে শুকনো খাদ্য ও অন্যান্য সামগ্রী বিতরণ করেছে।

লক্ষীপুরে টহলরত অবস্থায় সদর, রায়পুর, রামগঞ্জ, রামগতি ও কমলনগর উপজেলার ১২০ জন অসহায় ও গরিব মানুষকে ত্রাণ সামগ্রী দিয়েছে সেনা সদস্যরা। এতে ১০ কেজি চাল, ৫ কেজি আলু, ২ কেজি ডাল, ২ কেজি পেঁয়াজ, ১ কেজি চিনি, ১ কেজি লবণ, ১ কেজি তেল ও দু’টি সাবান রয়েছে।

আরও পড়ুন: সামাজিক দূরত্ব বজায়ে কঠোর সেনাবাহিনী, বদলে গেছে দৃশ্যপট (ভিডিও)

মাগুরা সদরে করোনায় ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে রাতের বেলায় নীরবে শুকনা খাবার সরবরাহ করেছে সেনা সদস্যরা।

জেলার সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের হতদরিদ্র মানুষের মাঝে এই ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। নিজেদের আঙ্গিনায় কাঙ্খিত শুকনো খাবার পেয়ে খুশি অসহায় মানুষজন।

মাগুরা সদর উপজেলার ১২ নম্বর চাউলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান বলেন, ‘সেনা সদস্যদের এমন কার্যক্রমে গ্রামের অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফুটেছে।’

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রনায়কোচিত নেতৃত্বে এক মোহনায় দেশ, মানুষকে ‘সুরক্ষার যুদ্ধে’ সেনাবাহিনী

শরীয়তপুরে সেনা সদস্যরা গ্রামে গিয়ে গিয়ে তালিকা তৈরি করে খাদ্য সামগ্রী ঘরে ঘরে পৌঁছে দিচ্ছেন। এতে উপকৃত হচ্ছেন বিভিন্ন এলাকার মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। রাতের রাতের আঁধারে সাধারণ মানুষকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকায় সেনাটহল জোরদারের পাশাপাশি সদর উপজেলায় অসহায় মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন সেনারা। একই রকম কার্যক্রম চলছে ঝালকাঠি, ঝিনাইদহ, পঞ্চগড়সহ বিভিন্ন জেলায়।

কালের আলো/এমএএএমকে

রাজশাহীতে বিএসটিআই’র অনুমোদনহীন জন্মদিনের কেক

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ২:৫২ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে বিএসটিআই’র অনুমোদনহীন জন্মদিনের কেক

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) বিভাগীয় কার্যালয়, রাজশাহীর উদ্যোগে অদ্য বৃহস্পতিবার দুপুর ১২.০০ ঘটিকায় রাজশাহী মহানগরীতে একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়।

এতে বিএসটিআই’র গুণগত মানসনদ গ্রহণ ছাড়াই অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এবং নন-ফুডগ্রেড উপাদান ব্যবহার করে ‘ডেকোরেটেড কেক (জন্মদিনের কেক)’ উৎপাদন ও বিক্রি-বিতরণ করায় নগরীর কুমারপাড়া আলুপট্টি এলাকায় অবস্থিত কেক ব্রাইট প্রতিষ্ঠানটিকে ৮,০০০/- (আট হাজার টাকা মাত্র) জরিমানা করা হয়।

 রাজশাহী জেলা প্রশাসনের বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শাহরিয়ার ইসলাম নাসিফ এর নেতৃত্বে পরিচালিত উক্ত মোবাইল কোর্টে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিএসটিআই বিভাগীয় অফিস, রাজশাহীর সার্টিফিকেশন মার্কস উইং এর কর্মকর্তা প্রকৌশলী জুনায়েদ আহমেদ।

এসময় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। জনস্বার্থে ভেজাল প্রতিরোধ এবং গুণগত মানসম্পন্ন খাদ্যপণ্য সরবরাহ নিশ্চিতকল্পে বিএসটিআই, রাজশাহীর এধরণের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে সবাইকে ভাবতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ২:২৫ অপরাহ্ণ
ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে সবাইকে ভাবতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

বিশ্বের বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় ঢাকা তৃতীয় স্থানে থাকা নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে সিরিয়াসলি চিন্তা করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় পরিবেশ পদক প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিল কারখানার কারণে পরিবেশের দূষণ যেভাবে হচ্ছে, তা নিয়ে আমাদের সবাই দায় আছে। ইকোসিস্টেমের নিরাপদ লালন ও বিকাশের সঙ্গে মানবসমাজ জড়িত। বৃক্ষমেলা নিরাপদ ভবিষ্যৎ নির্মাণের বিনিয়োগ। এটি শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকা উচিত হবে না, নৈমিত্তিক এটি করতে হবে।

তিনি বলেন, সন্তান জন্ম নিলে আমরা তার নামে একটি গাছ লাগাতে পারি। লন্ডনেও এমন দেখেছি।

সরকার গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম চালু করবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ক্লাইমেট ইয়ুথ ফেলোশিপ চালুসহ বেশকিছু উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর, সবুজায়নের লক্ষ্যে ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ করবে সরকার। আমরা ছাদ বাগান, নগর বনায়ন, ইকো ট্যুরিজমকে অর্থনীতির নতুন ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করতে চাই। এছাড়া রিডিউস, রিইউজ, রিসাইকেল জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আকাশমনিসহ অনেক ক্ষতিকর গাছ আছে, যা রোপণ থেকে বিরত থাকতে হবে। এছাড়া কোন মাটিতে কোন গাছ রোপণ ভালো হবে, তা জানতে হবে। ঔষধিসহ দেশীয় গাছ রোপণে মনযোগী হতে হবে।

তিনি বলেন, সবকিছু আইন দিয়ে করা সম্ভব নয়, সচেতনতার মধ্য দিয়ে করতে হবে।

অনুষ্ঠানে ৭টি ক্যাটাগরিতে মোট ২১ জনের হাতে জাতীয় পরিবেশ পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

চলতি বছর ব্যক্তিগত ক্যাটাগরিতে পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে পদক পেয়েছেন আলহাজ ফরহাদ আলী মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. হাসমত আলী। পরিবেশ বিষয়ক শিক্ষা ও প্রচারে অবদানের জন্য পদক পেয়েছেন মো. মনির হোসেন। এছাড়া পরিবেশ বিষয়ক গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন ক্যাটাগরিতে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পদক পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ও প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ড. আব্দুস সালাম।

প্রাতিষ্ঠানিক ক্যাটাগরিতে পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অবদানের জন্য পদক লাভ করেছে ক্লাসিক্যাল হ্যান্ডমেইড প্রোডাক্টস বিডি লিমিটেড। পরিবেশ বিষয়ক শিক্ষা ও প্রচার ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত হয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস। অন্যদিকে, পরিবেশ বিষয়ক গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন ক্যাটাগরিতে এই গৌরবময় পদক পেয়েছে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

পরিবেশ মেলা ও জাতীয় বৃক্ষমেলার উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ২:২৩ অপরাহ্ণ
পরিবেশ মেলা ও জাতীয় বৃক্ষমেলার উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৬ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এ দুটি আয়োজনের উদ্বোধন করেন তিনি।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ থেকেও পাঠ করা হয়। এরপর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন খাতে বর্তমান সরকারের সাফল্য নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পরিবেশ পদক-২০২৫, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পুরস্কার-২০২৬ এবং বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার-২০২৫ প্রদান করেন। এছাড়া সামাজিক বনায়নের উপকারভোগীদের মধ্যে লভ্যাংশের চেক বিতরণ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম।

অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র প্রাঙ্গণে প্রধানমন্ত্রী একটি করে জলপাই, জারুল ও নিমগাছের চারা রোপণ করেন। পরে তিনি পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে আয়োজিত জাতীয় বৃক্ষমেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।

পরিবেশ সংরক্ষণ, বন সম্প্রসারণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

রাজধানীতে পরিবেশ মেলা ও মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলার পাশাপাশি সাতটি বিভাগীয় শহরে ১৫ দিনব্যাপী, ৫৬টি জেলা সদরে সাত দিনব্যাপী এবং ২৯টি উপজেলায় তিন দিনব্যাপী বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হচ্ছে। ঢাকার জাতীয় বৃক্ষমেলায় অংশ নিয়েছে ১২০টি স্টল।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে।

এ কর্মসূচির আওতায় জিআইএস, রিমোট সেন্সিং, ন্যাশনাল ট্রি ডেটাবেজ এবং ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বনায়ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে। এর মাধ্যমে প্রায় সাড়ে তিন লাখ নতুন সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

বাংলাদেশে বৃক্ষরোপণকে রাষ্ট্রীয় আন্দোলনে রূপ দিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ১৯৭৯ সালে তাঁর উদ্যোগেই দেশের প্রথম জাতীয় বননীতি প্রণয়ন করা হয়।

পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় বৃক্ষমেলার সূচনা করেন এবং সামাজিক বনায়নের সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতায় প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকসই বনায়ন ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে কাজ করছে।

এর আগে গত ১৩ জুন কক্সবাজারের চকরিয়ার মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে একটি গর্জনগাছের চারা রোপণের মাধ্যমে দেশব্যাপী ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সূত্র : বাসস

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি