খুঁজুন
                               
শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৫ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

দেশের কারাগারগুলোতেও ঈদের ছোঁয়া

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ জুন, ২০২৪, ১১:০৪ অপরাহ্ণ
দেশের কারাগারগুলোতেও ঈদের ছোঁয়া

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

পশুত্বকে পরাভূত করার শিক্ষা নিয়ে আবারও এসেছে কোরবানির ঈদ। আত্মত্যাগ, আত্মসমর্পণ এবং নিজকে উৎসর্গ করার মহিমায় উদ্ভাসিত মুসলিম উম্মাহর বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা সোমবার (১৭ জুন)। ঈদের এ দিনটি প্রিয়জনের সঙ্গে কাটাতে পরিবারের কাছে ফিরে যায় সব মানুষ। তবে কারাগারের বন্দীদের জন্য এদিনটা থাকে একটু ভিন্ন। এমন খুশির দিনেও যেহেতু তাদের স্বজনদের ছেড়ে থাকতে হয়, তাই প্রতিবছরই দুই ঈদে কারাবন্দীদের আনন্দ দিতে নানা আয়োজন করে কারা অধিদপ্তর।

ঈদের দিন বন্দীদের যেন মন খারাপ না থাকে ও পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন না করতে পারার দুঃখ ভুলে থাকতে পারেন সেজন্য প্রতিবারই কারা অধিদপ্তর দেশের ৬৮টি কারাগারে এমন ভিন্ন মাত্রার আয়োজন করে। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। ঈদের ছোঁয়া লেগেছে কারগারেও। ফলে ঈদের আনন্দ বিরাজ করছে কারাগারেও। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে না পেলেও ভরপুর খাওয়া-দাওয়া ও আনন্দ উল্লাসের মাধ্যমে দিন কাটবে তাদের।

কারা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, কারা বন্দীরা যেন ঠিকভাবে ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে পারেন সে লক্ষ্যে কোনো কমতি রাখেননি কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ এস এম আনিসুল হক। প্রতিটি কারাগারে ঈদের জামাতের পাশাপাশি বন্দিদের জন্য ঈদের দিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের (কেরানীগঞ্জ) জেলার নাশির আহমেদ কালের আলোকে জানান, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে (কেরানীগঞ্জ) বন্দিদের জন্য থাকছে উন্নত খাবারের ব্যবস্থা। এছাড়া ঈদ উপলক্ষ্যে কারাগারের ভেতরে থাকছে বন্দিদের জন্য বিনোদনের ব্যবস্থা।

তিনি জানান, ঈদুল আজহার দিনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। দুটি স্টাফদের ও একটি বন্দিদের। বন্দিদের ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে কারাগারের ভেতরের ময়দানে। ঈদের দিন বন্দিদের সঙ্গে তাদের স্বজনরা নিয়ম অনুযায়ী দেখা করতে পারবেন। এছাড়া স্বজনরা বাসা থেকে রান্না করে বন্দিদের খাবার দিতে পারবেন।

জেলার জানান, এবার ঈদের দিন বন্দিদের বিনোদনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ঈদের নামাজের পরপরই সকালের দিকে বন্দিদের নিয়ে গানের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। বিকেলের দিকে হবে বন্দিদের মধ্যে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ।

কারাগার সূত্রে জানা যায়, কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রায় আট হাজারের বেশি বন্দি রয়েছে। তাদের জন্য এদিন উন্নত খাবার রান্না করা হবে। ঈদের দিন সকালে পায়েস ও মুড়ি দিয়ে দিন শুরু হবে বন্দিদের। দুপুরে বন্দিরা খাবেন পোলাও, গরুর গোস্ত, মুরগির ঝাল ফ্রাই ও খাসি। পাশাপাশি থাকবে কোমল পানীয়, মিষ্টি। পান সুপারিরও ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া রাতে বন্দিরা খাবেন সাদা ভাত, রুই মাছ ও ছোলার ডাল।

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ সূত্র জানায়, বন্দিদের সুস্বাদু ও উন্নত খাবার পরিবেশন করা হবে। সকালে পায়েস ও মুড়ি এবং দুপুরে পোলাও, মাংস দেওয়া হবে। বন্দিরা নিজেদের মধ্যে গল্প-গুজব করে সময় কাটাবেন। স্বজনরাও দেখা করতে আসবেন।

চট্টগ্রামের কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্র জানায়, দেশের সব কারাগারের মতো চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। বন্দিদের উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে।

ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার শাহ রফিকুল ইসলাম কালের আলোকে বলেন, ‘সরকার কারাগারগুলোকে সংশোধনাগারে রূপান্তর করার চেষ্টা করছে। মাননীয় আইজি প্রিজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ এস এম আনিসুল ইসলাম মহোদয়ের সার্বিক নির্দেশনা ও গতিশীল নেতৃত্বে আমরাও সেভাবে চেষ্টা করছি। বর্তমানে কারাগারটিতে ১ হাজার ৬৯৮ জন বন্দি রয়েছে। সকাল সাড়ে ৮টায় বন্দিদের ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সকালে পায়েস মুড়ি, দুপুরে পোলাও গরুর মাংস, খাসি, মুরগির ডিম, সালাদ ও পান সুপারি দেওয়া হবে। সন্ধ্যায় সাদা ভাত, আলুর দম ও রুই মাছ থাকবে বন্দিদের পাতে। অন্য দিনের চেয়ে তাই নতুন রূপে ঈদের আনন্দ ধরা দেবে কারাবন্দিদের জীবনে।’

কালের আলো/এমএএএমকে

‘সরকারের ৬০ দিনের বড় সাফল্য, জনগণ প্রধানমন্ত্রীর ওপর আস্থা রেখেছেন’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:২৩ অপরাহ্ণ
‘সরকারের ৬০ দিনের বড় সাফল্য, জনগণ প্রধানমন্ত্রীর ওপর আস্থা রেখেছেন’

গত দুই মাসে সরকারের বড় সাফল্য অর্জিত হয়েছে এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। সরকারের গত ৬০ দিনের সাফল্যের সাতটি দিক তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সালেহ শিবলী বলেন, আমাদের কাছে মনে হয়েছে গত দুই মাসে সরকারের ওপর জনগণের আস্থা ফিরে এসেছে। বিশেষ করে আমরা দেখেছি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর জনগণের আস্থা ফিরে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী জনগণের মাঝে থাকছেন এবং সাধারণ মানুষের মতো চলাফেরা করছেন। তিনি অতিরিক্ত নিরাপত্তার ওপর নির্ভর করছেন না।

প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের কাছে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তার প্রত্যেকটি বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান বলেন, দেশ সেবা করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনকল্যাণমূলক কাজ এগিয়ে নিতে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সিনিয়র সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসআর/ এএএন

এমন কোনো লোভ ছিল না, যা শেখ হাসিনা আমাকে দেখাননি: স্পিকার

ভোলা প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৪৬ অপরাহ্ণ
এমন কোনো লোভ ছিল না, যা শেখ হাসিনা আমাকে দেখাননি: স্পিকার

‘এমন কোনো লোভ ছিল না, যা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ভারতে পলাতক) আমাকে দেখাননি। আমি যদি তার কথা শুনতাম, তাহলে তার পরেই আমার অবস্থান হতো’ বলে মন্তব্য করেছেন-জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে ভোলার সার্কিট হাউসে জেলার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় একথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমি বলেছি, আমার বয়স ৮০ বছর হয়ে গেছে এখন আর এগুলো করার সময় নেই।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘জেনারেল জিয়াউর রহমানের অধীনে আমি যুদ্ধ করেছি এবং বেগম জিয়া আমাকে অনেক স্নেহ করতেন। আমি জেনারেল জিয়া ও বেগম জিয়ার প্রতি সব সময় অনুগত ছিলাম। আমি এই দলের (বিএনপি) অনেক সিনিয়র ছিলাম। কিন্তু সবাই আমাকে ক্রস করে ওপরে চলে গেছে এবং আমার আগে স্থায়ী কমিটির সদস্য হয়েছে।’

স্পিকার বলেন, ‘একমাত্র ড. মোশাররফ হোসেন ছাড়া সবার সিনিয়র ছিলাম আমি। তা-ও স্থায়ী কমিটিতে স্থান হয়নি। আমি এগুলো নিয়ে কখনো মাথা ঘামাইনি। আমার নজর ছিল এলাকা থেকে জনগণ যাতে ভোট দেয়, আমি যেন জাতীয় সংসদে যেতে পারি। এবারও ভোট দেওয়ার পর লোকজন আশা করেছিল আমি যেন একটা প্ল্যাগ নিয়ে আসতে পারি। আল্লাহর রহমতে দুই দুইটা প্ল্যাগ নিয়ে এসেছি।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘আমি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের কাছে। তার সঙ্গে আমি জীবনে কথা বলেছি দুই দিন। এ ছাড়া কোনো দিন টেলিফোন হয়নি, দেখাও হয়নি, কথাও হয়নি। কিন্তু তিনি আমাকে দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ পদে অভিহিত করেছেন। এ জন্য আমি তার কাছে ও আমার দল বিএনপির কাছে খুবই কৃতজ্ঞ।’

মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমানের সভাপতিত্বে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর, পুলিশ সুপার মো. শহীদুল্লাহ কাওছার, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. রাইসুল আলমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জেলা বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসআর/ এএএন

 

রোহিঙ্গা সংকট একটি সমাধানযোগ্য সমস্যা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৩৬ অপরাহ্ণ
রোহিঙ্গা সংকট একটি সমাধানযোগ্য সমস্যা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও কার্যকর সমাধান রাখাইন রাজ্যেই নিহিত এবং এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে শুধু মানবিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, সম্মানজনক ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে আরও সক্রিয় ও ফলপ্রসূ ভূমিকা নিতে হবে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে তুরস্কে চলমান আন্তালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরামে প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য প্রদানকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক দাতা সহায়তা কমে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি এই প্রেক্ষাপটে অর্থায়ন বৃদ্ধি, রাখাইনে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
তিনি জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মিয়ানমার সরকার এবং আরাকান আর্মি—উভয় পক্ষই তাঁকে স্বাগত জানিয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট একটি সমাধানযোগ্য সমস্যা—তবে এর জন্য প্রয়োজন সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ ও ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা।
কালের আলো/এসআর/ এএএন