খুঁজুন
                               
, ,
           

দুর্গম পাহাড়ে সৈনিকদের সঙ্গে সেনাপ্রধানের ‘দ্বিতীয় ঈদ’, স্নেহ-মমতার বন্ধন বাড়াবে মনোবল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ জুলাই, ২০২২, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ
দুর্গম পাহাড়ে সৈনিকদের সঙ্গে সেনাপ্রধানের ‘দ্বিতীয় ঈদ’, স্নেহ-মমতার বন্ধন বাড়াবে মনোবল

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে তিনি একটি পরিবার হিসেবেই দেখেন। এই পরিবারের সদস্য হিসেবে স্বভাবতই সবচেয়ে বেশি কষ্ট করেন সৈনিকরা। যারা আনন্দ-খুশির ঈদেও পরিবারের মায়া ত্যাগ করে দুর্গম পাহাড়ে জীবন হাতের মুঠোয় নিয়েই দিন-রাত কাজ করে চলেন দেশের তরে।

শান্তি-শৃঙ্খলা থেকে শুরু করে নিরাপত্তা এবং আর্থ-সামাজিক ও মানবিক উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখা এসব সৈনিকদের সঙ্গে আবারও ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে প্রচলিত চিত্রই পাল্টে দিয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। কথাও বলেছেন একজন অভিভাবকের মতোই। ঈদের সকালে খাওয়া হয়েছে কীনা, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বা কোন রকমের অসুবিধা রয়েছে কীনা-সবকিছুই জেনেছেন যেন পরম নির্ভরতার প্রতীক হয়েই।

আপত্য স্নেহ-মমতার চিরন্তন বন্ধনে স্মরণ করিয়ে দিলেন যারা পরিবারের ভেতর সবচেয়ে বেশি কষ্ট করে ‘অভিভাবক’ হিসেবে তাদের পাশে দাঁড়ানোর কথা। মানবিকতার নান্দনিক বৈভাষিক রূপে অনুভবনীয় মহিমায় তাদের সামগ্রিক খোঁজ খবর নেওয়া। ঈদের প্রকৃত আনন্দ ভাগাভাগি করা।

নব প্রাণের সলতে জ্বালিয়ে নির্মল আনন্দের ফোঁয়ারায় মুহুর্তেই ভুলিয়ে দেন স্বজন থেকে দূরে থাকার ওদের সব কষ্ট। হৃদয়ের পাতা ছুঁয়ে জানিয়ে দেন সৈনিকরা যতো দুর্গম জায়গায় থাকুক না কেন ওদের অভিভাবক এবং নেতৃত্বরা সব সময়ই তাদের কথা মনে রাখে এবং প্রয়োজনের সময় পাশে থাকে।

এসব ঘটনা প্রবাহ রোববার (১০ জুলাই) পবিত্র ঈদ-উল-আযহার দিনে। এদিন দুর্গম পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটি জেলার পাংখুপাড়া আর্মি ক্যাম্প, রাঙ্গামাটির বাঘাইহাট জোন সদর দপ্তর ও খাগড়াছড়ির দিঘীনালা জোন সদর দপ্তর পরিদর্শন করেন সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

সৈনিকদের হাতে হাতে তুলে দেন ঈদ উপহারও। নিখাদ আনন্দঘন এমন মুহুর্তে রীতিমতো উচ্ছ্বসিত সেনা সদস্যরাও। তৃণমূলের সৈনিকদের মনোবল বৃদ্ধিতে বাহিনীর সর্বোচ্চ ব্যক্তির সান্নিধ্য দায়িত্ব পালনে তাদের যেন আরও আন্তরিক ও উৎসাহিত করে তুলেছে।

সেনাবাহিনী প্রধান হিসেবে জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন এর আগে ২০২১ সালের বুধবার (২১ জুলাই) পার্বত্য চট্টগ্রামের দুই সেনা ক্যাম্প পরিদর্শনের মাধ্যমে সৈনিকদের সঙ্গে নিজের প্রথম ঈদ উদযাপন করেছিলেন। রোববার (১০ জুলাই) ফের ঈদ আনন্দ ভাগাভাগির মাধ্যমে আনন্দময় করে তুলেন তাদের ঈদও।

দীর্ঘ বর্ণাঢ্য চাকরি জীবনে জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন এক সময় পার্বত্য চট্টগ্রামে কাউন্টার ইন্সারজেন্সি অপারেশন এলাকায় একটি পদাতিক ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক হিসেবে কমান্ড নিযুক্তিতে অধিষ্ঠিত ছিলেন। ফলত পার্বত্য অঞ্চলে সেনাদের প্রতিটি ক্ষণের কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং দায়িত্বের বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে দেশের এই ১৭ তম সেনাপ্রধানের।

পার্বত্য চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার কথা জানালেন সৈনিকদেরও। তিনি বললেন, ‘ছুটির দিনেও অনেকে অন ডিউটিতে থাকে। আমার চাকরিই শুরু হয়েছে পাবর্ত্য চট্টগ্রামে। তখন পরিস্থিতি আরও কঠিন ছিল। কোন যোগাযোগ ছিল না। সেই তুলনায় এখন পরিস্থিতি অনেক ভালো। তারপরেও তোমরা আত্নীয় স্বজন থেকে দূরে। ঈদের পবিত্র দিনে তোমাদের পাশে এসে দাঁড়াতে পেরে আমি খুব আনন্দিত’-বলছিলেন জেনারেল শফিউদ্দিন।

খুশি-আনন্দের ঈদের দিনে দুর্গম পাহাড়ে সৈনিকদের পাশে দাঁড়াতে পেরে নিজেকে পরম ‘ভাগ্যবান’ মনে করেন সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে সেনা সদর দপ্তর থেকে যারা এসেছেন তাদের সবাইকে দেখে সেনা সদস্য যারা পাহাড়ে রয়েছেন তাদের মনোবল বৃদ্ধি পাবে। তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করবে তাদের অভিভাবক এবং নেতৃত্বরা তারা যতো দুর্গম জায়গায় থাকুক না কেন তাদের কথা মনে রাখে এবং প্রয়োজনের সঙ্গে তাদের পাশেই থাকে।’

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সেনাবাহিনী প্রধান প্রথমে রাঙ্গামাটির পাংখুপাড়া আর্মি ক্যাম্পে যান। তিনি সেখান থেকে বাঘাইহাট জোন সদর দপ্তরে যান।

এ সময় ড. এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশে বিদেশে সুনামের সাথে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আত্মীয়স্বজন থেকে দূরে থেকে যারা দায়িত্ব পালন করছেন এই শুভ দিনে তাদের অভিভাবক হিসেবে দেখতে এসেছি।’

তিনি পবিত্র ঈদ-উল-আযহার ত্যাগের মহিমায় সামাজিক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে আত্মনিয়োগ করতে সেনাসদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সেনাবাহিনী প্রধান বলেন, ‘স্থানীয় জনগণের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে সেনাবাহিনী যা যা প্রয়োজন সব করবে।’

পরে সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ বাঘাইহাট জোন সদর দপ্তর হতে দিঘীনালা জোন সদর দপ্তরে যান। সেখানে সৈনিক ও অফিসারদের সাথে মধ্যাহভোজ করেন। এ সময় ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) মেজর জেনারেল মো. সাইফুল আবেদীন, সেনাসদরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পাংখুপাড়া আর্মি ক্যাম্প, বাঘাইহাট এবং দিঘীনালা জোনের অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

ঈদের দিনে দুর্গম পাহাড়ি সেনা ক্যাম্পে সেনাপ্রধানের আগমনে সেনাসদস্য এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মনোবল উঁচু করেছে বলেও জানিয়েছে আইএসপিআর।

এছাড়া এদিন সকালে সেনাবাহিনী প্রধান ঢাকা সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করেন এবং সেখানে সেনাবাহিনীর সকল স্তরের অফিসার, জেসিও এবং অন্যান্য পদবির সৈনিকদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫২ পূর্বাহ্ণ
খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন শুরু

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অধিবেশনের প্রথম প্লেনারি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের সমাপনী পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পরে ৮১তম অধিবেশনের নবনির্বাচিত সভাপতি হিসেবে ড. খলিলুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেন। আগামী এক বছর তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

শপথ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে সংস্থাটির প্রতি আস্থার ঘাটতি রয়েছে। ভবিষ্যতের জন্য জাতিসংঘকে আরও কার্যকর ও উপযোগী করে তুলতে গভীর সংস্কার প্রয়োজন।

মঙ্গলবার প্রথম প্লেনারি সভা শুরু হলেও আগামী ২২ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের ভাষণের মধ্য দিয়ে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক শুরু হবে। এতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

জ্বালানি বিলেই নাজেহাল মার্কিনিরা, ইরান যুদ্ধে বাড়তি খরচ ১০০ বিলিয়ন ডলার

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২৭ পূর্বাহ্ণ
জ্বালানি বিলেই নাজেহাল মার্কিনিরা, ইরান যুদ্ধে বাড়তি খরচ ১০০ বিলিয়ন ডলার

ইরান যুদ্ধের ছয় মাসেই জ্বালানি কিনতে গিয়ে মার্কিন ভোক্তাদের পকেট থেকে বেরিয়ে গেছে অতিরিক্ত প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বেড়ে সাধারণ পরিবারের বাজেটে তৈরি হয়েছে বড় চাপ। দেশটির প্রায় ১৩ কোটি ১০ লাখ পরিবারের হিসাবে গড়ে প্রতিটি পরিবারের বাড়তি জ্বালানি ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৬৩ ডলার।

ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ওয়াটসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের তথ্যের বরাতে এই হিসাব সামনে এসেছে। এতে স্পষ্ট, ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক অভিঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্য বা আন্তর্জাতিক তেলবাজারে সীমাবদ্ধ নেই; সরাসরি মার্কিন পরিবারের দৈনন্দিন খরচেও এর প্রভাব পড়ছে।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা পেট্রোলের দামে
মার্কিনিদের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে পেট্রোলের দামে। ছয় মাসের ব্যবধানে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দাম ২ দশমিক ৯৮ ডলার থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ১৫ ডলারে উঠেছে। অর্থাৎ দাম বেড়েছে প্রায় ৩৯ শতাংশ। ডিজেলের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও কঠিন। প্রতি গ্যালনের দাম ৩ দশমিক ৬৭ ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ৫ দশমিক ৯০ ডলার—বৃদ্ধি ৬০ শতাংশেরও বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের প্রবণতা বেশি হওয়ায় পেট্রোলের এই মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি পরিবারের ব্যয়ে প্রভাব ফেলছে। অন্যদিকে ডিজেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে পরিবহন ও পণ্য সরবরাহের খরচে। ফলে একদিকে গাড়ি চালানোর খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে দোকানে পৌঁছানোর আগেই পণ্যের দাম বাড়ছে।

যুদ্ধ চলছে ছয় মাস
ইরানকে ঘিরে সামরিক সংঘাত শুরুর সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধটি চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে শেষ হওয়ার প্রত্যাশা জানিয়েছিলেন। বাস্তবে সেই সময়সীমা অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে। সংঘাত এখন ষষ্ঠ মাসে প্রবেশ করেছে এবং দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও স্পষ্ট নয়। যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক তেলবাজারে বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করছে।

ট্রাম্পের সঙ্গে মার্কিনিদের দ্বিমত
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এখন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্কেরও অংশ। যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থন না থাকায় অনেক মার্কিনি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনকে দায়ী করছেন।তবে ট্রাম্প এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি তেলের দাম বাড়ার বিষয়টিকে খুব বেশি গুরুত্ব না দিয়ে বরং তেল কোম্পানিগুলোর ওপর দায় চাপিয়েছেন। ফলে যুদ্ধের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের খরচ শেষ পর্যন্ত কে বহন করছে—সরকার, তেল কোম্পানি নাকি সাধারণ মানুষ—এই প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে।

খাদ্যনিরাপত্তাতেও চাপ
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এর প্রভাব শুধু গাড়ির জ্বালানিতে আটকে থাকে না। কৃষিতে ট্রাক্টর চালানো, খাদ্য পরিবহন, পণ্য সংরক্ষণ, শীতলীকরণ থেকে শুরু করে প্লাস্টিকের প্যাকেজিং—প্রায় প্রতিটি ধাপেই তেল ও গ্যাসের ব্যবহার রয়েছে।ফলে জ্বালানির দাম বাড়লে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়ও বাড়ে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়ে ভোক্তার বাজারে। মার্কিন পরিবার একদিকে গাড়ির ট্যাংক ভরতে বেশি টাকা দিচ্ছে, অন্যদিকে একই জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির কারণে খাবার ও অন্যান্য পণ্য কিনতেও বাড়তি অর্থ খরচ করতে হচ্ছে। বিশ্বের নিম্ন আয়ের দেশগুলোর জন্য ঝুঁকি আরও বড়। তেল ও সার আমদানির ব্যয় বেড়ে গেলে কৃষি উৎপাদনের খরচ বাড়তে পারে। দীর্ঘস্থায়ী হলে খাদ্য সরবরাহ ও খাদ্যনিরাপত্তাতেও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সামনে আরও চাপের শঙ্কা
জ্বালানি বাজারের এই চাপের মধ্যেই ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন ‘নিয়ন্ত্রিত জোন’ তৈরির ঘোষণা দিয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, এ এলাকার জন্য নতুন মানচিত্র দেওয়া হবে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে সেটি অনুসরণ করতে হবে। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, মার্কিন অবরোধ ও হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার নিশ্চয়তা দেবে না ইরান। নতুন নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ প্রবেশ করলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে দেশটি। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে মার্কিনিদের জন্য জ্বালানি বিলের চাপ আরও বাড়তে পারে। আর হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়লে তার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববাজারেও পড়বে। ফলে ইরান যুদ্ধ এখন শুধু ভূরাজনৈতিক সংঘাত নয়—সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দেওয়া এক বড় অর্থনৈতিক সংকটেও রূপ নিচ্ছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

জাতিসংঘ সংস্কারে গভীর পরিবর্তনের প্রয়োজন: খলিলুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২৬ পূর্বাহ্ণ
জাতিসংঘ সংস্কারে গভীর পরিবর্তনের প্রয়োজন: খলিলুর রহমান

জাতিসংঘের সংস্কারকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় জাতিসংঘকে কার্যকর ও আস্থাশীল রাখতে গভীর ও অর্থবহ সংস্কার প্রয়োজন।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

খলিলুর রহমান বলেন, বর্তমানে জাতিসংঘের প্রতি আস্থার ঘাটতি রয়েছে। শুধু বর্তমান সময়ের জন্য নয়, ভবিষ্যতের উপযোগী করে তুলতে হলে সংস্থাটিতে গভীর সংস্কার করতে হবে। সংস্কার যেন কেবল নামমাত্র না হয়, বরং সাধারণ মানুষের কাছে জাতিসংঘের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর ভূমিকা রাখে—সেদিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘এটি ১৯৪৫ সাল নয়। আমরা এখন একবিংশ শতাব্দীতে আছি। বিশ্ব এগিয়ে গেছে, তাই জাতিসংঘকেও এগিয়ে যেতে হবে।’

জাতিসংঘ মহাসচিবের সংস্কার প্রক্রিয়াকে সমর্থন করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, একজন প্রতিনিধি ও কর্মী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি এই সংস্থাকে কাছ থেকে দেখেছেন। তাই সংস্কারগুলো অবশ্যই অর্থবহ হওয়া প্রয়োজন।

রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গ তুলে খলিলুর রহমান বলেন, নিজ বাড়িঘর থেকে বিতাড়িত বিশাল জনগোষ্ঠীর আকুতি তিনি কাছ থেকে দেখেছেন। ভবিষ্যতেও জাতিসংঘের সামনে রোহিঙ্গাদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার কাজ অব্যাহত রাখবেন তিনি।

সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনে কোনো দেশ তাকে ভোট দিয়েছে কি না, সেটি তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। তিনি সব দেশের জন্য একজন সভাপতি হিসেবে কাজ করতে চান।

এ সময় বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতি ও প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে খলিলুর রহমান জানান, তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাই তাকে এই পদমর্যাদা ও দায়িত্বের পরিপ্রেক্ষিতেই প্রশ্ন করার আহ্বান জানান তিনি।

শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তার দরজা সবসময় খোলা থাকবে এবং সবার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে চান।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি