খুঁজুন
                               
, ,
           

ন্যাশনাল ব্যাংককে গৌরবোজ্জ্বল অবস্থানে ফেরানোর চ্যালেঞ্জিং মিশনে খলিলুর রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ মে, ২০২৪, ১১:২৮ অপরাহ্ণ
ন্যাশনাল ব্যাংককে গৌরবোজ্জ্বল অবস্থানে ফেরানোর চ্যালেঞ্জিং মিশনে খলিলুর রহমান

কালের আলো রিপোর্ট :

দেশের দুর্বল ব্যাংকগুলোর একটি ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড। ব্যাংকটিকে বেসরকারি খাতের ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) সঙ্গে একীভূত করার পরামর্শ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে ন্যাশনাল ব্যাংক তাতে সায় দেয়নি। নিজেরাই নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে চেয়েছে। আগের পরিচালনা পর্ষদ সভায় এমন সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সেই মোতাবেক ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ৪১ বছর আগে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের ফার্স্ট জেনারেশনের এ ব্যাংকটি যাত্রা শুরু করেছিল যাদের হাত ধরে তাদেরই একজন উদ্যোক্তা পরিচালককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান হিসেবে। বীর চট্টলার সন্তান, দেশের স্বনামধন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব খলিলুর রহমান হয়েছেন ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান। দায়িত্ব নিয়েই ব্যাংকটিকে আগের গৌরবোজ্জ্বল জায়গায় পৌঁছে দিতে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় এ শিল্পপতি।

দীর্ঘদিন ব্যাংকটির সঙ্গে মায়ার বাঁধনে খলিলুর রহমান জানেন কীভাবে ব্যাংকটি শুরু থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত টানা ২৯ বছর এক নম্বর কাতারে ছিল, লাভের মুখ দেখেছিল। সমস্যা কোথায়, সম্ভাবনাই বা কতটুকু! সব সমস্যা চিহ্নিত করে সঠিক দাওয়াই খাদের কিনারায় থাকা ব্যাংকটিকে ঘুরে দাঁড় করানো সম্ভব বলে আশাবাদী অভিজ্ঞ এ শিল্পোদ্যোক্তা। এই প্রতিবেদকের সাথে আলাপেও আশাবাদী উচ্চারণ তার। তাঁর ভাষ্যে-‘ন্যাশনাল ব্যাংক জনগণের ব্যাংক। ১৯৮৩ সালে আমরা এই ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছি। ব্যবসায়ী হিসেবে আমরা জানি ব্যাংককে কীভাবে লাভজনক করতে হয়। আমি জানি, ব্যাংকের কোথায় কী আছে, কী কী সমস্যা আছে, কারণগুলো আমাদের জানা। এই ব্যাংক ২০১২ সাল পর্যন্ত এক নম্বর কাতারে ছিল। বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের ফার্স্ট জেনারেশনের ব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংক। তখন আমাদের যারা পরিচালক ছিলেন সবাই ব্যবসায়ী ছিলেন। তাদের ব্যবসার যথেষ্ট অভিজ্ঞতা ছিল। ওই অভিজ্ঞতা দিয়ে আমরা ব্যাংকটি করেছিলাম। সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় আগামী চার বছরের মধ্যে আবার ন্যাশনাল ব্যাংকের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে পারবো। এটি আমার বিশ্বাস।’

চট্টগ্রাম জেলার ঐতিহ্যবাহী পটিয়ার সাঁইদাইর গ্রামের সন্তান, ৭৯ বছর বয়সী খলিলুর রহমান জীবনের গোধূলী বেলায় নিয়েছেন দেশের প্রয়োজনে গ্রহণ করেছেন কঠিন এক চ্যালেঞ্জ। আজন্ম লড়াকু এই মানুষটি সফল হলে বেঁচে যাবে একটি ব্যাংক, শঙ্কা উবে যাবে অনেকের চাকরি হারানোর। চ্যালেঞ্জিং এ কর্মযজ্ঞ সম্পাদনে তিনি প্রথমেই জোর দিতে চান খেলাপি ঋণ আদায়ে। প্রয়োজনে নিতে চান আইনি সহায়তাও।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি চ্যালেঞ্জ নিয়েছি। বাংলাদেশ ব্যাংক যথেষ্ট সহযোগিতা করেছে। যারা ঋণ নিয়েছেন, তাদের কাছ থেকে আদায় করবই। আমরা খেলাপি ঋণ আদায়ের চেষ্টা করব। প্রকৃত ব্যবসায়ী ঋণ নিলে খেলাপি হতে পারেন না। অ্যাসেসমেন্ট করে ঋণ দেওয়া হয়নি। মনিটরিং করা হয়নি। বড় খেলাপিদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা ভুল স্বীকার করেছেন, টাকা পরিশোধে ইচ্ছুক। বড় ব্যবসায়ীদের টাকা খেলাপি হবে না। ব্যবসা করে ক্ষতি পুষিয়ে নেব। যারা ব্যবসায়ী না হয়ে ঋণ নিয়েছেন, তারাই সমস্যা। অন্তত ৫০ শতাংশ আদায়ে আমরা আশাবাদী। যারা ঋণ নিয়েছেন দরকার হলে জামানত হিসেবে দেওয়া বাড়ি, জমি বিক্রি করে দেব। দেশে আইন আছে, ব্যাংকের টাকা দিতে না পারলে মামলা করে সম্পদ বিক্রি করে দেওয়া যায়।’

দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব খলিলুর রহমান এক সময় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিএমসিসিআই) সভাপতি, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইসিডিএ) ভাইস প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ সিআর কয়েল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিআরসিএমইএ) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

পর্যবেক্ষক মহল বলছেন, নতুন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে দক্ষ পরিচালনা পর্ষদ ও চৌকস ব্যবস্থাপনায় ন্যাশনাল ব্যাংককে ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবে। তাঁরা দায়িত্বের প্রতি সৎ থেকে ব্যাংকের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংককে নীতি ও তারল্য সহায়তা দিতে হবে। সরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানও ব্যাংকটি থেকে টাকা তুলে নিয়ে গেছে। এসব টাকা ব্যাংকে ফেরাতে হবে। বড় ঋণ বন্ধ আছে, এটি বহাল রাখতে হবে। এসব সম্ভব হলে ব্যাংকটিকে ভালো করা সহজ হবে। দীর্ঘ ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ এই মানুষটি এটি করতে পারবেন।

ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব খলিলুর রহমানও পরিশ্রম আর সততার পানসিতে চড়ে পৌঁছতে চান অভীষ্ট লক্ষে। নিজের জবানীতেই বলেছেন, ‘পরিশ্রম, সততা থাকলে, কষ্ট করলে এগিয়ে নিতে পারব। পাওনা উসুল করব। যারা ব্যাংক থেকে টাকা নিয়েছে তাদের বোঝাব, আইন প্রয়োগ করে টাকা ফেরত আনব। ডিপোজিট আনব। ডিপোজিট দিয়ে ব্যবসা করব। একসময় আমরা অনেক বেশি লভ্যাংশ দিয়েছি। ইচ্ছা করলে আমরা উন্নত করে এগিয়ে নিতে পারব। ন্যাশনাল ব্যাংকের হারানো গৌরব আবার ফিরিয়ে আনতে পারব ইনশাআল্লাহ। এটি আমার বিশ্বাস। চার বছরে আমরা একটি ভালো অবস্থানে পৌঁছতে পারব।’

ন্যাশনাল ব্যাংকের নবযাত্রার এ কাণ্ডারি ব্যাংকটিকে কোমর সোজা করে দাঁড় করাতে নিজের পরিকল্পনাও সাজিয়ে ফেলেছেন। সেই কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা প্রকৃত ব্যবসা করেন, দেশে বিনিয়োগ করেন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেন তাদের যথেষ্ট সুযোগ দেব। এটি আমার ব্যাংক কখনো বলি না। আমরা বলি, ন্যাশনাল ব্যাংক জনগণের ব্যাংক, বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের ব্যাংক।’

ব্যাংকটির দুরাবস্থার মধ্যে এককভাবে ব্যবসা পরিচালনার বেশ দু:সাহসই দেখিয়েছেন সদালাপী ও কর্মজীবনে দ্যুতি ছড়ানো কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান। উদ্যোক্তা পরিচালক হিসেবেই একীভূত হওয়ার ফর্মুলায় সায় দেননি। নেপথ্যের কারণ জানিয়ে খলিলুর রহমান বলেন, ‘আমরা যখন শুনি ব্যাংকটি একীভূত করার কথা চলছে, তখন আমরা আগের পর্ষদ সভা করে সিদ্ধান্ত দিই। যে ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হতে যাচ্ছে তার চেয়ে আমাদের ব্যাংকের ভিত্তি শক্ত বেশি। আমরা কেন একীভূত হবো? আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করি। আমরা পর্ষদ থেকে সিদ্ধান্ত দিলাম, আমরা একীভূত হতে রাজি নই। আমাদের ব্যাংক আমরা চালাব। দরকার হলে নতুন পর্ষদ গঠন করব। অন্য ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হলে অনেক লোকের চাকরি হারানোর শঙ্কা ছিল। কারণ অনেক জায়গায় দুটি ব্যাংকেরই শাখা রয়েছে। সে বিষয়টিও আমরা ভেবেছি।’

কথোপকথনের ভেতর দিয়ে আবেগের ঢেউ ওঠে বর্ষীয়াণ শিল্পোদ্যোক্তা, ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমানের কন্ঠে। কথার ঝংকার তুলে বর্ণনা করেন ব্যাংকটির গোড়াপত্তনের আদ্যোপান্ত। স্বরগ্রামের ওঠানামায় অন্যরকম উত্তেজনা। ভালোবাসা যেখানে চিরস্থায়ী আর আবেগ যেন সীমাহীন। বাস্তবিক অর্থেই
এ ব্যাংকটির প্রতি তাঁর ভালোবাসাও গভীর। স্মৃতি হাতড়ে বলেন, ‘আমরা যখন চার কোটি টাকায় এ ব্যাংকের উদ্যোগ নিয়েছিলাম তখন বেসরকারি ব্যাংক ছিল না। আমরা ঘরে ঘরে গিয়ে, বন্ধু-বান্ধবকে ধরে ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে এনেছি। ব্যাংকের পরিচালক হলে টাকা ফেরত পাবে কি না, তখন চিন্তা করত। আমি বলেছি, তুমি টাকা দাও, টাকা ফেরত না পেলে আমি দিয়ে দেব। এভাবে বলে রাজি করিয়েছি।’

আলাপচারিতায় বলতে থাকেন- ‘ব্যাংক ব্যবসা বুঝতে হবে। ব্যাংক ম্যানেজার ব্যবসা বুঝলে ঋণ দিতে পারেন। যাকে ঋণ দেবেন, তার বিনিয়োগ মনিটর করতে হবে। নিয়মিত পরিশোধ করছে কি না, দেখতে হবে। বড় ঋণ ত্রৈমাসিক, ষাণ্মাসিক, বার্ষিক রিশিডিউল করা হবে। মনিটরিং থাকলে টাকা খেলাপি হয় না। খেলাপির কারণে বিশ্বাস কমে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের। প্রকৃত ব্যবসায়ী ব্যাংকের টাকা মেরে খাবেন না। ব্যবসায়ীদের মুখের কথার দাম আছে।’

তাঁর নেতৃত্বাধীন নতুন পরিচালনা পর্ষদ ব্যাংকটিতে তিন হাজার কোটি টাকার আমানত সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়েছে। এই আমানত সংগ্রহের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কদিন আগেও শেয়ারের দাম সাড়ে চার টাকা ছিল, এখন সাত টাকা হয়ে গেছে। ডিপোজিট দিন দিন বাড়ছে। এর জন্য বন্ধু, ব্যবসায়ীদের কাছে যাব। ডিপোজিট খাটিয়ে আমানতকারীকে লাভ দিতে হবে। আমাদের মালয়েশিয়ায় ১১টি, মালদ্বীপে তিনটি, সিঙ্গাপুরে দুটিসহ বিভিন্ন দেশে শাখা আছে। এসব শাখার মাধ্যমে আমরা বৈদেশিক মুদ্রা আহরণ করব। আশা করি, চার বছরেই আগের গৌরবোজ্জ্বল জায়গায় নিয়ে যেতে পারবো।’ #

কালের আলো/এমএএএমকে

খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫২ পূর্বাহ্ণ
খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন শুরু

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অধিবেশনের প্রথম প্লেনারি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের সমাপনী পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পরে ৮১তম অধিবেশনের নবনির্বাচিত সভাপতি হিসেবে ড. খলিলুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেন। আগামী এক বছর তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

শপথ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে সংস্থাটির প্রতি আস্থার ঘাটতি রয়েছে। ভবিষ্যতের জন্য জাতিসংঘকে আরও কার্যকর ও উপযোগী করে তুলতে গভীর সংস্কার প্রয়োজন।

মঙ্গলবার প্রথম প্লেনারি সভা শুরু হলেও আগামী ২২ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের ভাষণের মধ্য দিয়ে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক শুরু হবে। এতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

জ্বালানি বিলেই নাজেহাল মার্কিনিরা, ইরান যুদ্ধে বাড়তি খরচ ১০০ বিলিয়ন ডলার

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২৭ পূর্বাহ্ণ
জ্বালানি বিলেই নাজেহাল মার্কিনিরা, ইরান যুদ্ধে বাড়তি খরচ ১০০ বিলিয়ন ডলার

ইরান যুদ্ধের ছয় মাসেই জ্বালানি কিনতে গিয়ে মার্কিন ভোক্তাদের পকেট থেকে বেরিয়ে গেছে অতিরিক্ত প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বেড়ে সাধারণ পরিবারের বাজেটে তৈরি হয়েছে বড় চাপ। দেশটির প্রায় ১৩ কোটি ১০ লাখ পরিবারের হিসাবে গড়ে প্রতিটি পরিবারের বাড়তি জ্বালানি ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৬৩ ডলার।

ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ওয়াটসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের তথ্যের বরাতে এই হিসাব সামনে এসেছে। এতে স্পষ্ট, ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক অভিঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্য বা আন্তর্জাতিক তেলবাজারে সীমাবদ্ধ নেই; সরাসরি মার্কিন পরিবারের দৈনন্দিন খরচেও এর প্রভাব পড়ছে।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা পেট্রোলের দামে
মার্কিনিদের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে পেট্রোলের দামে। ছয় মাসের ব্যবধানে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দাম ২ দশমিক ৯৮ ডলার থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ১৫ ডলারে উঠেছে। অর্থাৎ দাম বেড়েছে প্রায় ৩৯ শতাংশ। ডিজেলের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও কঠিন। প্রতি গ্যালনের দাম ৩ দশমিক ৬৭ ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ৫ দশমিক ৯০ ডলার—বৃদ্ধি ৬০ শতাংশেরও বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের প্রবণতা বেশি হওয়ায় পেট্রোলের এই মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি পরিবারের ব্যয়ে প্রভাব ফেলছে। অন্যদিকে ডিজেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে পরিবহন ও পণ্য সরবরাহের খরচে। ফলে একদিকে গাড়ি চালানোর খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে দোকানে পৌঁছানোর আগেই পণ্যের দাম বাড়ছে।

যুদ্ধ চলছে ছয় মাস
ইরানকে ঘিরে সামরিক সংঘাত শুরুর সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধটি চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে শেষ হওয়ার প্রত্যাশা জানিয়েছিলেন। বাস্তবে সেই সময়সীমা অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে। সংঘাত এখন ষষ্ঠ মাসে প্রবেশ করেছে এবং দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও স্পষ্ট নয়। যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক তেলবাজারে বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করছে।

ট্রাম্পের সঙ্গে মার্কিনিদের দ্বিমত
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এখন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্কেরও অংশ। যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থন না থাকায় অনেক মার্কিনি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনকে দায়ী করছেন।তবে ট্রাম্প এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি তেলের দাম বাড়ার বিষয়টিকে খুব বেশি গুরুত্ব না দিয়ে বরং তেল কোম্পানিগুলোর ওপর দায় চাপিয়েছেন। ফলে যুদ্ধের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের খরচ শেষ পর্যন্ত কে বহন করছে—সরকার, তেল কোম্পানি নাকি সাধারণ মানুষ—এই প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে।

খাদ্যনিরাপত্তাতেও চাপ
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এর প্রভাব শুধু গাড়ির জ্বালানিতে আটকে থাকে না। কৃষিতে ট্রাক্টর চালানো, খাদ্য পরিবহন, পণ্য সংরক্ষণ, শীতলীকরণ থেকে শুরু করে প্লাস্টিকের প্যাকেজিং—প্রায় প্রতিটি ধাপেই তেল ও গ্যাসের ব্যবহার রয়েছে।ফলে জ্বালানির দাম বাড়লে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়ও বাড়ে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়ে ভোক্তার বাজারে। মার্কিন পরিবার একদিকে গাড়ির ট্যাংক ভরতে বেশি টাকা দিচ্ছে, অন্যদিকে একই জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির কারণে খাবার ও অন্যান্য পণ্য কিনতেও বাড়তি অর্থ খরচ করতে হচ্ছে। বিশ্বের নিম্ন আয়ের দেশগুলোর জন্য ঝুঁকি আরও বড়। তেল ও সার আমদানির ব্যয় বেড়ে গেলে কৃষি উৎপাদনের খরচ বাড়তে পারে। দীর্ঘস্থায়ী হলে খাদ্য সরবরাহ ও খাদ্যনিরাপত্তাতেও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সামনে আরও চাপের শঙ্কা
জ্বালানি বাজারের এই চাপের মধ্যেই ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন ‘নিয়ন্ত্রিত জোন’ তৈরির ঘোষণা দিয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, এ এলাকার জন্য নতুন মানচিত্র দেওয়া হবে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে সেটি অনুসরণ করতে হবে। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, মার্কিন অবরোধ ও হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার নিশ্চয়তা দেবে না ইরান। নতুন নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ প্রবেশ করলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে দেশটি। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে মার্কিনিদের জন্য জ্বালানি বিলের চাপ আরও বাড়তে পারে। আর হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়লে তার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববাজারেও পড়বে। ফলে ইরান যুদ্ধ এখন শুধু ভূরাজনৈতিক সংঘাত নয়—সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দেওয়া এক বড় অর্থনৈতিক সংকটেও রূপ নিচ্ছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

জাতিসংঘ সংস্কারে গভীর পরিবর্তনের প্রয়োজন: খলিলুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২৬ পূর্বাহ্ণ
জাতিসংঘ সংস্কারে গভীর পরিবর্তনের প্রয়োজন: খলিলুর রহমান

জাতিসংঘের সংস্কারকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় জাতিসংঘকে কার্যকর ও আস্থাশীল রাখতে গভীর ও অর্থবহ সংস্কার প্রয়োজন।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

খলিলুর রহমান বলেন, বর্তমানে জাতিসংঘের প্রতি আস্থার ঘাটতি রয়েছে। শুধু বর্তমান সময়ের জন্য নয়, ভবিষ্যতের উপযোগী করে তুলতে হলে সংস্থাটিতে গভীর সংস্কার করতে হবে। সংস্কার যেন কেবল নামমাত্র না হয়, বরং সাধারণ মানুষের কাছে জাতিসংঘের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর ভূমিকা রাখে—সেদিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘এটি ১৯৪৫ সাল নয়। আমরা এখন একবিংশ শতাব্দীতে আছি। বিশ্ব এগিয়ে গেছে, তাই জাতিসংঘকেও এগিয়ে যেতে হবে।’

জাতিসংঘ মহাসচিবের সংস্কার প্রক্রিয়াকে সমর্থন করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, একজন প্রতিনিধি ও কর্মী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি এই সংস্থাকে কাছ থেকে দেখেছেন। তাই সংস্কারগুলো অবশ্যই অর্থবহ হওয়া প্রয়োজন।

রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গ তুলে খলিলুর রহমান বলেন, নিজ বাড়িঘর থেকে বিতাড়িত বিশাল জনগোষ্ঠীর আকুতি তিনি কাছ থেকে দেখেছেন। ভবিষ্যতেও জাতিসংঘের সামনে রোহিঙ্গাদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার কাজ অব্যাহত রাখবেন তিনি।

সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনে কোনো দেশ তাকে ভোট দিয়েছে কি না, সেটি তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। তিনি সব দেশের জন্য একজন সভাপতি হিসেবে কাজ করতে চান।

এ সময় বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতি ও প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে খলিলুর রহমান জানান, তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাই তাকে এই পদমর্যাদা ও দায়িত্বের পরিপ্রেক্ষিতেই প্রশ্ন করার আহ্বান জানান তিনি।

শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তার দরজা সবসময় খোলা থাকবে এবং সবার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে চান।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি