খুঁজুন
                               
শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৫ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

গৌরবময় অধ্যায়ের সূচনা সেনাপ্রধানের, বিদেশের মাটিতে শান্তিরক্ষীদের সঙ্গে উদযাপন অমর একুশে!

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২২, ৫:২২ পূর্বাহ্ণ
গৌরবময় অধ্যায়ের সূচনা সেনাপ্রধানের, বিদেশের মাটিতে শান্তিরক্ষীদের সঙ্গে উদযাপন অমর একুশে!

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো

একজন বাঙালি হিসেবে স্বভাবতই তাঁর মননেও অনন্য মহিমায় ভাস্বর, পথদিশা বীর সন্তান রফিক, সালাম, বরকত, জব্বার, সফিউররা। যারা নিজেদের রক্তে শৃঙ্খলমুক্ত করেছেন দুঃখিনী বর্ণমালাকে, বাঙালিকে দিয়ে গেছেন ভাষার অধিকার।

শোকাবহ এবং গৌরবোজ্জ্বল একুশে ফেব্রুয়ারিতে তিনি নিজের জন্মভূমি বাংলাদেশ থেকে বহুদূরে, দক্ষিণ সুদানে। যেখানে শান্তি ফেরাতেই কাজ করছে তাঁর নেতৃত্বাধীন দেশপ্রেমিক বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বুকের রক্ত ঢেলে মায়ের ভাষা বাংলাকে রাঙিয়ে দেওয়া, গর্ব-অহংকারে সর্বোচ্চ চূড়ায় ঠাঁই দেওয়া, চেতনার প্রতীক ভাষা শহীদদের দক্ষিণ সুদানের ভূমিতেই বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করে গৌরবময় এক অধ্যায়ের সূচনা করেছেন দেশটিতে সফররত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

সোমবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে দক্ষিণ সুদানের রাজধানী জুবায় বাংলাদেশ কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ার কোম্পানি (ব্যানসিইসি)-২১’র মাঠে নির্মিত শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তিনি ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।

চির প্রেরণার উৎস বীর শহীদদের হৃদয়ের মর্মমূল থেকেই নিজ দেশসহ যুক্তরাজ্য, নেপাল, চীন, ভারত, থাইল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের শান্তিরক্ষীদের সঙ্গে নিয়েই স্মরণ করেন সেনাপ্রধান।

এ যেন এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। প্রথমবারের মতোন ঘটলো এমন বিরল ঘটনা। দুর্জয় অনুপ্রেরণা সৃষ্টির অনির্বাণ শিখার দীপ্তিতে, উজ্জ্বল আলোকে উদ্ভাসিত অমর একুশেতে সম্ভবত তিনি কন্ঠ মিলিয়েছেন ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি… আমি কি ভুলিতে পারি…’- সেই অমর সঙ্গীতে। হয়েছেন শোকে মুহ্যমান।

চেতনার প্রথম সূর্যসিঁড়ি একুশের শহীদদের শাণিত ধারায় এসেছে চির আরাধ্য স্বাধীনতা। পরম মমতা ও হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসায় শক্তি সাহসের দিনটিতে জাতির আত্নমর্যাদার প্রতীক মাতৃভাষা নিয়ে জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ মহীয়ান কন্ঠেই বলেছেন, ‘মাতৃভাষার চেয়ে বড় কিছু নেই। আমার ভাষায় অন্যরা কথা বলছে, এটা দেখলেই গর্বে বুক ভরে যায়।’

দক্ষিণ সুদানে সফরত দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপে জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন উপস্থাপন করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিয়োজিত বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীদের প্রতিটি মিশনেই রক্তস্নাত ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের শ্রদ্ধাবনতচিত্তে ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গেই সম্মান জানানোর বহুমাত্রিক আয়োজনের কথা।

বলেছেন, ‘জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা অনেক পরিশ্রম ও কষ্টের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব পালন করে। কিন্তু এত পরিশ্রম ও কষ্টের মধ্যেও আমাদের শান্তিরক্ষীরা ভাষা শহীদদের ভুলে যায়নি। শুধু এখানেই নয়, অন্য মিশনগুলোতেও ভাষাশহীদদের স্মরণ করার ব্যবস্থা নিয়েছি আমরা। আমার জন্য এটি অত্যন্ত গৌরব ও আনন্দের যে, মাতৃভাষার বীর শহীদদের দেশের বাইরে বিদেশের মাটিতে শ্রদ্ধা জানাতে পারলাম।’

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ করে সেনাবাহিনী প্রধান বলেন, ‘যেখানেই বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত রয়েছে, সেখানেই ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যের সাথে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হচ্ছে। বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা নানাবিধ আয়োজনের মাধ্যমে ভাষার জন্য বাঙালি জাতির আত্মত্যাগের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কথা বিশ্বের নানা দেশে পৌঁছে দিচ্ছে।’

আইএসপিআর আরও জানায়, পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত বিভিন্ন দেশের শান্তিরক্ষীদের উপস্থিতির জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি ভাষা শহীদদের আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও উপভোগ করেন।

দক্ষিন সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধানের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের বিরল এই ঘটনা সেই দেশের মাটিতে বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে আরও উজ্জ্বল করবে বলেও মনে করছে আইএসপিআর।

কালের আলো/এমএএএমকে

রোহিঙ্গা সংকট একটি সমাধানযোগ্য সমস্যা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৩৬ অপরাহ্ণ
রোহিঙ্গা সংকট একটি সমাধানযোগ্য সমস্যা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও কার্যকর সমাধান রাখাইন রাজ্যেই নিহিত এবং এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে শুধু মানবিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, সম্মানজনক ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে আরও সক্রিয় ও ফলপ্রসূ ভূমিকা নিতে হবে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে তুরস্কে চলমান আন্তালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরামে প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য প্রদানকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক দাতা সহায়তা কমে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি এই প্রেক্ষাপটে অর্থায়ন বৃদ্ধি, রাখাইনে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
তিনি জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মিয়ানমার সরকার এবং আরাকান আর্মি—উভয় পক্ষই তাঁকে স্বাগত জানিয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট একটি সমাধানযোগ্য সমস্যা—তবে এর জন্য প্রয়োজন সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ ও ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা।
কালের আলো/এসআর/ এএএন 

ফের হরমুজ বন্ধ করল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৩১ অপরাহ্ণ
ফের হরমুজ বন্ধ করল ইরান

পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি ফের বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকায় আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে এই ঘোষণা দিয়েছে দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

আইআরজিসির যৌথ সামরিক কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করে যাওয়ায় হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ‘আবার আগের অবস্থায় ফিরে গেছে’।

আইআরজিসির বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ‘অবরোধের নামে জলদস্যুতা ও সামুদ্রিক চুরি চালিয়ে যাচ্ছে’।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এই কারণে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ আবার আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে এবং এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ এখন সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর তত্ত্বাবধানে রয়েছে।’

এতে বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্র যতদিন না ইরান থেকে জাহাজগুলো স্বাভাবিকভাবে তাদের গন্তব্যে যাতায়াতের পূর্ণ স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিচ্ছে, ততদিন হরমুজ প্রণালির অবস্থা কঠোর নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং আগের মতোই থাকবে।’

এর কয়েক ঘণ্টা আগেই ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখলে হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধ করে দেওয়া হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, ‘অবরোধ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি খোলা থাকবে না। এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল ইরানের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে।’

বিশ্বব্যাপী নৌপরিবহণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি পরিবহন করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসনের প্রেক্ষিতে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বন্ধ করে দিয়েছিল ইরান।

এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দেয়। যার প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে। কিন্তু শত চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। তেহরান নৌপথটি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পুরো অঞ্চলজুড়ে অত্যাবশ্যকীয় অবকাঠামোতে আঘাত হানার সক্ষমতা ও ইচ্ছা উভয়ই প্রদর্শন করেছে, যা উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও গ্যাসভিত্তিক অর্থনীতিকে বিপন্ন করেছে।

লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে দীর্ঘ প্রায় ছয় সপ্তাহ পর শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) হরমুজ প্রণালি খুলে দিয়েছিল ইরান। ওই দিন বিকেলে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক ঘোষণায় জানান, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকাকালে প্রণালি দিয়ে সব বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল উন্মুক্ত থাকবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকায় মাত্র এক দিনের মাথায় ফের বন্ধ করে দিলো তেহরান।

কালের আলো/এসআর/ এএএন

 

গভীর রাতে হজক্যাম্পে ধর্মমন্ত্রী, খোঁজ নিলেন সেবার মান ও ব্যবস্থাপনার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:২৩ অপরাহ্ণ
গভীর রাতে হজক্যাম্পে ধর্মমন্ত্রী, খোঁজ নিলেন সেবার মান ও ব্যবস্থাপনার

রাজধানীর আশকোনা হজক্যাম্পে হজযাত্রীদের সেবা ও কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করতে গভীর রাতে পরিদর্শনে গিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।

শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টায় ধর্মমন্ত্রী হজক্যাম্পে প্রবেশ করেন। তিনি হজযাত্রীদের সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলোর ডেস্কে যান এবং তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজ নেন। মন্ত্রী ইমিগ্রেশন এরিয়ায় গিয়ে হজযাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং হজক্যাম্পের সেবা কার্যক্রম সম্পর্কে তাদের কাছ থেকে জানতে চান।

হজযাত্রীদের শারীরিক অবস্থার বিষয়েও খোঁজখবর নেন তিনি। শেষে মন্ত্রী ডরমিটরিতে যান এবং সেখানে অবস্থানকারী হজযাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। ডরমিটরির সামগ্রিক অবস্থা সম্পর্কেও জানতে চান মন্ত্রী।

হজক্যাম্পের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তারা ধর্মমন্ত্রীর এরূপ নিবিড় মনিটরিং কার্যক্রমে বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং তার জন্য দোয়া করেন।

সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে ধর্মমন্ত্রী বলেন, হজযাত্রীরা আল্লাহর মেহমান। এটি মাথায় রাখতে হবে এবং তাদের সঙ্গে সেভাবে আচরণ করতে হবে। হজযাত্রীরা যেন কোনো কষ্ট না পান সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী রাত সোয়া একটার দিকে হজক্যাম্প ত্যাগ করেন।

কালের আলো/এসএকে