খুঁজুন
                               
, ,
           

যুদ্ধ জয়ের সক্ষমতা দেখালো দামাল সেনারা, ‘স্মার্ট সেনাবাহিনী’ গড়ার দুর্বার অভিযাত্রায় সেনাপ্রধান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৩, ১০:৩৫ অপরাহ্ণ
যুদ্ধ জয়ের সক্ষমতা দেখালো দামাল সেনারা, ‘স্মার্ট সেনাবাহিনী’ গড়ার দুর্বার অভিযাত্রায় সেনাপ্রধান

কালের আলো রিপোর্ট:

মুহুর্মুহু গুলির শব্দে প্রকম্পিত চারপাশ। বহি:শত্রুর বিরুদ্ধে তীব্র লড়াই। বোমা ফুটছে অনবরত। শক্রপক্ষকে ঘায়েলে সাঁজোয়া যান নিয়ে ছুটে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ঠিক যেন যুদ্ধের দামামা। অব্যাহত আক্রমণে পর্যদুস্ত শত্রুরা। নিমিষেই ধ্বংস সব ঘাঁটি! অকুতোভয় দামাল সেনাদের সামনে টিকতে না পেরে অসহায় আত্মসমর্পণ।

হিমালয়সম সাহস, দৃঢ় মনোবল আর দক্ষতায় বিজয়ের হাসি বীর সেনাদের মুখে। উচ্ছ্বাসমাখা সুবর্ণ জয়ের জয়োধ্বনি কন্ঠে কন্ঠে। যার মাধ্যমে তারা দেখিয়েছে নিজেদের শক্তিমত্তা আর যুদ্ধ জয়ের সক্ষমতা। নতুন বছরের শুরুতেই বারতা দিলো দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যেকোন পরিস্থিতিতে প্রস্তুত সেনাবাহিনী। গল্পের বাস্তবিক এমন দৃশ্যপটেই টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার উপজেলায় চূড়ান্ত মহড়ার মধ্যে দিয়ে বৃহস্পতিবার (০৫ জানুয়ারি) শেষ হয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শীতকালীন বহিরঙ্গণ প্রশিক্ষণ ‘অনুশীলন নবউদ্যোগ’। সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশন সফলভাবে এই অনুশীলন পরিচালনা করে। প্রায় এক দশক পর বৃহৎ পরিমণ্ডলে সেনাবাহিনী পর্যায়ে এবারের শীতকালীন প্রশিক্ষণের শেষ দিনে চূড়ান্ত মহড়া অবলোকন করেন, প্রশিক্ষণে সরাসরি নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের স্মার্ট বাংলাদেশের উপযোগী স্মার্ট সেনাবাহিনী গড়তে নিজ বাহিনীর প্রশিক্ষণ সক্ষমতাকে যুগোপযোগী করতে প্রত্যয়ী শপথে দুর্বার অভিযাত্রা অব্যাহত রেখেছেন। বলেই দিয়েছেন স্মার্ট বাংলাদেশের স্মার্ট সেনাবাহিনীই কাম্য। নতুন নতুন কৌশলের উদ্ভাবন ঘটিয়ে প্রযুক্তির ব্যবহার ও বিভিন্ন প্যারা মিলিটারি ফোর্সের সমন্বয়ে যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য তিনি এই অনুশীলনের পরিকল্পনার সফল প্রয়োগ ঘটাতে সক্ষম হয়েছেন।

গত বছর প্রথমবারের মতো বিজয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫০ বছর পূর্তিতে লজিস্টিক এফটিএক্স অনুশীলন যুগে প্রবেশ করে সেনাবাহিনী। সাঁজোয়া বহর ও এপিসি’র পাশাপাশি সেনাবাহিনীর ছত্রীসেনা অংশগ্রহণ করে। সেনাবাহিনীর আর্মি এভিয়েশনের হেলিকপ্টার ব্যবহার করে আর্মি কমান্ডো সন্নিবেশ, ইঞ্জিনিয়ার্সের প্রতিবন্ধকতা অপসারণ; পদাতিক ও অন্যান্য কোরের সমন্বয়ে শত্রু অবস্থানের উপর আক্রমণ পরিচালনা- কী ছিল না এবারের ‘অনুশীলন নবউদ্যোগ’ চূড়ান্ত মহড়ায়!

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, বিদায়ী বছরের ১৯ ডিসেম্বর শীতকালীন প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে সেনাসদর ও সেনাবাহিনীর সকল ফরমেশন পূর্ণাঙ্গর্রপে নিজ নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় মোতায়েন হয়। জাতির গর্ব ও আস্থার প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শীতকালীন প্রশিক্ষণের প্রতিপাদ্য হলো ‘যুদ্ধ পারঙ্গমাতা, যুদ্ধোপযোগিতা ও রনপ্রস্তুতি প্রদর্শন’। দেশ সেবায় নিজেদের প্রস্তুত করে তুলতে সরেজমিনে বাস্তবধর্মী বিভিন্ন সামরিক বিষয়াদি অনুশীলনের মাধ্যমে পেশাগত জ্ঞান ও দক্ষতার উন্নয়ন সাধন করাই এই অনুশীলনের মূল লক্ষ্য। এছাড়া এ বছর শীতকালীন বহিরঙ্গণ অনুশীলনটিতে অধিকতর বাস্তবধর্মী ও অভিনব জ্ঞানের প্রতিফলন ঘটানো হয়।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা প্রশিক্ষণে ফোকাসের
টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার উপজেলায় শীতকালীন প্রশিক্ষণের সমাপনী দিনে চূড়ান্ত মহড়া অবলোকন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। প্রশিক্ষণে দৃষ্টি নিবদ্ধের নির্দেশনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এবং তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীও কিন্তু এগিয়ে যাচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সুস্পষ্টভাবে আমাকে বলে দিয়েছেন যে, তুমি ট্রেনিংয়ের প্রতি সবসময় ফোকাস রাখবে, সেই জন্য আমরা কিন্তু অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে ট্রেনিংয়ে অনেক বেশি ফোকাসড।’

ইতিহাসে চোখ রেখে সেনাপ্রধান বলে চললেন, ‘আপনি ইতিহাস খুঁজলে কখনোই বাংলাদেশে দেখতে পারবেন না যে, আর্মি লেভেল এক্সারসাইজ পরপর দুইবার হয়েছে। সত্যি কথা বলতে কি, লাস্ট যখন আর্মি লেভেল এক্সারসাইজ হয়েছে সেটা হল ২০১২ সালে, তারপরে থেকে দশ বছর হয়ে গেছে। আমরা আর্মি লেভেল লজিস্টিকস এফটিএক্স করেছি গতবার, এবার আর্মি লেভেল সামগ্রিকভাবে এক্সারসাইজ করলাম। সেইভাবে এটা একটা ক্লিয়ার ইন্ডিকেটর যে আমরা কিন্তু ট্রেনিংয়ে অনেক ফোকাস রাখছি।’

ফোর্সেস গোল ২০৩০ বাস্তবায়নে সেনাবাহিনীর আধুনিকতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাচ্ছি যে আমাদের ফোর্সেস গোল ২০৩০ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকারের সার্বিক সহযোগিতা রয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত দিকনির্দেশনা এবং সার্বিক সহযোগিতায় এই ফোর্সেস গোল বাস্তবায়নের জন্য সেনাবাহিনীর যে আধুনিকায়ন করা দরকার সেটা করা হচ্ছে। আর স্মার্ট বাংলাদেশের সাথে মিলিয়ে স্মার্ট সেনাবাহিনী হবে এটাই কাম্য।’

সেনাবাহিনীকে আরও স্মার্ট করতে প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে উল্লেখ করে সেনাপ্রধান বলেন, ‘যত জায়গায় আমাদের প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে সেগুলো আমরা বাড়াচ্ছি। মান্ধাতা আমলের সিস্টেম থেকে বেরিয়ে সেনাবাহিনীর টিএডিএ, বেতন কাঠামো স্মার্ট একটা ডিজিটাল প্রক্রিয়ার ভেতর নিয়ে আসছি। খুব শীঘ্রই এটার ফল সবাই দেখতে পারবে। আমি একটা প্রক্রিয়ার কথা বললাম। এভাবে সামগ্রিক সবক্ষেত্রেই আধুনিকায়নের সুবিধা আমরা নিচ্ছি এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যতটা স্মার্ট করা সম্ভব সেটা আমরা করছি।’

চূড়ান্ত মহড়া টাঙ্গাইলে, নেতৃত্বে নবম পদাতিক ডিভিশন
সেনাবাহিনীর শীতকালীন বহিরঙ্গণ প্রশিক্ষণ ‘অনুশীলন নবউদ্যোগ’র চূড়ান্ত মহড়ার সারসংক্ষেপ গণমাধ্যমকে জানান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন। তিনি বলেন, ‘পুরো সেনাবাহিনীর সারাদেশেই এক্সেসাইজ করছে। এই মেইন এক্সারসাইজ এলাকাটা হলো ১৯ পদাতিক ডিভিশনের। ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি এখানে আছেন। আমরা দেখিয়েছি যে, এই এলাকা মুক্ত করতে ৯ পদাতিক ডিভিশন এখানে এসে এলাকাকে মুক্ত করতে আক্রমণ করেছে। ৯ পদাতিক ডিভিশনের মেজর জেনারেল শাহীনুল হকের নেতৃত্বেই আক্রমণ পরিচালনা করা হলো।

‘আপনারা দেখে থাকবেন যে, কিছুক্ষণ আগে ওখানে আবার ৯ পদাতিক ডিভিশন তারা কিন্তু দু:স্থদের জন্য চিকিৎসা সামগ্রী বিতরণ করছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনা, যে তোমরা যেখানেই যাবে জনগণের সাথে সম্পৃক্ত থাকবে। ওনি সেদিনও পুলিশ সপ্তাহের অনুষ্ঠানে রাজারবাগে বলেছেন, যে জনগণের আস্থা যদি কোন বাহিনী অর্জন করতে না পারে তাহলে কিন্তু সেই বাহিনী তাদের সাফল্য লাভ করতে পারবে না। জনসমর্থন ছাড়া এই পৃথিবীর কোন সেনাবাহিনী কোন যুদ্ধ জয় করতে পারেনি’- যোগ করেন সেনাপ্রধান।

তিনি বলেন, ‘আমাদের বাংলাদেশের মানুষ যাতে সেনাবাহিনীর প্রতি সম্পূর্ণ আস্থা রাখে এবং আমরা যদি সবসময় সার্বিকভাবে সহযোগিতা পাই, সেই জন্য আমরা সবসময় যখনই জনগণের ভেতর থাকি চেষ্টা করি তাদের কোন অসুবিধা না করে যতটা পারি তাদের হেল্প করার জন্য। সেই কাজটাই আমাদের ৯ পদাতিক ডিভিশন এখানে সুন্দরভাবে করছিল, আমি এসে তাদের সাথে একটু যোগ দিয়েছি। তাদেরকে উৎসাহ দেয়ার জন্য। আপনারা সবসময় সহযোগিতা করবেন যাতে করে সেনাবাহিনী তাদের প্রদত্ত দায়িত্ব সুন্দরভাবে সরকারের ইচ্ছা অনুযায়ী বাস্তবায়ন করতে পারে।’

প্রশিক্ষণ প্রস্তুতি চার মাস আগে থেকেই
সেনাপ্রধান বলেন, ‘আমাদের শীতকালীন প্রশিক্ষণ আজকে শেষ হচ্ছে। সেনাবাহিনী পর্যায়ের একটা প্রশিক্ষণ কন্ডাক্ট করা অত্যন্ত দুরূহ ব্যাপার। কিন্তু আমাদের সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ সেটা সুন্দরভাবে পরিকল্পনা করেছে এবং বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছে। আমার সাথে আমার চিফ অব জেনারেল স্টাফ, কোয়াটার মাস্টার জেনারেল, পিএসও আমর্ড ফোর্সেস, চীফ অফ কন্ট্রোল-সবাই আছে।

এই প্রশিক্ষণের পরিচালনা এবং পরিকল্পনার জন্য সবাই কিন্তু দিনরাত পরিশ্রম করেছে। আপনারা মাঠে অ্যাকশন দেখলেন কিছু সময়ের জন্য। কিন্তু আমাদের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে প্রায় তিন চার মাস আগের থেকে। বলতে গেলে তারও অনেক আগে থেকে পরিকল্পনা করা হয়। আমরা মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই, পরিকল্পনা যা করেছিলাম সেটা অলমোস্ট সম্পূর্ণভাবে আমরা বাস্তবায়ন করতে পেরেছি।’

এ সময় সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. সাইফুল আলম, আর্মি ট্রেনিং এন্ড ডকট্রিন কমান্ডের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহম্মদ তাবরেজ শামস চৌধুরী, ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও ঘাটাইলের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল নকিব আহমদ চৌধুরী, ৯ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও সাভারের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হকসহ সেনাসদরের প্রিন্সিপাল ষ্টাফ অফিসাররা, অন্যান্য জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫২ পূর্বাহ্ণ
খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন শুরু

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অধিবেশনের প্রথম প্লেনারি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের সমাপনী পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পরে ৮১তম অধিবেশনের নবনির্বাচিত সভাপতি হিসেবে ড. খলিলুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেন। আগামী এক বছর তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

শপথ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে সংস্থাটির প্রতি আস্থার ঘাটতি রয়েছে। ভবিষ্যতের জন্য জাতিসংঘকে আরও কার্যকর ও উপযোগী করে তুলতে গভীর সংস্কার প্রয়োজন।

মঙ্গলবার প্রথম প্লেনারি সভা শুরু হলেও আগামী ২২ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের ভাষণের মধ্য দিয়ে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক শুরু হবে। এতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

জ্বালানি বিলেই নাজেহাল মার্কিনিরা, ইরান যুদ্ধে বাড়তি খরচ ১০০ বিলিয়ন ডলার

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২৭ পূর্বাহ্ণ
জ্বালানি বিলেই নাজেহাল মার্কিনিরা, ইরান যুদ্ধে বাড়তি খরচ ১০০ বিলিয়ন ডলার

ইরান যুদ্ধের ছয় মাসেই জ্বালানি কিনতে গিয়ে মার্কিন ভোক্তাদের পকেট থেকে বেরিয়ে গেছে অতিরিক্ত প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বেড়ে সাধারণ পরিবারের বাজেটে তৈরি হয়েছে বড় চাপ। দেশটির প্রায় ১৩ কোটি ১০ লাখ পরিবারের হিসাবে গড়ে প্রতিটি পরিবারের বাড়তি জ্বালানি ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৬৩ ডলার।

ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ওয়াটসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের তথ্যের বরাতে এই হিসাব সামনে এসেছে। এতে স্পষ্ট, ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক অভিঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্য বা আন্তর্জাতিক তেলবাজারে সীমাবদ্ধ নেই; সরাসরি মার্কিন পরিবারের দৈনন্দিন খরচেও এর প্রভাব পড়ছে।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা পেট্রোলের দামে
মার্কিনিদের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে পেট্রোলের দামে। ছয় মাসের ব্যবধানে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দাম ২ দশমিক ৯৮ ডলার থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ১৫ ডলারে উঠেছে। অর্থাৎ দাম বেড়েছে প্রায় ৩৯ শতাংশ। ডিজেলের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও কঠিন। প্রতি গ্যালনের দাম ৩ দশমিক ৬৭ ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ৫ দশমিক ৯০ ডলার—বৃদ্ধি ৬০ শতাংশেরও বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের প্রবণতা বেশি হওয়ায় পেট্রোলের এই মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি পরিবারের ব্যয়ে প্রভাব ফেলছে। অন্যদিকে ডিজেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে পরিবহন ও পণ্য সরবরাহের খরচে। ফলে একদিকে গাড়ি চালানোর খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে দোকানে পৌঁছানোর আগেই পণ্যের দাম বাড়ছে।

যুদ্ধ চলছে ছয় মাস
ইরানকে ঘিরে সামরিক সংঘাত শুরুর সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধটি চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে শেষ হওয়ার প্রত্যাশা জানিয়েছিলেন। বাস্তবে সেই সময়সীমা অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে। সংঘাত এখন ষষ্ঠ মাসে প্রবেশ করেছে এবং দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও স্পষ্ট নয়। যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক তেলবাজারে বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করছে।

ট্রাম্পের সঙ্গে মার্কিনিদের দ্বিমত
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এখন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্কেরও অংশ। যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থন না থাকায় অনেক মার্কিনি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনকে দায়ী করছেন।তবে ট্রাম্প এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি তেলের দাম বাড়ার বিষয়টিকে খুব বেশি গুরুত্ব না দিয়ে বরং তেল কোম্পানিগুলোর ওপর দায় চাপিয়েছেন। ফলে যুদ্ধের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের খরচ শেষ পর্যন্ত কে বহন করছে—সরকার, তেল কোম্পানি নাকি সাধারণ মানুষ—এই প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে।

