খুঁজুন
                               
, ,
           

ছয় মাসে পুলিশের ওপর ৩১৭ হামলা, মব নিয়ন্ত্রণে নিরপেক্ষ আইনি পদক্ষেপের তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২০ অপরাহ্ণ
ছয় মাসে পুলিশের ওপর ৩১৭ হামলা, মব নিয়ন্ত্রণে নিরপেক্ষ আইনি পদক্ষেপের তাগিদ

দেশে পুলিশের ওপর হামলা, দায়িত্ব পালনে বাধা এবং মব তৈরি করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের আক্রান্ত করার ঘটনা মোকাবিলায় নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। দায়িত্ব পালনের সময় বডি ক্যামেরা ব্যবহারের নির্দেশনার পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের মনোবল, পেশাগত দক্ষতা ও জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে প্রশিক্ষণ ও মোটিভেশন কার্যক্রম নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সারা দেশে পুলিশের ওপর ৩১৭টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন নিয়ে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশ বলছে, হামলা ও দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ছয় মাসে ৩১৭ হামলা

পুলিশ সদর দপ্তরের নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে পুলিশের ওপর ৪২টি হামলার ঘটনা ঘটে। ফেব্রুয়ারিতেও ৪২টি হামলা নথিভুক্ত হয়। মার্চে ৬৩টি, এপ্রিলে ৬৬টি, মে মাসে ৫৫টি এবং জুনে ৪৯টি হামলার ঘটনা ঘটে।

পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য, আগে এ ধরনের হামলা মূলত ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান বা দুর্গম এলাকায় বেশি দেখা গেলেও এখন দিনের বেলায় জনবসতিপূর্ণ এলাকাতেও ঘটছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে গুজব ছড়িয়ে জনতাকে সংগঠিত করে হামলা চালানো হচ্ছে। এতে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সরকারি যানবাহন ও স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

গুজব ও উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা

গত ২৪ অক্টোবর গোপালগঞ্জের রঘুনাথ ইউনিয়নের পুরোনো ফেরিঘাট এলাকার সেতুসংলগ্ন বাজারে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একটি মিছিল চলাকালে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। চার সদস্যের একটি টহল দল সেখানে থামলে মিছিলের অংশগ্রহণকারীরা পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করেন এবং সদস্যদের মারধর করেন। এতে এসআই ফুল মিয়া ও কনস্টেবল মাহবুবুর রহমান আহত হন।

এর আগে ১ এপ্রিল যশোরের কেশবপুরের হিজলডাঙ্গা গ্রামে এক দণ্ডিত আসামিকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশি নির্যাতনে তাঁর মৃত্যু হয়েছে—এমন ঘোষণা মসজিদের মাইকে প্রচার করা হয়। এরপর স্থানীয় ৫০ থেকে ৬০ জন বাসিন্দা জড়ো হয়ে পুলিশ সদস্যদের মারধর করেন এবং আসামিকে ছিনিয়ে নেন। এতে তিন পুলিশ সদস্য আহত হন।

৯ জুলাই বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় এক আটক ব্যক্তির পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে—এমন গুজব ছড়িয়ে হামলা চালানো হয়। শত শত মানুষ থানার সামনে জড়ো হয়ে পুলিশ সদস্যদের মারধর ও থানা ভাঙচুর করেন। সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন আহত হন, যাঁদের মধ্যে ছয়জন পুলিশ সদস্য। পরে হামলায় জড়িত ৬০ জনকে শনাক্ত করা হয় এবং ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে সরকারি জমি উদ্ধার ও ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান ঘিরেও। ২০ মে ঢাকার পল্লবীর বাউনিয়া বাঁধ বস্তিতে সরকারি জমি উদ্ধারের সময় পুলিশ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এতে অন্তত ছয় থেকে সাতজন পুলিশ সদস্য আহত হন।

৩০ সেপ্টেম্বর মিরপুর-১০ এলাকায় ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করার অভিযানের সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একদল হকার পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের কর্মীদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এ সময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের তিনটি ময়লার ট্রাকে আগুন দেওয়া হয়। একটি পুলিশ গাড়ি ও একটি এক্সকাভেটর ভাঙচুর করা হয়। ঘটনায় আট থেকে নয়জন পুলিশ সদস্য আহত হন।

প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনাও রয়েছে

পুলিশের ওপর হামলার পাশাপাশি দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের গুরুতর আহত ও নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। ৫ সেপ্টেম্বর সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশী মদিনা হাউজিংয়ে একটি বিরোধ থামাতে গিয়ে পুলিশের বিশেষ শাখার উপপরিদর্শক আলতাফ হোসেন ও তাঁর ছেলে আরিফুল ইসলাম হামলার শিকার হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর ছেলে গুরুতর আহত হন।

এ ছাড়া জুলাইয়ে পাবনার সুজানগর, কক্সবাজারের কুতুবদিয়া, ঢাকার মোহাম্মদপুর ও জুরাইন এবং চট্টগ্রামের আমবাগানসহ বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের ওপর হামলা, সদস্যদের আহত করা ও আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে।

এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে ৬৩টি মব-সংশ্লিষ্ট ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ৪০ জন নিহত ও ৬৫ জন আহত হয়েছেন।

বডি ক্যামেরা ও প্রশিক্ষণে গুরুত্ব

পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, আইনানুগ দায়িত্ব পালনে বাধা এবং মব সহিংসতার ঘটনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া, মামলার তদন্ত ও তদারকি জোরদার করতে মাঠপর্যায়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বডি ক্যামেরা ব্যবহারের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অপরাধ দমনে জনগণের সহযোগিতা বাড়াতে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া বিভাগের এআইজি কামারুন মুনিরা ঢাকা মেইলকে বলেন, পুলিশ সদস্যদের মনোবল, পেশাগত আত্মবিশ্বাস ও কর্মদক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে মোটিভেশনাল ও ইন-সার্ভিস প্রশিক্ষণ, কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম সম্প্রসারণ, জনসচেতনতামূলক সভা, পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতি দেওয়া। পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ, মানসিক সুস্থতা, উন্নত কর্মপরিবেশ ও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মব নিয়ন্ত্রণে নিরপেক্ষ বিচার জরুরি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও সমাজ-অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক মনে করেন, মব সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে শুধু বক্তব্য বা মৌখিক সদিচ্ছা যথেষ্ট নয়; কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি ঢাকা মেইলকে বলেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ন্যায়বিচার না পেলে বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীনতা তৈরি হতে পারে। একপর্যায়ে কেউ কেউ নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়ার পথ বেছে নেন। তবে ন্যায়বিচার না পাওয়ার ক্ষোভ কখনোই মব সৃষ্টি বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বৈধতা দিতে পারে না।

তাঁর মতে, মব তৈরির পেছনে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট থাকলেও অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পুলিশকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

ড. তৌহিদুল হক বলেন, যারা মব তৈরি করে, হামলায় অংশ নেয় কিংবা আইন নিজের হাতে তুলে নেয়, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক না কেন, নিরপেক্ষভাবে আইনের আওতায় আনতে হবে। অপরাধ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে রাজনৈতিক পরিচয়, প্রভাব কিংবা ক্ষমতা অপরাধীদের সুরক্ষা দিতে না পারে।

তিনি আরও বলেন, মব নিয়ন্ত্রণে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি অপরাধীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ন্যায়বিচারের কার্যকর পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। জনগণের মধ্যে আইনের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

সরকারি কর্মীদের বেতন ও বকেয়া মেটাতে ৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৫১ অপরাহ্ণ
সরকারি কর্মীদের বেতন ও বকেয়া মেটাতে ৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ

নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও বকেয়া পরিশোধের জন্য ব্যাংক খাত থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিচ্ছে সরকার। চলতি অক্টোবর মাসে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে ব্যাংক খাত থেকে মোট ৬০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এই অর্থ সংগ্রহের অংশ হিসেবে বুধবার (২৮ অক্টোবর) ১৪ দিন মেয়াদি বিশেষ ট্রেজারি বিলের নিলাম ডেকেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে, অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, ব্যাংক খাত থেকে সরকারের নিট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে নেওয়া হয়েছে ২৩ হাজার ২২৭ কোটি টাকা।

আগামী ১ নভেম্বর নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অক্টোবর মাসের বেতনের সঙ্গে আগের তিন মাসের বেতন বৃদ্ধির বকেয়া পরিশোধের কথা রয়েছে। বাড়তি এই ব্যয় মেটাতেই চলতি মাসে সরকারের ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা বাড়ানো হয়েছে।

বিশেষ ট্রেজারি বিলের নিলাম

সাধারণত সরকার ব্যাংক খাত থেকে ৯১, ১৮২ ও ৩৬৪ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের মাধ্যমে ঋণ নিয়ে থাকে। তবে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন মেটাতে এবার ১৪ দিন মেয়াদি বিশেষ ট্রেজারি বিলের নিলাম ডাকা হয়েছে।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এতে ঘাটতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। দেশি ও বিদেশি উৎস থেকে ঋণ নিয়ে এই ঘাটতি পূরণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

এ ছাড়া বাজেটের অর্থায়নে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাড়ছে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহার

সরকারের ঋণ নেওয়ার চাপ বাড়ায় ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। গত ৫ অক্টোবর ৯১ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের ইল্ড ছিল ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ। ২৬ অক্টোবর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বন্ডের ইল্ডও বেড়েছে।

অন্যদিকে, ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্যের পরিমাণ গত আগস্টের শেষে ৪ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছিল। এত বিপুল পরিমাণ উদ্বৃত্ত তারল্য থাকার পরও সরকারের ঋণের চাহিদা বাড়ায় ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহার বাড়ছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

মিরপুর-১-এ হকার উচ্ছেদের পর ফের দখল, ডিএনসিসির দ্বিতীয় অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪১ অপরাহ্ণ
মিরপুর-১-এ হকার উচ্ছেদের পর ফের দখল, ডিএনসিসির দ্বিতীয় অভিযান

রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর এলাকায় হকার উচ্ছেদ অভিযান শেষ হওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই আবার ফুটপাতে দোকান বসানোর প্রস্তুতি নেন হকাররা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ৩টার দিকে দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।

এর আগে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের নেতৃত্বে এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। এ সময় কয়েক শ দোকান সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে অভিযান শেষ হওয়ার পরপরই মুক্তিযোদ্ধা সুপার মার্কেট ও হযরত শাহ আলী শপিং কমপ্লেক্সের সামনের ফুটপাতে আবারও দোকান বসাতে দেখা যায় হকারদের।

বুধবার দুপুরে সরেজমিনে এমন চিত্র দেখা যায়। এদিকে মুক্তিযোদ্ধা সুপার মার্কেট কর্তৃপক্ষ মাইকিং করে মার্কেটের সামনে দোকান বসানো নিষিদ্ধ বলে জানায় এবং যাঁরা দোকান বসিয়েছেন, তাঁদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়।

জীবিকা নিয়ে দুশ্চিন্তায় হকাররা

মুক্তিযোদ্ধা সুপার মার্কেটের সামনের ফুটপাতে দোকান বসানো এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, তাঁর কসমেটিকসের দোকানটি উচ্ছেদ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন দোকান বসাতে না পারলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

পুনর্বাসনের জন্য অন্য জায়গা নির্ধারণ করা হলে সেখানে যাবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ওই ব্যবসায়ী বলেন, সাধারণত যেসব জায়গায় হকারদের পাঠানো হয়, সেখানে ক্রেতাদের যাতায়াত কম থাকে। মার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা মানুষ সামনে দোকান দেখলে অনেক সময় পণ্য কেনেন। অন্য জায়গায় গেলে সেই সুযোগ কমে যেতে পারে বলে তাঁর ধারণা।

অন্যদিকে হযরত শাহ আলী শপিং কমপ্লেক্সের ব্যবসায়ী রিপন খান বলেন, হকারদের এক জায়গা থেকে সরিয়ে দিলে তাঁরা অন্য জায়গায় গিয়ে বসেন। প্রশাসনের লোকজন চলে যাওয়ার পর আবারও ফুটপাত দখল করা হয়। তাঁর মতে, হকারদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা বরাদ্দ দেওয়া যেতে পারে। তবে তাঁদের রাস্তার পাশে বসার প্রবণতা বন্ধ করাও জরুরি।

আবারও অভিযান, চলবে নজরদারি

দুপুর পৌনে ৩টার দিকে ডিএনসিসির অঞ্চল-২-এর একটি গাড়ি ঘটনাস্থলে আসে। রাস্তার পাশে পড়ে থাকা কাঠ, বাঁশ, ইটসহ দোকান বসানোর বিভিন্ন সরঞ্জাম ট্রাকে তুলে নেওয়া হয়। এ সময় নতুন করে দোকান বসানো কয়েকজন হকারকে সরিয়ে দেওয়া হয়। অন্যদের দোকান সরিয়ে নিতে বলা হলে তাঁরা নিজেরাই সেগুলো সরিয়ে নেন। পরে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা রাস্তা পরিষ্কারের কাজ শুরু করেন।

এ সময় ডিএনসিসির অঞ্চল-২-এর পরিদর্শক জহুরুল আলম সুজন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, উচ্ছেদ অভিযান চলমান থাকবে। এর জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই; যেকোনো সময় অভিযান চালানো হবে। এ ছাড়া সিটি করপোরেশনের আরও দুটি দল রয়েছে, যারা বিভিন্ন সময়ে এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে।

ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার ঘোষণা

এর আগে দুপুর ১টার দিকে প্রথম দফার অভিযান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।

তিনি বলেন, এই অভিযান শুধু ফুটপাত উচ্ছেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। রাজধানীর যেসব স্থানে অব্যবস্থাপনা রয়েছে এবং নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে, সেসব জায়গায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। প্রতিটি এলাকার ফুটপাত দখলমুক্ত করার কথাও জানান তিনি।

ডিএনসিসির প্রশাসক বলেন, জনগণের হাঁটাচলার রাস্তা তাঁদের ব্যবহারের উপযোগী করে ফিরিয়ে দেওয়া তাঁর নৈতিক দায়িত্ব। আশপাশের বিভিন্ন মার্কেটের কমিটির নেতা ও সাধারণ মানুষ এ বিষয়ে তাঁকে একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ‘ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা’ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করবেন। ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ করাই তাঁর লক্ষ্য।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

সাদমানের ৯৯, মিরপুর টেস্টে দাপুটে অবস্থানে বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩২ অপরাহ্ণ
সাদমানের ৯৯, মিরপুর টেস্টে দাপুটে অবস্থানে বাংলাদেশ

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনটি দাপটের সঙ্গে শেষ করেছে বাংলাদেশ। ওপেনার সাদমান ইসলামের ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে বুধবার (২৮ অক্টোবর) দিনের খেলা শেষে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ৭৪ ওভারে ৩ উইকেটে ২১৩ রান।

সেঞ্চুরি থেকে মাত্র এক রান দূরে ৯৯ রানে অপরাজিত রয়েছেন সাদমান। তাঁর সঙ্গে ১০ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন লিটন দাস। মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। তবে ইনিংসের শুরুটা ভালো হয়নি স্বাগতিকদের। দলীয় ৯ রানেই জেইডেন সিলসের বলে ৭ রান করে আউট হন তানজিদ হাসান।

এরপর দ্বিতীয় উইকেটে সাদমান ইসলামের সঙ্গে ৫৯ রানের জুটি গড়েন মুমিনুল হক। ৫১ বলে ২৮ রান করে জোমেল ওয়ারিক্যানের শিকার হন তিনি। একই বোলারের বলে ১৯ রান করে ফেরেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। এতে ১১০ রানে তৃতীয় উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

সেখান থেকে দলকে এগিয়ে নেন সাদমান ও তাওহীদ হৃদয়। চতুর্থ উইকেটে দুজনের ব্যাটে আসে ৮৮ রান। ৮৪ বলে ৪২ রান করে পায়ে ব্যথা নিয়ে মাঠ ছাড়েন হৃদয়। তাঁর বিদায়ের সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ১৯৮ রান।

এরপর লিটন দাসকে নিয়ে দিনের বাকি সময় পার করেন সাদমান। ২১৯ বল মোকাবিলা করে ১০টি চারের সাহায্যে ৯৯ রান করেছেন এই বাঁহাতি ওপেনার। শুরু থেকে উইকেটের এক প্রান্ত আগলে রেখে তাঁর দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে স্বস্তিতে দিন শেষ করে বাংলাদেশ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে জোমেল ওয়ারিক্যান ৩৩ রান দিয়ে দুটি উইকেট নিয়েছেন। একটি উইকেট পেয়েছেন জেইডেন সিলস।

আলোকস্বল্পতার কারণে দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগে আর কোনো উইকেট হারায়নি বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিন সাদমানের সেঞ্চুরি এবং বড় সংগ্রহ গড়ার দিকে তাকিয়ে থাকবে স্বাগতিকরা।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি