খুঁজুন
                               
, ,
           

শৈশব স্মৃতিমাখা গ্রামে সেনাপ্রধান, উন্নয়নের দৃশ্যকাব্যে প্রাণোচ্ছ্বল আপন ভুবন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ নভেম্বর, ২০২২, ১১:৩৩ অপরাহ্ণ
শৈশব স্মৃতিমাখা গ্রামে সেনাপ্রধান, উন্নয়নের দৃশ্যকাব্যে প্রাণোচ্ছ্বল আপন ভুবন

এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো:

প্রাণবন্ত শৈশবের স্মৃতিমুখর গ্রামে তাঁর উপস্থিতি। কাঁচা মাটির সোঁদা গন্ধে স্বচ্ছতার আলোয় উদ্ভাসিত মঙ্গলবার (০৮ নভেম্বর)। স্নিগ্ধ মায়ার বাঁধনে জড়ানো অপরূপ বাংলার একখণ্ড প্রতীমা করফা। নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মল্লিকপুর ইউনিয়নের গ্রামটিতে এসে স্বভাবতই আবেগাত্মক, প্রাণোচ্ছ্বল ও উদ্বেলিত প্রাণের আকুন্ঠ প্রকাশ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড. এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ’র।

দুরন্ত প্রাণময় শৈশবের ফেলে আসা দিনগুলোকে স্মরণ করিয়ে দিয়েই নিজের জবানীতে তুলে আনলেন, ‘করফা গ্রামে আমার পৈত্রিক ভিটা।’ সময়টা তখন সকাল-দুপুরের ঠিক মধ্যখানে আটকে। জীবনের প্রত্যুষে স্বাধীনতার স্বপ্নভরা চোখে এখানেই বেড়ে উঠেছেন। বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক শেখ মো. রোকন উদ্দীন আহমেদের গভীর দেশপ্রেম আর স্বাধীনতার সুপ্ত বাসনায় আগুন ঝরানো উদ্দীপনা দেখেছেন নিজ চোখেই।

ইতিহাসের মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কিংবদন্তিতুল্য তীব্র আহ্বান চেতনার স্ফূলিঙ্গ জ্বালিয়ে সংগ্রামের মশাল প্রজ্বলিত করেছিলো শেখ মো. রোকন উদ্দীন আহমেদ’র আপন ভুবনকে। একটি মুখের হাসির জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন রণাঙ্গনে। মানুষের মনে জাগিয়েছিল স্বাধীনতার আশার বাণী। বৈচিত্র্যময় করফা গ্রামের কোমল খাঁটি প্রাণ আর সজীব মাটির দীপ্তি ছড়িয়ে জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ বললেন, ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় করফা গ্রামে ছিলাম আমি। স্বাধীনতা যুদ্ধে আমার বাবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।’

এই নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলায় একাত্তরের রণাঙ্গনের বীর সারথি তাঁর বাবা ‘অধ্যাপক শেখ মো. রোকনউদ্দিন আহমেদ ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র’ গড়ে উঠছে। জীবনসঙ্গী নূরজাহান আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে মঙ্গলবার (০৮ নভেম্বর) এই নির্মাণ চিত্র পরিদর্শন করেন সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

চলতি বছরের জুলাই থেকে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি নির্মাণ করছে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (এইচইডি)। আগামী বছরের ১৫ মার্চের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ হলে স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামোতে নব দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে জানান অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বশির আহমেদ।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, পরে নিজের বাবা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক এস এম রোকনউদ্দিন আহমেদের হাতে গড়া মল্লিকপুর ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবের কার্যক্রম পরিদর্শন এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক এস এম রোকনউদ্দিন আহমেদ ভবন উদ্বোধন করেন সেনাপ্রধান। বিদ্যালয়টির পক্ষ থেকে সেনাবাহিনী প্রধানকে মানপত্র প্রদান করা হয়।

