খুঁজুন
                               
, ,
           

মাতৃভূমি রক্ষায় ব্রত নবীন সেনারা, পথনির্দেশকের ভূমিকায় জ্ঞানোদ্দীপক উপস্থাপন সেনাপ্রধানের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২৩, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
মাতৃভূমি রক্ষায় ব্রত নবীন সেনারা, পথনির্দেশকের ভূমিকায় জ্ঞানোদ্দীপক উপস্থাপন সেনাপ্রধানের

কালের আলো রিপোর্ট:

তখন নবীন অফিসারদের মধ্যে যেন বয়ে যাচ্ছে অবারিত আনন্দের ফল্গুধারা। রঙবেরঙের বাহারি বেলুনে ছেয়ে গেছে আকাশ। তাঁর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে যেন আকাশছোঁয়ার চেষ্টা করছে নবীন সেনাদের টুপি। এই আনন্দ রীতিমতো বাঁধভাঙা। দীর্ঘ ৩ বছরের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজের মাধ্যমে ৮৫তম বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির (বিএমএ) দীর্ঘ মেয়াদী কোর্সের মোট ২৫০ জন অফিসার ক্যাডেট এবং এক বছরের সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে ৫৮তম বিএমএ স্পেশাল কোর্সের ৩ জন অফিসার ক্যাডেট এবং ৭ জন ট্রেইনি অফিসার কমিশন লাভ করেন। মেধার সঙ্গে নিরলস শ্রম, কঠোর অভিনিবেশ আর অসামান্য পেশাদারিত্বের মাধ্যমে প্রত্যেকে গড়ে তুলেছেন নিজেকে।

সোমবার (০৪ ডিসেম্বর) সকালে চট্টগ্রামের ভাটিয়ারিস্থ বিএমএ প্যারেড গ্রাউন্ডে বিএমএ’র ৮৫তম বিএমএ দীর্ঘ মেয়াদী কোর্সের অফিসার ক্যাডেটদের কমিশনপ্রাপ্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেধাবী নবীন সেনা কর্মকর্তাদের পথনির্দেশকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। নিজের পেশাদারিত্বের গভীর নির্যাসে দূরদৃষ্টির পরিচয়বহ, দিকনির্দেশনামূলক এবং সুমিত ভাষায় জ্ঞানোদ্দীপক এক দীর্ঘ বক্তব্যই উপস্থাপন করলেন তিনি। অন্তরমথিত ভালোবাসায় সেই বক্তব্যে কালের বিবর্তনে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় শক্তিশালী ও সক্ষম সেনাবাহিনী, দেশপ্রেম ও সাহসিকতার সঙ্গে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা, নিজ বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস-ঐতিহ্য-বাদ যায়নি কোন কিছুই।

পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার নিরবচ্ছিন্ন চর্চার আলোকেই সেনাপ্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ও সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আজ একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ সেনাবাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। সেনাবাহিনীর সদস্যরা নিজেদের সর্বোচ্চ আন্তরিকতায় কর্তব্য, নিষ্ঠা ও নিরপেক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। এই সেনাবাহিনী একটি স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে ও দেশের মানুষের সেবায় সর্বদা নিয়োজিত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।’

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত অফিসারদের মধ্যে ২২৮ জন পুরুষ ও ৩১ জন মহিলা অফিসার রয়েছেন। এছাড়াও কমিশনপ্রাপ্ত অফিসারদের মধ্যে ১ জন শ্রীলংকান অফিসার রয়েছেন যিনি নিজ সেনাবাহিনীতে যোগদান করবেন। সর্ব বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য ব্যাটালিয়ন সিনিয়র আন্ডার অফিসার এ এম সানজিদ ৮৫তম বিএমএ দীর্ঘ মেয়াদী কোর্সে সেরা চৌকস ক্যাডেট বিবেচিত হন এবং অসামান্য গৌরবমন্ডিত ‘সোর্ড অব অনার’ অর্জন করেন। এছাড়া কোম্পানি সিনিয়র আন্ডার অফিসার রিয়াদ হোসেন সামরিক বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য ‘সেনাবাহিনী প্রধান স্বর্ণপদক’ অর্জন করেন এবং অফিসার ক্যাডেট হারসা নিমেসা তিলান্থা হিথারচ্ছি বেস্ট ওভারসিজ ক্যাডেট এওয়ার্ড অর্জন করেন। পরে ক্যাডেটরা আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণ করেন এবং পিতা-মাতা ও অভিভাবকরা নবীন অফিসারদের র‌্যাংক-ব্যাজ পরিয়ে দেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথি সেনাপ্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ বিএমএ প্যারেড গ্রাউন্ডে এসে পৌঁছালে আর্মি ট্রেনিং এন্ড ডকট্রিন কমান্ডের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহম্মেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী, ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও চট্টগ্রামের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ শাহিনুল হক ও বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল এস এম কামরুল হাসান তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। পরে সেনাপ্রধান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও প্যারেডের অভিবাদন গ্রহণ করেন। এরপর তিনি কৃতি ক্যাডেটদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এখন অনেক আধুনিক ও চৌকস একটি বাহিনী
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ প্রশিক্ষণ শেষ করা ক্যাডেটদের উদ্দেশ্যে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দিকনির্দেশনামূলক ঐতিহাসিক ভাষণের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘ আজ এই শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তোমাদের উপর ন্যস্ত হলো দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব।’ তিনি জাতির পিতার হাতে গড়া এই সেনাবাহিনীকে একটি প্রশিক্ষিত, সুশৃংখল এবং আধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে ওঠা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পূর্বের তুলনায় বর্তমানে অনেক আধুনিক ও চৌকস একটি বাহিনী উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য আমাদের সেনাবাহিনী এখন সুপ্রশিক্ষিত, দক্ষ ও সর্বদা প্রস্তুত। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম, জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলা, পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপত্তা বজায় রাখাসহ বিশ্ব পরিমণ্ডলে শান্তিরক্ষা করে বিশ্বব্যাপী সুখ্যাতি ও প্রভূত সুনাম অর্জন করেছে।’

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আজ দেশের সীমানা পেরিয়ে বহির্বিশ্বে ও ভূয়সি প্রশংসা অর্জন করেছে মন্তব্য করে সেনাপ্রধান আরও বলেন, ‘১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত এই স্বাধীন বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ন রাখার জন্য একটি দক্ষ ও আধুনিক সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয়তা ছিল অপরিহার্য। এই প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করে বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালে কুমিল্লা সেনানিবাসে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমী প্রতিষ্ঠা করেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই বঙ্গবন্ধু মিলিটারি একাডেমি আজ বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশে ও বিদেশে বিশেষভাবে সমাদৃত। এই একাডেমি থেকে প্রশিক্ষিত অফিসারদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আজ দেশের সীমানা পেরিয়ে বহির্বিশ্বেও ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করেছে।

নতুন অফিসারদের উদ্দেশ্যে সেনাবাহিনী প্রধান বলেন, ‘এই প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা সকলের জন্য অত্যন্ত গর্বের ও সৌভাগ্যের বিষয়। বিশ্বমানের এই একাডেমিতে দীর্ঘ তিন বছর কঠোর প্রশিক্ষণ শেষে আজ তোমরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কাঙ্খিত কমিশনের দ্বারপ্রান্তে। আমি নিশ্চিত আজকের এই দিনটি তোমাদের জীবনের একটি অনন্য স্মরণীয় দিন। তোমাদের জীবনের বিরল এই অর্জনের জন্য তোমাদের জানাই আন্তরিক অভিনন্দন।’

নবীনদের দিকনির্দেশনা দিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, ‘একজন সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে সবসময় তোমাদের কার্যকর নেতৃত্বের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। সততা, কর্তব্য, নিষ্ঠা ও আনুগত্য দ্বারা তোমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করবে। এজন্য তোমাদের অধীনস্থ সৈনিকদের সঙ্গে সুদৃঢ় বন্ধন তৈরি করতে হবে। সহমর্মিতা দিয়ে যেকোনো পরিস্থিতিতে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। ভ্রাতৃত্ববোধ, দলগত চেতনা ও মূল্যবোধ চর্চার মাধ্যমে অধীনস্থদের সুখ-দুঃখের সাথী হয়ে তাদের পরিচালনা করার নিরন্তন চেষ্টা তোমাদের মধ্যে থাকতে হবে। যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দেশপ্রেমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিবে। মনে রাখবে, তোমাদের উপর অর্পিত হবে সেনাবাহিনীর ভবিষ্যৎ নেতৃত্বদানের গুরুদায়িত্ব। তোমাদের সেই নেতৃত্বের জন্য জানাই অভিনন্দন।’

জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আজকের যে অর্জন রয়েছে তাকে ধরে রেখে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া তোমাদের দায়িত্ব। তোমাদের নবীন নেতৃত্বের দৃপ্ত স্পৃহাই এই সেনাবাহিনীকে আরও আধুনিক ও যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। আমার বিশ্বাস তোমরা যে ধরনের উন্নত ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছো তা তোমাদের ভবিষ্যতে দেশ ও সেনাবাহিনীর কল্যাণে সঠিক ও দূরদর্শি সিদ্ধান্ত গ্রহণে আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তুলবে। আশা করি তোমরা গত দিনের চেয়ে ভালো করার প্রয়াস নিয়ে প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রাখবে এবং নিজেদের জ্ঞান ক্রমান্বয়ে সমৃদ্ধ করতে থাকবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, তোমাদের নবীন নেতৃত্বে এবং সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় জাতির গর্বের প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বদা দেশের জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সফল হবে।’

কালের আলো/এমএএএমকে

চাঁদে দেখা যাবে ‘ব্লাড মুন’, জানুন কোথা থেকে দেখা যাবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৮ পূর্বাহ্ণ
চাঁদে দেখা যাবে ‘ব্লাড মুন’, জানুন কোথা থেকে দেখা যাবে

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) গভীর রাত থেকে আগামীকাল শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোরের মধ্যে আকাশে দেখা যাবে বিরল এক মহাজাগতিক দৃশ্য। এ সময় সংঘটিত হবে গভীর আংশিক চন্দ্রগ্রহণ। এতে চাঁদের প্রায় ৯৬ শতাংশ অংশ পৃথিবীর ছায়ায় ঢাকা পড়ে যাবে।

নাসার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকাল ১০টা ১২ মিনিটে চন্দ্রগ্রহণটি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে। তবে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এর মূল দৃশ্য সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যাবে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে।

এ ছাড়া ইউরোপ ও আফ্রিকার কিছু এলাকা থেকেও চাঁদ ওঠা বা ডোবার সময় গ্রহণের আংশিক দৃশ্য দেখা যেতে পারে।

চাঁদের বেশিরভাগ অংশ পৃথিবীর গাঢ় ছায়ায় ঢেকে গেলেও এটি পুরোপুরি অদৃশ্য হবে না। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ভেদ করে সূর্যের আলো চাঁদের ওপর পৌঁছানোর কারণে চাঁদ তামাটে বা লালচে রঙ ধারণ করতে পারে। এ ধরনের দৃশ্যকে সাধারণভাবে ‘ব্লাড মুন’ বলা হয়।

পুরো চন্দ্রগ্রহণের প্রক্রিয়া পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলতে পারে। তবে চাঁদের লালচে হয়ে ওঠার দৃশ্য তুলনামূলকভাবে অল্প সময় স্থায়ী হবে।

চন্দ্রগ্রহণ দেখতে সূর্যগ্রহণের মতো বিশেষ প্রতিরক্ষামূলক চশমার প্রয়োজন নেই। আকাশ পরিষ্কার থাকলে খালি চোখেই নিরাপদে এ মহাজাগতিক দৃশ্য উপভোগ করা যাবে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

কালের আলো/এমএসআইপি 

চীনের সঙ্গে শিক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে যৌথ গবেষণায় গুরুত্ব শিক্ষামন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৩৫ পূর্বাহ্ণ
চীনের সঙ্গে শিক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে যৌথ গবেষণায় গুরুত্ব শিক্ষামন্ত্রীর

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যৌথ গবেষণা, বৃত্তি, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বিনিময় এবং যৌথ মাস্টার্স ও পিএইচডি কার্যক্রম বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

বুধবার (২৬ আগস্ট) চীনের গুয়াংজুর সাউথ চায়না নরমাল ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত ‘চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা বিনিময় সম্মেলনে’ বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ আহ্বান জানান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যৌথ গবেষণা, বৃত্তি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় এবং স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণের পাশাপাশি যৌথ মাস্টার্স ও পিএইচডি কার্যক্রম দুই দেশের শিক্ষা সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নিতে পারে। এ জন্য বাংলাদেশ ও চীনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই একাডেমিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদি আমিন বাংলাদেশের পরিবর্তনশীল শিক্ষা চাহিদার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি কারিগরি শিক্ষা, গবেষণা সহযোগিতা ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অংশীদারত্ব বাড়ানোর পাশাপাশি চীনা ভাষা শিক্ষার প্রসারে চীনের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। বাংলাদেশে চীনা ভাষা কেন্দ্র স্থাপনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সম্মেলনে বাংলাদেশের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন। চীনের পক্ষ থেকেও গুয়াংডং প্রদেশের শিক্ষা বিভাগ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা ও সংস্কৃতি সমিতির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে গুয়াংডং প্রদেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২৬১ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেছেন। এছাড়া ২০২৫ সালে গুয়াংডং সরকারের বৃত্তি পেয়েছেন ২০ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী।

শিক্ষাক্ষেত্রে দুই দেশের এই সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করার মাধ্যমে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য চীনে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ বাড়বে বলে সম্মেলনে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

নেপালের ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসে প্রধানমন্ত্রীর শোক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৩:১২ পূর্বাহ্ণ
নেপালের ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসে প্রধানমন্ত্রীর শোক

নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসে প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞে গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দুর্যোগকবলিত নেপালের সরকার ও জনগণের প্রতি সংহতি জানিয়ে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে বাংলাদেশ।

বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান।

শোকবার্তায় তারেক রহমান বলেন, নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞে বাংলাদেশের জনগণ গভীরভাবে মর্মাহত ও শোকাহত। বাংলাদেশ পরিস্থিতির সর্বশেষ খবর নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

তিনি জানান, দুর্যোগের ঘটনায় শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের অনেকেই মারা গিয়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের মধ্যে পর্যটকরাও রয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ নেপাল সরকার এবং দেশটির বন্ধুত্বপূর্ণ জনগণের পাশে রয়েছে। তিনি দুর্যোগে নিহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং নিখোঁজদের দ্রুত উদ্ধার ও আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত হওয়ার আশা প্রকাশ করেন।

একই সঙ্গে নেপালের উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা করতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে বলেও শোকবার্তায় জানানো হয়।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি