খুঁজুন
                               
, ,
           

নবযাত্রায় ‘স্মার্ট ডিএমপি’র দৃঢ় প্রত্যয়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ৯:৫২ অপরাহ্ণ
নবযাত্রায় ‘স্মার্ট ডিএমপি’র দৃঢ় প্রত্যয়

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

৪৯ বছরে পদার্পণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। স্বভাবতই উৎসবমুখর এক পরিবেশ। অপার সম্ভাবনায় স্বপ্নের দিকে হাত বাড়িয়ে দেওয়ার দিন। প্রীতি উজ্জ্বল নির্মল জীবনে শুভ্র সুন্দরের বারতায় প্রাণবন্ত এক মিলনমেলা। মৈত্রী ও সম্প্রীতির যেন এক উদার মিলনক্ষেত্র! নগরীর বাসিন্দাদের সুখ-সমৃদ্ধি ও সামনের দিনেও শান্তিময় পরিবেশ উপহারে একাট্টা হওয়ার শপথ নেওয়ার দিনটি কার্যত হয়ে উঠলো অনন্য মহিমাময়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, জননিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো.আমিনুল ইসলাম, ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ও ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক থেকে শুরু করে বরেণ্য রাজনীতিক, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, চলচ্চিত্রের তারকাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বত:স্ফূর্ত অংশগ্রহণ নতুন স্বপ্নে, নতুন সাহস ও অঙ্গীকারে ‘স্মার্ট ডিএমপি’ গড়তে যেন নিজেদের আন্দোলিত করেছেন প্রবলভাবেই।

প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনার রূপকল্প ২০৪১ সালের স্মার্ট বাংলাদেশের উপযোগী ‘স্মার্ট ডিএমপি’ গড়ার প্রত্যয়ের মাধ্যমে রাজধানীবাসীর আকুন্ঠ সমর্থন আর পুলিশ-জনতার হৃদয় দিয়ে হৃদয় কেনার বার্তাও ধ্বনিত হয়েছে নিজেদের অবিনাশী চেতনার মর্মমূলে। অবারিত আনন্দের ফল্গুধারায় শনিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ৪৮ টি বসন্ত পূর্ণ করেছে বাংলাদেশ পুলিশের সর্ববৃহৎ এই ইউনিটটি। এদিন বিকেলে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে ডিএমপি’র ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করেন ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক।

ডিএমপি নেতৃত্ব এই দিনটিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, জননিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো.আমিনুল ইসলাম ও ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বাস্তবতার নিরিখে যুক্তিনির্ভর দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে আলোড়িত হয়েছেন। নব উদ্যমে কাজ করার উৎসাহ-প্রেরণা পেয়েছেন। অনুষ্ঠানে পুলিশের সাবেক আইজি ও ডিএমপি কমিশনারসহ বর্তমান উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বিকেল ৩ টার দিকে ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে পুলিশ আছে জনতার পাশে’ এ স্লোগানে গৌরবময় সেবার ৪৮ বছর পূর্তির বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় ডিএমপির সুসজ্জিত অশ্বারোহী ও ব্যান্ড দল, ডগ স্কোয়াড, সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটসহ অন্যান্য ইউনিটের সদস্যরা যুক্ত ছিলেন।

পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে কেক কেটে প্রতিষ্ঠা দিবসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। ডিএমপির সার্বিক কার্যক্রমের ওপর একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। এরপর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে সন্ধ্যায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দেশের খ্যাতনামা অভিনেতা, অভিনেত্রী, সংগীতশিল্পী ও নৃত্যশিল্পী এবং ডিএমপি শিল্পীগোষ্ঠী অংশগ্রহণ করেন।

ডিএমপি ঢাকাবাসীকে নিরাপত্তা দিতে সক্ষম হয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ডিএমপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা দিবসে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ডিএমপির সামগ্রিক কর্মযজ্ঞের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ঢাকাবাসীকে নিরাপত্তা দিতে সক্ষম হয়েছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা যে এগিয়ে যাচ্ছি, এর পেছনের শক্তিটা হলো শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে পারছি বলেই এগিয়ে যাচ্ছি। পুলিশ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় মুখ্য ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। ঢাকায় ২ কোটি মানুষের বাস, এখানে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা সহজ কথা নয়। কিন্তু, ডিএমপি ঢাকাবাসীকে নিরাপত্তা দিতে সক্ষম হয়েছে।’ আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু আহ্বান করেছিলেন বাংলাদেশের পুলিশকে জনগণের পুলিশ হওয়ার জন্য। আজ পুলিশ সে জায়গায়টিতে এসেছে। জনগণের আস্থার জায়গা, বিশ্বাসের জায়গাটাতে পুলিশ আসছে। পুলিশ আজ জনগণের বন্ধু।’

বঙ্গবন্ধু ডিএমপি তৈরির স্বপ্ন দেখেছিলেন, তার প্রচেষ্টাতেই ডিএমপির যাত্রা শুরু হয়েছিল উল্লেখ করে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘আজ ডিএমপি ৪৮ বছরে পদার্পণ করেছে। ৫০টি থানাসহ ডিএমপিতে আরও ইউনিট রয়েছে, যারা সবসময় কাজ করে যাচ্ছে।’

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘যখন আমরা দিশেহারা হয়ে গিয়েছিলাম জঙ্গি উত্থানের কারণে। হোমগ্রোথ টেরোরিস্ট এবং আন্তর্জাতিক টেরোরিস্টের যোগসাজসে জঙ্গি যে প্রচেষ্টা হয়েছিল। তখন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ডিএমপিতে সিটিটিসি প্রতিষ্ঠা করা হয়। সিটিটিসি অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে জঙ্গি দমন করতে পেরেছে।’

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘২০১৪-১৫ অগ্নিসন্ত্রাসের মাধ্যমে মানুষকে হত্যা করার দৃশ্য আপনারা দেখেছিলেন। জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে মারার দৃশ্য দেখেছেন। তখন পুলিশ কাজ করছে, অনেক পুলিশ সদস্য শাহাদাত বরণ করেছে। প্রত্যেকটা আন্দোলন প্রত্যেকটা সঙ্কটে পুলিশ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে বীরত্বের সঙ্গে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে কাজ করে যাচ্ছে বলেই আজ বাংলাদেশের এই দুর্বার অগ্রগতি।’

ডিএমপি সাহসী সেই পুলিশের উত্তরাধিকারের পতাকা বহন করে চলেছে : জননিরাপত্তা সচিব
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান বলেন, ‘হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে এ রাজাগারবাগ পুলিশ লাইন থেকে সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু হয়। ২৫ মার্চে ৭৮ জন শাহাদাত বরণ করেন। আজকের ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সাহসী সেই পুলিশের উত্তরাধিকারের পতাকা বহন করে চলেছে।’

ডিএমপি হচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশের মুখচ্ছবি-এমনটি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ডিএমপিকে দেখেই বোঝা যাবে যে, বাংলাদেশের পুলিশ কীভাবে কাজ করছে, জনগণের সেবক হয়ে সুখে-দু:খে-আনন্দ বেদনায় জনগণের পাশে আছে। জাতির পিতা চেয়েছিলেন বাংলাদেশ পুলিশ পরাধীন পুলিশের মতো শুধুমাত্র আজ্ঞাবাহী হবে না, পদলেহী হবে না, তারা জনগণের সেবক হবে, জনগণের পাশে থাকবে। ডিএমপি সৃষ্টির পর থেকেই জাতির পিতা এ চিন্তা চেতনাকে ধারণ করে ডিএমপি এগিয়ে যাচ্ছে।’

ডিএমপি নানাবিধ চাহিদা, সমস্যা-সঙ্কট মোকাবিলা করছে জানিয়ে এ জ্যেষ্ঠ সচিব আরও বলেন, ‘রাজধানীর জনসংখ্যা যেমন বেড়েছে তেমনি ডিএমপির সংখ্যাও বেড়েছে। অপরাধের ধরন যেমন পাল্টাচ্ছে, ডিএমপির কার্যক্রমের পদ্ধতি ও তেমন পাল্টাচ্ছে। প্রতিনিয়তই সমাজের নানাবিধ চ্যালেঞ্জগুলোকে মোকাবিলা করার জন্য নিজেদেরকে উন্নত করে যাচ্ছে ডিএমপি। সময়ের সঙ্গে চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে হচ্ছে তাদেরকে।’

দেশের সমস্ত সঙ্কটে সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করেছে ডিএমপি, এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘সাইবার ক্রাইম, নারী নির্যাতন, চুরি-ডাকাতি-রাহাজানি সমস্ত অপরাধের ক্ষেত্রে ৯৯৯ জনগণের কাছে আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। আমি দ্ব্যর্থহীন ভাষায়, প্রত্যয়ের সঙ্গে বলতে চাই, ডিএমপি এখন জনগণের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। তারা অঙ্গীকার করেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০৪১ সালে যে স্মার্ট বাংলাদেশ হবে সেখানে আমাদের দরকার স্মার্ট পুলিশ, স্মার্ট ডিএমপি। এ লক্ষে তাঁরা কাজ করে চলেছে। জনগণের সঙ্গে নিবিড়ভাবে আস্থার সঙ্গেই তাঁরা কাজ করে চলেছে।’

স্মার্ট পুলিশে উন্নীত করতে ডিএমপির প্রতিটি সদস্য হবে অগ্রসৈনিক : আইজিপি
ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ বাংলাদেশ (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, ‘ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম মেগাসিটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কুইক রেসপন্স টিম গঠন করেছে যা নি:সন্দেহে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। কমিউনিটি পুলিশিং যার সদস্য সংখ্যা প্রায় ১৫ হাজারের ওপরে, বিট পুলিশিং কার্যক্রম চলছে ৩০৬ টি বিটে। এর মাধ্যমে ডিএমপি জনসাধারণের সঙ্গে সুসম্পর্কের সেতুবন্ধন তৈরি করেছে যা সত্যিই অতুলনীয়।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ৫০ টি থানা নিয়ে ডিএমপি বাংলাদেশ পুলিশের সর্ববৃহৎ ইউনিট হিসেবে কাজ করছে। আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি ঢাকার সম্মানিত নাগরিকদের প্রতি। যাদের দায়িত্ববোধ ও সর্বাত্মক সহযোগিতায় ডিএমপি এগিয়ে চলছে। শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে সম্মানিত নগরবাসীর ভূমিকা অগ্রগণ্য। তদুপরি নাগরিকদের মাঝে আইনের প্রতি শ্রদ্ধার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেশ ও সরকার ব্যবস্থার দর্পণ। সম্মানিত নাগরিকদের সঙ্গে ডিএমপির সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যরে মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা ডিএমপির মূলমন্ত্র।’

আইজিপি সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনে ডিএমপির সাহসিকতার প্রশংসা করে বলেন, ‘২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে ডিএমপির সাহসী ভূমিকা, ২০১৬ পর্যন্ত আগুন সন্ত্রাস ও হলি আর্টিজানে জঙ্গি আক্রমণ দমনে ডিএমপির ভূমিকা বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে বাংলাদেশ পুলিশকে স্মার্ট পুলিশে উন্নীত করতে ডিএমপির প্রতিটি সদস্য অগ্রসৈনিক হবে আমি এই প্রত্যাশা করি। ইতোমধ্যেই ডিএমপির কমিশনার স্মার্ট ডিএমপি গড়তে দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা জানিয়েছেন। নিরাপদ টেকসই ও স্মার্ট ঢাকা নগরী বিনির্মাণের পাশাপাশি জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা, আত্মমর্যাদাশীল ও সমৃদ্ধ জাতি হিসেবে উন্নীত করতে কাজ করে যাবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’

স্মার্ট ডিএমপি গঠনে আমরা বদ্ধপরিকর : ডিএমপি কমিশনার
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বলেন, ‘বিশ্বের অন্যতম মেগাসিটি, বৈচিত্র্যময় মহানগরী ঢাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা স্থিতিশীল রাখা, অপরাধ দমন ও নিয়ন্ত্রণ, উন্নয়ন প্রকল্প সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন ও বিনিয়োগবান্ধব স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখতে ‘টিম ডিএমপি’ বাংলাদেশ পুলিশের মুখচ্ছবি হিসেবে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জঙ্গি, সন্ত্রাস নাশকতা দমন, স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা ও জনমনে পুলিশি সেবা দ্রুত নিশ্চিত করা ও সমসাময়িক অপরাধীদের ধরন ও গতি প্রকৃতি ধরন বিবেচনা করে বিশেষত সাইবার অপরাধ দমনে তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে যুগোপযোগী পুলিশি সেবা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।’

জঙ্গি, সন্ত্রাস ও নাশকতা সৃষ্টির অপপ্রয়াস রুখে দিতে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘অতীতে যারা জঙ্গি, সন্ত্রাস ও নাশকতা সৃষ্টি করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ তাদের কঠোর হস্তে দমন করেছে। বর্তমানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ভবিষ্যতে জঙ্গি, সন্ত্রাস ও নাশকতা সৃষ্টির অপপ্রয়াস চালালে জনগণের জানপ্রাণের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের জনগণের পুলিশ হওয়ার প্রত্যয়ে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সেতুবন্ধন তৈরি করে জনগণের দোরগোড়ায় পুলিশী সেবা পৌঁছে দিতে আমরা নিরন্তর প্রয়াস অব্যাহত রেখেছি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্নপূরণে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি এবং আগামীতে স্মার্ট ডিএমপি গঠনে আমরা বদ্ধপরিকর।’

কালের আলো/এমএএএমকে

সময় পেরিয়েছে, সৌন্দর্যের মুগ্ধতা রয়ে গেছে

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ণ
সময় পেরিয়েছে, সৌন্দর্যের মুগ্ধতা রয়ে গেছে

রুপালি পর্দায় কয়েক দশক ধরে সৌন্দর্য, অভিনয় ও জনপ্রিয়তার প্রতীক হয়ে আছেন চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা। সময়ের সঙ্গে বদলেছে চলচ্চিত্রের ভাষা, এসেছে নতুন প্রজন্ম, বদলেছে দর্শকের রুচি। তবে পূর্ণিমাকে ঘিরে দর্শকের মুগ্ধতায় যেন ভাটা পড়েনি।

পর্দায় নিয়মিত না থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর উপস্থিতি এখনো ভক্তদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করে। নতুন কোনো ছবি প্রকাশ করলেই প্রশংসায় ভরে ওঠে মন্তব্যের ঘর। সময়ের সঙ্গে তাঁর সৌন্দর্যে যোগ হয়েছে পরিণত এক দীপ্তি।

ছবি>> সংগৃহীত

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা একটি ছবিকে ঘিরেও দেখা গেছে একই চিত্র। সাদা পোশাকের সঙ্গে কালো-সাদা চেক নকশার জ্যাকেট, খোলা সোজা চুল, স্বাভাবিক সাজ আর মুখের মিষ্টি হাসিতে পরিশীলিত এক লুকে ধরা দিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

ছবি>> সংগৃহীত

পরিপাটি সাজে মুগ্ধতা

ছবিতে সাদা ডিপ ভি-নেক টপের সঙ্গে সাদা প্যান্ট পরেছেন পূর্ণিমা। এর সঙ্গে কালো-সাদা নকশার ব্লেজার যোগ করেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। হাতে সোনালি রঙের রিস্টওয়াচ ও সূক্ষ্ম ব্রেসলেট, পায়ে স্ট্র্যাপি স্টিলেটো হিল—সব মিলিয়ে তাঁর সাজে ছিল আভিজাত্য, তবে ছিল না বাড়াবাড়ি।

তবে পোশাকের চেয়েও বেশি নজর কেড়েছে তাঁর স্বাভাবিক হাসি ও সাবলীল উপস্থিতি। ছবিটি প্রকাশের পরপরই ভক্তদের প্রশংসায় ভরে ওঠে মন্তব্যের ঘর।

ছবি>> সংগৃহীত

‘নিজের ভেতরের আলোকে নিভতে দিও না’

ছবির সঙ্গে পূর্ণিমার লেখা ক্যাপশনও নজর কেড়েছে। জীবনের উত্থান-পতনকে আলোর সঙ্গে তুলনা করে অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘জীবনে উত্থান-পতন আসবেই। তবে নিজের ভেতরের ঝড়গুলোকে কখনোই তোমার বয়ে চলা আলোর চেয়ে বেশি উজ্জ্বল হতে দিও না।’

পূর্ণিমার এই কথার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন তাঁর ভক্ত-অনুসারীরাও। একজন মন্তব্য করেছেন, ‘ঝড় আসবেই; কিন্তু নিজের ভেতরের আলোটা যেন কখনো নিভে না যায়, এটাই জীবনের আসল শক্তি।’

আরেকজন লিখেছেন, ‘ঠিক বলেছেন, জীবনে যা কিছু হোক থেমে থাকা যাবে না।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্যগুলোই যেন বলে দেয়, পূর্ণিমার সঙ্গে দর্শকের সম্পর্ক কেবল তাঁর অভিনীত চরিত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্কের ধরন বদলেছে, কিন্তু ভালোবাসা ও আগ্রহ এখনো রয়ে গেছে।

১৭ বছর বয়সে চলচ্চিত্রে অভিষেক

মাত্র ১৭ বছর বয়সে বড় পর্দায় অভিষেক হয় পূর্ণিমার। জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘এ জীবন তোমার আমার’ সিনেমার মাধ্যমে নায়িকা হিসেবে যাত্রা শুরু করেন তিনি। প্রথম সিনেমাতেই তাঁর সহশিল্পী ছিলেন রিয়াজ।

অভিষেকের পর থেকেই দর্শকের নজরে আসেন পূর্ণিমা। এরপর একের পর এক সিনেমায় অভিনয় করে ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান শক্ত করেন তিনি। মান্না, ফেরদৌস, আমিন খান, শাকিল খান থেকে শুরু করে শাকিব খানের মতো জনপ্রিয় নায়কদের সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন এই অভিনেত্রী।

রিয়াজ-পূর্ণিমা জুটির আলাদা জনপ্রিয়তা

ঢালিউডে বেশ কিছু জনপ্রিয় জুটির মধ্যে রিয়াজ-পূর্ণিমা জুটির গ্রহণযোগ্যতা ছিল আলাদা। ‘মনের মাঝে তুমি’, ‘হৃদয়ের কথা’, ‘আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা’সহ বেশ কিছু সিনেমায় তাঁদের রসায়ন দর্শকের প্রশংসা পায়।

বিশেষ করে ‘মনের মাঝে তুমি’ সিনেমাটি বাণিজ্যিক সাফল্যের পাশাপাশি দর্শকের মনে দীর্ঘস্থায়ী জায়গা করে নেয়। সিনেমাটির জনপ্রিয়তা রিয়াজ-পূর্ণিমা জুটিকেও আরও শক্ত অবস্থান এনে দেয়।

ছবি>> সংগৃহীত

ছোট পর্দাতেও ছিল সফল উপস্থিতি

শুধু চলচ্চিত্র নয়, ছোটবেলা থেকেই নাচ ও গানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন পূর্ণিমা। ক্যারিয়ারের ব্যস্ত সময়েও টেলিভিশন নাটক ও টেলিফিল্মে অভিনয় করেছেন তিনি।

‘লাল নীল বেগুনী’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে টেলিভিশন দর্শকের কাছেও পরিচিতি পান এই অভিনেত্রী। এরপর ‘ল্যাবরেটরি’, ‘নিলিমার প্রান্তে’, ‘অমানিশা’, ‘শঙ্খচিল’, ‘লাভ অ্যান্ড কোং’সহ বেশ কিছু নাটক ও টেলিফিল্মে অভিনয় করেছেন।

অভিনয়ের পাশাপাশি বিজ্ঞাপনেও ছিল তাঁর সরব উপস্থিতি। গ্রামীণফোন, সিটিসেল, মেরিল বেবি লোশন, বার্জার ঝিলিকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনে দেখা গেছে তাঁকে।

অভিনয়ের স্বীকৃতিও মিলেছে

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে দর্শকের ভালোবাসার পাশাপাশি বিভিন্ন স্বীকৃতিও পেয়েছেন পূর্ণিমা। কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘ওরা আমাকে ভালো হতে দিল না’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য ২০১০ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন তিনি।

এ ছাড়া ‘মনের মাঝে তুমি’ ও ‘হৃদয়ের কথা’ সিনেমার জন্য মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারও পেয়েছেন এই অভিনেত্রী।

ছবি>> সংগৃহীত

পর্দায় অনিয়মিত, আলোচনায় নিয়মিত

বর্তমানে চলচ্চিত্রে নিয়মিত নন পূর্ণিমা। তবে অভিনয় থেকে পুরোপুরি দূরে সরে যাননি তিনি। তাঁর অভিনীত ‘জ্যাম’ ও ‘গাঙচিল’ সিনেমা দুটি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। সিনেমা দুটিতে তাঁর সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন ফেরদৌস ও আরেফিন শুভ।

বড় পর্দায় নিয়মিত দেখা না গেলেও টেলিভিশনে মাঝেমধ্যে হাজির হন পূর্ণিমা। কখনো উপস্থাপনায়, কখনো কোনো অনুষ্ঠানের বিচারকের আসনে দেখা যায় তাঁকে। বিজ্ঞাপনেও রয়েছে তাঁর উপস্থিতি।

সময় বদলেছে, মুগ্ধতা নয়

পূর্ণিমার ক্যারিয়ারের গল্পটা যেন সময়ের সঙ্গে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের গল্প। ১৭ বছরের তরুণী থেকে আজকের পরিণত অভিনেত্রী—দীর্ঘ এই পথচলায় বদলেছে বয়স, বদলেছে সময়, বদলেছে চলচ্চিত্রের পরিবেশও।

তবে দর্শকের চোখে পূর্ণিমার সেই মুগ্ধতা এখনো অটুট। নতুন প্রজন্মের অনেক তারকা নিয়মিত পর্দায় থাকলেও পূর্ণিমা অনিয়মিত হয়েও আলোচনায় থাকেন।

ছবি>> সংগৃহীত

সময়ের সঙ্গে তাঁর জীবনে যোগ হয়েছে অনেক বছর, কিন্তু দর্শকের ভালোবাসা কিংবা সৌন্দর্যের দীপ্তিতে যেন তার প্রভাব পড়েনি। তাই পূর্ণিমার ক্ষেত্রে বয়স হয়তো সত্যিই শুধুই একটি সংখ্যা—যে সংখ্যা তাঁর মুগ্ধতাকে মাপতে পারে না।

কালের আলো/জেএন

সিনেমার ব্যস্ততা ছেড়ে মালদ্বীপের নীল জলে নয়নতারা

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৪৬ অপরাহ্ণ
সিনেমার ব্যস্ততা ছেড়ে মালদ্বীপের নীল জলে নয়নতারা

দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী নয়নতারা। দীর্ঘদিন ধরেই একের পর এক সিনেমার কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। তবে এবার সেই ব্যস্ততা থেকে কিছুটা বিরতি নিয়ে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাচ্ছেন এই অভিনেত্রী। বর্তমানে মালদ্বীপের মনোরম সমুদ্রসৈকতে অবকাশযাপন করছেন নয়নতারা। নীল সমুদ্র, সাদা বালুর সৈকত আর রোদেলা আবহে বেশ স্বচ্ছন্দ সময় কাটাতে দেখা যাচ্ছে তাকে।

সিনেমার শুটিং ও পেশাগত ব্যস্ততার বাইরে পাওয়া এই সময়টুকু নিজের মতো করেই উপভোগ করছেন অভিনেত্রী। সমুদ্রসৈকতে ঘোরাঘুরি, রোদ পোহানো এবং সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি অবকাশযাপনের কিছু মুহূর্ত ভক্তদের সঙ্গেও ভাগ করে নিয়েছেন তিনি।

ছবি<< সংগৃহীত

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে মালদ্বীপে কাটানো সময়ের বেশ কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেন নয়নতারা। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) শেয়ার করা ছবিগুলো প্রকাশের পরপরই তা ভক্ত-অনুরাগীদের নজর কাড়ে। ছবিগুলোতে রোদেলা দিনে সৈকতের বালুবেলায় হালকা হলুদ রঙের পোশাকে হেঁটে বেড়াতে দেখা যায় তাকে।

ছবি<< সংগৃহীত

নয়নতারার এই অবকাশযাপনের লুকেও ছিল বেশ স্বচ্ছন্দ ও স্টাইলিশ ছোঁয়া। চোখে সানগ্লাস, মাথায় টুপি এবং পরনে হালকা রঙের পোশাক—সব মিলিয়ে একেবারে রিল্যাক্সড মুডে ধরা দিয়েছেন তিনি। পেছনে নীল সমুদ্র আর চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ছবিগুলোকে দিয়েছে আরও আকর্ষণীয় আবহ।

ছবি<< সংগৃহীত

ছবিগুলোর লোকেশন হিসেবে মালদ্বীপের ফারি দ্বীপপুঞ্জের উত্তর মালে অ্যাটলে অবস্থিত বিলাসবহুল রিসোর্ট পাতিনা মালদ্বীপকে ট্যাগ করেছেন নয়নতারা। সমুদ্রসৈকতের মনোরম পরিবেশে অভিনেত্রীর অবকাশযাপনের এসব ছবি প্রকাশের পর তার ভক্তদের মধ্যেও দেখা গেছে ব্যাপক আগ্রহ।

ছবি<< সংগৃহীত

তবে শুধু অবকাশযাপন নয়, কাজের জগতেও আলোচনায় রয়েছেন নয়নতারা। সম্প্রতি তাকে বড়পর্দায় দেখা গেছে ‘হাই’ সিনেমায়। বিষ্ণু এদাভান পরিচালিত রোমান্টিক কমেডি ঘরানার এই সিনেমায় দেবায়ানি চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন কাভিন।

সিনেমাটিতে ময়িল ও দেবায়ানি—সম্পূর্ণ ভিন্ন দুই চরিত্রের জীবন ও তাদের নানা জটিলতার মধ্য দিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠার গল্প তুলে ধরা হয়েছে। বিশৃঙ্খলা, মিথ্যা ও নানা নাটকীয় মোড়ের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে কাহিনি।

চলচ্চিত্রবোদ্ধাদের আলোচনায় উঠে এসেছে, সিনেমাটি গতানুগতিক রোমান্টিক গল্পের বাইরে খুব নতুন কিছু উপস্থাপন না করলেও এর নাটকীয়তা ও গল্পের বিভিন্ন জটিলতা দর্শকদের বিনোদন দিয়েছে। সিনেমায় নয়নতারার অভিনয়ও দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে।

এদিকে সিনেমার পর্দায় ব্যস্ততার পাশাপাশি ব্যক্তিগত অবকাশের মুহূর্তও ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন অভিনেত্রী। মালদ্বীপের সৈকতে তার রোদেলা দিনের ছবিগুলো তাই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সমুদ্রের নীল জল আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে নয়নতারার এই স্বচ্ছন্দ উপস্থিতি ইতোমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে প্রশংসা পাচ্ছে।

কালের আলো/এসএ

ভিন্নধর্মী চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরতে চান সামিরা খান মাহী

বিনোদন ডেস্ক:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৩০ অপরাহ্ণ
ভিন্নধর্মী চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরতে চান সামিরা খান মাহী

নতুন প্রজন্মের অভিনেত্রীদের মধ্যে সম্ভাবনাময় একজন সামিরা খান মাহী। সাবলীল অভিনয়, চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এবং বৈচিত্র্যময় চরিত্রে কাজ করার আগ্রহ দিয়ে ইতোমধ্যে দর্শকের নজর কেড়েছেন তিনি। ইমরাউল রাফাত পরিচালিত ‘বকুল ফুল’ নাটকে পাগলির চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন এই অভিনেত্রী। পাশাপাশি ‘বিয়ে করতে গিয়ে’, ‘সকাল বিকাল রাত্রি’, ‘গার্লস স্কোয়াড’সহ বেশ কিছু নাটক ও ওয়েব সিরিজে অভিনয় করেছেন।

শুরুটা মডেলিং দিয়ে হলেও ধীরে ধীরে অভিনয়েই নিজের জায়গা তৈরি করেছেন মাহী। সামনে নিজেকে আরও ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে মেলে ধরতে চান তিনি। নিজের ক্যারিয়ার, অভিনয়ের দর্শন, জনপ্রিয়তা ও সিনেমায় কাজের ইচ্ছা নিয়ে কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী।

যেভাবে মিডিয়ায় এলাম

২০১৪ সালে একটি রিয়ালিটি শোর মাধ্যমে মিডিয়ায় পথচলা শুরু মাহীর। ‘র‌্যাং আরটিভি ২০ ২০ কালারস মডেল সার্চ প্রতিযোগিতা’য় প্রথম রানারআপ হয়ে মডেলিংয়ে পা রাখেন তিনি। এরপর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করেন।

নিজের শুরুর গল্প বলতে গিয়ে মাহী বলেন, “২০১৪ সালে একটি রিয়ালিটি শো ‘র‌্যাং আরটিভি ২০ ২০ কালারস মডেল সার্চ প্রতিযোগিতা’র মাধ্যমে আমার ক্যারিয়ার শুরু। প্রথম রানারআপ হয়ে মডেলিং জগতে পা রাখি। এরপর বাংলালিংক, প্রাইড গার্লস, সেলরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করেছি।”

অভিনয়ে তার প্রথম কাজ ধারাবাহিক নাটক ‘তরুণ তুর্কী’। এরপর একে একে অনেক নাটক ও ওয়েব সিরিজে অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি।

মাহী বলেন, “অভিনয়ের জগতে প্রথম পা রাখি ধারাবাহিক নাটক ‘তরুণ তুর্কী’র মাধ্যমে। এরপর ‘পারিবারিক গোলযোগ’, ‘নীড় খোঁজে গাঙচিল’, ‘লাইফ ইন এ মেট্রো’, ‘শুভ্রার ওয়ারড্রব’, ‘আকাশ বাড়িয়ে দাও’, ‘ম্যাচিং ব্রাদার’, ‘এক পা দু-পা’সহ আরও অনেক জনপ্রিয় নাটক ও ওয়েব সিরিজে অভিনয় করেছি।”

যে কাজগুলো বদলে দিয়েছে পথ

ক্যারিয়ারে বেশ কিছু কাজকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন মাহী। বিশেষ করে ‘গার্লস স্কোয়াড’, ‘হাঙর’ ও ‘বকুল ফুল’ নাটকে অভিনয়ের পর দর্শকের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে শুরু করে।

মাহীর ভাষায়, “আমি মনে করি, যে সময়টায় ‘গার্লস স্কোয়াড’, ‘হাঙর’, ‘বকুল ফুল’ নাটকে অভিনয় করেছিলাম, তখন আরও কয়েকটি নাটকে ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করেছি। এরপর দর্শক আমাকে সিরিয়াসলি নেওয়া শুরু করেন।”

বর্তমান সময়ে অভিনয়ের সুযোগ আগের তুলনায় বেড়েছে বলেও মনে করেন তিনি। তবে জনপ্রিয়তা পাওয়ার চেয়ে সেটি ধরে রাখাকেই বড় চ্যালেঞ্জ মনে করেন মাহী।

“আগের থেকে জনপ্রিয়তা একটু ইজি; কিন্তু জনপ্রিয়তা পেলেই হয় না, টিকিয়ে রাখাটা গুরুত্বপূর্ণ,” বলেন তিনি।

দর্শকের ভালোবাসা পাওয়ার অভিজ্ঞতাকে নিজের সৌভাগ্য মনে করেন মাহী। তিনি বলেন, “আমি যে সময়ে শুরু করলাম, তখন আরও ২০ জনের মতো এসেছিলাম। সবাই তো আর ক্লিক করলেন না। এ ক্ষেত্রে এটাও বলা যায়, দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া এতটাও সোজা নয়। বিশেষ করে ভালোবাসা পাওয়াটা ভেরি ডিফিকাল্ট। আমার সৌভাগ্য, আমি অল্প সময়ে এটি পেয়েছি।”

ভার্সেটাইল অভিনেত্রী হতে চাই

এক ধরনের চরিত্রে আটকে থাকতে চান না মাহী। বরং নিজেকে এমন একজন অভিনেত্রী হিসেবে দেখতে চান, যিনি বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে সমানভাবে মানিয়ে নিতে পারেন।

“আমি ভার্সেটাইল অভিনেত্রী হতে চাই। সব ধরনের অভিনয় করব,” বলেন তিনি।

তবে দর্শক অনেক সময় একজন শিল্পীকে নির্দিষ্ট ধরনের চরিত্রে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন। ফলে পরিচিত গণ্ডির বাইরে গিয়ে কাজ করলে ভিউয়ের ক্ষেত্রে কিছুটা সমস্যা হয় বলে মনে করেন মাহী।

তার কথায়, “দর্শক একরকম নিয়েই নেন। তো ওটার বাইরে চলে গেলে ভিউয়ে ঝামেলা হয়। যদিও মাঝেমধ্যে ভিউ ম্যাটার করে না, যখন আপনি অনেক ভালো কাজ করেন।”

ভালো কাজের মাধ্যমে দর্শকের রুচিতেও পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। মাহী বলেন, “আমরা যদি ভালো কিছু দিই, তাহলে অডিয়েন্সের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হবে। এখন একই জিনিস যদি দিতেই থাকি, যেটা তারা পছন্দ করেন, তখন তো উপলব্ধি পরিবর্তন হলো না। এজন্য মাঝেমধ্যে আমার মন খারাপ হয়।”

‘সবার নিজস্বতা থাকা দরকার’

অভিনয়ের ক্ষেত্রে প্রত্যেকের নিজস্বতা থাকা জরুরি বলে মনে করেন মাহী। নিজের বিশেষ দক্ষতার জায়গা হিসেবে সিলেটি ভাষায় কথা বলার বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন তিনি।

মাহী বলেন, “আমার কাছে মনে হয়, অভিনয়ের ক্ষেত্রে সবার নিজস্বতা থাকা দরকার। যেমন আমার একটা বিশেষ দক্ষতা আছে, সিলেটী ভাষায় কথা বলতে পারি, যেটা দর্শক পছন্দ করেন। অনেকে আমাকে ভার্সেটাইল অভিনেত্রী বলেন।”

সহশিল্পীদের কাউকেই প্রতিযোগী হিসেবে দেখেন না এই অভিনেত্রী। বরং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে চান তিনি।

“আমি কাউকে আমার প্রতিযোগী মনে করি না। কাউকে এমনটা মনে করলে হিংসার বিষয়টা চলে আসবে। আমি চাই সবার সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করতে,” বলেন মাহী।

‘আমি একদম পানির মতো’

নিজের অভিনয়ের ধরন বোঝাতে বেশ চমৎকার একটি উদাহরণ দিয়েছেন মাহী। নিজেকে পানির সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, “আমি একদম পানির মতো। যেই পাত্রে রাখবেন, সেই পাত্রের আকারই ধারণ করব।”

চরিত্র অনুযায়ী নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার এই ক্ষমতাকেই নিজের অন্যতম শক্তি মনে করেন তিনি। সহকর্মীদের সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক বজায় রেখে কাজ করতে চান মাহী।

“সেই জায়গা থেকে আমি সবার সঙ্গে নাইস। আমি কখনো কারও সঙ্গে খারাপ হতেই পারব না,” বলেন তিনি।

‘হাওয়া’ দেখে সিনেমায় আগ্রহ

ছোট পর্দা ও ওয়েবের পাশাপাশি বড় পর্দায়ও কাজ করতে চান মাহী। ‘হাওয়া’ সিনেমাটি দেখার পর সিনেমায় অভিনয়ের আগ্রহ তৈরি হয়েছে তার।

তবে প্রচলিত অর্থে শুধু গ্ল্যামারনির্ভর চরিত্রে অভিনয়ের ইচ্ছা নেই তার। গল্প ও চরিত্রকেই বেশি গুরুত্ব দিতে চান এই অভিনেত্রী।

মাহী বলেন, “‘হাওয়া’ সিনেমাটি দেখার পর সিনেমায় অভিনয়ের ইচ্ছা জেগেছে। তেমন গল্পের সিনেমায় বেশি কাজ করতে চাই। অনেক সুন্দর আর গ্ল্যামার লাগতে হবে, এটা আমি চাই না। ক্যারেক্টারটা প্লে করে আসতে চাই।”

‘হাওয়া’ সিনেমার তুষি চরিত্রের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, “ওখানে কিন্তু তুষিকে অনেক সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে, এমন না; কিন্তু চরিত্রটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।”

‘যেনতেন গল্প আর চরিত্রে কাজ করা উচিত নয়’

কাজ নির্বাচনের ক্ষেত্রেও সচেতন মাহী। শুধু নিয়মিত কাজ করার জন্য যেকোনো গল্প বা চরিত্রে অভিনয় করতে চান না তিনি। নিজের কাজের মধ্যে সবসময় বৈচিত্র্য রাখাই তার লক্ষ্য।

তার ভাষায়, “আমি আসলে মনে করি যেনতেন গল্প আর চরিত্রে কাজ করা উচিত নয়, কারণ আমি গতানুগতিক অভিনেত্রী হতে চাই না। বরাবরই আমার কাজের মধ্যে যেন ভ্যারিয়েশন থাকে, সেটিই আমার লক্ষ্য।”

কাজের সংখ্যা কম হলেও ভালো কাজকে গুরুত্ব দিতে চান তিনি। এ প্রসঙ্গে মাহী বলেন, “গল্প বাছতে গিয়ে দেখা যায়, অন্যদের থেকে আমার কাজ পরিমাণে কম। এতেই খুশি, কারণ ভালো কাজ কম হলেও তাতে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকা যায়।”

সামিরা খান মাহীর কথায় স্পষ্ট, সংখ্যার চেয়ে কাজের মান এবং চরিত্রের বৈচিত্র্যই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অভিনয়জীবনে তাই একের পর এক ভিন্ন চরিত্রে নিজেকে ভাঙতে চান তিনি। দর্শকের ভালোবাসাকে সঙ্গে নিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়াই এখন তার লক্ষ্য।

কালের আলো/জেএন