খাদ্যনিরাপত্তাতেও চাপ
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এর প্রভাব শুধু গাড়ির জ্বালানিতে আটকে থাকে না। কৃষিতে ট্রাক্টর চালানো, খাদ্য পরিবহন, পণ্য সংরক্ষণ, শীতলীকরণ থেকে শুরু করে প্লাস্টিকের প্যাকেজিং—প্রায় প্রতিটি ধাপেই তেল ও গ্যাসের ব্যবহার রয়েছে।ফলে জ্বালানির দাম বাড়লে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়ও বাড়ে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়ে ভোক্তার বাজারে। মার্কিন পরিবার একদিকে গাড়ির ট্যাংক ভরতে বেশি টাকা দিচ্ছে, অন্যদিকে একই জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির কারণে খাবার ও অন্যান্য পণ্য কিনতেও বাড়তি অর্থ খরচ করতে হচ্ছে। বিশ্বের নিম্ন আয়ের দেশগুলোর জন্য ঝুঁকি আরও বড়। তেল ও সার আমদানির ব্যয় বেড়ে গেলে কৃষি উৎপাদনের খরচ বাড়তে পারে। দীর্ঘস্থায়ী হলে খাদ্য সরবরাহ ও খাদ্যনিরাপত্তাতেও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সামনে আরও চাপের শঙ্কা
জ্বালানি বাজারের এই চাপের মধ্যেই ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন ‘নিয়ন্ত্রিত জোন’ তৈরির ঘোষণা দিয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, এ এলাকার জন্য নতুন মানচিত্র দেওয়া হবে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে সেটি অনুসরণ করতে হবে। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, মার্কিন অবরোধ ও হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার নিশ্চয়তা দেবে না ইরান। নতুন নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ প্রবেশ করলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে দেশটি। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে মার্কিনিদের জন্য জ্বালানি বিলের চাপ আরও বাড়তে পারে। আর হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়লে তার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববাজারেও পড়বে। ফলে ইরান যুদ্ধ এখন শুধু ভূরাজনৈতিক সংঘাত নয়—সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দেওয়া এক বড় অর্থনৈতিক সংকটেও রূপ নিচ্ছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

জাতিসংঘ সংস্কারে গভীর পরিবর্তনের প্রয়োজন: খলিলুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২৬ পূর্বাহ্ণ
জাতিসংঘ সংস্কারে গভীর পরিবর্তনের প্রয়োজন: খলিলুর রহমান

জাতিসংঘের সংস্কারকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় জাতিসংঘকে কার্যকর ও আস্থাশীল রাখতে গভীর ও অর্থবহ সংস্কার প্রয়োজন।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

খলিলুর রহমান বলেন, বর্তমানে জাতিসংঘের প্রতি আস্থার ঘাটতি রয়েছে। শুধু বর্তমান সময়ের জন্য নয়, ভবিষ্যতের উপযোগী করে তুলতে হলে সংস্থাটিতে গভীর সংস্কার করতে হবে। সংস্কার যেন কেবল নামমাত্র না হয়, বরং সাধারণ মানুষের কাছে জাতিসংঘের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর ভূমিকা রাখে—সেদিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘এটি ১৯৪৫ সাল নয়। আমরা এখন একবিংশ শতাব্দীতে আছি। বিশ্ব এগিয়ে গেছে, তাই জাতিসংঘকেও এগিয়ে যেতে হবে।’

জাতিসংঘ মহাসচিবের সংস্কার প্রক্রিয়াকে সমর্থন করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, একজন প্রতিনিধি ও কর্মী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি এই সংস্থাকে কাছ থেকে দেখেছেন। তাই সংস্কারগুলো অবশ্যই অর্থবহ হওয়া প্রয়োজন।

রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গ তুলে খলিলুর রহমান বলেন, নিজ বাড়িঘর থেকে বিতাড়িত বিশাল জনগোষ্ঠীর আকুতি তিনি কাছ থেকে দেখেছেন। ভবিষ্যতেও জাতিসংঘের সামনে রোহিঙ্গাদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার কাজ অব্যাহত রাখবেন তিনি।

সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনে কোনো দেশ তাকে ভোট দিয়েছে কি না, সেটি তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। তিনি সব দেশের জন্য একজন সভাপতি হিসেবে কাজ করতে চান।

এ সময় বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতি ও প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে খলিলুর রহমান জানান, তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাই তাকে এই পদমর্যাদা ও দায়িত্বের পরিপ্রেক্ষিতেই প্রশ্ন করার আহ্বান জানান তিনি।

শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তার দরজা সবসময় খোলা থাকবে এবং সবার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে চান।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি