খুঁজুন
                               
শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৫ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সবার সেরা বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ মে, ২০২৪, ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সবার সেরা বাংলাদেশ

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর :

সময়টি ১৯৮৮ সালের ১৪ আগস্ট। কুয়েত এয়ারওয়েজের একটি যাত্রীবাহী বিমানে একে একে উঠলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৫ কর্মকর্তা। ইউনাইটেড নেশনস ইরান-ইরাক মিলিটারি অবজারভার গ্রুপ (ইউনিমগ) নামে জাতিসংঘের একটি শান্তিরক্ষা মিশনে সেই কর্মকর্তাদের নিয়ে বহনকারী বিমানটি ডানা মিললো ঢাকার আকাশে। বিশ্ব পরিমণ্ডলে শান্তি অন্বেষণে নতুন দিকের সূচনা করলো লাল-সবুজের বাংলাদেশ। এরপর দেখতে দেখতে কেটেছে ৩৬ বসন্ত। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন নামে এক নতুন অধ্যায়ের শুরুর পরের ইতিহাসটি গর্বের, মাথা উঁচু করে পথচলার।

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের মধ্যে বাংলাদেশ ৬৩টি মিশনেই অংশ নিয়েছে। সময়ের বহমানতায় অপরিহার্য করে তুলেছে নিজেদের। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি ১৯৮৯ সাল থেকে পুলিশ বাহিনী এবং ১৯৯৩ সাল থেকে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নিয়ে আসছে। ব্লু হেলমেটধারীরা এখন মিশনে সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে ধরে রেখেছে শীর্ষ স্থান। দক্ষতা, নিরপেক্ষতা, পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে সবার সেরা এই শান্তির প্রহরীরা। জাতিসংঘের পতাকাকে সমুন্নত ও উড্ডীন রাখার পাশাপাশি তাঁরা উজ্জ্বল করেছেন দেশের ভাবমূর্তি।

বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের সর্বাধুনিক প্রশিক্ষণ
জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহের সঙ্গে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও আজ বুধবার (২৯ মে) আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস পালিত হবে বাংলাদেশে। শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ একটি নির্ভরযোগ্য নাম বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ হাসিনা। শান্তিরক্ষীরা সংঘাত প্রতিরোধ, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা, মানবাধিকার নিশ্চিত করতে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় অক্লান্ত পরিশ্রম করায় বরাবরই তাদের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন সরকারপ্রধান। বিশ্বের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং ও বিপজ্জনক অঞ্চলে জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বদা বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের সর্বাধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা যাতে আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জাতিসংঘের আহ্বানে সাড়া দিতে পারে সেজন্য তাঁর সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর ‘মজ্জা’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। গত ৩৬ বছর যাবত শান্তিরক্ষা মিশনে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও বাংলাদেশ পুলিশ। গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে ওঠেছে দেশটি। বিশ্বের বিভিন্ন বিরোধপূর্ণ দেশে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে প্রমাণ করেছে নিজেদের। অসামান্য অবদানের জন্য সুনাম কুড়িয়েছে বিশ্বজুড়ে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে এক নম্বরে অবস্থান করে নিয়েছে ব্লু-হেলমেটধারীরা।

# গর্বের, মাথা উঁচু করে পথচলার ৩৬ বছরের ইতিহাস
# সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে শীর্ষে
# সমুন্নত রেখেছেন জাতিসংঘের পতাকাকে
# উজ্জ্বল করেছেন দেশের ভাবমূর্তি
# শান্তি ও নিরাপত্তায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নির্ভরযোগ্য নাম বাংলাদেশ

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, দীর্ঘ চার দশকের শান্তিরক্ষার ইতিহাসে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বের ৪৩টি দেশ ও স্থানে, ৬৩টি জাতিসংঘ মিশন সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করেছে। বর্তমানে ১৩টি দেশে বাংলাদেশের ৬ হাজার ৯২ জন শান্তিরক্ষী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ও কার্যক্রমে নিয়োজিত রয়েছেন। যার মধ্যে রয়েছেন ৪৯৩ জন নারী শান্তিরক্ষী। শুরু থেকে এ পর্যন্ত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সর্বমোট ১৬৮ জন শান্তিরক্ষী জীবন উৎসর্গ করেছেন।

শান্তিরক্ষীদের প্রশংসনীয় দক্ষতা ও সক্ষমতা অর্জনে প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নির্দেশনা
বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীদের এমন প্রশংসনীয় দক্ষতা ও সক্ষমতা অর্জনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নির্দেশনা ও সুদৃঢ় নেতৃত্বকে সব সময় দৃঢ়চিত্তে উপস্থাপন করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। বুধবার (২৯ মে) আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসের বাণীতে তিনি বলেছেন, ‘জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আজকের এই গৌরবময় অর্জনের পেছনে রয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী দিকনির্দেশনা ও সুদৃঢ় নেতৃত্ব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় ফোর্সেস গোল-২০৩০ অনুযায়ী শান্তিরক্ষা মিশনের বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উন্নত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সরঞ্জামাদি সংযোজন করা হয়েছে। সম্প্রতি শান্তিরক্ষা মিশনে প্রথমবারের মত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তিনটি হেলিকপ্টার ডিআর কঙ্গোতে মোতায়েন করেছে, যা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্য একটি নতুন মাইলফলক। পাশাপাশি, সম্প্রতি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক শান্তিরক্ষা মিশনে ব্যবহারের জন্য পেরুর সশস্ত্র বাহিনীকে বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়কারী যান (রিমোটলি অপারেটেড ভেহিকেল) প্রদান করা হয়েছে-যা বিশ্ব পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে আরো উজ্জ্বল করেছে। আমাদের পুরুষ সদস্যের পাশাপাশি নারী সদস্যরাও এখন পূর্বের তুলনায় অধিকহারে শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ করছে, যা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আমাদের গ্রহণযোগ্যতাকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে। সার্বিকভাবে সুপ্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ সেনাসদস্য, উন্নত সরঞ্জাম, বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ, মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এবং উন্নত মূল্যবোধের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মিশন এলাকার জনসাধারণ ও জাতিসংঘের আস্থা অর্জনে ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে।’

জানা যায়, বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বীরত্বপূর্ণ অবদান রাখা দেশসমূহ সফর করেন। সেখানে তিনি সাধারণ সৈনিক থেকে শুরু করে সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলার বিষয়টিতেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন। এসবের সুফল হিসেবেই আবারও সৈন্য প্রেরণের দিক থেকে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ।

সেসব দেশের মানুষের মনেও শ্রদ্ধার আসনে ব্লু হেলমেটধারীরা
অতীতের ধারাবাহিকতায় এই সময়েও সর্বোচ্চমানের পেশাদারি মনোভাব, সাহসিকতা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার মাধ্যমে বিশ্বের দেশে দেশে সন্ত্রাস, সংঘাত ও দাঙ্গা দমনের মাধ্যমে শান্তি স্থাপন থেকে শুরু করে দেশ পুনর্গঠনে নির্ভীক ভূমিকা পালন করছেন বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা। এক সময় যেসব দেশের সাধারণ মানুষ ‘বাংলাদেশ’ নামের সঙ্গেই পরিচিত ছিল না সেসব দেশের মানুষের মনেও শ্রদ্ধার আসন নিয়েছে বাংলাদেশ। দেশগুলোতে ব্লু হেলমেটধারীরা বিশ্বমানবতার সেবায় উৎসর্গ করেছেন নিজেদের। পেশাগত দক্ষতা, নিরপেক্ষতা, সততা ও মানবিকতায় তাঁরা আজ ওই সব দেশের মানুষের কাছে অনুকরণীয় এক দৃষ্টান্ত।

নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসে তাঁর বাণীতে বলেন, ‘বিশ্ব শান্তি, ভ্রাতৃত্ব এবং ঐক্য প্রতিষ্ঠায় ১৯৯৩ সালে সর্বপ্রথম শান্তিরক্ষী মোতায়েনের মাধ্যমে বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে তার যাত্রা শুরু করে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ দিকনির্দেশনায় ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ নৌবাহিনীর দু’টি যুদ্ধজাহাজের জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন লেবানন এ যোগদানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের মর্যাদা এবং ভাবমূর্তি বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে ‘বানৌজা সংগ্রাম’ ভূ-মধ্যসাগরে মেরিটাইম টাস্ক ফোর্সের অংশ হিসেবে লেবাননে অবৈধ অস্ত্র এবং গোলাবারুদের অনুপ্রবেশ রোধ, দুর্ঘটনা কবলিত জাহাজ উদ্ধার তৎপরতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল কার্যক্রম পালনে নিয়োজিত রয়েছে। অপরদিকে, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি নৌ কন্টিনজেন্ট ২০১৫ সাল থেকে দক্ষিণ সুদানে ‘বাংলাদেশ ফোর্স মেরিন ইউনিট (বিএএনএফএমইউ) হিসেবে মোতায়েন রয়েছে। কন্টিনজেন্টটি জাতিসংঘের নিত্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি, খাদ্য-সামগ্রী, ঔষধ ও মানবিক সাহায্য বহনকারী নৌযানসমূহের নদীপথে নিরাপদে চলাচলের নিশ্চয়তাসহ স্থানীয় জনগণকে জরুরি চিকিৎসা প্রদান, মিশনে নিয়োজিত সামরিক এবং অসামরিক সদস্যদের প্রয়োজনীয় রসদ সামগ্রী পরিবহনে সহায়তা করে আসছে।’

বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের নি:স্বার্থ আত্মত্যাগ জাতিসংঘের ইতিহাসে চির অম্লান হয়ে থাকবে বলে মনে করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। গত বছর আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস পালিত হওয়ার সময়ে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সেই সময় দিবসটির বাণীতে লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছিলেন, ‘১৯৭১ সালের গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি জাতি যে গণহত্যা, নিপীড়ন, দুর্ভোগ, বাস্তুচ্যুতি, নির্যাতন এবং মানবিক সংকটের ভয়াবহতা দেখেছে তার বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতাও বাংলাদেশকে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে এবং নির্যাতিত জনগোষ্ঠীর দুর্দশার উন্নয়নে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ আজ শান্তি ও সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।’

সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের বর্তমান প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসে তাঁর বাণীতে বলেছেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী, দৃঢ় ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বিশ্ব শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের সুনাম আজ সর্বজনবিদিত। বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের উন্নত পেশাদারিত্ব, অসীম সাহসিকতা এবং অনবদ্য অবদানের বিষয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব এবং বিশ্ব বরেণ্য নেতৃবৃন্দের ভূয়সী প্রশংসা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌছে দিয়েছে। বিশ্বব্যাপী জাতিসংঘ মিশনে শান্তিরক্ষায় সুদীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের সুনাম বৃদ্ধির পাশাপাশি জাতিসংঘের ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতে সক্ষম হয়েছে।’

কালের আলো/এমএএএমকে

রোহিঙ্গা সংকট একটি সমাধানযোগ্য সমস্যা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৩৬ অপরাহ্ণ
রোহিঙ্গা সংকট একটি সমাধানযোগ্য সমস্যা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও কার্যকর সমাধান রাখাইন রাজ্যেই নিহিত এবং এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে শুধু মানবিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, সম্মানজনক ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে আরও সক্রিয় ও ফলপ্রসূ ভূমিকা নিতে হবে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে তুরস্কে চলমান আন্তালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরামে প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য প্রদানকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক দাতা সহায়তা কমে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি এই প্রেক্ষাপটে অর্থায়ন বৃদ্ধি, রাখাইনে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
তিনি জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মিয়ানমার সরকার এবং আরাকান আর্মি—উভয় পক্ষই তাঁকে স্বাগত জানিয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট একটি সমাধানযোগ্য সমস্যা—তবে এর জন্য প্রয়োজন সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ ও ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা।
কালের আলো/এসআর/ এএএন 

ফের হরমুজ বন্ধ করল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৩১ অপরাহ্ণ
ফের হরমুজ বন্ধ করল ইরান

পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি ফের বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকায় আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে এই ঘোষণা দিয়েছে দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

আইআরজিসির যৌথ সামরিক কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করে যাওয়ায় হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ‘আবার আগের অবস্থায় ফিরে গেছে’।

আইআরজিসির বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ‘অবরোধের নামে জলদস্যুতা ও সামুদ্রিক চুরি চালিয়ে যাচ্ছে’।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এই কারণে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ আবার আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে এবং এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ এখন সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর তত্ত্বাবধানে রয়েছে।’

এতে বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্র যতদিন না ইরান থেকে জাহাজগুলো স্বাভাবিকভাবে তাদের গন্তব্যে যাতায়াতের পূর্ণ স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিচ্ছে, ততদিন হরমুজ প্রণালির অবস্থা কঠোর নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং আগের মতোই থাকবে।’

এর কয়েক ঘণ্টা আগেই ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখলে হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধ করে দেওয়া হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, ‘অবরোধ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি খোলা থাকবে না। এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল ইরানের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে।’

বিশ্বব্যাপী নৌপরিবহণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি পরিবহন করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসনের প্রেক্ষিতে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বন্ধ করে দিয়েছিল ইরান।

এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দেয়। যার প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে। কিন্তু শত চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। তেহরান নৌপথটি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পুরো অঞ্চলজুড়ে অত্যাবশ্যকীয় অবকাঠামোতে আঘাত হানার সক্ষমতা ও ইচ্ছা উভয়ই প্রদর্শন করেছে, যা উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও গ্যাসভিত্তিক অর্থনীতিকে বিপন্ন করেছে।

লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে দীর্ঘ প্রায় ছয় সপ্তাহ পর শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) হরমুজ প্রণালি খুলে দিয়েছিল ইরান। ওই দিন বিকেলে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক ঘোষণায় জানান, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকাকালে প্রণালি দিয়ে সব বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল উন্মুক্ত থাকবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকায় মাত্র এক দিনের মাথায় ফের বন্ধ করে দিলো তেহরান।

কালের আলো/এসআর/ এএএন

 

গভীর রাতে হজক্যাম্পে ধর্মমন্ত্রী, খোঁজ নিলেন সেবার মান ও ব্যবস্থাপনার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:২৩ অপরাহ্ণ
গভীর রাতে হজক্যাম্পে ধর্মমন্ত্রী, খোঁজ নিলেন সেবার মান ও ব্যবস্থাপনার

রাজধানীর আশকোনা হজক্যাম্পে হজযাত্রীদের সেবা ও কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করতে গভীর রাতে পরিদর্শনে গিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।

শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টায় ধর্মমন্ত্রী হজক্যাম্পে প্রবেশ করেন। তিনি হজযাত্রীদের সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলোর ডেস্কে যান এবং তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজ নেন। মন্ত্রী ইমিগ্রেশন এরিয়ায় গিয়ে হজযাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং হজক্যাম্পের সেবা কার্যক্রম সম্পর্কে তাদের কাছ থেকে জানতে চান।

হজযাত্রীদের শারীরিক অবস্থার বিষয়েও খোঁজখবর নেন তিনি। শেষে মন্ত্রী ডরমিটরিতে যান এবং সেখানে অবস্থানকারী হজযাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। ডরমিটরির সামগ্রিক অবস্থা সম্পর্কেও জানতে চান মন্ত্রী।

হজক্যাম্পের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তারা ধর্মমন্ত্রীর এরূপ নিবিড় মনিটরিং কার্যক্রমে বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং তার জন্য দোয়া করেন।

সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে ধর্মমন্ত্রী বলেন, হজযাত্রীরা আল্লাহর মেহমান। এটি মাথায় রাখতে হবে এবং তাদের সঙ্গে সেভাবে আচরণ করতে হবে। হজযাত্রীরা যেন কোনো কষ্ট না পান সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী রাত সোয়া একটার দিকে হজক্যাম্প ত্যাগ করেন।

কালের আলো/এসএকে