খুঁজুন
                               
, ,
           

গৌরবময় অধ্যায়ের সূচনা সেনাপ্রধানের, বিদেশের মাটিতে শান্তিরক্ষীদের সঙ্গে উদযাপন অমর একুশে!

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২২, ৫:২২ পূর্বাহ্ণ
গৌরবময় অধ্যায়ের সূচনা সেনাপ্রধানের, বিদেশের মাটিতে শান্তিরক্ষীদের সঙ্গে উদযাপন অমর একুশে!

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো

একজন বাঙালি হিসেবে স্বভাবতই তাঁর মননেও অনন্য মহিমায় ভাস্বর, পথদিশা বীর সন্তান রফিক, সালাম, বরকত, জব্বার, সফিউররা। যারা নিজেদের রক্তে শৃঙ্খলমুক্ত করেছেন দুঃখিনী বর্ণমালাকে, বাঙালিকে দিয়ে গেছেন ভাষার অধিকার।

শোকাবহ এবং গৌরবোজ্জ্বল একুশে ফেব্রুয়ারিতে তিনি নিজের জন্মভূমি বাংলাদেশ থেকে বহুদূরে, দক্ষিণ সুদানে। যেখানে শান্তি ফেরাতেই কাজ করছে তাঁর নেতৃত্বাধীন দেশপ্রেমিক বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বুকের রক্ত ঢেলে মায়ের ভাষা বাংলাকে রাঙিয়ে দেওয়া, গর্ব-অহংকারে সর্বোচ্চ চূড়ায় ঠাঁই দেওয়া, চেতনার প্রতীক ভাষা শহীদদের দক্ষিণ সুদানের ভূমিতেই বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করে গৌরবময় এক অধ্যায়ের সূচনা করেছেন দেশটিতে সফররত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

সোমবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে দক্ষিণ সুদানের রাজধানী জুবায় বাংলাদেশ কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ার কোম্পানি (ব্যানসিইসি)-২১’র মাঠে নির্মিত শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তিনি ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।

চির প্রেরণার উৎস বীর শহীদদের হৃদয়ের মর্মমূল থেকেই নিজ দেশসহ যুক্তরাজ্য, নেপাল, চীন, ভারত, থাইল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের শান্তিরক্ষীদের সঙ্গে নিয়েই স্মরণ করেন সেনাপ্রধান।

এ যেন এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। প্রথমবারের মতোন ঘটলো এমন বিরল ঘটনা। দুর্জয় অনুপ্রেরণা সৃষ্টির অনির্বাণ শিখার দীপ্তিতে, উজ্জ্বল আলোকে উদ্ভাসিত অমর একুশেতে সম্ভবত তিনি কন্ঠ মিলিয়েছেন ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি… আমি কি ভুলিতে পারি…’- সেই অমর সঙ্গীতে। হয়েছেন শোকে মুহ্যমান।

চেতনার প্রথম সূর্যসিঁড়ি একুশের শহীদদের শাণিত ধারায় এসেছে চির আরাধ্য স্বাধীনতা। পরম মমতা ও হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসায় শক্তি সাহসের দিনটিতে জাতির আত্নমর্যাদার প্রতীক মাতৃভাষা নিয়ে জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ মহীয়ান কন্ঠেই বলেছেন, ‘মাতৃভাষার চেয়ে বড় কিছু নেই। আমার ভাষায় অন্যরা কথা বলছে, এটা দেখলেই গর্বে বুক ভরে যায়।’

দক্ষিণ সুদানে সফরত দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপে জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন উপস্থাপন করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিয়োজিত বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীদের প্রতিটি মিশনেই রক্তস্নাত ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের শ্রদ্ধাবনতচিত্তে ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গেই সম্মান জানানোর বহুমাত্রিক আয়োজনের কথা।

বলেছেন, ‘জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা অনেক পরিশ্রম ও কষ্টের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব পালন করে। কিন্তু এত পরিশ্রম ও কষ্টের মধ্যেও আমাদের শান্তিরক্ষীরা ভাষা শহীদদের ভুলে যায়নি। শুধু এখানেই নয়, অন্য মিশনগুলোতেও ভাষাশহীদদের স্মরণ করার ব্যবস্থা নিয়েছি আমরা। আমার জন্য এটি অত্যন্ত গৌরব ও আনন্দের যে, মাতৃভাষার বীর শহীদদের দেশের বাইরে বিদেশের মাটিতে শ্রদ্ধা জানাতে পারলাম।’

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ করে সেনাবাহিনী প্রধান বলেন, ‘যেখানেই বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত রয়েছে, সেখানেই ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যের সাথে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হচ্ছে। বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা নানাবিধ আয়োজনের মাধ্যমে ভাষার জন্য বাঙালি জাতির আত্মত্যাগের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কথা বিশ্বের নানা দেশে পৌঁছে দিচ্ছে।’

আইএসপিআর আরও জানায়, পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত বিভিন্ন দেশের শান্তিরক্ষীদের উপস্থিতির জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি ভাষা শহীদদের আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও উপভোগ করেন।

দক্ষিন সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধানের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের বিরল এই ঘটনা সেই দেশের মাটিতে বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে আরও উজ্জ্বল করবে বলেও মনে করছে আইএসপিআর।

কালের আলো/এমএএএমকে

রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে গ্রেপ্তার ৪৬৫, উদ্ধার মাদক-অস্ত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ
রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে গ্রেপ্তার ৪৬৫, উদ্ধার মাদক-অস্ত্র

রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন ইউনিটের অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ৪৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযানে অস্ত্র, মাদকসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য জানান।

ডিএমপি জানায়, গ্রেপ্তারদের মধ্যে রমনা বিভাগে ৩৮ জন, লালবাগে ৩৮, ওয়ারীতে ৬৪, মতিঝিলে ৮৩, তেজগাঁওয়ে ৮০, মিরপুরে ৯০, গুলশানে ৩৩, উত্তরা বিভাগে ৩৪ এবং গোয়েন্দা বিভাগে পাঁচজন রয়েছেন।

অভিযানকালে একটি দেশীয় ওয়ান শুটারগান, একটি শটগানের কার্তুজ, দুটি ছুরি, ৫০ কেজি গাঁজা, ২৯৯টি ইয়াবা ও ২৩ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া একটি পিকআপ, ১১টি মোবাইল ফোন, একটি স্টিলের রড, পাঁচটি কাঠের স্টাম্প, দুটি বোতলের ছিপি, কিছু ফুয়েল পেপার ও নগদ ৪ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় পরিচালিত এসব অভিযানে মাদক ও অন্যান্য আলামত উদ্ধারের পাশাপাশি একজন ভিকটিমকেও উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির এই কর্মকর্তা।

কালের আলো/এমএসআইপি 

নওগাঁয় উদ্বোধনের আগেই সরকারি মিলনায়তন ভাড়া

নওগাঁ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ
নওগাঁয় উদ্বোধনের আগেই সরকারি মিলনায়তন ভাড়া

নওগাঁর পোরশায় জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (নিপোর্ট) আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (আরটিসি) আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই মিলনায়তন বাণিজ্যিকভাবে ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কোনো ট্রেজারি চালান ছাড়াই প্রতিদিন ৩ হাজার ৭৫০ টাকা করে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পোরশার আরটিসি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়নি। এমনকি কেন্দ্রটির উদ্বোধনের ঘোষণাও আসেনি। এর মধ্যেই মিলনায়তনটি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দেওয়া হচ্ছে।

কেন্দ্রটির প্রশাসনিক দায়িত্বে রয়েছেন রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা জান্নাতুল মাওয়া। তিনি চারঘাটে নিজ কর্মস্থলে থেকেই পোরশার কেন্দ্রটির প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। মাঠপর্যায়ে কেন্দ্রটির দেখভালের জন্য অতিরিক্ত দায়িত্বে রাখা হয়েছে সারাইগাছি গ্রামের খলিলুর রহমানকে। এ ছাড়া সরকারি খরচে কেন্দ্রটির নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন সাতজন আনসার সদস্য।

নগদ টাকা, পরে বিকাশে পাঠানোর দাবি

মিলনায়তন দেখভালের দায়িত্বে থাকা খলিলুর রহমান জানান, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মৌখিক নির্দেশে তিনি বিভিন্ন পক্ষের কাছে মিলনায়তন ভাড়া দেন। ভাড়া বাবদ নগদে নেওয়া টাকা পরে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কর্মকর্তা জান্নাতুল মাওয়ার কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

তবে এসব টাকা কোথায় এবং কীভাবে খরচ করা হয়, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।

ঊর্ধ্বতনদের সম্মতির দাবি

মিলনায়তন ভাড়া দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জান্নাতুল মাওয়া। তাঁর দাবি, কেন্দ্রটি আংশিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মৌখিক পরামর্শ ও সম্মতিতেই মিলনায়তন ভাড়া দেওয়া হচ্ছে।

তবে ভাড়া বাবদ আদায় করা অর্থ সরকারি রাজস্ব খাতে জমা দেওয়া হয় কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরে তথ্য দেওয়ার কথা বলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। পরে এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

জানে না স্থানীয় প্রশাসন

পোরশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল ইসলাম বলেন, একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের আগেই কীভাবে ভাড়া দেওয়া হচ্ছে, তা তাঁর বোধগম্য নয়। সরকারি কোনো স্থাপনা বা মিলনায়তন বাণিজ্যিক কিংবা অন্য কোনো কাজে ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বিধিমালা রয়েছে।

তিনি বলেন, মিলনায়তন ভাড়া দেওয়ার বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কিছু জানানো হয়নি। ভাড়া বাবদ আদায় করা অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও তিনি অবগত নন।

উদ্বোধনের আগেই সরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মিলনায়তন ভাড়া দেওয়ার ঘটনা এবং আদায়কৃত অর্থের হিসাব নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে সরকারি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/এমএসআইপি 

মাছ কম, খরচ বেশি; ঋণের কিস্তি নিয়ে দুশ্চিন্তায় জেলেরা

ঝালকাঠি(বরিশাল) সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১২ পূর্বাহ্ণ
মাছ কম, খরচ বেশি; ঋণের কিস্তি নিয়ে দুশ্চিন্তায় জেলেরা

ঝালকাঠির সুগন্ধা, বিষখালী, হলতা ও গাবখান নদীতে ইলিশের আশায় দিন-রাত জাল ফেলছেন জেলেরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা নদীতে ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাওয়ায় আয়-ব্যয়ের হিসাব মিলছে না তাদের। এর মধ্যে মাথায় রয়েছে এনজিওর ঋণের কিস্তি ও মহাজনের কাছ থেকে নেওয়া দাদনের টাকা। সামনে ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা শুরু হলে আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আরও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।

ঝালকাঠি সদর উপজেলার পোনাবালিয়া, দেউরি, বাদুরতলা ও চল্লিশকাউনিয়া এবং নলছিটি উপজেলার মাটিভাঙ্গা এলাকার জেলেদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

জেলেরা জানান, ইলিশের মৌসুমকে সামনে রেখে কয়েক মাস আগে থেকেই নৌকা ও জাল মেরামত, নতুন জাল কেনা এবং অন্যান্য প্রস্তুতিতে টাকা খরচ করেন তারা। নিজেদের সঞ্চয় না থাকায় অনেকেই এনজিও থেকে ঋণ কিংবা মহাজনের কাছ থেকে দাদন নেন। মৌসুমে ভালো ইলিশ পেলে মাছ বিক্রির টাকা দিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি সেই ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনা থাকে। কিন্তু এবার নদীতে আশানুরূপ ইলিশ না থাকায় সেই হিসাব ভেস্তে যাচ্ছে।

দেউরি গ্রামের ৬৫ বছর বয়সী জেলে নুরু মিয়া বলেন, জীবনের প্রায় পুরোটা সময় সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতে মাছ ধরে কাটিয়েছেন তিনি। নদীর কোন জায়গায় কখন ইলিশ পাওয়া যায়, কোথায় জাল ফেললে মাছ ওঠার সম্ভাবনা বেশি—এসব তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা। কিন্তু এবার সেই অভিজ্ঞতাও কাজে আসছে না। সারাদিন নদীতে থাকার পর অনেক সময় নৌকার তেলের খরচও ওঠে না।

তিনি বলেন, সামনে নিষেধাজ্ঞা শুরু হবে। তখন মাছ ধরতে পারবেন না। কিন্তু সংসারের খরচ ও ঋণের কিস্তি চলতেই থাকবে। তাই কীভাবে সংসার চালাবেন এবং ঋণের টাকা পরিশোধ করবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

একই অবস্থা আকাব্বর মৃধার। ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে নদীতে মাছ ধরেন তিনি। মৌসুমের আগে নৌকা ও জাল কেনা-মেরামতের জন্য ঋণ নিয়েছিলেন। চার-পাঁচ মাস মাছ ধরে সেই ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনা থাকলেও আশানুরূপ ইলিশ না পাওয়ায় তা এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। মাছ বিক্রির আয় থেকে নৌকার তেল, জাল, বরফ ও অন্যান্য খরচ বাদ দিলে হাতে খুব কম টাকাই থাকছে বলে জানান তিনি।

বাদুরতলা এলাকার জেলে কাদের মাঝিও একই সমস্যার কথা জানান। তার ভাষ্য, সারাদিন নদীতে থাকার পর যে পরিমাণ মাছ পাওয়া যায়, তা দিয়ে নৌকার তেল ও অন্যান্য খরচই ঠিকমতো ওঠে না। এর সঙ্গে রয়েছে সংসারের ব্যয় ও ঋণের কিস্তি। নিষেধাজ্ঞা শুরু হলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হবে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

কাঁঠালিয়া-বেতাগী সীমান্তসংলগ্ন এলাকার জেলে আখের আলী বলেন, এ অঞ্চলের জেলেরা সারা বছর ইলিশের মৌসুমের অপেক্ষায় থাকেন। বছরের কয়েক মাস ইলিশ ধরে পাওয়া আয় দিয়েই অনেক পরিবার বাকি সময়ের খরচ মেটানোর চেষ্টা করে। কিন্তু এবার ইলিশ কম থাকায় প্রত্যাশিত আয় হয়নি। একদিকে এনজিওর কিস্তি, অন্যদিকে মহাজনের দাদনের টাকা—সব মিলিয়ে জেলেদের ওপর চাপ বাড়ছে।

জেলেরা জানান, নদীতে মাছ কম থাকলেও নদীতে নামার খরচ কমে না। জ্বালানি, বরফ, খাবার এবং নৌকা-জালের রক্ষণাবেক্ষণে প্রতিদিনই টাকা ব্যয় হয়। কিন্তু মাছ না উঠলে এসব খরচও অনেক সময় উঠে আসে না। ফলে মাছ কমার সঙ্গে সঙ্গে তাদের ধার-দেনাও বাড়ছে।

প্রতি বছর জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়কে ইলিশ আহরণের গুরুত্বপূর্ণ মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতে এ সময় কয়েকশ জেলে ইলিশ ধরেন। এই কয়েক মাসের আয়ের ওপর অনেক পরিবারের সারা বছরের জীবনযাত্রা নির্ভর করে। মাছ বিক্রির আয় দিয়ে খাবার, সন্তানের পড়াশোনা, চিকিৎসা এবং নৌকা-জালের খরচ মেটান তারা।

তবে চলতি মৌসুমে প্রত্যাশা অনুযায়ী ইলিশ না পাওয়ায় সেই আয়ের পথ সংকুচিত হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগে নদীতে ইলিশের ঝাঁক পাওয়াকেই এখন শেষ ভরসা হিসেবে দেখছেন জেলেরা।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমের জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় যে পরিমাণ ইলিশ আহরণ হয়েছে, তা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছায়নি। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, দেশের অন্যান্য জেলার নদ-নদীতে এ বছর তুলনামূলক বেশি ইলিশ ধরা পড়লেও সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতে ইলিশের উপস্থিতি কম। নদীর পানিদূষণ ও পলি জমার কারণে এমনটি হতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।

ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা শুরু হলে জেলেদের নদীতে নামা বন্ধ হয়ে যাবে। তখন মাছ ধরার আয় না থাকলেও ঋণের কিস্তি ও দাদনের টাকা পরিশোধের চাপ থাকবে। তাই নিষেধাজ্ঞার আগে নদীতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা পাওয়ার আশায় দিন গুনছেন ঝালকাঠির জেলেরা।

কালের আলো/এমএসআইপি