একটি টিনশেড থেকে মল্লিকপুর ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গৌরবময় বিকাশের কথা জানিয়ে জেনারেল শফিউদ্দিন বলেন, ‘আমার আজও চোখে ভাসে আমি একাত্তর সালে এখানে ছিলাম। এই স্কুলটি ওই সময় ছিল টিনের ঘর। মাটি দিয়ে তৈরি করা হয় ভিত। আজ এটিকে বিশাল এক মহিরুহই মনে হবে। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়েছে বলেই আমরা উন্নয়নের কাঙ্ক্ষিত বন্দরে নোঙর করতে পেরেছি।’

বদলে যাওয়া নড়াইলের চিত্রপট নিজের চোখেই দেখেছেন সেনাপ্রধান। এক সময় যে জেলা ছিলো অবহেলিত এখন সেখানেই ঝকঝকে দালান, সুপ্রশস্ত সড়ক আরো কত কী! সার্বিক অবকাঠামো আর দৃশ্যমান উন্নয়নে দৃশ্যপট বদলে যাওয়ার গল্পই যেন বলে চললেন। ইতিহাসের মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দূরদর্শিতা ও অকুতোভয় মনোভাবকে উপস্থাপন করেন মোটা দাগে। গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রজ্ঞাবান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি।

আবেগ মথিত কন্ঠে বলতে থাকেন ‘এটি অত্যন্ত সৌভাগ্যের ব্যাপার আজকে আমি আমার স্মৃতিবিজড়িত গ্রামে দাঁড়িয়ে আছি সেনাপ্রধান হিসেবে। আমি পুনরায় বলতে চাই এটি মহান সৃষ্টিকর্তার বিশেষ রহমত। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আমি মানুষের দোয়া পেয়েছি বলে আমি আজকে এই জায়গায় আসতে পেরেছি। আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি।

যিনি আমার ওপর আস্থা রেখে আমাকে এই গুরুদায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি শুধু আমাকে দায়িত্বই দেননি, সেনাবাহিনীকে আধুনিকায়ন করার জন্য যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নে সব রকমের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমার বিশেষ কৃতজ্ঞতা।’

এ সময় সেনাবাহিনী প্রধান শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এছাড়াও লোহাগড়া সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ১২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকা ‘অঙ্কুর’ এর মোড়ক উন্মোচন করেন সেনাবাহিনী প্রধান। এরপর তিনি লোহাগড়া সরকারি আদর্শ মহাবিদ্যালয়ে যান, সেখানে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।

নড়াইলে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন
আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ মঙ্গলবার (০৮ নভেম্বর) মধুমতি আর্মি ক্যাম্পের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করতে নড়াইল সফর করেন। এ সময় তিনি মধুমতি রেলওয়ে ব্রিজের কাজের অগ্রগতি এবং বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেন। তিনি কালনা এলাকায় সেনাবাহিনীর বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

পরে সেনাবাহিনী প্রধান আসন্ন শীতকালীন প্রশিক্ষণ উপলক্ষে ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের প্রস্তাবিত প্রশিক্ষণ অপারেশন ও লজিষ্টিকস’র প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালীন সময় এডহক কনস্ট্রাকশন সুপারভিশন কনসালটেন্ট’র চিফ কনসালটেন্ট জেনারেল মেজর জেনারেল এ কে এম রেজাউল মজিদ ও ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও যশোরের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মাহবুবুর রশীদসহ যশোর এরিয়ার ঊর্ধ্বতন সেনাকর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

সেনাপ্রধান দিনমান ব্যস্ত সফরে গণমাধ্যমের সঙ্গেও কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের আওতায় ১৭২ কিলোমিটার রেলপথের নির্মাণ কাজ ২০২৪ সালের জুনে শেষ হবে। এতে রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমের ৯টি জেলা সংযুক্ত হবে।’

কালের আলো/এমএএএমকে

সময় পেরিয়েছে, সৌন্দর্যের মুগ্ধতা রয়ে গেছে

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ণ
সময় পেরিয়েছে, সৌন্দর্যের মুগ্ধতা রয়ে গেছে

রুপালি পর্দায় কয়েক দশক ধরে সৌন্দর্য, অভিনয় ও জনপ্রিয়তার প্রতীক হয়ে আছেন চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা। সময়ের সঙ্গে বদলেছে চলচ্চিত্রের ভাষা, এসেছে নতুন প্রজন্ম, বদলেছে দর্শকের রুচি। তবে পূর্ণিমাকে ঘিরে দর্শকের মুগ্ধতায় যেন ভাটা পড়েনি।

পর্দায় নিয়মিত না থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর উপস্থিতি এখনো ভক্তদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করে। নতুন কোনো ছবি প্রকাশ করলেই প্রশংসায় ভরে ওঠে মন্তব্যের ঘর। সময়ের সঙ্গে তাঁর সৌন্দর্যে যোগ হয়েছে পরিণত এক দীপ্তি।

ছবি>> সংগৃহীত

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা একটি ছবিকে ঘিরেও দেখা গেছে একই চিত্র। সাদা পোশাকের সঙ্গে কালো-সাদা চেক নকশার জ্যাকেট, খোলা সোজা চুল, স্বাভাবিক সাজ আর মুখের মিষ্টি হাসিতে পরিশীলিত এক লুকে ধরা দিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

ছবি>> সংগৃহীত

পরিপাটি সাজে মুগ্ধতা

ছবিতে সাদা ডিপ ভি-নেক টপের সঙ্গে সাদা প্যান্ট পরেছেন পূর্ণিমা। এর সঙ্গে কালো-সাদা নকশার ব্লেজার যোগ করেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। হাতে সোনালি রঙের রিস্টওয়াচ ও সূক্ষ্ম ব্রেসলেট, পায়ে স্ট্র্যাপি স্টিলেটো হিল—সব মিলিয়ে তাঁর সাজে ছিল আভিজাত্য, তবে ছিল না বাড়াবাড়ি।

তবে পোশাকের চেয়েও বেশি নজর কেড়েছে তাঁর স্বাভাবিক হাসি ও সাবলীল উপস্থিতি। ছবিটি প্রকাশের পরপরই ভক্তদের প্রশংসায় ভরে ওঠে মন্তব্যের ঘর।

ছবি>> সংগৃহীত

‘নিজের ভেতরের আলোকে নিভতে দিও না’

ছবির সঙ্গে পূর্ণিমার লেখা ক্যাপশনও নজর কেড়েছে। জীবনের উত্থান-পতনকে আলোর সঙ্গে তুলনা করে অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘জীবনে উত্থান-পতন আসবেই। তবে নিজের ভেতরের ঝড়গুলোকে কখনোই তোমার বয়ে চলা আলোর চেয়ে বেশি উজ্জ্বল হতে দিও না।’

পূর্ণিমার এই কথার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন তাঁর ভক্ত-অনুসারীরাও। একজন মন্তব্য করেছেন, ‘ঝড় আসবেই; কিন্তু নিজের ভেতরের আলোটা যেন কখনো নিভে না যায়, এটাই জীবনের আসল শক্তি।’

আরেকজন লিখেছেন, ‘ঠিক বলেছেন, জীবনে যা কিছু হোক থেমে থাকা যাবে না।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্যগুলোই যেন বলে দেয়, পূর্ণিমার সঙ্গে দর্শকের সম্পর্ক কেবল তাঁর অভিনীত চরিত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্কের ধরন বদলেছে, কিন্তু ভালোবাসা ও আগ্রহ এখনো রয়ে গেছে।

১৭ বছর বয়সে চলচ্চিত্রে অভিষেক

মাত্র ১৭ বছর বয়সে বড় পর্দায় অভিষেক হয় পূর্ণিমার। জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘এ জীবন তোমার আমার’ সিনেমার মাধ্যমে নায়িকা হিসেবে যাত্রা শুরু করেন তিনি। প্রথম সিনেমাতেই তাঁর সহশিল্পী ছিলেন রিয়াজ।

অভিষেকের পর থেকেই দর্শকের নজরে আসেন পূর্ণিমা। এরপর একের পর এক সিনেমায় অভিনয় করে ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান শক্ত করেন তিনি। মান্না, ফেরদৌস, আমিন খান, শাকিল খান থেকে শুরু করে শাকিব খানের মতো জনপ্রিয় নায়কদের সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন এই অভিনেত্রী।

রিয়াজ-পূর্ণিমা জুটির আলাদা জনপ্রিয়তা

ঢালিউডে বেশ কিছু জনপ্রিয় জুটির মধ্যে রিয়াজ-পূর্ণিমা জুটির গ্রহণযোগ্যতা ছিল আলাদা। ‘মনের মাঝে তুমি’, ‘হৃদয়ের কথা’, ‘আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা’সহ বেশ কিছু সিনেমায় তাঁদের রসায়ন দর্শকের প্রশংসা পায়।

বিশেষ করে ‘মনের মাঝে তুমি’ সিনেমাটি বাণিজ্যিক সাফল্যের পাশাপাশি দর্শকের মনে দীর্ঘস্থায়ী জায়গা করে নেয়। সিনেমাটির জনপ্রিয়তা রিয়াজ-পূর্ণিমা জুটিকেও আরও শক্ত অবস্থান এনে দেয়।

ছবি>> সংগৃহীত

ছোট পর্দাতেও ছিল সফল উপস্থিতি

শুধু চলচ্চিত্র নয়, ছোটবেলা থেকেই নাচ ও গানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন পূর্ণিমা। ক্যারিয়ারের ব্যস্ত সময়েও টেলিভিশন নাটক ও টেলিফিল্মে অভিনয় করেছেন তিনি।

‘লাল নীল বেগুনী’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে টেলিভিশন দর্শকের কাছেও পরিচিতি পান এই অভিনেত্রী। এরপর ‘ল্যাবরেটরি’, ‘নিলিমার প্রান্তে’, ‘অমানিশা’, ‘শঙ্খচিল’, ‘লাভ অ্যান্ড কোং’সহ বেশ কিছু নাটক ও টেলিফিল্মে অভিনয় করেছেন।

অভিনয়ের পাশাপাশি বিজ্ঞাপনেও ছিল তাঁর সরব উপস্থিতি। গ্রামীণফোন, সিটিসেল, মেরিল বেবি লোশন, বার্জার ঝিলিকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনে দেখা গেছে তাঁকে।

অভিনয়ের স্বীকৃতিও মিলেছে

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে দর্শকের ভালোবাসার পাশাপাশি বিভিন্ন স্বীকৃতিও পেয়েছেন পূর্ণিমা। কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘ওরা আমাকে ভালো হতে দিল না’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য ২০১০ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন তিনি।

এ ছাড়া ‘মনের মাঝে তুমি’ ও ‘হৃদয়ের কথা’ সিনেমার জন্য মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারও পেয়েছেন এই অভিনেত্রী।

ছবি>> সংগৃহীত

পর্দায় অনিয়মিত, আলোচনায় নিয়মিত

বর্তমানে চলচ্চিত্রে নিয়মিত নন পূর্ণিমা। তবে অভিনয় থেকে পুরোপুরি দূরে সরে যাননি তিনি। তাঁর অভিনীত ‘জ্যাম’ ও ‘গাঙচিল’ সিনেমা দুটি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। সিনেমা দুটিতে তাঁর সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন ফেরদৌস ও আরেফিন শুভ।

বড় পর্দায় নিয়মিত দেখা না গেলেও টেলিভিশনে মাঝেমধ্যে হাজির হন পূর্ণিমা। কখনো উপস্থাপনায়, কখনো কোনো অনুষ্ঠানের বিচারকের আসনে দেখা যায় তাঁকে। বিজ্ঞাপনেও রয়েছে তাঁর উপস্থিতি।

সময় বদলেছে, মুগ্ধতা নয়

পূর্ণিমার ক্যারিয়ারের গল্পটা যেন সময়ের সঙ্গে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের গল্প। ১৭ বছরের তরুণী থেকে আজকের পরিণত অভিনেত্রী—দীর্ঘ এই পথচলায় বদলেছে বয়স, বদলেছে সময়, বদলেছে চলচ্চিত্রের পরিবেশও।

তবে দর্শকের চোখে পূর্ণিমার সেই মুগ্ধতা এখনো অটুট। নতুন প্রজন্মের অনেক তারকা নিয়মিত পর্দায় থাকলেও পূর্ণিমা অনিয়মিত হয়েও আলোচনায় থাকেন।

ছবি>> সংগৃহীত

সময়ের সঙ্গে তাঁর জীবনে যোগ হয়েছে অনেক বছর, কিন্তু দর্শকের ভালোবাসা কিংবা সৌন্দর্যের দীপ্তিতে যেন তার প্রভাব পড়েনি। তাই পূর্ণিমার ক্ষেত্রে বয়স হয়তো সত্যিই শুধুই একটি সংখ্যা—যে সংখ্যা তাঁর মুগ্ধতাকে মাপতে পারে না।

কালের আলো/জেএন

সিনেমার ব্যস্ততা ছেড়ে মালদ্বীপের নীল জলে নয়নতারা

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৪৬ অপরাহ্ণ
সিনেমার ব্যস্ততা ছেড়ে মালদ্বীপের নীল জলে নয়নতারা

দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী নয়নতারা। দীর্ঘদিন ধরেই একের পর এক সিনেমার কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। তবে এবার সেই ব্যস্ততা থেকে কিছুটা বিরতি নিয়ে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাচ্ছেন এই অভিনেত্রী। বর্তমানে মালদ্বীপের মনোরম সমুদ্রসৈকতে অবকাশযাপন করছেন নয়নতারা। নীল সমুদ্র, সাদা বালুর সৈকত আর রোদেলা আবহে বেশ স্বচ্ছন্দ সময় কাটাতে দেখা যাচ্ছে তাকে।

সিনেমার শুটিং ও পেশাগত ব্যস্ততার বাইরে পাওয়া এই সময়টুকু নিজের মতো করেই উপভোগ করছেন অভিনেত্রী। সমুদ্রসৈকতে ঘোরাঘুরি, রোদ পোহানো এবং সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি অবকাশযাপনের কিছু মুহূর্ত ভক্তদের সঙ্গেও ভাগ করে নিয়েছেন তিনি।

ছবি<< সংগৃহীত

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে মালদ্বীপে কাটানো সময়ের বেশ কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেন নয়নতারা। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) শেয়ার করা ছবিগুলো প্রকাশের পরপরই তা ভক্ত-অনুরাগীদের নজর কাড়ে। ছবিগুলোতে রোদেলা দিনে সৈকতের বালুবেলায় হালকা হলুদ রঙের পোশাকে হেঁটে বেড়াতে দেখা যায় তাকে।

ছবি<< সংগৃহীত

নয়নতারার এই অবকাশযাপনের লুকেও ছিল বেশ স্বচ্ছন্দ ও স্টাইলিশ ছোঁয়া। চোখে সানগ্লাস, মাথায় টুপি এবং পরনে হালকা রঙের পোশাক—সব মিলিয়ে একেবারে রিল্যাক্সড মুডে ধরা দিয়েছেন তিনি। পেছনে নীল সমুদ্র আর চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ছবিগুলোকে দিয়েছে আরও আকর্ষণীয় আবহ।

ছবি<< সংগৃহীত

ছবিগুলোর লোকেশন হিসেবে মালদ্বীপের ফারি দ্বীপপুঞ্জের উত্তর মালে অ্যাটলে অবস্থিত বিলাসবহুল রিসোর্ট পাতিনা মালদ্বীপকে ট্যাগ করেছেন নয়নতারা। সমুদ্রসৈকতের মনোরম পরিবেশে অভিনেত্রীর অবকাশযাপনের এসব ছবি প্রকাশের পর তার ভক্তদের মধ্যেও দেখা গেছে ব্যাপক আগ্রহ।

ছবি<< সংগৃহীত

তবে শুধু অবকাশযাপন নয়, কাজের জগতেও আলোচনায় রয়েছেন নয়নতারা। সম্প্রতি তাকে বড়পর্দায় দেখা গেছে ‘হাই’ সিনেমায়। বিষ্ণু এদাভান পরিচালিত রোমান্টিক কমেডি ঘরানার এই সিনেমায় দেবায়ানি চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন কাভিন।

সিনেমাটিতে ময়িল ও দেবায়ানি—সম্পূর্ণ ভিন্ন দুই চরিত্রের জীবন ও তাদের নানা জটিলতার মধ্য দিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠার গল্প তুলে ধরা হয়েছে। বিশৃঙ্খলা, মিথ্যা ও নানা নাটকীয় মোড়ের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে কাহিনি।

চলচ্চিত্রবোদ্ধাদের আলোচনায় উঠে এসেছে, সিনেমাটি গতানুগতিক রোমান্টিক গল্পের বাইরে খুব নতুন কিছু উপস্থাপন না করলেও এর নাটকীয়তা ও গল্পের বিভিন্ন জটিলতা দর্শকদের বিনোদন দিয়েছে। সিনেমায় নয়নতারার অভিনয়ও দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে।

এদিকে সিনেমার পর্দায় ব্যস্ততার পাশাপাশি ব্যক্তিগত অবকাশের মুহূর্তও ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন অভিনেত্রী। মালদ্বীপের সৈকতে তার রোদেলা দিনের ছবিগুলো তাই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সমুদ্রের নীল জল আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে নয়নতারার এই স্বচ্ছন্দ উপস্থিতি ইতোমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে প্রশংসা পাচ্ছে।

কালের আলো/এসএ

ভিন্নধর্মী চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরতে চান সামিরা খান মাহী

বিনোদন ডেস্ক:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৩০ অপরাহ্ণ
ভিন্নধর্মী চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরতে চান সামিরা খান মাহী

নতুন প্রজন্মের অভিনেত্রীদের মধ্যে সম্ভাবনাময় একজন সামিরা খান মাহী। সাবলীল অভিনয়, চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এবং বৈচিত্র্যময় চরিত্রে কাজ করার আগ্রহ দিয়ে ইতোমধ্যে দর্শকের নজর কেড়েছেন তিনি। ইমরাউল রাফাত পরিচালিত ‘বকুল ফুল’ নাটকে পাগলির চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন এই অভিনেত্রী। পাশাপাশি ‘বিয়ে করতে গিয়ে’, ‘সকাল বিকাল রাত্রি’, ‘গার্লস স্কোয়াড’সহ বেশ কিছু নাটক ও ওয়েব সিরিজে অভিনয় করেছেন।

শুরুটা মডেলিং দিয়ে হলেও ধীরে ধীরে অভিনয়েই নিজের জায়গা তৈরি করেছেন মাহী। সামনে নিজেকে আরও ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে মেলে ধরতে চান তিনি। নিজের ক্যারিয়ার, অভিনয়ের দর্শন, জনপ্রিয়তা ও সিনেমায় কাজের ইচ্ছা নিয়ে কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী।

যেভাবে মিডিয়ায় এলাম

২০১৪ সালে একটি রিয়ালিটি শোর মাধ্যমে মিডিয়ায় পথচলা শুরু মাহীর। ‘র‌্যাং আরটিভি ২০ ২০ কালারস মডেল সার্চ প্রতিযোগিতা’য় প্রথম রানারআপ হয়ে মডেলিংয়ে পা রাখেন তিনি। এরপর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করেন।

নিজের শুরুর গল্প বলতে গিয়ে মাহী বলেন, “২০১৪ সালে একটি রিয়ালিটি শো ‘র‌্যাং আরটিভি ২০ ২০ কালারস মডেল সার্চ প্রতিযোগিতা’র মাধ্যমে আমার ক্যারিয়ার শুরু। প্রথম রানারআপ হয়ে মডেলিং জগতে পা রাখি। এরপর বাংলালিংক, প্রাইড গার্লস, সেলরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করেছি।”

অভিনয়ে তার প্রথম কাজ ধারাবাহিক নাটক ‘তরুণ তুর্কী’। এরপর একে একে অনেক নাটক ও ওয়েব সিরিজে অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি।

মাহী বলেন, “অভিনয়ের জগতে প্রথম পা রাখি ধারাবাহিক নাটক ‘তরুণ তুর্কী’র মাধ্যমে। এরপর ‘পারিবারিক গোলযোগ’, ‘নীড় খোঁজে গাঙচিল’, ‘লাইফ ইন এ মেট্রো’, ‘শুভ্রার ওয়ারড্রব’, ‘আকাশ বাড়িয়ে দাও’, ‘ম্যাচিং ব্রাদার’, ‘এক পা দু-পা’সহ আরও অনেক জনপ্রিয় নাটক ও ওয়েব সিরিজে অভিনয় করেছি।”

যে কাজগুলো বদলে দিয়েছে পথ

ক্যারিয়ারে বেশ কিছু কাজকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন মাহী। বিশেষ করে ‘গার্লস স্কোয়াড’, ‘হাঙর’ ও ‘বকুল ফুল’ নাটকে অভিনয়ের পর দর্শকের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে শুরু করে।

মাহীর ভাষায়, “আমি মনে করি, যে সময়টায় ‘গার্লস স্কোয়াড’, ‘হাঙর’, ‘বকুল ফুল’ নাটকে অভিনয় করেছিলাম, তখন আরও কয়েকটি নাটকে ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করেছি। এরপর দর্শক আমাকে সিরিয়াসলি নেওয়া শুরু করেন।”

বর্তমান সময়ে অভিনয়ের সুযোগ আগের তুলনায় বেড়েছে বলেও মনে করেন তিনি। তবে জনপ্রিয়তা পাওয়ার চেয়ে সেটি ধরে রাখাকেই বড় চ্যালেঞ্জ মনে করেন মাহী।

“আগের থেকে জনপ্রিয়তা একটু ইজি; কিন্তু জনপ্রিয়তা পেলেই হয় না, টিকিয়ে রাখাটা গুরুত্বপূর্ণ,” বলেন তিনি।

দর্শকের ভালোবাসা পাওয়ার অভিজ্ঞতাকে নিজের সৌভাগ্য মনে করেন মাহী। তিনি বলেন, “আমি যে সময়ে শুরু করলাম, তখন আরও ২০ জনের মতো এসেছিলাম। সবাই তো আর ক্লিক করলেন না। এ ক্ষেত্রে এটাও বলা যায়, দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া এতটাও সোজা নয়। বিশেষ করে ভালোবাসা পাওয়াটা ভেরি ডিফিকাল্ট। আমার সৌভাগ্য, আমি অল্প সময়ে এটি পেয়েছি।”

ভার্সেটাইল অভিনেত্রী হতে চাই

এক ধরনের চরিত্রে আটকে থাকতে চান না মাহী। বরং নিজেকে এমন একজন অভিনেত্রী হিসেবে দেখতে চান, যিনি বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে সমানভাবে মানিয়ে নিতে পারেন।

“আমি ভার্সেটাইল অভিনেত্রী হতে চাই। সব ধরনের অভিনয় করব,” বলেন তিনি।

তবে দর্শক অনেক সময় একজন শিল্পীকে নির্দিষ্ট ধরনের চরিত্রে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন। ফলে পরিচিত গণ্ডির বাইরে গিয়ে কাজ করলে ভিউয়ের ক্ষেত্রে কিছুটা সমস্যা হয় বলে মনে করেন মাহী।

তার কথায়, “দর্শক একরকম নিয়েই নেন। তো ওটার বাইরে চলে গেলে ভিউয়ে ঝামেলা হয়। যদিও মাঝেমধ্যে ভিউ ম্যাটার করে না, যখন আপনি অনেক ভালো কাজ করেন।”

ভালো কাজের মাধ্যমে দর্শকের রুচিতেও পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। মাহী বলেন, “আমরা যদি ভালো কিছু দিই, তাহলে অডিয়েন্সের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হবে। এখন একই জিনিস যদি দিতেই থাকি, যেটা তারা পছন্দ করেন, তখন তো উপলব্ধি পরিবর্তন হলো না। এজন্য মাঝেমধ্যে আমার মন খারাপ হয়।”

‘সবার নিজস্বতা থাকা দরকার’

অভিনয়ের ক্ষেত্রে প্রত্যেকের নিজস্বতা থাকা জরুরি বলে মনে করেন মাহী। নিজের বিশেষ দক্ষতার জায়গা হিসেবে সিলেটি ভাষায় কথা বলার বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন তিনি।

মাহী বলেন, “আমার কাছে মনে হয়, অভিনয়ের ক্ষেত্রে সবার নিজস্বতা থাকা দরকার। যেমন আমার একটা বিশেষ দক্ষতা আছে, সিলেটী ভাষায় কথা বলতে পারি, যেটা দর্শক পছন্দ করেন। অনেকে আমাকে ভার্সেটাইল অভিনেত্রী বলেন।”

সহশিল্পীদের কাউকেই প্রতিযোগী হিসেবে দেখেন না এই অভিনেত্রী। বরং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে চান তিনি।

“আমি কাউকে আমার প্রতিযোগী মনে করি না। কাউকে এমনটা মনে করলে হিংসার বিষয়টা চলে আসবে। আমি চাই সবার সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করতে,” বলেন মাহী।

‘আমি একদম পানির মতো’

নিজের অভিনয়ের ধরন বোঝাতে বেশ চমৎকার একটি উদাহরণ দিয়েছেন মাহী। নিজেকে পানির সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, “আমি একদম পানির মতো। যেই পাত্রে রাখবেন, সেই পাত্রের আকারই ধারণ করব।”

চরিত্র অনুযায়ী নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার এই ক্ষমতাকেই নিজের অন্যতম শক্তি মনে করেন তিনি। সহকর্মীদের সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক বজায় রেখে কাজ করতে চান মাহী।

“সেই জায়গা থেকে আমি সবার সঙ্গে নাইস। আমি কখনো কারও সঙ্গে খারাপ হতেই পারব না,” বলেন তিনি।

‘হাওয়া’ দেখে সিনেমায় আগ্রহ

ছোট পর্দা ও ওয়েবের পাশাপাশি বড় পর্দায়ও কাজ করতে চান মাহী। ‘হাওয়া’ সিনেমাটি দেখার পর সিনেমায় অভিনয়ের আগ্রহ তৈরি হয়েছে তার।

তবে প্রচলিত অর্থে শুধু গ্ল্যামারনির্ভর চরিত্রে অভিনয়ের ইচ্ছা নেই তার। গল্প ও চরিত্রকেই বেশি গুরুত্ব দিতে চান এই অভিনেত্রী।

মাহী বলেন, “‘হাওয়া’ সিনেমাটি দেখার পর সিনেমায় অভিনয়ের ইচ্ছা জেগেছে। তেমন গল্পের সিনেমায় বেশি কাজ করতে চাই। অনেক সুন্দর আর গ্ল্যামার লাগতে হবে, এটা আমি চাই না। ক্যারেক্টারটা প্লে করে আসতে চাই।”

‘হাওয়া’ সিনেমার তুষি চরিত্রের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, “ওখানে কিন্তু তুষিকে অনেক সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে, এমন না; কিন্তু চরিত্রটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।”

‘যেনতেন গল্প আর চরিত্রে কাজ করা উচিত নয়’

কাজ নির্বাচনের ক্ষেত্রেও সচেতন মাহী। শুধু নিয়মিত কাজ করার জন্য যেকোনো গল্প বা চরিত্রে অভিনয় করতে চান না তিনি। নিজের কাজের মধ্যে সবসময় বৈচিত্র্য রাখাই তার লক্ষ্য।

তার ভাষায়, “আমি আসলে মনে করি যেনতেন গল্প আর চরিত্রে কাজ করা উচিত নয়, কারণ আমি গতানুগতিক অভিনেত্রী হতে চাই না। বরাবরই আমার কাজের মধ্যে যেন ভ্যারিয়েশন থাকে, সেটিই আমার লক্ষ্য।”

কাজের সংখ্যা কম হলেও ভালো কাজকে গুরুত্ব দিতে চান তিনি। এ প্রসঙ্গে মাহী বলেন, “গল্প বাছতে গিয়ে দেখা যায়, অন্যদের থেকে আমার কাজ পরিমাণে কম। এতেই খুশি, কারণ ভালো কাজ কম হলেও তাতে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকা যায়।”

সামিরা খান মাহীর কথায় স্পষ্ট, সংখ্যার চেয়ে কাজের মান এবং চরিত্রের বৈচিত্র্যই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অভিনয়জীবনে তাই একের পর এক ভিন্ন চরিত্রে নিজেকে ভাঙতে চান তিনি। দর্শকের ভালোবাসাকে সঙ্গে নিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়াই এখন তার লক্ষ্য।

কালের আলো/জেএন