খুঁজুন
                               
শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২৮ চৈত্র, ১৪৩২
           

বিজিবিতে আজান-কেরাতের মোহনীয় সুর ও নন্দিত ছন্দ, নৈতিক মনোবল সুদৃঢ়ের বার্তা ডিজির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৯ মার্চ, ২০২৪, ১০:৩৬ অপরাহ্ণ
বিজিবিতে আজান-কেরাতের মোহনীয় সুর ও নন্দিত ছন্দ, নৈতিক মনোবল সুদৃঢ়ের বার্তা ডিজির

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ঢাকা সেক্টর সদর দপ্তরের সিপাহী মো. সাইফুল ইসলামের সুললিত কণ্ঠে ভেসে আসে আজানের সুমধুর বাণী। আজানে প্রথম স্থান অর্জন করা সাইফুলের মোহনীয় সুর যেন ঈমানের জোয়ার বয়ে দিলো প্রতিটি প্রাণে। ছত্রে ছত্রে যেন উচ্চারিত হলো আল্লাহর বড়ত্ব, শ্রেষ্ঠত্ব ও সার্বভৌমত্বের ঘোষণা। হৃদয়কাড়া ছন্দের ঝংকার তুলে উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করলেন কেরাত প্রতিযোগিতায় চূড়ান্তপর্বে প্রথম হওয়ার গৌরব অর্জন করা সিলেট সেক্টর সদর দপ্তরের সিপাহী আজিজুর রহমানও। এসব ঘটনাপ্রবাহ শুক্রবার (২৯ মার্চ) বাদ জুম্মা পিলখানাস্থ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে বিজিবি’র আজান ও কেরাত প্রতিযোগিতার।

বিজিবি’র সৈনিকদেরকে শুদ্ধ উচ্চারণ ও সুললিত কণ্ঠে আজান ও ক্বেরাত চর্চায় অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্যে আযান ও কেরাত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কেবল ধর্মীয় নির্দেশনা প্রতিপালনই নয় বরং মুসলিম উম্মাহর হাজার বছরের অনুপম সাংস্কৃতিক নিদর্শনের প্রতিচ্ছবিও ফুটে ওঠে। এদিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার ও ট্রফি বিতরণ করেন বিজিবি মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। এ সময় ধর্ম প্রতিপালনের মাধ্যমে মানুষের নৈতিক মনোবল সুদৃঢ়ের গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও দেন তিনি।

আজান ও কেরাত একটি ঈর্ষণীয় আমল। এ দু’য়ের ছন্দ যেমন প্রাণকে আন্দোলিত করে, সুরও তেমনি হৃদয়ে উচ্ছ্বাস জাগায় এবং প্রাণিত করে। সুর ও ছন্দের দারুণ সমন্বয় ঘটে প্রতিযোগিতায়। সুউচ্চ, সুমধুর ও সুললিত কণ্ঠস্বর মনকে ছুঁয়ে যায় গভীরভাবে। এসময় বিজিবি’র সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা, সৈনিক এবং অসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিজিবি সদর দপ্তর সূত্র জানায়, গত ২৮ মার্চ থেকে পিলখানাস্থ বিজিবি সদর দপ্তরের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দু’দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতার চুড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। আজান প্রতিযোগিতায় চূড়ান্তপর্বে বিজিবির রাঙ্গামাটি’র সেক্টর সদর দপ্তরের সিপাহী খলিলুর রহমান দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। অপরদিকে কেরাত প্রতিযোগিতায় চূড়ান্তপর্বে ঢাকা সেক্টর সদর দপ্তরের সিপাহী মো. রাসেল আকন্দ দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। আজান ও কেরাত উভয় প্রতিযোগিতায় দলগতভাবে ঢাকা সেক্টর চ্যাম্পিয়ন এবং রাঙ্গামাটি সেক্টর রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

কালের আলো/এমএএএমকে

‘সিল্কের ঐতিহ্য রক্ষায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে কাজ করা হবে’

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৩৪ অপরাহ্ণ
‘সিল্কের ঐতিহ্য রক্ষায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে কাজ করা হবে’

রাজশাহী সিল্ক শুধু রাজশাহীর নয়, এটি সারা বাংলাদেশের সম্পদ এবং আমাদের ঐতিহ্য। ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে আধুনিকায়ন এবং এর হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারে সরকার মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম।

শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় রেশম শিল্পের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং একে আরও উন্নত করার রূপরেখা তৈরি করতে রাজশাহী রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট সরেজমিন পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী রেশম শিল্পের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ১৯৭৭ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাজশাহী রেশম বোর্ড স্থাপন করেছিলেন। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও এই বোর্ডের উন্নয়নে নানা কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নির্দেশনায় এই শিল্পকে আধুনিকীকরণ এবং গবেষণার মাধ্যমে আরও উন্নত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

দেশে বর্তমানে রেশমের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও উৎপাদন তলানিতে। এ প্রসঙ্গে শরীফুল আলম জানান, দেশে বর্তমানে ৪০০ থেকে ৪৫০ মেট্রিক টন রেশমের চাহিদা রয়েছে; তবে এর প্রায় ৯০ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। স্থানীয় কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়া বা পিছিয়ে পড়ার কারণেই মূলত এই পরনির্ভরশীলতা তৈরি হয়েছে।

এই সংকট কাটাতে পলু চাষ, তুঁত গাছের উন্নয়ন এবং রেশম সুতার মান বৃদ্ধিতে গবেষণার ওপর সরকার বিশেষ জোর দিচ্ছে বলে জানান তিনি।

রেশম শিল্পের প্রাণ হিসেবে পরিচিত ঐতিহ্যবাহী কারিগর বা ‘বোসনি’দের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।

এই দক্ষ কারিগরদের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ১১ হাজার ৫০০ জন বোসনি রয়েছেন। বয়সের কারণে তাদের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। বোসনিদের পরবর্তী প্রজন্মকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তৈরি করা না গেলে এই শিল্পের ঐতিহ্য চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে এবং সিল্কের প্রসার ঘটাতে নিজস্ব অর্থায়নের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। চীন ও জাপানের মতো বড় দেশগুলোতে দেশীয় সিল্ক পণ্যের বাজার তৈরি এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়েও চিন্তাভাবনা চলছে। শিল্পটিকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং সার্বিক উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে খুব শিগগিরই সমন্বিত ও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে পরিদর্শনে আসা প্রতিনিধিরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এর আগে, পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. তৌফিক আল মাহমুদ একটি প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে মন্ত্রী ও সচিবের কাছে বোর্ডের সার্বিক কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব বিলকিস জাহান রিমি, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. এরশাদ আলী ঈশাসহ রেশম বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

কালের আলো/ইএম

জিয়া সরণি খালকে বুড়িগঙ্গার সঙ্গে যুক্ত করতে বরাদ্দ ৩০০ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৩১ অপরাহ্ণ
জিয়া সরণি খালকে বুড়িগঙ্গার সঙ্গে যুক্ত করতে বরাদ্দ ৩০০ কোটি টাকা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বুড়িগঙ্গা নদীর সঙ্গে রাজধানীর জিয়া সরণি খালকে যুক্ত করতে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর জিয়া সরণি খাল, কোনাপাড়া খাল ও কুতুবখালী খাল পরিদর্শন শেষে এ কথা জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জিয়া সরণি নাম হওয়ায় মানুষের কল্যাণে এই খাল নিয়ে কিছুই করেনি অবৈধ সরকার। আপাতত সিটি করপোরেশনের অর্থে খালটিতে অবৈধ স্থাপনাসহ সব কাজ চলছে।

সব খাল দখলমুক্ত করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইনানুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

মীর শাহে আলম বলেন, গণমানুষের ভোটে নির্বাচিত হয় বিএনপি সরকার। যেহেতু বিনাভোটে নির্বাচিত হইনি সেক্ষেত্রে সবার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কাজ করা হবে।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি শুরু করেছে বিএনপি সরকার। গত ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুরের সাহাপাড়ায় খাল খননের মাধ্যমে একযোগে দেশের ৫৪টি খালের খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কৃষি সেচ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাসহ সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন করা হবে। প্রথম পর্যায়ে ৫৪টি জেলায় চলবে এই কর্মসূচি।

কালের আলো/এসএকে

সিরাজগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় ১৭ শিশুর দেহে হাম প্রাদুর্ভাব

সিরাজগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২:২৩ অপরাহ্ণ
সিরাজগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় ১৭ শিশুর দেহে হাম প্রাদুর্ভাব

সারাদেশের মতো সিরাজগঞ্জে বেড়েছে সংক্রামক ব্যাধি হামের প্রাদুর্ভাব। গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জে ১৭ শিশুর দেহে হাম শনাক্ত হয়েছে।

হামের টিকা দেওয়ার আগেই এ রোগে অধিকাংশ শিশুরা আক্রান্ত হওয়ায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন অভিভাবক ও স্বজনেরা। পরিস্থিতি মোকাবেলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে হাম ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিশুদের সময়মতো টিকা দেওয়ার আহ্বান স্বাস্থ্য বিভাগের।

সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির জানান, চলতি মাসের ২৯ মার্চ থেকে হাম রোগী কাউন্ট শুরু হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৭ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০০ জনে। এসব রোগী শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এর মধ্যে ৭০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে।

বর্তমানে মনসুর আলী মেডিকেলে ১৫ জন, সদর জেনারেল হাসপাতালে ২ জন, উল্লাপাড়ায় ২ জন ও রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন ভর্তি রয়েছে। এদিকে, সারাদেশে হাম রোগীর সংখ্যা বাড়ার প্রেক্ষাপটে শহীদ এম মনসুর আলী হাসপাতালেও খোলা হয়েছে বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ড।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে হাম সিরাজগঞ্জে আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/ইএম