খুঁজুন
                               
, ,
           

এপ্রিল-মার্চ অর্থবছর, গতি বাড়বে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৫৪ অপরাহ্ণ
এপ্রিল-মার্চ অর্থবছর, গতি বাড়বে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে

বদলে যাচ্ছে দেশের অর্থবছরের সময়কাল। দীর্ঘদিনের জুলাই-জুন কাঠামো থেকে বেরিয়ে নতুন অর্থবছর শুরু হবে এপ্রিল মাসে, শেষ হবে পরের বছরের মার্চে। সরকারের এমন সিদ্ধান্ত শুধু বাজেট প্রণয়ন ও হিসাবের সময়কালই বদলাবে না; উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, কর ব্যবস্থাপনা, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক পরিকল্পনা এবং মানুষের আয়-ব্যয়ের হিসাবেও এর প্রভাব পড়বে।

গত সোমবার (১৭ আগস্ট) মন্ত্রিসভার বৈঠকে অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন অর্থবছর হবে ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত। এ ব্যবস্থায় ২০২৭-২৮ অর্থবছর হবে রূপান্তরমূলক বছর। এই অর্থবছরের মেয়াদ হবে মাত্র ৯ মাস। এরপর ২০২৮ সালের এপ্রিল থেকে নতুন কাঠামোয় পূর্ণাঙ্গ অর্থবছর শুরু হবে, যা শেষ হবে ২০২৯ সালের মার্চে। অর্থাৎ ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকেই এপ্রিল-মার্চ সময়কাল কার্যকরভাবে চালু হবে।

উন্নয়ন প্রকল্পে মিলবে অনুকূল সময়
অর্থবছর পরিবর্তনের পেছনে সরকারের অন্যতম প্রধান যুক্তি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আনা। বর্তমানে অর্থবছর শুরু হয় ১ জুলাই, যখন দেশে বর্ষা মৌসুম শুরু হয়। ফলে অর্থবছরের প্রথম দিকেই রাস্তা, সেতু, ড্রেন, ভবনসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণকাজে আবহাওয়াজনিত বাধা তৈরি হয়। এতে প্রকল্পের কাজ পিছিয়ে যায়, বাড়ে সময় ও ব্যয়; অনেক ক্ষেত্রে কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

নতুন এপ্রিল-মার্চ অর্থবছরে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে। এপ্রিল মাসে অর্থবছর শুরু হওয়ায় প্রথম তিন মাস—এপ্রিল, মে ও জুন—তুলনামূলক শুষ্ক সময়ে উন্নয়নকাজ এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকবে। আবার নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত অর্থবছরের শেষ পাঁচ মাসও মূলত শুষ্ক মৌসুম। ফলে অর্থবছরের বড় একটি অংশেই অবকাঠামো নির্মাণের অনুকূল পরিবেশ পাওয়া যাবে। বিশেষ করে সড়ক, সেতু, ভবন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার মতো প্রকল্পে এর সুফল মিলতে পারে। বর্ষার কারণে কাজ বন্ধ বা ধীরগতির হওয়ার ঝুঁকি কমবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় ব্যবস্থাপনাও তুলনামূলক সহজ হবে।

কমতে পারে জুনের তাড়াহুড়া
বর্তমান অর্থবছরের অন্যতম বড় সমস্যা অর্থবছরের শেষ সময়ে উন্নয়ন ব্যয়ের চাপ বেড়ে যাওয়া। বিশেষ করে জুন মাসে বরাদ্দের অর্থ খরচ দেখাতে অনেক প্রকল্পে তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করার প্রবণতা দেখা যায়। ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে দ্রুত কাজ শেষ করে বিল তুলে নেওয়ার অভিযোগও প্রতিবছরই ওঠে।

বর্ষাকালে, বিশেষ করে জুনে, সড়ক নির্মাণসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর কাজ তড়িঘড়ি করে শেষ করার কারণে কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন থাকে। নতুন অর্থবছরে এই চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব হতে পারে। কারণ মার্চে অর্থবছর শেষ হবে, আর তখনও দেশের বড় অংশে থাকবে শুষ্ক মৌসুম। ফলে অর্থবছরের শেষ মুহূর্তে বৃষ্টির মধ্যে কাজ শেষ দেখিয়ে বরাদ্দের অর্থ ব্যয়ের প্রবণতা কমবে। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় ও ব্যয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে।

বদলাবে করের হিসাবও
অর্থবছরের সময় পরিবর্তনের প্রভাব শুধু সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সীমাবদ্ধ থাকবে না। করবর্ষ ও অর্থবছর এক হওয়ায় ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের আয়কর হিসাবের সময়কালও বদলে যাবে। বর্তমানে জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত আয়ের ওপর ভিত্তি করে আয়কর হিসাব করা হয়। নতুন ব্যবস্থায় এপ্রিল থেকে পরের বছরের মার্চ পর্যন্ত আয় বিবেচনায় নেওয়া হবে। ফলে আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সূচিতে পরিবর্তন আসবে। নতুন কাঠামোয় ১ এপ্রিল থেকে রিটার্ন জমা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু হতে পারে। এ ছাড়া বিনিয়োগের মাধ্যমে কর রেয়াত নেওয়া এবং কর-সংক্রান্ত অন্যান্য সুবিধার সময়কালও পরিবর্তিত হবে। ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সে অনুযায়ী নিজেদের আর্থিক পরিকল্পনা সাজাতে হবে।

বদলাবে অর্থনৈতিক হিসাবের কাঠামো
সরকারের আয়-ব্যয়ের হিসাবের পাশাপাশি মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি), প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি), শুল্ক-কর, বিনিয়োগ, দেশি-বিদেশি ঋণ ও দায়দেনা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের লাভ-লোকসানের হিসাবও অর্থবছরকে কেন্দ্র করে করা হয়। তাই নতুন সময়কাল কার্যকর হলে এসব হিসাবের সময়সীমাতেও সমন্বয় করতে হবে। সরকারি পরিকল্পনা ও বাজেট বাস্তবায়নের সূচি যেমন বদলাবে, তেমনি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তাদের হিসাব-নিকাশ ও আর্থিক পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হবে।

ইতিহাসেও আছে এপ্রিল-মার্চের নজির
বাংলার অর্থনৈতিক ইতিহাসেও এপ্রিল মাসে অর্থবছর শুরুর নজির রয়েছে। মোগল সম্রাট আকবরের আমলে রাজস্ব আহরণের সুবিধার জন্য বাংলা নববর্ষ চালুর সঙ্গে এপ্রিলভিত্তিক অর্থবর্ষ গণনার প্রচলন হয়। উপনিবেশ আমলেও এপ্রিল-মার্চ সময়কাল অর্থবছর হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। ১৮৬০ সালের ৭ এপ্রিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির স্কটিশ অর্থনীতিবিদ জেমস উইলসন ভারতের প্রথম বাজেট উপস্থাপন করেন। দেশভাগের আগ পর্যন্ত এপ্রিলভিত্তিক অর্থবছরের এ ব্যবস্থা চালু ছিল।

১৯৪৭ সালের পর ভারত এপ্রিল-মার্চ সময়কালই ধরে রাখে। অন্যদিকে পাকিস্তান পঞ্চাশের দশকে অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তন করে জুলাই-জুন করে। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশও পাকিস্তানের সেই কাঠামো বহাল রাখে।দীর্ঘ সময় পর আবার এপ্রিল-মার্চে ফেরার সিদ্ধান্ত তাই কেবল হিসাবের সময়কাল পরিবর্তন নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে উন্নয়ন পরিকল্পনার বাস্তবায়ন, সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা, কর ব্যবস্থাপনা এবং দেশের সামগ্রিক আর্থিক পরিকল্পনার নতুন কাঠামো। সরকারের প্রত্যাশা, সময়ের এই পরিবর্তনে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি বাড়বে এবং অর্থবছরের শেষ মুহূর্তের ব্যয়ের চাপ ও অপচয় কমবে।

কালের আলো/এম/এএইচ

কাবার নগরী মক্কায় অবরোধ, হামলা ও সংঘাতের ইতিহাস

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:১৭ পূর্বাহ্ণ
কাবার নগরী মক্কায় অবরোধ, হামলা ও সংঘাতের ইতিহাস

১৯৫৪ সালে পবিত্র কাবা তাওয়াফের একটি দৃশ্য, ছবি : সংগৃহীত

মুসলমানদের পবিত্রতম নগরী মক্কা। কাবাঘর ও মসজিদুল হারামকে ঘিরে গড়ে ওঠা এই শহর শুধু ধর্মীয় বিশ্বাসের কেন্দ্র নয়, ইতিহাসের নানা বাঁকে রাজনৈতিক সংঘাত ও সামরিক সহিংসতারও সাক্ষী। সর্বশেষ সেই দীর্ঘ ইতিহাসে যুক্ত হয়েছে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতিদের সংঘাত। সৌদি আরবের দাবি, হুতিদের পাঠানো একটি ড্রোন মক্কার দিকে এগোচ্ছিল। মঙ্গলবার মক্কার দক্ষিণে সেটি শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয় এবং পবিত্র নগরীর আকাশসীমায় ঢোকার আগেই ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুতিরা। ফলে নতুন এই ঘটনাটি একদিকে সৌদি নিরাপত্তাব্যবস্থার সামনে চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে মক্কাকে ঘিরে অতীতের সংঘাতের স্মৃতিও সামনে এনেছে।

  • ৬৮৩-এর অবরোধ থেকে ১৯৭৯-এর মসজিদুল হারাম দখল
  • ২০১৭-এর ক্ষেপণাস্ত্র দাবি পেরিয়ে এবার ড্রোনের অভিযোগ
  • হুতিদের ড্রোন ধ্বংসের দাবি সৌদির, অস্বীকার হুতিদের 

অবরোধে ক্ষতিগ্রস্ত কাবা
মক্কায় রাজনৈতিক সংঘাতের ইতিহাস বহু পুরোনো। দ্বিতীয় ফিতনার সময় ৬৮৩ সালে উমাইয়া বাহিনী মক্কা অবরোধ করে। সংঘাতের মধ্যে কাবাঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে ৬৯২ সালেও আল-হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফের বাহিনী মক্কা অবরোধ করে এবং কাবাকে ঘিরে লড়াই হয়। সৌদিপিডিয়ার তথ্যেও ওই সময় কাবার ক্ষয়ক্ষতির উল্লেখ রয়েছে। এর প্রায় আড়াই শতাব্দী পর ৯২৯/৯৩০ সালে কারমাতিদের হামলা মক্কার ইতিহাসে আরও ভয়াবহ অধ্যায় তৈরি করে। আবু তাহিরের নেতৃত্বে হামলাকারীরা হাজিদের ওপর আক্রমণ চালায় এবং কাবা থেকে হাজরে আসওয়াদ নিয়ে যায়। পাথরটি দীর্ঘ সময় তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকার পর মক্কায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

মসজিদুল হারামে বন্দুকধারীদের দখল
আধুনিক ইতিহাসে সবচেয়ে নাটকীয় ঘটনা ১৯৭৯ সালের মসজিদুল হারাম অবরোধ। ২০ নভেম্বর জুহাইমান আল-ওতাইবির নেতৃত্বে সশস্ত্র একটি দল মসজিদে ঢুকে মুসল্লিদের জিম্মি করে। তারা মোহাম্মদ আল-কাহতানিকে প্রতীক্ষিত মাহদি হিসেবে ঘোষণা করে সৌদি রাজপরিবারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ডাক দেয়। প্রায় দুই সপ্তাহের লড়াইয়ের পর সৌদি বাহিনী মসজিদের নিয়ন্ত্রণ নেয়।

হাজিদের মিছিল থেকে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ
১৯৮৭ সালে ইরানি হাজিদের রাজনৈতিক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে মক্কায় ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়। সৌদি সরকারি হিসাবে নিহত হন ৪০২ জন—২৭৫ ইরানি, ৮৫ সৌদি এবং ৪২ জন অন্যান্য দেশের নাগরিক। আহত হন ৬৪৯ জন। তবে সংঘর্ষের কারণ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে সৌদি আর ইরানি বর্ণনায় তীব্র পার্থক্য ছিল।

বোমা হামলা ও ক্ষেপণাস্ত্রের ছায়া
১৯৮৯ সালে মসজিদুল হারামের কাছে বোমা বিস্ফোরণে একজন হাজি নিহত ও ১৬ জন আহত হন। পরে সৌদি কর্তৃপক্ষ ১৬ কুয়েতি নাগরিককে এ ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে। অভিযোগে ইরানের সংশ্লিষ্টতার কথাও ওঠে, যা তেহরান অস্বীকার করে।

২০১৭ সালে আবার মক্কার দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার অভিযোগ তোলে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। সৌদির দাবি ছিল, ক্ষেপণাস্ত্রটি মক্কার কাছে পৌঁছানোর আগেই ভূপাতিত করা হয়। হুতিরা অবশ্য মক্কাকে লক্ষ্য করার অভিযোগ অস্বীকার করে এবং অন্য লক্ষ্যবস্তুর কথা জানিয়েছিল।

পুরোনো ইতিহাসে নতুন অধ্যায়
মক্কার ইতিহাসে সংঘাতের ধরন বদলেছে—কখনো সেনাবাহিনীর অবরোধ, কখনো সশস্ত্র দখল, কখনো বিক্ষোভ ও বোমা হামলা, আবার কখনো দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি। সর্বশেষ ড্রোনের অভিযোগ সেই ধারাবাহিকতায় প্রযুক্তিনির্ভর নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে এবারের ঘটনাতেও মূল প্রশ্ন একই—পবিত্র নগরীর নিরাপত্তা কতটা সংঘাতের বাইরে রাখা সম্ভব।

সৌদি আরব যেখানে মক্কার আকাশসীমাকে কঠোর নিরাপত্তা-সীমা হিসেবে দেখছে, হুতিরা সেখানে সৌদি অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করছে। ফলে ঘটনাটির সামরিক তাৎপর্যের পাশাপাশি এর রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও নজরে রাখার বিষয় হয়ে উঠেছে।

তথ্যসূত্র: সৌদি পিডিয়া, ওয়াশিংটন পোস্ট, ইউপিআই, আরব নিউজ, উইকিজিরো

কালের আলো/এম/এএইচ

কভার্ড ভ্যানের সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, আশুলিয়ায় নিহত ৭

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
কভার্ড ভ্যানের সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, আশুলিয়ায় নিহত ৭

সাভারের আশুলিয়ায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার প্রীতি গ্রুপের এফএনএস কারখানায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কারখানার ভেতরে তল্লাশি শুরু করেন। একপর্যায়ে একটি কাবার ভেতর থেকে পাঁচজনের ঝলসানো মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এর আগে বিস্ফোরণের তীব্রতায় একটি সিলিন্ডার ছিটকে পাশের একটি কাপড়ের দোকানে গিয়ে পড়ে। এতে জয়নাব বেগম নামে এক নারী ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুলাল নামে আরও এক আহত ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় সাতজনে।

ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কারখানার ভেতরে আরও কেউ আটকা পড়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।

ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, একটি কভার্ড ভ্যানের ভেতরে থাকা সিএনজি সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষে জানা যাবে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

ডিজেল-কেরোসিন-অকটেন-পেট্রোলের দাম বাড়ল ২০ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৪ অপরাহ্ণ
ডিজেল-কেরোসিন-অকটেন-পেট্রোলের দাম বাড়ল ২০ টাকা

দেশে চার ধরনের প্রধান জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডিজেল প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. এনামুল হক স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে নতুন দাম নির্ধারণের তথ্য জানানো হয়।

নতুন দামে ডিজেলের মূল্য ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা থেকে ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা থেকে ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা হয়েছে।

এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত ছিল। সর্বশেষ বড় ধরনের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছিল এপ্রিলে। তখন ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা এবং অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম যথাক্রমে ২০, ১৯ ও ১৮ টাকা বাড়ানো হয়েছিল।

২০২৪ সাল থেকে স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতির আওতায় দেশে খুচরা জ্বালানি তেলের দাম পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম, আমদানি ব্যয়, কর ও শুল্ক, বিনিময় হারসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে নিয়মিত এ দাম সমন্বয় করা হয়।

কালের আলো/এমএসআইপি