খুঁজুন
                               
, ,
           

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সবার সেরা বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ মে, ২০২৪, ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সবার সেরা বাংলাদেশ

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর :

সময়টি ১৯৮৮ সালের ১৪ আগস্ট। কুয়েত এয়ারওয়েজের একটি যাত্রীবাহী বিমানে একে একে উঠলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৫ কর্মকর্তা। ইউনাইটেড নেশনস ইরান-ইরাক মিলিটারি অবজারভার গ্রুপ (ইউনিমগ) নামে জাতিসংঘের একটি শান্তিরক্ষা মিশনে সেই কর্মকর্তাদের নিয়ে বহনকারী বিমানটি ডানা মিললো ঢাকার আকাশে। বিশ্ব পরিমণ্ডলে শান্তি অন্বেষণে নতুন দিকের সূচনা করলো লাল-সবুজের বাংলাদেশ। এরপর দেখতে দেখতে কেটেছে ৩৬ বসন্ত। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন নামে এক নতুন অধ্যায়ের শুরুর পরের ইতিহাসটি গর্বের, মাথা উঁচু করে পথচলার।

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের মধ্যে বাংলাদেশ ৬৩টি মিশনেই অংশ নিয়েছে। সময়ের বহমানতায় অপরিহার্য করে তুলেছে নিজেদের। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি ১৯৮৯ সাল থেকে পুলিশ বাহিনী এবং ১৯৯৩ সাল থেকে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নিয়ে আসছে। ব্লু হেলমেটধারীরা এখন মিশনে সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে ধরে রেখেছে শীর্ষ স্থান। দক্ষতা, নিরপেক্ষতা, পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে সবার সেরা এই শান্তির প্রহরীরা। জাতিসংঘের পতাকাকে সমুন্নত ও উড্ডীন রাখার পাশাপাশি তাঁরা উজ্জ্বল করেছেন দেশের ভাবমূর্তি।

বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের সর্বাধুনিক প্রশিক্ষণ
জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহের সঙ্গে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও আজ বুধবার (২৯ মে) আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস পালিত হবে বাংলাদেশে। শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ একটি নির্ভরযোগ্য নাম বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ হাসিনা। শান্তিরক্ষীরা সংঘাত প্রতিরোধ, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা, মানবাধিকার নিশ্চিত করতে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় অক্লান্ত পরিশ্রম করায় বরাবরই তাদের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন সরকারপ্রধান। বিশ্বের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং ও বিপজ্জনক অঞ্চলে জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বদা বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের সর্বাধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা যাতে আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জাতিসংঘের আহ্বানে সাড়া দিতে পারে সেজন্য তাঁর সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর ‘মজ্জা’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। গত ৩৬ বছর যাবত শান্তিরক্ষা মিশনে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও বাংলাদেশ পুলিশ। গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে ওঠেছে দেশটি। বিশ্বের বিভিন্ন বিরোধপূর্ণ দেশে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে প্রমাণ করেছে নিজেদের। অসামান্য অবদানের জন্য সুনাম কুড়িয়েছে বিশ্বজুড়ে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে এক নম্বরে অবস্থান করে নিয়েছে ব্লু-হেলমেটধারীরা।

# গর্বের, মাথা উঁচু করে পথচলার ৩৬ বছরের ইতিহাস
# সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে শীর্ষে
# সমুন্নত রেখেছেন জাতিসংঘের পতাকাকে
# উজ্জ্বল করেছেন দেশের ভাবমূর্তি
# শান্তি ও নিরাপত্তায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নির্ভরযোগ্য নাম বাংলাদেশ

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, দীর্ঘ চার দশকের শান্তিরক্ষার ইতিহাসে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বের ৪৩টি দেশ ও স্থানে, ৬৩টি জাতিসংঘ মিশন সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করেছে। বর্তমানে ১৩টি দেশে বাংলাদেশের ৬ হাজার ৯২ জন শান্তিরক্ষী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ও কার্যক্রমে নিয়োজিত রয়েছেন। যার মধ্যে রয়েছেন ৪৯৩ জন নারী শান্তিরক্ষী। শুরু থেকে এ পর্যন্ত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সর্বমোট ১৬৮ জন শান্তিরক্ষী জীবন উৎসর্গ করেছেন।

শান্তিরক্ষীদের প্রশংসনীয় দক্ষতা ও সক্ষমতা অর্জনে প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নির্দেশনা
বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীদের এমন প্রশংসনীয় দক্ষতা ও সক্ষমতা অর্জনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নির্দেশনা ও সুদৃঢ় নেতৃত্বকে সব সময় দৃঢ়চিত্তে উপস্থাপন করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। বুধবার (২৯ মে) আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসের বাণীতে তিনি বলেছেন, ‘জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আজকের এই গৌরবময় অর্জনের পেছনে রয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী দিকনির্দেশনা ও সুদৃঢ় নেতৃত্ব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় ফোর্সেস গোল-২০৩০ অনুযায়ী শান্তিরক্ষা মিশনের বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উন্নত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সরঞ্জামাদি সংযোজন করা হয়েছে। সম্প্রতি শান্তিরক্ষা মিশনে প্রথমবারের মত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তিনটি হেলিকপ্টার ডিআর কঙ্গোতে মোতায়েন করেছে, যা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্য একটি নতুন মাইলফলক। পাশাপাশি, সম্প্রতি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক শান্তিরক্ষা মিশনে ব্যবহারের জন্য পেরুর সশস্ত্র বাহিনীকে বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়কারী যান (রিমোটলি অপারেটেড ভেহিকেল) প্রদান করা হয়েছে-যা বিশ্ব পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে আরো উজ্জ্বল করেছে। আমাদের পুরুষ সদস্যের পাশাপাশি নারী সদস্যরাও এখন পূর্বের তুলনায় অধিকহারে শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ করছে, যা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আমাদের গ্রহণযোগ্যতাকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে। সার্বিকভাবে সুপ্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ সেনাসদস্য, উন্নত সরঞ্জাম, বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ, মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এবং উন্নত মূল্যবোধের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মিশন এলাকার জনসাধারণ ও জাতিসংঘের আস্থা অর্জনে ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে।’

জানা যায়, বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বীরত্বপূর্ণ অবদান রাখা দেশসমূহ সফর করেন। সেখানে তিনি সাধারণ সৈনিক থেকে শুরু করে সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলার বিষয়টিতেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন। এসবের সুফল হিসেবেই আবারও সৈন্য প্রেরণের দিক থেকে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ।

সেসব দেশের মানুষের মনেও শ্রদ্ধার আসনে ব্লু হেলমেটধারীরা
অতীতের ধারাবাহিকতায় এই সময়েও সর্বোচ্চমানের পেশাদারি মনোভাব, সাহসিকতা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার মাধ্যমে বিশ্বের দেশে দেশে সন্ত্রাস, সংঘাত ও দাঙ্গা দমনের মাধ্যমে শান্তি স্থাপন থেকে শুরু করে দেশ পুনর্গঠনে নির্ভীক ভূমিকা পালন করছেন বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা। এক সময় যেসব দেশের সাধারণ মানুষ ‘বাংলাদেশ’ নামের সঙ্গেই পরিচিত ছিল না সেসব দেশের মানুষের মনেও শ্রদ্ধার আসন নিয়েছে বাংলাদেশ। দেশগুলোতে ব্লু হেলমেটধারীরা বিশ্বমানবতার সেবায় উৎসর্গ করেছেন নিজেদের। পেশাগত দক্ষতা, নিরপেক্ষতা, সততা ও মানবিকতায় তাঁরা আজ ওই সব দেশের মানুষের কাছে অনুকরণীয় এক দৃষ্টান্ত।

নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসে তাঁর বাণীতে বলেন, ‘বিশ্ব শান্তি, ভ্রাতৃত্ব এবং ঐক্য প্রতিষ্ঠায় ১৯৯৩ সালে সর্বপ্রথম শান্তিরক্ষী মোতায়েনের মাধ্যমে বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে তার যাত্রা শুরু করে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ দিকনির্দেশনায় ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ নৌবাহিনীর দু’টি যুদ্ধজাহাজের জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন লেবানন এ যোগদানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের মর্যাদা এবং ভাবমূর্তি বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে ‘বানৌজা সংগ্রাম’ ভূ-মধ্যসাগরে মেরিটাইম টাস্ক ফোর্সের অংশ হিসেবে লেবাননে অবৈধ অস্ত্র এবং গোলাবারুদের অনুপ্রবেশ রোধ, দুর্ঘটনা কবলিত জাহাজ উদ্ধার তৎপরতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল কার্যক্রম পালনে নিয়োজিত রয়েছে। অপরদিকে, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি নৌ কন্টিনজেন্ট ২০১৫ সাল থেকে দক্ষিণ সুদানে ‘বাংলাদেশ ফোর্স মেরিন ইউনিট (বিএএনএফএমইউ) হিসেবে মোতায়েন রয়েছে। কন্টিনজেন্টটি জাতিসংঘের নিত্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি, খাদ্য-সামগ্রী, ঔষধ ও মানবিক সাহায্য বহনকারী নৌযানসমূহের নদীপথে নিরাপদে চলাচলের নিশ্চয়তাসহ স্থানীয় জনগণকে জরুরি চিকিৎসা প্রদান, মিশনে নিয়োজিত সামরিক এবং অসামরিক সদস্যদের প্রয়োজনীয় রসদ সামগ্রী পরিবহনে সহায়তা করে আসছে।’

বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের নি:স্বার্থ আত্মত্যাগ জাতিসংঘের ইতিহাসে চির অম্লান হয়ে থাকবে বলে মনে করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। গত বছর আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস পালিত হওয়ার সময়ে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সেই সময় দিবসটির বাণীতে লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছিলেন, ‘১৯৭১ সালের গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি জাতি যে গণহত্যা, নিপীড়ন, দুর্ভোগ, বাস্তুচ্যুতি, নির্যাতন এবং মানবিক সংকটের ভয়াবহতা দেখেছে তার বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতাও বাংলাদেশকে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে এবং নির্যাতিত জনগোষ্ঠীর দুর্দশার উন্নয়নে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ আজ শান্তি ও সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।’

সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের বর্তমান প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসে তাঁর বাণীতে বলেছেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী, দৃঢ় ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বিশ্ব শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের সুনাম আজ সর্বজনবিদিত। বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের উন্নত পেশাদারিত্ব, অসীম সাহসিকতা এবং অনবদ্য অবদানের বিষয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব এবং বিশ্ব বরেণ্য নেতৃবৃন্দের ভূয়সী প্রশংসা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌছে দিয়েছে। বিশ্বব্যাপী জাতিসংঘ মিশনে শান্তিরক্ষায় সুদীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের সুনাম বৃদ্ধির পাশাপাশি জাতিসংঘের ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতে সক্ষম হয়েছে।’

কালের আলো/এমএএএমকে

পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নেতৃত্বে পরিবর্তন, দায়িত্ব পেলেন আলীমুল আমীন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪২ পূর্বাহ্ণ
পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নেতৃত্বে পরিবর্তন, দায়িত্ব পেলেন আলীমুল আমীন

বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল মো. আলীমুল আমীন। তিনি মেজর জেনারেল মো. নুরুল আনোয়ারের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন।

মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে। আদেশে বলা হয়েছে, এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।

মেজর জেনারেল মো. আলীমুল আমীন এর আগে ১৭তম পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) এবং সিলেট এরিয়া কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

অন্যদিকে, প্রায় চার বছর পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করা মেজর জেনারেল মো. নুরুল আনোয়ারকে অবসরের আগে সেনাবাহিনীতে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পাসপোর্ট, ভিসা ও ইমিগ্রেশন) এ টি এম আবু আসাদ জানান, মেজর জেনারেল নুরুল আনোয়ার ২০২২ সালের ২৬ অক্টোবর মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর তার অবসরে যাওয়ার কথা রয়েছে। এর আগেই তাকে নিজ বাহিনীতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

নতুন মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাধ্যমে মেজর জেনারেল আলীমুল আমীন এখন বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেবেন।

কালের আলো/এমএসআইপি 

ইউরোপে মার্কিন ঘাঁটি সংকোচনের ছক, বড় পরীক্ষায় ন্যাটো

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ
ইউরোপে মার্কিন ঘাঁটি সংকোচনের  ছক, বড় পরীক্ষায় ন্যাটো

ইউরোপে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর সম্ভাবনা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (পেন্টাগন) ইউরোপে মোতায়েন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পুনর্বিন্যাসের একাধিক বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে। কয়েক দিনের মধ্যে পেন্টাগনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কাছে এসব পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে পারেন।

  • সেনা-অস্ত্র সরানোর পাশাপাশি পূর্ব ইউরোপে পুনর্মোতায়নের পরিকল্পনা
  • ৪০ হাজার সেনা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা
  • সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ নিরাপত্তা সম্পর্কে

বড় আকারের প্রত্যাহারের সম্ভাবনা
বর্তমানে ইউরোপে প্রায় ৬৮ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে। আলোচনায় থাকা একটি বিকল্পে এর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রত্যাহারের কথা রয়েছে। এতে জার্মানি, ইতালি ও স্পেনে থাকা মার্কিন সেনাদের ওপর তুলনামূলক বেশি প্রভাব পড়তে পারে।

আরও বড় পরিসরের একটি পরিকল্পনায় প্রায় ৪০ হাজার সেনা প্রত্যাহারের পাশাপাশি সামরিক বিমান, যুদ্ধজাহাজ ও অস্ত্র সরিয়ে নেওয়ার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এগুলো এখনো সম্ভাব্য বিকল্প; চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

অন্যদিকে, ইউরোপ থেকে পুরোপুরি সরে না গিয়ে পশ্চিম ও মধ্য ইউরোপের কিছু সেনাকে ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে পুনর্মোতায়েনের পরিকল্পনাও রয়েছে। ফলে সেনাসংখ্যা কমলেও পূর্ব ইউরোপে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়তে পারে।

ইরান যুদ্ধের প্রভাব
এই আলোচনা সামনে আসার সময়টি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ইউরোপের কয়েকটি মিত্রদেশ মার্কিন বাহিনীকে তাদের বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। স্পেন ও ইতালিসহ কয়েকটি দেশ ওয়াশিংটনের ইরাননীতি নিয়ে প্রকাশ্য সমালোচনাও করেছে।

এতে যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় মিত্রদের সামরিক সহযোগিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে ন্যাটোর সদস্যদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর বিষয়ে দীর্ঘদিনের মার্কিন চাপও আলোচনায় রয়েছে।

জার্মানি ঘিরে বাড়ছে নজর
ইউরোপে সম্ভাব্য পুনর্বিন্যাসে জার্মানি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর একটি। ইউরোপে থাকা মার্কিন সেনাদের অর্ধেকের বেশি দেশটিতে অবস্থান করছে। এরই মধ্যে জার্মানি থেকে প্রায় পাঁচ হাজার সেনা সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতির খবর এসেছে।

গত বছর রোমানিয়া থেকেও প্রায় দুই হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হয়। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করার পর জার্মানি থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা আসে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হোয়াইট হাউসকে অন্তত ২৫ হাজার সেনা একসঙ্গে প্রত্যাহার না করার বিষয়ে রাজি করেছিলেন বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

রাশিয়া ও ন্যাটোর সমীকরণ
ইউরোপ থেকে বড় পরিসরে মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়া হলে ন্যাটোর নিরাপত্তা কাঠামোয় তার প্রভাব পড়তে পারে। জার্মান মার্শাল ফান্ডের বিশ্লেষক ইয়ান লেসারের মতে, এতে ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক প্রতিরোধব্যবস্থা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার জন্য কিছু কৌশলগত সুবিধা তৈরি হতে পারে।

তবে প্রভাব কতটা হবে, তা নির্ভর করবে সেনারা কোথা থেকে এবং কীভাবে সরানো হচ্ছে তার ওপর। পশ্চিম ইউরোপ থেকে সেনা সরিয়ে পূর্বাঞ্চলীয় ন্যাটো সীমান্তে পাঠানো হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। কারণ জার্মানি ও ফ্রান্সসহ ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও ঝুঁকি
সেনা প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও সামরিক সক্ষমতার প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। ইউরোপীয় ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করে ওয়াশিংটন দ্রুত ইউরোপ ও আশপাশের অঞ্চলে সেনা, বিমান ও অন্যান্য সামরিক শক্তি মোতায়েন করতে পারে। উপস্থিতি কমলে সেই দ্রুত প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা সীমিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ন্যাটোর সদস্যদের প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়েও ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিয়ে আসছেন। ২০২৫ সালের ন্যাটো সম্মেলনে সদস্যদেশগুলো ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ফলে আসন্ন সিদ্ধান্ত শুধু সেনা প্রত্যাহারের হিসাব নয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপনীতি, ন্যাটোর দায়িত্ব বণ্টন এবং রাশিয়াকে ঘিরে জোটের প্রতিরোধ কৌশলে বড় ধরনের পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত দিতে পারে।

এম/এএইচ

৪৫০ গাড়ির লংমার্চ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ণ
৪৫০ গাড়ির লংমার্চ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন রিজভী

দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে দাবি করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিরোধী দল গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালন করতে পারে। তবে কর্মসূচির নামে দেশকে অস্থিতিশীল করা ও জনগণের দুর্ভোগ সৃষ্টি করার দায়ও তাদের নিতে হবে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত মিছিল-পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে’ এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

রিজভী বলেন, গণতন্ত্রে সংসদের ভেতরে-বাইরে কথা বলার অধিকার রয়েছে। বিরোধী দল কর্মসূচি করুক, এতে আপত্তি নেই। তবে হুমকি-ধমকি, মিথ্যাচার, অপপ্রচার এবং প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ গ্রহণযোগ্য নয়।

৪৫০ গাড়ির লংমার্চ নিয়ে প্রশ্ন

জ্বালানি সংকটের মধ্যে ৪৫০টি গাড়ি নিয়ে রংপুরে লংমার্চের সমালোচনা করেন রিজভী। তাঁর দাবি, যমুনা সেতুর টোল আদায়ের হিসাব অনুযায়ী ওই বহরে প্রায় ৪৫০টি গাড়ি ছিল।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, এতগুলো গাড়িতে কত জ্বালানি ব্যয় হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, দেশে যখন ডিজেল সরবরাহে সংকট এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানির ঘাটতি রয়েছে, তখন এত গাড়ি নিয়ে লংমার্চের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিরোধী দলের বিকল্প প্রস্তাব কী—এ প্রশ্নও তোলেন বিএনপির এই নেতা। তাঁর বক্তব্য, বিরোধী দল ভবিষ্যতে সরকারে যেতে পারে, তাই বর্তমান সংকট মোকাবিলায় তাদেরও পরিকল্পনা জানানো উচিত।

জ্বালানি সংকট নিয়ে বক্তব্য

রিজভী বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকটকে শুধু সরকারের একক সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তাঁর দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়েছে।

তিনি জানান, সরকার বাজেটের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে মিয়ানমার, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে গ্যাস ও এলএনজি আনার উদ্যোগ নিয়েছে। একটি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি ঠিক হওয়ায় গ্যাসের চাপ ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি করছে বলেও দাবি করেন তিনি।

বাসে আগুন, বোমাবাজি নিয়েও প্রশ্ন

দেশ অস্থিতিশীল করার বিভিন্ন ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, মধ্যবাড্ডা, কাফরুল ও মিরপুরে বাসে আগুন এবং হাইকোর্টের সামনে বোমাবাজির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় কারা জড়িত, তা তদন্ত করে বের করার আহ্বান জানান তিনি।

একটি ট্রেনে আগুন দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জামায়াতের লোক বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে—এমন দাবি করে জামায়াতের আমিরের প্রতিও প্রশ্ন তোলেন রিজভী। রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনার প্রতিবাদে জামায়াতের আমিরকে লংমার্চ করার আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপির আন্দোলন প্রসঙ্গে রিজভী

এক দফার আন্দোলনের প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, এক দফার কথা শুনে বিএনপি গলি দিয়ে পালিয়ে যাবে না কিংবা প্রাচীর টপকে পালাবে না।

তিনি বলেন, বিএনপির রাজপথের আন্দোলনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ১৭ বছর ধরে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে দলটি আন্দোলন করেছে বলেও দাবি করেন তিনি। জুলাইয়ের আন্দোলন ও আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনও দীর্ঘদিনের সেই আন্দোলনের বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেন রিজভী।

বিএনপি ক্ষমতায় আছে ক্ষমতার জোরে নয়, জনগণের শক্তির জোরে—এমন দাবি করে তিনি বলেন, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে।

সমাবেশে তিনি পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন, ২৫ হাজার কোটি গাছ লাগানো, হৃদরোগীদের রিংয়ের দাম কমানো এবং ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।

সমাবেশে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বিজয়নগর নাইটিঙ্গেল মোড় ঘুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়।

কালের আলো/এমএসআইপি