খুঁজুন
                               
বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

শৈশব স্মৃতিমাখা গ্রামে সেনাপ্রধান, উন্নয়নের দৃশ্যকাব্যে প্রাণোচ্ছ্বল আপন ভুবন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ নভেম্বর, ২০২২, ১১:৩৩ অপরাহ্ণ
শৈশব স্মৃতিমাখা গ্রামে সেনাপ্রধান, উন্নয়নের দৃশ্যকাব্যে প্রাণোচ্ছ্বল আপন ভুবন

এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো:

প্রাণবন্ত শৈশবের স্মৃতিমুখর গ্রামে তাঁর উপস্থিতি। কাঁচা মাটির সোঁদা গন্ধে স্বচ্ছতার আলোয় উদ্ভাসিত মঙ্গলবার (০৮ নভেম্বর)। স্নিগ্ধ মায়ার বাঁধনে জড়ানো অপরূপ বাংলার একখণ্ড প্রতীমা করফা। নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মল্লিকপুর ইউনিয়নের গ্রামটিতে এসে স্বভাবতই আবেগাত্মক, প্রাণোচ্ছ্বল ও উদ্বেলিত প্রাণের আকুন্ঠ প্রকাশ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড. এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ’র।

দুরন্ত প্রাণময় শৈশবের ফেলে আসা দিনগুলোকে স্মরণ করিয়ে দিয়েই নিজের জবানীতে তুলে আনলেন, ‘করফা গ্রামে আমার পৈত্রিক ভিটা।’ সময়টা তখন সকাল-দুপুরের ঠিক মধ্যখানে আটকে। জীবনের প্রত্যুষে স্বাধীনতার স্বপ্নভরা চোখে এখানেই বেড়ে উঠেছেন। বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক শেখ মো. রোকন উদ্দীন আহমেদের গভীর দেশপ্রেম আর স্বাধীনতার সুপ্ত বাসনায় আগুন ঝরানো উদ্দীপনা দেখেছেন নিজ চোখেই।

ইতিহাসের মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কিংবদন্তিতুল্য তীব্র আহ্বান চেতনার স্ফূলিঙ্গ জ্বালিয়ে সংগ্রামের মশাল প্রজ্বলিত করেছিলো শেখ মো. রোকন উদ্দীন আহমেদ’র আপন ভুবনকে। একটি মুখের হাসির জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন রণাঙ্গনে। মানুষের মনে জাগিয়েছিল স্বাধীনতার আশার বাণী। বৈচিত্র্যময় করফা গ্রামের কোমল খাঁটি প্রাণ আর সজীব মাটির দীপ্তি ছড়িয়ে জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ বললেন, ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় করফা গ্রামে ছিলাম আমি। স্বাধীনতা যুদ্ধে আমার বাবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।’

এই নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলায় একাত্তরের রণাঙ্গনের বীর সারথি তাঁর বাবা ‘অধ্যাপক শেখ মো. রোকনউদ্দিন আহমেদ ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র’ গড়ে উঠছে। জীবনসঙ্গী নূরজাহান আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে মঙ্গলবার (০৮ নভেম্বর) এই নির্মাণ চিত্র পরিদর্শন করেন সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

চলতি বছরের জুলাই থেকে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি নির্মাণ করছে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (এইচইডি)। আগামী বছরের ১৫ মার্চের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ হলে স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামোতে নব দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে জানান অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বশির আহমেদ।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, পরে নিজের বাবা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক এস এম রোকনউদ্দিন আহমেদের হাতে গড়া মল্লিকপুর ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবের কার্যক্রম পরিদর্শন এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক এস এম রোকনউদ্দিন আহমেদ ভবন উদ্বোধন করেন সেনাপ্রধান। বিদ্যালয়টির পক্ষ থেকে সেনাবাহিনী প্রধানকে মানপত্র প্রদান করা হয়।

একটি টিনশেড থেকে মল্লিকপুর ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গৌরবময় বিকাশের কথা জানিয়ে জেনারেল শফিউদ্দিন বলেন, ‘আমার আজও চোখে ভাসে আমি একাত্তর সালে এখানে ছিলাম। এই স্কুলটি ওই সময় ছিল টিনের ঘর। মাটি দিয়ে তৈরি করা হয় ভিত। আজ এটিকে বিশাল এক মহিরুহই মনে হবে। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়েছে বলেই আমরা উন্নয়নের কাঙ্ক্ষিত বন্দরে নোঙর করতে পেরেছি।’

বদলে যাওয়া নড়াইলের চিত্রপট নিজের চোখেই দেখেছেন সেনাপ্রধান। এক সময় যে জেলা ছিলো অবহেলিত এখন সেখানেই ঝকঝকে দালান, সুপ্রশস্ত সড়ক আরো কত কী! সার্বিক অবকাঠামো আর দৃশ্যমান উন্নয়নে দৃশ্যপট বদলে যাওয়ার গল্পই যেন বলে চললেন। ইতিহাসের মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দূরদর্শিতা ও অকুতোভয় মনোভাবকে উপস্থাপন করেন মোটা দাগে। গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রজ্ঞাবান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি।

আবেগ মথিত কন্ঠে বলতে থাকেন ‘এটি অত্যন্ত সৌভাগ্যের ব্যাপার আজকে আমি আমার স্মৃতিবিজড়িত গ্রামে দাঁড়িয়ে আছি সেনাপ্রধান হিসেবে। আমি পুনরায় বলতে চাই এটি মহান সৃষ্টিকর্তার বিশেষ রহমত। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আমি মানুষের দোয়া পেয়েছি বলে আমি আজকে এই জায়গায় আসতে পেরেছি। আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি।

যিনি আমার ওপর আস্থা রেখে আমাকে এই গুরুদায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি শুধু আমাকে দায়িত্বই দেননি, সেনাবাহিনীকে আধুনিকায়ন করার জন্য যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নে সব রকমের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমার বিশেষ কৃতজ্ঞতা।’

এ সময় সেনাবাহিনী প্রধান শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এছাড়াও লোহাগড়া সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ১২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকা ‘অঙ্কুর’ এর মোড়ক উন্মোচন করেন সেনাবাহিনী প্রধান। এরপর তিনি লোহাগড়া সরকারি আদর্শ মহাবিদ্যালয়ে যান, সেখানে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।

নড়াইলে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন
আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ মঙ্গলবার (০৮ নভেম্বর) মধুমতি আর্মি ক্যাম্পের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করতে নড়াইল সফর করেন। এ সময় তিনি মধুমতি রেলওয়ে ব্রিজের কাজের অগ্রগতি এবং বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেন। তিনি কালনা এলাকায় সেনাবাহিনীর বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

পরে সেনাবাহিনী প্রধান আসন্ন শীতকালীন প্রশিক্ষণ উপলক্ষে ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের প্রস্তাবিত প্রশিক্ষণ অপারেশন ও লজিষ্টিকস’র প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালীন সময় এডহক কনস্ট্রাকশন সুপারভিশন কনসালটেন্ট’র চিফ কনসালটেন্ট জেনারেল মেজর জেনারেল এ কে এম রেজাউল মজিদ ও ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও যশোরের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মাহবুবুর রশীদসহ যশোর এরিয়ার ঊর্ধ্বতন সেনাকর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

সেনাপ্রধান দিনমান ব্যস্ত সফরে গণমাধ্যমের সঙ্গেও কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের আওতায় ১৭২ কিলোমিটার রেলপথের নির্মাণ কাজ ২০২৪ সালের জুনে শেষ হবে। এতে রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমের ৯টি জেলা সংযুক্ত হবে।’

কালের আলো/এমএএএমকে

বাজারে চলছে অস্থিরতা

বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:০০ পূর্বাহ্ণ
বাজারে চলছে অস্থিরতা

বাজারে নিতপণ্যের দাম এখন ঊর্ধ্বমুখী। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলে সরকার রেশনিং আরোপ করেছে। এছাড়া সিন্ডিকেটের কারণে চাহিদা অনুযায়ী তেল পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে গ্রামে বাড়তি দামে তেল বিক্রি হচ্ছে। এতে ট্রাক ভাড়া আগের তুলনায় ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য পরিবহণ খাতেও খরচ বেড়েছে।

রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকা। যা এক মাস আগেও ১৮০ টাকা ছিল। প্রতি কেজি সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৪৩০-৪৪০ টাকা। যা এক মাস আগে ৩২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা কেজি। আগে ছিল ৭৫০ টাকা। এদিকে ভোজ্যতেলের বাজারেও চলছে অস্থিরতা। আরেক দফা মূল্য বাড়াতে বাজার থেকে উধাও হয়েছে বোতলজাত সয়াবিন তেল। পাশাপাশি সংকট দেখিয়ে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ২১০-২২০ টাকা। যা এক মাস আগে ১৮৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বেড়েছে চিনির দামও। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০৫ টাকা। যা ঈদের আগে ১০০ টাকা ছিল।

বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, যুদ্ধের কারণে ভোজ্যতেল আমদানিতে সমস্যা হচ্ছে। পাশাপাশি বিশ্ববাজারে দাম বেড়েছে। এতে আমদানিকারকদের ব্যয় বেড়েছে। তাই দেশের বাজারেও দাম বাড়াতে হবে।

খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৬-৫৮ টাকায়। বিআর-২৮ জাতের মাঝারি দানার চাল ৬৮ টাকা, সরু চালের মধ্যে মিনিকেট চাল ৮৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। নতুন করে দাম না বাড়লেও প্রতি কেজি সরু মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা, মাঝারি দানার মসুর ডাল ১২০-১৩০ টাকা, মোটা দানার মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়।

নয়াবাজারের ব্যবসায়ী মো. আকবর বলেন, পরিবহণ ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় সবজি থেকে শুরু করে সব পণ্যের দাম বেড়েছে। পাশাপাশি কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কিছু পণ্যের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন। জ্বালানি পরিস্থিতির জন্য পণ্যের দাম যেটুকু বাড়ার কথা তার তুলনায় বেশি দাম নেওয়ায় সাধারণ মানুষ বিড়ম্বনায় পড়েছেন।

কেজিপ্রতি ৮০ টাকার নিচে মিলছে না কোনো সবজি। মাসের ব্যবধানে কেজিতে ২০-৩০ টাকা বেড়েছে। গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি। এক মাস আগে ছিল ৮০-৯০ টাকা। পটোল বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি। যা আগে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। করলা বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকা, বরবটি ৮০-৯০, ঢ্যাঁড়শ ৮০, চিচিঙ্গা ৮০-৯০, ধুন্দল ৬০-৮০, শিম ৮০-৯০, লাউ ৮০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব সবজির দাম ৩ দিন আগেও কেজিপ্রতি ২০-৩০ টাকা কম ছিল। মূলত ট্রাক ভাড়া বাড়ার কারণে সবজির দাম বেড়েছে।

ঢাকার কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. মাসুম বলেন, আমি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করে মাসে ৪০ হাজার টাকা বেতন পাই। মা-বাবা, স্ত্রী ও এক ছেলে নিয়ে আমার সংসার। সেখান আমিসহ তাদের খাবার জোগাড় করতে মাসে ৫০ কেজির এক বস্তা চাল ৪ হাজার, ৫ লিটার তেল ৮৫০, বাসা ভাড়া ১২ হাজার, সবজি, মাছ, ব্রয়লার মুরগিসহ তরকারি রান্নার উপকরণ কিনতে ৮ হাজার, গ্যাস সিলিন্ডার ২০০০, সাবান-ডিটারজেন্ট ও শ্যাম্পু ৫০০, মুদি বাজার আরও ২ হাজার, বিদ্যুৎ বিল ১০০০ ও মোবাইল টকটাইমে খরচ হয় ৫০০ টাকা।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহণ ব্যয় বাড়ার প্রভাব সরাসরি পণ্যের দামে পড়ছে। পাশাপাশি বাজার সিন্ডিকেটের কারণে ভোজ্যতেলসহ একাধিক পণ্যের দাম বেড়েছে। তাই বাজারে কঠোরভাবে তদারকি দরকার।

কালের আলো/এম/এএইচ

বার্সাকে বিদায় করে ৯ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিতে আতলেতিকো

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৫২ পূর্বাহ্ণ
বার্সাকে বিদায় করে ৯ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিতে আতলেতিকো

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার-ফাইনালের ফিরতি লেগে ২-১ গোলে জিতেও শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতে হয়েছে বার্সেলোনাকে। দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে সেমি-ফাইনালে উঠেছে আতলেতিকো মাদ্রিদ।

মঙ্গলবার রাতে মেত্রোপলিতানো স্টেডিয়ামে শুরুতেই আধিপত্য দেখায় বার্সেলোনা। চতুর্থ মিনিটে লামিনে ইয়ামাল এবং ২৪তম মিনিটে ফেররান তোরেসের গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় তারা, ফলে দুই লেগ মিলিয়ে সমতা ফেরে। তবে ৩১তম মিনিটে আদেমোলা লুকমান গোল করে আতলেতিকোকে আবারও ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে নেন, যা শেষ পর্যন্ত নির্ণায়ক হয়ে ওঠে।

পুরো ম্যাচে প্রায় ৭১ শতাংশ বল দখলে রেখে বার্সেলোনা আক্রমণ চালালেও দুই দলই নেয় ১৫টি করে শট; লক্ষ্যে ছিল বার্সেলোনার ৮টি ও আতলেতিকোর ৫টি। বারবার সুযোগ তৈরি করেও গোল বাড়াতে পারেনি কাতালানরা, বিপরীতে গোলরক্ষক হুয়ান মুসোর দৃঢ়তায় টিকে থাকে স্বাগতিকরা।

ম্যাচের শেষ দিকে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে বার্সেলোনার জন্য। ৭৭তম মিনিটে এরিক গার্সি‌য়া লাল কার্ড দেখলে যোগ করা সময়সহ শেষ ১৯ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় তাদের। প্রথম লেগেও তারা খেলেছিল ১০ জনে।

শেষদিকে রবার্ট লেভানদোভস্কি ও রোনাল্ড আরাওহো সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেননি। ফলে ২-১ ব্যবধানে জিতেও হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা।

অন্যদিকে প্রায় ৯ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমি-ফাইনালে উঠেই উল্লাসে মাতে আতলেতিকো মাদ্রিদ।

কালের আলো/এসএকে

৫ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে বৈধতা দিচ্ছে স্পেন, বাংলাদেশিদের উচ্ছ্বাস

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ
৫ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে বৈধতা দিচ্ছে স্পেন, বাংলাদেশিদের উচ্ছ্বাস

বার্সেলোনায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের উচ্ছ্বাস

ইউরোপে যখন অভিবাসননীতি নিয়ে কড়াকড়ি চলছে তখন ব্যতিক্রমী এক সিদ্ধান্ত নিলো স্পেন। প্রায় ৫ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে বৈধতা দিতে যাচ্ছে দেশটি। অর্থনীতি, জনসংখ্যা আর বাস্তবতার যুক্তি তুলে ধরে এই উদ্যোগকে ন্যায়ের পদক্ষেপ বলছে স্পেন সরকার।

এদিকে স্পেনের এমন সিদ্ধান্তের পর বার্সেলোনায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে উদযাপনের দৃশ্য দেখা গেছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, এ ঘোষণার পর উল্লাসে ফেটে পড়েছেন তারা। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে স্পেন সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

এই সুবিধা পেতে আবেদনকারীদের অন্তত পাঁচ মাস স্পেনে বসবাসের প্রমাণ এবং পরিচ্ছন্ন অপরাধমুক্ত রেকর্ড দেখাতে হবে। আগামী ১৬ এপ্রিল থেকে জুন মাসের শেষ পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে। অনুমোদন পেলে তারা কাজের সুযোগ, সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আসবেন।

সরকার বলছে, এই অভিবাসীরাই স্পেনের অর্থনীতি ও জনসেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছেন। জনসংখ্যার বার্ধক্য মোকাবিলা এবং শ্রমঘাটতি পূরণে তাদের বৈধতা দেওয়া জরুরি। অতীতে স্পেনের নাগরিকদের বিদেশে কাজের জন্য পাড়ি জমানোর ইতিহাসও এই সিদ্ধান্তের নৈতিক ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।

তবে দেশটির বিরোধী দল পিপলস পার্টি এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করে বলছে, সরকারের এমন উদ্যোগ অবৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করবে এবং নতুন করে আরও মানুষের আগমন বাড়াতে পারে।

যদিও ক্যাথলিক চার্চসহ কিছু মহল এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছে। ইউরোপজুড়ে কড়াকড়ির প্রবণতার বিপরীতে স্পেনের এই পদক্ষেপ নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

কালের আলো/এসাআর/এএএন